১ম প্রকাশ, ২০২১
সায়েন্সভেঞ্চার
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
জৈব যৌগ নোটস
মোমেন তাজোয়ার মমিত
গণিতের সূত্রসমূহ - (৫ম - ১০ম শ্রেণি)
অধ্যাপক রাবেয়া খাতুন (অব.)
পর্যায় সারণির সহজ পাঠ
এরিক স্কেরি
সরল জীববিজ্ঞান অষ্টম-দ্বাদশ শ্রেণি
ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান
পদার্থবিজ্ঞানে হাতেখড়ি
ইউ আর উদয়
Excellence in Mental Maths Book-2
মোঃ মহসিন মিয়া
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | সায়েন্সভেঞ্চার |
| Author | নাঈম হোসেন ফারুকী |
| Publisher | প্রান্ত প্রকাশন |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 304 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | গনিত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি |
| Weight | 0.59 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
101 Ratings and 30 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩০টি
Roni Goswami , Mar 30, 2026
"আমার বরাবরের মতোই বিজ্ঞান বিষয়ক কোনো বই খুব ভালো লাগে। বাংলা ভাষায় লেখা সেরা জীববিজ্ঞান ভিত্তিক বই এটা। আপনিও যদি হাড়িয়ে যেতে চান 460 কোটি বছরের ইতিহাসে। তাহলে দেরি না করে বইটি কিনে আপনা লাইব্রেরির সদস্য করে নিন।"
Dipta Dhar , Oct 15, 2025
"Outstanding presentation! The book can make anyone crave science."
Rajib Debnath , Jun 26, 2025
"খুবই চমৎকার একটি বই, পৃথিবীর ইতিহাস জানার জন্য এই একটি মাত্রই ভালো লাগলো।"
Shahriar Nafiz , Jul 26, 2024
"এসএসসির পর একাডেমিক প্রেসার না থাকায় আরাম করে বেশ কিছু বই পড়ার সুযোগ হয়েছিলো। তার মধ্যে একটা হলো নাঈম হোসেন ফারুকীর লেখা সায়েন্সভেঞ্চার। এই বইটা কিনে রেখে দিয়েছিলাম বেশ আগে। কিন্তু বায়োলজির বই পড়ার চেয়ে ফিজিক্স ম্যাথের বই পড়লেই ভালো হবে ভেবে পড়া হয়েছিলো না। আসলে আমি আগে ভাবতাম বায়োলজি মুখস্থ করার জিনিস। এতে বোঝার, আনন্দ পাওয়ার কিছু নেই, যেমনটা ফিজিক্স, ম্যাথে আছে। যাহোক, বইয়ের ভেতরের বাহারি সব জীব-জন্তুর ছবি দেখে সামান্য আগ্রহ জাগলো। পড়ে ফেললাম। বই পড়ার অনুভূতিটা বলে বোঝানোর মতো না। মনে হয়েছে আমি শ্রেফ গল্প পড়ছি, কিন্তু আসলে সেই গল্পের ছলে শিখে ফেলছি কতকিছু! এ বইয়ের বায়ো অংশ দুইটা, প্রথম অধ্যায়ে মার্ভেলের পিচ্চি অ্যান্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাপিয়ে পড়া, বিচিত্র সব প্রাণিদের সাথে দেখা হওয়া আর শেষে ভয়ানক এক উদ্ভিদের পেটে চলে যাওয়া! সবকিছুই অতিমাত্রায় বাস্তব মনে হয়েছে। এরপরের অধ্যায়টা জিওগ্রাফির, পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন নিয়ে বিস্তারিত আর চমকপ্রদ সব তথ্যে ভরপুর এই অংশটা। তৃতীয় অধ্যায়টাই বইয়ের মূল অংশ- পৃথিবীর জন্ম থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রাণীর বিবর্তনের ইতিহাস। কীভাবে জীবের উৎপত্তি, জীব আসলে কী?! এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভেঙে ভেঙে বোঝানো হয়েছে। এই পুরো অধ্যায় জুড়ে বিবর্তনের একটা স্ট্রং বেসিক তৈরী করা হয়েছে। খণ্ডন করা হয়েছে বিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু প্রচলিত ফালতু ভুল ধারনা। পাঠানো হয়েছে ভয়ানক সব মিশনে। তাছাড়াও দেয়া হয়েছে আদিম পৃথিবীর অদ্ভুত সব জীবের সাথে মানুষের আকারের তুলনামূলক চিত্র, যা থ্রিডি সিমুলেশনের মতো জীবকে সামনে থেকে দেখার অভাবনীয় অনুভূতি দেয়। বইয়ের শেষের দিকে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মানুষের বিবর্তন বোঝানো হয়েছে। সবশেষে, মানব বিবর্তনের প্রায় সবগুলো ধাপের ফসিলের ছবি আর রেফারেন্স লিংক। বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় লাইন- "তুমি চারশো ষাট কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল।" - এই লাইনের মর্ম বুঝতে পারবেন কেবল পুরো বই পড়লে। রেটিং দিয়ে ছোটো করা বই নয় এটা। জীববিজ্ঞান যে নিছক মুখস্থের বিষয় নয়, বরং অস্বাভাবিক রকমের ইন্টারেস্টিং তা অনুভব করতে চাইলে এই বই অবশ্য পাঠ্য।"
Md Moshiur Rahman Rafi , Mar 9, 2024
"বইটি অনেক ভালো লেগেছে, সায়েন্সভেঞ্চার ২ এর অপেক্ষায়"
Achinta Roy , Mar 8, 2024
"an aesthetic and insightful view of the history of our beautiful planet that too from a writer who actually is probably the first one to depict evolution in a way no sane person of our country(sane and properly educated) would deny it's impact and evidence almost four and a half billion years of evolution and here we are a brave and bold decision from nayeem bhai to put an effort to spread the beauty of evolution which is often misled and misinterpreted by many cool dudes huge respect and a salute to you keep on doing the good work true appreciators like me will always be there for you,bhai"
Tausif , Feb 17, 2024
"a quality book with a stunnnnnnnnnnnnnnnnning cover"
প্রজন্মের বাগ্মি , Oct 21, 2023
"noy upto the mark . sometimes it was like reading a story. Undoubtedly it is but not a true one"
Joyant Sheikhar Gupta Joy , May 8, 2023
"বুক রিভিউ: সায়েন্সভেঞ্চার(৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস) লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৪ মূল্য: ৪৫০ টাকা প্রকাশনী: প্রান্ত প্রকাশন রিডিং টাইম: বিরতি দিয়ে এক সপ্তাহ রেটিং: 1CB.75C28F5C28F5C28F5C29/460 কখনো কি জানতে ইচ্ছে হয় আমরা মানে দুই পায়ে ভর দিয়ে চলা মগজসম্পন্ন হোমো সেপিয়েন্স থেকে শুরু করে মগজহীন গাছপালার সৃষ্টি কিভাবে হয়েছে?প্রথম প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছে? আমার আপনার পূর্বপুরুষ কে? আমরা কি আসলেই বানর থেকে এসেছি নাকি এক জোড়া নারী পুরুষ থেকে নাকি অন্য কিছু?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে অ্যাডভেঞ্চারে চললাম।বিজ্ঞানের সাথে ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস জানার অ্যাডভেঞ্চার। যার নাম দেয়া হয়েছে সায়েন্সভেঞ্চার। ১→ অ্যান্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাঁপ অ্যাডভেঞ্চারের শুরুতেই লেখক তার অলৌকিক ক্ষমতাবলে আমাকে এক মিলিমিটার সাইজের স্যুটে ভরে পুকুরের পানিতে ফেলে দিয়েছে। ভিন্ন কোনো জগতে চলে এসেছি বলে মনে হচ্ছে। সেখানে শৈবাল আমার সামনে নির্ভয়ে সাঁতার কাটছে।পাশেই পিঁপড়ার সমান ব্যাকটেরিয়ার দল পাতালতা গুলোকে পচাচ্ছে। আমাকেও পচিয়ে ফেলতে পারবে ওরা এখন।লেখক আগেই সাবধান করে দিয়েছে তাই ওদের থেকে দূরে গিয়ে প্যারানিমা বীভৎস ভাবে তার শিকারকে কিভাবে গিলে খাচ্ছে তা দেখছি।সারাজীবন পাঠ্যবইয়ে পড়ে আসা হাইড্রা, ড্যাফনিয়াকে চোখের সামনে নিজের থেকে বড় বড় দেখছি।ওদের পাশ কাটিয়ে আরেকটু দূরে গিয়ে দেখলাম দুইটা অ্যামিবার বিয়ে হচ্ছে।পুকুর ট্যুর করতে করতে আরো অনেক জীবের দেখা পেয়েছি। লেখক তার লেখনী দিয়ে দেখতে বাধ্য করেছে। ২→ জার্নি টু দ্য সেন্টার অভ দ্য আর্থ এবার লেখক আমাকে অলৌকিক ড্রিল মেশিন কাম লিফটে করে পৃথিবীর কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে পাঠাচ্ছে। ড্রিলিং করতে করতে আমি পৃথিবীর ক্রাস্ট পার হওয়ার চেষ্টা করছি। তাপ, চাপ দুটোই বাড়ছে। একটু পরেই দেখা হয়েছে হাজার বছর বয়সী ব্যাকটেরিয়ার সাথে।তার থেকে বিদায় নিয়ে ড্রিল করতে করতে ক্রাস্টের শেষ অংশে পৌঁছে গেছি। তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে। মাটির নিচের ম্যান্টল অংশের ট্যুর শুরু হবে এখন। হীরাদের জন্মস্থানে চলে এসেছি।পরিচলন প্রক্রিয়ায় পাথরগুলো অতিরিক্ত তাপ আর চাপের কারণে ম্যাগমায় পরিণত হচ্ছে।ম্যান্টলের গভীরের প্লেটগুলো থেকে ভূমিকম্প কিভাবে হয় কিভাবে এতো মহাদেশ হলো সেগুলো বুঝিয়ে লেখক আমাদের নিয়ে যাবে পৃথিবীর কোর অংশে।সেই সাথে এই কোর অংশ কিভাবে আমাদের রক্ষা করছে তা বুঝিয়ে আরো গভীরের দিকে রওনা দিবে। অবশেষে পৌঁছে গেছি পৃথিবীর একেবারে কেন্দ্রে যেখানে মাথার উপর ৪৮ হাজার হাতির সমান চাপ আর সূর্যের পৃষ্ঠের সমান তাপ। ৩→ প্রাচীন পৃথিবী: ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস এবার শুরু হচ্ছে ৪৬০ কোটি বছরের প্রাগৈতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার। এই ইতিহাস আমার,আপনার, আপনার বাড়ির পোষা বিড়ালটার, আপনার বাড়ির পাশের আম গাছটার। এই ইতিহাস প্রতিটা জীবের। তো শুরুতেই লেখক প্রাণ,বিবর্তন আর ফসিল সম্পর্কে বুঝিয়ে নিচ্ছে যাতে এই ৪৬০ কোটি বছরের অ্যাডভেঞ্চারটা সহজ হয়। লেখক টাইম মেশিনে করে পৃথিবীর জন্মলগ্ন, শৈশবকাল ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে।আমরা এখন আছি হেডিয়ান যুগের নারকীয় পৃথিবীতে। লেখক আমার আপনার তথা প্রতিটা জীবের পূর্বপুরুষ মহামান্য লুকার সাথে দেখা করিয়েছে। আর্কিয়ান ইওনে অক্সিজেনের জন্য সায়ানোব্যাকটেরিয়াদের আত্মত্যাগ দেখে তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ হয়ে গেছি। এবার ২৫০ কোটি বছর আগের প্রোটারোজয়িক ইওনে আছি। বহুকোষীদের ডেলিভারি দেখছি। মাইটোকন্ড্রিয়া আর প্লাস্টিডের জন্ম দেখলাম এইমাত্র। ঘুরতে ঘুরতে শীতকাল চলে এসেছে। প্রায় দশ কোটি বছর থাকবে এই শীতকাল। পুরো পৃথিবী এখন সাইবেরিয়া হয়ে গেছে। বরফের উপরে কোনো প্রাণের চিহ্ন না থাকায় লেখক বরফের নিচে লুকিয়ে থাকা মহাসমুদ্রে আমাকে নিয়ে ঝাঁপ দিলো। সেখানে আদিম এককোষীদের সাথে পরিচয় হয়েছে। এবার লেখক সাগরের আরো গভীরে নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল প্রাণী স্পঞ্জের সাথে আলাপ করালো। দীর্ঘ শীতকাল শেষ করে এবার পৌঁছালাম এডিয়াকারান যুগে, আদিম উদ্ভট চেহারার প্রাণীদের যুগ চলছে এখন, এখনো সমুদ্রের তলদেশেই আছি।ছত্রাকের জন্ম হলো একটু আগে।আশেপাশে চার প্রতিসম প্রাণী দেখছি। এডিয়াকারানের তথা প্রোটারোজয়িক ইওনের শেষের দিকে চলে এসেছি। স্প্রিগনা, ট্রাইলোবাইট, প্রোটোস্টোম, ডিউটেরোস্টোমদের থেকে বিদায় নিয়ে লেখক ফ্যানরোজয়িক ইওনে নিয়ে চলে এসেছে। এই ফ্যানরোজয়িক ইওনের তিনটা বাচ্চা আর বারোখানা নাতি আছে। এবার ক্যাম্ব্রিয়ান যুগে আছি, পিকাইয়া আর ম্যারেলা ভাজা খাচ্ছি সেইসাথে এই যুগের অ্যানোম্যালাকারিস আর হ্যালিউসিজেনিয়া ইত্যাদি নিয়ে লেখকের লেকচার শুনছি।লেখক বেশ কিছু মেরুদন্ডী প্রাণীদের সাথে পরিচয় করালো। মেরুদন্ডী প্রাণীদের সম্ভাব্য প্রথম পূর্বপুরুষের সাথেও আলাপ করালো।এ যুগে যথেষ্ট কারণের সাথেই প্রাণীরা দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে। বিবর্তনের এই ধারাবাহিকতায় পৃথিবীতে আংশিক মাছ জাতীয় প্রাণীর আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। লেখক টাইম মেশিনে করে অর্ডোভিসিয়ান যুগে নিয়ে এসেছে।আশেপাশে হাতের তালুর সমান মস।এরাই আপনার বাড়ির পাশের গাছটার পূর্বপুরুষ।লেখক ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে শামুক ঝিনুক ও তাদের দূরের আত্মীয়দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। অর্ডোভিসিয়ান জায়ান্টদেরও চিনিয়ে দিলো। বর্তমান পৃথিবীতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বাড়লেও অর্ডোসিয়ান যুগের শেষের দিকে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ কমে গিয়ে পৃথিবী আবার জমে বরফ হয়ে যায়। ঐ যুগের শেষে মাত্র ১৪% প্রজাতি জীবিত থাকে। যাদের নিয়ে সাইলুরিয়ান যুগ শুরু হচ্ছে। লেখক টাইম মেশিনে বসে বেশ ভয়ে ভয়ে এ যুগের প্রাণীদের চিনিয়ে দিচ্ছে।এ যুগের সমুদ্র ভয়ানক কাঁকড়া বিছায় ভরপুর। লেখক ইউরেপ্টিডদের মতো কাঁকড়া বিছার কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছে না। তাই টাইম মেশিন স্টার্ট দিয়ে চলে এলাম পরবর্তী ডেভোনিয়ান যুগে। এসেই লেখক রাইনিওগ্ন্যাথা←ইকথাইওস্টেগা← জায়েকিলোপ্টেরাস← ডাঙ্কলিওস্টিয়াসের সুন্দর একটা খাদ্যশৃঙ্খল দেখালো। এ যুগেই প্রথম বড় গাছ আর চোয়ালযুক্ত মাছের দেখা মিলেছে। এদেরকে ফেলে রেখে চললাম কার্বোনিফেরাসের যুগে চললাম।বর্তমানে যে কয়লা ব্যবহার করা হয় সেগুলো এই যুগের সম্পত্তি। চারপাশে দুই-তিন ফুট লম্বা ফড়িং উড়ে বেড়াচ্ছে। লেখক বললো সেগুলো গ্রিফিনফ্লাই। একটুদূরে ১৬৬টা দাঁত ওয়ালা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো ওটা ওফিয়াকোডন। এর পরে লেখক এই যুগের সিড রাজকুমারদের কাহিনী বলতে শুরু করেছে। কাহিনী শুনতে শুনতে চলে এলাম প্যালিওজোয়িক ইওনের শেষ যুগ পার্মিয়ানে।লেখক এখন ডাইমেট্রডন, গরগনপ্সিড ইত্যাদির গল্প বলছে। গল্প শুনতে শুনতে চলে এলাম পার্মিয়ানের শেষে দিকে, এখন থেকে প্রায় ২৫ কোটি বছর আগে। চোখের সামনে পারমিয়ান-ট্রায়াসিক এক্সটিঙ্কশন দেখছি। পৃথিবী ঘন কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে। সূর্যের আলোর অভাবে জল স্থলের সিংহভাগ প্রাণী মারা যাচ্ছে। চারপাশে শুধু লাশ আর লাশ।লাশের স্তুপের উপর দিয়ে চলে যাওয়া একটা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো এটাই আর্কোসর। আগামী ১৫ কোটি বছর এর বংশধররা রাজত্ব করবে, টাইম মেশিন স্টার্ট করো,চলো মেসোজোয়িকে। এ যুগের শুরু ট্রায়াসিকে গিয়ে প্রথমেই দেখা হলো ইকথাওসর শনিসরাসের সাথে। এটা কি তা জানতে হলে বইটা পড়ে ফেলুন।আশেপাশে অনেক পাইন গাছ। সেগুলোর ডালে প্ল্যাটিওসরাসরা বসে আছে। দূরের জলাভূমিতে একটা ইউর ্যাপ্টার প্যারাসুচার ধরে খাচ্ছে। তার লাঞ্চে ডিস্টার্ব না করে লেখক জুরাসিকে নিয়ে চলে এলো। চলে এলাম ডাইনোসরদের পৃথিবীতে। বর্তমান থেকে প্রায় বিশ কোটি বছর আগের পৃথিবীতে আছি।লেখকের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে এই জুরাসিক অ্যাডভেঞ্চার বেশ দীর্ঘ হতে চলেছে। দূরের ফার্নের জঙ্গলগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে ৯০ ফুট লম্বা জিরাফোটাইটান দম্পতি।লেখক এই যুগের প্রাণীদের বর্ণনা দিচ্ছে, নানা জাতের উদ্ভট নামের টিকটিকির কথা বলছে। মাংসাশী তৃণভোজী বিভিন্ন ধরণের ডাইনোসরদের সাথে আলাপ করালো। সেই সাথে ম্যামালদের দেখিয়ে দেখিয়ে বর্ণনা দিচ্ছে।ডাইনোসরদের দেখতে দেখতে তাদের বিলুপ্তির সময়কালের কাছাকাছি চলে এসেছি। এখন ক্রেটাসিয়াস যুগের ভারতীয় উপমহাদেশে আছি।এখনি টাইম মেশিনের উপর দিয়ে ১৩০ ফুট লম্বা পাতাগোটাইটান চলে গেলো। লেখক আমাকে শুরুতে যে পুকুরে নামিয়ে ছিলো তার সামনে টাইম মেশিন ল্যান্ড করেছে।এই প্রাগৈতিহাসিক পুকুরে এখন ৪০ ফুট লম্বা কুমির ডেইনোসুচাস একটা টি-রেক্সের মাথা চিবাচ্ছে। কুমিরের ব্রেকফাস্ট দেখতে দেখতে লেখক এ যুগের প্রাণীদের বাইট ফোর্স, গতি নিয়ে বেশ সহজ একটা লেকচার দিলো।টাইম মেশিনের উপরে আর্কিওপ্টেরিক্স বসেছে। এখনো আমাদের খেয়াল করে নি। লেখক আর আমি টাইম মেশিনে ঢুকে পরে আরেকটু ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেলাম। যাওয়ার আগে আর্কিওপ্টেরিক্সের একটা পালক ছিঁড়ে এনেছি। দুই কোটি বছর পরের সময়ে চলে এসেছি। টাইম মেশিনের সাথে একটা সাইনোসরেপ্টেরিক্সের ধাক্কা লেগেছে, ব্যথাও পেয়েছে। উপর দিয়ে ভেলোসির ্যাপ্টরের তাড়া খেয়ে কনফুসিয়র্নিস পালাচ্ছে। আমি, লেখক আর আমাদের থেকে কয়েক মিটার দূরে বসে থাকা থেরিজাইনোসরাস সেটা দেখছিলাম।লেখক এদের বিবর্তন নিয়ে আবার বেশ লম্বা লেকচার দিয়ে সিটে বসেছে।টাইম মেশিনের পেছন দিকে অ্যাঙ্কাইলোসরাস আর ট্রাইসেরাটন্সের ঝগড়া লেগেছে।আঘাত পেয়ে ট্রাইসেরাটন্স আমাদের টাইম মেশিনের উপর আছড়ে পরতে পারে সেইজন্য লেখক আরেকটু ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা শুরু করলেন। যেতে যেতে ম্যামলদের নিয়ে কিছু তথ্য দিলেন। সেই সাথে সাগরে দানবীয় কচ্ছপ আর্কিলন, মেজোসর, প্লেসিওসর ইত্যাদি প্রাণীদেরও দেখালেন। নিয়ে চলে আসলো ক্রেটাসিয়াসের শেষের দিকে। পৃথিবীতে পঞ্চমবারের মতো প্রাণীজগতে ধ্বংস হচ্ছে। কয়েক কোটি বছর ধরে দাপিয়ে বেড়ানো ডাইনোসর আর নেই। প্রাণীজগতের চার ভাগের একভাগ শুধু জীবিত আছে। এবার সময় এসেছে ম্যামালদের রাজত্ব করার। প্রকৃতি তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে। শুরু হচ্ছে সিনোজোয়িক মহাযুগ।যার শুরু হচ্ছে প্যালিওজিন দিয়ে। গাছের গাঁ বেয়ে দুই ইঞ্চি লম্বা টাইটানোমাইরা সারি বেঁধে উপরে উঠে যাচ্ছে। সেই সারি ভেঙে দিয়ে টাইটানোবোয়া গাছকে পেঁচিয়ে ধরে ঝুলে আছে।একটু পরে উড়ে এসে গ্যাস্টর্নিস গাছে বসতেই টাইটানোবোয়া কপ করে কামড়ে ধরলো।লেখক এখন ট্রি এঁকে তিমির বিবর্তন বুঝাচ্ছে। আরো ভবিষ্যতের দিকে যাবার আগে লেখক একটা দুই ফুট লম্বা একটা প্রাণীকে দেখিয়ে বললো এই প্রাণীটার কোনো ভাই আমার তোমার আদি পূর্বপুরুষ। এটার নাম ডারউইনিয়াস। নিওজিন যুগে আছি,এবার বনমানুষদের জন্মানোর সময় হয়েছে।লেখক এই সময়ের সাগর দাপিয়ে বেড়ানো মেগালোডনের একটা গল্প শুনালেন।উল্কাপাতে গর্ত গিয়ে প্রাণ রক্ষাকারী পার্গেটোরিয়াসরা মহাসুখে দিনযাপন করছেন এখন।এদের কোনো ভাই/বোন হচ্ছে আমাদের পূর্বপুরুষ।লেখক প্রাইমেটদের কমন বৈশিষ্ট্য নিয়ে খুব সুন্দর লেকচার দিলো।প্রাইমেট সিমিয়ানদের শহরে এসে পরেছি এখন। অ্যাডভেঞ্চারে এই প্রথম আমাদের কাছাকাছি লেভেলের প্রাণী দেখছি। টাইম মেশিন থেকে বের হয়ে চারপাশ দেখছি। মাথার উপর দিয়ে সাঁই করে কি যেনো একটা চলে গিয়ে গাছে থাকা প্ল্যাটারহিনকে ধরে নিয়ে গেলো। লেখক বললো এটা এ যুগের সবচেয়ে বড় পাখি থান্ডারবার্ড আর্জেন্টাভিস। সবচেয়ে বড় গন্ডার প্যারাসেরাথেরিয়ামও আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। জায়গা সুবিধার না আরেকটু ভবিষ্যতে যেতে হবে।যেতে যেতে আদিম এইপ, আর্ডিপিথেকাস আর অস্ট্রেলোপিথেকাসের সাথেও দেখা হয়েছে। কোয়ার্টার্নারি অর্থ্যাৎ আমাদের যুগে এসে পরেছি। শুষ্ক ঘাসে ফাঁকে ফাঁকে উলি ম্যামথের তাড়া খাচ্ছে স্মিলোডন, টাইম মেশিনের একটু দূরেই মেগালোসিরাস হেঁটে বেড়াচ্ছে। সেই প্রাগৈতিহাসিক পুকুরে পানি খেতে এসেছে আর্কটোডাস।টাইম মেশিনে করে আরো ভবিষ্যতে দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। হোমো হ্যাবিলিস,হোমো জর্জিকাস,হোমো ইরেক্টাসদের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেছি। হোমো নিয়ানডার্থালদের আর হোমো সেপিয়েন্সের সংসার দেখে খুব ভালো লাগছে।একই সাথে তাদের যুদ্ধ দেখেও খারাপ লাগছে। যুদ্ধে হেরে যাওয়া নিয়ানডার্থালরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে।অন্য প্রজাতিদের বিপন্নতার মুখে ফেলে দিয়ে হোমো সেপিয়েন্সদের মুখে যুদ্ধ জয়ের তৃপ্তিমাখা হাসি। ৪৬০ কোটি বছরের অ্যাডভেঞ্চার এখানেই শেষ। সরি সায়েন্সভেঞ্চার। উদ্ভট সব নামের জন্য জীববিজ্ঞানকে খুবই বিদঘুটে এবং বোরিং লাগতো। তবে এই বইয়ের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। কাল্পনিকতাকে পুঁজি করে লেখক প্রমাণিত ও বাস্তব সত্যকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। অ্যাডভেঞ্চার নিয়ে গেছে কোটি কোটি বছর অতীতের।লেখকের লেখন শৈলী ও সবলীল ভাবে বুঝানোর দক্ষতা ঈর্ষনীয়। আরেকটা ভালোদিক হলো লেখক শেষে তথ্যসূত্র সংযুক্ত করে দিয়েছেন এবং বই/মুভি থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া টপিকের ক্রেডিট দিতেও কার্পণ্য করেননি। বইয়ের বাইন্ডিং, কভার ও পেইজ কোয়ালিটি খুবই ভালো ছিলো। বইয়ের বেশ কিছু ইভ্যুলিউশন ট্রি বুঝতে অনেকটাই কষ্ট হয়েছে।ট্রিগুলোকে আরেকটু সহজভাবে উপস্থাপন করা দরকার ছিলো বলে মনে হয়েছে। বেশ কিছু বানান ভুল ছিলো। পরবর্তী সংস্করণ অথবা সায়েন্সভেঞ্চার 2 তে এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখার অনুরোধ করবো। আমি বিজ্ঞান পাঠক। পড়তে ভালোবাসি।বুক রিভিউ দেয়া পড়ার তুলনায় অনেকটাই কঠিন লাগে আমার কাছে। বইটা পড়তে গিয়ে চোখের সামনে যা ভেসে উঠেছে সেগুলোই রিভিউ হিসেবে লিখেছি। হ্যাপি রিডিং হ্যাপি জার্নি"
Sharif Shahin , May 3, 2023
"অনেক মুভি আছে দেখতে চোখে আরাম অনুভূত হয়। মুভির সাউন্ড ইফেক্ট, কালার কম্বিনেশন, গল্পের ধারাবাহিকতা ইত্যাদি সবই যখন নিখুঁত হয় তখন আরামসে একদমে মুভি শেষ করে ফেলা যায়। কিছু বই আছে যা একজন লেখক এত সুন্দর করে বর্ণনা করেন যে, পড়তে চোখ ও মনের আনন্দ হয়। আনন্দে আনন্দে বই শেষ করা যায়। সায়েন্সভেঞ্চার বইটিকে আমার তেমনি মনে হয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনা যে এত সুন্দর করে উপস্থাপন করা যায় তা লেখক খুব ভালভাবে দেখিয়েছেন। বইটি যখন শুরু করলাম তখনই টের পেয়েছি ৪৬০ কোটি বছরের একটি ট্রাভেলিং এ্যাডভেঞ্চারে্র অংশ হতে যাচ্ছি। হাতে আরেকটি বই ছিল 'সেপিয়েন্স, মানুষের ইতিহাস' সেটা শেষ করে তারপর সায়েন্সভেঞ্চার শুরু করলাম। অ্যান্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে শুরু হল, ৪৬০ কোটি বছরের প্রাচীন পৃথিবীর আনাচে-কানাচে প্রাচীন সব প্রাণীর সাথে দেখা করে যখন বইটি শেষ করলাম তখন লেখককে ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না। এত সহজভাবে প্রান, বিবর্তন, ফসিল ইত্যাদির সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যা সবাই সহজে বুঝতে পারে। লেখক নাঈম হোসেন ফারুকীকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার সকল বই পড়ার ইচ্ছে হচ্ছে।"
Jahirul Islam , Mar 24, 2023
"তুরস্কে কেন ভূমিকম্প হল ? ফেসবুকে আলোচিত কিছু জনপ্রিয় কারন হল - ১. আলাস্কায় অবস্থিত হার্প মিশন থেকে তুরস্কের মাটির তলে সিগনাল পাঠিয়ে ভূমিকম্প ঘটানো হয়েছে ২. তুরস্কের খনি থেকে বিপুল খনিজ সম্পদ ওঠানোর ফলে ভূমিকম্প হয়েছে ৩. তুরস্কের মানুষ বেশি বেশি পাপ কাজ করছিল তাই গজব নেমেছে ৪. তুরস্কের মেয়েরা বেশি বেশি................ থাক, ওই দিকে আর না যাই। সারারাত ওয়াজ করলেও এই বয়ান শেষ হবে না। আসুন, বিজ্ঞান কি বলে সেটা দেখি। বিজ্ঞান বলছে, ৬৪০০ কিমি ব্যাসার্ধের গোল পৃথিবীর মধ্যে বিভিন্ন লেয়ারে বিভিন্ন রকম পদার্থ আছে। একেবারে উপরের লেয়ারের নাম লিথোস্ফিয়ার ( lithosphere) , তার নিচের লেয়ারের নাম ইসথোনেস্ফিয়ার ( asthenosphere) এই এসথেনোস্ফিয়ার টা থাকে প্রায় লিকুইড পর্যায়ে। এখানে তাপ অনেক বেশি, চাপ ও বেশি। প্রায় আলকাতরার মত ঘন 'কঠিনের মত তরল' পদার্থ থাকে এখানে। এটা মোটামুটি ৭০০ কিমি গভীর। এই লিকুইড এসথেনোস্ফিয়ারের সাগরের মাঝে ভেসে থাকে লিথোস্ফিয়ার গুলা। এগুলাকে টেকটোনিক প্লেট ও বলে। এরা গড়ে ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার মোটা হয়। ( নদী নালা সাগর পাহাড় টিলা খনি মাইন সব এই লিথোস্ফিয়ারের উপরে অবস্থিত। মানে যেসব টেকটোনিক প্লেট নিচু, সেগুলাতে পানি জমে সাগর হয়ে গিয়েছে) এই লিথোস্ফিয়ার / টেকটোনিক প্লেট একে অপরের সাথে সংঘর্ষ হলেই তারপর ভূমিকম্প হয়। জানামতে, সবচেয়ে গভীর খনিটা মাত্র ৩.৮ কিলোমিটার নিচে অবস্থিত। মানে, খনি শূন্য হয়ে যাওয়ার কারনে আশেপাশের মাটি এসে ভূমিকম্প ঘটাতে পারে, কিন্তু সেটার ইফেক্ট হয় খুবই কম। একই ভাবে কোথাও পারমানবিক বোমা ফাটালে কিংবা ইভেন বড় গাড়ি রাস্তা দিয়ে চললেও আশেপাশের ভূমি কম্পিত হবে। তবে মাটির কয়েকশো কিলো গভীরে টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে যে ভূমিকম্প হবে, সেটার শক্তি এবং এরিয়া অনেক বেশি হবে। Nayeem Hossain Faruque ভাইয়ের সায়েন্সভেঞ্চার বইয়ের প্রথম অংশে একটা কাল্পনিক গাড়িতে করে লেখক আমাদের নিয়ে যান মাটির তলায়। লিথোস্ফিয়ার, এসথোনোস্ফিয়ার সহ মাটির তলায় বিভিন্ন লেয়ারে কোথায় কি আছে, কি কি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া ঘটছে, জীবনের কি কি আলামত আছে সেসব দেখতে দেখতে পৌছে যাই পৃথিবীর কেন্দ্রে, যেখানে g এর মান শূন্য। তার গাড়িটা শুধু স্পেস ট্রাভেল করেনা, বরং টাইম ও ট্রাভেল করে। ৪৬০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীর জন্ম শৈশব কৈশোরের বিভিন্ন সময় আমরা ঘুরে দেখি লেখকের সাথে। প্রাণহীন পৃথিবী থেকে এককোষী জীবের পৃথিবী, ডাইনোসর যুগ, বরফ যুগ সহ বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে হোমিনিডদের উদ্ভব ও বিবর্তন দেখতে পাই আমরা। জীবজগতের সবগুলা পর্ব এখানে আলোচনায় এসেছে।"
Muhammad Shamim , Feb 28, 2023
"#bcb_book_review Book: সায়েন্সভেঞ্চার Writer : নাইম হোসেন ফারুকী সাইন্সভেঞ্চার! চারশো ষাট কোটি বছরের ইতিহাস! আমি বলবো চারশো ষাট কোটি বছরের ইতিহাস না বরং এর পাশাপাশি আপনি হয়ে যাবেন চারশো ষাট কোটি বছরের একজন টুরিস্ট।এক এক সময় টাইম মেশিনের সাহায্য নিজের ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় আপনি ঘুরে আসতে পারবেন পৃথিবীর মহাকালের মহা যুগ গুলো।এই মহাযুগে আপনি যখন পা বাড়াবেন আপনি পৃথিবীর অগ্নিময় গোলক থেকে শান্ত সমুদ্রের এক বিচিত্র রূপ দেখতে পারবেন।এই সমুদ্রেই প্রথম প্রানের উৎপত্তি ঘটবে দেখা যাবে এককোষী শান্তজীবেরা কালক্রমে বিবর্তিত হয়ে রূপ নেবে বহুকোষী হিংস্র জন্তুতে।অদ্ভুত সব প্রানী আর উদ্ভিদের আগমনে পৃথিবী সাজবে এক অচেনা রূপে এই অচেনা রূপে অচেনা প্রানীর এক এক করে পরিচয় মিলবে এই বইয়ে। জল থেকে স্থলে প্রানীরা দল বেধে উঠা শুরু করবে আর আপনি এক এক সময় সেই প্রানীদের মুখোমুখি হবেন কখনও কখনও নিজের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে আপনাকে তাদের শিকার করে আপনাকে সারতে হবে ব্রেকফাস্ট,লাঞ্চ অথবা ডিনার।অদ্ভুত সে প্রানীর স্বাদ আপনার মুখে লেগে থাকবে কি না জানিনা তবে নিজের প্রাণ বাচাতে আপনাকে দৌড়ে পালাতে হবে হয়তো,নয়তো ডায়নোসরের কিংবা অন্য কোন অদ্ভুত প্রাণীর থাবায় আপনি মারা পড়বেন।এভাবেই একের পর এক যুগ আপনি ঘুড়তে থাকবেন তবে এসব কিছুর আগেই আপনাকে পুকুরে এন্টম্যান হয়ে ঝাপ দিয়ে গোসলটা সেড়ে নিতে হবে।এই পুকুরে ঝাপ দিলে আপনি উঠার কথাই ভুলেই যাবেন কারণ পুকুরে থাকা অদ্ভুত সব অনুজীবদের জীবনচিত্র আপনাকে মুগ্ধ করে তুলবে। এসব কিছু পড়তে পড়তে আপনি আপনি হাটতে থাকবেন বিবর্তনের পথে আর খুঁজতে থাকবেন ফসিল,দেখতে পারবেন মানুষের আদিম জীবনচক্র,শিকার এবং কালক্রমে দেখতে পারবেন আজকেই এই আধুনিক এ জাতি, তখনই বইয়ের এই কটা লাইন আপনার চোখে এসে পড়বে,"আজ থেকে অন্তত তিন লাখ পনের হাজার বছর আগে,460 কোটি বছরের বিবর্তনের পর পৃথিবীতে আধুনিক মানুষ বা হোমো স্যপিয়েন্সের জন্ম হয়।পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ ওই হোমো সেপিয়েন্স,এমনকি কেউ হোমো স্যপিয়েন্সের আলাদা কোন উপজাতিও নয়।সবাই হোমো সেপিয়েন্স।তুমি যখন আয়নার সামনে দাঁড়াও,আর নিজের দু'পাশ সমান দেখতে পারো- তোমার মনে পড়া উচিত তুমি বাইল্যাটারিয়া।পিঠের সোজা ওই মেরুদণ্ড মনে করিয়ে দেবে তুমি কর্ডাটা।চার হাত পা মনে করিয়ে দেবে তুমি টেট্রাপোডা।মায়েরা বাচ্চাদের দুধ খাওয়াতে গেলে মনে পড়বে তুমি ম্যালাল,...।"
Umme Hany Karima , Feb 8, 2023
"অবশেষে বইটা পড়ে শেষ করছি। এবছর আমাকে আরো ২৯টা বই শেষ করতে হবে। তাই একটু কম করে রিভিউ দেই। ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস! সায়েন্সের এডভেঞ্চার, আসলেই সত্যি। সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল আমি জুমাঞ্জি মুভির মতো বিজ্ঞানের জঙ্গলে কখনো আইস এজে, কখনো বায়ুমন্ডল সুরভিত অক্সিজেনে, আবার শুধু এক সমুদ্রে ডুব দিয়ে আমি আহরিত হয়েছি।"
Shaira Noshin , Jun 1, 2022
"Fun to read :)"
tonmoy , May 20, 2022
"One of the best book i ever read.♥️"
Kritartho Chakraborty , May 14, 2022
"It was good"
Anando Siddique , Mar 26, 2022
"khub ahamori kisu na... onar physics er boi gulai best..."
Razaul Islam Rowan , Mar 26, 2022
"বইটি পড়ে অনেন ভালো লাগলো।"
Tasauf Islam Tonoy , Mar 16, 2022
"বই : সায়েন্সভেঞ্চার লেখক : নাঈম হোসেন ফারুকী পৃষ্ঠা : ৩০০ গায়ের মুল্য : ৪৫০৳ রেটিং :১০ এ ১০ খটমটে ফিজিক্স বই পড়ার পর পড়ছি "সায়েন্সভেঞ্চার" বইটা মুলত বিবর্তন আর ৪৬০ কোটি বছরের রোমাঞ্চকর ইতিহাস নিয়ে। আরো আছে দুইটা চ্যাপ্টার এন্টম্যান হয়ে পুকুরে ঝাপ দেওয়ার গল্প। বাড়ীর পাশের নোংরা পুকুরে যে এক ভিন্ন জগত আছে সেটা কখনো ভেবেছেন কী? ভাবতে চান? তাহলে আপনার জন্য এই বই-এর প্রথম চ্যাপ্টার। কী থাকতে পারে ওই নোংরা পুকুরের এক ফোটা পানিতে? আমি কিছুই বলবো না, তবে এটুকু বলছি অন্য জগতের কিছু অপার্থিব প্রাণির বাস সেখানে। এর পরের চ্যাপ্টার হলো জার্নি টু দ্যা সেন্টার অফ দ্যা আর্থ। চমৎকার একটা চ্যাপ্টার। কেমন হতো যদি আপনাকে একটা ড্রিল মেশিনে চেপে পাঠানো হলো পৃথিবীর কেন্দ্রে। ভয় পাবেন না ড্রিল মেশিন যথেষ্ট নিরাপদ অনেক অনেক চাপ তাপ সহ্য করতে পারে। তো আপনি কী দেখবেন এই ধরণির গর্ভের মাঝে লুকিয়ে থাকা জ্বল জ্বল করা হিরা মানিক সাত রাজারধন রত্নভান্ডার, নাকি দেখবেন ভয়ংকর পাতালপুরীর টগবগ করে ফোটা আলকাতরার মতো ঘনো আধা তরল পাথরের রাজ্য এস্থেনোস্ফিয়ার। এই চ্যাপ্টারে আছে সেই পাতালপুরির গল্প টেকটোনিক প্লেটের কথা, পৃথিবীর নারিভূড়ির গল্প আর আছে কীভাবে আসলো আমাদের জীবন রক্ষাকারী পৃথিবীর ম্যাগ্নেটিক ফিল্ড। এই ফিল্ডের জন্ম এই মায়াভরা পৃথিবীর গর্ভে। আরো আছে পৃথিবীর পেটের নানা রহস্যকথন, তো আপনি রেডি তো? এখন শুরু হবে বই-এর মেইন চ্যাপ্টার বাকি পুরা বই জুড়ে এই চ্যাপ্টার। লেখক টাইম মেশিনে চড়িয়ে আমাদের নিয়ে যাবেন সাড়ে চারশ বছর আগের দুনিয়ায়। হাত ধরে দেখিয়ে দিবেন অতিতের সব রহস্য পরিচয় হবে আপনার অতিতের সব কালজয়ী শিকারির সাথে। এটা কী কম সৌভাগ্যের কথা বলুন । এখানে আপনি নিজে টাইম মেশিন করে যাবেন পৃথিবীর বিভিন্ন যুগে একেবারে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সব যুগ ঘুরে আসবেন দেখবেন সেই যুগের অনুপম চিত্র আর শুনবেন তাদের গা শিউরে ওঠা জীবন কাহিনি আর আছে বিবর্তন এর গল্প কীভাবে বিবর্তন-এর ধারায় এসেছে আমাদের এই জীবজগৎ। দেওয়া আছে বিবর্তন এর বহু প্রশ্নের উত্তর হয়তো আপনার মনে আকিবুকি করছে। আমরা কী সত্যি বাদর থেকে এসেছি? কেন কলা আর আমাদের ডি এন এ এর মাঝে মিল আছে আসলেই কী ট্রাঞ্জেনশনাল ফসিল( লোক জনের দেওয়া অবৈজ্ঞানিক নাম হলো মিসিং লিংক) নেই? ক্যাম্বিয়ামে এতো জীব কীভাবে এলো? প্রাণ আসলে কী? ফসিল কী? মিউটেশন কী এই সব প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই বই-এ আজ থেকে অনেক বছর আগে পৃথিবী যখন নরক ছিলো চার পাশে গলিত লাভা থকবক করতো তখন আপনি চলে এসেছেন তখন কী দেখবেন আপনি? দেখবেন পৃথিবীর কপালে চাঁদ মাম টিপ দিতে আসছে সরি এটা চাঁদ মামা নয় থিয়া মামা। থিয়া মামার ধাক্কা খেয়ে পৃথিবীর এলো জ্বর চারপাশের নরক আরো নরকে পরিণত হলো। এই নরক লগ্নে জন্ম হলো চাঁদ মামার আহা কী সুন্দর কাহীনি তাই না? এই চান্দের দেশের জন্মের কথা লেখক "সেলিন" নামক গল্পের মাধ্যমে। এক কথায় অসাধারণ। লেখকের একটা বড় গুন কী জানেন তিনি গল্প বলতে বলতে আপনাকে খাইয়ে দিতে পারেন অখাদ্য মাথা ঘোরানো সব জটিল জটিল বিষয়। তিনি গল্পের সাহায্যে প্রত্যেক যুগ মানে পৃথিবীতে প্রথম কোষটা কী ভাবে এলো তার পর আরকিয়ানের সুমুদ্র প্রোটারোজয়িক ইওন এ বহুকোষীদের আগমন থেকে কার্বোনিফেরাস এর দৈত্যাকার পোকাদের(হ্যাঁ পোকা বড় বড় চ্যারা ফড়িং এসব আর কী) ট্রায়াসিক জুরাসিক শেষে কোয়ার্টার্নারি(এই কয়টা নিয়েই পুরো বই ভাবলে ভুল করছেন পৃথিবীর প্রত্যেক যুগ আর সেই যুগে আসা প্রানীদের নিয়ে আলোচনা আছে সূচি পত্র দেখলেই বুঝতে পারবেন) যুগের আমাদের গল্প সব এমন ভাবে বর্ননা করা হয়েছে যেনো মনে হয় আপনিই সেখানে ছিলেন নিজের চোখে দেখেছেন ,নিজে এক্সপেরিয়েন্স করছেন। যারা বায়োলজিকে যাচ্ছাতাই মনে করেন তাদের জন্য এই বই পড়ার অনুরোধ রইলো বায়োলজি যে কতটা রহস্যময়, ফিজিক্সের থেকে কোন অংশে কম যায় না এই বই না পড়লে বুঝবেন না। লেখকের আরেকটা গুনের কথা বলে যাই তিনি যে করেই হোক আপনাকে লেখার মাঝে ডুবিয়ে রাখবে উঠতেই দিবে না কিংবা আপনিই চাইবেন না। ৪৬০ বছরের ইতিহাস আর সেই ৪৬০ বছরে ঘটে যাওয়া কালজয়ী ঘটনা নিয়ে এই বই। তো যেতে চান না টুরে আদীম পৃথিবীর কুশায় ভরা রহস্যময় পৃথিবীতে? আইস গোলব আর্থে আইস ক্রিম খাওয়াবো চিন্তা নেই উঠে পড়ুন টাইম মেশিনে জি-জি-জি-জীপ……. আদীম পৃথিবীতে আপনাকে স্বাগতম"
Sarah Khan , Mar 14, 2022
"সায়েন্সভেঞ্চার(৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস) নাঈম হোসেইন ফারুকী প্রান্ত প্রকাশনী পৃষ্ঠা সংখ্যা:৩০৪ মূদ্রিত মূল্য:৪৫০ টাকা রইব না কোন বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে- আকাশ বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জল পাহাড়-চুঁড়ে। আমার সীমার বাঁধন টুটে দশ লিখেছে পড়ব লুটে পাতাল ফেড়ে নামব নিচে,ওঠবে আবার আকাশ ফুঁড়েঃ বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে এই কবিতা অনেকটা পুরো বইয়ের বিষয়বস্তই তুলে ধরেছে।এই ছোট্ট কবিতার মতো আমারা ভ্রমণ করবো সারা পৃথিবী , সময় সবকিছুতে।প্রথমেই লেখক আমার অ্যান্টম্যানের পোশাক পড়িয়ে ছুঁড়ে দেবেন সাধারণ এক পুকুরে যেখানে আমাদের পরিচয় হবে অদ্ভুদ সব অচেনা প্রাণীদের সাথে।আবার কখনো নিয়ে যাবে একদম শুরুতে।মনে প্রশ্ন জাগে আমরা এলাম কোথা থেকে? পৃথিবীর সৃষ্টি হলো কিভাবে?সেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে এই বইয়ে।আবার লেখক তোমাকে নিয়ে যাবে ডাইনোসোর এর যুগে। মানুষ সৃষ্টির পর কোন যুগে কি হয়েছিল তাও জানতে পারবে তুমি।এক কথায় আমাদের মানুষের সাড়ে চারশ কোটি বছরের ইতিহাস রয়েছে এই বইতে। রেটিং:১০/১০"
Saumitra Chakravarty , Feb 21, 2022
"A must read for those who want to understand life. Good for beginners."
Azim Abdullah Rafi , Dec 9, 2021
""মাটির নিচে আছে অন্ধকার দুনিয়া।সেখানে বাস করে অমঙ্গলের দেবতা হেডিস।তাঁর দুই অনুচর- কষ্ট আর ভয়" _ হারকিউলিস। আমাদের এই গোলাটার নামই তো পৃথিবী,তাই না? আমাদের এই পৃথিবীর বয়স কত?১শ বছর?১ হাজার বছর?১ লক্ষ বছর? ৪৬০ কোটি বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস এর!না,শুধু যুদ্ধ আর রাজ্য দখলের ইতিহাসের কথা বলছি না! পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকে ঘটে যাওয়া প্রকৃতির সেই অদ্ভুৎ ইতিহাসের কথা বলছি। আমরা যখন বায়োলজি পরীক্ষায় সংক্ষেপে মানুষ এর ইতিহাস লিখি,তখন আসলে আমাদের কোটি কোটি বছরের ইতিহাসই লিখে দিয়ে আসি।হয়তোবা অজান্তেই,কিংবা জেনে। আমরা মানুষ,হোমো স্যাপিয়েন্স।একইসাথে হোমিনিনি,আবার হোমিনিডি,এমনকি হোমিনইডি এবং সিমিয়ান। আমরা প্রাইমেট আবার আমরা-ই ম্যামাল।আমরা সিন্যাপসিড,আমরা বাইল্যাটারিয়া,একইসাথে কর্ডাটাও।আমরা অ্যানিমেলিয়া আবার এই আমরাই ইউক্যারিওটা!আমরা ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস। অনেক গুলিয়ে ফেললাম,সরি। আজ এই পৃথিবীতে রাজ করছে মানবজাতি।বেশ আরামসে খাচ্ছি,ধ্বংস করছি।কিন্তু আমাদের এই সুযোগ টি কি আদি-তেও ছিল?পৃথিবীর জন্ম থেকেই কি চলছে আমাদের রাজত্ব? আচ্ছা,প্রাচীনকালেও তো অনেক প্রাণী ছিল,তাদের কয়জনই বা এখন আছে?থাকলে তারা কারা এবং কেন এখনো আছে?আর যারা চলে গেলো আমাদের ছেড়ে তারাই বা কেন চলে গেল? আজ যদি আমাদের সঙ্গে ডাইনোসর থাকতো তাহলে কেমন হতো?নিশ্চই এই প্রশ্নের উত্তর আপনি আন্দাজ করে ফেলতে পারবেন,কারণ আমাদের বেশিরভাগই জুরাসিক পার্ক/ওয়ার্ল্ড মুভিগুলো দেখে এসেছি।কিন্তু সেখানে দেখানো ডাইনোসরগুলো কি আদৌ তেমন ছিলো?তারা কি এতটাই হিংস্র ছিলো যে আমাদের সঙ্গে থাকতে হলে তাদেরকে বেঁধে রাখতে হবে! আমরা তো প্রাচীনকালে ছিলাম না(এই প্রাচীনকাল মানে কয়েকশো বছর আগের প্রাচীনকালের কথা বলছি না,ওটাকে প্রাচীনকাল বলে না।আমি কয়েক কোটি থেকে কয়েকশো কোটি বছরের আগেকার কথা বলছি)।তো,প্রাচীনকালে মানুষ না থাকলেও কিভাবে আমরা আজ বলতে পারছি,অমুক সময়ে তমুক প্রাণী ছিলো,সে এই করতো সেই করত,একে খেত ওকে খেত?!বিজ্ঞানীরা ফসিল থেকে কিভাবে এত তথ্য পান? সব ডাইনো-রা কি খারাপ?সবাই কি শুধু চোয়াল মেলে হা করে চিৎকার করত আর অন্য দুর্বল প্রাণীদের খেয়ে ফেলতো? আজ যে তেলাপোকা আছে সে তেলাপোকা কয়েক লক্ষ বছর আগেও ছিলো।কিন্তু এখনকার তেলাপোকা আর তখনকার তেলাপোকারা দেখতে প্রায় একই হলেও এদের মধ্যেই আছে বিশাল ফারাক। নতুন নতুন বিবর্তন নিয়ে জানলে,সবার মনেই কিছু কমন প্রশ্ন থেকে যায়।মানুষ কি আসলেই বানর থেকে এসেছে?ডাইনোসর(টি-রেক্স) কি তাহলে সত্যিই ছোট হয়ে মুরগী হয়েছে?আসলেই এককোষী প্রাণী থেকে সকল জীবের জন্ম? এরকম,প্রাচীন পৃথিবী,বিবর্তন এবং প্রাচীন জীবজগৎ নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়ে একটি থ্রিলার বইয়ের মতই লেখা হয়েছে এই বইটি।এরকম কিছু প্রশ্ন,হাইথটের কথাবার্তা,আর এডভেঞ্চার নিয়ে লেখা বইটি পড়লে অনেকসময় গা শিউরে উঠা ফিলিং আসবে,কখনো বা দুর্বলদের গল্প শুনে মায়া লাগবে।আবার কখনো একটা দুটা লাইন শুনে হাসি আসবে।আবার সেগুলো বুঝতেও কাজে দিবে।যেমন: "প্রাইমেট তোমার নাম কি,দাঁতে পরিচয়!" বইটিতে প্রথমে আপনাকে পিপড়ার সমান মানব,তথা Ant-man বানিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে পুকুরে।যখন আকার হয়ে যাবে ব্যাঙাচির চেয়েও ছোট,তখন বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল! আকার,ছোট সাথে অক্সিজেন,স্যুট আর আপনি আছেন ব্যাকটেরিয়া,ব্যাঙাচি,মাছসহ সব জলীয় প্রাণীর সাথে,যদিও আপনি আকারে প্রায়(!) সবার চেয়ে ছোট।এরপর আপনাকে পরিচয় করানো হবে সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্যের সাথে! এরপর কিছু জিওলজিক্যাল কথাবার্তা চলবে,তারপর আপনাকে ধরিয়ে দেয়া হবে একটা ড্রিল।নিজেই কিছু জেনে আসুন না! এরপর ধরেন একটা টাইম মেশিন পেলেন,মন চাইবে না কোটি কোটি বছর আগের প্রাকৃতিক বৈচিত্র উপভোগ করার?আপনাকে ধীরে ধীরে পৃথিবীর অতীতে নিয়ে যাওয়া হবে,সরি পৃথিবীর শুরুতে।সেখান থেকেই শুরু আসল মজা।দ্য এডভেঞ্চার বিগিন্স... এই হলো মূলত আমার নজরে বইটির প্রকৃতি।মূলত জীববিজ্ঞান এর বই বলা যায় একে।(যদিও প্রায় ৯০% ই প্রাচীন পৃথিবী)।তবে কোথাও কোথাও হালকা পদার্থবিজ্ঞান আছে।যেমন:প্লেট টেকটোনিক্স,জিওম্যাগনেটিজম,ওরোজেনেসিস(পর্বতের জন্ম), মিনানকোভিচ সাইক্যাল(ব্যাসিক্যালি আইস এইজ কেন হয়,ঋতু পরিবর্তনের কারণ ইত্যাদি নিয়ে)ইত্যাদি। বইটির প্রোডাকশন কোয়ালিটি এভারেজ।যদিও কাগজগুলো বেশ শক্তপোক্ত।কিন্তু ফ্লেক্সিবিলিটি কেমন জানি।চেপে ধরে রাখতে হয়,নাহলে পেজ বন্ধ হয়ে যায়।যাইহোক,প্রোডাকশন আমার কাছে এভারেজ লাগার আরেকটা কারণ আমার কয়েকটা পেজে আঠা লাগানো ছিল,যার ফলে,আলাদা করতে গিয়ে কয়েকটা লাইন এর একটু ক্ষতি হয় :’( লেখকের লেখার স্টাইল রীতিমতো চমৎকার।কারণ বেশি প্যাচালো না।সহজবোধ্য। আর সহজবোধ্য মানেই চমৎকার। প্রোডাকশন ভালো না লাগলেও,এই বইয়ের কভারটা আমার এবছরে কেনা সব বইয়ের মধ্যে One of the best! আমার দৃষ্টিতে বইয়ের কিছু ত্রুটি ছিলো,যেমন:কিছু ছবি ছিলো কোনো হেডিং ছাড়া,যেমন একটা গরগনস্পিডের ছবি আছে,ছবির নিচে নাম নেই যে এটা গরগনস্পিড কিনা।হ্যা,বর্ননা বেশ সুন্দরই ছিলো।কিন্তু টানা পড়তে গেলে,ছবির সাথে এডজাস্ট করা কষ্ট হয়ে যায়।বইটাতে বানান ভুলও ছিলো মোটামোটি।তবে,তা এডজাস্ট করার মত। সবশেষে বলবো,এই বইটি ভালো লেগেছে,কারণ লেখার স্টাইল সুন্দর।বিষয়বস্তু রেয়ার(বাংলায় এই জনরার বই নেই বললেই চলে)।আর,এই বই পড়লেই হয়ত কেও একজন বুঝবে জীববিজ্ঞান মুখস্ত করার বিষয় না।এর মাঝেও রস আছে! এটা গল্পের বই, বিজ্ঞানের গল্প। বইয়ের নাম : সায়েন্সভেঞ্চার (৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস) লেখক:নাঈম হোসেন ফারুকী। প্রকাশক:প্রান্ত প্রকাশন প্রচ্ছদ:মেহরাব সিদ্দিকী সাবিত। মূল্য:৪৫০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যা : প্রায় ৩১০। পার্সোনাল রেটিং :৮.৯/১০ রিডিং টাইম:অনেক(আমি স্লো রিডার)। ধন্যবাদ,হ্যাপি রিডিং..."
Kamrun Nahar , Nov 29, 2021
"Good"
Shahir Khan , Oct 27, 2021
"যারা Evolution নিয়ে পড়াশোনা করেন; তারা বুঝবেন যে নাঈম সাহেবের এই বইটা কত গুরুত্বপূর্ণ। Evolutionary Timeline নিয়ে এত সুন্দর, গোছানো, রোমাঞ্চকর একটা বই এক রত্ন। এটা হাতে নিলেই আনন্দ লাগে; আর বিবর্তন নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে তো বটেই! আল্লাহ আপনার উপর রহমত ও বরকত নাজিল করুন।"
Muhammad Arif , Sep 25, 2021
"অসাধারণ বই। এতো সহজ করে কঠিনতম বিষয়গুলো বোঝানোর প্রচেষ্টার জন্যে লেখককে ধন্যবাদ।"
Shouvik , Sep 13, 2021
"পৃথিবীর ইতিহাস সম্পর্কে ভালো একটা বই।বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলোও ফ্যাক্ট চেকড।সময় পেলে অবশ্যই পড়বেন।"
Nathaniel Émorel , Aug 4, 2021
"এক কথায় অসাধারণ"
Jhuton Roy , Aug 3, 2021
"বইঃ সায়েন্সভেঞ্চার লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী। বইটা বিজ্ঞানের আবার ইতিহাসের ও। যেখানে একের পর এক বলে যাওয়া হয়েছে পৃথিবীর ৪৬০ কোটি বছরের বিবর্তনীয় ইতিহাসের সব গুলো গল্প। প্রথমেই চলুন বইটার অধ্যায়গুলো নিয়ে অল্প একটু ধারণা নিই। অধ্যায় একঃ যেখানে লেখকের লেখায় প্রথমেই আপনি পরিনত হবেন একটা পুঁচকে অ্যান্টম্যানে। স্যাুট, অক্সিজেন সিলিন্ডার আর ফ্লিপার নিয়ে আপনি ঝাপ দিবেন একটা পুকুরে। তার সাথে সাথেই আপনি পৌঁছে যাবেন এক ভিন্ন জগতে। সেখানে লেখক ছবির মতোঙ আপনার চোখের সামনে একে একে প্রদর্শন করতে থাকবেন অদ্ভুত সব পরিবেশ, অদ্ভুত সব জীব জন্তু সকলদের মোটকথা আপনি তখন অনুভব করতে থাকবেন অজানা অচেনা এক সময়কালকে। অধ্যায় দুইঃ এখানটায় লেখক মূলত পৃথিবীর ভূমধ্যস্ত স্থর এবং এর প্রকৃতি, পরিবেশ বর্ণনা করে গেছেন। পৃথিবী গভীরের এ ভ্রমনে একের পর এক আলোচিত হয়েছে; ক্রাস্ট, ম্যান্টেল আর, কোর। তবে এক্ষেত্রে আলোচনার ধরনটা বেশ সাবলীল ছিল বলা যায়। পর্যাপ্ত ছবি আর উদাহরণ দিয়ে দিয়ে কঠিন বিষয়গুলো ও সহজ ভাষায় লিখে যাওয়া হয়েছে। ধারণা দেওয়া হয়েছে প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব সম্পর্কেও। অধ্যায় তিনঃ এ অধ্যায়ের শুরুটা হয়েছে 'সেলিন শিরোনামের চমৎকার একটা গল্পের মাধ্যমে। সত্যি বলতে বইয়ের প্রায় ৯০ভাগ আলোচনা আর বিবর্তনীয় ইতিহাস যা বলা হয়েছে তার প্রায় সবটুকুই এ অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে। তবে 'প্রাচীন পৃথিবীঃ ৪৬০ কোটি বছরের ইতিহাস' এর গল্পের শুরুতেই লেখক ধারণা দিয়েছেন 'প্রাণ', 'বিবর্তন' আর 'ফসিল' সম্পর্কে। প্রাণ নিয়ে আলোচনার অংশে লেখক লিখেছেনঃ "প্রাণ কাকে বলে? নাসার মতে, জীবন হচ্ছে একটা স্বয়ংক্রিয় রাসায়নিক সিস্টেম যেটা ডারউইনীয় বিবর্তন করতে পারে।......... ....প্রাণ হচ্ছে কেবলমাত্র এক সেট রাসায়নিক বিক্রিয়ার মিলিত সিষ্টেম। সকল জীবদেহ কার্বন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এরকম কিছু মৌল দিয়ে তৈরি। এগুলো দিয়ে হাজার হাজার জটিল যৌগ হয়। এরা নিজেরা নিজেদের সাথে আর পরিবেশের সাথে বিক্রিয়া করতে পারে। জীব মানে একথলি কেমিক্যাল।" এরপর একের পর এক উদাহরণ, যুক্তি আর সহজবোধ্য গল্পের ছলে বলা আলোচনার মাধ্যমে নিজ বক্তব্যের যৌক্তিকতা তোলে ধরেছেন। বিবর্তন অংশে লেখক আলোচনা করে গেছেন DNA, DNA রেপ্লিকেশন, জীবের মিউটেশন, বিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় সিলেকশন আর তার বিভিন্ন প্রকারভেদ সম্পর্কে। একই সাথে বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা ও ভাঙ্গা হয়েছে জনপ্রিয় কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়ে। যে-সব প্রশ্নের জবাব লেখক একে একে দিয়েছেন সেগুলো হলোঃ "১. প্রজাতির পরিবর্তন কীভাবে হয়? ২. মানুষ আর বানর পাশাপাশি আছে কীভাবে? ৩. বানর থেকে আর মানুষ হয় না কেন? ৪. নতুন প্রজাতি হতে কতদিন লাগে? ৫. চোখ কানের মতো জটিল জিনিসের বিবর্তন আসলে সম্ভব? ৬. বিবর্তন কি প্রমাণিত? ( বিবর্তনের কী কী প্রমাণ?)" ফসিল অধ্যায়ে মূলত আলোচনা করা হয়েছে ফসিল তৈরী হওয়ার বিভিন্ন প্রক্রিয়া আর ফসিলের বয়স নির্ণয়ের প্রক্রিয়া। এখানে ফসিল দেখে আসলে কি কি জানা যায়? সব প্রাণী কি ফসিল হয়? এই দুইটা প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে মোটামুটি বিস্তৃত পরিসরেই। আমার মতে পুরোটা বইয়ের মাঝে প্রাণ, বিবর্তন আর ফসিল অংশের আলোচনাটুকুতে সবচেয়ে বেশি গোছানো, সাবলীল আর সরাসরি বলে যাওয়ার ব্যাপারটা উপস্থিত ছিল। মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে এই অংশের আলোচনার গুরুত্বটুকু বিবেচনায় নিলে সেটা খুব প্রয়োজনীয়ই ছিলো। এরপরের "হেডিয়ানঃ নারকীয় পৃথিবী (৪৬০-৩৬০ কোটি)" অংশের আলোচনায় প্রথমেই আমাদের পৃথিবী নামক গ্রহ সৃষ্টির গল্প, এর প্রক্রিয়া, আর শেষে লেখা হয়েছে প্রথম প্রাণ সৃষ্টির শুরুর গল্পটুকু। তার সাথে সাথে প্রাণ সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কেও। তাছাড়া এ অংশটুকুতে সায়ানোব্যাকটেরিয়াদের সম্পর্কে ও জানা যাবে বেশ ভালো ভাবেই। তারপর "প্রোরোজয়িক ইওনঃ বহুকোষীদের জন্ম" পরিচ্ছদে লেখক আলোচনা করেন ইউক্যারিওটদের জন্ম এবং বহুকোষী জীবদের সূচনা সম্পর্কে। এরপর বিভিন্ন অধ্যায়ে পর্যায়ক্রমে উঠে আসতে থাকে ভিন্ন ভিন্ন সময়কালে পৃথিবীর অবস্থা আর তাতে বাস করা বা উদ্ভুত হওয়া বিভিন্ন প্রাণী, উদ্ভিদ, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া আর ছত্রাকদের গল্প। পাঠককে নিয়ে সারা পৃথিবীর সমস্ত অতীতের গল্পের জগৎ ঘুরিয়ে, অবশেষে আজকের মানুষদের গল্প বলার মাধ্যমে লেখক তার ইতিহাস ভ্রমন অভিযানের ইতি টানেন। যাইহোক এবার না হয় বইটি নিয়ে নিজস্ব কিছু ভালো লাগা, মন্দ লাগার ব্যাপারে লিখিঃ ১. বইটির সবচেয়ে ভালো দিক মনে হয় লেখকের সাবলীলতা। গল্পের ছলে একে একে সব গুলো ইতিহাস আর বিজ্ঞান এমন ভাবে বলা হয়েছে, পড়তে গিয়ে আমার অনুভুতিটা ছিল এমন ছিল যে মনে হয়েছে লেখক আমার সম্মুখে বসে আছেন আর ধীরে ধীরে বলে যাচ্ছেন উনার সমস্ত কথা আর আমি উনার মুখ থেকে সরাসরি তা শুনছি, জানছি, কখনও বা কোন অজানা জেনে বিস্মিতও হচ্ছি। তবে সব জায়গায় এমন সহজবোধ্যতা ছিলো না। ভাষা কাঠিন্যতা বা জটিল উপস্থাপনের ফলে মূল জিনিসটা আমার কাছে দুর্বোধ্য ঠেকেছিলো। ২. তারপর যে জিনিসটা আমার ভালো লেগেছে সেটা হলো বক্তব্য বোঝানোর প্রয়োজনে আলোচনার মাঝেখানে প্রয়োজনীয় সব প্রাণী, উদ্ভিদ আর বিবর্তন ট্রি এর ছবি তোলে দেয়া হয়েছে। এতে লেখাটা বুঝতে সহজ হয়েছিল। তবে প্রায় সবগুলো ছবিতেই কোন ক্যাপশন ছিলো না। যদি সবগুলো ছবির নিচে কিছুটা তথ্য যেমন প্রাণী বা উদ্ভিদটার নাম, তার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় আরও দুই একটা তথ্য যদি লেখা থাকতো। তাহলে আমার মনে হয় লেখা গুলো আরও সহজবোধ্য হয়ে উঠতো। আর বিজ্ঞানের বইয়ের ক্ষেত্রে সহজ প্রকাশ ভঙ্গি কে আমি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। ৩. প্রাণী বা উদ্ভিদ সম্পর্কে বলতে যেয়ে সেখানে কিছু কঠিন কঠিন নাম এসেছে। যেগুলো উচ্চারণ করতে গেলে আমার একটু হলে ও কষ্ট লাগে। তবে ভালো দিক হলো এই যে এগুলোর শব্দ সব ভেঙ্গে ভেঙ্গে এর এর সহজ বাংলাগুলো লিষ্ট আকারে তোলে ধরা হয়েছে। তাছাড়া আলোচনার মাঝেও কঠিন নামগুলোর সহজ বাংলাটা লিখা হয়েছে। তবে সব ক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। কখনও কখনও হঠাৎ দুই একটা নাম যখন আসছিলো তখন এদের সম্পর্কে কিচ্ছু মনে করতে পারছিলাম না। তারপর পেছনের দু এক পাতা পড়ে বুঝে নিতে হয়েছিলো। তবে যেহেতু আমি দাগিয়ে দাগিয়ে বইটা পড়েছি সেহেতু বুঝতে যেয়ে আমার এতো বেশি বেগ পেতে হয়নি। না হলে কয়েকটি জায়গায় একটু বেশিই খটরমটর লাগতো। ৪. বইটির আরেকটা ভালো দিক হলো এতে আলোচনা গুলো অনেকটাই গোছানো আর লেখার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় ছিলো। আর আলোচনাগুলো গল্প বলার মতো বলে যাওয়াটা আমার কাছে ভালো লেগেছিল। ৫. মন্দ দিক বলতে চাইলে বলবো বেশ কয়েকটি বানান ভুল ছিলো। আর সেটা চোখে পড়ার মতোই। আর কয়েকটা ছবি আর ট্রি এর লেখাগুলো সামান্য ছিলো। আশা রাখি পরবর্তী সংস্করণে লেখক সেটা বিবেচনায় নিয়ে বানানগুলো আরও নির্ভুল করবেন। এতক্ষণ তো লেখকের লেখা নিয়ে লিখে গেলাম এবার তবে একটু লেখক কে নিয়ে আমার নিজের মতো করে লিখি। তবে তা একটু এই বই থেকে কপি বা সামান্য ঘষামাজা করে লিখছি। হাজার বছর ধরে পৃথিবীর পথে হেঁটে হেঁটে একটা মানুষ ক্লান্ত, বিধ্বস্ত। সে মানুষকে বিজ্ঞানে আগ্রহী করতে, প্রমাণিত বিজ্ঞানের গল্প শোনাতে চায় বলে তার কপালে জুটেছে বিজ্ঞানবাদীর খেতাব। নিজের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে যে মানুষটা বিজ্ঞানের বই লিখে যাচ্ছে, জানতে আগ্রহীদের প্রশ্নের বিজ্ঞানসম্মত উত্তর দিয়ে যাচ্ছে - অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো অবিরাম সে মানুষটার কপালে জুটেছে অসংখ্য ঘৃণা আর অপবাদ। তবে সংখায় কম হলেও তিনি সিক্ত হচ্ছেন শক্তিশালী কিছু ভালবাসা আর কৃতজ্ঞতায়। যা সংখ্যায় কম হলেও পরিমাণে বোধহয় অনেক অনেক বেশি। ঝুপঝুপ বৃষ্টি, অবিরাম ব্যাঙ আর ঝিঁঝি পোকাদের কোলাহলে যখন পরিবেশ মোহময় হয়ে ওঠে ক্লান্ত বিধ্বস্ত মানুষটা তারই মাঝে শান্তি খোঁজে বেড়ায়- অন্ধ, অকৃতজ্ঞদের আক্রমণ ভুলে যেয়ে।"
James Smith , Aug 3, 2021
"#বুকরিভিউ বইয়ের নামঃ সায়েন্সভেঞ্চার লেখাঃ নাঈম হোসেন ফারুকী বায়োলজিতে সবসময়ই আমার অনীহা। তবে বিবর্তনপাঠ এর ব্যতিক্রম। বিষয়টি নিয়ে জানার পর থেকে বিভিন্ন আর্টিকেল বা ইংরেজি বই থেকে এ সমন্ধে জানার চেষ্টা করেছি।তারই পরিপ্রেক্ষিতে সায়েন্সভেঞ্চার বইটি পড়া।লেখক শুরুতেই বিবর্তন নিয়ে কপচাননি।১ম অধ্যায়ে অ্যান্টম্যান বানিয়ে পুকুরে পাঠিয়ে দিয়েছেন।অন্তত এই একটি কারণ হলেও মানুষ হয়ে জন্মানোর মধ্যে সার্থকতা খুঁজে পাচ্ছি।ছোট হয়ে জন্মালে চারপাশে সবাই আমাকে মৃত্যুস্বাদ দেয়ার জন্য যে অধীর আগ্রহে বসে থাকতো তা ভাবলেই শিউরে উঠি।পরের অধ্যায়েও বিবর্তন নিয়ে আলোকপাত করা হয়নি তেমন।এখানে পৃথিবীর বিভিন্ন স্তর সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। পৃথিবীর মহাদেশগুলো কেন বিভক্ত হলো,কেন ভূমিকম্প হয়,প্যাঞ্জিয়া প্রক্সিমা কবে হবে,মেরু ধারণা, অরোরা সহ নানা বিষয়ে লেখক আলোচনা করেছেন।মূলতঃ অধ্যায় ৩ থেকেই শুরু হয়েছে আমাদের এই পৃথিবীর ইতিহাসের সূচনা।শুরু হয়েছে প্রাণের সঙ্গা দিয়ে।এরপর ধীরে ধীরে বিবর্তন, ফসিল, জীবের বয়স নির্ণয় পদ্ধতি দিয়ে আগানো হয়েছে।এরপর ঢুকে পড়া হয়েছে হেডিয়ান যুগে এবং আস্তে আস্তে পুরো ৪৬০ কোটি বছরের একটা সামারি তুলে ধরা হয়েছে।শুধু তাই নয় বরং প্রাণীরা দেখতে কেমন ছিল, তাদের খাদ্যাভ্যাস নির্বিশেষে জীবনযাপন বর্ণিত হয়েছে।আপনি বইটি পড়তে চাইলে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলতে পারবেন তবে আমার মনে হয় যথেষ্ট টাইম নিয়ে পড়া উচিৎ। এনসাইক্লোপিডিয়া টাইপের বই তাই অনেক তথ্য আছে তাই সময় করে তথ্য গলাধঃকরণ করেই বইটি পড়া উচিৎ। কারণ আপনি কারো কাছে পুরো ইতিহাস বর্ণনা করতে গেলে অবশ্যই তথ্যাদি উপস্থাপন করতে হবে।তবে বইটি কিন্তু বিবর্তনের প্রমাণ বিষয়ক নয়।বিবর্তনকে প্রমাণিত ধরে(এবং তা প্রমাণিতই) সম্পূর্ণ ইতিহাস লিপিবদ্ধ হয়েছে।"
Mashrafe Alam Eram , Aug 2, 2021
"বিবর্তন বেশ রকমের বিতর্কিত একটা টপিক। আর বিজ্ঞানের কোনো টপিকে মাতামাতি মানেই আমার মাথাব্যথা থাকবেই। বেশ কয়েকটা বই পড়া হয়েছে। কিন্তু কোনোটাতেই আমার তেমন সেটিসফেকশন ছিলো না। কারণ প্রায় প্রতিটা বইয়ের টপিকগুলো একইরকম। অর্থাৎ বিবর্তন ভুল নাকি শুদ্ধ এসব প্রমাণ করতে করতে গিয়েই বই শেষ। অথবা মানুষের ছোটখাটো বিবর্তন নিয়ে দুই একটা কথা লিখা থাকে। আমি এমন একটা বই খুঁজতেছিলাম, যেখানে বিবর্তন ভুল নাকি শুদ্ধ, এসব বিতর্ক থাকবে না। শুধুমাত্র সম্পূর্ণ ইতিহাসটা থাকবে। অবশেষে পেয়ে গেলাম সায়েন্সভেঞ্চার। . মূলত পৃথিবীর একদম শুরু থেকে কিভাবে প্রাণের উদ্ভব হলো, সেখান থেকে বিভিন্ন যুগে কিভাবে কোন প্রাণী এলো, বিভিন্ন প্রকার এক্সটিনকশন যেখানে অনেক প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যায়, আবার সার্ভাইভ করা সেই প্রাণীগুলো আবার কিভাবে পৃথিবীতে প্রাণের বিস্তার ঘটায়, সম্পূর্ণ ইতিহাসের সামারি বইয়ে দেওয়া আছে। . বইয়ের নামটার মাধ্যমেই বুঝা যায় এডভেঞ্চার টাইপের কিছু একটা আছে। বইয়ে শুধুমাত্র ইতিহাস বা বিজ্ঞান বর্ণনা করাই হয়নি, বরং একইসাথে পৃথিবীতে আসা বিভিন্ন যুগে ঘোরানো হয়েছে। একটা টাইম ট্রাভেলিং মেশিন নিয়ে প্রতিটা যুগের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, আর সেখানে অদ্ভুদ অদ্ভুদ বিচিত্র পরিস্থিতির ফিল দেওয়া হয়েছে। কোনো সময় হয়তো নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, বা খোলা জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, অথবা রাতের অন্ধকারে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন রান্না করা খাবার খাওয়ানোরও এডভেঞ্চার দেওয়া হয়েছে। নানা সময় নানান ধরণের প্রাণী আসবে সামনে, কখনো হয়তো ৫/১০ তলা বিশাল সাইজের প্রাণির সামনে পড়বেন, কিংবা অনেক বড় মাছ তাড়া করতে থাকবে আপনাকে, দৌড়াতে থাকবেন, ভাগ্য জোরে বেঁচে গেলে আবার অন্যান্য ভয়ংকর পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে। কোনো জীব আপনার চেনা না, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন টাইপের জীব। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এগুলোর কোনোটাই কাল্পনিক কিছু না, প্রতিটা জীব একসময় ছিলো, ফসিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন এভিডেন্স থেকে নিয়ে তাদের ইতিহাস উদ্ধার করা হয়ে গেছে। একসময় দেখতে পারবেন, কোনো একটা অবহেলিত প্রাণী সার্ভাইভ করতে করতে গ্রেট এইপ থেকে আস্তে আস্তে পুরো পৃথিবীকে আয়ত্ত্বে এনে নিয়েছে, আর আপনি তারই বংশধর। . রেটিং - ৮.৪/১০ Happy reading.."
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
2 টিবইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
পেইজ সংখ্যা?
I wanna buy this book is it available?
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"সায়েন্সভেঞ্চার" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: