১ম প্রকাশ, ২০২০
বর্ণ-পরমাণু
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | বর্ণ-পরমাণু |
| Author | এশরার লতিফ |
| Publisher | পেন্সিল পাবলিকেশনস |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২০ |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | Mystery, Detective, Horror, Thriller and Adventure |
| Weight | 0.45 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
17 Ratings and 10 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১০টি
Leeon Haque , Apr 3, 2025
"অসাধারণ আরেক "অলাতচক্র" এর বই। শুধু ভালো না বেকায়দা রকমের ভালো লাগলো।"
শোয়েব হোসেন , Oct 24, 2021
"অলাতচক্র সিরিজের দ্বিতীয় বই। এটা আগেরটা থেকে মাচ বেটার। বিশেষ করে দ্বিতীয় অর্ধে কাহিনি খুব গতিশীল এবং অপ্রয়োজনীয় কোন দৃশ্য বা সংলাপ নেই। তবে প্রথম অর্ধেক সেই আগের বইয়ের মতোই। অপ্রয়োজনে সিভিইয়ানদের অন্তর্ভূক্তি এবং অপ্রয়োজনীয় সংলাপের ছড়াছড়ি। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে সাদেকা চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাবনী বাংলাডেমি যাওয়ার দৃশ্যের কথা। তাছাড়া, বইয়ের শুরুতে মোহন খানের মৃত্যু ছিল ন্যাচারাল ডেথ। অন্তত সবাই তাই ভাবছিল। সে যে খুন হতে পারে এমন সামান্যতম ইঙ্গিত বা কারণ দেখাতে পারেনি আমাদের গোয়েন্দা। ব্যাটা লুইচ্চা তাই তিনি খুন হয়েছেন! লুইচ্চাদের কি সাধারন মৃত্যু হয় না? তাহলে তিনি ইনভেস্টিগেট করছিলেন কিসের ভিত্তিতে?"
Ruhul Amin , Mar 14, 2021
"."
তাহসিনা হোসেন , Mar 11, 2021
"বাংলা ভাষার সেরা মৌলিক থ্রিলার।"
Israt Mustafa , Feb 27, 2021
"প্রথমেই উল্লেখ করব ভাষার কথা। বইয়ের মূল প্রেক্ষাপটে বইমেলা ও ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা আছে বলেই কিনা জানিনা, লেখক অনেক কঠিন কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা একেবারে সাধারণ, বা সীমিত শব্দভাণ্ডারের পাঠকদের জন্য মনঃপীড়ার কারণ হতে পারে। তবে লেখকের শব্দচয়নে বিশেষ করে ইংরেজি শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহারে মুগ্ধ হতে হয়। কিন্তু কথোপকথনে এই শব্দগুলো বেমানান। যেমন, অনুসূয়াপ্রবণ- এই সময়ে কথোপকথনে কেউ ব্যবহার করতে পারে কিনা জানি না। আরেক জায়গায় শারীরিক শ্লাঘা বলতে শারীরিক কষ্ট বা ধকলের কথা বুঝিয়েছেন লেখক৷ কিন্তু শব্দটির সাথে সুপরিচিত থাকায় জানি শ্লাঘা অর্থ গৌরব বা আত্ম-অহংকার, গরিমা। এবার আসি কাহিনির প্রসঙ্গে। সাধারণ খুন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ষড়যন্ত্রে ঘটনা মোড় নেয়া কাহিনিকে চমকপ্রদ করেছে। পাশাপাশি চরিত্রগুলোর ব্যক্তিগত জীবনও সুন্দরভাবে অঙ্কিত হয়েছে। শেষ অংশে বেশ চমক আছে। তবে একজন অলেখকের এত কঠিন কবিতা লিখতে পারার বিষয়টা না থাকলে ভালো লাগত। সর্বোপরি বইটি ভালো লেগেছে।"
Fawjia Khan Tamanna , Oct 17, 2020
"#পাঠ_প্রতিক্রিয়া 'অলাতচক্রের ধারাবাহিকতায় 'বর্ণ-পরমাণু' পড়লাম। যথারীতি নানামুখী বর্ণনায় ভরপুর একটা টানটান গোয়েন্দা কাহিনী। আমার প্রথম পড়া গোয়েন্দাকাহিনী ছিল সেবার তিনগোয়েন্দা, সাথে স্পাই থ্রিলার মাসুদরানা। প্রায় সাথে সাথেই কাছাকাছি ধরনের ফেলুদা, ঘনাদা, ব্যোমকেশ, শার্লক হোমস, আরো যা যা বিদেশী অনুবাদ হাতের কাছে পেয়েছি পড়েছি। এসবই দুই যুগ আগের কথা। এর বহু পরে আবার যখন নতুনদের লেখা দেশী থ্রিলার পড়তে শুরু করি, কেমন যেন জোড়াতালি আর ফাঁক ফোকড় বেড়িয়ে পড়তে লাগল। আবার পড়া বাদ দিলাম। আমার জানাশুনা, জ্ঞানের গন্ডি ভীষণই সীমিত। তাই হয়তো বুঝতাম না। তবে কেন যেন বিদেশী চৌকশ আর সাবলীল গোয়েন্দাকাহিনী আর তার স্থান-কাল-পাত্র যতটা একীভূত মনে হত, আমাদের দেশী পটভূমিতে ভীষণ হাস্যকর লাগত। এশরার লতিফ নামের সাথে পরিচয় পেন্সিলে। বহুমুখী প্রতিভার এক প্রতিষ্ঠান এশরার লতিফ। তার মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা গল্পগুলো সত্যি অনন্য। এই গল্পগুলোর হাত ধরেই তার অন্যান্য লেখা পড়ি। আমি তার শব্দচয়নেই ধরাসায়ী। একই শব্দের খেলার ধারাবাহিকতা তার গোয়েন্দা সিরিজেও বিদ্যমান। আধুনিক লেখ্যধারার সাথে বঙ্কিমীয় শব্দের মিশেল যে এত সাবলীল হতে পারে, তা এশরার লতিফের লেখা না পড়লে বুঝতাম না। যেমন, 'গ্রহনক্ষত্রের আশ্চর্য আবর্তে আজ একই দিন-বিন্দুতে মিলেছে বসন্তের মদির মর্মর,' ' বহুমুখী ঘটন-অঘটনের মিথস্ক্রিয়া য়,' 'গাড়ি এবার এসে থামল বিদ্যুতালোকোজ্জল আলপনাশোভিত শহিদমিনারের সামনে,' ' লাবনি এখন সব মনোতৎপরতা ঘণীভুত করে সজাগ দৃষ্টি ফেলছে রাষ্ট্রপ্রধানের আশপাশে,' এমনিই পুরো বই জুড়ে। আমার খুব ভালো লেগেছে। কাহিনী বলব না। যেহেতু গোয়েন্দা গল্প, তারমানে এখানে আছে খুন আর খুনীকে খুঁজে বের করার চৌকশ বর্ণনা। কিন্তু এরই সাথে সাথে আনুসঙ্গীক বর্ণনাও অনবদ্য লেগেছে। লেখক একঘেয়ে খটমটে গোয়েন্দাকাহিনীকে নানান ভাঁজে সুখপাঠ্য করেছেন মুখরোচক খাবারের বর্ণনায়, নারীদের নানান সজ্জা আর সৌন্দর্য বর্ণনায়, প্রয়োজনমতো রম্যরস সহযোগে আর মনোজাগতিক নানান সম্পর্কের বর্ণনায়। আর সেই সাথে গল্পের গতি প্রকৃতির সাথে মিল রেখে লেখক বহু সম্মৃদ্ধ তথ্য দিয়েছেন, যার অনেককিছুই আমার অজানা ছিল। সেজন্য লেখককে আলাদাভাবে ধন্যবাদ। সবচেয়ে বড়কথা, এখানে গোয়েন্দা হচ্ছে মেয়েরা। এবং মেয়েদেরকে যথেষ্ট সাবলীল আর সহজভাবে লেখক উপস্থাপণ করেছেন। না অতিরঞ্জন, না অনুরঞ্জণ। যদিও প্রথমদিকে লেখাটাকে কিছুটা গতিহীন লেগেছে, কিন্তু তারপর সবকিছু সহই গোয়েন্দা গল্পের নিজ গতিতে গল্প এগিয়ে শেষ হয়েছে। এর আগের বই 'অলাতচক্র' পড়া না থাকলেও এটা পড়তে এতটুকুও রসঘাটতি হবেনা। তবে সুযোগ পেলে সেটাও পড়ে নিলে দ্বিগুণ রসপ্রাপ্তি। একদম শেষে গিয়ে গল্পের নামকরণের স্বার্থকতা খুঁজে পেয়েছি, এবং চমৎকৃতও হয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই এশরার লতিফের বইয়ের প্রচ্ছদ তিনি নিজেই করেছেন, কাহিনীরই খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা দৃশ্য ফুটিয়ে। পেন্সিল পাবলিকেশনস এর ২৬৯ পৃষ্ঠার এই বইটি পাওয়া যাবে কে ক্রাফটের আউটলেটগুলোতে, পেন্সিল ফাউন্ডেশনের মিরপুর ডিওএইচএস এ অবস্থিত অফিসে। আর প্রগতি কিংবা দূরবীনে অর্ডার দিয়েও বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। আমি বইটি পড়ে খুশি হয়েছি, আপনিও হতে পারেন।"
Ameena Tabassum , Sep 27, 2020
"উপন্যাসের শুরুটাই হয় এক বিশেষ দিনে। সেই বিশেষ দিন হলো চোদ্দই ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসা দিবস আর বাংলা একাডেমির বইমেলার চৌদ্দতম দিন। সেই বইমেলায় সবচেয়ে ভালো লোকেশনে প্যাভিলিয়ন খুলে বসেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত প্রকাশনী অভয় প্রকাশ। আর সেই অভয় প্রকাশের প্যাভিলিয়নে বসে অটোগ্রাফ দেয়ার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তুমুল জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক মোহন খান। আপাতদৃষ্টিতে ব্যাপারটা মামুলি হার্ট অ্যাটাক মনে হলেও আসলেই কি তাই? মোহন খানের এই আকস্মিক মৃত্যুতে সংশয়ে পড়ে যায় ইনস্পেক্টর লাবণি আর তার নারী গোয়েন্দা দল। একটু খতিয়ে দেখতেই বেরিয়ে আসে জনপ্রিয় আর জীবনমুখী লেখকদের মধ্যকার সংঘাত, মোহন খানের অগণিত প্রেম, স্ত্রীর সাথেকার শীতল সম্পর্ক আর প্রকাশকের সাথে দ্বন্দ্বের নানান ঘটনা। এই ঘটনাগুলোর সাথে মোহন খানের মৃত্যু কি কোনোভাবে জড়িত নাকি আরো ভয়ঙ্কর কোনো ষড়যন্ত্র আছে? জটিল সব ঘটনা আর চরিত্রের সমীকরণের মধ্যে দিয়ে উপন্যাসটি প্রবাহিত হয় খুবই সহজ এবং সাবলীল ভাবে। আর ধীরে ধীরে রহস্যের জাল উন্মোচিত হয় এই রহস্য - রোমাঞ্চ উপন্যাসে। এই উপন্যাসটি অলাতচক্র সিরিজের দ্বিতীয় উপন্যাস। এই উপন্যাস উপভোগ করার জন্য পাঠককে কোনো থ্রিলার প্রেমী হতে হবেনা। এটি একটি বহুমাত্রিক উপন্যাস । এখানে নানান বিচিত্র চরিত্রের বিন্যাস ঘটেছে কিন্তু প্রত্যেকটা চরিত্র যেন জীবন্ত। যে কোনো পাঠক সেই চরিত্রগুলোর সাথে বাস্তবের কোনো না কোনো চরিত্রের মিল খুঁজে পেতে বাধ্য। লেখক অতি সফলভাবে সমাজের ভিন্ন আঙ্গিক থেকে সমতা বজায় রেখে উপন্যাসের চরিত্রগুলো তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। উপন্যাসে যেমন আসন্ন আসলাম নামের ফেসবুকের এক জনপ্রিয় কবিকে দেখানো হয়েছে যে মূলত কুরুচিপূর্ন এইটিন প্লাস কবিতা লিখে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আবার মোহন খানের মতো তুমুল জনপ্রিয় লেখককেও তুলে ধরা হয়েছে যার কোনো কোনো লেখা কারও কাছে আবর্জনা মনে হতে পারে আবার কোনো লেখা আলোর ঝলক মনে হতে পারে। কিন্তু তার অগনিত ভক্তের কাছে তার সব লেখাই অনবদ্য। অপরদিকে লেখিকা সাদেকা চৌধুরীকেও দেখানো হয়েছে যে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানীগুণী লেখক মনে করে বাকিদের তুচ্ছ জ্ঞান করে। এই উপন্যাস থেকে জানা যায় জনপ্রিয় আর জীবনমুখী লেখার ধরণ আর সংঘাত, আঁচ করা যায় বর্তমান সমাজের লেখালেখির চিত্র, ধারণা করা যায় লেখক আর প্রকাশকের সম্পর্ক। শুধু লেখকদের ব্যাপারই না পাঠকদের সম্পর্কেও অনেক জ্ঞান লাভ করা যায়। এই উপন্যাসটি না পড়লে হয়তো রক্ত পাঠক, ভক্ত পাঠক, সুশীল পাঠক আর নির্মোহ পাঠক সম্পর্কে অনেকেরই অজানা থেকে যাবে। এছাড়াও উপন্যাসটি ভীষণ তথ্যসমৃদ্ধ একটি উপন্যাস, যা থেকে অনেক কিছু শেখা যায়, জানা যায়। তা শহীদ মিনারের নকশার ইতিহাসই হোক অথবা সাইকিয়াট্রিস্ট, সাইকোলোজিস্ট আর সাইকোথেরাপিস্টের মধ্যেকার পার্থক্যই হোক অথবা সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ দুর্যোগ আর দূষণের চিত্রই হোক। আরেকটি ব্যাপার না বললেই নয়, এই উপন্যাসের প্রতিটি অধ্যায়ে লেখক নিখুঁতভাবে পাঠকের প্রত্যাশা সফল করতে সক্ষম হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে হতে পারে লেখক যেন পাঠকের মাইন্ড রিড করছে। যেমন ফরেনসিক বিশারদ অনীলার খাদ্যরসিকতার বর্ণনার যে পর্যায়ে পাঠকের মনে মনে অনীলার স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানার কৌতূহল জাগবে , ঠিক সেসময়ই পাঠকের কাছে সেই তথ্যটি প্রকাশ করা হয়েছে। পুরোটি উপন্যাস জুড়ে এই ব্যাপারটি পরিলক্ষিত হয়। লেখকের লেখার সাহিত্য মান, শব্দচয়ন আর বাংলা ভাষার প্রয়োগ সম্পর্কে কথা বলার স্পর্ধা আমার নেই কিন্তু বাংলা ভাষার যথযথ প্রয়োগ কিভাবে করতে হয় তা শেখার জন্য হলেও এই উপন্যাসটি সবার পড়া উচিত। ম্লানপ্রভা, দূরবার্তা, গোলোক বিন্দু কলম, জলসিঞ্চন এরকম অনেক শব্দ লেখক ব্যবহার করেছে যা অনেকেই সচারচর ব্যবহার করেনা। অথচ শব্দগুলোর প্রয়োগ এমন সাবলীলভাবে করা হয়েছে যে মনে হবে সেই শব্দ না হয়ে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যটি যেন অসমাপ্ত থেকে যেত। আর কঠিন শব্দের প্রয়োগে এক মুহূর্তের জন্যও উপন্যাসের ভাষা ভারী বা কঠিন মনে হয়নি। যে কোনো পাঠক এই উপন্যাস পানির মতো সহজভাবে পড়ে যেতে পারবে। তবে উপন্যাসের সিংহভাগ পানির মতো সহজে পড়া গেলেও শেষের দিকে এসে পাঠককে অবশ্যই অনুসন্ধিৎসু এবং কৌতূহলী মন নিয়ে নিজের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পড়তে হবে। তা না হলে উপন্যাসের ক্লাইমেক্স উপভোগ করা যাবেনা। এক্ষেত্রে যারা থ্রিলার প্রেমী না তাদের একটু বাড়তি মনোযোগ যুক্ত করতে হবে। সবশেষে বলতে চাই যে এই উপন্যাসটি শুধুমাত্র ইন্সপেক্টর লাবণি আর তার মেয়ে গোয়েন্দা দলের বুদ্ধিমত্তা আর দক্ষতা দিয়ে রহস্য উদ্ঘাটনের গল্প না। এর আরও অনেক দিক আছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এই মোহন খানের অগণিত প্রেমের রহস্য। যুগে যুগে জ্ঞানী, গুণী, সুন্দরী, দক্ষ, অল্পবয়সী মেয়েরা জেনেশুনে কেন মোহন খানের মতো প্রতারক পুরুষদের প্রেমে পড়ে আর সেই প্রেম আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকে তা এখনো জগতের এক মহা বিস্ময়, এক রহস্য। কিছুটা হলেও কি এই রহস্যের জাল উন্মোচিত হয়েছে এই উপন্যাসে? জানতে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন এই রহস্য - রোমাঞ্চ উপন্যাসটি।"
Charulota , Sep 19, 2020
"গল্পের শুরু ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ভালোবাসা দিবসে বইমেলার চমৎকার বর্ণনার মাধ্যমে। বইটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো হঠাৎ মঞ্চের পর্দা উন্মোচন হতে হতে দিনটি ভালোবাসা দিবসের উৎসবে লাল হলুদে বর্ণিল হয়ে মুখর হয়ে উঠেছে। লেখকের অন্তর্দৃষ্টি সে দৃশ্যকে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করে চমৎকার উপমায় ভূষিত করে বলছেন, ‘ উপর থেকে দেখলে মনে হবে বই মেলা যেন কৃষ্ণচূড়া আর রাঁধাচূড়ার দুরন্ত উপবন’।সাহিত্যের সর্বোৎকৃষ্ট উপাদান উপমার ব্যবহারে লেখক যে দারুন ভাবে দক্ষ সেটি তার প্রতিটি বইয়ের মাঝেই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথম পর্বেই দেখা যায় মোহন খান নামে একজন ভীষণ জনপ্রিয় লেখক ভালোবাসা দিবসে ‘কৃষ্ণচূড়ার দুরন্ত উপবন’ অর্থাৎ বইমেলায় বই সাইন করতে করতে হঠাৎ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন । সেখান থেকেই শুরু রোমাঞ্চ।মোহন খানের আকস্মিক মৃত্যু আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও অলাতচক্র গোয়েন্দা দল এখানে রহস্যের আলামত পেয়েছে। তারপর ঘটনার ডাল পালা সেখান থেকেই ছড়াতে থাকে বিভিন্ন দিকে। জনপ্রিয় লেখক মোহন খানের নারী ভাগ্য দারুন। কেনই বা হবে না। তার সম্মোহন পাঞ্জাবির মত তার লেখনীতেও হয়তো রয়েছে প্রেম সম্মোহনী বার্তা যেটা উঠতি থেকে মধ্য বয়সী সবাইকেই মোহিত করে চুম্বকের মত টানে। নারী ভক্তের এই আধিক্যই হয়ত মোহন খানকে মিলিয়ে দিয়েছে একের পর এক নারী বন্ধু বা প্রেমিকা। সে প্রেমিকারা কেউই দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিল না মোহন খানের জীবনে। ঋতু বদলের মত তারাও বদলে গেছে সময়ের আবর্তে। কখনো সাদেকা চৌধুরীর মত জীবনমুখী লেখকের সাথে , কখনো লায়লার মত কোমলমতি অল্প বয়সী মেয়ের সাথে, কখনোবা অজন্তা ইলোরার মত সুরেলা কণ্ঠী সঙ্গীত শিল্পীর সাথে প্রেম হয়েছে জীবনের চলার পথে মোহন খানের। তবে এদেরকে জীবন থেকে বিদায় দিলেও ভালোবাসার উপহার সরূপ মোহন খান একটি করে বই তাদের নামে উৎসর্গ করে স্থায়ী স্বীকৃতি দিয়েছে । সেই উৎসর্গ বানীর মধ্যেও দারুন একটি শব্দ খেলা রয়েছে । সেটি আমি চাই পাঠক বই পড়ে তৃপ্ত হোক ।আমার একটি প্রশ্ন মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, মোহন খান কেন এতো এতো নারী সঙ্গ করেছেন? সেটা কি তার সৃষ্টির উত্তাপ নেভাতে ভিন্ন ভিন্ন সমুদ্রে নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চারের নিমিত্তে করেছেন? নাকি সাময়িক প্রশান্তি খুঁজেছেন? তবে নিত্য নতুন প্রেমিকা জুটলেও তার দীর্ঘ সময়ের সঙ্গী তার স্ত্রি রাহেলা খানই ছিলেন । মোহন খানের চির প্রশান্তির ঘাটলা বাঁধানো পুকুর হয়েই ছিলেন রাহেলা খান তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। মোহন খানের রহস্যজনক মৃত্যুর কেইসটি যখন ইন্সপেক্টর লাবনী অর্থাৎ অলাতচক্র গোয়েন্দা দলের হাতে আসে তখন একে একে মোহন খানের সকল প্রেমিকাকেই সন্দেহের আওতায় আনা হয়। সেখানে তার স্ত্রীকেও সন্দেহের খাতা থেকে বাদ দেয়া হয়নি। সন্দেহের আওতায় এসেছে অভয় প্রকাশনীর মালিক যেখান থেকে মোহন খানের বেস্ট সেলার বই গুলো প্রকাশিত হতো। এভাবে যখন সন্দেহের জট পাকাতে পাকাতে বিশাল কুন্ডুলি আঁকার ধারন করে তখন অলাতচক্র গোয়েন্দা দল একটি গোলকধাঁধার মধ্যে পড়ে যায়। ওদিকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে তাগাদা আসছে তাড়াতাড়ি কেইস সমাধানের। তাই সংক্ষিপ্ত সময় এবং জটিল সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে অলাতচক্র দল ঝরের গতিতে কাজ করেছে । তারপর তদন্তের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে প্রকাণ্ড অজগর, অর্থাৎ এতো বড় সমস্যা যেটা অলাতচক্র গোয়েন্দা বিভাগ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইনভলবমেন্ট প্রয়োজন হয়। সেটা আর বলতে চাচ্ছি না, তাহলে বই পড়ার মজাটি নষ্ট হয়ে যাবে। আমি জানতাম জীবনের ক্ষুদ্র অংশে এশরার লতিফের বই সীমাবদ্ধ থাকে না। সে বরাবরই অনেক বড় চিত্র আঁকতে পছন্দ করেন প্রকাণ্ড একটি ক্যনভাসে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়েও বহুদূর হয় এর বিস্তার। বরাবরের মত এই বইটিতেও রয়েছে নানান তথ্যের সমাহার যা পড়ে অনেক কিছু জানার সুযোগ হয়েছে। বর্ণ-পরমাণু নামটি আমার কাছে বেশ রহস্যে ঘেরা বলে মনে হয়েছে প্রথম থেকেই। গল্পের একদম শেষে জানতে পারি আসল রহস্য। অপরাধীরাও অপরাধের দারুন ক্রিয়েটিভিটি প্রকাশ করেছে। এই তথ্যের যুগে ইলেক্ট্রনিক ভাবে তথ্য প্রিজারভ না করে অত্যন্ত অভিনব এবং সৃজনশীল পন্থাটি সত্যিই থ্রিলিং ছিল। সব কিছু মিলিয়ে এই থ্রিলার একটি সার্থক উপন্যাস।"
Shaila Sharmeen Shanta , Sep 18, 2020
"খুব চমৎকার লেখনী তথ্যবহুল একই সাথে রোমাঞ্চকর ধন্যবাদ লেখক কে।"
I Islam , Sep 5, 2020
"অসাধারণ!"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"বর্ণ-পরমাণু" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: