হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
শ্বেত পাথরের মালা - আফিফা পারভীন এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

২য় প্রকাশ, আগস্ট ২০২৬

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

শ্বেত পাথরের মালা

25 Ratings | 22 Reviews
TK. 403 TK. 520 -23% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

ফ্ল্যাপ জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না। সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্ত...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

ফ্ল্যাপ জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না। সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথি
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title শ্বেত পাথরের মালা
Author আফিফা পারভীন
Publisher ছাপাখানা প্রকাশনী
Edition ২য় প্রকাশ, আগস্ট ২০২৬
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 231
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.36 Kg
ISBN 9789843532923
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

4.60

25 Ratings and 22 Reviews

★★★★★
19
★★★★☆
2
★★★☆☆
4
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

২২টি
Ety Akter

Ety Akter , Dec 6, 2025

★ ★ ★ ★ ★

"উপন্যাস জগতে আসার তৃতীয় বই ছিলো এই " শ্বেত পাথরের মালা" বইটা। বইটার গল্প আপনাকে স্কুল জীবন মনে করিয়ে দিবে। অনেক সুন্দর গল্প টা❤️"

880****661

880****661 , Nov 1, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"নাটক বেশি হয়ে গেছে😠😠"

880****987

880****987 , Mar 15, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বুক_রিভিউ ◾বই পরিচিতি- ✓বই- শ্বেত পাথরের মালা ✓লেখিকা- আফিফা পারভীন ✓ধরন- সামাজিক_রোমান্টিক ✓প্রকাশনী- ছাপাখানা প্রকাশনী ✓প্রচ্ছদ শিল্পী- ফাইজা ইসলাম ✓পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৯৯ ◾ফ্ল্যাপ: জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না।সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায়। ◾নামকরণ: উপন্যাসের নিজস্বতা প্রকাশের জন্য তার নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নামকরণের মাঝেই লুকিয়ে থাকে উপন্যাসের সিংহ ভাগ। উপন্যাসের নাম উপন্যাস সম্পর্কে একটি সুন্দর ধারনা দেয়, পাঠক হৃদয়ে সৃষ্টি করে নামের আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্পটা জানার কৌতুহল। কক্সবাজারে রং বেরঙের পুতির মালার ভীড়ে নিতান্ত অবহেলিত, বিক্রি না হওয়া হওয়া সাধারণ একটা শ্বেত পাথরের মালা আর কারো দৃষ্টি আকর্ষণ না করলেও তিতাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো। শ্বেত পাথরের মালার ঠান্ডা অনুভূতিতে সে যেনো তার প্রেয়সীকে খুজে পেয়েছিলো। প্রেয়সীর স্মৃতি হিসেবে সযত্নে আগলে রেখেছিলো সেই "শ্বেত পাথরের মালা"। শ্বেত পাথরের মালার মতোই কিছু মানুষ মানুষ থাকে একদম সাধারণ, স্বচ্ছ, অনেকের কাছে হয়তো অবহেলিত। এই সাধারণ মানুষগুলোই সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠে কোনো নির্দিষ্ট একজনের গোটা দুনিয়া, ভালোবাসা, ভালো থাকার মাধ্যম, হৃদয়ে গচ্ছিত অমলিন স্মৃতি, বেঁচে থাকার একাংশ কারণ। তিতাসের জীবনেও সাধারণ বৈশিষ্ট্যের শবনম ছিলো তার গোটা দুনিয়া, ভালোলাগা, ভালোবাসা, বেঁচে থাকার কারণ। গল্পের কাহিনীর সাথে মিল রেখে নামকরণ যথার্থ। ◾প্রচ্ছদ: উপন্যাসের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করার জন্য প্রচ্ছদ ভীষণ প্রয়োজন। প্রচ্ছদ উপন্যাসের প্রতিবিম্ব যেখানে পুরো উপন্যাস প্রতিফলিত হয়। রং তুলির আঁচড়ে শিল্পীর নিঁখুত বুননে গোটা একটা উপন্যাসের মর্মার্থ একটা পৃষ্ঠায় আকর্ষণীয় ভাবে ফুঁটে প্রচ্ছদের মাধ্যমে। সাগরতীরে পড়ে থাকা ঝিনুকের গায়ে শ্বেত পাথরের মালা একদিক দিয়ে যেমন উপন্যাসের নামের প্রতীক অন্যদিকে কারো সযত্নে আগলে রাখা স্মৃতির প্রতীক। ঝিনুকের গায়ে যেমন শ্বেত পাথরের মালা সুন্দর ভাবে নির্ভরশীল হয়ে আটকে আছে তেমনই উপন্যাসে তিতাসের হৃদয়ে একটু একটু করে লালিত ভালোবাসা, ভালোলাগা, প্রশান্তি, হৃদয় শীতল করার মতো এক কিশোরী সযত্নে হৃদয়ের গভীরে রক্ষিত আছে। আমার কাছে ঝিনুকটা যেনো তিতাস আর শ্বেত পাথরের মলাটা শবনম।পাশে ছিটিয়ে থাকা শিউলি ফুলগুলো তাদের কৈশর কালে মিষ্টি মধুর স্মৃতি গুলো। বিশাল সাগর উপন্যাসের চরিত্র গুলোর জীবনের গল্পের প্রতিক। প্রবাহমান নদী যেমন সাগরে পতিত হয় তেমন উপন্যাসে উপস্থাপিত চরিত্রদের গল্প গুলো নানা রূপে প্রবাহিত হয়ে উপন্যাস নামক সাগরে পতিত হয়েছে। সাগরে যেমন জোয়ার ভাটা আসে তাদের জীবনেও তেমন সুখেরা ডানা ঝাপটায় আর দুঃখেরা ভে/ঙে গুড়িয়ে দেয়, বাস্তবতা শেখায় সাথে আত্মনির্ভরশীল হতে শেখায়। দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয়, স্নিগ্ধ প্রচ্ছদটা গল্পের জন্য একদম পার্ফেক্ট। দেখলেই শান্তি শান্তি লাগে আর মনে হয় সাগর পাড়ে ঝিনুক কুড়াতে চলে যাই তীরে দাড়িয়ে স্রোতে পা ভেজাই। ◾পাঠ প্রতিক্রিয়া: লেখকের শব্দের বুননে সৃষ্ট উপন্যাসটায় কৈশরের মিষ্টি মধুর গল্প, সুখ-দুঃখ, হাসি-কা'ন্না, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন-স্বপ্নভ'ঙ্গ, ঘৃ'ণা-ভালোবাসা, পরিবারের বিভিন্ন অনুকূল ও প্রতিকূল মুহূর্ত, বোকামি, বিশ্বাসঘা'ত'কতা সব যেনো জীবন্ত ভাবে ফুটে ওঠেছে সাথে পাঠক হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে মিশ্র কিছু প্রতিক্রিয়া। শ্বেত পাথরের মালা উপন্যাসটার কথা মনে পড়লে প্রথমেই চোখে পাতায় ভেসে ওঠে তিতাস শবনমের বন্ধুত্ব, তাদের চঞ্চল ও দুরন্ত কৈশর আর স্নিগ্ধ শিউলি ফুল, তাদের একসাথে কোচিং এ যাওয়া, তিতাসের সাইকেল, মায়ায় ঘেরা মন ভালো করার মতো সেই ছোট্ট মায়াবন, প্রজাপতির মেলা, মেঘ দিয়ে তিতাসের সোনাই ও দুখাইয়ের গল্প তৈরী । তিতাস শবনমের কৈশরের এই ছোট ছোট মিষ্টি মুহূর্ত গুলো উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রশান্তিদায়ক অংশ। বাবা মা যারা সবসময় সন্তানের মঙ্গল চায়। তাদের চাওয়ার পুরোটা জুড়েই থাকে সন্তানের জন্য ভালো কিছু, সুখের কিছু। সন্তান যেনো বিগড়ে না যায়, খারাপ মানুষদের সাথে মিশে খারাপ না হয়ে যায় এই ভয়ে বাবা-মা রা সবসময় সতর্ক থাকেন। কখনো কখনো সন্তানকে সুপথে রাখতে গিয়ে একটু বেশি গম্ভীর রূপ ধারণ করেন, সন্তানের প্রতি ভালোবাসাটা লুকিয়ে রাখেন কড়া নিয়ম আর কঠোর শাসনের আড়ালে। উপন্যাসে এরকম এক বাবা-মায়ের গল্প ফুটে ওঠেছে। যে গল্প উপস্থাপনের মাধ্যমে খুব নিবিড় ভাবে বোঝানো হয়েছে সন্তানকে শাসন করা যেমন উচিত ঠিক তেমন ভালোবাসাও উচিত। সন্তান বাবা মায়ের সাথে যতটা সহজ হবে, তাদের মধ্যে বন্ধুসুলভ সম্পর্কটা যত বেশি গভীর থাকবে ততই তাদের জন্য ভালো। আবেগের বশে নেওয়া কোনো পদক্ষেপ ঠিক কতটা মা'রা'ত্ম'ক হতে পারে তা এই উপন্যাসে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একটা ভুল পদক্ষেপ শুধু নিজের না, সাথে নিজের প্রিয়জনদের জীবনেও ঝ'ড় বয়ে আনে, একটা সুখী পরিবারকে মুহূর্তেই অশান্তিতে ভরিয়ে দিতে পারে, সম্মান-মর্যাদায় ভরা জীবনে নিয়ে আসতে পারে অসম্মানের কালো ছায়া, সম্পর্কের মাঝে তুলে দিতে পারে বিচ্ছেদের দেয়াল। উপন্যাসের শাহানা আর শাহানার পরিবার এরকম এক পরিস্থিতির ভুক্তভোগী। ভালোবাসা চার অক্ষরের একটা শব্দ অথচ তার কত রূপ কত রঙ কত সংজ্ঞা! সারাদিন চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ভালোবাসি জপ করা, ছলে বলে কৌশলে কাঙ্ক্ষিত মানুষটাকে নিজের করে নেওয়া ভালোবাসা নাকি প্রিয় মানুষটাকে পাওয়ার জন্য সাধনা করা, তাকে আপন করে নিতে নিজেকে প্রস্তুত করা, দূরে থেকেও আগলে রাখা, নিরবে তার সমস্ত স্মৃতি যত্ন করে রাখা, সব সময় তার হাসি মুখ দেখতে চাওয়া, অপেক্ষা করার নাম ভালোবাসা? বন্ধুত্ব নামক সম্পর্ক গুলো সবসময় ই আমার কাছে ভীষণ প্রিয়। বিশ্বাস, মায়া, ভালোবাসা, খুনশুটি, অধিকার দিয়ে গড়ে তোলা মিষ্টি একটা সম্পর্ক। শ্বেত পাথরের মালা এরকম বহুরূপী ভালোবাসা আর মিষ্টি কিছু বন্ধুত্বের গল্প। সরলতা আর বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে মানুষ ঠিক কতটা কু'ৎ'সি'ত খেলা খেলতে পারে তার একাংশ চিত্র উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে। আমরা যাদের বিশ্বাস করি, যারা আমাদের ভরসা স্থল, জীবনের নানা উ'ত্থা'ন প'ত'ন পেরিয়ে যাদের বিশ্বাস করে আকড়ে ধরে বাঁচতে চাই তারাই যখন বিশ্বাসঘা'ত'ক'তা করে, মন ভে'ঙে দেয় তখন যেনো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগে যখন কোনো অন্যায় না করেও দোষী হতে হয়, অন্যের দোষের ভাগ নিতে হয়। সাময়িক সুখ আর ফালতু স্বার্থের জন্য মানুষ তার বিবেক বিসর্জন দিতে একটুও ভাবে না! এই স্বার্থপর মানুষ গুলোর জন্মই হয় শুধু অন্যের ক্ষতি করার জন্য। শ্বেত পাথরের মালা এরকম কিছু স্বা'র্থ'পর আর বিবেকহীন প'শু'র গল্প। আমাদের জীবনে চলতে ফিরতে কিছু সুন্দর মনের মানুষদের সাথে পরিচয় হয়। যারা শুরু থেকে শেষ পুরোটা সময় তাদের স্বচ্ছ, সুন্দর মন নিয়ে আমাদের ভালোবেসে যায়। উপন্যাসে এরকম কিছু সুন্দর মনের মানুষদের গল্প ছিলো। উপন্যাসে ফুটে ওঠেছে ডিভোর্সি নারীর প্রতি সমাজের মানুষদের দৃষ্টি ভঙ্গি। ডিভোর্সি নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন সে একাই দোষী।পুরুষ নামক মানুষগুলো সাধু। যতই যাই হোক দো'ষ যার ই থাকুক সমাজের মানুষ যেনো নারীর উপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারলেই বাঁচে। প্রিয় চরিত্রের এমন করুণ পরিস্থিতিতে খুব খারাপ লেগেছিলো। মুগ্ধতা, ভালোলাগা, খারাপ লাগা সব মিলিয়ে শ্বেত পাথরের মালা আমার পড়া আরো একটা খুব সুন্দর উপন্যাস। ◾চরিত্র বিশ্লেষণ: ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সম্পর্কের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় সমাজের সম্পর্ক। এই সম্পর্কজাত বাস্তব ঘটনা নিয়েই উপন্যাসের কাহিনী নির্মিত হয় যে কাহিনী তে ফুটে ওঠে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। উপন্যাসে ভালো, স্নিগ্ধ চরিত্র যেমন থাকে ঠিক তেমন ই থাকে খারাপ কিছু চরিত্র। ভালো খারাপ প্রতিটা চরিত্রই একে অপরের পরিপূরক। ▪️তিতাস: উপন্যাসে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র তিতাস। কৈশর থেকেই তার বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা, শবনমকে আগলে রাখা, লেখা পড়া-নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার প্রতি গভীর মনযোগ সবটা ভীষণ ভাবে মুগ্ধ করেছে। মেধাবী, শান্ত তিতাস ছিলো উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র, পাঠকের মন ভালো করার একটা মাধ্যম। তিতাসের মতো ছেলে, বন্ধু, স্বামী সবার প্রত্যাশা। তিতাসকে পড়ে মুগ্ধ হবে না এমন পাঠক খুব কমই পাওয়া যাবে। "আমি তোমার বিরহে রহিব বিলীন তোমাতে করিব বাস, দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী দীর্ঘ বরস মাস। যদি আর কারে ভালোবাসো আর ফিরে নাহি আসো তবে তুমি যাহা চাও তাই যেনো পাও আমি যত দুঃখ পাই গো আমার পরান যাহা চায় তুমি তাই তুমি তাই গো..." গানের লাইন গুলো যেনো তিতাসের জন্যই তৈরী।আমার কাছে ধৈর্যের আরেক নাম তিতাস। এতটা ধৈর্য, এতো গভীর অনুভূতি, অনির্দিষ্ট অপেক্ষা নিয়েও কেউ হৃদয়ের সবটা দিয়ে কাউকে ভালোবাসে? তিতাস কে পড়ে কখনো মুগ্ধ হয়েছি তো কখনো ক'ষ্ট পেয়েছি। সবচেয়ে বেশি কষ্টের ছিলো যাকে পাওয়ার জন্য তার এতো সাধনা এতো ত্যা'গ তাকে মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে হারিয়ে ফেলাটা। ইশ্ কী দমব'ন্ধ'কর এক পরিস্থিতি! ▪️শবনম: খুব সাধারণ স্বচ্ছ, টলটলে একটা চরিত্র শবনম। একটু দুরন্ত, একটু বোকা, ভীষণ আদুরে শবনম আমার কাছে একদম তার প্রিয় শিউলি ফুলের মতো স্নিগ্ধ, তিতাসের সযত্নে রেখে দেওয়া সেই শ্বেত পাথরের মালার মতো শীতল। বাবা-মায়ের বাধ্য সন্তান। বাবা-মায়ের স্বপ্নই তার স্বপ্ন। বোনের ভুল পদক্ষেপ তার চঞ্চল জীবনে এনে দিয়েছিলো স্থিরতা, প্রভাব ফেলেছে তার কৈশোরে, চঞ্চলতায়। এই সময়টায় শবনমের জন্য খুব আফসোস হয়েছে। আবার জীবনের নানা টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়ে শবনম যখন আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছিলো তখন বেশ লেগেছে। ▪️শাহানা: শাহানা চরিত্রটা আমার কাছে বোকা ফুল। মেয়েটার কথা মনে পড়লেই এক আকাশ সমান আ'ফ'সো'স এসে ঘিরে ধরে। বাবা মায়ের আদুরে সহজ সরল মেয়েটার একটা ভুল পদক্ষেপ কেমন নিজের সাথে সাথে গোটা পরিবারের জন্য ঝ'ড় বয়ে আনলো। চরিত্রটার উপর কখনো রাগ তো কখনো বিরক্তি আবার কখনো মায়া তো কখনো আফসোস কাজ করেছে। সব মিলিয়ে শাহানার প্রতি আমার মিশ্র অনুভূতি। শাহানারা আসলে খুব বোকা হয়। তাদের মনটা যেমন থাকে স্বচ্ছ তারা ভাবে আশেপাশের মানুষ গুলোও তাদের মতো স্বচ্ছ। আর এই সহজ সরল ভাবনা গুলোই তাদের জন্য অভিশাপ ঢেকে আনে। শেষটায় শাহানার লতানো গুল্ম থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠাটা তৃপ্তি দিয়েছে। ▪️নাজমুল: নাজমুল কে নিয়ে আমার অনুভূতি ছিলো মুগ্ধতায় ভরপুর। নাজমুলকে একটু অগোছালো, হা'ইপার টাইপের তবে যত্মশীল এক প্রেমিক মনে হয়েছিলো। তবে ধীরে ধীরে যখন নাজমুলের আসল রূপ প্রকাশ পেলো আমার অনুভূতি গুলোও কেমন পরিবর্তন হয়ে গেলো। সবার প্রথম নিজের উপর প্রচন্ড বি'র'ক্ত হয়েছিলাম এরকম একটা চরিত্রে মুগ্ধ হওয়ার জন্য। এরপর আফসোস হয়েছে শাহানার জন্য। নাজমুল ঠিক মা'কা'ল ফলের মতো বাইরে টা আকর্ষণীয় কিন্তু ভেতর টা ভীষণ কুৎ'সি'ত। নাজমুলের মতো মানুষেরা মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে পুরোটা ধ্বং'স করে দেয়। ▪️চৈতি সিনহা: আমার আরো একটা ভীষণ প্রিয় চরিত্র। বুদ্ধিমতী, বিচক্ষণ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, সাহসী, প্রতিবাদী চৈতি অল্পতেই হৃদয়ে বেশ অনেক টা জায়গা দখল করে নিয়েছে। তবে চৈতিদের জন্য তাদের সাহসীকতা আর প্রতিবাদী মনোভাব হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু। চৈতি চরিত্রের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিলো শাহানার প্রতি তার ভালোবাসাটা। ইশ মেয়েটা খুব করে চেয়েছিলো শাহানা একটা সুন্দর জীবন পাক। আ'ফসো'স আ'ফ'সো'স এই চরিত্রটাও বড় এক আ'ফ'সো'স। চৈতীর মতো বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। বোকা শাহানা নিজের বোকামির জন্য পেয়েও হারিয়ে ফেললো। ▪️আসাদউল্লাহ খান-সুলতানা রাজিয়া: শাহানা শবনমের বাবা মা। ভীষণ গম্ভীর দুটো চরিত্র। সন্তানদের ভালো রাখতে গিয়ে সবসময় শাসনে রাখতেন। তাদের চরিত্রের কিছু কিছু দিক আমার ভালো লেগেছে আবার কিছু দিক প্রচন্ড খারাপ লেগেছে। সন্তানদের নিচু শ্রেণীর কারো সাথে মিশতে না দেওয়াটাতে কেমন যেনো একরকম অ'হং'কা'র প্রকাশ পেয়েছে। আবার অতিরিক্ত শা'স'ন টাও ভালো লাগে নি। শা'স'ন, ভলোবাসা, আদর, যত্ন এগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। একটা সময় গিয়ে শবনমের প্রতি উদাসীনতা, এটা খুব খারাপ লেগেছিলো। সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসাও ছিলো তবে সেটা শা'স'নের আড়ালে রাখতেন সবসময়। শাহানার করুন পরিস্থিতিতে সব রাগ ঝে'ড়ে মেয়ের পাশে থাকাটা ভালো লেগেছে। কঠোর গম্ভীর এই দম্পতির অপমানে নেতিয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে বেশি ক'ষ্ট দিয়েছে। ▪️আব্দুল লতিফ মজুমদার-আহমেদা বেগম: তিতাসের বাবা। আব্দুল লতিফ ছিলেন সৎ, নিষ্ঠাবান, ধর্মপ্রাণ একটা চরিত্র। সব সময় চেয়েছেন সততার সাথে জীবনযাপন করতে প্রকৃত মুসলিম হতে। আহমেদা বেগম চরিত্রটা প্রথম দিকে বেশ লেগেছে। তার মাতৃসুলভ আচরণ, শাহানা শবনমকে নিজের মেয়ের মতো করে আদর যত্ন করা সবটা খুব সুন্দর ছিলো। তার তাবিজের কাহিনীতে বেশ মজা পেয়েছি। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ পাল্টে যায় পাল্টে যায় তার মন। আহমেদা বেগম ও তেমন একটা চরিত্র। সবচেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে শবনমের প্রতি তার মনোভাব টা পড়ে। ছোট থেকে এতো আদর যত্ন করা মেয়েটার দুঃখের সময়ে পাশে থাকা, সহানুভূতি প্রকাশ করা তো দূর উল্টে সমাজের অন্যান্য মানুষের মতো শবনমের প্রতি তার দৃষ্টি ভঙ্গিটা একদম অসহ্য কর ছিলো। ভাগ্যের পরিহাসে যখন নিজের মেয়েও ওই একই পরিস্থিতিতে পড়লো তখন ঠিক ই বুঝতে পেরেছিলেন শবনমের ক'ষ্টটা। ▪️নিলুফা ইয়াসমিন-ইমতিয়াজ ভূঁইয়া: সন্তানকে অতি আহ্লাদ দিয়ে অমানুষ তৈরী করার কারিগর। চোখে সামনে সন্তানকে বিপথে যেতে দেখেও যাদের কোনো হেলদোল ছিলো না, সন্তানের অন্যায় তাদের কাছে ছিলো অতি তুচ্ছ। ▪️মনোয়ারা বেগম-রবিকুল ইসলাম: ভীষণ সুন্দর মনের অধিকারী দুটো চরিত্র। উপন্যাসে তাদের উপস্থিতি খুব বিস্তৃত ছিলো না তবে অল্প সময়েই মন কেড়েছে। তাদের ব্যাবহার, সুন্দর মনোভাব, ন্যায়নীতি, স্নেহপ্রিতি ছিলো মুগ্ধ করার মতো। এমন শ্বশুর শ্বাশুড়ি হয়তো প্রতিটা মেয়ের স্বপ্ন। সন্তানের অন্যায় মেনে না নেওয়াটা তাদের প্রতি ভালোলাগা সৃষ্টির অন্যতম কারণ। খুব কম বাবা মা ই পারে নিজের সন্তানের অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে। ▪️রফিক: আরেকটা ধোঁ'কা'বা'জ চরিত্র। এই চরিত্রটাও প্রথম দিকে মুগ্ধ করেছিলো। উপন্যাসে রফিকের পরিবর্তন ছিলো একদম বা'ক'রু'দ্ধ করে দেওয়ার মতো। এতো সুন্দর একটা চরিত্র, ভালো ছেলে, ভালো স্বামীর হুট করে পরিবর্তন বেশ পী'ড়া'দা'য়ক ছিলো। একটু সুখের জন্য মানুষ বিবেক বর্জন করতেও দ্বিতীয়বার ভাবে না। ▪️রুবা: লো'ভ আর স্বার্থ মানুষকে ঠিক কতোটা নিচে নামাতে পারে তার এক ঘৃ'ণিত উদাহরণ এই রুবা। স্বার্থ হাসিলের জন্য একটা মেয়ের বিশ্বাস নিয়ে কেমন খেলা করলো। তবে তার পরিণতি শান্তি দিয়েছে। ▪️রাত্রি-রাশেদ: বন্ধু হিসেবে চরিত্র দুটো খুব সুন্দর ছিলো। তাদের বন্ধুদের পাশে থাকার বিষয়টা খুব ভালো লেগেছে। উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলোও নিজ নিজ অবস্থানে ছিলো অনন্য। ভালো চরিত্র হোক আর কালো চরিত্র লেখিকা খুব সুন্দর ভাবে কাহিনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের উপস্থাপন করেছেন। লেখনী: গোছানো লেখনী, মনোমুগ্ধকর শব্দচয়ন, মন কেমন করা বাক্য বিন্যাস, প্লট উপস্থাপন, প্লটের সাথে মিল রেখে চরিত্র গুলো ফুঁটিয়ে তোলা, উপন্যাসে সংলাপ আর বর্ণনার মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা, রোমান্টিক উপন্যাসে শালীনতা বজায় রাখা একজন লেখিকার লেখনীর প্রতি মুগ্ধ হতে আর কোন কোন বৈশিষ্ট্যের প্রয়োজন পড়ে? এই বৈশিষ্ট্য গুলো দিয়ে লেখিকার লেখা আমায় বারে বারে মুগ্ধ করে, মায়ায় ফেলে। লেখনী নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ◾প্রিয় লাইন: "এই নাম তোমার দাদিজান রেখেছেন। তিনি গুরুজন। কাজেই তার ইচ্ছের ভার তোমাকেই বইতে হবে আর নামে কি আসে যায়? ভালো করে পড়াশোনা করো। তোমার নাম যদি 'কলা গাছ'ও হয়, লোকে তোমাকে 'কলা গাছ স্যার' বলেই সম্মান করবে।" ~আসাদউল্লাহ খান যতদিন 'বড় হচ্ছ' থেকে কথাটা 'বড় হয়েছ' না হয় ততদিন আসলেই কেউ পুরোপুরি বড় হয় না। ~তিতাস "যা জানিস ঠিক না , তা করাটাও ঠিক না । ভালো হতে হতে দেখিস , বোকা হয়ে যাস না যেন । এসব ছোট ছোট হার যেন সর্বস্ব হারানোর কারন না হয় , সেটা অন্তত মনে রাখিস।" ~চৈতি সিনহা "জীবন তোমাকে যতবার আমার সামনে নিয়ে আসবে,আমি ততবারই তোমাকে পাওয়ার সাধনা করবো।" ~তিতাস ◾উপন্যাস থেকে প্রাপ্তি: ১। নাম নয় কর্মই আসল পরিচয়। ২।সন্তানকে সুপথে রাখার জন্য শুধু শাসন নয় সাথে ভালোবাসাটাও দেখাতে হয়। তাদের সাথে বন্ধু সুলভ একটা সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। ৩। আমরা যতই সরল মনের হই না কেনো আমাদের আশপাশ নানা জটিলতায় ভরপুর। সরলতা নিয়ে কোনো জালে ফেঁসে যাওয়ার চেয়ে একটু সতর্কতা অবলম্বন করে চলা উচিত। ৪।আবেগের বসে হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। উপন্যাস থেকে এই শিক্ষাটা বেশ ভালোভাবেই পেয়েছি। ৫।জীবনে সফলতা চাইলে পড়ালেখা আর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। ৬।আঘাত পেয়ে ভে'ঙে না পড়ে আরো শক্ত হওয়া উচিত। অসুস্থ সমাজে টিকে থাকার জন্য নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা উচিত। ৭। কোনো ঘটনার সম্পূর্ণ না জেনে কোনো প্রকার মন্তব্য করা উচিত না। হতে পারে আমারা যা ভাবি ঘটেছে তার উল্টো। আমাদের একটা বিরূপ মন্তব্য হয়তো কারো হৃদয়ে গভীর ক্ষ'ত সৃষ্টি করতে পারে। ৮। ভালোবাসি বললেই ভালোবাসা হয়ে যায় না। ভালোবাসা মানে সুখে রাখা, সুখে থাকা। ৯।সময় বদলেছে, যুগ বদলেছে বদলেছে সমাজের নিয়ম কানুন শুধু বদলায় নি সমাজের মানুষদের সংকীর্ণ দৃষ্টি ভঙ্গি। ১০। "ভাগ্য" এটা কারো হাতে থাকে না। অনেক সময় হুট করে নেওয়া পদক্ষেপ যেমন কু'ফ'ল আনে ভাগ্যের ফেরে ভেবে চিন্তে নেওয়া পদক্ষেপও মাঝে মাঝে কুফল বয়ে আনে। আসলে আমাদের সাথে তাই হয় যা আমাদের ভাগ্যে থাকে, যা আমাদের সৃষ্টি কর্তা চান। ১১। ভালোবাসা, একবার হারিয়ে গেলে পুনরায় ফিরে পাওয়ার সুযোগ খুব কমই থাকে। সৌভাগ্য বসত যদি সেই সুযোগ পাওয়া যায় তাহলে সবটা দিয়ে সুযোগটা লুফে নেওয়া চেষ্টা করতে হয়। ১২। স্বাধীনতা ভালো তবে স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা একদম ভালো না। (ভুল ত্রুটি মার্জনীয়) লেখা ও ছবি- সাবিহা আক্তার"

efa****com

efa****com , Mar 15, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#পাঠ_প্রতিক্রিয়া #শ্বেত_পাথরের_মালা #লেখক_আফিফা_পারভীন #ছাপাখানা_প্রকাশনী শ্বেত পাথরের মালা আফিফা পারভীন আপুর লেখক জীবনের এক চমৎকার সংযোজন। তার লেখার ভঙ্গি, বাক্যের বিন্যাস, শব্দচয়ন ও সহজ-সাবলীল প্রকাশভঙ্গির জন্যই তার লেখনীর প্রতি আকৃষ্ট আমি।যথারীতি শ্বেত পাথরের মালা উপন্যাসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উপরন্তু আমার মনে হয় এই বইয়ের প্লটটাই অন্যরকম একটা সৌন্দর্যে ভরপুর, ভীষণ সুন্দর একটা কনটেন্ট তিনি বাছাই করেছেন বইয়ের জন্য। সব বয়সী এবং সব শ্রেনীর মানুষের জন্য উপযুক্ত একটি সমকালীন সামাজিক উপন্যাস। যারা গল্প উপন্যাস পড়েও শিক্ষণীয় বিষয় খুঁজে আমি এ বইটা তাদেরকে সাজেস্ট করব। তিতাস আর শবনমের কৈশোরকাল থেকে শুরু হওয়া ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে উপন্যাসটির বিস্তৃতি। তাই গল্পটি তিতাস শবনমের অনায়াসে বলা যেত, কিন্তু এদের মায়াবন কেন্দ্রিক শিউলি সুবাসিত কৈশোরের সাইকেলের সাথে সাথে সমানতালে চলতে থাকে শাহানা আর নাজমুলের প্রেমোপাখ্যান। পাশাপাশি চলমান শাহানা শবনম দুই বোনের জীবনাচরনের মাধ্যমেই লেখক উপস্থাপন করেছেন তার মুন্সিয়ানা। বড় সন্তানকে অবাধ স্বাধীনতা আর ভালোবাসার প্রতিদানে মা বাবা যখন ব্যর্থপ্রায়, তখন তারা নিজেদের ভুল শোধরানো বাদ দিয়ে কিভাবে ছোট সন্তানের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেন তা নিজেরাও বুঝতে পারেন না। আর সেই ভুক্তভোগী সন্তানও 'আমি তো ওর মতো না' প্রমাণ করতে করতে হারিয়ে বসে নিজের স্বকীয়তা আর চাওয়া পাওয়ার হিসেব। এমন এক দারুন মনস্তাত্ত্বিক চাপ আর লড়াই নিয়ে এগিয়ে যায় ঘটনাপ্রবাহ, যা পাঠক মনে প্রভাব ফেলতে বাধ্য করে। মা-মা-বাবার অবাধ্য হওয়ার ফল কতটা ভয়ানক শাহানা তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। আবার এই গল্পে তিনজন মা আছেন তিন প্রকারের মনস্তত্ত্ব নিয়ে।কারো ইগো আর জেদ, কারো অহংকার নিজেদের সন্তানের জীবনে কতটা বিরূপ প্রভাব ফেলে এ নিয়ে তারা উদাসীন। আবার আরেকজন মা আছেন সন্তানের কাজে নিজে লজ্জিত। মানে মা বাবার সব সিদ্ধান্তই যে সন্তানের জন্য মঙ্গলজনক এটা যেমন ধ্রুব সত্য না, তেমনি সন্তানেরও বেশি বুঝে ঝুঁকি নেয়াটাও অনেকাংশে ক্ষতিকর। মুলত প্যারেন্টিংএর এই বিষয়গুলোই বইটাকে আমারও এত প্রিয় করে তুলেছে। এগল্পে চমৎকার বন্ধুত্বের উদাহরণ হিসেবে চৈতী, রাত্রি, রাশেদ একদম মনকাড়া চরিত্র।অন্যান্য চরিত্রগুলোও যার যার ক্ষেত্রে একদম পারফেক্ট। আর যার কথা না বললেই নয় সে তিতাস। সবদিক দিয়েই আদর্শ একটা চরিত্র। কিন্তু সে প্রেমিক হিসেবে অনন্য সাধারণ। কিভাবে নিরবে নিভৃতে নিজের ভালোবাসাকে ভালোবাসাতে হয়, তার পছন্দকে নিজের পছন্দ করে নিতে হয়, তার খারাপ লাগাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেকে আড়ালে রেখে শুভাকাঙ্ক্ষী হতে হয় তিতাস তা দেখিয়ে দিয়েছে। মাত্র দশদিনের জন্য তার হেরে যাওয়াটা আমাকে যতটা না ব্যথিত করেছে তার বেশি কাঁদিয়েছে তার জমিয়ে রাখা স্মৃতির ভান্ডার দেখে। আমার ভীষণ পছন্দের এই বইটি পড়ে আপ্নারও ভালো লাগবে ইন শা আল্লাহ।"

Nusrat Sultana Shetu

Nusrat Sultana Shetu , Mar 15, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বুক_রিভিউ বই : শ্বেত পাথরের মালা লেখক : আফিফা পারভীন প্রকাশনী : ছাপখানা প্রকাশনী প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম #পাঠ্য_প্রতিক্রিয়া আমার কাছে এই উপন্যাসটি কিছু জীবন্ত অনূভুতির সমাহার। দুইজন কিশোর - কিশোরীর অতুলনীয় বন্ধুত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে এই উপন্যাসটি। উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে শবনম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় ছেলে তিতাসকে নিয়ে রচিত এই গল্প টা ভীষণ মন কেড়েছে আমার। তিতাস ও শবনম সমবয়সী হলেও তাদের স্বভাবগত পার্থক্য ছিল বিশাল। তিতাস ছিলো সাগরের মতো শান্ত, গম্ভীর ও বাস্তববাদী। আর শবনম ছিলো প্রজাতির মতো চঞ্চল, স্নিগ্ধ, সরল। যার কাছে তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।তাদের বন্ধুত্ব ছিলো সমাজের সকল নিয়ম-কানুন ও জটিলতার উর্ধ্বে। ছোট্ট তিতাস যে কখন তার মনে শবনমের জন্য ভালোবাসার বীজ বুনতে শুরু করেছিলো তা সে নিজেও জানে না। তারপর কি হয়েছিল? শবনম ও তিতাস কি তাদের জীবনের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছিলো? রফিক কে? শবনম-তিতাসের জীবনে তার ভূমিকা কি ছিলো? তাদের ভালোবাসা কি পূর্নতা পেয়েছিল?এসব কিছু জানতে পড়তে হবে দুইজন কিশোর - কিশোরীর মিষ্টি প্রেম ও তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে রচিত "শ্বেত পাথরের মালা" বইটি। প্রিয় চরিত্র : সব চরিত্রই আমার পছন্দের। কিন্তু এদের মধ্যে তিতাস,শবনম,চৈতী সিনহা আমার খুব বেশি প্রিয়। প্রিয় উক্তি : # "আমার ভালোথাকা, বেঁচে থাকা , টিকে থাকা......সবকিছু জুড়ে শুধু তুমি আছো।" # জীবন যতবার তোমাকে আমার সামনে নিয়ে আসবে, আমি ততবারই তোমাকে পাওয়ার সাধনা করবো।" # "সুন্দর সময় জীবনে এমন অল্পই আসে। তবে যেটুকু আসে সেটুকু অঞ্জলিপুটে মনপ্রাণ দিয়ে আঁকড়ে রাখতে হয়।" - নুসরাত সুলতানা # শ্বেত পাথরের মালা 💙💙 আফিফা পারভীন"

elm****com

elm****com , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"রিভিউ বই: শ্বেত পাথরের মালা। লেখিকা: আফিফা পারভীন। প্রকাশনী: ছাপাখানা প্রকাশনী। শবনম উচ্চপদমর্যাদাসম্পন্ন এবং আত্মঅহমিকায় জড়ানো বাবা মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া অতি সাধারণ একজন মেয়ে আর অন্যদিকে তিতাস অতি সাধারণ ঘরে জন্ম নেওয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমান একজন ছেলে। দু'জন সমবয়সী, পাশাপাশি বাসা ও একই কোচিং সেন্টারে পড়ার সুবাদে তাদের মাঝে ভালো বন্ধুত্ব অনেকটাই সাবলীল। শৈশব পেড়িয়ে কৈশোর, কৈশোর পেড়িয়ে একজন পূর্নাঙ্গ যুবক হতে হতেই ভালোবাসা নামক শব্দটা এসে বাসা বেধেছিল তিতাসের জীবনে। তবে তিতাস জানতো, কীভাবে ভালোবাসাকে যত্ন করে লালন করতে হয়, কীভাবে ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে পাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত নিজের সাথে, পরিবারের সাথে লড়াই করতে হয়। তবুও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ ভাগ্য অথবা মানুষের ইচ্ছের কাছে অসহায় তবে নানান চড়াই উৎরাই পেরিয়ে তিতাস তার কাঙ্ক্ষিত স্বর্গ অর্জন করতে পেরেছিল কিনা সেটাই বড় কৌতুহল সৃষ্টি করে তা উপন্যাস শেষ পাতা পর্যন্ত পাঠককে টেনে নিয়ে যায়। শবনম! মাঝেমধ্যে মেয়েটার জন্য দুঃখ লাগে, মায়াও হয় আবার ভালোবাসাও জাগে। শাহানা মেয়েটা আসলে বাবা মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া একজন সৌভাগ্যবতী মেয়ে নাকি নিজ পছন্দ বেছে নেওয়া একজন দূর্ভাগা তা নিয়ে দোটানা। তবে শাহানার জীবন থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারি আমরা। আবেগের প্র‍য়োগ করার আগে বিবেকের কাঠগড়াটা শক্তপোক্ত করে গড়ে তোলা উচিত। চৈতি সিনহা! বন্ধুত্ব আসলে কী তা আমরা নিজের জীবন থেকেই বুঝতে পারি। একজন বন্ধু একটি সম্পদ। রুবা! এমন মেয়ে অহরহ দেখা যায় আমাদের সমাজে। তবে শর্টকাট অথবা অন্যকে ঠকিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করা আর আজন্ম তার সুখ উপভোগ করার মধ্য আকাশ পাতাল তফাৎ। এই অংশটুকু পড়তে গিয়ে আমার বাংলা ব্যকরণের সেই প্রবাদের কথা মনে হয়েছে বারবার যে 'স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন। পেরেছি বয়ে নিয়ে যাওয়াটা যেমন  কঠিন।' এছাড়াও নানান ধরনের চরিত্রের উপস্থিতি ছিল উপন্যাস জুড়ে। কোনো চরিত্র ভালো লেগেছে তো কোনো চরিত্রের উপর অক্ষম রাগ। তবে ভালো মন্দ মিলিয়েই মানুষ। লেখিকার লেখা ভালোলাগার উল্লেখযোগ্য একটি কারণ সে কাল্পনিক রূপকথা গল্পে পাঠককে বিমোহিত করে না। শব্দের গাঁথুনিতে পাঠককে আবদ্ধ করে রাখার যে ক্ষমতা তিনি অর্জন করেছেন তা অনন্য। পুরো উপন্যাসের সাথে উপভোগ্য সময় কেটেছে আলহামদুলিল্লাহ।"

880****646

880****646 , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#শ্বেত_পাথরের_মালা এক নজরেঃ • উপন্যাসের নামঃ শ্বেত পাথরের মালা • লেখকঃ আফিফা পারভীন • ধরনঃ সামাজিক, রোমান্টিক • প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রকাশনী • প্রচ্ছদঃ ফাইজা ইসলাম • পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯৯ • প্রকাশকালঃ নভেম্বর ২০২২ অনুভূতি আমি প্রকৃতি ছোট থেকেই পছন্দ করি। কোথাও গাড়ি করে বেড়াতে গেলে জানালার পাশে বসে শুধু প্রকৃতি দেখতে দেখতেই গন্তব্যে যেতাম। প্রকৃতির এতো সুন্দর রূপ, ফুলের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা কেউ শব্দের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে পারে এটা আফিফা পারভীন আপুর লেখা না পড়লে বুঝা যাবে না। শ্বেত পাথরের মালা বইয়ে মায়াবন নিয়ে সুন্দর বর্ণনা, সেখানে দুই কিশোর কিশোরীর ভ্রমণ পড়লে মনে হয় সব আমার চোখের সামনে দেখতেছি। শ্বেত পাথরের মালা নাম শুনলে সাদা কোনো মালার কথা মাথায় আসে। মনে হবে সাদা মালা নিয়ে কোনো কাহিনী দিয়ে লেখিকা এই বই লিখেছেন। কিন্তু শ্বেত পাথরের মালা বইয়ের নাম শুনলে আমার শিউলি ফুলের কথা মাথায় আসে। ছোট্ট এক কিশোরী রাস্তায় বসে শিউলি ফুল কুড়ানোর দৃশ্য চোখে ভাসে।সেই কিশোরীর স্মরণে ফুল কুড়ানো অপছন্দ করা কিশোরের ফুল কুড়িয়ে ভোর হওয়ার দৃশ্য মনে আসে।"শ্বেত পাথরের মালা " আফিফা পারভীন আপুর সৃষ্টি দারুন একটি উপন্যাস। সকল বয়সের পাঠকের জন্য উপযুক্ত বই। সবার জন্য সুন্দর মেসেজ দেয়া আছে। "শ্বেত পাথরের মালা" বইয়ের প্রধান চরিত্র তিতাস শবনম। ছোটবেলার খেলার সাথী, পথ চলার সঙ্গী দুজন। একজন কে ছাড়া যেন অন্য জন ছিলো অচল। শবনম কে আগলে রাখার দায়িত্ব কখন তিতাস তার কাঁধে তুলে নেয় সে নিজেই জানে না। ধীরে ধীরে দায়িত্ব, ভালোলাগা থেকে ভালোবাসা তৈরী হয়। ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম, অপেক্ষার জন্য তিতাস আমার খুবই প্ৰিয়। তিতাস চরিত্রের মতো একজন সন্তান, প্রেমিক, স্বামী সবাই চাইবে। ছোট্ট শবনম যে কখনো মা বাবা কে কষ্ট না দেওয়ার জন্য মা বাবার স্বপ্ন কে নিজের স্বপ্ন হিসেবে পূরণ করাই ছিলো তার জীবনের লক্ষ্য। "শ্বেত পাথরের মালা" বইয়ের সব চরিত্র লেখিকা আপু সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। কিছু চরিত্র দিয়ে সমাজের ঘৃণার দিক উঠে এসেছে। "শ্বেত পাথরের মালা" বইয়ের নামের সার্থকতা বইয়ের মাঝেই পাঠকরা খুঁজে পাবেন।"

Naima Afsara Bhuyan

Naima Afsara Bhuyan , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"⭐ অনুভূতিকথন ⭐ লেখিকার অন্যান্য বইয়ের মত শ্বেত পাথরের মালা বইটি অনেক বাস্তবনির্ভর ও তথ্যবহুল।বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাহিত্য জগতে যেখানে কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত কাহিনী ভিত্তিক বইয়ের ছড়াছড়ি সেখানে লেখিকার এই ভিন্নধর্মী বইটি সাহিত্য প্রেমিদের জন্য ভিন্ন স্বাদের মাত্রা যোগ করে। বইয়ের কাহিনী শুরু হয় তিতাস ও শবনমের কৈশোরকালের বিশুদ্ধ বন্ধুত্বের ঘটনা দিয়ে।বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় ভিন্নধর্মী অনুভূতির সমাহার। কখনো হেসেছি,কখনও বা মন খারাপ করেছি কিন্ত শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মনযোগ ধরে রাখতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের জীবনে পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,যা লেখিকা তার নিপুণ লিখনশৈলীর মাধ্যমে বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। পরিবার যখন পাশে থাকে তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।কিন্ত যখন পরিবার মুখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা অসহযোগিতা করে তখন মানুষটির চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।যেমনটি হয়েছে শবনমের ক্ষেত্রে।কিন্ত শবনমের এই সময়ে রাত্রি ও তিতাস যেভাবে পাশে থেকেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।পরিবারের পাশাপাশি সঠিক বন্ধুও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ । কাহিনীর প্রতিটি চরিত্র তিতাস,শবনম,শাহানা,নাজমুল,রাত্রি প্রভৃতি লেখিকা খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিটি চরিত্র যেন জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দের চরিত্র "তিতাস"।ধৈর্য ধরে কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসা যায় তার মূর্তমান প্রতীক হল তিতাস। আর ধৈর্যের ফল সবসময় মিষ্টিই হয়। লেখিকার চমৎকার লেখনীর উপর ভরসা ছিল। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির পরিমাণ অনেক বেশি। বই: শ্বেত পাথরের মালা। লেখিকা: আফিফা পারভীন। জনরা: রোমান্টিক ও সামাজিক। প্রকাশকাল: নভেম্বর,২০২২। প্রকাশক: ছাপাখানা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম। মুদ্রিত মূল্য: ৪২৫ টাকা। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯।"

Tasmiyah Jannat Nipu

Tasmiyah Jannat Nipu , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"বই : শ্বেত পাথরের মালা লেখক : আফিফা পারভীন প্রখাশনী : ছাপাখানা প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম জনরা : সামাজিক, রোমান্টিক মুদ্রিত মূল্য : ৪২৫ পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৯৯ শ্বেত পাথরের মালা বইটিতে রয়েছে একটা বিস্তার সামজিক গল্প । এমন এমন কিছু ঘটনা বইতে উল্লেখ আছে , যা প্রতিনিয়ত আমাদের আশপাশের ঘটতে থাকে । তার কিছু খবর হয়তো আমরা পাই কিছু রয়ে যায় লোক চক্ষুর আড়ালে। "শ্বেত পাথরের মালা" গল্পটা আসলে কার? শবনমের ? শাহানার ? নাকি তিতাসের আসলে কার ? । গল্প আসলে সবারই থাকে । সেই গল্প একা একা তৈরি হয় না , একটা গল্পে হরেক রকম মানুষ থাকে , সুখ , দুঃখ,হাসি আনন্দ বেদনা কিছু ঘটনা এই গুলোর সংমিশ্রণেই গড়ে উঠে একটি গল্প । কাজেই শাহানা, শবনম,তিতাস এরাই তিনজনই একে অন্যের গল্পের একটা একটা অংশ জুড়ে রয়েছে । গল্প কিন্তু শাহানা, শবনম, তিতাস এই তিনজনেতেই সীমাবদ্ধ নয় । ওইযে বললাম একটা গল্প হতে হরেক রকম মানুষ লাগে । এই ছোট্ট উপন্যাস টায় ও হরেক রকম এর মানুষ রয়েছে । ওই হরেক রকম মানুষ গুলো কে পড়তে গেলে কিছু মানুষ অজান্তেই আপনার মনে যায়গা করে নিবে । আসতে আসতে পড়তে পড়তে যখন সামনের দিকে যাবেন ঠিক ওই চরিত্রে গুলোর প্রতি তিক্ততা এসে ভর করবে আপনার মনে। এমন দুই চরিত্র নাজমুল আর রফিক । একজন 'বাইরে দিয়ে ফিটফাট ভিতরে দিয়ে সদরঘাট'। আর অন্যজন সময় স্রোতে পাল্টে যাওয়া মানুষ। আমাদের জীবনে কিছু মানুষ আসে অল্প সময়ের জন্য ।‌ এই অল্প সময়েই অনেক কিছু দিয়ে যায় তারা আমাদের । মহাকালের গর্ভে এরা খুব তাড়াতাড়ি হারিয়ে যায় । এমন এক চরিত্র চৈত্রি সিনহা । বন্ধুত্বের সঠিক সঙ্গা বোধহয় চৈত্রি সিনহা কেই বলে । খুব স্বল্প সময় ধরে ছোট্ট উপন্যাসটায় বিচরণ ছিল চৈত্রি সিনহার, এই স্বল্প সময়েই গভীর দাগ কেটে গেছে মনের মধ্যে । ছোট্ট উপন্যাসটা জুড়ে রয়েছে কিছু বাবা-মায়ের গল্প ,চমৎকার দুজন শাশুড়ির গল্প , প্রাণবন্ত কত গুলো বন্ধুর গল্প । শাহানার ভালোবেসে ঠকে যাওয়ার গল্প , বিশ্বাস করে বিশ্বাস ভাঙ্গার গল্প , প্রেম -ভালোবাসা বিশ্বাস না করেও বিয়ের পর কাউকে মন উজাড় করে ভালোবেসে ঠকে যাওয়ার । ভালোবেসে ঠকে গিয়ে দ্বিতীয়বার ভালোবাসতে ভয় পাওয়া মানুষটার জীবনেও আবার কেউ একজন এসেছিল আবার ভালোবাসার স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অফুরন্ত সুখের রাজ্যে তারই গল্প রয়েছে । প্রচন্ড ধৈর্যশীল , প্রখর ব্যক্তিত্ববান সুপুরুষ যে বছরের পর বছর ভালবাসা নিজের মনে লালন করে এসেছে। জীবনের স্রোতে ভালোবাসার মানুষটাকে হারিয়ে ফেলে আবার পুনরায় তাকে নিজের করে পাওয়ার লড়াইয়ের গল্প। ভালোবেসে হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া এক যুবকের গল্প। সব মিলিয়ে দারুন একটা সামাজিক উপন্যাস এটা । উপন্যাসটাতে অনেক গুলো লাইন রয়েছে যা আমার খুব প্রিয় এর মধ্যে কিছু লাইন -▪️ ভালোবাসার অনেক নিয়মের মধ্যে একটি নিয়ম হলো হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া , তীব্র সুখের মত এক দুঃখের ব্যথায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা। ▪️পাখি উড়ে গিয়ে ফেলে যায় তার পালক আর মানুষ চলে  গিয়েও পেছনে রেখে যায় স্মৃতি ও মায়া । ▪️ মানুষ হয়ে জন্মানোর অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে একটি হলো প্রয়োজনীয় কথাটা উপযুক্ত সময় বলতে না পারা ।"

Naima Afsara

Naima Afsara , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"⭐ অনুভূতিকথন ⭐ লেখিকার অন্যান্য বইয়ের মত শ্বেত পাথরের মালা বইটি অনেক বাস্তবনির্ভর ও তথ্যবহুল।বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাহিত্য জগতে যেখানে কাল্পনিক ও অতিরঞ্জিত কাহিনী ভিত্তিক বইয়ের ছড়াছড়ি সেখানে লেখিকার এই ভিন্নধর্মী বইটি সাহিত্য প্রেমিদের জন্য ভিন্ন স্বাদের মাত্রা যোগ করে। বইয়ের কাহিনী শুরু হয় তিতাস ও শবনমের কৈশোরকালের বিশুদ্ধ বন্ধুত্বের ঘটনা দিয়ে।বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠায় ভিন্নধর্মী অনুভূতির সমাহার। কখনো হেসেছি,কখনও বা মন খারাপ করেছি কিন্ত শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মনযোগ ধরে রাখতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের জীবনে পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে,যা লেখিকা তার নিপুণ লিখনশৈলীর মাধ্যমে বইয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। পরিবার যখন পাশে থাকে তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।কিন্ত যখন পরিবার মুখ ফিরিয়ে নেয় কিংবা অসহযোগিতা করে তখন মানুষটির চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়।যেমনটি হয়েছে শবনমের ক্ষেত্রে।কিন্ত শবনমের এই সময়ে রাত্রি ও তিতাস যেভাবে পাশে থেকেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।পরিবারের পাশাপাশি সঠিক বন্ধুও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ । কাহিনীর প্রতিটি চরিত্র তিতাস,শবনম,শাহানা,নাজমুল,রাত্রি প্রভৃতি লেখিকা খুবই সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিটি চরিত্র যেন জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।ব্যক্তিগত ভাবে আমার পছন্দের চরিত্র "তিতাস"।ধৈর্য ধরে কীভাবে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসা যায় তার মূর্তমান প্রতীক হল তিতাস। আর ধৈর্যের ফল সবসময় মিষ্টিই হয়। লেখিকার চমৎকার লেখনীর উপর ভরসা ছিল। প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তির পরিমাণ অনেক বেশি। বই: শ্বেত পাথরের মালা। লেখিকা: আফিফা পারভীন। জনরা: রোমান্টিক ও সামাজিক। প্রকাশকাল: নভেম্বর,২০২২। প্রকাশক: ছাপাখানা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯।"

Tamanna Akther

Tamanna Akther , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বুকরিভিউ #শ্বেতপাথরেরমালা ⚫ ফ্ল্যাপ - জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না। সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃ*ত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায়। ⚫ ব্যক্তিগত পাঠপ্রতিক্রিয়া - 'শ্বেত পাথরের মালা' উপন্যাসটি 'আফিফা পারভীন' আপুর পঞ্চম উপন্যাস। অবুঝ দু'জন কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্ব, পথচলা দিয়ে গল্পের শুরু হয়েছে। শরতের শিউলিফুলের মতোই যেন স্নিগ্ধ সুন্দর ও নির্মল জীবন তাদের। পড়তে গিয়ে এই দুটো চরিত্র যেমন হাসিয়েছে, তেমনি দুটো চরিত্রকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একেকটা দৃশ্য বারংবার কাঁদিয়ে ছেড়েছে। শুধু এই দুটো চরিত্র নয়, এদের আশেপাশে আর যারা ছিল, প্রত্যেকের জীবনের গল্পই ছিল, বাস্তবতার আলোকে গড়ে উঠা একেকটা সমসাময়িক চিত্র। আপুর অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এটা একটু ব্যতিক্রম। এখানে খুব সুন্দরভাবে আপু এমন কিছু চরিত্র তুলে ধরেছেন, যারা কোনো না কোনোভাবে এই সমাজের আনাচে-কানাচেতে বেড়ে উঠেছে। ল*ড়াই করেছে, টিকে থেকেছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন সবকিছু ছাড়িয়ে একেকটা মানুষ কীভাবে আত্মসম্মানের সাথে বেঁচে থাকে, কীভাবে ভে*ঙে যাওয়া মুহূর্তের মাঝেও দুর্বলতাকে পাশ কাটিয়ে বেঁচে থাকতে শিখে, লোকের ক*টুক্তি শোনেও নিজের জীবনটাকে ভালোবেসে, ধৈর্যের সাথে সেই জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনাকে উপলব্ধি করতে শিখে, এই সবকিছু খুবই দক্ষতার সাথে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন লেখক 'আফিফা পারভীন'। উপন্যাসে উল্লিখিত একজন শবনম, একজন শাহানা, তিতাস, চৈতী কিংবা নাজমুল, এরা প্রত্যেকেই এই সমাজেরই একেকটা বাস্তব দৃষ্টান্ত। পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল আরেহ এত আমাদেরই পরিবার, আমাদেরই সমাজ, সমাজের জঘন্য নিয়ম, সেই নিয়মে টিকে থাকা কিছু নারী-পুরুষের জীবনযু*দ্ধে প্রতিনিয়ত হারতে হারতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর গল্প এটি। এই গল্প আমার মনে ভীষণভাবে দাগ ফেলেছে। পড়তে গিয়ে তৃপ্তি, শান্তি ও লেখনীর মায়ায় মুগ্ধ হয়েছি বারেবার। শব্দ, বাক্য ও লেখনশৈলীর স্পষ্ট ব্যবহার, গল্প বলে যাওয়ার ধরন মন ছুঁয়ে গেছে আমার। গল্প শেষ হওয়ার পরও প্রতিটা চরিত্রকে ঘিরে উঠে আসা সমাজের একেকটা রূপ, একেকটা চিরচেনা দৃশ্য, বার বার আমাকে ভাবনার অতলে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। সবকিছু যেন চোখের সামনে ভাসছিল। সবশেষে একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে গল্পটা শেষ করেছি। শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে, আরও একটু বাড়তি হলেও ক্ষতি কিছু হতো না। ⚫ বইয়ের ভালো দিক - 'শ্বেত পাথরের মালা' সম্পূর্ণ উপন্যাসটির মধ্যে বেশকিছু ভালো দিক আছে। প্রথমত - জীবনসঙ্গী বাছাই করার আগে অবশ্যই একটা মানুষকে আমাদের জানতে হবে। ভুল করেও যদি ভুল মানুষ জীবনে চলে আসে, তাহলে আফসোস ও ভোগান্তির শেষ থাকে না। এজন্য আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নেই। জীবন একটাই। এই একটা জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে, শান্তির সাথে বাঁচতে হলে, প্রতিপদে ভেবে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত - সৎ, সাহসী ও বিশুদ্ধ মনের হওয়া। একটা মানুষের চিন্তাভাবনা সুন্দর হলে, চাওয়াগুলো সৎ হলে, জীবনের কোনো না কোনো একটা সময়ে গিয়ে সৎ চাওয়াগুলো ঠিকই প্রাপ্তির খাতায় জমা হবে। তৃতীয়ত - 'পাছে লোকে কিছু বলে' এই ধরনের লোক যা-ই বলুক, এসব কথাকে কানে জায়গা না দিয়ে জীবনটাকে জীবনের গতিতেই এগিয়ে যেতে দেওয়া উত্তম। এই সমাজে খারাপ মানুষের অভাব নেই, খারাপ বলার অভাব নেই, নিন্দেমন্দ কিংবা গা*লিগালা*জ দেয়ারও লোকের অভাব নেই। কিন্তু সবকিছুর পরেও এটা মাথায় রাখতে হবে যে, জীবন একটাই। লোকের কথায় কেন নিজের জীবনটাকে করুণার চোখ দিয়ে দেখতে হবে? তাকদীর যদি বিশ্বাস করি, তাহলে তাকদীরের লেখা কেন মেনে নিতে পারব না? লোকের কথা শোনে জীবনটাকে তু*চ্ছ না ভেবে উপভোগ করা উচিত। জীবন যেমনই হোক, সুখের হোক কিংবা দুঃখের, প্রতিটা মুহূর্তে বাঁচা উচিত। লোকের জানার দরকার নেই, তুমি নিজে তো জানো - তুমি কেমন, সৎ না-কি অসৎ। নিজের দোষ-গুণের সার্টিফিকেট তোমার নিজের কাছেই আছে। তোমার সততা, তোমার সাহসিকতা, মনের জোর, এগুলোই তো। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জীবনে শুধু বাঁচতে হবে, এটাই মাথায় রাখা উচিত। চতুর্থত - ভালোবাসার মানুষকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মূল্যায়ন করার উচিত। সময়ে-অসময়ে সঠিক ভালোবাসা জীবনে যখনই আসবে, তখনই তাকে গ্রহণ করে নেয়া উচিত। প্রকৃত ভালোবাসা জীবনে বার বার আসে না। এগুলো ছাড়াও বোঝার মতো, বইয়ের চরিত্রদের উপলব্ধি করার জন্য, বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে জানার জন্য, আরও অনেকগুলো পয়েন্ট আছে, যেসবের জন্য এই বইটা আমার ভীষণ, ভীষণ প্রিয়। ⚫ বইয়ের মন্দ দিক - নেগেটিভ কোনোকিছু যেহেতু নেই, সেহেতু এখানে মন্দ দিক থাকার প্রশ্নই আসে না। ⚫ আপনি কেন বইটি পড়বেন - জন্মগতভাবে মেয়েরা অ*বহেলিত। কতটা অ*বহেলিত সেটা আমরা আশেপাশের দৃশ্যগুলো উপলব্ধি করলেই বুঝতে পারি। এমন অসংখ্য ঘটনা আমরা দেখেছি, যেসব ঘটনার শুরু যেভাবেই হোক আর শেষ যেভাবে হোক, সমাপ্তিতে দোষটা গিয়ে পড়ে একটা মেয়ের ঘাড়ে। মেয়ের চরিত্র ভালো না, ব্যবহার ভালো না, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, পরিবার ভালো না, মেয়ে খা*রাপ, মেয়ে ডি*ভোর্সি, বি*ধবা, এগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য ক*টুবাক্য। এইযে একটা সমাজ, যেখানে অধিকাংশ অন্যায় পুরুষের দ্বারা ঘটিত হলেও শা*স্তি পায় নারী। কেন? নারী কেন এত অ*বহেলার পাত্রী? নারীকে কেন এই সমাজ সম্মান দিতে জানে না? কেন সমাজের মানুষ সামান্য একটা খু*ত ধরে, একজন নারীকে সম্পূর্ণ বিচার করে? কেন ভুলে যায়, এই নারী একজন মা, নারী একজন বোন, নারী একজন স্ত্রী? গল্পে শবনম চরিত্র। যার কোনো দোষ নেই। সে একজন ভালো ছাত্রী, ভালো সন্তান, ভালো বন্ধু, ভালো বোন, ভালো স্ত্রী। কিন্তু এরপরও ভাগ্যদোষে এই ভালো মেয়েটাই কি-না হয়ে যায় সমাজের মানুষের চোখে ঘৃণিত। কেন? ডি*ভোর্সি তকমা, এগুলো কেউ ইচ্ছে করে নিজের সাথে জড়ায়? কেউ ইচ্ছে করে নিজের জীবনকে বি*চ্ছেদের দিকে টেনে নিয়ে? একা বাঁচার সাহস করে? ভালোবেসে সবাই-ই তো ঘর বাঁধতে চায়। সম্পর্কে বিশ্বাস, ভরসা ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখে গোটা একটা জীবন কাটাতে চায়। একটা মানুষের এই সৎ চাওয়াগুলো কি ভুল ছিল, অন্যায় ছিল? কেন দোষ না করেও সমাজের চোখে কাউকে দো*ষী হতে হয়? কেন, সবকিছুর পরেও একটা মেয়েকেই নি*ন্দেম*ন্দ শোনে দিন কাটাতে হয়? কেনই-বা লোকের কাছে ক*রুণার পাত্রী হতে হয়? শাহানা কিংবা শবনম, যার কথাই বলি না কেন, এই দুটো চরিত্র গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। শবনম চরিত্র তো গল্পের প্রাণ। কিন্তু নিয়তির কাছে হে*রে গিয়ে এই দুটো চরিত্র, জীবনে যতসব ক*টুক্তি, নি*ন্দেম*ন্দ ও লোকের নোং*রা কথা শোনেছে, এসবের দ্বারা এই সমাজেরই কোনো না কোনো ডি*ভোর্সি মেয়ের জীবনের গল্প শুনিয়েছে। এখনও এই সমাজের আনাচে-কানাচে এমন অসংখ্য শাহানা ও শবনমের দেখা পাওয়া যাবে, যারা কি-না নিজের ভালোমানুষী আচরণের জন্য বার বার ঠ*কে যায়। শাহানা, শবনম, তিতাস, চৈতী ও নাজমুলসহ অন্যান্য সব চরিত্রকে জানতে, একটা স্বচ্ছ সুন্দর ভালোবাসাময় গল্প পড়তে, এক যুবকের অত্যাধিক ধৈর্যের গল্প জানতে এবং সমাজের কিছু চিরচেনা দৃশ্যকে উপলব্ধি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে পড়তে হবে, 'আফিফা পারভীন' আপুর 'শ্বেত পাথরের মালা' উপন্যাসটি। ⚫ প্রিয় চরিত্র - আজমাইন ফায়েক তিতাস। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে ধৈর্য্য ও মনের জোরের প্রকাশ ঘটিয়ে গেছে, তা তো তুলনাহীন। ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে অপ্রকাশ্যে ভালোবাসা সুন্দর ও শান্তির হয়। প্রকাশের পর যদি প্রত্যা*খ্যানই হয় নিয়তি, তাহলে তো এই ভালোবাসা গোপনেই বাঁচিয়ে রাখা ভালো। কাউকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে দ্বিতীয়বার আর কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় না, এই এক তিতাস চরিত্রই সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় কতখানি জোর ছিল, তার চাওয়া কতখানি বিশুদ্ধ ছিল, সেটা এই চরিত্রটাকে পড়লেই উপলব্ধি করা যায়। তিতাসের ভালোবাসা ও ভালোবাসার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান দেখে প্রতি পাতায় মুগ্ধ হয়েছি। এই একটা চরিত্র, যার জন্য আমার হাঁসফাঁস লাগছিল। ওর কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কাউকে ভালোবাসলে তো এভাবেই ভালোবাসা উচিত। ⚫ অপ্রিয় চরিত্র - এখানে সবার আগে নাজমুলের নামটাই উঠে আসে। মানুষ কতটা জঘন্য হতে পারে, এই একটা চরিত্রকে পড়তে গিয়েই টের পেয়েছি। একটা মানুষ কত অভিনয় যে করতে জানে, কীভাবে ভালোবাসার মানুষের সাথে প্র*তার*ণা করতে জানে, সেটারই জলজ্যান্ত একটা দৃষ্টান্ত এই নাজমুল। সামনে সাধু*বাবা আর আড়ালে ভ*ণ্ড। ⚫ পছন্দের উক্তি - * "আমার অপরাধ কী? আমার ভালোবাসা, চাওয়া ও চেষ্টাতে কোথায় কমতি ছিল?" * "মানুষ এক জীবনে কতবার ম*রে, শবনম? যতবার তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, ততবারই আমার মন ভে*ঙেছে। আর মন ভা*ঙার যন্ত্রণা মৃ*ত্যু যন্ত্রণার সমান।" ⚫ বই সম্পর্কে অন্যান্য সব তথ্য - বই - শ্বেত পাথরের মালা লেখক - আফিফা পারভীন প্রকাশনী - ছাপাখানা প্রচ্ছদশিল্পী - ফাইজা ইসলাম ***"

Lubna Islam

Lubna Islam , Mar 14, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"রিভিউ বই-শ্বেত পাথরের মালা লেখিকা -আফিফা_পারভীন প্রকাশনীর নাম -ছাপাখানা প্রকাশনী প্রচ্ছদ ফাইজা ইসলাম সারসংক্ষেপ: জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না।সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায়। পাঠ প্রতিক্রিয়া: বইটা আমার আপুর বই গুলোর মধ্যে পড়া প্রথম বই। এত সুন্দর আর চমৎকার বইটা পড়ে আমার খুব কাছের একজনের কথা মনে পড়েছে।বইটা আমাকে এক শুদ্ধতম ভালোবাসার মানুষের সাথে পরিচয় করিয়েছে।৷ কে নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী আর কে শুভাকাঙ্ক্ষী রুপে নিজের জন্য হু মকি হতে সেটা বুঝতে পারা যায়। যেকোনো বয়সেই আবেগে পড়ে ভুল হতে পারে সেটা বুঝতে পারছি। বড় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের সবচেয়ে আপনজনের সাথে আগে কথা বলা উচিত। "শ্বেত পাথরের মালা" এমন এক উপন্যাস যেখানে লেখিকা আপু সকল বয়সের সবার জন্য মেসেজ দিয়ে রেখেছে। টিনএজদের জন্য উপকারী একটি বই। যেকোনো বয়সের মানুষ এই বইটা পড়তে পারবে। বইটি পড়ে মিশ্র অনূভুতি সৃষ্টি হয়েছে। কখনো মুচকি হেসেছি, কখনো রাগে বোম্ব হয়েছি, কখনো চোখ দিয়ে অশ্রু পড়েছে। মনে মনে কিছু চরিত্রদের গুষ্টি উদ্ধার করেছি😁 প্রিয়_চরিত্র: তিতাস : এক শুদ্ধতম ভালোবাসার প্রতীক। যার ভালোবাসায় কোন খাদ নেই।আছে শুধু ধৈর্য আর অপেক্ষা। এই চরিত্রের মতো সন্তান, প্রেমিক, স্বামী সবাই চায়। শবনম : মেয়েটা বাস্তবতা আর পরিস্থিতির শি কার। তার জীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার তার জীবনের অনেকটা সময় নষ্ট করে দেয়।সেসময় তার প্রিয় বন্ধু তার শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে তাকে আবার নতুন করে জীবনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।কিন্তু সেখানে সে সত্যিকার ভালোবাসাটা দেখে না। চৈতী: একজন সত্যিকার বন্ধু হয়ে এসেও কখনো ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকে যাওয়া। মনোয়ারা: মনোয়ারা ন্যায় ও সৎ পথে চলা একটি চরিত্র। এমন মানুষ কে জীবনে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। প্রিয় ডায়ালগ: ভালোবাসার অনেক নিয়মের মধ্যে একটা নিয়ম হলো হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া, তীব্র সুখের মতো এক দুঃখের ব্যাথায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকা। " মানুষের মনের মতো বেহায়া ও তরলমতি বস্তু বোধহয় এই জগতে সৃষ্টিকর্তা দ্বিতীয়টি আর সৃষ্টি করেননি।" " সুখ একা এলেও দুঃখ কখনো একা আসেনা, সে বোধহয় দলবেঁধে চলতেই পছন্দ করে। " জীবন তোমাকে যতবার আমার সামনে নিয়ে আসবে, আমি ততবারই তোমাকে পাওয়ার সাধনা করব। ( সবচেয়ে পছন্দের লাইন) সুন্দর সময় জীবনে এমন অল্পই আসে। তবে যেটুকু আসে সেটুকু অঞ্জলিপুটে মনপ্রাণ দিয়ে আঁকড়ে রাখতে হয়।"

Tamanna Akther

Tamanna Akther , Mar 13, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বুকরিভিউ #শ্বেতপাথরেরমালা ⚫ ফ্ল্যাপ - জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না। সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃ*ত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায়। ⚫ ব্যক্তিগত পাঠপ্রতিক্রিয়া - 'শ্বেত পাথরের মালা' উপন্যাসটি 'আফিফা পারভীন' আপুর পঞ্চম উপন্যাস। অবুঝ দু'জন কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্ব, পথচলা দিয়ে গল্পের শুরু হয়েছে। শরতের শিউলিফুলের মতোই যেন স্নিগ্ধ সুন্দর ও নির্মল জীবন তাদের। পড়তে গিয়ে এই দুটো চরিত্র যেমন হাসিয়েছে, তেমনি দুটো চরিত্রকে ঘিরে ঘটে যাওয়া একেকটা দৃশ্য বারংবার কাঁদিয়ে ছেড়েছে। শুধু এই দুটো চরিত্র নয়, এদের আশেপাশে আর যারা ছিল, প্রত্যেকের জীবনের গল্পই ছিল, বাস্তবতার আলোকে গড়ে উঠা একেকটা সমসাময়িক চিত্র। আপুর অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এটা একটু ব্যতিক্রম। এখানে খুব সুন্দরভাবে আপু এমন কিছু চরিত্র তুলে ধরেছেন, যারা কোনো না কোনোভাবে এই সমাজের আনাচে-কানাচেতে বেড়ে উঠেছে। ল*ড়াই করেছে, টিকে থেকেছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন সবকিছু ছাড়িয়ে একেকটা মানুষ কীভাবে আত্মসম্মানের সাথে বেঁচে থাকে, কীভাবে ভে*ঙে যাওয়া মুহূর্তের মাঝেও দুর্বলতাকে পাশ কাটিয়ে বেঁচে থাকতে শিখে, লোকের ক*টুক্তি শোনেও নিজের জীবনটাকে ভালোবেসে, ধৈর্যের সাথে সেই জীবনের সাথে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটা ঘটনাকে উপলব্ধি করতে শিখে, এই সবকিছু খুবই দক্ষতার সাথে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন লেখক 'আফিফা পারভীন'। উপন্যাসে উল্লিখিত একজন শবনম, একজন শাহানা, তিতাস, চৈতী কিংবা নাজমুল, এরা প্রত্যেকেই এই সমাজেরই একেকটা বাস্তব দৃষ্টান্ত। পড়তে গিয়ে মনে হচ্ছিল আরেহ এত আমাদেরই পরিবার, আমাদেরই সমাজ, সমাজের জঘন্য নিয়ম, সেই নিয়মে টিকে থাকা কিছু নারী-পুরুষের জীবনযু*দ্ধে প্রতিনিয়ত হারতে হারতে মাথা তুলে দাঁড়ানোর গল্প এটি। এই গল্প আমার মনে ভীষণভাবে দাগ ফেলেছে। পড়তে গিয়ে তৃপ্তি, শান্তি ও লেখনীর মায়ায় মুগ্ধ হয়েছি বারেবার। শব্দ, বাক্য ও লেখনশৈলীর স্পষ্ট ব্যবহার, গল্প বলে যাওয়ার ধরন মন ছুঁয়ে গেছে আমার। গল্প শেষ হওয়ার পরও প্রতিটা চরিত্রকে ঘিরে উঠে আসা সমাজের একেকটা রূপ, একেকটা চিরচেনা দৃশ্য, বার বার আমাকে ভাবনার অতলে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। সবকিছু যেন চোখের সামনে ভাসছিল। সবশেষে একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে তুলতে গল্পটা শেষ করেছি। শেষ হওয়ার পর মনে হয়েছে, আরও একটু বাড়তি হলেও ক্ষতি কিছু হতো না। ⚫ বইয়ের ভালো দিক - 'শ্বেত পাথরের মালা' সম্পূর্ণ উপন্যাসটির মধ্যে বেশকিছু ভালো দিক আছে। প্রথমত - জীবনসঙ্গী বাছাই করার আগে অবশ্যই একটা মানুষকে আমাদের জানতে হবে। ভুল করেও যদি ভুল মানুষ জীবনে চলে আসে, তাহলে আফসোস ও ভোগান্তির শেষ থাকে না। এজন্য আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নেই। জীবন একটাই। এই একটা জীবনে সুন্দরভাবে বাঁচতে হলে, শান্তির সাথে বাঁচতে হলে, প্রতিপদে ভেবে-বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দ্বিতীয়ত - সৎ, সাহসী ও বিশুদ্ধ মনের হওয়া। একটা মানুষের চিন্তাভাবনা সুন্দর হলে, চাওয়াগুলো সৎ হলে, জীবনের কোনো না কোনো একটা সময়ে গিয়ে সৎ চাওয়াগুলো ঠিকই প্রাপ্তির খাতায় জমা হবে। তৃতীয়ত - 'পাছে লোকে কিছু বলে' এই ধরনের লোক যা-ই বলুক, এসব কথাকে কানে জায়গা না দিয়ে জীবনটাকে জীবনের গতিতেই এগিয়ে যেতে দেওয়া উত্তম। এই সমাজে খারাপ মানুষের অভাব নেই, খারাপ বলার অভাব নেই, নিন্দেমন্দ কিংবা গা*লিগালা*জ দেয়ারও লোকের অভাব নেই। কিন্তু সবকিছুর পরেও এটা মাথায় রাখতে হবে যে, জীবন একটাই। লোকের কথায় কেন নিজের জীবনটাকে করুণার চোখ দিয়ে দেখতে হবে? তাকদীর যদি বিশ্বাস করি, তাহলে তাকদীরের লেখা কেন মেনে নিতে পারব না? লোকের কথা শোনে জীবনটাকে তু*চ্ছ না ভেবে উপভোগ করা উচিত। জীবন যেমনই হোক, সুখের হোক কিংবা দুঃখের, প্রতিটা মুহূর্তে বাঁচা উচিত। লোকের জানার দরকার নেই, তুমি নিজে তো জানো - তুমি কেমন, সৎ না-কি অসৎ। নিজের দোষ-গুণের সার্টিফিকেট তোমার নিজের কাছেই আছে। তোমার সততা, তোমার সাহসিকতা, মনের জোর, এগুলোই তো। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জীবনে শুধু বাঁচতে হবে, এটাই মাথায় রাখা উচিত। চতুর্থত - ভালোবাসার মানুষকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মূল্যায়ন করার উচিত। সময়ে-অসময়ে সঠিক ভালোবাসা জীবনে যখনই আসবে, তখনই তাকে গ্রহণ করে নেয়া উচিত। প্রকৃত ভালোবাসা জীবনে বার বার আসে না। এগুলো ছাড়াও বোঝার মতো, বইয়ের চরিত্রদের উপলব্ধি করার জন্য, বাস্তবতাকে আরও গভীরভাবে জানার জন্য, আরও অনেকগুলো পয়েন্ট আছে, যেসবের জন্য এই বইটা আমার ভীষণ, ভীষণ প্রিয়। ⚫ বইয়ের মন্দ দিক - নেগেটিভ কোনোকিছু যেহেতু নেই, সেহেতু এখানে মন্দ দিক থাকার প্রশ্নই আসে না। ⚫ আপনি কেন বইটি পড়বেন - জন্মগতভাবে মেয়েরা অ*বহেলিত। কতটা অ*বহেলিত সেটা আমরা আশেপাশের দৃশ্যগুলো উপলব্ধি করলেই বুঝতে পারি। এমন অসংখ্য ঘটনা আমরা দেখেছি, যেসব ঘটনার শুরু যেভাবেই হোক আর শেষ যেভাবে হোক, সমাপ্তিতে দোষটা গিয়ে পড়ে একটা মেয়ের ঘাড়ে। মেয়ের চরিত্র ভালো না, ব্যবহার ভালো না, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, পরিবার ভালো না, মেয়ে খা*রাপ, মেয়ে ডি*ভোর্সি, বি*ধবা, এগুলো ছাড়াও আরও অসংখ্য ক*টুবাক্য। এইযে একটা সমাজ, যেখানে অধিকাংশ অন্যায় পুরুষের দ্বারা ঘটিত হলেও শা*স্তি পায় নারী। কেন? নারী কেন এত অ*বহেলার পাত্রী? নারীকে কেন এই সমাজ সম্মান দিতে জানে না? কেন সমাজের মানুষ সামান্য একটা খু*ত ধরে, একজন নারীকে সম্পূর্ণ বিচার করে? কেন ভুলে যায়, এই নারী একজন মা, নারী একজন বোন, নারী একজন স্ত্রী? গল্পে শবনম চরিত্র। যার কোনো দোষ নেই। সে একজন ভালো ছাত্রী, ভালো সন্তান, ভালো বন্ধু, ভালো বোন, ভালো স্ত্রী। কিন্তু এরপরও ভাগ্যদোষে এই ভালো মেয়েটাই কি-না হয়ে যায় সমাজের মানুষের চোখে ঘৃণিত। কেন? ডি*ভোর্সি তকমা, এগুলো কেউ ইচ্ছে করে নিজের সাথে জড়ায়? কেউ ইচ্ছে করে নিজের জীবনকে বি*চ্ছেদের দিকে টেনে নিয়ে? একা বাঁচার সাহস করে? ভালোবেসে সবাই-ই তো ঘর বাঁধতে চায়। সম্পর্কে বিশ্বাস, ভরসা ও ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখে গোটা একটা জীবন কাটাতে চায়। একটা মানুষের এই সৎ চাওয়াগুলো কি ভুল ছিল, অন্যায় ছিল? কেন দোষ না করেও সমাজের চোখে কাউকে দো*ষী হতে হয়? কেন, সবকিছুর পরেও একটা মেয়েকেই নি*ন্দেম*ন্দ শোনে দিন কাটাতে হয়? কেনই-বা লোকের কাছে ক*রুণার পাত্রী হতে হয়? শাহানা কিংবা শবনম, যার কথাই বলি না কেন, এই দুটো চরিত্র গল্পের অন্যতম আকর্ষণ। শবনম চরিত্র তো গল্পের প্রাণ। কিন্তু নিয়তির কাছে হে*রে গিয়ে এই দুটো চরিত্র, জীবনে যতসব ক*টুক্তি, নি*ন্দেম*ন্দ ও লোকের নোং*রা কথা শোনেছে, এসবের দ্বারা এই সমাজেরই কোনো না কোনো ডি*ভোর্সি মেয়ের জীবনের গল্প শুনিয়েছে। এখনও এই সমাজের আনাচে-কানাচে এমন অসংখ্য শাহানা ও শবনমের দেখা পাওয়া যাবে, যারা কি-না নিজের ভালোমানুষী আচরণের জন্য বার বার ঠ*কে যায়। শাহানা, শবনম, তিতাস, চৈতী ও নাজমুলসহ অন্যান্য সব চরিত্রকে জানতে, একটা স্বচ্ছ সুন্দর ভালোবাসাময় গল্প পড়তে, এক যুবকের অত্যাধিক ধৈর্যের গল্প জানতে এবং সমাজের কিছু চিরচেনা দৃশ্যকে উপলব্ধি করতে হলে অবশ্যই আপনাকে পড়তে হবে, 'আফিফা পারভীন' আপুর 'শ্বেত পাথরের মালা' উপন্যাসটি। ⚫ প্রিয় চরিত্র - আজমাইন ফায়েক তিতাস। গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে ধৈর্য্য ও মনের জোরের প্রকাশ ঘটিয়ে গেছে, তা তো তুলনাহীন। ভালোবাসা প্রকাশের চেয়ে অপ্রকাশ্যে ভালোবাসা সুন্দর ও শান্তির হয়। প্রকাশের পর যদি প্রত্যা*খ্যানই হয় নিয়তি, তাহলে তো এই ভালোবাসা গোপনেই বাঁচিয়ে রাখা ভালো। কাউকে ঠিক কতটা ভালোবাসলে দ্বিতীয়বার আর কাউকে ভালোবাসতে ইচ্ছে হয় না, এই এক তিতাস চরিত্রই সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে। তার একপাক্ষিক ভালোবাসায় কতখানি জোর ছিল, তার চাওয়া কতখানি বিশুদ্ধ ছিল, সেটা এই চরিত্রটাকে পড়লেই উপলব্ধি করা যায়। তিতাসের ভালোবাসা ও ভালোবাসার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান দেখে প্রতি পাতায় মুগ্ধ হয়েছি। এই একটা চরিত্র, যার জন্য আমার হাঁসফাঁস লাগছিল। ওর কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কাউকে ভালোবাসলে তো এভাবেই ভালোবাসা উচিত। ⚫ অপ্রিয় চরিত্র - এখানে সবার আগে নাজমুলের নামটাই উঠে আসে। মানুষ কতটা জঘন্য হতে পারে, এই একটা চরিত্রকে পড়তে গিয়েই টের পেয়েছি। একটা মানুষ কত অভিনয় যে করতে জানে, কীভাবে ভালোবাসার মানুষের সাথে প্র*তার*ণা করতে জানে, সেটারই জলজ্যান্ত একটা দৃষ্টান্ত এই নাজমুল। সামনে সাধু*বাবা আর আড়ালে ভ*ণ্ড। ⚫ পছন্দের উক্তি - * "আমার অপরাধ কী? আমার ভালোবাসা, চাওয়া ও চেষ্টাতে কোথায় কমতি ছিল?" * "মানুষ এক জীবনে কতবার ম*রে, শবনম? যতবার তুমি আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, ততবারই আমার মন ভে*ঙেছে। আর মন ভা*ঙার যন্ত্রণা মৃ*ত্যু যন্ত্রণার সমান।" ⚫ বই সম্পর্কে অন্যান্য সব তথ্য - বই - শ্বেত পাথরের মালা লেখক - আফিফা পারভীন প্রকাশনী - ছাপাখানা প্রচ্ছদশিল্পী - ফাইজা ইসলাম ***"

880****386

880****386 , Mar 13, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#রিভিউ #বই: শ্বেত পাথরের মালা #লেখক:আফিফা পারভীন #ধরন: সামাজিক ও রোমান্টিক #প্রকাশনী : ছাপাখানা প্রকাশনী #প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম #পাঠ প্রতিক্রিয়া আফিফা পারভীন আপুর লেখা প্রতিটি বইই এক একটা মাষ্টারপিছ। আপুর লেখা তেমনিই একটি বই "শ্বেত পাথরের মালা "। এই বইটি মূলত সামাজিক ও রোমান্টিক জনরার সংমিশ্রণে তৈরি অসাধারণ একটি বই। বইটিতে মূলত আমাদের আশেপাশের পরিবেশের বাস্তবিক রুপটিই তিতাস, শবনম, শাহানা,নাজমুল,চৈতি, রফিক ইত্যাদি চরিত্রের মাধ্যমে লেখক খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার চমৎকার লেখনীর জাদুতে।তিতাস ও শবনমের বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে তাদের জীবনের সপ্নগুলোকে পূরণ করার প্রতিটি দিক তুলে ধরা হয়েছে। তিতাস যেমন ছোটবেলা থেকেই নিজের আবেগ অনুভূতি লুকিয়ে ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছে অন্যদিকে শবনম ছিলো ভিষণ ছটফটে ও চঞ্চল প্রকৃতির। এই বইয়ের প্রতিটি চরিত্রই আমাদের জন্য অনেক শিক্ষনীয় বিষয় হিসেবে গড়ে তুলেছে লেখিকা যেগুলো জীবনে চলার পথে অনেক বেশি কাজে দিবে।লেখিকা এই বইটির মাধ্যমে আমাদের সমাজের চরম বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে শিখিয়েছেন। জীবনে চলার পথে যেকোনো পরিস্থিতিতে কিভাবে নিজের র্ধৈয্য ও মনোবল ঠিক রেখে সঠিক লক্ষ্যে পৌছানো যায় তা আমরা তিতাদের মাধ্যমে লেখকের থেকে মেসেজ হিসেবে পেয়েছি। সবশেষে বলতে চাই নিজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে শেষ পযর্ন্ত জিতে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। তাই জীবনের সব পরিস্থিতিতে ধৈর্য্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে শেষ পর্যন্ত।"

880****578

880****578 , Mar 13, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#শ্বেত_পাথরের_মালা বই: শ্বেত পাথরের মালা লেখক: আফিফা পারভীন জনরা: সামাজিক, রোমান্টিক প্রকাশনী: ছাপাখানা প্রকাশনী প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৯ পাঠ প্রতিক্রিয়া: আফিফা পারভীন আপুর লেখা 'শ্বেত পাথরের মালা' বইটি পড়েছি অনেক আগেই কয়েকবার পড়েছি। আবারো এক বসাই পড়ে শেষ করলাম। লেখক আফিফা পারভীনের লেখা বরাবরই পছন্দ আমার। সবগুলো বইয়ের মতো এই বইটাও ভীষণ চমৎকার। তৃপ্তিময় একটা বই। সব চরিত্রকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইয়ের প্রধান দুইজন চরিত্রের শৈশব, কৈশোরের নিখুঁত বর্ননা সাথে লিখেছেন। লেখিকা বইতে ফুটিয়ে তুলেছে আমাদের আশে পাশে সমাজের বিভিন্ন অজানা চিত্র , প্রকৃতির সৌন্দর্যের মুগ্ধকর বর্ননা , বন্ধুত্বের দারুণ মূহুর্ত, পারিবারিক দুঃসময় এবং সন্তানের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য খারাপ পরিণতি। বইটা পড়ার সময় বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি পেয়েছি। ভালো লাগার একটি বই। আমাদের বাস্তব সমাজের অনেককিছুই বইতে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইয়ের সবচেয়ে যে দিকটা পছন্দ হয়েছে সেটা হলো তিতাসের ছোট থেকে ধৈর্য্য ধরার গুণটা। ঠিকি তো ধৈর্য্যের ফল মিষ্টি হয় সেটা বই পড়ে আবারো প্রমাণ ফেলাম। আমার অনেক অনেক পছন্দের চরিত্র তিতাস। প্রতিটা চরিত্রকে সুন্দর করে সাজিয়েছেন। কিছু চরিত্রের মধ্যে ভালোবাসা, সাহসীকতা, বুদ্ধিমত্তা, দারুণ ব্যক্তিত্ব, মেধাবী, এবং উদারতার প্রকাশ পেয়েছে। পড়ার সময় একদম চরিত্রদের মাঝে ডুবে ছিলাম। আবার কিছু চরিত্রের প্রতি এতো রাগ লেগেছে আমার তাদের অহংকারী মনোভাব, বিশ্বাসঘাতকতা দেখে। কিছু চরিত্র পাঠককে এতো মুগ্ধ করবে যে তাদের প্রেমে পড়ে যাবে। তিতাস, শবনম, চৈতী, শাহানা, নাজমুল, রাত্রি, রাশেদ প্রতিটি চরিত্র মনে দাগ কাটবেই। এই চমৎকার বইটি পড়ে পাঠক নিরাশ হবেন না।"

HuRi Jihan

HuRi Jihan , Mar 13, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বই_পর্যালোচনা "জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারো জন্য থেমে থাকে না, তেমনি জীবনও থেমে থাকে না। সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্তব্যের দিকে। অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায়।" ~ আফিফা পারভীন। 'শ্বেত পাথরের মালা' বইটার কাহিনী সংক্ষেপের এই কয়েকটা লাইন পড়েই বইটা কিনেছিলাম। কথা গুলোর মর্মার্থ যে এত গভীর ছিলো সেটা প্রথমে আন্দাজ করতে না পারলেও বই পড়ার পর বুঝতে পেরেছি। বই পড়ার সময়ে আমার মধ্যে একেবারে, একেক রকম অনুভূতি তৈরি হয়েছে। প্রথম দিকে দুই কিশোর, কিশোরী স্নিগ্ধ বন্ধুত্বের বর্ননায় মুগ্ধ হচ্ছিলাম, সেই সাথে শাহানা নামের দুর্বল হৃদয়ের মেয়েটির কার্যকলাপ দেখে আশঙ্কা করছিলাম বিরাট একটা ঝড়ের। হলোও তাই। গল্পের মূল কাহিনী বোধহয় এইখান থেকেই শুরু। সময়ের স্রোতে পাল্টে গেলো কিছু মানুষের জীবন, তাও সামান্য একটা ভুলে। সেই মুহূর্তে আমার মাথায় একটা কথাই এসেছে, বাবা, মায়ের সিদ্ধান্ত হবে চিরধার্য! এর বাহিরে যাওয়া মানেই জীবনের তাল হারিয়ে ফেলা। কিন্ত হায়! মনে হলো সেই ধারণায় বালি নিক্ষেপ করলো কেউ। বাবা, মায়ের সিদ্ধান্ত বেছে নিলেও জীবনে ঝড় আসে। তাহলে উপায়? আফিফা পারভীন আপু সুন্দর করে বুঝিয়ে দিলেন, সময় ও ভাগ্যের ফেরে যেমন বিপর্যয় আসে তেমনি আসে সমৃদ্ধি। 'শ্বেত পাথরের মালা' বইটিতে আমার প্রিয় চরিত্র তিতাস! ভালোবাসার প্রতি তার অসীম ধৈর্য্য বারবার মুগ্ধ করেছে আমাকে। বিশেষ করে ভালোবাসার মানুষের জন্য তার আত্মত্যাগ, ভাবতে বাধ্য করেছে, নাজমুল, রফিকের মতো কাপুরুষ যেমন আছে পৃথিবীতে তেমনি আছে তিতাসের মতো আদর্শ পুরুষ। তিতাসের বলা একটা উক্তি আমার ভীষণ পছন্দের, '' জীবন তোমাকে যতবার আমার সামনে নিয়ে আসবে, আমি ততবারই তোমাকে পাওয়ার সাধনা করবো। " এছাড়াও বইয়ে আরেকটা চরিত্র আছে, চৈতী।পুরোটা বইয়ে তার অস্তিত্ব অতি সামান্য কিন্ত এই মানুষটিকে ভুলে যাওয়া কঠিন। বন্ধুত্বের অন্যতম নিদর্শন, সবাইকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য। লেখিকা আফিফা পারভীন আপু, দক্ষতা দিয়ে বাস্তবের সাথে নিজস্ব কল্পনা মিশিয়ে বইটিকে পরিপূর্ণ করেছে। বইটা পড়ার পর তৃপ্তি পেয়েছি। এমন নয় ''শ্বেত পাথরের মালা' বইটা থ্রিলার টাইপ তবুও কোনো একটা প্রবল আগ্রহ বইয়ের প্রতিটি পাতা পড়ার জন্য তাড়িত করছিলো। অনেক ম্যাসেজ ও রয়েছে কিছু পাতায়। অন্ততপক্ষে, গোছানো প্লট, পরিচ্ছন্ন লিখনশৈলি, অশ্লীলবিহীন বই হিসেবে 'শ্বেত পাথরের মালা' বইটি পড়ার জন্য সাজেস্ট করবো।"

Lucky Akter

Lucky Akter , Mar 12, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#বই_শ্বেত_পাথরের_মালা। #লেখক_আফিফা_পারভীন। #প্রকাশনীঃ ছাপাখানা। #প্রচ্ছদ শিল্পীঃ ফাইজা ইসলাম। #মুদ্রিত মূল‍‍্যঃ 425 টাকা। #পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ লেখিকা আফিফা পারভিন আপুর লেখা "শ্বেত পাথরের মালা" বইটির যদি কেউ এক নামে নাম দিতে বলে, তাহলে নিঃসন্দেহে বলবো বইটি একটি বাস্তবতা সম্পন্ন বই ।লেখিকা আপু সম্পূর্ণ বইটিতে যেন এ সমাজের বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটিতে রয়েছে, সমাজের কিছু কালো আধারের দিক। উপন্যাসটিতে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, সবসময় বাবা-মায়ের সকল সিদ্ধান্তই সঠিক হয় না। ভুল তাদের দিয়ে ও হতে পারে। মানুষ মাত্রই ভুল। বইটিতে আরও রয়েছে সমাজিক জীবন, ছাত্র রাজনীতি, ক্যারিয়ার, অমর বন্ধুত্ব, ইত্যাদি এবং রয়েছে ধৈর্যের এক শুদ্ধতম ভালোবাসার উদাহরণ যা পাঠকদেরকে প্রভাবিত করেছে, বিশেষ করে আমাকে। যারা চিন্তা-ভাবনা না করেই কাজ করে ফেলে তাদের পরিনতি স্পষ্ট এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে এবং ভাগ্যের এই চরম পরিনতি থেকে পরিবারের সাপোর্টে কিভাবে ঘুরে দাড়ানো যায় তা ও উল্লেখিত রয়েছে এই উপন্যাসে। এই উপন্যাসের বিশেষ দিক হলো হেরে গিয়েও জিতে যাবার সুখ। এবং একটা মানুষ জীবনে এক জায়গায় বারবার হেরে গিয়েও শেষ পর্যন্ত তার ধৈর্য এবং শুদ্ধতম ভালোবাসার জোরে জিতে যায়। যা হলো এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ। আমি উপন্যাসটি পড়ে বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছি। আর নতুন অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। যা থেকে জ্ঞান অর্জন করে নিজের মনোবলকে আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করেছি যেন, জীবনের যে কোনো পরিস্থতিতে ধৈর্য্য ধারন করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি। ভাগ্য আমার সাথে বার বার খেললেও শেষ পর্যন্ত আমার চেষ্টায় কোনো কমতি না থাকার কারনে জয় যেন আমারই হয়।বইয়ের মাধ্যমে বাস্তবতার সাথে যোগাযোগের এক অনন্য মাধ্যম " শ্বেত পাথরের মালা "।"

sif****com

sif****com , Mar 10, 2024

★ ★ ★ ★ ★

"#শ্বেত_পাথরের_মালা এক নজরেঃ • উপন্যাসের নামঃ শ্বেত পাথরের মালা • লেখকঃ আফিফা পারভীন • ধরনঃ সামাজিক, রোমান্টিক • প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রকাশনী • প্রচ্ছদঃ ফাইজা ইসলাম • মুদ্রিত মূল্যঃ ৪২৫ • পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯৯ • প্রকাশকালঃ নভেম্বর ২০২২ ✨পাঠ অনুভূতি: পাঠ প্রতিক্রিয়া : আফিফা পারভীন আপুর লেখা "শ্বেত পাথরের মালা" বইটি পড়েছি অনেক আগেই। আপুর সবগুলো বইয়ের মতো এই বইটাও আমার ভীষণ পছন্দের একটা বই। এই বইটা আমার মতে একটা আস্ত আবেগের সংমিশ্রণ বলা যায় !! যেখানে ফুটে উঠেছে ক্রমান্বয়ে দুইজন কিশোর-কিশোরীর ধাপে ধাপে পার করা শৈশব কৈশোরের নিখুঁত বর্ননা সাথে শৈশবের বন্ধুত্বের বন্ধন । এই বইতে শুধু কিশোর-কিশোরীর বেড়ে উঠার চিত্র তুলে ধরা হয়নি, বরং লেখিকা একাধারে ফুটিয়ে তুলেছে সমাজের বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত অজানা চিত্র , মানুষের বৈচিত্র্যময় চরিত্র , প্রকৃতির সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর বর্ননা , একসাথে বন্ধুত্বের পথচলা এবং পারিবারিক দুঃসময় , সাথে সন্তানের ভুল সিদ্ধান্তের ভয়াবহ পরিণতি । একটা বইতেই বিভিন্ন রকম মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে । ✨উপন্যাসের একেকটা চরিত্রের মধ্যে ফু়টে উঠেছে একেক রূপ। কিছু চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে মানবিকতা , ভালোবাসা, সাহসীকতা , বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমান ব্যক্তিত্ব , মেধাবী , নম্রতা-ভদ্রতা, উদারতা !! আবার কিছু চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে অহংকারী মনোভাব, হিংস্রতা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং অত্যাচারী মনোভাব। একেকটা চরিত্র পাঠককে একেক রকম অনুভূতির জোয়ারে ভাসাবে । কিছু চরিত্র মনের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করবে আবার একই সাথে কিছু চরিত্রের আচরণে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হবে । কিছু চরিত্রের নিস্বার্থ ভালোবাসার দৃশ্য, প্রিয় মানুষকে নিজের করে পাওয়ার আকুলতা পাঠক মনকে আবেগে আপ্লুত করবে। ✨ তিতাস , শবনম, শাহানা, চৈতী, নাজমুল, রাত্রি, রাশেদ প্রত্যেকটি চরিত্র ভিন্ন কারনে মনে দাগ কেটে যাবে তাদের আচরণে । কিছু চরিত্রের কথা ভাবলে ভালোলাগা কাজ করবে আবার কিছু চরিত্রের উপর প্রকাশ পাবে তীব্র ঘৃণা । এই সামাজিক সুন্দর উপন্যাসটি সব মিলিয়ে পাঠকদের ভালো লাগবে আশা করি।"

Sakib

Sakib , Feb 5, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"#শ্বেত_পাথরের_মালা #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ শ্বেত পাথরের মালা •লেখকঃ আফিফা পারভীন •ধরনঃ সামাজিক, রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ ফাইজা ইসলাম •মুদ্রিত মূল্যঃ ৪২৫ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৯৯ •প্রকাশকালঃ নভেম্বর ২০২২ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ মাঝে মাঝে পৃথিবীতে অদ্ভুত নীরবতা চলে আসে । যখন পৃথিবী জুড়ে থাকা প্রকৃতির মায়ায় নিস্তব্ধ হয়ে বসে থাকতে হয় । কখনোবা হেঁটে বেড়িয়ে যেতে হয় । যে হেঁটে চলার গতিতে কখনো খেয়াল থাকে না । কখনো মনে পড়ে না । এই মুহূর্তগুলো শীতের দিনে বেশি করে মনে পড়ে । শীতের শিশিরভেজা রাতগুলো খালি পায়ে ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে বেশ লাগে । মাঝে মাঝে মনে হয়, পা ভেজা এই মুহূর্তগুলো বৃষ্টিতে ভেজার মতো সৌন্দর্য নিয়ে আসে । তখন পৃথিবীতে বসত করা এই মনকে আমার বলতে ইচ্ছে করে, হায়রে পৃথিবীজুড়ে প্রকৃতিতে এত মায়া কেনো! দেখার আগে অনুভব করতে করতেই ভেসে যেতে ইচ্ছে করে খুব । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ একটা সময় পরে কয়েকদিন পরপর উপন্যাস না পড়লে, নতুন চরিত্র কিংবা তাদের জীবন মনে ধারণ না করতে পারলে মনের ভিতরটা হাঁসফাঁস লাগতে থাকে আমার । আর পৃথিবীতে মনটাই যে সবকিছুর উর্ধ্বে, তা উপলব্ধি করতে কষ্ট হয় না আমার । তাই উপন্যাস পড়ার জন্য এবার এতদিন লেগে যাওয়ায় ভীষণ অদ্ভুত লাগছিল । আজকে হঠাৎই মনে হলো একটা উপন্যাস পড়বো । সেটা ‘শ্বেত পাথরের মালা’ হবে মনস্থির করেছিলাম তারও ঠিক পাঁচ মিনিট পরে । যাহোক ঠিক রাত ১২টা ৩০ মিনিটে উপন্যাসটি পড়তে শুরু করেছিলাম আর যখন পড়া শেষ হলো তখন সময়টা রাত ৪টা ৫০ মিনিট । ♦নামকরণঃ মাঝে মাঝে মনে হয়, ভালোবাসা বিষয়টাই অদ্ভুত । কেমন যেন হঠাৎ করে মনে হলো ক্ষুদ্র একটা পরশ ছড়িয়ে দিয়ে গেল মনের অঙ্গরাজ্যে, প্রতিটি কোণে কোণে । সেরকমই ভালোবাসার বিভিন্ন পরশ হিসেবে তার উপমায় ব্যবহৃত হয় কত প্রতীকী । কত রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয় ভালোবাসার আবেগ, মায়া, ত্যাগ এবং সবথেকে বেশি অপেক্ষা । এমনই এক উপমায় ভেসে আসে শ্বেত পাথরের মালা । যে মালা জুড়ে যতটা জুড়ে আছে বস্তু । তার থেকেও জুড়ে আছে ভালোবাসার জন্য অপেক্ষা । এই অপেক্ষা কিছু হয়তো পাওয়ার অপেক্ষা, হয়তো মালা হয়ে পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষা । দিনশেষে বোধহয় অপেক্ষাই জিতে যায় । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ জীবন নদীর মতোই গতিময় । নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না । সময় বয়ে যায়, জীবন এগিয়ে চলে তার চক্র পূরণ করে মৃত্যু নামক গন্তব্যের দিকে । অনিশ্চিত পৃথিবীতে তবুও মানুষ মায়ার সংসার সাজায়, ভালোবাসে, ভালোবাসায় । ♦প্রচ্ছদঃ এই প্রচ্ছদটা এত্ত সুন্দর কেনো! আমি যতবার বই হিসেবে দেখেছি ততবার মুগ্ধতা নিয়ে তাকিয়েছি । আমার চোখজুড়ে যে প্রচ্ছদে আমি মায়া খুঁজে পাই, তাই আমার চোখে এসে শান্তি দেয়, শান্তিতে প্রগাঢ় স্নিগ্ধতা থাকে । এই শ্বেত পাথরের মালা এর সাথে আনুষঙ্গিক নীল সমুদ্র মনে বেশ শান্তি ধারণ করায় । প্রচ্ছদটা বেশ পছন্দনীয় আমার কাছে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ হঠাৎ কি হলো কে জানে, চরিত্র বিশ্লেষণ করতে ইচ্ছে করছে না । মাঝে মাঝে এরকম হয় আমার । মাঝে মাঝে মনে হয় চরিত্র বিশ্লেষণ করার জন্য যতটা অনুভব, ততটা উপলব্ধি আমাকে ভাবতে বাধ্য করে না কেনো জানি । যাহোক এই উপন্যাসে বেশ অনেকগুলো চরিত্র আছে, যারা পটভূমি অনুসারে বেশ সুন্দর ভাবে চলে আসে । চঞ্চল স্বভাবের আহ্লাদে হাসির শবনম এর মন জুড়ে দুষ্ট স্বভাবের পাশাপাশি, শান্ত, চুপচাপ, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া স্বভাবের তিতাস বেশ ভারসাম্য আনে । পরিস্থিতি হিসেব করেও সহজেই ভুল করে ফেলা সোজা সরল, সাদাসিধে স্বভাবের শাহানা উপন্যাসে নরম এবং কোমল দিক তুলে ধরে । তাছাড়া নাজমুল চরিত্র এর আগ্রাসী মনোভাব কিংবা মানুষকে কথার মাধ্যমেই দোষগুণের বিষয়াদিও চিত্রপট থেকে সরিয়ে ফেলার দৃশ্যও উপন্যাসে বেশ আসে । তাছাড়া রাত্রি এবং চৈতীর মতো অসাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ দুইটি চরিত্র উপন্যাসে বেশ জড়িয়ে যায় । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসের মূল পটভূমি বেশ সোজা । মূলত বলা যায়, যে প্রেক্ষাপট জুড়ে উপন্যাসে পটভূমি জুড়ে বসে তা বেশ নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে ঘটে যাওয়া একেকটি ক্ষণ । তবে এই ক্ষণগুলোই উপন্যাসে তার শব্দপ্রয়োগ এর মাধ্যমে ছড়িয়ে যায় তা দেখার ছিল । তা বেশ ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । তবে উপন্যাসে কিছু কিছু দৃশ্যে আমি আবহ তেমনভাবে খুঁজে পাইনি । এক্ষেত্রে অবশ্য দৃশ্যপট পরিস্থিতির থেকে একটু তাড়াতাড়িই বারবার পাল্টে যাওয়ার কারণে সৃষ্টি হয়েছে । যে কারণে ঘন ঘন দৃশ্যপট পাল্টে যাওয়ার কারণে উপন্যাসে বিভিন্ন মোড় এসেছে বারবার, কিন্তু তা বুঝানোর জন্য কখনও কখনও আবহ সৃষ্টি করার জন্য যথাযথ ক্ষণ কখনও একটু কম ছিল । যাহোক তবুও উপন্যাসে প্রকৃতির বর্ণনা মনে বেশ আলোড়ন দিয়েছে । সেই সময়ের জীবনধারা পটভূমিতে মোহনীয় ভাব এনেছে । ক্যাডেট কলেজের জীবনধারণ, চিরাচরিত অভ্যাস তৈরি করার পরিস্থিতি উপন্যাসে নতুন ভাবে প্রেক্ষাপট এনেছে । √উপন্যাসের চরিত্র গঠন এবং পরিস্থিতি যথাযথই ছিল । তবে কিছু কিছু কাহিনীর মোড়ে আমার মনে হয়েছে চরিত্র গঠন করার জন্য যে সময় তা তৈরি করার জন্য পূর্ব পরিস্থিতি বা যে আবহ তা আরেকটু দেয়া যেতে পারতো । এবং চরিত্র উপস্থিতি হওয়ার পরেও তাদের উপস্থিতির পরের মুহূর্তগুলো বিচরণ করতে পারতো পুরোটা জুড়ে । সেদিকটা ছাড়া চরিত্র গঠন এবং তাদের উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসের সবথেকে প্রিয় অংশ যদি বলতে হয়, তাহলে অবশ্যই লিখতে হবে উপন্যাসের শেষের দিকের কিছু অংশ । শেষের দিকের কিছু জলছাপ উপন্যাসকে সম্পূর্ণ অন্যরকম মোড় দিয়েছে । সেই মোড়ে থাকার জন্য যে শব্দপ্রয়োগ তা বেশ অসাধারণ ছিল । তাছাড়া উপন্যাসে প্রকৃতির বর্ণনা কিংবা তার সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য যে পরিস্থিতি তা বেশ মায়া বাড়িয়ে দেয়ার মতো ছিল । তাছাড়া ভালোবাসা, অপেক্ষা, মায়া কিংবা বন্ধুত্ব উপন্যাসে নতুন রকমের অনুভূতি দিতে সাহায্য করে । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে ছাপাখানা প্রকাশনী এর বই আমার অনেকগুলো পড়া হয়ে গেল । তাদের বই বাঁধাই সবসময়ই প্রশংসনীয় । তাদের এই দিকটা বেশ সুন্দর ভাবে সাজানো হয় । তাছাড়া পৃষ্ঠা বাইন্ডিং কিংবা পৃষ্ঠা সাজানো বেশ সুন্দর ছিল । উপন্যাসে যেভাবে প্রচ্ছদটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে তাও বেশ ভালো ছিল । তাছাড়া টাইপিং মিস্টেক তেমন একটা চোখে পড়েনি আমার । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক আফিফা পারভীন এর বইয়ের সংখ্যা ছয়টি । ‘শ্বেত পাথরের মালা’ তার পঞ্চম বই । সে হিসেবে এটি আমার পঞ্চম হিসেবেই পড়া হলো । তার লেখার সবথেকে যেটি সেরা গুণ, তা হলো শব্দপ্রয়োগ । বেশ অন্যরকম ভাবে একটু কাব্যিক আবেশে তার ফুটিয়ে তোলা বাক্যালাপ উপন্যাসে বেশ সৌন্দর্য আনে । তাছাড়া উপন্যাসে ছোট ছোট মুহূর্ত কিংবা পরিস্থিতি বেশ ভালো করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন যা, পটভূমিতে বেশ ভালো ভাবে চলে আসে । আমার সংগ্রহে থাকা তার আরো একটি বই আছে, যা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম । ♦রেটিংঃ ৪.৫/৫ ♦উপসংহারঃ মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি আমার যে রাতজুড়ে ঘুমকে সরিয়ে দিয়ে উপন্যাস পড়তে বসি, সেই রাতগুলো একত্রে যদি বসে বসে হিসেব করতে বসতো তাহলে তার কোনো ইয়ত্তা থাকতো না । কিন্তু তবুও এই রাত জুড়ে থাকা পড়ার মায়া আমাকে ছাড়াতে চায় না । এই যে উপন্যাস শেষ হলো, হয়তো আমি জানালা দিয়েই শীতের আবেশে ভেসে যেতে থাকা প্রকৃতি দেখতে দেখতেই সকালের অপেক্ষা করে ফেলবো । এই অপেক্ষা ভীষণ অদ্ভুত, কেমন একটা আবেশ করা মাতাল অনুভূতি নিয়ে আসে । যার জন্য মনে বোধহয় টুংটাং শব্দে সময়ের অ্যালার্ম বাজতে থাকে । ভালোবাসার অপেক্ষা তো বোধহয় আরো কঠিন ‌। এই অপেক্ষার মায়া যখন রূপক অর্থে কোনো বস্তুতে ছড়িয়ে পরিণত হতে চায় তখন তা আরো মায়া নিয়ে আসে । শ্বেত পাথরের মালা এর এই ভালোবাসার অপেক্ষা কিংবা ভালোবাসার আদতে মালার পরিণত হওয়ার পূর্ণতা আদতে অপেক্ষারই অবসান ঘটায় ।"

Tahira Tanjum Shuma

Tahira Tanjum Shuma , Dec 2, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"রিভিউ #শ্বেত_পাথরের_মালা লেখিকা: আফিফা পারভীন প্রকাশনী: ছাপাখানা প্রকাশনী প্রচ্ছদ: ফাইজা ইসলাম মুদ্রিত মূল্য: ৪২৫ টাকা প্রচ্ছদ: একটি বইয়ের সর্বপ্রথম যে বিষয়টি প্রয়োজন তা হলো প্রচ্ছদ। ফ্লাপের লেখা থেকে পেয়েছি "জীবন নদীর মতোই গতিময়। নদীর স্রোত যেমন কারও জন্য থেমে থাকে না, তেমনই জীবনও থেমে থাকে না।" প্রচ্ছদের দিলে ভালোভাবে তাকালেই আমরা দেখতে পাই হালকা নীল রঙা নদীর পানি সাগরে গিয়ে মিলে হয়েছে গভীর নীল। সমুদ্র বালুকায় যত্নে পড়ে রয়েছে একটি "শ্বেত পাথরের মালা" ও গল্পের নায়িকার পছন্দের কিছু শিউলিফুল। বইটির গল্পের সাথে প্রচ্ছদের পারফেক্ট ম্যাচ বুঝি একেই বলে। কাহিনী সারসংক্ষেপ: নিজের নামের প্রতি এক আকাশ অভিযোগ নিয়ে গম্ভীরমুখো বাবার সামনে উপস্থিত হওয়া কিশোরীটির নাম শবনম। যে তার নামের মতোই স্বচ্ছ, ভোরের কুয়াশার মতো স্নিগ্ধ। পনি ঘোড়ার মতো চুলের ঝুঁটি দুলিয়ে রাশভারী বাবাকে করা প্রশ্নের উত্তরে বাবা বুঝিয়ে দিলেন গুরুজনের প্রতি সম্মান ও জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ম/ন্ত্র। কিশোরী মনে ছাপ ফেলে দিল বাবার রাশভারী কণ্ঠে উচ্চারিত ভবিষ্যৎ জীবনের ভাবনা এবং সে অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করার প্রতিশ্রুতি। বাবা-মা'র স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন বানিয়ে সেই স্বপ্নকে সাথে নিয়েই এই কিশোরীর পথ চলা, সঙ্গী হলো সমবয়সী প্রতিবেশী বন্ধু তিতাস নামক এক অদৃশ্য গার্ডিয়ান। যে নিজ দায়িত্বে নিয়েছিল সেই কিশোরীকে ভালো রাখার প্রতিজ্ঞা। জীবনে তাদের এই চলার পথে সাক্ষী হলো মায়াবন, সাক্ষী হলো শিউলিতলা, সাক্ষী হলো কোচিং, সাক্ষী হলো রাশেদ, রাত্রিসহ বেশ কয়েকজন বন্ধু। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেল সম্পর্কের সমীকরণ, খুব যত্নে, সবার অলক্ষ্যে, কাঙ্ক্ষিত মানুষের দৃষ্টির অগোচরে। কিন্তু সমবয়সী এই সম্পর্কে পরিনতি শুধু অকল্পনীয়ই নয় অসম্ভবও বটে। এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে বদলে গেল জীবনের স্বপ্ন, এগিয়ে গেল জীবনের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, একান্ত গন্তব্য পৌঁছানোর চেষ্টায় এক অমোঘ মায়ায়, যেখানে শত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাতছানি দিয়ে ডাকে শবনম নামক মায়া, শববন নামক ছায়া, যত্নে আঁকা হয় পোট্রেট, ভালোবাসায় নকশা করা হয় নীল আসমানী সুতায় বুননের উপর শিউলি ফুল। এরপর? এরপর কী হয়েছিল? এরপর এসেছিল জীবনের পাওয়া না পাওয়ার অধ্যায়, ধৈর্যেরও পরীক্ষা, নতুন মানুষের আগমণ, রঙিন অনুভূতির মেলা, ভালোবাসার রঙ বরঙের খেলা। এই খেলায় কে জয়ী আর কে পরাজয়ী তা জানতে হলে পড়তে হবে আপনাকে এই চমৎকার উপন্যাসটি। পাঠ প্রতিক্রিয়া: "শ্বেত পাথরের মালা" আফিফা পারভীন আপুর পঞ্চম বই যা ছাপাখানা প্রকাশনী থেকে প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রচ্ছদ করেছেন ফাইজা ইসলাম। বইটি যত পড়ছিলাম লেখিকার লেখার গভীরতায় তত হারিয়ে যাচ্ছিলাম। লেখার গভীরতা, বাক্যচয়ন, উপমা, শব্দের ছন্দে একেকটা লাইনের গাঁথুনিতে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম। হারিয়ে যাচ্ছিলাম কিশোর তিতাস ও শবনবের স্বপ্নে, অস্থির হয়ে পড়ছিলাম শাহানা ও নাজমুলের সম্পর্কে। নাজমুলের দাপটে যখন অতি/ষ্ঠ তখন শুধু মনেপ্রাণে তিতাসের দেখা পাওয়ার জন্য চাতকের মতো অপেক্ষা করছিলাম। কখন সে আসবে আর এই য/ন্ত্র/ণা থেকে একটু মুক্তি মিলবে। অবশেষে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে তিতাসের আগমন মনে শান্তির পরশ বয়ে আনে। বইটা পড়ছিলাম আর ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন অনুভুতির সাথে পরিচিত হচ্ছিলাম। বন্ধুত্ব, ওয়াদা পালন, স্বপ্ন, ধৈর্য, ভালোবাসা, নাটকীয়তা, বিশ্বাস/ঘাত/কতা, ভালো ও মন্দ মানুষের রূপ। কিছু মানুষ আছে সময়ের সাথে পালটে যায় আর কিছু মানুষ আছে সর্বাবস্থায় প্রিয় মানুষগুলোকে আগলে রাখে। আর লেখিকা আপুর লেখার একটা দিক হলো তার প্রতিটি বই প্রতিটি লেখা একে অপরের থেকে ভিন্ন এবং সম্পূর্ণ আলাদা। প্লট তো ভিন্নই লেখার ধরণও ভিন্ন। আর বইটি পড়ে আমার মনে হয়েছে "অল ইন ওয়ান" পড়া হলো। চরিত্র বিশ্লেষণ: ***তিতাস! ক্যাপ্টেন আজমাইন ফায়েক তিতাস। ধৈর্যের এক প্রতিমূর্তি, সফলতার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। নিজের চাওয়ার প্রতি যেমন আত্মবিশ্বাস তেমনি তা পাওয়ার প্রতি ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী। একজন দায়িত্বশীল ছেলে, ভাই, বন্ধু ও প্রেমিক। তবুও সব পাওয়ার পরও সব অর্জনের পরও কেমন একটা শূন্যতা ঘিরে ছিল পুরো উপন্যাস জুড়েই। তবে "সবুরে মেওয়া ফলে" কথাটা এই উপন্যাসে দারুণ প্রযোজ্য। শবনম: কিশোর বয়সে কিংবা মানসিক বিকাশের সময় পারিবারিক, পারষ্পরিক সকল ঘটনাই মন ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। শবনমের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তাই শবনমের প্রতি অভিমান হলেও সময়ের সাথে বুঝেছি সে তার জায়গায় সম্পূর্ণ ঠিক। কিশোর বয়সের আবেগে ভেসে যাওয়ার থেকে বাবা মায়ের বাধ্য সন্তান ও তাদের স্বপ্ন পূরণে বেশি মনযোগী হওয়া উচিত। তবে ভাগ্যে যদি বিড়ম্বনা থাকে তাহলে তা আর ঠেকায় কে? তাই এই চরিত্রটির জন্য একই সাথে অভিমান ও সহানুভূতি কাজ করে। এছাড়া এই পৃথিবীতে নিজের চাওয়া পাওয়ার থেকে অন্যের চাওয়া পাওয়ার বেশি গুরুত্বই বা কে দিয়েছে যে শবনম দেবে। চৈতী সিনহা: আহারে দূর্ভাগা! মেয়েটা ছিল একজন সত্যিকারের বন্ধু, একজন গার্ডিয়ান এঞ্জেল। কিন্তু রঙিন এই পৃথিবীতে এমন গার্ডিয়ান এঞ্জেল সব সময় সবার পাশে থাকে না। উপন্যাসে খুব অল্প সময়ের জন্য উপস্থিত হলেও স্থান করে নিয়েছে ভালোলাগা ও সম্মানের অনেকটুকু জায়গা। ভালো থাকুক সকল চৈতী সিনহা। শাহানা: সম্পর্কে শবনমের বড় বোন। লাউ ফুলের মতোই ন্যাতানো কিন্তু স্নিগ্ধ এবং প্রচণ্ড বোকা। আসলে শাহানারও কোনো দোষ নেই। সব সময় নাজমুলের মত একজন ব্রেইন ওয়াশার পাশে থাকলে জীবন এমন না হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক। নাজমুল: এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে যাদের ভালো লাগার অনেক কারণ থাকলেও অকারণেই তাকে ভালো লাগে না। কেন লাগে না জানিনাহ। নাজমুলও এমন একজন। উপন্যাসের বিস্তারে যদিও তার পরিপূর্ণ রূপ বেড়িয়ে এসেছে তখন তো তার প্রতি করুণা ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনি। এইসব মানুষগুলোকে ঘৃ/ণাও করা যায় না। আর এভাবে গড়ে ওঠার পিছনে পারিবারিক শাষন ব্যবস্থাকেই দায়ী করব। ক্ষমতাশালী পরিবারের ড্যাম স্মার্ট বখে যাওয়া দারুণ এক হ্যান্ডসাম ছেলে বি লাইক মাকাল ফল। উপরে চকচকা ভেতরে ফাঁকা। রফিক: এই রফিক চরিত্রটা মনে হয় আমাদের পাশের এলাকা থেকে ধার নেওয়া। মানে হুবহু মিল। পার্থক্য শুধু রফিকের বাবা মা সত্যিকারের মানুষ এবং গার্ডিয়ান আর আমাদের পাশের এলাকার বাবা মা লো/ভা/তুর। ইশ এমন বাবা মায়ের ঘরে এমন সন্তান মানাই যায় না। আহমেদা বেগম ও মনোয়ারা বেগম: দু'জনই মা, দু'জনই মমতাময়ী, দু'জনই ভালোবাসা দেওয়ার এক অফুরন্ত ভাণ্ডার। তবুও একটা বিস্তর ফারাক রয়েছে তাদের মধ্য। সময়ের সাথে সাথে যখন আহমেদা নামক মানুষ পালটে যায় তখন নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য, ভালোবাসার জন্য মনোয়ারা বেগম নামক মানুষগুলোর সান্নিধ্যে খুবই প্রয়োজন। শবনমের বাবা ও মা: এই দু'জন মানুষের জন্য স্পেশাল কোনো অনুভূতি নেই শুধুমাত্র আফসোস ছাড়া। বাবা মা তাদের জায়গায় সম্পূর্ণ ঠিক। সব ঠিকঠাক থাকার পরও, সন্তানের ভালো চাওয়ার পরও এমনকি তাদের সবকিছু দুই সন্তানকে ঘিরে থাকলেও কোথায় যেন তাদের জীবনের সুর-তাল-লয় কাটা। বাবা মা কীইবা চায়? আজন্ম সন্তানের মঙ্গল কামনা ছাড়া। প্রিয় উক্তি: *আমি শুধু বড় হতে চাই, এসব বিয়ে-টিয়ে আমি জীবনেও করতে চাই না। *এমন আশ্চর্য সম্মোহনী ক্ষমতা কারও চোখে আছে, সেটা সে আজই দেখল।" *মানুষ হয়ে জন্মানোর অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে একটি হলো প্রয়োজনীয় কথাটা উপযুক্ত সময়ে বলতে না পারা।" *আমি বলেছিলাম প্রতি শরতে তার জন্য ফুল কুড়িয়ে রাখব। তাই প্রতিদিন কিছু কিছু করে ফুল কুড়িয়ে রাখি।" *তুমি আমার ভাগ্যে নেই। আমি আর কী করতে পারতাম?" *এবার তিতাস আর শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার জন্য আসেনি।" *এভাবে আমার সামনে কেন এসেছ? আমি যদি আর না ছাড়ি, যদি তোমাকে আর যেতে না দেই?""

Priya Rahman

Priya Rahman , Dec 1, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"#শ্বেত_পাথরের_মালা বই: শ্বেত পাথরের মালা লেখক: আফিফা পারভীন প্রকাশনী : ছাপাখানা প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম মলাট মূল্য : ৪২৫ টাকা "শবনমের মনে হয় কাঁধে এই ব্যাগের (বইয়ের) বোঝা আর মাথায় বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের বোঝা বইতে বইতে সে একদিন মরে যাবে। " "জলজ ভালোবাসার তারল্যের মাঝে পরম কৌশলে শ্বেতপাথরের অনাবিল প্রেম মহল তৈরি করে, গভীর ভালোবাসায় ধরে রাখবো বুকের পিঞ্জরে।" কথা বলছি,পাঠকপ্রিয় লেখক আফিফা পারভীন এর পঞ্চম উপন্যাস "শ্বেত পাথরের মালা" বইটি নিয়ে। জীবনচক্রের ধাপে ধাপে শৈশব, কৈশোর, যৌবনের চড়াই উতরাই, প্রেম,ভালোবাসা, বন্ধুত্ব ও পারিবারিক মেলবন্ধনের এক অপরূপ চিত্র ফুটে উঠেছে বইটির পরতে পরতে। ★কাহিনি সংক্ষেপে : উপন্যাসের কাহিনী শুরু হয় ছোট্ট দুইজন কিশোর-কিশোরীর নির্মল বন্ধুত্ব দিয়ে। শবনম ও তিতাস। সমাজের নিয়মকানুনের গণ্ডির বাইরে,পারিবারিক অসামঞ্জস্যতার উর্ধ্বে গিয়ে যাদের বন্ধুত্ব। একসময় তিতাসের ছোট্ট হৃদয়ে কখন কীভাবে যে ভালোবাসার চারাগাছটা বড় হয়ে তার ডালপালা মেলতে শুরু করে তার হদিস কেউ জানে না।জানেনা স্বয়ং তিতাসও। শবনমের বড় বোন শাহানার একটি ভুল সিদ্ধান্ত তছনছ করে দেয় শবনমের শৈশব। কেড়ে নেয় তাদের পরিবারের সকল সুখ শান্তি। ছোটো শবনমের মনে বড় হতে হতে জন্ম নেয় প্রেম ভালোবাসার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও অনিহা। একসময় যার মনে তিতাসের জন্য ছিলো অপার ভরসা ও বিশ্বাস সেই শবনমই বড় বারবার দূরে সরে যায় তিতাসের কাছ থেকে। কিন্তু কেন? কি হয়েছিল শবনমের সাথে? তিতাসই বা কেন নিজের সকল স্বপ্ন, বুয়েটে পড়ে বড় ইন্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছেকে জলাঞ্জলি দিয়ে আর্মিতে জয়েন করলো? কে এই রফিক? তিতাস আর শবনমের জীবনে তার ভূমিকািই বা কি?এই সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে উপন্যাসটি শেষ করলে। ★পাঠ প্রতিক্রিয়া : চমৎকার এই বইটি শুরু করার সাথে সাথে আমি যেন তিতাস আর শবনমের সাথে তাদের মায়াবনে বিচরণ করছিলাম। সোনাই আর দুখাই এর গল্প বুনতে শুরু করেছিলাম। লেখকের লেখনশৈলী এতটাই চমৎকার ছিলো যে সুন্দর এবং সাদামাটা বইয়ের এই অংশটাও চোখের সামনে ভাসছিলো। উপন্যাসটির যত গভীরে যাচ্ছিলাম তিতাসের কষ্ট হাহাকার, শবনমের পরিস্থিতি সব যেনো আমার চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে উঠছিলো। বইটি শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত রাখার উপায় ছিলো না। এবং শেষ করার পর পাঠক হিসেবে নিজের মনে যে অপার তৃপ্তি আমি অনুভব করেছি তা লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না। উপন্যাসে আমার সবচেয়ে বেশি যেটা ভালো লেগেছে তা হলো ক্যাডেট স্কুল/ কলেজ জীবনের চমৎকার সব বর্ননা। প্রতিটা ধাপে ধাপে লেখক ক্যাডট ছাত্র জীবনের কথা পুঙ্খানুরূপে তুলে ধরেছেন যা অসাধারণ ছিলো। ★চরিত্র কথন : পারিবারিক ও সামাজিক উপন্যাস হিসেবে বইটিতে বেশ কিছু চরিত্র সমাগম ঘটেছে কোনটা স্থায়ী কোনটা অস্থায়ীভাবে। কিন্তু প্রতিটা চরিত্রই গল্পের প্রয়োজনে এসেছে এবং পাঠকের মনে চিরস্থায়ী ছাপ ফেলে যাবে বলে আশা করি। *তিতাস : গল্পের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে তিতাস। স্বভাবের নম্র-ভদ্র এবং তুখোড় মেধাবী একজন ছাত্র। বাবা-মা এবং শিক্ষকদের গর্ব। যার চরিত্রে কোন চরিত্রিক ত্রুটি আমি খুঁজে পাইনি। নিজের ভালোবাসাকে অর্জন করার জন্য যে জীবন বাজি রাখতেও দ্বিতীয়বার ভাবেনি এমন একজন মানুষকে কে না পছন্দ করবে। এই উপন্যাসে তিতাস আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। যার সম্পর্কে যতই বলি কম পড়ে যাবে। *শবনম : গল্পের আরেকটি কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে শবনম। পরিবারের ছোট মেয়ে। মেধাবী হলেও স্বভাবে চঞ্চল এবং প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো যার স্বভাব। বাবা মার একান্ত আনুগত্য এবং বড়বোনের ভীষণ আদুরে। তিতাসের সোনাই। কিন্তু জীবনের গেড়াকলে পিষে যার এই রূপ একসময় হারিয়ে যায়। সে হয়ে উঠে পাথরের মতো কঠিন আর অবিচল। *শাহানা : সম্পর্কে শবনমের বড় বোন শাহানা উপন্যাসের পার্শ্ব চরিত্র হলেও, তার প্রভাব ছিলো পুরো উপন্যাস জুড়ে। এই একটা চরিত্র যে কিনা পুরো উপন্যাসের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে। এই চরিত্রটি পড়তে গেলে পাঠকের কখনো রাগ হবে, কখনো মায়া হবে, কখনো বা কষ্ট পাবে শহানার জন্য। তবে দিনশেষে শাহানা চরিত্রটি ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে চমৎকার ছিলো। *বন্ধুমহল : উপন্যাসটির আরো কিছু ভালো লাগার মত চরিত্র হচ্ছে তিতাস ও শবনমের বন্ধুগুলো। রাত্রি, রাশেদ,ইমতিয়াজ, পপি এদের সকলের উপস্থিতি কাহিনিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। *অন্যান্য চরিত্র : প্রধান চরিত্রদের পাশাপাশি উপন্যাসের অন্যান্য পার্শ্বচরিত্রগুলোও ছিলো দারুন। আসাদউল্লাহ খান, সুলতানা রাজিয়া, লতিফ সাহেব,আহমেদা বেগম, রকিবুল ইসলাম, মনোয়ারা বেগম, কর্ণেল সাদাত, রফিক,নাজমুল, রুবা,চৈতী, রেহানা বেগম,নাদিম এরা সকলেই কাহিনির সাথে ছিলো প্রাণবন্ত। ★প্রিয় উক্তি : ১. টাকা, বংশমর্যাদা, আভিজাত্য কিংবা পদমর্যাদা, সবকিছুই হেরে যায় উপরওয়ালার ইচ্ছের কাছে। ২. সমবয়সী হলেও শারীরিক বা মানসিক পরিপক্কতা সব মানুষের একই সাথে একই রকম হয় না।' বড় হওয়া' আর 'বড় হচ্ছ ' এই দুইটার কথার মাঝে পার্থক্য আছে। ৩. ভুল সবাই করে,সেটা বাবা-মা কিংবা সন্তান যেই হোক না কেন। আর ভুল ভুলই। সেটা বাবা-মা করুক আর কোনো সন্তানই করুক। ভুল কখনো ছোট বড় দেখে শুদ্ধ - অশুদ্ধ হয়ে যায় না। ৪. যা পাপ তা পাপই।তাকে কোনো যুক্তি দিয়ে শুদ্ধ করার চেষ্টা আরও বড় পাপ। ৫. সবসময় সবার কথা কিংবা কাজের জবাব দিতে হয় না। আর নোংরা কথা ও কাজের তো অবশ্যই নয়। ৬. সুন্দর সময় জীবনে এমন অল্পই আসে। তবে যেটুকু আসে সেটুকু অঞ্জলিপুটে মনপ্রাণ দিয়ে আঁকড়ে রাখতে হয়। ৭. ভালবাসলে মানুষ বোকা হয়ে যায়, কথাটা বোধহয় ঠিক। ভালোবাসা মানুষের যুক্তি-বুদ্ধির ওপর এক যুক্তিহীন আবেগের আচ্ছাদন তৈরি করে দেয়। যে কারণে মানুষ সহজ জিনিস বুঝতে পারেনা অনেক কিছু দেখেও দেখেনা। ৮. একটা চেহারা কি শুধুই শরীরের একটা অংশ মাত্র? উহু, চেহারা হচ্ছে মানুষের জীবনের দর্পণ, সমস্ত অনুভূতি জীবন্ত ক্যানভাস। ৯. ভালোবাসা আকাশছোঁয়া হলেও যদি আন্তরিকতা, শ্রদ্ধা,বিশ্বাস ও সহমর্মিতা এসব না থাকে তাহলে সে আকাশচুম্বী ভালোবাসা ঠিক জমাট বাঁধে না। এইসব অনুভূতিহীন ভালোবাসা, একদম ফাঁপা যা সামান্য ফুঁতেই উড়ে যায়। ১০. পাখি উড়ে গেলেও ফেলে যায় তার পালক। আর মানুষ চলে গিয়েও পিছনে রেখে যায় স্মৃতি ও মায়া। পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে পরিবর্তনটাই স্থায়ী। কিন্তু এত এত পরিবর্তন এর মধ্যেও মানুষের স্মৃতি কখনো বদলে যায় না। ★প্রচ্ছদ : প্রচ্ছেদ একটি বইয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি সুন্দর মনোরম প্রচ্ছদ পাঠককে বইটির প্রতি আকর্ষিত করে প্রথমে। সেই দিক থেকে শ্বেত পাথরের মালা বইটির প্রচ্ছেদ ছিল চোখ ধাঁধানো। চমৎকার এই প্রচ্ছদটি করেছেন শিল্পী ফাইজা ইসলাম। ★বইয়ের বাঁধাই, প্রুফ রিডিং, কাগজ, শব্দবিন্যাস ও প্রিন্টিং ছিল চমৎকার। ছাপাখানা প্রকাশনীর কাজ নিঃসন্দেহে খুবই ভালো। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এইজন্য লেখক ও প্রকাশক দুজনকেই সাদুবাদ জানাই। ★পরিশেষে লেখকের ভাষাই শেষ করব, "মানুষের জীবনে সুখ কিংবা দুঃখ কোনটাই নিশ্চিত নয়। সব রকমের অনুভূতির নাগরদোলায় চড়ে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে ভ্রমণ তারই নাম জীবন। অনিশ্চয়তা আছে বলেই জীবনের পরতে পরতে চমক লুকিয়ে থাকে। তাই তো মানুষের জীবন এতো রোমাঞ্চকর।"

Mushfika Sarika

Mushfika Sarika , Nov 6, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"গল্পটি শবনম ও তিতাসের। ছোট বেলা থেকে একসাথে বড় হওয়া দুটি কিশোর কিশোরীর। প্রতিদিনের সবকিছু ঠিক থাকলেও হঠাৎ কোথায় যেন অনুভূতির পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে একে একে নানান ঘটনা ও মানুষের আবির্ভাব। উপন্যাসটি শেষ করে মুখে হাসি নিয়ে কিছুক্ষণ বিষাদময় সময় কাটয়েছি। শুভকামনা সব সময়"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"শ্বেত পাথরের মালা" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 1 / 14
পাতা 2
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 2 / 14
পাতা 3
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 3 / 14
পাতা 4
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 4 / 14
পাতা 5
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 5 / 14
পাতা 6
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 6 / 14
পাতা 7
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 7 / 14
পাতা 8
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 8 / 14
পাতা 9
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 9 / 14
পাতা 10
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 10 / 14
পাতা 11
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 11 / 14
পাতা 12
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 12 / 14
পাতা 13
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 13 / 14
পাতা 14
শ্বেত পাথরের মালা পাতা: 14 / 14
পাতা / 14
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।