হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
পরিণীতা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২১

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

পরিণীতা

1 Ratings | 1 Reviews
TK. 139 TK. 150 -7% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

পাঠকপ্রিয়তার দিক থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের অপরাজেয় শিল্পী। সাহিত্যে প্রবেশের শতবর্ষের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁর এই পাঠকপ্রিয়তা অটু...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

পাঠকপ্রিয়তার দিক থেকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বাংলা কথাসাহিত্যের অপরাজেয় শিল্পী। সাহিত্যে প্রবেশের শতবর্ষের অধিক সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাঁর এই পাঠকপ্রিয়তা অটুট আছে। এই জনপ্রিয়তার
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title পরিণীতা
Author শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
Publisher প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২১
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 76
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.21 Kg
ISBN 9789848154175
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

5.00

1 Ratings and 1 Reviews

★★★★★
1
★★★★☆
0
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

১টি
Anindita Das

Anindita Das , Jun 6, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"পরিণীতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রকাশকঃ প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশকালঃ ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭৬ মুদ্রিত মূল্যঃ১৫০ টাকা(হার্ডকভার) ক্যাটাগরিঃ চিরায়ত উপন্যাস ISBN: 9789848154175 বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী ' নামে খ্যাত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একাধারে ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।তৎকালীন সমাজের কুসংস্কার, ভণ্ডামি, মানুষের দুঃখ, অভাব,অভিযোগ, মানবমনের অন্তর্দ্বন্দ্ব এই সব কিছুই তিনি তাঁর  সাহিত্যকর্মে রূপায়িত করেছেন তাঁর সুনিপুণ লেখনীর মাধ্যমে।তাই, সাহিত্যে প্রবেশের শতবর্ষ পরেও আজও তাঁর পাঠকপ্রিয়তা অটুট আছে। তাঁর নাম শুনলেই আমাদের প্রথমেই যে উপন্যাসের কথা মাথায় আসে সেটি হলো 'দেবদাস'। কিন্তু আজকে আমি আলোচনা করবো তাঁর অন্যতম একটি ক্ল্যাসিক সৃষ্টিকর্ম নিয়ে, যার নাম 'পরিণীতা '। বই নির্যাসঃ 'পরিণীতা ' মূলত একটি রোমান্টিক উপন্যাস।অধিকতর স্পষ্টরূপে বললে বলা যায়, এটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প যেখানে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  এক অতুলনীয় রূপে অঙ্কন করেছেন মানবমনের ইন্দ্রিয়বৃত্তির দ্বন্দ্ব।উপন্যাসের প্রধান চরিত্রে আছে ললিতা,শেখর এবং গিরীন। ললিতা পিতৃ-মাতৃহীন এক অভাগী দুস্থ মেয়ে যে তার দুর্দশাগ্রস্ত মামার সংসারে আশ্রিত হিসেবে থাকে।ললিতার মামা গুরুচরণ অবশ্য তাকে খুব ভালোবাসে এবং ললিতাও মামাবাড়িকে নিজের বাড়ি-ই মনে করে এবং মামার প্রতি তার অগাধ স্নেহ।অন্যদিকে  শেখর ললিতাদের প্রতিবেশী লাখপতি নবীন রায়ের সন্তান। ছোটোবেলা থেকেই শেখরের সান্নিধ্যে বড় হয় ললিতা।পারিবারিকভাবেও দুই পরিবারের মধ্যে ছিল নিবিড় সম্পর্ক।তাই, শেখরের মায়ের কাছে ললিতা ছিল কন্যাসম। একপর্যায়ে শেখরের সান্নিধ্যে থাকতে থাকতে শেখরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে ললিতা।আর,এই দুর্বলতা যে কেবল একতরফা ছিল তা নয়। শেখরের কাছেও ললিতাকে ছাড়া ভবিষ্যৎ জীবন কাটানো ছিল অকল্পনীয়। এরই মধ্যে হঠাৎই গিরীন নামের এক চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে।গিরীন ললিতার মামাতো বোন আন্নাকালীর সই চারুবালার মামা।রূপে গুণে অনন্যা ললিতার প্রতি গিরীন ক্রমশ আকৃষ্ট হয়।তাই,গিরীনের কাছে ললিতার সঙ্গ ছিল একান্তই কাম্য।ললিতা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও শেখর ঠিকই বুঝতে পারে।ফলে,গিরীনের প্রতি তার মনে জন্ম নেয় ক্ষোভ ও ঘৃণা। ধীরে ধীরে শেখর আর ললিতার সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় গিরীনকে কেন্দ্র করে।এর কিছুসময় পরেই বাল্যখেলার ছলে ললিতা মাল্যদান করে শেখরের গলায়।শেখরও সেদিন তার আবেগকে ধরে রাখতে পারেনি।সেও ললিতার গলায় মালা পড়িয়ে গান্ধর্ব মতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।কিন্তু অসামাজিক এই বিয়ের বিষয়টি সবাইকে বলার মতো সাহস শেখরের ছিল না।লজ্জা ও ভয়ের কবলে পতিত হয়ে উত্তাল ইন্দ্রিয়ের সাগরে শেখরের মনের নৌকা দিশেহারা হয়ে পড়ে।তাদের এই সম্পর্কের কথা লোক জানাজানি হলে তার পরবর্তী প্রভাব কী হবে একথা ভেবে সে রাগে, দুঃখে, লজ্জায় অস্থির হয়ে পড়েছিল।শেখর যেসময় এরকম কাপুরুষতা ও মেরুদণ্ডহীনতার পরিচয় দিয়েছে, ঠিক তখনই গিরীন বাবু আবির্ভূত হন ললিতাদের ত্রাণকর্তা রূপে।তিনি গুরুচরণ বাবুকে মুক্তি দেন তার পর্বতসম দেনার ভার থেকে। এসবের পেছনে মূল হেতুটি ললিতা হলেও গিরীন কখনোই গুরুচরণ বাবুকে তা বলে উঠতে পারেনি। ঘটনাচক্রে একসময় গুরুচরণ বাবু অসুস্থ হয়ে পড়লে ললিতারা সপরিবারে হাওয়া বদলের জন্য পাড়ি জন্মায় মুঙ্গেরে গিরীনবাবুর বাড়িতে।এর অল্পসময় পড়েই মারা যান গুরুচরণ বাবু। মারা যাওয়ার সময় তিনি শেখরের কাছে আত্মীয়তার সম্পর্কের অঙ্গীকার চান এবং শেখর তার এই শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়।এছাড়া, নবীন রায়ের ও মৃত্যু হয় ইতোমধ্যে। তাহলে ললিতা কি শেখরের সাথে খেলাচ্ছলে গান্ধর্ব মতে করা বিবাহকে ভুলে গিরীন বাবুর সাথে এগিয়ে গেছে জীবনের পথে নাকি আজও সে বসে আছে শেখরের পরিণীতা হওয়ার আশায়? পিতার মৃত্যুর পরে শেখরপর মনের ভাব কি??সে কী আজও বসে আছে ললিতার আশায় নাকি সেও তার জীবন থেকে এই সমাজের বিধিবহির্ভূত এই অধ্যায় চিরতরে মুছে ফেলেছে? আর,গিরীন বাবুর অনুভূতি কি পরিণতি পেল?শেষ পর্যন্ত কার পরিণীতা হবে ললিতা? শেখরের নাকি গিরীন বাবুর?জানতে হলে আপনাদেরকে পড়তে হবে ' পরিণীতা ' উপন্যাসটি। চরিত্র বিশ্লেষণঃ এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র ৩ টি, ললিতা, শেখর ও গিরীন।এছাড়া,গুরুচরণবাবু,শেখরের মা ভুবনেশ্বরী দেবী ও শেখরের বাবা নবীন বাবুও তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের অধিকারী।এছাড়া,এতে আরও ৮ টির মতো চরিত্র আছে,যারা খুববেশী প্রভাব ফেলতে পারেনি। ললিতাঃ ললিতা এই উপন্যাসের নায়িকা। উপন্যাসের শুরু থেকেই ললিতাকে অনন্য রূপ ও গুণের অধিকারী বলা হলেও এটি কখনোই পরিপূর্ণরূপে চিত্রায়িত হয়নি।তার ব্যক্তিত্যবোধ কখনোই জাগ্রত হয়নি।একারণেই সে সব ব্যাপারে শেখরের আধিপত্য মেনে নিয়েছে।এমনকি চা খাওয়ার মতো তুচ্ছ বিষয়েও সে শেখরের মতকে প্রাধান্য দিয়েছে। আর,তার আত্মমর্যাদাবোধের অভাবেই সে শেখর তাদের বিয়েটাকে স্বীকৃতি না দিলেও শেখরের জন্যই অপেক্ষা করে।অবশ্য এতো কিছু সত্ত্বেও উপন্যাসে সে হয়ে উঠেছে অনন্যা।এর একমাত্র কারণ শেখরের প্রতি তার নিখাদ ভালোবাসা। তাকে বাংলার চিরায়ত নারী মূর্তির প্রতিরূপই বলা যায় কারণ তার কাছে তার ভালোবাসাই একমাত্র সত্য। শেখরঃ শেখর এই উপন্যাসের নায়ক হলেও প্রকৃত নায়কসুলভ কোনো কাজই সে করেনি।উপন্যাসে সে মূলত একজন ভীতু, কাপুরুষ,অহংকারী ও মেরুদণ্ডহীন ব্যক্তি,যে একজন নারীর সম্মানের মান দেয়নি। গিরীনঃ গিরীনই এই উপন্যাসের প্রকৃত নায়কের ভূমিকাই অবতীর্ণ হয়েছে। গিরীন একজন প্রকৃত মানুষ যে নিজের লাভের কথা চিন্তা না করে গুরুচরণ বাবুর পাশে দাড়িয়েছে যখন তার ও তার পরিবারের মাথার উপর থেকে ছাদ চলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর পেছনে অন্যতম কারণ ললিতার প্রতি তার মোহ হলেও ললিতাকে সে কখনোই কোনো ব্যাপারে জোর করেনি।সে ললিতার মতকে সর্বদা সম্নান করেছে। গুরুচরণঃ গুরুচরণ ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষের একজন স্বল্প বেতনের কেরানি দেনার দায়ে যে অকালবৃদ্ধ।পুরো উপন্যাস জুড়েই তাকে একজন দুর্বল চরিত্রের লোক হিসেবেই দেখানো হয়েছে। নবীন রায়ঃ নবীন রায় শেখরের বাবা।নবীন রায়কে মূলত বাংলার সেই সকল ধনাঢ্য ব্যক্তির প্রতিনিধি যারা সুযোগ পেলেই দুস্থ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে তাদের সম্পত্তি আত্মসাৎ করে,যাদের কাছে টাকাটাই প্রথম এবং প্রধান আরাধ্য।উপন্যাসে তাকে একজন নীচ ও হীন চরিত্রের লোক হিসেবে দেখানো হয়েছে। ভুবনেশ্বরী দেবীঃ ভুবনেশ্বরী দেবী শেখরের মা।তাকে চিরায়ত মমতাময়ী মা হিসেবেই দেখানো হয়েছে যিনি অনাথ ললিতাকে ছোটোবেলা থেকে মায়ের মতো আদরে স্নেহে বড় করেছেন। আন্নকালীঃ আন্নাকালী ললিতার মামাতো বোন।তার চরিত্রে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে যদিও উপন্যাসে তার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। এছাড়া,এই উপন্যাসের অন্ধ ভিক্ষুক চরিত্রটিও খুন স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে। মনোরোমা দেবী অর্থাৎ ললিতার মামাতো বোন আন্নকালীর সই চারুবালার মায়ের চরিত্রে নারীসুলভ কৌতুহলউদ্দীপক দিকটি ফুটে উঠে। এছাড়া,ললিতার মামি,আন্নকালীর সই চারুবালা,শেখরের বড় ভাই অবিনাশ বাবু ও তার স্ত্রী এই উপন্যাসের অপ্রধান চরিত্র। পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ 'পরিণীতা ' মূলত একটি রোমান্টিক উপন্যাস হলেও উপন্যাসটির শুরুতেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। ১৯১৪ সালে উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।অর্থাৎ বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকের ভারতের কলকাতার পটভূমিতে রচিত হয়েছে উপন্যাসটি।সেসময়টা ছিল বেনিয়া ব্রিটিশদের শাসনপর্ব।রক্তচক্ষু ব্রিটিশরা ভরতের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণভাবে উৎপাটিত করে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন করে যা পুরো দেশকে নির্জীব ও মেরুদণ্ডহীন করে তুলতে সফল হয়।সমাজের অধিকাংশ ব্যক্তির মধ্যেই গড়ে ওঠে অপরের অধীনস্থ হওয়ার মনোভাব তথা কেরানিবৃত্তির মনোভাব। আর,এই উপন্যাসে ঔপন্যাসিক গুরুচরণ বাবুকে রূপায়িত করেছেন বাংলার সেই পরমুখাপেক্ষী কেরানি সমাজের প্রতিনিধি রূপে। তাঁর সুনিপুণ লেখনীতে তুলে ধরেছেন সংসারের জাতাঁকলে পিষ্ট নিম্নমধ্যবিত্ত চাকুরীজীবি গুরুচরণের প্রাণওষ্ঠাগত দুঃসহ জীবনের কথা।ঋণভারে আাষ্টেপৃষ্ঠ বাঁধা এই পিতার মুখ নবজাতকের আগমনে হাসিতে ভরে যাওয়ার পরিবর্তে আবৃত হয় দুশ্চিন্তার কালো মেঘে।আর,উপন্যাসের শুরুতেই অল্প কয়েকটি উক্তির মাধ্যমেই এটি স্পষ্ট হয়ে উঠে। পরবর্তীতে শেখরের সাথে গুরুচরণ বাবুর কথাবার্তা থেকে গুরুচরণ বাবু কন্যা শিশুর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনে হলেও এর আসল কারণ সমাজ বাস্তবতা। যে পিতাকে কন্যার জন্মের পর সুতিকাগৃহের সামান্য খরচের কথা ভাবতে হয়,সে পিতার পক্ষে কন্যার বিয়ের সময় প্রদেয় পর্বতসম যৌতুকের কথা ভেবে কন্যার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় যৌক্তিক। এক্ষেত্রে না গুরুচরণ বাবুর দোষ আছে না সেই সদ্যোজাত শিশুটিট,দোষ মূলত আমাদের সমাজের যা কন্যার বিয়েতে কন্যার পরিবর্তে তার সাথে আনা পণকেই মুখ্য ভাবে।এই সামাজিক ব্যাধিই আামাদের সমাজে কন্যার অবমূল্যায়নের মূল কারণ।একইসাথে, এই অভাবের কারণে  গুরুচরণ বাবু এতোটাই মেরুদণ্ডহীন হয়ে পড়েছে এবং মানসিক দুর্বলতা তাকে এমনভাবে গ্রাস করেছে যে তিনি নিজের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে ফেলেছেন।যে কেউ তাকে কথা শুনিয়ে চলে যায়।তার অবস্থা এতোটাই করুণ যে তিনি কোনো কিছু না ভেবেই অল্পদিনের পরিচিত গিরীন বাবুর কথায় ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন এই ভেবেই যে এতে হয়তো তিনি কিছুটা শান্তি পাবেন।কিন্তু ফল হলো উল্টো। এই অদূরদর্শী সিদ্ধান্তেট কারণেই তাকে একপর্যায়ে  তার বাসস্থান ছাড়তে হয় এবং শেষ পর্যন্ত এই মনুষ্যজীবন ছেড়ে তাকে পাড়ি জমাতে হয় পরলোকে। এবার,আসা যাক মূল গল্পে।এই গল্পের নায়ক শেখরকেও বলা যায় আবার গিরীন বাবুকেও বলা যায়।তবে উপন্যাস পাঠের সময় গিরীন বাবুকেই নায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যায়।অপরদিকে শেখরকে দেখা যায় ভীতু,মেরুদণ্ডহীন এক যুবক রূপে যে গান্ধর্ব মতে ললিতাকে বিয়ে করলেও সমাজের মুখোমুখি হতে ভয় পায়।সে সব দোষ ললিতা ও চারপাশের পরিস্থিতির উপর দিলেও প্রকৃতপক্ষে সে একজন কাপুরুষ যে এক নারীকে তার যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও ললিতাকে ছাড়া অন্য কাউকে সে তার জীবনসঙ্গিনীর স্থান দেয় নি, তথাপি এতে তার মানসিক দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি।কারণ,তার বিয়ে হয়নি তার পিতামাতার অন্য সম্বন্ধে মত ছিল না বলে,নাহলে সে হয়তোবা সব ভুলে সংসার করা শুরু করতো।এছাড়া, পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অন্যান্য পুরুষের মতোই সে নিজের মত ললিতার উপর চাপিয়ে দিতো।সে ললিতাকে যে স্বাধীনতা দিয়েছিল তাও প্রকৃতপক্ষে ছিল তার নিয়ন্ত্রনে।সেটা কোথাও যাওয়ার ক্ষেত্রেই হোক বা ললিতার অবাধে তার টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে। এতো কিছু সত্ত্বেও শেখরের একটা দিক আমাকে বেশ আকর্ষণ করেছে,সেটি হলো তার মায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা। এছাড়া,সে ললিতাকে সত্যিই ভালোবাসতো কিন্তু তার ভয়কে এই ভালোবাসা জয় করে উঠতে পারেনি,এই একটাই কারণে সে উপন্যাসের নায়ক  হয়েও ঠিক ললিতার জীবনের নায়ক হয়ে উঠতে পারেনি।আর,খারাপ সময়ে ললিতাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা যদি বলতেই হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে এটা সত্যি যে সে তাদেরকে কোনো প্রকারের সাহায্যই করেনি। কিন্তু এই ব্যাপারে গিরীন বাবুর সাথে তার তুলনা করাটাও ঠিক হবে না। কারণ,তাদের দুজনের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন।উভয়ই পিতার অগাধ সম্পত্তির মালিক হলেও শেখরের বাবা জীবিত ছিলেন কিন্তু গিরীন বাবু ছিলেন পিতৃহীন। তাই গিরীন বাবু যেভাবে নিজের ইচ্ছানুসারে ললিতার পরিবারকে সাহায্য করেছিলেন, শেখর হয়তোবা সেটা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করতে পারেনি।তাই বলে শেখরের যে কোনো দোষই নেই তা কিন্তু নয়।তার সবচেয়ে বড় অপরাধ সে ললিতার অনুভূতির সাথে খেলেছে।নিজের মতানুসারে ললিতাকে গান্ধর্ব মতে বিয়ে করে, ললিতার মনে আশা জাগিয়ে সমাজের ভয়ে সে এই বিয়ের দায়িত্ব নেয়ার পরিবর্তে সে এই চেষ্টায় চালায় কীভাবে এই দায় থেকে অব্যবহতি পাওয়া যায়।তাই,তার পক্ষে যত যুক্তিই দেখায় না কেন সে উপন্যাসের এক মেরুদন্ডহীন ও কাপুরুষ চরিত্র। অপরদিকে,গিরীন বাবু যথার্থই একজন ভালো মনের মানুষ।কারণ, তা না হলে ইংরেজ শাসিত ভারতবর্ষের একজন হয়েও তিনি তার অগাধ সম্পত্তির প্রয়োগ করে ললিতাদের বাড়ি চিরতরে কেড়ে নেয়ার পরিবর্তে বিনা সুদে গুরুচরণ বাবুকে তার বসতভিটা নবীন রায়ের কাছ থেকে মুক্ত করার জন্য টাকা দেয়।এছাড়া,সেই টাকা ফেরত পাওয়ারও কোনোরূপ আাশা তার নেই।এই সবকিছুর পেছনে মূল হেতুটি ললিতা।গিরীনও রূপে গুণে অনন্যা ললিতার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল।তাই বলে সে টাকার বিনিময়ে ললিতাকে কিনে ফেলতে চায়নি। সে সর্বদাই সম্মান করেছে ললিতার মতের। তাই, এই গল্পের প্রকৃত নায়কের ভূমিকা তারই বলে আমার মনে হয়।তাও শেখর চরিত্রটি যে একেবারেই প্রভাবহীন তা নয়।তাই, এই গল্পের নায়ক উভয়ই।একজন ললিতার কাছে তার জীবনের নায়ক অপরজন আমাদের সকলের হৃদয়ের নায়ক।এবার আসা যাক এই দুই নায়কের নায়িকা অর্থাৎ এই উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র পরিণীতা তথা ললিতার কথায়।ললিতাকে উপন্যাসের শুরুতে লেখক যাবতীয় রূপ গুণের অধিকারী বললেও আমার মতে ললিতার ব্যক্তিত্বই উপন্যাসে ঠিকভাবে গড়ে উঠে না।উপন্যাসের সমস্ত অংশজুড়েই যেন ছিল পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব।ললিতার চা খাওয়া থেকে শুরু করে কোথাও বেড়াতে যাওয়া পর্যন্ত ছোটোখাটো সব বিষয়েই ছিল শেখরের নিয়ন্ত্রণ। ললিতাও শেখরের সব কথা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিতো।সে যেন এক পা বাড়িয়েই ছিল শেখরের অধীনস্থ হওয়ার জন্য।অবশ্য উপন্যাসের এই দিকটিকে তৎকালীন সমাজব্যবস্থার প্রভাব বললেও ভুল হবে না। কারণ,সেসময়ও আমাদের সমাজ মেয়েদের পায়ে বেড়ি দিয়ে রাখতো।এছাড়া, বালখিল্যতারছলে করা বিয়েটাকে সত্যি বলে মেনে নেওয়া বা মেনে নিলেও শেখরের কাপুরুষতা দেখেও তার জন্য  অপেক্ষা করার বিষয়টি ললিতার মানসিক   দুর্বলতা প্রকাশ করে।যদিও শেষ পর্যন্ত ললিতার মনের এই দুর্বলতা রয়ে যায় কিনা বা সে সকল দুর্বলতা কাটিয়ে একজন দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী হয়ে উঠতে পারে কী- না সেটা জানতে হলে আপনাদেরকে পড়তে হবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের এই চিরায়ত উপন্যাসটি।তবে উপন্যাসটির আরও একটি অসংগতি আমার কাছে বেশ লক্ষ্যণীয় মনে হয়েছে।উপন্যাস অনুযায়ী, শেখরের ঘরে ছিল ললিতার অবাধ বিচরণ এবং তা সকলেই স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিয়েছে। কিন্তু তখনকার রক্ষণশীল সমাজের কথা বিবেচনা করলে বিষয়টি অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়।এছাড়া,নবীন বাবুর ন্যায় একজন সুদখোর, লোভী ব্যক্তির চোখের সামনে তার ছেলে শেখরের টাকা ললিতার অবাধে ব্যয় করার বিষয়টি যেন নিতান্তই সাদামাটাভাবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ করলে এটি কখনোই ঘটতে পারে না।এতো কিছু সত্ত্বেও বলতেই হয়,উপন্যাসটি আমার মন ছুয়ে ফেলেছে এবং আমার বিশ্বাস উপন্যাসটি আপনাদের সকলের মন ছুয়ে ফেলবে। উপন্যাসটির ক্ল্যাসিক হওয়ার যথাযথ যোগ্যতা আছে বলেই আমার মনে হয়।প্রথমত,শুরু থেকেই এটি মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা আছে, এটি পড়তে গিয়ে কখনোই কারোর ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে পারে বলে আমার মনে হয় না।আর,মেয়েদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে ব্যাপারটি উপন্যাসে আছে, বর্তমান কালে এর পরিমাণ কিছুটা কমলেও এটি কিন্তু লুপ্ত হয়নি।এদিক দিয়ে উপন্যাসটি অতীত ও বর্তমানের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেছে।সর্বোপরি, বাংলার শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিকের অনন্য লেখনীর কারণেই এটি বাংলাসাহিত্যের একটি চিরায়ত উপন্যাস যা এক শতাব্দীর  বেশি সময় পড়েও নতুন সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। বইটি কেন পড়বেনঃ বইটি যেহেতু বাংলা সাহিত্যের একটি ক্ল্যাসিক বই, তাই আপনার অবশ্যই বইটি একবার হলেও পড়ে এর স্বাদ নেয়া উচিত।এর টানটান উত্তেজনাপূর্ণ কাহিনী আপনাকে এতোটাই তাড়িত করবে যে আপনি বইটি শেষ না করে থামতেই পারবেন না বলেই আমি বিশ্বাস করি। বইটি কাদের জন্যঃ বইটি পড়তে হলে অবশ্যই তার ভেতরের ভাববস্তুকে বুঝতে হবে, আার তাই পাঠককে অবশ্যই পরিণত পাঠক হতে হবে যিনি এর অন্তর্নিহিত সবকিছু বিশ্লেষণ করতে পারবেন যুক্তির আলোকে।তাই, আমি মনে করি ক্লাস নাইন ও টেন থেকে শুরু করে এর থেকে বড় সকলেই বইটি পড়তে পারে।তবে,যদি কেউ আ্যাডভান্সড পাঠক হন, তবে এর আগেও পড়তে পারেন। প্রচ্ছদঃ বইটির প্রচ্ছদ সত্যিই আকর্ষণীয় এবং উপন্যাসটির মূল ঘটনার আলোকে যথোপযুক্ত হয়েছে বলেই আমার মনে হয়। ভাষাঃ 'পরিণীতা ' উপন্যাসটি মূলত সাধুরীতিতে রচিত।তবে,উপন্যাসটিতে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর নিজস্ব যে মোহনীয় ভাষারীতি তৈরি করেছিলেন তার সম্পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নামকরণঃ উপন্যাসটি পড়লেই আমরা বুঝতে পারি যে এই  'পরিণীতা' নামটি ঠিক কতোটা সার্থক। কারণ,উপন্যাসের মূল দৃশ্যপটই হচ্ছে ললিতা শেষ পর্যন্ত কার পরিণীতা হবে তা নিয়েই। অনুবাদ ও চলচ্চিত্রঃ বইটির আলোকে বাংলা, হিন্দি ও তামিল ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।এছাড়া,বইটি ইংরেজি, গুজরাটি ও মারাঠি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। রেটিংঃ আমি 'পরিণীতা ' উপন্যাসটিকে ৪.৯/ ৫ দিবো।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"পরিণীতা" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
পরিণীতা পাতা: 1 / 5
পাতা 2
পরিণীতা পাতা: 2 / 5
পাতা 3
পরিণীতা পাতা: 3 / 5
পাতা 4
পরিণীতা পাতা: 4 / 5
পাতা 5
পরিণীতা পাতা: 5 / 5
পাতা / 5
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।