১ম প্রকাশ, ২০২২
প্রশংসিত
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
৬ ভলিউমে ১০ খন্ড সহীহুল বুখারী শরীফ
জননী বুক ডিপো
তাকরিরে তিরমিযী
মুফতি মো. সাইফুল ইসলাম
হিফজ শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য বই
মাওলানা আনিসুর রহমান
এসো আরবি শিখি বাংলা - প্রথম খণ্ড
মাওলানা আবু তাহের মেছবাহ
বেহেশতি জেওর (মাসায়েল অংশ)
حكيم الامت مولانا اشرف علي تهانوي رح ( হাকীমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)
সহজ তাজবিদ শিক্ষা (কায়দা-আমপারা)
কওমী লাইব্রেরী
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | প্রশংসিত |
| Author | মুহাম্মদ সৈয়দুল হক |
| Publisher | দাঁড়িকমা প্রকাশনী |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২২ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 304 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | ইসলামি বই |
| Weight | 0.59 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
162 Ratings and 30 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩০টি
880****780 , Nov 24, 2025
"আমি পড়েছি, আমি কেঁদেছি,আমি উপলব্ধি করেছি, আমি ডুবেছি নবীজীর ভালোবাসার উষ্ণতায়। আমি হারিয়ে গিয়েছে রাসূলের প্রেমের সাগরে, ভেসেছি সীরাতের পাতায় পাতায়। ডুব দিয়েছি তার প্রেমের মহাসাগরে। ভালোবাসার এক অনন্য, অনবদ্য, অতুলনীয় দৃষ্টান্তের নম "প্রশংসিত"। প্রতিটি পাতা জুড়ে কেবলই স্নিগ্ধতা, মুগ্ধতা,আবেগ,মমত্ব, ভালোবাসার উষ্ণতা। চোখ ডুবিয়ে পড়ার মতো একটা সীরাত যেখানে নেই কোনো দলাদলির কাঁদা ছোড়াছুড়ি রয়েছে শুধুই মুগ্ধতা,আবেগ এবং উপলব্ধি। কখনো বা অঝোরে কেঁদেছি আবার কখনো বা অজান্তেই স্মিথ হেসেছি ।আমার জীবনে পড়া শ্রেষ্ঠ একটা উপন্যাস। লেখকের কাছে এমন ধাঁচের লেখা আরো আশা করি। আল্লাহ্ লেখকের হায়াতে খারিজি এনায়েত করুন,লিখাতে বারাকাহ দান করুন, সর্বোপরি উনাকে আফিয়াহ নসিব করুন।"
towfiq sultan (তৌফিক সুলতান) , Oct 27, 2025
"লেখক ও তাঁর অসাধারণ বইয়ের জন্য অফুরন্ত শুভকামনা। লেখনী যেন ছুঁয়ে যায় হাজারো হৃদয়, অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্মে।"
MD. KARIM ULLAH , Oct 25, 2025
"অসাধারণ একটি বই, সবার সংগ্রহে থাকা জরুরি।"
ana****com , Jul 19, 2025
"প্রশংসিত গ্রন্থ আমার কাছে এক পুরোনো সিডি প্লেয়ারের মতো। যখনি পড়ি মনে হয় মক্কা,মদিনা,তায়েফ,সিরিয়ার মতো ভূমিতে আমি বিচরণ করছি। শব্দচয়ন ছিল সাবলীল। আশা করি আপনার ভালো লাগবে।"
Rezvy , Mar 8, 2025
"মাশাল্লাহ অসাধারণ লেখনী। আল্লাহ আপনার খেদমত কবুল করুন"
abr****com , Dec 14, 2024
"one of the best book i've ever read. if there's a chance to read it twice i'll do it in sha Allah."
Muhammad Muzammel , Dec 2, 2024
"আমার পড়া বাংলায় সহজ সরল ভাষায় অসাধারণ একটি সিরাত গ্রন্থ ‘প্রশংসিত'। লেখক মনের মাধুরী মিশিয়ে বইটি লিখেছেন।"
Foizun , Nov 28, 2024
"অতিরিক্ত নাটকীয় করা হয়েছে,আগের যেহেতু কয়েকটা সীরাত পড়া ছিল,তাই ভালো লাগে নাই।"
mdn****com , Nov 13, 2024
"অসাধারণ লেখনী ---মাশা-আল্লাহ"
Nahida Akter , Oct 23, 2024
"মাশা আল্লাহ ।।।।।।।।।।।। অনেক সুন্দর । ✨✨যারাই এখানে রিভিউ পড়তে আসবেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ অবশ্যই বইটি একবার হলেও পড়ে দেখবেন। বইটা সম্পর্কে অনেক গুলো ভালো দিক তুলে ধরা সম্ভব কিন্তু এখানে আমি একটা তুলে ধরতে চাই। which, personally I found very unique . গল্পের ছলে ছলে অনেকগুলো কুরআনের আয়াতের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে । বিশেষত যুদ্ধ সম্পর্কীয় গুলো। এক কথায় বইটি অসাধারণ ✨✨✨✨"
8801518790148 , Oct 23, 2024
"অসম্ভব রকম সুন্দর একটা বই। সুন্দর সাবলীল ভাষা। সবাই সহজেই বুঝতে পারবেন।"
Md Yeasin , Oct 22, 2024
"আলহামদুলিল্লাহ। প্রশংসিত বইটি পড়ে আমি খুবই মুগ্ধ। সত্যি বলতে বইটির লেখক এমন ভাবে উপন্যাস আকারে প্রিয় নবীজি হযরত মোহাম্মদ (সা) এর জীবনে এতো সুন্দর ভাবে সাজিয়েজেন যে বইটি নিয়েও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। সীরাতগ্রন্থের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে আমার হিসেবে বিবেচিত। লেখকের উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি,সেই সাথে সবাইকে বইটি পড়ার উৎসাহ প্রকাশ করছি।"
Nahid Tarafdhar , Oct 11, 2024
"outstanding"
Jilan Ctg , Oct 11, 2024
"অসাধারণ এক বই।"
mam****com , Oct 11, 2024
"বুক রিভিউ #প্রশংসিত #আমরা অনেক উপন্যাসই পড়েছি।কিন্তু কখনো কি! নবীজি সাঃ এর জীবনী নিয়ে রচিত উপন্যাস পড়েছি।হয়তো ভাবছেন নবীজি সাঃ এর জীবনী নিয়েও কি উপন্যাস রচনা করা যায়। হ্যাঁ করা যায়। লেখক @মুহাম্মদ সৈয়দুল হক লিখেছেন #প্রশংসিত।নবীজি সাঃ এর জীবনী উপন্যাস। লেখক তার উপন্যাসটিতে শব্দ সাজানোর এক অতুলনীয় কৌশল উপস্থাপন করেছেন।প্রতিটি বাক্যে রয়েছে সুমিষ্ট বচন। কোনো পাঠক যদি বই পড়তে শুরু করেন।শেষ না করে উঠতে মন চাইবে না।কারণ প্রতিটা লাইন শেষে রয়েছে আকাঙ্ক্ষা। মনটা অধীর যায় এর পরের লাইনে কি লিখেছেন! লেখকের লিখনির কৌশল খুবই চমৎকার। উপন্যাস বাক্যে তুলে ধরেছেন ইতিহাস, যুদ্ধের কাহিনী এবং আদর্শ সমাজ গড়ার এক নতুন দৃষ্টান্ত। প্রশংসিত উপন্যাসে প্রতিটি ইতিহাসের রয়েছে সঠিক তথ্য চিত্র। তথ্যের জন্য বাইরে কোথাও যেতে হবে না।কারণ লেখক সকল তথ্যের প্রমাণ বইটির ভিতরেই গচ্ছিত রেখেছেন। সবশেষে বলবো, উপন্যাস প্রিয় পাঠকদের জন্য #প্রশংসিত খুবই চমৎকার এবং প্রয়োজনীয় একটি গ্রন্থ।নবীজি সাঃ এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল ঘটনার তথ্য সহ বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। শেখ মামুন"
S. M. Gulam Rahman , Oct 10, 2024
"আলহামদুলিল্লাহ্, বইটি কেনার পর পরে শেষ করলাম! এই পর্যন্ত অনেক বই বা সীরাতগ্রন্থ লিখা হয়েছে মহানবী (সাঃ) কে নিয়ে, কিন্তু এই বইটি আমার কাছে অন্য রকম লেগেছে। তরুন লেখকের লিখনী , পরিস্থিতি সবার সামনে তুলে ধরেছেন এত সুন্দর করে , খুব ভালো লেগেছে। একবার পড়ার পর বারবার পড়তে ইচ্ছা করে। এই ধরনের লিখা এবং বই আরো আশা করি সৈয়দুল হক ভাইয়ের কাছে। তার জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা! তার এই প্রচেস্টা প্রিয় রাসূল (সাঃ) এর উছিলায় কবুল করুক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন।"
মিসেস জান্নাত , Oct 10, 2024
"খুবই ভালো মানে বই"
Mohammad Nur Alam , Oct 10, 2024
"এক কথায় দারুন একটি বই। পড়া শুরু করলে ছাড়তে মন চায়না। একটানা দুই বার পড়ে শেষ করলাম। প্রত্যেক বার যেন নতুনভাবে প্রাণাধিক প্রীয় রাসুল সাঃ প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছি। লেখক কে ধন্যবাদ দিতে হয় এমন একটি প্রমময় বই পাঠকসমাজ কে উপহার দেয়ার জন্য।"
hal****com , Oct 10, 2024
"পর্ব-২১ ফেরেশতা হাজির।জেরুজালেমের আকসা নবীজির সামনে। মাঝের সব বস্তু অদৃশ্য। কয়েকদিনের দূরত্ব কয়েক হাতের মাথায়।কিন্তু কেউ দেখে না।পরিবর্তন পরিদৃষ্ট হয় না।অন্যের জন্য যা দূরে,নবীজির জন্য তা সম্মুখে!অন্যের জন্য যা অদৃশ্য,নবীর জন্য তা দৃশ্যমান!নবীজি দেখে দেখে বলতে লাগলেন। কাফেররা হতবাক হতে থাকল।নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই আটকা পড়ল।ফাঁদ থেকে বেরোতে হয়।এর জন্য দরকার দ্বিতীয় ফাঁদ। 👉বিস্তারিত পড়ুন: 'প্রশংসিত'(উপন্যাস আকারে রচিত নবী করিম (স.)-এর জীবনী)"
Md Yeasin Arafat , Oct 10, 2024
"আলহামদুলিল্লাহ, বাংলা ভাষায় প্রিয়া রাসুলুল্লাহ (দরূদ) এর সীরাত নিয়ে এত সহজ সরলভাবে ও উপন্যাসআকারে আগে কেউ হয়তো লিখেন নি। লেখককে অসংখ্যা ধন্যবাদ। সীরাত সম্পর্কে জানতে আগ্রহী বই পড়ুয়াদের জন্য প্রশংসিত হবে সেরা একটি বই! Highly recommended."
Muhammad Sakib Uddin , Oct 10, 2024
"অনন্য,অনবদ্ধ।"
880****814 , Sep 30, 2024
"সৃষ্টিকর্তা পরম মমতায় তাঁর নাম রেখেছেন মুহাম্মদ, প্রশংসিত।সৃষ্টির পরপরই আল্লাহর প্রশংসা করে সিজদাবনত হন বিধায় তাঁর নাম হয় আহমদ। সর্বাধিক প্রশংসাকারী। প্রশংসিত বইটা আসলেই প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। লেখক খুব সুচারুরূপে সাবলীল ভাষায় প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী তুলে ধরছেন এই বইটিতে। এই বইটি পড়ে হয়েছি আবেগ আপ্লুত। প্রতিটি পৃষ্ঠার ভাজে লুকায়িত আছে ইশ্বক আর রহস্যময় উক্তি, রহস্যময় উক্তি গুলো উদ্ঘাটন করতে গিয়ে মনে হয় সেই সোনালি যুগে আমি অদম বিচরণ করেছি। আগেও নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ পড়েছি, কিন্তু এই বইটি পড়ে নতুন কিছু জ্ঞান অর্জন করছি। অনেক অনেক শুকরিয়া লেখককে এতো সুন্দর একটা বই আমাদেরকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।"
sal****com , Sep 25, 2024
"আলহামদুলিল্লাহ, কিতাবটি পড়েছি। প্রশংসিত মানে প্রশংসিত, সাহিত্যের আদলে বাংলা ভাষায় ও এত নিপুণ ভাবে রাসুলের প্রশংসা করা যায়। আল্লাহ লেখককের লিখনিতে বরকত দিন।"
N A M Moheuddin , Sep 21, 2024
"বাংলা ভাষায় উপন্যাস আকারে লিখিত প্রথম সিরাত গ্রন্থ।আমার পড়িত সবচেয়ে বেশি সুন্দর,মার্জিত, প্রশংসিত, মানসম্মত গ্রন্থ।যাকে নিয়ে লিখিত,তিনি তো চির প্রশংসিত।তাঁর কল্যাণময় সিরাতের ছোঁয়াই গ্রন্থটিও হয়ে উঠেছে সকলের নিকট প্রশংসিত।লেখকও হয়েছেন বেশি প্রশংসিত।"
hk2****com , Sep 18, 2024
"অসাধারণ বই! নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর জীবনীর উপর বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ বই।"
sha****com , Sep 13, 2024
"Well🤍"
880****121 , Sep 9, 2024
"এক কথায় অসাধারণ যেটা আসলেই ব্যাক্ত করার মত নয় আল্লাহ লেখক ও পাঠকদেরকে কবুল করুন এবং আখিরাতে নাজাতের উসিলা করুন আমিন"
Zannatul Ferdous , May 25, 2024
"আপনি "প্রশংসিত" উপন্যাসটি কেন পড়বেন? মূলত বইটি মহানবি হজরত মুহাম্মদ সা: এর জীবনের ঘটনাবলিকে উপজীব্য করে লেখা হয়েছে। তবে এটি কোন গতানুগতিক ধারার জীবনীগ্রন্থ নয়। এটি মূলত উপন্যাস আকারে রচিত একটি সিরাতগ্রন্থ। যেখানে লেখক গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নবী-জীবনের ঘটনাগুলো উপন্যাসের ধাঁচে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করে গেছেন। লেখক তার ভীষণ সহজ ও সাবলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিটি ঘটনাবলিকে যেন, জীবন্ত রূপ দিয়েছেন। যার প্রতিটি পাতায় ভেসে উঠেছে ইতিহাসের সমস্ত সত্য ঘটনা। ভেসে উঠেছে সময়ের আবহ ও গুরুত্ব। ঘটনার প্রয়োজনে তিনি কখনো নাটকীয় সংলাপের সাহায্য নিলেও, কোন কাল্পনিক তথ্য উপস্থাপন করেননি। বরং প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইটি পড়ার মাধ্যমে প্রতি মুহুর্তেই আপনি আন্দোলিত হবেন। জানা-অজানা আরও সকল তথ্যের দুয়ার আপনার সামনে খুলে যাবে। নতুন করে ধরা দেবে, এই মহাবিশ্বের সবচেয়ে আদর্শ মানুষের জীবনাচরণ। যা জাগ্রত করবে আপনার স্বীয় জীবনবোধ। নবী জীবন সম্পর্কে তাই ভিন্ন ধাঁচে আরেকটু বিস্তারিত জানতে চাইলে, এই সিরাতগ্রন্থটি হতে পারে চমৎকার একটি মাধ্যম।"
sri****com , Apr 7, 2024
"চমৎকার।"
N. Sezan , Oct 4, 2023
""ইসলামই ঐ সওদা নিয়ে এলেন নবীন সওদাগর, বদনসীব আয়, আয় গুনাহগার, নতুন করে সওদা কর।" -কাজী নজরুল ইসলাম পৃথিবী যার আগমনে চুড়ান্ত স্বার্থকতা পেল, মানব জাতি পেলো নতুন আলোর দিশা, মুক্তির পাথেয়। পাপীতাপী পেলো নাজাতের অবলম্বন। যার আগমনে হিল্লোল উঠেছিলো আকাশ বাতাস। তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নবীউন নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ। তিনি কেবল নবী ছিলেন না, ছিলেন শেষ রাসূলও। তাঁর পরে আর কোনো নবী পৃথিবীতে আসবেন না। তিনি প্রেরিত হয়েছেন পুরো মানবজাতির জন্য। স্বয়ং আল্লাহ বলেন-"আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ।" ◾ ঘটনাবহুল নবী জীবন ▪️ নবুয়তের পূর্বে - ইংরেজীতে বিখ্যাত একটি বাক্য আছে- "Life is not a bed of rose." বাক্যটার বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে নবী করিম ﷺ জীবন। চাইলেই তিনি আরবের রাজ মুকুট মাথায় দিয়ে বিলাসবহুল জীবন পার করে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি দুনিয়ার দুদিনের সুখ ত্যাগ করে জান-মালের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন জান্নাত। নবী করিম ﷺ এর জীবনকে মোটদাগে দুইভাবে ভাগ করা যায়। এক হচ্ছে মক্কা জীবন আর আরেক মাদানী জীবন। আবার অন্যভাবে, এক হচ্ছে নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বেকার জীবন আর আরেক নবুয়ত প্রাপ্তির পরবর্তী জীবন। যেভাবেই ভাগ করা হোক, মক্কা জীবনের সময়কালটা তুলনামূলক কম ঘটনাবহুল ও ঝড়ঝাপটা বিহীন। কেবল দুঃখের সময়টা ছিলো, জন্মের আগেই বাবার মৃত্যু, ছোটবেলায় জন্মধাত্রী মমতাময়ীর মৃত্যু। পিতৃতুল্য পিতামহ আব্দুল মোতালিবের মৃত্যুর পর, আট বছরে বয়সে চাচার আবু তালিবের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেন। এ সময়ই আবু তালিব জানতে পারেন ইহুদী ও খ্রিষ্টান পাদ্রীর মাধ্যমে ভাতিজা মুহাম্মদ সাধারণ কেউ নয়। তাওরাতে বর্ণিত মুহাম্মদ-ই সর্বশেষ নবী। তাই তিনি কখনও ভাতিজার পথে বাধা হয়ে দাড়াঁননি পুরো মক্কা যখন চলে যায় তাঁর বিপক্ষে। বরং তিনি খুব আগ্রহ ভরে নিয়ে যেতেন সিরিয়ার বাণিজ্যে। যত্ন করে শিখাতেন। উপযুক্ত বয়সে বিয়ে দেন মক্কার ধনী মহিলা দেখে। একদিকে মুহাম্মদের বাণিজ্যের কৌশল আর আরেকদিকে স্ত্রী খাদিজার দৌলত। দিনদিন আরও ফুলে ফেঁপে উঠতে লাগলো। এরপর আসলো সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। সময়টা ৬১০ খ্রিষ্টাব্দ। জাবালে হেরায় হয়রত জিবরাঈল আঃ নিয়ে আসলেন মহান আল্লাহর একত্ববাদ। নাযিল হলো সূরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। ٱقْرَأْ بِٱسْمِ رَبِّكَ ٱلَّذِى خَلَقَ خَلَقَ ٱلْإِنسَٰنَ مِنْ عَلَقٍ ٱقْرَأْ وَرَبُّكَ ٱلْأَكْرَمُ ٱلَّذِى عَلَّمَ بِٱلْقَلَمِ عَلَّمَ ٱلْإِنسَٰنَ مَا لَمْ يَعْلَمْ পড়ুন আপনার প্রভুর নামে যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন, আপনার পালনকর্তা মহা দয়ালু। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। ▪️ নবুয়তের পর মক্কা জীবন - নবুয়তের প্রথম দাওয়াত কবুল করলেন হযরত খাদিজা রাঃ। বালকদের মধ্যে কবুল করলেন হযরত আলী রাঃ এবং বয়স্কের মধ্যে হযরত আবু বকর রাঃ। তিন বছর চললো গোপনে দাওয়াত। ততদিনে বেশ কয়েকশো সাহাবী নবীজীর ডাকে সারা দিলেন। এরপর এলো আল্লাহর আদেশ প্রকাশ্যে প্রচারের। আর শুরু হলো নবী জীবনের সবচে' কষ্টকর দিন। নবী করিম ﷺ কুরাইশ বংশের চল্লিশ জন নেতাকে ডাকলেন ইসলামের দাওয়াতে কিন্তু আবু লাহাবের প্রভাবে ভেস্তে গেলো সব। এরপর নবীজী কাবার পাশে সাফা পাহাড়ে উঠে জনসমাবেশ আহ্বান করলেন- "ইয়া বনু ফিহর, ইয়া বনু কুরাইশ, ইয়া বনু কুসাই, ইয়া বনু কা'ব, ইয়া বনু আবদে মনাফ, ইয়া বনু আব্বাস, ইয়া বনু ফতেমা....." "হে আমার সম্প্রদায়, আমাকে তোমরা আল-আমিন বলে ডাকো। যদি এখনও সে বিশ্বাস থাকে তাহলে শুনে রাখো, আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। আমার উপড় ঈমান আনো। এক আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করো। মূর্তি পূজা ছেড়ে দাও। না হলে পেতে হবে কঠিন শাস্তি। নিক্ষিপ্ত হবে চিরস্থায়ী জাহান্নামে।" আবারও আবু লাহাব সবাইকে উস্কানি দিতে লাগলো। বলতে লাগলো মুহাম্মদ বেদ্বীন হয়ে গেছে। ধর্ম ত্যাগ করেছে। এর কথায় কান না দিয়ে নিজ নিজ কর্মে ফিরে চলো। এমন সময় জিবরাঈল আঃ ওহী নিয়ে আসলেন সূরা লাহাব ও তার পরিণতি জানিয়ে - تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ ١ مَا أَغْنَى عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ ٢ سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ ٣ وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ ٤ فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ ٥ আবু লাহাব, আবু জেহেলরা শুধু কথার দ্বারা কষ্ট দিয়ে লাঞ্ছনা করেনি, একদল বখাটে যুবকদের দিয়ে দলও বানালো। নবী যেখানেই যান, সেখানে গিয়ে বখাটেগুলো গণক, জাদুকর, কবি, পাগল বলে ক্ষেপায়। পাথর ছুড়ে। নবীজীকে র/ক্তাক্ত করে। নবীর চাচা আবু তালিককে শাসায় সবাই। নবীকে বুঝায়। নবুয়তের প্রমাণ চায়। প্রমাণ দেখার পরও যেই সেই। কেউ কেউ বিশ্বাস আনে, মুসলিমরা ঈমান মজবুত করে। হজ্বের মওসুম চলে এলো। নবী করিম ﷺ প্রস্তুত অনারবদের দাওয়াত পৌছাতে। এদিকে কুরাইশরাও বসে নেই, ফন্দিফিকির শুরু হলো কিভাবে আটকানো যায়। জাদুকর বলে প্রচার চালাবে বলে তারা সিদ্ধান্ত নেয়। অবশেষে নবীর দ্বীনের দাওয়াত হোক আর কাফিরদের অপপ্রচার হোক, দ্বীনের দাওয়াত পৌছে গেলো সব জায়গায়। সবাই জানলো আব্দুল মুত্তালিবের পৌত্র মুহাম্মদ নবুয়তের দাবী করেছে। এভাবে কাজ হবে না, কর্মপদ্ধতি বদলাতে হবে। এরপর শুরু হলো অমানুষিক নির্যাতন। হযরত বেলাল (রাঃ) ছিলেন আরেক জনের দাস। তাঁকে হাত-পা বেঁধে, বুকের উপড় ভারী পাথর তুলে রাখা হলো উত্তপ্ত মরুভূমিতে ফেলে। ইসলামের প্রথম শহীদ হযরত সুমাইয়া রাঃ ও তাঁর স্বামিসহ দুই সন্তানকে ন/গ্ন করে লোহার খাঁচায় ভরে রোদে রাখা হলো। রৌদ্রতাপে লোহা আগুনের থেকেও গরম হয়ে শরীরের মাংস পুড়িয়ে দিচ্ছিলো। এরপর আবু জেহেল আমূল বর্শা ঢুকিয়ে দেয় সুমাইয়া রাঃ এর বুকে। (ইন্নালিল্লাহি.....) এভাবেই দিনের পর দিন মুসলমাদের উপড় চলতে লাগলো নির্যাতন। ভাতিজার বিপদে এগিয়ে এলেন চাচা। বীর আমির হামযা রাঃ কালিমা পড়ে হয়ে গেলেন মুসলমান। তারপর হযরত উমর বিন খাত্তাব রাঃ। ততদিনে উসমান গণিও মুসলমান হয়েছেন আবু বকরের ডাকে। মুসলমানরা নতুন বল অনুভব করলো। উমর আনিল ঈমান। গরজি গরজি উঠিল স্বর গগন পবন মন্থর করি- "আল্লাহু আকবর।" -কাজী নজরুল ইসলাম। ওদিকে হাবশার (ইথিওপিয়া) শাসক নবীর গুণাগুণ ও সাচ্চা ঈমানদার সাহাবীদের সুহবতে ঈমান আনলেন। চারদিকে ইসলামের প্রচারে কাফেরদের অবস্হা তাথৈবচ! নবুয়তের সপ্তম বর্ষ। এবার একঘরে করে দেয়া হলো "শিয়ারে আবু তালিব"-কে। সব লেনদেন, আত্মীয়তা বন্ধ। এরকম তিন বছর চললো। এরপর দীর্ঘদিনের অভিভাবক চাচা আবু তালিবও চলে গেলেন। চলে গেলেন সহধর্মিণী হযরত খাদিজা রাঃ-ও। এদিকে নির্যাতনের পারদ বাড়তে লাগলো। তায়েফও সুবিধা করতে পারলেন না দ্বীনের দাওয়াত দিতে। উল্টো আরও বেশি নির্যাতিত হলেন। এর মাঝেই জিবরাঈল আঃ এলেন, নিয়ে গেলেন মিরাজে। ওদিকে ইয়াসরির তথা মদীনার গৃহযুদ্ধে পরামর্শ দিলেন নবী ﷺ। থেমে গেলো যুদ্ধ। আস্থা আসলো মানুষের মনে। মুসলমান বাড়তে লাগলো মদীনায়। এদিকে মক্কার মাটি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে লাগলো। তাই মহানবী ﷺ হিযরতের পরিকল্পনা করলেন মদীনায়। আস্তে আস্তে সব সাহাবীরা মদীনার পথ ধরলেন। অবশেষে কাফিরদের হীন মৃত্যুচক্রান্তে আল্লাহর আদেশে তিপ্পান্ন বছর বয়সে পাড়ি জমান আবু বকর রাঃ-কে সঙ্গি করে মদীনায়। ▪️ মাদানী জীবন - মদীনায় হিজরতের পর মুহাম্মদ ﷺ সামরিক ভাবে চিন্তাভাবনা শুরু করলেন পারিপার্শ্বিক অবস্হা বুঝে। মদীনা ছিলো তৎকালীন আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। ব্যাবসা-বাণিজ্যের জন্য মদীনা হয়েই সিরিয়ায় যেতে হয়। এখানে মুসলিমরা ছাড়াও বাস করতো খ্রিষ্টান, ইহুদী, পুত্তলিকসহ যাযাবর গোষ্ঠী। সামরিক চিন্তা থেকে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন। এ সিদ্ধান্তগুলো ছিলো সুদূরপ্রসারী। ইসলামকে দূর থেকে দূরান্তে ছড়িয়ে দিতে এর ভূমিকা ছিলো অনস্বীকার্য। মদিনার বিভিন্ন গোত্রগুলির সাথে শান্তিচুক্তি স্থাপন করলেন। যা মদীনা সনদ নামে খ্যাত। মক্কার কুরাইশ ও সহযোগী গোত্রগুলোর মাঝে গোয়েন্দা নিযুক্ত করলেন যাতে করে মুসলিমদের জন্য ক্ষতিকর এমন পূর্ভাবাস আগেই পেতে পারেন। মদিনার হয়ে বিদেশগামী তথা সিরিয়ায় আসা-যাওয়া মক্কায় বাণিজ্য কাফেলায় অভিযান চালানো। এরপর হিজরী ২য় বর্ষে বেজে উঠলো যুদ্ধের দামামা। ইসলামের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধ। বদর যুদ্ধ। ততদিনে জিহাদকে ফরজ ঘোষণা করেছেন আল্লাহ তায়ালা। "আল্লাহর পথে তাদের সাথে যুদ্ধ কর, যারা তোমার সাথে যুদ্ধ করে। তবে সীমালঙ্গন করো না।" সূরা বাকারা, আয়াত ১৯০। أُذِنَ لِلَّذِيْنَ يُقَاتَلُوْنَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوْا وَإِنَّ اللهَ عَلَى نَصْرِه لَقَدِيْرٌ- "যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হল ঐ লোকদের, যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, এ কারণে যে, তারা অত্যাচারিত হয়েছে। আর তাদেরকে সাহায্য করার ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহ ক্ষমতাবান।" সূরা হজ্জ, আয়াত ৩৯। বদরের প্রান্তরে, ৩১৩ জন সাহাবীদের বিপক্ষে ১০০০ জন কাফিরদের মাঝে সংঘটিত হয় সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা এ যুদ্ধে সাহায্যকারী হিসাবে জিবরাঈল আঃ-কে যুদ্ধে পাঠান আরও ফেরেশতা নিয়ে। এ ব্যাপারে- وَلَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ بِبَدْرٍ وَأَنتُمْ أَذِلَّةٌ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ- “বস্তুতঃ আল্লাহ বদরের যুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করেছেন, অথচ তোমরা ছিলে দুর্বল। কাজেই আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হতে পারো।” সুরা : আল ইমরান, আয়াত : ১২৩ হিজরী তৃতীয় বর্ষ। কুরাইশরা প্রতিশোধ নিতে বাঁধিয়ে দিলো উহুদের যুদ্ধ। ইহুদী-পুত্তলিক, কাফির ষড়যন্ত্রে সবাই সামিল। হিজরী চতুর্থ বছরে ইহুদী বনু নাজির গোত্র নবীজীকে হ/ত্যার একটা অসফল চেষ্টা চালায়। পরবর্তী বছরে এসে কাফিররা এক হয়ে গেলো। তারা বুঝলো আলাদা আলাদা অভিযান করে কোনো ফায়দা নেই বরং নিজেদেরই ক্ষতি। তাই তারা সম্মিলিত আক্রমন চালালো মদীনায়। যা ইতিহাসে খন্দকের যুদ্ধ নামে খ্যাত। অষ্টম হিজরী। এ সময় মুসলমানরা আরেক ঐতিহাসিক যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মূতার যুদ্ধ। দেশের বাহিরে প্রথম যুদ্ধ। বুসরা- রোমান সম্রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাদেশিক নগরী। যুদ্ধের মূল সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ। যাকে নবী "সাইফুল্লাহ" উপাধিতে সম্মানিত করেছেন। যুদ্ধ মুসলিম সৈন্য ৩০০০ আর রোমানদের পক্ষে সৈন্য ২,০০,০০০!! আল্লাহর ইচ্ছায় সে যুদ্ধও বিজয়ে উদ্ভাসিত হয়। দশম হিজরী। ঐতিহাসিক বিদায় হজ। এটাই মহানবী ﷺ এর আনুষ্ঠানিক হজ। ভাষণ দেন দিকনির্দেশনামূলক। যা ইতিহাসে "বিদায় হজের ভাষণ" নামে পরিচিত। হিজরী একাদশ শতাব্দীর রবিউল আওয়াল মাসে তেষট্টি বছর বয়সে ইহজগৎ ছেড়ে অনন্তের পানে যাত্রা শুরু করেন। ইন্নালিল্লাহ... মদীনা জীবনের দীর্ঘ এগারো বছরের জীবন ছিলো ষড়যন্ত্র আর যুদ্ধের আখ্যান। তারপরও নবীজী একদিনও দাওয়াতের পথ থেকে সরে আসেননি। শত কষ্ট, ত্যাগ-তিতিক্ষার পরও অবিচল থেকেছেন দ্বীনের পথে। চালিয়ে গেছেন দাওয়াত। প্রতিবার নতুন উদ্যমে কাফেরদের অপচেষ্টা নস্যাৎ করেছেন। ◾ একান্ত অভিব্যক্তি - হযরত মুহাম্মদ সাঃ। যার নাম শুনলেই মনের মাঝে চলে আসে এক প্রশান্তি। চোখের সামনে ভেসে উঠে তপ্ত উষর মরুর বুকে সারি সারি খেজুর গাছ। আকাশ ছোঁয়া মিনার সাদৃশ্য মসজিদ। মসজিদে একমনে জিকির করছেন সাদা আলখেল্লা আর পাগড়ী পরিহিত নূরানি অবয়বের এক সৌম্য ব্যাক্তি। দূর থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন জনাকয়েক সাহাবায়ে কেরাম, জিকিরে যেন ব্যাঘাত না ঘটে। জানি না কে কেমন চোখ বুঝে নবীকে মানসপটে দেখেন, তবে আমার মানসপটে এ ছবিটাই অঙ্কিত বুঝার পর থেকে। নবী মোর পিয়ারা নবী, নবী মোর ধ্যানের ছবি, নবী মোর পরশ মণি, নবী মোর সোনার খনি। বইটি যখন পড়া শুরু করি, তখন এক অন্যরকম অনুভূতি হতে থাকে। হাজার হোক মহামানবের জীবনী। যখন বইটা শুরু করে প্রথমেই যে জিনিসটা ভালো লাগে, সেটা হলো লেখকের সাবলিলতা। এরপর আসে রেফারেন্স। লেখক অনেক সময় নিয়ে বস্তুত বইটাকে গুছিয়েছেন। অনেকটা সময় নিয়ে খুঁটিনাটি তথ্যগুলো ছেঁকে ছেঁকে তুলে এনেছেন। দুর্বল হাদীসগুলোকে এড়িয়ে গেছেন স-যতনে। মূলত কুরআনকে প্রধান রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে রেখেছেন। এরপর বোখারি ও মুসলিম শরীফকে রেখেছেন। মক্কা-মদীনার তৎকালিক সময়কালকে অত্যন্ত চমৎকার ভাবে চিত্রায়িত করেছেন প্রাঞ্জল ভাষায়। যা একজন পাঠককে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে রাখবে সে সময়ে। বই লেখার মূল চ্যালেঞ্জটা আমি মনে করি লেখার ভঙ্গিমাকে। মহানবী ﷺ এর জীবনী এমন কোনো মুসলমানেই নেই যে কম-বেশী জানেনা। শতশত পুস্তক বাজারে রয়েছে। তাহলে এটাতে নতুন কি? আসলেই, এতো শত বইয়ের মাঝে এ বইটার লেখার ধরণটা ভিন্ন। সচরাচর সীরাহ গ্রন্থগুলো জন্ম থেকে শুরু হয়ে ওফাত অবধি লেখা থাকে। কিন্তু এটায় শুরু হয়েছে অনেকটা থ্রিলার বইয়ের মতো বিশেষ এক ঘটনার উন্মোচনের মধ্যদিয়ে। যেখানে বালক মুহাম্মদকে দেখে পাদ্রি জানান দেন, বালক কোনো সাধারণ বালক নয়। এ হবে তাওরাতে বর্ণিত শেষ পয়গম্বর। লেখনশৈলী ছিলো এতোটাই সাবলিলতাপূর্ণ, পড়ার সময় মনে হয়েছে এগুলো নিছক কাগজে লেখা কোনো অতীতের বর্ণনা নয়। বরং সে সময়কালটায় আমি পৌছে গেছি কোন এক জাদুবলে। নবীর নবুয়তে আমিও খুশি মনে ঈমান আনছি আল্লাহর একত্ববাদে। তায়েফের রাস্তায় র/ক্তাক্ত নবীর সাথে আমিও ধুলোয় গড়াচ্ছি। হিযরতে আমি নবী-সঙ্গি। বদরে আমিও তলোয়ার চালাচ্ছি কুরাইশদের বিপক্ষে। নবীর শেষ দিনে আমিও হাত ধরপ আছি। বিদায় জানাচ্ছি জানাজায় দাঁড়িয়ে, গালে তখনও আধো শুকিয়ে যাওয়া পানির দাগ। বইটায় মহানবীর মুজেজাকে উপজীব্য করে ইসলাম প্রচারের দিকটা নিয়ে লেখা হয়নি। বরং লেখক রাজনৈতিক ও সামাজিক আখ্যানকে ফুটিয়ে তুলেছেন সুচারুরূপে। কিভাবে ইব্রাহিম আঃ ও ঈসা আঃ এর পর ইসলাম ধর্ম ইহুদী, নাসারা, পুত্তলিকরা নিজেদের মনগড়া প্রথা, নিয়ম ঢুকিয়েছে। এরপর মহানবী আস্তে আস্তে শিরক-কুফরের নাগপাশ থেকে বের করেছেন ইসলামকে। কলুষ মুক্ত করেন কাবাকে। বিশুদ্ধ পরিশোধিত করেন আরবদেরকে। মুসলিমদেরকে কাফেরদের অত্যাচারের বর্ণনায় লেখকের হাত ছিলো অসাধারণ! চোখে পানি এসেছে বার বার। বিশেষ করে হযরত সুমাইয়া রাঃ এর শহীদ হওয়ার সময়কার বর্ণনা। উহুদ যুদ্ধকালীন মুসলমানের অসতর্কতা দরুন কাফেরদের অগ্রাসন ও হতহতের বর্ণনা। মক্কা জীবনের তিন বছরের নির্বাসন। পাথর হৃদয় মনকেও গলিয়ে দিবে। বাধ্য করবে দু'ফোটা চোখের পানি ফেলতে। কেন মহানুভব ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানব, তা বইয়ে ফুটে উঠেছে মনোরম ভঙ্গিমায়। যুদ্ধবন্দিরকে নামমাত্র মূল্য মুক্তি। গরীব বন্দিদের বিনামূল্যে মুক্তি। কাউকে পণের বিপরীতে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে ঋণ শোধের সুযোগ দেয়া হয়। কাজগুলোও ছিলো অনেক সম্মানের। এর মধ্যে গৃহশিক্ষক হয়ে মুসলিম ছাত্র পড়ানোও ছিলো। পৃথিবীবাসি প্রথমবার দেখলো বন্দিদেরকে কেউ এতো সম্মান দিতে। নেই কোনো জেল, নেই কোনো কারাগার। যেখানে মালিক নিজে খেজুর খেয়ে দিন কাটিয়ে বন্দিকে খাওয়ায় রুটি! দেয়া হয় সম্মানজনক পদমর্যাদা!! ইসলামের থেকে সুন্দর আর পাথেয় হতে পারেনা। এমন কোনো মহামানব, এমন কোনো দয়ালু, এমন কোনো শাসক, এমন কোনো অভিভাবক আর কেউ নেই। তিনি শ্রেষ্ঠর মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ কথাটাই লেখক সর্বোপরি ফুটিয়ে তুলেছেন। ◾ বই ব্যবচ্ছেদ - পুরো বইটিকে মোট ৬৩টি পরিচ্ছদে লেখক বিভক্ত করেছেন। প্রত্যেকটা পরিচ্ছদেই নবী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা ঘটনাগুচ্ছকে চিত্রায়িত করা হয়েছে অত্যন্ত সাবলিল ও প্রাঞ্জল ভাষায়। ক্ষেত্র বিশেষে ব্যাখ্যা, ফুটনোট রয়েছে। বইয়ের সবশেষে যোগ করে রয়েছে তথ্যসূত্র। সব মিলিয়ে বইটির পুরো অংশ জুরে ছিলো দক্ষ হাত ও শ্রমের বহিঃপ্রকাশ। প্রত্যেকটা বিভাগ তাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। ◾ বানান << সম্পাদনা - বইটির বানানের ক্ষেত্রে ছিলো মানের সর্বোচ্চ। বানান ভুল একদম চোখেই পড়েনি। দু'চার জায়গায় অতিসতর্কতা সত্ত্বেও চোখের ফাঁকি অবশ্য হয়েছে। তবে সেটা সহজে কারো দৃষ্টি আকর্ষণ করবে না। সেইসাথে ছোটছোট ফুটনোটগুলো ছিলো বিশেষ সহায়ক। বইটির জায়গায় জায়গায় কুরআনের আয়াতগুলো বাংলায় লেখা হয়েছে। কিন্তু উচ্চারণের ক্ষেত্রে আরবী ভাষা, বাংলায় শুদ্ধতর উচ্চারণ হয় না। যেমন আরবীতে যের এর উচ্চারণ বাংলায় নেই। তাই আয়াতগুলো আরবীতে তুলে দেয়া আরও যৌক্তিক এবং কুরআনের বিশুদ্ধতার সহায়ক হতো। আর না হয় অর্থ, সূরা, আয়াত নাম্বার রেখে আরবীর বাংলা উচ্চারণ এড়িয়ে শুধু অর্থ লিখলে আরও সুন্দর হতো। ◾ পরিশিষ্ট - দুনিয়াবি ব্যস্ততায় আমরা দিন দিন একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছি প্রিয়নবীর দেখানো সুষ্ঠু পথ থেকে। কিছুটা অজ্ঞাতে আর কিছুটা গাফলতিতে। এমন অনেক মানুষ আছে যারা বই-তো ঠিকই পড়ে, কিন্তু সীরাহ... হ্যাঁ, সীরাহ অনেকেই ধরেও দেখে না। মাসলা-মাসাইলের প্রয়োজনে হাতের কাছে যাকে পায়, তাকে জিজ্ঞেস করেই সুরাহা করে ফেলে। আবার কেউ তো ইউটিউব নামক সস্তা অ্যাপে কিছু লাইক আর ভিউজের আশায় ভালো করে ইসলাম না জানা লোকের লেকচার শুনে নিজেকে অনেক বড় পন্ডিত মনে করে। সমাধান নিয়ে নেয় প্রয়োজনমাফিক ভালো করে যাচাই-বাচাই না করেই। আমাদের উচিৎ এসব অজ্ঞতা পরিহার করে সুষ্ঠু ও সঠিক ভাবে ইসলামকে জানা। আর ইসলামকে জানার প্রথম ধাপ-ই হলো সীরাহ। কোরআনের পর যাবতীয় সমস্যার সমাধান রয়েছে মহানবী ﷺ জীবনাদর্শে। তাই পূর্ণাঙ্গ ইসলামি জ্ঞান আহরণ "প্রশংসিত" বইটা অতুলনীয় ভূমিকা পালন করবে। নবীর জীবনের প্রশংসাধারার ইতিবৃত্ত, পুণ্যময় জীবনের গতিপথ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য কিংবা অভীষ্ট, চূড়ান্ত পরিচয় ও পরিণতি-সহ নানান দিকের সুনিপুণ বর্ণনার সমাহার এ উপন্যাসধর্মী সিরাত। মাত্র ৬৩ বছরে পৃথিবীবাসী কীভাবে এই কল্যাণধারার সাথে পরিচিত হলেন, কিভাবে হয়ে উঠলে "রাহমাতুল্লিল আলামিন" তা কম সময়ে অনেক তথ্য জানতে সহায়তা করবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমাদের সবার মঙ্গল কামনা করছি। যেন সবাইকে সঠিক রাহে চলার তৌফিক দেন। আমিন। ফার্সি কবি শেখ সাদীর ভাষায়- "বালাগাল উলা বি-কামালিহি কাসাফাদ্দুজা বি-জামালিহি হাসোনাত জামিউ খিসলিহি সাল্লু আলাইহি ওয়ালিহি।" ◾ এক পলকে বই - প্রশংসিত মুহাম্মদ সৈয়দুল হক দাঁড়িকমা প্রকাশনী মোট পৃষ্ঠা - ৩০৫ জনরা - সীরাতে রাসূল সাঃ মলাট মূল্য - ৪০০ প্রথম প্রকাশ - ২০২২ রিভিউদাতা - এন. সেজান"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
1 টিবইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
পৃষ্ঠা সংখ্যা কতো?
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"প্রশংসিত" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: