১ম প্রকাশ, ২০২০
যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার |
| Author | ওয়াসি আহমেদ |
| Publisher | অবসর প্রকাশনা সংস্থা |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২০ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 96 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | গল্প |
| Weight | 0.23 Kg |
| ISBN | 9789848799536 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
3 Ratings and 3 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩টি
arup , Aug 14, 2021
"WONDERFUL BOOKS"
Wazedur Rahman Wazed , Jul 3, 2021
"কুমারী, উত্তর দাও তুমি যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার আমার হৃদয় প্রবল ঝোঁকে চাপ দেয় তোমার হৃদয়ে! যদি কখনও দেখি রূপান্তরে তোমার অস্থিরতা তবে সেই অস্থিরতায় আমি তোমাকে প্রেমের আগে তোমার প্রেমকে ভালবাসি। আমি তোমাকে প্রেমের আগে তোমার প্রেমকে ভালোবাসি… মূল: ফরাসি কবি রেনে গী কাদু ।। ভাষান্তর: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ।। সুর: মেঘদল ব্যান্ড গল্প - সাহিত্যের একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গল্প বলতেই যেন বুঝায় ছোটগল্প। আর ছোটগল্পের সংজ্ঞা? সে তো বিস্তর এক সাহিত্যিক তর্ক-বিতর্কের ব্যাপার। তবে এডগার অ্যালান পো জানান যে, আধা ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে যে রচনা এক নিমেষে পড়ে শেষ করা যায় তাকেই ছোটগল্প বলা যেতে পারে। অথবা যে কোনো সাহিত্যই যদি একবসায় পড়ে ফেলে যায় তাকেও ছোটগল্প বলা যেতেই পারে। আবার রবীন্দ্রনাথ সুর করে ছোটগল্পের সংজ্ঞায় বলেন - অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করি মনে হবে শেষ হয়েও হইল না শেষ। যাক সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বরং পিছলে নেমে যাওয়া যাক অন্য প্রসঙ্গে। ছোটগল্প বাস্তব জীবনের খণ্ডিত অংশ কিংবা পুরো জীবনের সামগ্রিক চিত্র বিশেষ। বাহুল্যতা বর্জিত, সীমাবদ্ধ চরিত্র আর সীমিত পরিসরের সাহিত্যকর্ম হিসেবেই প্রসিদ্ধ ছোটগল্প। কিন্তু এর ব্যাপকতা বিশাল আর বিস্তৃত। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যাপকতা আর বিশালতার পরিমাপ করাটাও অনুমানের বাহিরে। একটা বিন্দু অণু থেকে মহাবিশ্বের যে ব্যাপকতা তেমনই একটা ছোটগল্পে যেন বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা। প্রতিটা মানুষের চিন্তাধারাই অনন্য। যেজন্য একজন লেখকের চোখে ধরা পড়ে জীবনের অন্য রঙ আর ঢঙগুলো। আর সাধারণ জীবনের সেই বৈচিত্র্যতার উপস্থাপন পড়ে পাঠক ভাবে, আরে এ তো আমার চেনা গল্পই। অতি নিমেষেই ডুবে যায় পাঠক সেই জানা বৈচিত্র্যতার অদেখা জীবনচরিতে। আর সেজন্যই চিরন্তন সত্যটা জেনেও পাঠক পরাবাস্তব এক জগতে নিজেকে নিয়ে দাঁড় করায়। কেবলই কি তা লেখকের লেখনশৈলীতে মুগ্ধ হয়ে? মোটেই নাহ! কেননা, পাঠক নিজেও চায় নাগরিক জঞ্জাল থেকে ক্ষণিকের বিরতি নিতে। আর বিরতিটাই যখন ভাবের খোরাক যুগিয়ে পাঠককে ঋদ্ধ করে তখন লেখক যেন নিজের সার্থকতাকে স্বচক্ষে দেখতে পারে। ছোটগল্প এমনই অদ্ভুত। চেনা জগতের অচেনা রূপ। কখনোবা তা আনন্দে দেয়; কখনোবা বেদনা; অথবা বিষণ্ণতায় মোহগ্রস্ত করে ফেলে নিমেষেই। ছোটগল্প বাস্তব জীবনের খণ্ডিত অংশ কিংবা পুরো জীবনের সামগ্রিক চিত্র বিশেষ। হাতের উপর হাত রাখা খুব সহজ নয় সারা জীবন বইতে পারা সহজ নয় এ কথা খুব সহজ, কিন্তু কে না জানে সহজ কথা ঠিক ততটা সহজ নয়। শঙ্খ ঘোষ তরুণ এবং সদ্য গল্পকারের খাতায় নিজের নাম লেখানো ওয়াসি আহমেদের গল্পগুলোতে ফুটে উঠেছে তেমনই চেনা জগতের পরাবাস্তব দিকগুলো। মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, পারিপার্শ্বিক পরাবাস্তবতা, বিকৃত মানসিকতার অবিকৃত উপস্থাপনা, কালোত্তীর্ণ আধিভৌতিকতা, দর্শন কপচানো বিকৃত মানসিকতা, নাগরিক জঞ্জালের ভিড়ে এক টুকরো মিথ্যে আশ্বাস, অতীব আবেগঘন এক প্রণয়াকাঙ্ক্ষা, বাস্তব জীবনের অবান্তর এক গল্প, আতঙ্কের ফাঁসে আটকে পড়া মানবজনম, বাস্তব জীবনের চিরাচরিত নিয়তি এবং প্রতীকী গল্পের বাজেভাবে উপস্থাপন। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুদিত ফরাসী কবি রেনে গী কাদুর কবিতার পঙক্তি হয়ে উঠেছে ওয়াসি আহমেদের গল্পগ্রন্থের শিরোনাম। এই কবিতাকেই প্রেমময় এক আবেগঘন গানে রূপ দিয়েছে মেঘদল ব্যান্ড। যে গানের প্রতিটা শব্দ, সুর আর তাল শ্রোতাকে অদ্ভুত এক ঘোরলাগা ভাব উপহার দেয়। যেন সেই ঘোরলাগা ভাবটাকেই মেঘদলের কাছ থেকে ধার নিতে লেখকের এই প্রয়াস। শিরোনামের সঙ্গে প্রচ্ছদে ফুটে উঠেছে গল্পের আবহ। সবজেটে রঙের মলাটটা তাই মানানসই হয়ে গেছে শিরোনামেই। এরকমই রহস্যে ঘেরা, নাটকীয়তায় পূর্ণ, পারিপার্শ্বিক জীবনযাপনে পরিপূর্ণ এগারটি গল্পটিকে এক সুতোয় বোনা গল্পগ্রন্থ - “যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার”। কখনো রহস্য, কখনোবা পারিপার্শ্বিক জীবন, কখনো রোমাঞ্চ, কখনোবা আধিভৌতিকতা, অথবা পরাবাস্তবতার জালে বোনা গল্পগুলোতে, উত্তেজনার উত্থানপতন হলেও ভাষাগত দক্ষতার প্রয়োগ হয়েছে ব্যাপকভাবে। আর তারই খানিকটা প্রমাণ হয়তো লেখক দিতে চেয়েছিলেন প্রচ্ছদপটে - "কেন এক কাকভেজা ভোরে আব্দুল মোত্তালেবের লোমশ পাজোড়া শূন্যে ঝুলে থাকে? চর্যাপদের আদি কবি লুইপার সাথে এক বৃষ্টিভেজা অন্ধকার সন্ধ্যায় নীলক্ষেতে আটকে পড়া কয়েকজন যুবকের কী সম্পর্ক? মধ্যদুপুরে জনৈক গৃহিণীর জীর্ণশীর্ণ হাত জানালার বাইরে কাকে খোঁজে? অবিরাম জ্বরের দিনগুলোতে শহরের রাস্তায় হয় কোন সে আগন্তুক?" বৈচিত্র্যময় ১১টি গল্প নিয়ে সাজানো মাত্র ৯৬ পৃষ্ঠার গল্পগ্রন্থটি ওয়াসি আহমেদের প্রথম গল্পসংকলন। শুদ্ধতম কবি জীবনানন্দ দাসের কবিতার পঙক্তি গল্পের শিরোনাম হিসেবে বাছাই করে নেয়ার পেছনেও যেন লেখকের স্বপ্রণোদিত উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। আর তাই গল্পের শিরোনামগুলো - সংক্ষোভ, জীবনের এইসব নিভৃত কুহক, একজন ব্যধিগ্রস্ত মানুষ, কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল, বিকৃতি, জ্বরের দিনগুলোতে এক কাল্পনিক নগরীর মিথ্যা উপাখ্যান, সাতটি তারার তিমির, অবান্তর অথচ অকাট্য, চক্র, নিয়তি এবং তিনটি বাজে গল্প। প্রথম গল্পগ্রন্থ হলেও গল্পগুলো যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে অতীব উজ্জ্বল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাঠক যেন গ্রন্থটি পড়া শেষে বিন্দুমাত্র অনুশোচনায় না ভুগে সেই চেষ্টার ছাপ স্পষ্ট লেখকের লেখনশৈলী আর বর্ণনাভঙ্গিতে। গল্পের পটভূমি ভালো লাগতেই হবে এমন ধারণায় বদ্ধমূল না থেকে, বরং লেখক গল্পের পটভূমিটাকে নিজস্ব ভঙ্গিমায় উপস্থাপনে জোর চেষ্টা চালিয়েছেন। আর এই ব্যাপারটাই পাঠকের কাছে দারুণ উপভোগ্য মনে হবে। পৃথিবীতে এমন কিছু জিনিস আছে, যেগুলোকে যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়াই একসাথে পাবার নির্দোষ প্রত্যাশা করা হয়। অন্ধকারের সাথে নৈঃশব্দ্যের উপস্থিতি ঠিক তেমনই একটা ব্যাপার। অবশ্য প্রত্যাশার সঙ্গে সবসময় বাস্তবের মিল থাকে না, সে কথাটাও সত্য। - ওয়াসি আহমেদ চেষ্টা আর ত্রুটিতে আবদ্ধ না থেকে বরং গল্পের ভুবন পরিভ্রমণে বের হওয়া যাক এবার। শুরুতেই আসে সংক্ষোভ নামক গল্পটি। গল্পটা এক দম্পতির। খানিকটা পশ ধাঁচের উচ্চ-মধ্যবিত্ত দম্পতির ঘরে ইতিমধ্যেই ছোটাছুটি করে তাদের একমাত্র কন্যা সন্তান। তাসত্ত্বেও ঘর আলোকিত করে আরেক ফুটফুটে শিশু। বাবা-মা’র সমান পাল্লায় বাটা আদর যেন তখন উনিশ-বিশ হয়ে উঠে সন্তানের চোখেই। শিশুদের মনস্তত্ব নিয়ে লেখা সংক্ষোভ গল্পটা লেখকের পেশার পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গাটাকেও যেন সূক্ষ্ম এক আঘাত হানে। গল্পটা আদতে তরুণ দম্পতির সুখের পরিমাপ নিয়ে শুরু হলেও, শেষটা ধক করে এসে গলার কাছে মাছের কাঁটার মতো অসাবধানতায় আঁটকে যায়। জীবনের এইসব নিভৃত কুহক নামক গল্পটি যেন পারিপার্শ্বিক জীবনের অন্তরালে রয়ে যাওয়া বাস্তবিক সত্যের এক কল্পিত উপস্থাপন মাত্র। খাঁচায় বন্দী এক মধ্যবয়সী গৃহিণীর একাকীত্বের সঙ্গী হওয়া মানুষগুলো, পারিপার্শ্বিকতা এবং মুহূর্তগুলো ফুটে উঠেছে যেন গল্প নামক এক দুঃখী কবিতার আত্মায়। শৈশবের একাকীত্ব, কৈশোরের ক্ষোভ আর বিপণ্ণ যৌবনের দগ্ধতাকে সঙ্গী করে ফেরা এক আর্টিস্টের গল্প একজন ব্যাধিগ্রস্ত মানুষ। নার্সিসিজমের চরম মাত্রায় পৌঁছেও সহজাত প্রবৃত্তির বশে যার মুখ ফুটে বেরিয়ে আসে - বিশ্বাস কর, আমি এরকম হতে চাইনি…!! নীলক্ষেতে এক বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় আটকে পড়া চার যুবক এক বৃদ্ধের মুখে শুনে হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস। নীলক্ষেতের বদ্ধ চার দেয়ালের দোকান থেকে বৃদ্ধ তাদের নিয়ে যায় চর্যাপদের আদি কবি লুইপার রহস্যময় জীবনে। গল্পটি যে ইতিহাস নির্ভার আর অসাধারণ তথ্যবহুল তা যেন গল্পের নামেই প্রকাশ পায় - কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল। বিকৃতি গল্পটি এক যুবকের। সেই যুবক একদিন গ্রামে গিয়ে এক ভণ্ড কবিরাজের সন্ধান পায়। চিকিৎসার অভাবে মৃতপ্রায় তার মেয়ের জন্য মায়া জাগে তার মনের উপরিতলে। একইভাবে আবার মনের ভূতলে সদা জেগে আছে প্রেমিকার খুশী আর সমাজের চোখে তথাকথিত ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগের সদ্ব্যবহার। ভিন্ন জগতের দুই বাসিন্দার অভিন্ন বিকৃত মানসিকতার পরিচয়টাই মেলে ধরেছেন লেখক এই গল্পে। দৃষ্টি থাকলেই এই না যে চোখ মেলে সবকিছু দেখতে হবে। ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে না জানলে এই শহরে টিকে থাকা কঠিন। - ওয়াসি আহমেদ শহর জুড়ে জ্বরের আধিপত্য। সেই অবিরাম জ্বরের দিনগুলোতেই শহরে এসে হাজির হয় এক আগন্তুক। যাকে অনেকেই চেনে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা নামে। জ্বরের উপসর্গ দৃশ্যমান; জ্বর তাড়াতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আগন্তুক; কিন্তু শহরের অভিভাবক যে সেই পুরনো গল্পেরই নগরপিতা - তা যেন বেমালুল ভুলে গিয়েছিল আগন্তুক। সাত একটি অদ্ভুত সংখ্যা। কেননা, নরক, মহাপাপ, রংধনু, দিন এবং মহাদেশের সংখ্যা সাত। একইসঙ্গে সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্যের প্রতীক সাত। এরকমই সাত সংখ্যায় নির্ভর করে সাত বছর আগেকার এক গল্প রচিত হয়েছে সাতটি তারার তিমির শিরোনামে। সম্পর্কের জটিলতা, সঙ্গী হারানোর বেদনা, বিষণ্ণতা, বিষাদের সুর আর একাকীত্বের দর্শনগুলো যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে রোমান্টিকতার গহিনে। ভালোবাসা ব্যাপারটাকে মেয়েরা খুব সহজেই আঁচ করতে পারে। সৃষ্টিকর্তা এই বোধশক্তিকে উপহার হিসেবে দিয়েছে ওদের। - ওয়াসি আহমেদ জহিরের মৃত্যু খবরটা বয়ে নিয়ে আসে একদল কাক। এনে সেই খবর দেয় মৃত্যু নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকা আবদুল মোত্তালেবকে। দুজনের মৃত্যু কারণ ভিন্ন হলেও দুজনের সত্ত্বায় এক অভিন্ন সুতোর টান। আর সেই টানের ব্যাখ্যাটা অবান্তর অথচ অকাট্য - যেমন গল্পের শিরোনাম। আধিভৌতিক নাকি পরাবাস্তব এমনকি এক দুষ্টচক্রে আবদ্ধ স্বয়ং চক্র গল্প। জাহিনের জীবনটা অতীব কষ্টের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে অদ্ভুত এক কষ্ট তাকে চারিদিক থেকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে। তবে এসবকিছুর উর্ধ্বে যে তার জীবনটা এক দুষ্টচক্রে আবদ্ধ তা কি জাহিন জানে? নিয়তি গল্পটা তিনজন মানুষের নিয়তিকেই কেন্দ্র করে রচিত। আসগর রশীদ সম্পত্তির পাহাড়ের উপর বসে সুখের সংসার রেখে যায় ক্ষণিক বিনোদনের গহিনে। ত্রিমুখি এই জীবনযাপনে অভ্যস্ত আসগর রশীদকে অনভ্যস্ত করতে কেউ একজন আসে ব্ল্যাকমেইল করার ছলে। অপরের জন্য খোঁড়া কুয়ায় নিজেকেই পড়তে হয় যদি না নিজের উদ্দেশ্য মহৎ না হয়। আর সবশেষে রয়ে যায় তিনটি বাজে গল্প। প্রতীকী গল্পের ছলে বলা এই কল্পকাহিনীগুলো ভাবনার খোরাক যোগায়। আদিমতার উত্থান, প্রকৃতির ভারসাম্য এবং নির্মম বাস্তবতার সত্যতা প্রকাশ যেন গল্পগুলো্র অন্তরাল থেকে মাথা উঁচু করে উঁকি দেয় পাঠকের উদ্দেশ্যে। ওয়াসি আহমেদ। তবে তাকে ওয়াসি আহমেদ রাফি নামেই বেশ ভালোভাবে চেনা যাবে। কেননা, ওয়াসি আহমেদ নামে আরো একজন লেখক রয়েছেন আমাদের সাহিত্য প্রাঙ্গণে। পেশায় ডাক্তার অথচ একমাত্র নেশা বই সংগ্রহ করা এবং বই পড়া। পাশাপাশি গান-বাজনা আর ফটোগ্রাফির ঝোঁক আছে। তবে সেটা বই সংগ্রহ আর পড়ার মতো নেশায় রূপান্তর হতে পারেনি। কথিত আছে, ওয়াসি আহমেদ রাফির ঘরে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ হাজার বই মজুত আছে। সেই যাই হোক, প্রতিবছর গুডরিডসে ২০০-২৫০ বই পড়ার চ্যালেঞ্জ সফলভাবে সম্পন্ন করা পাঠকের ঘরের অবস্থা তেমনই হবার কথা। ওয়াসি আহমেদ রাফি সমসাময়িক সাহিত্য অঙ্গনে পরিচিত নাম একজন পড়ুয়া পাঠক এবং সফল অনুবাদক হিসেবে। এমনকি প্রথম মৌলিক উপন্যাস “আঁধারের গহীন নিরুদ্দেশে” অর্জন করেছেন পাঠকপ্রিয়তা তরূন পাঠকদের কাছে। দ্বিতীয় উপন্যাস “চমৎকার ধরা যাক দু’-একটা ইঁদুর এবার” শীঘ্রই প্রকাশিতব্য। “যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার” তার প্রথম গল্প সংকলন। এমন একটা প্রবাদ বাক্য আছে- পুরোদস্তুর একজন লেখক হয়ে ওঠার আগে একজন পুরোদস্তুর পাঠক হতে হয়। কেননা, এতে করে লেখক সহজেই বুঝে নিতে পারে পাঠক কি চায় বা কতটুকু লেখকের কাছ থেকে প্রত্যাশা করতে পারে। যদিও ব্যাপারটা কেবলই একটা অনুমানের ভিত্তিতে পূর্ণ। যাকগে, ওয়াসি আহমেদ যে পুরোদস্তুর একজন পাঠক তা ন্যে ফলাও করে বলার কিছু নেই। তবে পুরোদস্তুর একজন লেখক না হলেও ওয়াসি সেই পথেই যে হাঁটছে তার প্রমাণ এই গল্পগ্রন্থ। তার লেখনশৈলীর বৈশিষ্ট্য এবং স্বতন্ত্রতা ইতিমধ্যেই তার প্রথম মৌলিক উপন্যাসকেও অতিক্রম করে গিয়েছে। ওয়াসির লেখনশৈলীতে এক রকমের সূক্ষ্ম ধার আছে। যা গল্পের কোমলতাকে পাঠকের হৃদয় স্পর্শের চেষ্টা করে যেমন; ঠিক তেমনই পাঠককে ধাক্কা দেয় গল্পের রুক্ষতায় লেখনশৈলীর কঠিনতায় বাস্তবের নির্মমতাকে উপস্থাপনের অন্তে। ভিন্ন গল্প নিয়ে সাজানো সংকলনের একটা অভিন্ন বৈশিষ্ট্য অবশ্যই আলোচ্য। আর তা হচ্ছে, গল্পের চরিত্রায়ন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লেখকরা তাদের সৃষ্ট চরিত্র নিয়ে এন্তার গবেষণা করে থাকেন। নিজের সৃষ্ট চরিত্রটাকে একটু ভিন্নভাবে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যেই তা করে থাকেন। কিন্তু ওয়াসির চরিত্রগুলো বেশ স্বতঃফূর্ত আর প্রাণবন্ত। চরিত্রগুলোই এমন যে মনে হয় - “আরেহ গতকালই তো জাহিনকে দেখলাম ধানমন্ডি লেকের পাড়ে বসে সিগারেট ফুঁকছে” অথবা “নীলক্ষেতের সেই ঘুপচি গলির চায়ের দোকানের পেটমোটা বেড়ালটা সেদিনই এসে পায়ের সঙ্গে শরীর ঘষটে আদর চাইল”। খুবই পরিচিত চরিত্রগুলোকে এনে দাঁড় করিয়েছে ওয়াসি তার গল্পের প্রাঙ্গণে। অথচ এতটা পরিচিত চরিত্রই অপরিচিত লাগে গল্পের অলি-গলিতে। কেননা, সেসব চরিত্র স্বতন্ত্র। তাদেরকে অন্য কোনো গল্পের দেখা যায়নি ইতোপূর্বে। তবে তাদের সন্ধান পাবে পাঠক বাস্তবে। ওয়াসির চরিত্রগুলো তাই বাস্তবিকতার সুরেই কথার মালা জপে, কাল্পনিকতার আশ্রয়ে নয়। আর তাই হয়তো চরিত্রের পাশাপাশি লেখক হিসেবে নিজেকে নিজের কাছে রেখেছেন সৎ। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে লেখকের দায়িত্ব থাকে সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের বর্তমান চিত্রের বর্ণনা। যেটা তিনি করেছেন অনায়াসেই গল্পের মধ্যে ডুবে গিয়ে। যেন সেই বার্তাটা গল্পের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। অবিরাম মৃত্যুর দিনগুলোতে কাল্পনিক এক আগন্তুকের আগমন ঘটিয়েছেন শহরের রাজপথে। বিশ্লেষণ করেছেন বর্তমান প্রেক্ষাপট। আবার, বলে গেছেন মানুষের চিরাচরিত স্বভাবের কথা। পশ্চাৎদেশের ন্যায় দ্বিখণ্ডিত আবেগের কথা। অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চবাক্য করা যায় ঠিকই; কিন্তু সেসবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া যায় না। তার চাইতে বরং ব্যাপারটাকে ভুলে যাওয়াটাই চিরাচরিত নিয়মের ঐতিহ্যে পর্যবসিত হয়। সেসবই কথাই লেখক মনে করিয়ে দেয় এমন বাক্যে - “চৈত্রের শুরুতে কালবৈশাখী বলে-কয়ে আসে না। প্রতিবছর একই কান্ড ঘটে, তবু আমরা ভুলে যাই। ঠিক যেভাবে আমরা ভুলে যাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকান্ড, খুন, ধর্ষণ কিংবা জালিয়াতির কথা। ভুলে গিয়ে হয়তো আমরা শান্তি পেতে চাই,চাই অস্থিরতা দূর করতে। নিজেকে বোঝাই, ভালো আছি। এই ভুলে যাওয়া আমাদের মজ্জাগত স্বভাব।” চরিত্রের পাশাপাশি আরেকটা বিষয় পাঠককে ভাবাবে - গল্পের প্রেক্ষাপট। চেনা গলি, জানা পরিবেশ ধরে হেঁটে চলে গল্প। যেন পাড়ার মোড়ের কোনো টংয়ে বসে কারো মুখ থেকে গল্প শোনা। আর ঠিক সেই চেনা গল্পেই জোর করে মিশে যায় অচেনা অতিপ্রাকৃত বা পরাবাস্তব কোনো উপাদান। অথচ বাস্তব আর পরাবাস্তবের এই দোলাচাল মুহূর্তে মিলিয়ে যায় গল্পে; যেমনটা চিনি নিমিষেই মিলিয়ে যায় গরম লিকারে। একমাত্র মানুষই তো পারে আরেকজন মানুষকে আপন করে নিতে। - ওয়াসি আহমেদ অথচ তা সত্ত্বেও, পাঠকরা এই গল্পগ্রন্থ পড়াকালীন সময়ে অনিচ্ছায় বা অসতর্কতার বশতে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জিভে ছ্যাঁক খাওয়ার মতো অসন্তুষ্ট হতে পারে। অথবা মিষ্টি ভেবে চুমুক দিয়ে তিক্ততার অনুভূতিতেও পর্যবসিত হতে পারে। কেননা, কয়েকটা গল্প খুব বেশি চেনা, খুব বেশি জানা, খুব বেশি অনুমেয়। আবার কোনো কোনোটা নিতান্তই সাধারণ পাঠকের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকে। এমতাবস্থায় পাঠকের বিরক্তির উদ্রেক ঘটে। কেননা, যাহা পাঠকের কাছে বোধগম্য নহে তাহাই তার নিকট বিরক্তির কারণই বটে। আবার, যাদের লেখায় পাঠক হিসেবে বিচরণ করেছেন লেখক। তাদের লেখার ধাঁচটা হয়তো হাতের অপরিপক্বতার কারণেই ছুটে এসে ভিমড়ি খেয়ে পড়ে লেখকের লেখনশৈলীর নিজস্বতা আর স্বতন্ত্রতার ভিড়ে। তবে ভালো লাগা আর খারাপ লাগার নিক্তিতে দুই দিকের পাল্লাই পাঠকের কাছে সমান বলে মনে হবে। কেননা, লেখকের গল্প, গল্পগুলোর চরিত্র আর পটভূমি হারিয়ে যায় লেখকেরই লেখনশৈলীর বুনোটে। একটা করে বাছাই করা শব্দ চয়ন করে বাক্য গঠন করেছেন সাবলীলতা আর প্রাঞ্জলতার সুরে। তার বর্ণনাভঙ্গির জাদুময়তার কাছে সাধারণ গল্পই পায় অসাধারণের তকমা। একইসঙ্গে এ যেন লেখকের লেখক হবার পূর্বপ্রস্তুতির কথা জানান দেয়। অপরিপক্ব হাতের এমন ভাষার গাঁথুনি যেন আসন্ন ভবিষ্যতের পরিপক্ব লেখকের ইঙ্গিত ছুঁড়ে দেয় পাঠকের দিকে। অতএব এতক্ষণে হয়তো তা পরিষ্কার। তাই লেখকের প্রতি রইলো তাই অঢেল শুভকামনা। বই: যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার (গল্পগ্রন্থ) লেখক: ওয়াসি আহমেদ প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী প্রকাশক: অবসর প্রকাশনা সংস্থা পৃষ্ঠা: ৯৫ মলাট মূল্য: ১৮০/- টাকা মাত্র পূর্ণাঙ্গ রোর বাংলায় আর্টিকেল হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। আর্টিকেলের লিংক - https://roar.media/bangla/main/book-movie/je-bakko-osruto-ondhokar-short-stories-collection-book-review"
Asir Hamim , Mar 21, 2020
"শুরুতেই জানিয়ে রাখা ভালো, এটি লেখক ওয়াসি আহমেদের প্রথম গল্প সংকলন। মোট এগারোটি ছোটগল্প দিয়ে বইটিকে সাজানো হয়েছে। হালকা-পাতলা গড়নের এই ছিয়ানব্বই পৃষ্ঠার বইটিকে অন্য এক মাত্রা এনে দিয়েছে সজল চৌধুরীর প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদের এপিঠ ওপিঠ দেখলেই পাঠকগণ মনস্তত্ত্বজনিত আগাম সতর্কবার্তা পেয়ে যাবেন; প্রকৃতপক্ষে গল্পগুলো পাঠকের মনস্তত্ত্বের পক্ষে খুব আরামদায়ক হবে না, গভীরভাবে ভাবাবে। প্রতিটি গল্প নিয়ে আলাদা করে বলার চেয়ে গল্পগুলোর ভাবগত মিল খুঁজে উপস্থাপন করাটাই বেশি কাজে দেবে। অধিকাংশ গল্পই পাঠকের মনস্তত্ত্বকে নাড়া দেবে। কিছু গল্প সরাসরিভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের কাতারে পড়ে। ছোটগল্পের অবয়বে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের আমেজ নিয়ে আসার প্রচেষ্টা রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ নতুন লেখকের ক্ষেত্রে। ওয়াসি আহমেদ আমার বিচারে এদিক থেকে সফল। প্রেমেন্দ্র মিত্রের সিংহভাগ ছোটগল্পে যেমন দুঃখবাদের প্রকট ছায়া দেখা যায়, এই বইয়ের বেশ কিছু গল্পে তেমনই লেখকের ব্যক্তিগত দর্শনের জোরালো প্রকাশ পাঠকের দৃষ্টি এড়াবে না। গল্পগুলোতে ঘুরেফিরে প্রেম আছে, দৈনন্দিন একঘেয়ে জীবনের পৌনঃপুনিকতা আছে, সাথে দর্শন, সাহিত্য, পৌরাণিক বিষয়ও আছে। গল্পের নামকরণের ক্ষেত্রে কবি জীবনানন্দ দাশের বিভিন্ন কবিতার লাইনকে আশ্রয় করা হয়েছে। আর বইয়ের নামকরণও করা হয়েছে রেনেগী কাদুর একটি কবিতার অনুবাদ থেকে, যেটি অনুবাদ করেছেন স্বয়ং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। গল্প সংকলনের রিভিউ লেখার ক্ষেত্রে আমি কখনোই আলাদা করে প্রতিটি গল্প নিয়ে লিখি না। ছোটগল্পের আলাদা করে রিভিউ লেখাটা আসলে সম্ভবও না, স্পয়লার হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এই চমৎকার বইটির স্পয়লার লিখে আমি পাপ করতে রাজি নই একেবারেই। সাহিত্যের আঙ্গিকতত্ত্বের বিচারে বইটির ছোটগল্পগুলো কতটা সফল সে বিচারে যাওয়ার পথ লেখক বইয়ের শুরুতেই বন্ধ করে দিয়েছেন। সূচিপত্রেরও আগে ''গল্পের শুরুতে-" শিরোনামে যে শোয়া এক পৃষ্ঠার জবাবদিহিতা লেখক করে রেখেছেন বইটিতে, সেটি পড়ে পাঠকগণ লেখকের জ্ঞানের পরিধির প্রমাণ যদি নাও পান, তার কৌশলী শব্দচয়নের দৃষ্টান্ত নিশ্চয়ই পাবেন। এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়, ওয়াসি আহমেদের প্রকাশভঙ্গি সাবলীল, আকর্ষণীয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রীতিমতো মনোমুগ্ধকর। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য দুর্বোধ্য দার্শনিকতা পাঠকের মাথার ওপর দিয়ে চলে যাবে! আগাগোড়া বইটি প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। অকালপক্ব কিশোর পাঠকগণের এই গল্পের ধারাগুলো বুঝতেই ঘাম ছুটে যাবে, কাজেই তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা জাফর ইকবাল স্যারের কাছেই আপাতত ফিরে যান। সবমিলিয়ে বইটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে এক বসাতে শেষ করার মতোন। রিডার ব্লক ছাড়ানোর ক্ষেত্রেও একটি ভালো পরামর্শ হতে পারে বইটি। টাকা দিয়ে এটি কিনে অন্তত আফসোস হবে না। শুভকামনা লেখকের জন্য। ***যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার*** লেখক: ওয়াসি আহমেদ ধরণ: ছোটগল্প সংকলন প্রকাশক: অবসর প্রকাশনা সংস্থা প্রথম প্রকাশ: ফ্রেব্রুয়ারি, ২০২০ প্রচ্ছদ: সজল চৌধুরী মুদ্রিত মূল্য: ১৮০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬ রিভিউ লেখকের রেটিং: ৪.২/৫.০"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"যে বাক্য অশ্রুত অন্ধকার" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: