১ম প্রকাশ ২০২২
যে শহরে বুনোফুলেদের বাস
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | যে শহরে বুনোফুলেদের বাস |
| Author | তামান্না জেনিফার |
| Publisher | এশিয়া পাবলিকেশন্স |
| Edition | ১ম প্রকাশ ২০২২ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 96 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.28 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
10 Ratings and 7 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৭টি
Jolly , Jun 2, 2022
""যার যার কষ্টের তীব্রতা সেই ভালো জানে। প্রত্যেকের একটা করে আলাদা আলাদা গল্প থাকে, যে গল্পের নায়ক/নায়িকা সে নিজে...যে গল্প তার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না, জানবেও না..." খুব সত্যি বলেছেন লেখিকা। এই গল্পটা মূলত আমাদের চারপাশের বুনোফুলদের, তাদের লড়াইয়ের, তাদের ভালোবাসার দুঃখী মানুষটার - যাদের সুখ দুঃখ সহজেই অনুভব করা যায়। গল্পটা লেখিকা এত সুন্দর করে লিখেছেন যে পড়া শেষ করার পরও একটা ভালো লাগা অনুভূতি থেকে যায়।"
Moulee Akhund , May 1, 2022
"#বুক_রিভিউ_যে_শহরে_বুনোফুলেদের_বাস কাহিনী সংক্ষেপঃ এই বইয়ের প্রোটাগনিস্ট চরিত্র মালতী নামের এক রূপোপজীবিনী। রূপোপজীবিনী কিংবা দেহব্যবসায়ী বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে উগ্র সাজের কোনো মেয়ের চেহারা। পতিতাদের নিয়ে গল্প লেখার ধারণাটি পুরনো। বাংলা সাহিত্যে এ নিয়ে অসংখ্য সাহিত্য রচিত হয়েছে। কথাসাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পতিতালয়ে গিয়েছেন প্লটের সন্ধানে। পুরনো থিমে নতুন গল্প লিখতে সাহস প্রয়োজন। তামান্না জেনিফার সেই সাহসটুকু দেখিয়েছেন। বারাঙ্গনা মালতী আর তার গল্প নিয়েই হাজির হয়েছেন আমাদের জন্য তার প্রাপ্তমনস্ক বই 'যে শহরে বুনোফুলেদের বাস' নিয়ে। পুরনো থিমে নতুন গল্প লেখা কিন্তু মোটেও সহজ নয়। আর এই কঠিন কাজটিই করেছেন তামান্না। যে কোনো সাহিত্যের প্রথম যোগ্যতা পাঠকের মনের খোরাক যোগানো। 'যে শহরে বুনোফুলেদের বাস' সেদিকে ভালোভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে। তামান্নার সাহিত্য চর্চার শুরু থেকেই তার জার্নিটুকু আমি লক্ষ্য করেছি বলে তার পরিশ্রম ও তার ভাষায় ক্রমোন্নতিটুকু আমার চোখে পড়েছে। তার ভাষায় এক অদ্ভুত সারল্য আছে যেটি তার নিজস্ব স্টাইল। জীবনবোধ যে কোনো সাহিত্যের আরেকটি যোগ্যতা। সেদিকেও বইটি সমৃদ্ধ। লেখকের পর্যবেক্ষণ শক্তি তীক্ষ্ণ হতে হয়। সেদিকেও তামান্নার ক্রমোন্নতি দৃশ্যমান। বইয়ের প্রিয় অংশঃ “গভীর রাতে মালতীর ঘুম ভেঙে যায়। একদল কুকুর তারস্বরে ডাকছে। আজ হঠাৎ কুকুরগুলোর কী হলো, এরা এমন ডাকছে কেন! রাতে একবার ঘুম ভেঙে গেলে সহজে আর ঘুম আসতে চায় না। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে তার মনে হয় আরমান হুট করে সেদিন চলে গেল, আর কোনো খবরও দিল না…নিজের উপর আবার রাগ হয় তার। এমন তো না যে আরমানের সাথে ওর নিয়মিত কথা হয়। হঠাৎ হঠাৎই তো কথা হয়, তাও দুই মিনিটের বেশি কখনও ফোনে কথা হয়নি। তার সাথে তো মালতীর এমন কোনো সম্পর্ক নেই যে আরমান তাকে তার প্রতি মুহূর্তের খবর জানাবে! মালতীর মত মেয়ের সাথে আরমান কেন, কোনো ছেলেরই এমন কোনো গভীর সম্পর্ক হবার কথা না! সব জেনে বুঝেও মন যেন কিছুই বোঝে না। মাঝে মাঝে নিজের উপর এত বিরক্তি লাগে তার, মনে হয় নিজেকেই শেষ করে ফেললে হয়ত সব কষ্টের সমাপ্তি হবে! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমাবার চেষ্টা করে সে আবার। রাত জেগে জেগে অর্থহীন ভাবনা ভাবার বিলাসিতা করা তাকে মানায় না। ঘুমাতে হবে, না ঘুমালে শরীর চলবে না। মন না চললেও তাকে চালানো যায়, শরীর না চললে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি। মানসিক ক্ষতির চেয়ে আর্থিক ক্ষতির ধাক্কাটা মালতীর জন্য বড়। আকাশ কুসুম না ভেবে বরং মনটাকে আরো পাথর করাই ভালো। শুয়ে শুয়ে মালতী ভাবে আর সে আরমানের কথা ভাববে না, কখনোই না। আরমান ডাকলেও সে এড়িয়ে যাবে, না দেখতে দেখতে হয়ত মনটা এক সময় বুঝবে সে যা চাচ্ছিল তা শুধুমাত্রই কল্পনা, তার বাস্তব অস্তিত্ব নেই। কিন্তু, আমরা যা ভাবি তাই কি হয় সব সময়? মনটাকে আমরা ভাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা অদৃশ্য বস্তু, কিন্তু এই অদৃশ্য বস্তুর ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানি না, হয়ত জেনেও না জানার ভান করি। তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। আমরা ধরা পড়ে যাই মনের ফাঁদে। সমালোচনা কিংবা উন্নতির জায়গাঃ বইয়ে অজস্র বানান ভুল ছিল, এমনকি ফ্ল্যাপের লেখাতেও ছিল বানান ভুল যা ভীষণ বিরক্তির উদ্রেক করেছে। প্রকাশনীগুলো এত টাকা বিনিয়োগ করে বই বাজারে আনতে পারে, অথচ একটা প্রফেশনাল প্রুফ রিডার দিয়ে প্রুফ রিডীং করাতে কৃপণতা কেন, তা সত্যই আমার বোধের বাইরে। এক নজরেঃ বইয়ের নাম: যে শহরে বুনোফুলেদের বাস লেখকঃ তামান্না জেনিফার প্রচ্ছদ: মোঃ সাদিতউজ্জামান মলাট মূল্যঃ ২৪০/= রেটিংঃ ৯/১০ প্রকাশনী: এশিয়া পাবলিকেশনস প্রকাশকাল: অমর একুশে বইমেলা ২০২২"
Ariful Islam , Mar 23, 2022
"নামের মাধ্যমে আকৃষ্ট করেছিলো বইটা। পড়বার পর অদ্ভুত এক মায়ায় আটকে গেছি। অসম্ভব সুন্দর লেখনী।"
Nowshin , Mar 22, 2022
"বই পড়া শুরুর আগে প্রচ্ছদ এবং এর পর সেটার উৎসর্গ পাতা দেখে খুবই ভালো লেগেছে। লেখিকা যে চমৎকার একজন মানুষ সেটা প্রকাশ্য। যে বাগিচায় সারাদিনের মরে যাওয়া ফুল ঝরে প্রতি সকালে নতুন করে ফুল ফোঁটে। তাদের জীবনেও প্রেম আসে। তারাও ভালোবাসে। এই বাগিচার প্রতিটা ফুলের আলাদা গল্প আছে, আলাদা সুবাস আছে আছে জীবনে টিকে থাকার ভিন্ন সংগ্রাম। প্রথম পাতা পড়ার পর শেষ পাতায় কখন শেষ পাতায় চলে আসবেন টের পেতে সময় লাগবে। মনে হচ্ছিল, এগুলো তো আমার আশেপাশের কারো না কারো গল্প, এগুলো তো আমি দেখেছি, দেখতে পারছি। লেখনী দেখতে পারা বই নিয়ে আর কী লিখবো? বই থেকে - "আমরা যা ভাবি তাই কি হয় সবসময়? মনটাকে আমরা ভাবি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা অদৃশ্য বস্তু, কিন্তু এই অদৃশ্য বস্তুর ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানি না, হয়ত জেনেও না জানার ভান করি। তারপরও শেষ রক্ষা হয় না। আমরা ধরা পড়ে যাই মনের ফাঁদে।" আসলেইতো শেষ রক্ষা হয় না!"
Priya Rahman , Mar 20, 2022
"চমৎকার একটা বই। পড়তে পড়তে কখন যে শেষ হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। আশরাফি বেগমকে নেগেটিভ ওয়েতে আমার ভালো লাগছে আবার কষ্টও লাগছে উনার জন্য। ছফা,আরমান, মালতি অসাধারণ ছিল নিজ নিজ চরিত্রে।"
Md Samsuzzaman Siyam , Mar 2, 2022
"সত্যি বলতে গেলে বইটি অনেক সুন্দর লেগেছে পড়ে। গল্পের চরিত্র গুলো কাল্পনিক হলেও চরিত্র গুলো বাস্তবের মত অনুভূতি দিয়েছে, আর চরিত্র গুলোর মাঝে সব থেকে ভালো লেগেছে মালতীকে, মালতী এর প্রেম এ পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এবং গল্পের শেষ টাও অনেক সুন্দর ছিল।"
Sakib , Feb 22, 2022
"#যে_শহরে_বুনোফুলেদের_বাস #রিভিউ ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ যে শহরে বুনোফুলেদের বাস •লেখকঃ তামান্না জেনিফার •ধরনঃ সামাজিক সমকালীন •প্রকাশনীঃ এশিয়া পাবলিকেশনস •প্রচ্ছদঃ মো. সাদিতউজজামান •মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৯৫ •প্রকাশকালঃ বইমেলা ২০২২ খ্রিস্টাব্দ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ ফেব্রুয়ারির সময়টা পাঠকদেরও যেন খুব ব্যস্ততায় কাটে । এই আমার মতো যারা দূরে থাকে তাদের তো আরো ব্যস্ততা । কত রকমের কত প্রিয় প্রিয় বই আসবে বলে মনের মধ্যে অন্যরকম এক আনন্দ উত্তেজনা ভর করে থাকে তার সাথে সাথে সেগুলো আনার জন্য বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের অফিসে যাওয়ার জন্য কত সুন্দর মুহূর্ত কাটানো । সর্বশেষে বইগুলো হাতে পেলে এক এক করে সব পড়ে ফেলা । আগে তো এই পর্যন্তই ছিল আমার জীবন, উহুম আমার পাঠক জীবন । এখন আর সেরকম কেনো যেনো নেই । প্রতিটি উপন্যাস পড়লেই রিভিউ দিতে ইচ্ছে করে, পাঠ প্রতিক্রিয়া দিতে ইচ্ছে করে । আবার একটা অ্যালবাম খুলেছি বলে আরো ইচ্ছে করে । চলছে এভাবেই । কিন্তু তাতেও তো একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব ছিল একেকটি উপন্যাস পড়ার মাঝে । হঠাৎ করে তা কমে যাচ্ছে । একের পর এক উপন্যাস পড়ে ফেলছি রাতবিরেতে । এই পুরো পাঠক আমিই যেন খুশিতে হাসছি এবং ভেসে চলেছি নতুন আরেকটি উপন্যাস শুরু করার লক্ষ্যে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ যে শহরে বুনোফুলেদের বাস! খুবই ছোট্ট একটি উপন্যাস সাথে সহজ ভাষায় মিষ্টি শব্দে উপন্যাস । যার কারণেই আমি অবাক হয়ে গিয়েছি এত তাড়াতাড়ি উপন্যাসটি পড়ে ফেলেছি দেখে । ঠিক রাত ১২টা ২০য়ে উপন্যাসটি পড়া শুরু করেছিলাম । এখন পড়া শেষে রিভিউ লিখতে বসেছি ১টা ৩০ মিনিটে । এই পুরোটা সময়ে খুবই মনোযোগ দিয়ে উপন্যাসটি পড়েছি । ♦নামকরণঃ যে পৃথিবীর একটি বিন্দুতে নাম না জানা কোনায় কোনায় কষ্টকে ভাসিয়ে মনে রেখে মুখে হাসির প্রসাধনী মেখে হেসে থাকতে হয় সেই শহরের রূপকথা নিয়েই যেন উপন্যাসটি । এই বুনোফুলেদের নিয়েই উপন্যাসের পুরোটা পথ চলা । তাদের বসবাস উপন্যাস জুড়েই বসে আছে । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ গভীর রাতে মালতীর ঘুম ভেঙ্গে যায় । একদল কুকুর তার স্বরে ডাকছে! আজ হঠাৎ কুকুরগুলোর কী হলো, এরা এমন ডাকছে কেন! রাতে একবার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সহজে আর ঘুম আসতে চায় না । বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে তার মনে হয় আরমান হুট করে সেদিন চলে গেলো, আর কোন খবরও দিলো না... নিজের উপর আবার রাগ হয় তার । এমন তো না যে আরমানের সাথে ওর নিয়মিত কথা হয় । হঠাৎ হঠাৎই তো কথা হয়, তাও দুই মিনিটের বেশি কখনও ফোনে কথা হয়নি । তার সাথে তো মালতীর এমন কোন সম্পর্ক নেই যে আরমান তাকে তার প্রতি মুহূর্তের খবর জানাবে! মালতীর মত মেয়ের সাথে আরমান কেন, কোন ছেলেরই এমন কোন গভীর সম্পর্ক হবার কথা না! সব জেনে বুঝেও মন যেন কিছুই বোঝে না । মাঝে মাঝে নিজের উপর এত বিরক্তি লাগে তার, মনে হয় নিজেকেই শেষ করে ফেললে হয়তো সব কষ্টের সমাপ্তি হবে! একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুমাবার চেষ্টা করে সে আবার । রাত জেগে জেগে অর্থহীন ভাবনা ভাবার বিলাসিতা করা তাকে মানায় না । ঘুমাতে হবে, না ঘুমালে শরীর চলবে না । মন না চললেও তাকে চালানো যায়, শরীর না চললে ক্ষতির পরিমাণটা বেশি । মানসিক ক্ষতির চেয়ে আর্থিক ক্ষতির ধাক্কাটা মালতীর জন্য বড় । আকাশ কুসুম না ভেবে বরং মনটাকে আরও পাথর করাই ভালো । শুয়ে শুয়ে মালতী ভাবে আর সে আরমানের কথা ভাববে না, কখনোই না । আরমান ডাকলেও সে এড়িয়ে যাবে, না দেখতে দেখতে হয়ত মনটা একসময় বুঝবে সে যা চাচ্ছিলো তা শুধুমাত্রই কল্পনা, তার বাস্তব অস্তিত্ব নেই । কিন্তু, আমরা যা ভাবি তাই কী হয় সবসময়? মনটাকে আমরা ভাবি নিজের নিয়ন্ত্রনে থাকা অদৃশ্য বস্তু, কিন্তু এই অদৃশ্য বস্তুর ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা জানি না, হয়ত জেনেও না জানার ভান করি । তারপরও শেষ রক্ষা হয় না । আমরা ধরা পরে যাই মনের ফাঁদে । ♦প্রচ্ছদঃ এই উপন্যাসের প্রচ্ছদটি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম আমি খুবই ভয়ে ছিলাম । মনে হচ্ছিল কোনোভাবে এটা কবিতা, গল্প সংকলন না হোক । কোনোভাবে এটা উপন্যাস না হয়ে আমাকে হতাশ না করুক । তারপরে যখন শুনলাম এটা উপন্যাস । আমি হেসেছি । হেসেই মনে মনে বলেছি, বাহ্ আমার সংগ্রহে একটি বই তাহলে বাড়ছে । এই খুশিতে উদযাপন হোক । প্রচ্ছদশিল্পী সাদিত ভাইয়া সবসময়ের মতোই অসাধারণ প্রচ্ছদ করেছেন । বুনোফুলের মধ্যে আবছা এক নারীমুখ যেন আরো উপন্যাসকে সঠিক ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে । ♦উৎসর্গঃ উৎসর্গ পত্রটি দেখেই আমার এত ভালো লেগেছে । মনে হয়েছে এটি আসলেও দরকার । যে মানুষটি একটি বই এর শুরুর সামনাসামনিটা এত সুন্দর করে সবার সামনে নিয়ে আসে! সেই মানুষটিকে উৎসর্গ আসলেই করা দরকার । যা সত্যিই প্রশংসনীয় । এবং বিষয়টা আমাকে খুবই আনন্দ দিয়েছে । ♦উপন্যাসের ভূমিকাঃ উপন্যাসের ভূমিকায় থাকা উপন্যাসের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত ভাবটি পড়তে পড়তে শুধু ভেবেছি উপন্যাসটি আমার কেমন লাগবে তা একটু পরেই জেনে যাবো । এবং মনে হচ্ছিল এটা ভালো লেগে যেতেও পারে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ চরিত্র সংখ্যা খুবই কম । তাও কয়েকটি চরিত্র নিয়ে কিছু বিশ্লেষণ করতে ইচ্ছে করছে । •মালতীঃ সত্যিকার জীবনের মালতীরা কখনও মুখ ফুটে হাসতে পারে কিনা আমার জানা নেই, কিন্তু শত শত কষ্টেও তারা সবসময়েই কাঁদতে পারে না । কী যেন বাঁধায় পড়ে থাকে তারা । জীবনের সংগ্রামে মাঝে মাঝে ভেঙ্গে পড়া মেয়ে মালতী । তবে আবার নিজেকেই মন থেকে শক্ত করার এক প্রবল শক্তি আছে তার মধ্যে । •আরমানঃ আরমানের জীবনেও কিছু কষ্ট আছে । পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জীবনেই কষ্টের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা আছে । এই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করার বিষয়টাও আলাদা । আরমান এর সবথেকে বড় গুণ অসাধারণ ছবি আঁকে । যা তাকে সবসময়েই একটু হলেও সাহায্য করে থাকে । •আশরাফী বেগমঃ মাঝে মাঝে মনে হয় তার একনাগাড়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকা যেন কোন কিছু দেখতে পাওয়ার সুতীব্র অপেক্ষা । কোনো মানুষের চোখমুখটি দেখতে পাওয়ার জন্য সারাটি জীবন তাকিয়ে থাকার অপেক্ষা । খুবই গম্ভীর স্বভাবের নারী । নিজের কাজে এবং অতীতের পাওয়া কষ্টকে ভাসিয়ে দিয়ে সব ক্ষেত্রে জয়ী হতে চাওয়ার জন্য চেষ্টা করে সবসময় । ♦প্রিয় চরিত্রঃ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংগ্রাম করে, অতীতের কষ্টে চলতে চলতে বর্তমানে ভেসে থেকে থেকে ভবিষ্যতে একটু চলাফেরা করতে থাকা সেই বুনোফুলেদের জীবনের সংগ্রাম কেমন হয় আমার জানা নেই । কিন্তু জীবন বোধহয় এরকমই কষ্টের, এরকমই কঠিন । জীবনের মালতী হয়ে থেকেই এই উপন্যাসের প্রিয় চরিত্র হয়ে রইলো । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √লেখক তামান্না জেনিফার আপু এর পূর্বের কোনো লেখা আমার পড়া হয়নি । এটিই তার লেখা প্রথম কোনো উপন্যাস যা আমার পড়া । এবং পড়েই মনে হয়েছে এই ধরনের সামাজিক সমকালীন উপন্যাস সত্যিই তার লেখা প্রয়োজন । √একটি উপন্যাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হলো উপন্যাসের জীবনধারা । যেহেতু এই উপন্যাসের জীবনধারার খোলসে অনেকখানি রুক্ষ ছায়া বিরাজমান সেজন্য এর আবহেও শক্ত শক্ত কাঠিন্য থাকা প্রয়োজন ছিল । যা লেখক খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন । এবং এক্ষেত্রে চলিত ভাষা হোক কিংবা অন্যরকম কোনো ভাষা কিছু অন্যরকম ভাষা প্রয়োগ করাটা দরকারই ছিল জীবনধারায় খাপ খাওয়ানোর জন্য । লেখক তামান্না জেনিফার আপু তা সুন্দর ভাবে করেছেন । এবং এই ভাষাপ্রয়োগে উপন্যাসের কোথাও তাকে অতিরিক্ত মনে হয়নি । সাথে উপন্যাসের অন্যান্য মুহূর্তে সহজ শব্দ প্রয়োগ উপন্যাসে এগিয়ে যেতে আরো সাহায্য করেছে । অর্থাৎ উপন্যাসের জীবনধারা এবং পটভূমি তিনি খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন । √যেহেতু উপন্যাসের মূল আকর্ষণই থাকে উপন্যাসের চরিত্ররা কিভাবে জীবনধারায় নিজেকে ভাসিয়ে দেয় সেদিকে । এক্ষেত্রে তা সুন্দর ভাবে হয়েছে । উপস্থিতি ঠিকঠাক এবং সঠিকভাবে হয়েছে । কখন কোন চরিত্র এসে বুনোফুলের মধ্যে আত্মিক এবং মানসিক ভাবে উপস্থিতি থাকা উচিত তা লেখক সুন্দর ভাবে ব্যবহার করেছেন । বিশেষ করে আত্মিক উপলব্ধিগুলো বেশ ভালো করে আনা হয়েছে । √মাঝে মাঝে মনে হয় যেহেতু উপন্যাসের নাম থেকেই বোঝা যায় এটি কোন বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে গড়ে তোলা । তাই এক্ষেত্রে লেখকের ওপরে একটু হলেও চাপ পড়ে যায় সেজন্য একটু হলেও ভাষা প্রয়োগ এবং সহজভাবে গভীর বিষয় বুঝানোর মধ্যে দিয়েই লেখক তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বুঝিয়েছেন । এবং যার জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার । ♦প্রিয় অংশঃ খুবই ছোট্ট একটি উপন্যাস । বেশ অনেকখানিই প্রিয় অংশ আছে । যা জুড়ে শুধু প্রিয় কিছু দৃশ্যই আছে । তবুও উপন্যাসের শেষের অংশগুলো অবশ্যই প্রিয় এবং কাছের । তাছাড়া কিছু কিছু চিত্র আঁকার সময়ের বর্ণনাও খুবই ভালো লেগেছে । ♦উপন্যাসটি কেনো পড়া উচিতঃ •এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের জীবনই একটা সময় গিয়ে কারো না কারো কাছে গুরুত্বপূর্ণ । আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি খুব । এই পৃথিবীতে একটা মানুষের যখন প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তখন তার জীবনের সীমাও শেষ হয়ে যায় । ঠিক সেজন্যেই কোন ক্ষেত্রে কোন মানুষটি কোন পথে পা ফেলতে পারে, কোন কষ্টে কার জীবনে কি ঘটতে পারে তা জানতে হলেও উপন্যাসটি পড়া উচিত । এবং এটি অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সুপাঠ্য উপন্যাস হবে । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ অন্যান্য বিষয়ে যা সবার আগে আসে তা হলো প্রকাশনী সম্পর্কিত । √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে এশিয়া পাবলিকেশনস ইদানিং অসাধারণ কাজ করছে । তাদের প্রকাশিত উপন্যাস আমার আগেও পড়া হয়েছে । তাই আমি তাদের প্রোডাকশন এর কাজ একটু হলেও বুঝতে পেরেছি । প্রচ্ছদটা সুন্দর ভাবে ফুটিয়েছে । সাথে পৃষ্ঠার ঝরঝরে ভাবটি মুগ্ধ করেছে । সাথে টাইপিং মিস্টেক একেবারেই নেই বললেই চলে যে কারণে এত তাড়াতাড়ি উপন্যাসটি পড়তে পেরেছি আমি । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক তামান্না জেনিফার আপুর উপন্যাস ‘যে শহরে বুনোফুলেদের বাস’ উপন্যাসটিতে মূলত বর্ণনামূলক বিষয়টি বেশি ছিল সেজন্য মনে হয়েছে তিনি বর্ণনা খুবই সুন্দর করে দিতে পারেন । এক্ষেত্রে বর্ণনার জন্য আবহ এবং জীবনধারার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ । যা তিনি এই উপন্যাসের মতো এত কঠিন একটা পটভূমিতেও বেশ দক্ষ ভাবে করেছেন । যেহেতু তার অন্য কোনো উপন্যাস আমার পড়া হয়নি । তাই তুলনা করা সম্ভব হচ্ছে না । কিন্তু আমার এটার লেখার ধরন হিসেবে ভালোই লেগেছে । ♦রেটিংঃ উপন্যাসের রেটিং আমার কখনোই দিতে ইচ্ছে করে না । ইচ্ছে করে সবসময় রেটিং নাকে একটা অপশন দিয়ে চুপটি করে বসে থাকতে । তাও দিতে হয় । মনে হয় এর মাধ্যমে সব বুঝিয়ে বলতে পারছি না কিন্তু লিখতে তো পারছি । রেটিং হলো ৪/৫ ♦উপসংহারঃ প্রতিটি ব্যস্ত শহরের জীবনধারায় কেউ যদি একটি মিনিটও তীক্ষ্ণ নজরে তাকিয়ে ভাবতে থাকে তার মনে হবে, কত রকমের কত মানুষ রোজ হেঁটে চলেছে জীবনের প্রয়োজনে । জীবনের খাতে নিজেকে বইয়ে দিয়ে কখনও কোনো পরিস্থিতিতে বুনোফুল হয়েই বেঁচে থাকতে হয় তবুও দিনশেষে তারা ঘরে ফিরেই । সবাই দিনশেষে সুখই চায় । এই চাওয়াতে দোষের কিছু নেই । শেষটা একটা সংলাপ দিয়ে করি না হয়, প্রত্যেকের একটা করে আলাদা আলাদা গল্প থাকে, যে গল্পের নায়ক/নায়িকা সে নিজে...যে গল্প তার চেয়ে ভালো আর কেউ জানে না, জানবেও না..."
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"যে শহরে বুনোফুলেদের বাস" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: