১ম সংস্করণ, ২০২৩
ভ্রম সমীকরন
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | ভ্রম সমীকরন |
| Author | মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী |
| Publisher | বাতিঘর প্রকাশনী |
| Edition | ১ম সংস্করণ, ২০২৩ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 96 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.2 Kg |
| ISBN | 9848742070 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
4 Ratings and 4 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৪টি
জামাল হোসাইন , Oct 16, 2025
"very good. বইটা আসলেই দুর্দান্ত।"
Tä Sü , Mar 21, 2025
"আমি দেখলাম, সামনের দৈত্যাকার ট্রাকটা দানবের মতো আমার দিকে ছুটি আসছে। আমি অসহায়ের মতো রাস্তায় পড়ে আছি। নড়তে পারছিনা, কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়েও আসছে না। ট্রাকটা প্রায় চলেই এসেছে। নাহ! আর পারলাম না! চোখদুটো চরম আতঙ্কে বন্ধ করলাম। ট্রাকটা তার ঠিক সেই আগের গতিতে এসে আমাকে একদম পি*ষে দিয়ে গেল। পুরো শরীরটা এক ঝটকায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল। হঠাৎই দেখলাম, আমি রাস্তার সাইডে দাঁড়িয়ে আছি। অনেক দূরে দৃষ্টি দিলে দেখতে পারছি সেদিক দিয়ে একটা ট্রাক আসছে। হ্যাঁ, সেই আগের ট্রাকটাই৷ তবে এতক্ষণ আমি কী দেখছিলাম? ভ্রম, কল্পনা, নাকি স্বপ্ন? কেমন হয়, যদি আপনার সাথে এরূপ ঘটনা ঘটে? হ্যাঁ, এই বইয়ের মূল চরিত্রও ঠিক এইরকমই। সে হঠাৎই কোনো কিছু তার কল্পনা কিংবা ভ্রমে দেখে। এরপর হঠাৎই দেখে সেসব কিছুই হয়নি। যেন বর্তমানে থেকে ভবিষ্যতে গিয়ে কী হবে, তা দেখে নিয়ে বর্তমানে ফেরত এসে সেগুলো আবার হতে দেখা। জিনিসটা খুব কনফিউজিং, তাই না? রাসেল এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর। প্রচন্ড মেধাবী আর সৃজনশীল একজন ছাত্র। এমনই মেধাবী, যা কল্পনার বাইরে। একবার স্কুলে হওয়া আইকিউ টেস্টে দেখা যায় তার আইকিউ ১৭০, যা আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গের বুদ্ধিমত্তার পর্যায়ে। কিন্তু ঘটনা এখানে না। ঘটনাটা শুরু হয় আরো কিছুদিন পর। সেদিন রাসেল তার বাবার সাথে ট্রেনে করে যাচ্ছিল ছোট মামার বিয়ে খেতে। ভ্রমণ জিনিসটা রাসেলের খুব একটা পছন্দ না৷ বই পড়তে পড়তে ট্রেনেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। এরপর ঘুম ভাঙলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে যায় একটু হাঁটাহাঁটি করতে। ট্রেনের একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়ায় রাসেল। বাইরের দৃশ্যটা খুবই সুন্দর। একমনে দেখতে দেখতে হঠাৎই মাথা ঘুরে ওঠে রাসেলের। রাসেলের অ্যাক্রোফোবিয়া ছিল, সামান্য উঁচু জায়গায় উঠে নিচে তাকালেই ভয় পেত সে। যা হওয়ার তাই হলো! মাথা ঘুরে ট্রেনের দরজা দিয়ে বাইরে এসে পড়ল সে। মাথার ঠিক সামনে দিয়ে ট্রেনের ভারী আর ধারালো চাকাগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। যখন তখন তার মাথা সেখানে ঢুকে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এ যাত্রায় সে বেঁচে গেল। গড়তে গড়তে ট্রেন লাইন থেকে হালকা দূরে সরে গেল সে। কেউ একজন ট্রেনের চেইন ধরে ট্রেনটা থামিয়েছে। রাসেলের বাবা রাসেলকে ধরে কান্না করতে লাগলেন। যাইহোক, এ যাত্রায় মামার বাড়ি পৌঁছানো গেল৷ কিন্তু ঘটনা শুরু হয় ঠিক সেই মামার বিয়েতে যাওয়ার পর থেকেই। কেমন ধরনের ঘটনা? ঐ যে, উপরে বলেছিলাম। হঠাৎই কোনো কিছু দেখতেছে, আবার পরক্ষণেই দেখে সেগুলো কিছুই হয়নি। বরং সেগুলো ঘটবে কিছুক্ষণ পরই। লাগে যেন, সময় পরিভ্রমণ করছে। কিন্তু বিষয়টা আসলে কী, তা বিস্তারিত জানতে হলে বইটা অবশ্যই পড়তে হবে। এই বইটি মূলত সাই-ফাই থ্রিলার জনরার। তবে সাইকোলজিক্যাল বিষয়বস্তুর আনাগোনাও ভালোই। ৯৬ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটির প্লট ছিল অসাধারণ। এ ধরনের মুভি টুভি আগে দেখা হলেও বই পড়া হয়নি। প্রথমবার এমন গল্প পড়াই দম ফেলারও ফুরসত পাইনি। লেখকের বর্ণনা ছিল ঝরঝরে, মেদহীন আর প্রাঞ্জল। বলতেই হবে লেখকের হাত খুবই সুনিপুণ। গল্পের সাথে সাথে কাঠখোট্টা বিজ্ঞানের তত্ত্বগুলো খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। তবে হ্যাঁ, এই জায়গাগুলোতে গল্প একটু হোঁচট খেয়েছে, ফ্লো কমে গিয়েছে। আমার মতে, ফ্লো কমে গেলেও বিষয়গুলো লেখা উচিতই। তাছাড়া অনেক বিষয়ে ধোঁয়াশা এবং প্রশ্ন থেকে যেতে পারত। বইটা এক বসায় শেষ করে ফেলার মতো। তবে মাঝে মাঝে যেসব বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেগুলো ব্যক্তিগতভাবে রিসার্চ করতে গেলে সময় একটু যাবে। জিনিসগুলো আসলেও ইন্টারেস্টিং। গল্পের সাথে সাথে ডিএমটি, প্রিমোনিশন, টাইম প্যারাডক্সসহ আরো কিছু বিষয় নিয়ে অল্পবিস্তর ধারণা ও জ্ঞান লাভ করা গেয়েছে। চরিত্রায়নে আরেকটু নজর দেওয়া যেতে পারত। লিড ক্যারেক্টারের উপরই ফোকাস করা হয়েছে। বাইরের কোনো চরিত্রকে একটু বিল্ডআপ করা গেলে গল্পটা আরেকটু মজাদার হতো, সাথে সাথে গল্পটার আকারও একটু বড় করা যেত। প্লটটা যেমন ছিল, এটা নিয়ে গল্পটা আরেকটু দীর্ঘ করাই যেত। শেষের দিকে পড়তে পড়তে ভয় কাজ করতেছিল, হঠাৎই যেন শেষ না হয়ে যায়। কারণ এক্সপেকটেশন এতো হাই করার পর সেটাকে পূরণ করতে না পারলে অনেক বড় ব্যর্থতা থেকে যায়। কিন্তু লেখক এদিক দিয়েও উৎরে গিয়েছেন। চমৎকার এন্ডিং ছিল। আর শেষের টুইস্টটা তো আমার মাথা একদম ঘুরায় দিছে! কি পড়লাম এইটা! ভাবতেও পারিনাই। যারা এই টাইপের মুভি-সিরিজ আগেই পড়ে ফেলছেন, তাদের কাছে গল্পের লাস্ট টুইস্টটা অনুমেয় হতে পারে। আমি অনেকের রিভিউ পড়ে দেখলাম, তাদের মধ্যে কয়েকজন বিষয়টা অনুমান করতে পেরেছে। স্বভাবতই তারপর আকর্ষণটা একটু কমে গিয়েছে। তবে আমার মতে, এই ধরনের দেশীয় বইগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া জরুরি। যেহেতু লেখক সবগুলো বিষয়ই ভালোভাবে উৎরে গিয়েছেন এবং এন্ডিং অনেকের কাছে অনুমেয় হলেও এটাই যৌক্তিক। এর বাইরে অন্যরকম এন্ডিং করা যেত বলে মনে হয় না। আমার কাছে তো জাস্ট অসাধারণ একটা স্টোরি মনে হয়েছে। বলতেই হবে, এই মাসটা আমার জন্য লাকি মান্থ। এ মাসে পড়া সবগুলো বইই আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। বইয়ের প্রোডাকশন কোয়ালিটিও ভালো৷ বাতিঘর যেমন করে আরকি। সম্পাদনায় তবুও কিছু কিছু ভুল থেকেই গিয়েছে। বাতিঘরের বইয়ে যেটা এখন নরমাল। বইয়ের কনটেন্টের সাথে প্রচ্ছদ একদম মিলে গিয়েছে। ওভারঅল, এদিকটাও ভালোই। পরিশেষে, একটা চমৎকার ভ্রমের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করতে চাইলে “ভ্রম সমীকরণ” আপনার জন্য। ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৮/৫ ভ্রম সমীকরণ || মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী বাতিঘর প্রকাশনী || দুইশত টাকা"
ইয়াসির আল সাইফ , Dec 4, 2023
"#আড্ডাখানায়_প্রগতি #রিভিউ_২০২৩ • বই: ভ্রম সমীকরণ • লেখক: মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী • জনরা: সায়েন্স ফিকশন • প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী • প্রচ্ছদ: আদনান আহমেদ রিজন • প্রচ্ছদ মূল্য: ২০০ টাকা • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৬ • প্লট: রাসেল এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর ছেলে। কিন্তু আর দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা সে। ভীষণ রকম মেধাবী ও তুখোড় বুদ্ধিমান। আইকিউ টেস্টে দেখা গেল, আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা তার। রাসেলের জীবন বদলে গেল সেদিন, যেদিন সে বুঝতে পারল, এই প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও আরেকটি ক্ষমতা আছে তার, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা। ভবিষ্যতে ঘটা ঘটনা আগেভাগে দেখে ফেলে সে মানসপটে। তারপর নিজের মতো করে বদলেও দিতে পারে সেই ঘটনাপ্রবাহ। কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলে দেবার পরিণতি কি মঙ্গলজনক হয়? নাকি ডেকে আনে আরও বড় কোন বিপদ? বড় হবার সাথে সাথে রাসেল আবিষ্কার করতে লাগল, ভবিষ্যৎ বদলাতে গিয়ে কিভাবে সময়ের ফাঁদে পড়ে গেছে সে! (ফ্ল্যাপ থেকে) • পাঠ প্রতিক্রিয়া: ٠ উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে গল্পকথক কিছুটা নিজের বর্ণনা দিয়েছেন। শুরুতে বিষয়টা অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও, পরবর্তীতে দেখলাম যে গল্পের স্বার্থে তা প্রয়োজন ছিল। উপন্যাসের মূল কাহিনী শুরু হয় এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের পর। সেখান থেকে পাঠক মনকে আকৃষ্ট করতে লেখক যথার্থ চেষ্টাই করেছেন এবং সফলও হয়েছেন। এরপর গল্প এগিয়ে গেছে বাধাহীন ভাবে। ٠ ভবিষ্যৎ দেখতে পাওয়ার ক্ষমতাকে এখানে 'প্রিমোনিশন' বলা হয়েছে। এ বিষয়টাকে বোঝাতে যেভাবে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়েছে, তা ভালোই লেগেছে। ٠ লেখক যে দাবা খেলায় কতোটা আগ্রহী ও পারদর্শী, তা তিনি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। বইটির উৎসর্গেও তিনি নিজের দাদিকে দাবার হাতেখড়ি করানোর জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন। তাছাড়া গল্পের আইডিয়া যেহেতু তিনি বাস্তব জীবনের একটা ঘটনা থেকে পেয়েছেন, তাই আমার মনে হয় কেন্দ্রীয় চরিত্রটাও লিখেছেন নিজের সাথে মিল রেখে। ٠ ক্লাইম্যাক্সটা আমার কাছে অনুমেয় লেগেছে। কেন লেগেছে তা পরে বলছি। তবে তার আগে পাঠকের মনোযোগ ধরে রেখে উপন্যাসের সমাপ্তি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য লেখকের প্রশংসা করতে হয়। ٠ বইটির এই প্রচ্ছদ বেশ আকর্ষণীয়। পাশাপাশি প্রচ্ছদের ডিটেইলিং দারুণ ছিল, যা উপন্যাসের সাথে ভালো ভাবেই যায়। বাতিঘর প্রকাশনীর এ বিষয়টি আমার বরাবরই ভালো লাগে। তারা বইয়ের সাথে প্রচ্ছদের পরিপূর্ণ সাদৃশ্য রাখে। • ব্যক্তিগত মতামত: ٠ উপন্যাসের সমাপ্তি যে কারণে আমার কাছে অনুমেয় লেগেছে তা হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র বা গল্পকথকের 'পয়েন্ট অফ ভিউ' থেকেই সম্পূর্ণ কাহিনী এগিয়ে যায়। যদিও প্লট অনুযায়ী এমনই হওয়ার কথা। কিন্তু যদি পার্শ্বচরিত্র গুলোর বর্ণনাও বিস্তারিত দেয়া হতো তবে পাঠককে আরেকটু বিভ্রান্ত করা যেতো, আবার উপন্যাসটা আরেকটু বড়ও করা যেতো। • ব্যক্তিগত রেটিং: ৩/৫ ~ ইয়াসির আল সাইফ"
Nuzhat Tabassum , Sep 21, 2023
"❝একটা দুটো ব্যর্থ সম্পর্ক না হলে কি একটা আদর্শ-ভারসাম্যপূর্ণ-আকাঙ্খিত সম্পর্কে পৌঁছানো সম্ভব? প্রবালিটির থিওরি কি বলে?❞ লাইনটা যেন মনে গেঁথে গেছে একেবারে। আসলেই কথাটার তাৎপর্য অনেক গভীর। প্রবালিটির থিওরি কি বলে তা আমার জানা নেই তবে আমি মনে করি দু'একটা ব্যর্থ সম্পর্কে না জড়ালে সঠিক সম্পর্ক আমরা বুঝতেও পারবো না। তাই উপরিউক্ত উক্তিই যাথার্থ্য। তবে এটা বইয়ের মূল কাহিনি নয়। মূলত "ভ্রম সমীকরণ" বইটি থ্রিলার ঘরানার বই। বইটির মেইন টপিক হচ্ছে "প্রিমোনিশন"। "প্রিমোনিশন" শব্দটা খুবই অদ্ভুত। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ থাকে যারা এই প্রিমোনিশন এর স্বীকার হয়। তারা তাদের স্মৃতিকে ভবিষ্যতে পাঠিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের তথ্য জেনে যায় আগেই। আচ্ছা আমার বা আপনার কি কখনো এই প্রিমোনিশন হয়েছিলো? না হয়নি, হও আমার জানা নেই। এর দ্বারা মানুষ সম্ভাব্য বিপদকেও ঠেকাতে সক্ষম হয়। একটা ভ্রমের মধ্যে আটকে থাকা কিছু মানুষের গল্পই লেখক মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পি তার এই বইয়ের পাতায় সাজিয়ে তুলেছেন। "প্রিমোনিশন" কি আসলেই বাস্তবজীবনে হয়? একটা মানুষ কখনো ভবিষ্যতে পৌঁছাতে পারে? কারোর মধ্যে কি এমন অসাধারণ ক্ষমতা আছে যেটার দ্বারা সে সম্ভাব্য বিপদকেও ঠেকিয়ে দিতে পারে? ★ প্রচ্ছদ এবং নামকরণঃ মূলত একটা বইয়ের প্রচ্ছদ হয় বইয়ের কাহিনির সাথে মিল রেখে। এবং অনেকক্ষেত্রে প্রচ্ছদটা বেশ আকর্ষণ তৈরি করে। প্রচ্ছদ দেখতে আকর্ষণীয় হলেই সেই বই কিনতে আমাদের দ্বিধা থাকে না। সেক্ষেত্রে ভ্রম সমীকরণ বইটির কাহিনির সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদটাকে খুবই আকর্ষণীয় ভাবে সাজানো হয়েছে। গল্পের সাথে মিল রেখে নামকরণটাও স্বার্থক হয়েছে। ★ কাহিনি সংক্ষেপঃ ভ্রম সমীকরণ বইটিতে থাকা রাসেল খন্দকার এর জীবনে বার কয়েক প্রিমোনিশন এর স্বীকার হয়েছিলো তিনি। যার ফলে সম্ভাব্য বিপদকেও ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এমন সব বিপদগুলোর কথা তিনি প্রিমোনিশন করে আগেই জেনে যেতো যার ফলে সম্ভাব্য বিপদ ঠেকাতেও স্বার্থক হন। এভাবেই তিনি অনেক মানুষের সম্ভাব্য বিপদকেও আটকে দিতেন। সবশেষে ডাক্তারের সাহায্যে তারা পাঁচজন মিলে তৈরি করে ফেললো একটা নিউরোনেট। ★ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইটি পড়তে গিয়ে খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে লাগলাম বিষয়টা আসলে কি! একে একে সবগুলো ব্যাপার গুলিয়ে যেতে থাকলো। প্যাছ লাগানো একটা গল্প। তবে পড়তে পড়তে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। এরপর কি হবে সেটাই তাড়া করছিলো। প্রিমোনিশন, টিএমটি, নিউরোনেট ইত্যাদি সবকিছু নিয়ে একটা টাইম ট্রাভেল এর মতো যাচ্ছিলো। মোট কথা প্রিমোনিশন এর ব্যাপারটাই যেন একটা টাইম ট্রাভেলিং। সবশেষে বলবো বইটা বেশ উপভোগ্য ছিলো। পড়তে অনেক মজা পেয়েছি। মনে হচ্ছিলো একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। বইটা পড়তে পড়তে আমি নিজেই প্রিমোনিশন এর ব্যাপারটা কল্পনা করতে লাগলাম। প্রিমোনিশন নিয়ে যে গল্পটা লেখক তুলে ধরেছে তা পাঠকের হৃদয় কাড়বে। বলতে পারি মাস্ট রিড বইটা। ★ তাৎপর্যঃ শেষ-মেষ তাদের পাঁচজনের গড়া একটা নিউরোনেট কি কাজে ই বা এসেছিলো? কি কারণে রাসেল খন্দকার এর প্রিমোনিশন শুরু হয়? আর কেনো ই বা হয়? এর পেছনে কি ট্রাজেডি রয়েছে? তাদের প্রিমোনিশন কি কারোর কন্ট্রোলে হয় নাকি অন্যকিছু? পড়তে পড়তে একটার পর একটা প্রশ্ন আমার মনে জেগেছিলো! ★ "ডিমএমটি" নাম শুনেছেন কেউ কখনো? ডিএমটি অর্থাৎ ডাইমিথাইল ট্রিপ্ট্যামিন। এক ধরনের রাসায়নিক। বলা যায় ড্রাগস। ডিএনএ প্রাণীর মস্তিষ্কেও থাকে এই ডিএমটি। রাসেল খন্দকার এর জীবনে এ-ই ডিএমটির প্রয়োগ ছিলো অনেক। সেটা কিভাবে? তা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে বইটি। ★ চরিত্রায়নঃ একটা বইয়ের চরিত্র বিশ্লেষণ অনেক গুরত্ব রাখে। চরিত্রায়য় ঠিক থকলে গল্প পড়ে মজা পাওয়া যায়। এই বইয়ের প্রতিটা চরিত্রকে তাদের নিজস্ব জায়গায় বেশ আকর্ষণীয় ও কর্মঠ করে সাজিয়ে তুলেছেন লেখক। ★ শুরু এবং শেষঃ একটা গল্পের শুরুটা যেভাবে হয় যদি শেষটাও সেভাবে মিলিয়ে নিতে পারে তবেই গল্পটা পরিপূর্ণতা পায়। ভ্রম সমীকরণ বইটির ক্ষেত্রে শুরুটা হয়েছিলে স্পেসিফিক রহস্য দিয়ে। এই রহস্য চলতে চলতে অনেকদূর পড়ার পরও রহস্য উন্মোচন হলো না। বরং একের পর এক রহস্যের মুখোমুখি হয়েই চলছিলো। একেবারে গল্পের শেষে গিয়ে রহস্য ভেদ হয়েছে। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই ধাঁচে এগিয়েছে। ★ লেখন কোয়ালিটিঃ লেখকের লেখনশৈলী নিতান্তই দারুণ। তিনি খুব সহজ সাবলীল ভাষায় গল্পটা লিখে শেষ করেছেন। শব্দচয়ন খুবই সুন্দর ছিলো। লেখায় খুব বেশি বানান ভুলও চোখে পড়েনি। খুব ধীরেসুস্থে লিখার গতি এগিয়েছে এবং সবকিছুর বর্ণনাতীত কোয়ালিটি ছিলো অসাধারণ। যার কারণে বইটা পড়তেও কোনো অসুবিধা হয়নি। লেখকের লিখার মান নিয়ে প্রসংশা করতেই হয়। বেশ চমৎকার ভাবে তিনি সব ঘটনার ব্যাখা দিয়েছেন। তাছাড়াও তিনি লিখায় কোনোরকম কমতি দেন নি। প্রতিটা লাইনকেই সহজ করে তুলেছেন যাতে পড়তে সহজ হয়। এবং সবশেষে তার লিখন কোয়ালিটি অসাধারণ। ★ প্রোডাকশন কোয়ালিটিঃ "ভ্রম সমীকরণ" বইটি প্রবকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে। বাতিঘর প্রকাশনীর সম্পাদনা মানেই ভালো কিছু। বইয়ের প্রচ্ছদ কভারটা মোটামুটি হার্ড কভার ছিলো। অনেক বইয়ে দেখা যায় যে কোথাও কোথাও কালি লেপ্টে যায় যার কারণে পড়তে অসুবিধা হয়। কিন্তু এই বইয়ের লেখাগুলো একদম স্পষ্ট ই ছিলো। পৃষ্ঠা, লাইনে স্পেস, ফন্ট সাইজ ইত্যাদি সবরকিছুর কোয়ালিটি খুবই ভালো ছিলো। বাইন্ডিং মানও অনেক ভালোই ছিলো। আর এর পুরো ক্রেডিট বাতিঘর প্রকাশনীর। তাদের সম্পাদনার কাজ বেশ ভালো। তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো সম্পাদনা আশা রাখছি বাতিঘর প্রকাশনীর কাছ থেকে। ★ বইটি কেন পড়বেনঃ সম্পূর্ণ একটা নতুন অধ্যায় "প্রিমোনিশন" নিয়ে জানতে হলে এই বইটা পড়তে হবে। নতুন অনেক কিছু জানা যাবে যা আমাদের অজানা ছিলো। অনেক অদ্ভুত বিষয়াদি জানা যাবে। রাসেল খন্দকার এর জীবনী থেকে অনেক শিক্ষা নেওয়া যাবে। বইঃ ভ্রম সমীকরণ লেখকঃ মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ মূল্যঃ ২০০৳ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৯/১০"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"ভ্রম সমীকরন" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: