১ম প্রকাশ, ২০১৫
আগুনভরা কলস
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | আগুনভরা কলস |
| Author | লুৎফর হাসান |
| Publisher | জাগৃতি প্রকাশনী |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০১৫ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 80 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | ছড়া, কবিতা ও আবৃতি |
| Weight | 0.205 Kg |
| ISBN | 9789849104087 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
3 Ratings and 1 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১টি
Sayadat Chamon , Mar 12, 2015
"লুৎফর হাসান একাধারে লেখক, গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। বর্তমানে 'দৈনিক মানবকণ্ঠ' পত্রিকায় কর্মরত আছেন। ফুলটাইম মিডিয়াকর্মী হলেও নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতেই ভালোবাসেন। 'আগুনভরা কলস' লেখকের ৮ম গ্রন্থ। 'আগুনভরা কলস'-কে উপন্যাস না বলে উপন্যাসিকা বলাই শ্রেয়। আমরা সবাই সুরেলা জীবনের সুরটাকে দেখি। কিন্তু সুরের পেছনে কত হাহাকার, কত ব্যাথা-বেদনা, কত হাসি-কান্না, কত সুখ-দুঃখ, কত প্রেম-বিরহ, কত চাওয়া-পাওয়া, কত আশা-ভালোবাসা, কত চড়াই-উতরাই প্রভৃতি নিয়ে বেসুরো গল্প লুকায়িত তা দেখি না। 'আগুনভরা কলস' একজন বাউলের জীবনের বেসুরো গল্প। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়-এর বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি' ছিলো একজন কবিয়ালের জীবনের বেতাল গল্প। লুৎফর হাসান এর 'আগুনভরা কলস' তেমনি এক সুরেলা জীবনের বেসুরো গল্প। বইয়ের প্রথম ফ্ল্যাপে উপন্যাসের সার-সংক্ষেপ এরকম -- 'প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম উপাদান সুর। আর এই সুর কণ্ঠে নিয়ে পথে পথে কিছু নির্লোভ মানুষ হেঁটে চলেছেন যুগ যুগ ধরেই। তাঁদের কাউকে প্রকৃতি মনে রাখে, কাউকে আড়াল করে দেয়। তবে তাঁদের সুর মিশে থাকে পথের ধুলোয়, বর্ষার জলে, পাখির বাসায় অথবা রাত্রির বাতাসে। একজন এনায়েত বাউল অথবা জিলানীর কথা কেউ মনে রাখে না হয়তো। তবে তাঁদের গান বুকে ধারণ করে জনপদে জনপথে ঘুরে বেড়ায় পবনের মতো কেউ কেউ। কীভাবে ঘুরে বেড়ায়? কী আছে সেই সুরের ভেতর? কেনই-বা এভাবে পথে নামে তাঁরা? সে কথা আগুনভরা কলসের মধ্যে ঢাকনাবদ্ধ। খুলতে গেলে বুকে সুরের হাহাকার থাকা চাই।' এটি পড়ে যে কেউ উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহ পাবেন এটা যেমন নিশ্চিত তেমনি সার-সংক্ষেপ এর মাধ্যমে লেখক পাঠককে একটুও ঠকাননি এটাও সত্য। ‘আগুনভরা কলস’ আবহমান বাংলার এক অনবদ্য চিত্র। লেখক লুৎফর হাসান নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলেছেন গ্রাম-বাংলার সামাজিক জীবনের সঙ্গতি-অসঙ্গতির এক অনন্য চিত্র। বন্যার্ত গ্রামের চিত্রটিও বেশ প্রশংসার দাবী রাখে। উপন্যাসের শুরুতে বাঁশির সুর ও গানের সুর নিয়ে পাঠক হিসেবে আমি কিছুটা বিভ্রান্ত। তবে জিলানীর বাঁশির সুরে মোহাবিষ্ট হয়ে সদ্য বিধবা শেফালীর মনে সৃষ্ট টান রাতার আঁধারে কীভাবে জিলানীর কাছে নিয়ে যায় তা লেখক সযতনে বর্ণনা করেছেন। জিলানী ও শেফালীর প্রেম পাঠক হৃদয়কে আকৃষ্ট করবে এটা নির্দ্বধায় বলা যায়। ‘কোন বেহায়া জলের টানে ভাইসা আইলো সুগন্ধি আউলা মনে আগুন ধরে হইতে চায় গো বন্দী...।’ এ সুর মনোযোগী পাঠককে মোহাবিষ্ট করে টেনে নিয়ে যাবে উপন্যাসের ভেতরে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গল্পের পটভূমি টাঙ্গাইলের নবগ্রাম। সম্পদশালী মফিজউদ্দিন তালুকদারের বড় বউ হাওয়া। ছোট বউ মমতা। ছোট বউ মমতার ছেলে জিলানী বাউল। কাহিনীর ঘনঘটায় জানা যায় জনৈক মহিলা ও তার বাড়ির বারোমাসি কামলা আজগর আলীর প্রণয়ের ফসল আয়নাল তথা এনায়েত বাউল। অক্ষম পুরুষ মফিজউদ্দিন তালুকদারের অক্ষমতার সুযোগে ছোট বউ মমতা ও এনায়েত বাউলের মিলনের ফসল এই জিলানী বাউল। উপন্যাসের নায়ক। বেখেয়ালি পাঠকের কাছে এসব কিছু একটা ঘোরের মতোই মনে হবে। উপন্যাসের নায়িকা শেফালী দপ্তরী আমজাদী আলীর মেয়ে। তার বড় ভাই ময়নাল। ছোট ভাই মনির। ময়নালের বউ জামেলা এক সময়ের পতিতা। শেফালী স্বামীর স্পর্শ না পাওয়া সদ্য বিধবা এক নারী। কোন এক মধ্যরাতে অবৈধ মেলামেশা দিয়ে জিলানী ও শেফালীর যে প্রেমের শুরু তা পাঠককে টেনে উপন্যাসের শেষ অবধি নিয়ে যাবে এ কথা অনায়াসেই বলা যায়। সয়দুন বুড়ির তৈরি কুসংস্কারের বলি হয় এনায়েত বাউলের মা। পরবর্তীতে এনায়েত বাউল প্রতিশোধ হিসেবে বুড়িকে জবাই করে হারিয়ে যায়। আর ফেরেনি। যা পাঠককে বেশ ভাবিয়ে তুলবে। এনায়েত বাউল মানুষের অনুরোধে গান গাইলেও জিলানী কারো অনুরোধে গান গায় না। নিজের জন্য গায়। তবে শেফালীর প্রথম অনুরোধ সে উপেক্ষা করতে পারেনি। যা ভালোবাসার অদৃশ্য রসায়নের অপার দৃষ্টান্ত। অতীত যতই নিকৃষ্ট হোক বর্তমানকে বেশ সযতনে ভালো কাজের দিকে ধাবিত করেছেন লেখক লুৎফর হাসান। এনায়েত বাউলের মায়ের কামলা আজগর আলীর সাথে প্রণয়। এনায়েত বাউল ও মমতার অবৈধ মিলন। ময়নালের পতিতালয়ে যাতায়াত। এসব ছিলো অতীত। পরবর্তীতে জিলানী ও শেফালীর অবৈধ মিলন বিয়েতে বৈধতা পায়। ময়নাল বিয়ে করে পতিতা জামেলাকে। এক কথায় লেখক এখানে শুদ্ধতার জয়গান গেয়েছেন। কবিরাজের একটি অশুভ দিক। সয়দুন বুড়ির ভন্ডামি। মমতা ও এনায়েত বাউলের মিলন উপাখ্যান। বেখেয়ালি এছহাক। মনির ও রুখসানা। তালুকদারের সালিশ। ময়মুনা বুড়ি। জিলানী ও শেফালীর প্রেম। জিলানীর মরে যাওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়া অথবা বেঁচে থাকা। পাঠকের জন্য এক ভিন্নমাত্রার আহার হবে এটা আমার বিশ্বাস। উপন্যাসের সংলাপ এত ভালো মানের না হলেও একটি আলাপন আমার বেশ মনে ধরেছে। আলাপনটি এরকম - ‘কপাল কুঁচকে বুড়ি জিলানীর দিকে তাকায়, বাজান, তুমি এই ঘর থিকা বাইর অইলা যে... জিলানী খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে উত্তর দেয়, হ, শেফালীর অসুখ, তাই দ্যাখতে আইছিলাম। কোনও সমেস্যা চাচী? - না সমেস্যা না, সমেস্যা কিয়ের? তয় জামেলা তো .... - জামেলা অইছে তো কি অইছে চাচী? হেয় কি মানুষ না? - মানুষ, তয় মাগী। - মাগী আছাল, এহন নাই। - মাগী তো মাগিই। হের আবার ভালো অইবার উপায় আছে? - তাইলে তো আপনে নগেও কতা কওয়া পাপ, জুয়ান কালে আপনেও বলে চাইলের বয়েলে কাম করছুইন? চাইলের বয়েলের ছেড়িগরেও তো আপনেরা মাগী কইন। - বাজান, জামেলার নগে আমারে মিলাইলা? তালুকদারের বংশের পোলাপান এবা কইরা কতা কয়? যাই গা, খুব দুক্কু পাইলাম বাজান। - যাইন, যাইন, আন্নেরে এত ত্যানা প্যাচাইবার কইছে ক্যারা? চোখ মোছার ভান করে ময়মুনা বুড়ি চলে গেল।’ ঘটনার বাঁকে বাঁকে বাউলের সুর আছে বাউলের বেদনা আহা কেউ বুঝে না সুর থাকে কথা থাকে বাউলেরা চিরদিন থাকে না। বাউলেরা মরে যায়। সুর থেকে যায়। কথা থেকে যায়। স্মৃতি থেকে যায়। থেকে যায় ইতিহাস। বাউলদের কেউ মনে না রাখলেও তাদের সৃষ্টি, তাদের সুর সবার হৃদয়ে বহমান। সেই সুরের টানেই পবনেরা ছুটে বেড়ায়। জিলানী ও শেফালীর হাহাকার যদি বিন্দুমাত্র পাঠক হৃদয়কে গ্রাস করে। পাঠক হৃদয়ে যদি বিন্দুসম সুরের আবেশ থাকে। তবে পাঠক হৃদয়ও তাদের সাথে অজান্তেই গেয়ে উঠবে ....... ‘তুমি আমার নিলা না তো খোঁজ তবু তোমায় সারাবেলা ভাবি আমি রোজ তুমি আমার নিলা না তো খোঁজ ............. ............... . ‘ লেখকের সদিচ্ছা উপন্যাসকে আরো দীর্ঘায়িত করতে পারতো। বইয়ের প্রচ্ছদ বেশ প্রশংসার দাবী রাখে। ছাপা বেশ ঝকঝকে। ভাষার ব্যবহারও যুগোপযোগী। মানের বিচারে আহামরি পর্যায়ের না হলেও পাঠক হৃদয়ে বেশ জায়গা করে নেবে ‘আগুনভরা কলস’ এটা জোর দিয়েই বলা যায়। তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের পর এ ধারার লেখা নেই বললেই চলে। আমার অনাকাঙ্খিত ভুল ক্ষমার দৃষ্টি আশা করে। চিন্তাশীল পাঠকই বলতে পারবেন লেখক কতটুকু সফল কতটুক ব্যার্থ। একথা আমি বলতে চাই না। আমি কোন মানদন্ড নই। লুৎফর হাসান-এর জন্য শুভ কামনা রইলো।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"আগুনভরা কলস" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: