অপরূপ সর্বনাশ
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | অপরূপ সর্বনাশ |
| Author | সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত) |
| Publisher | জ্যোৎস্না পাবলিশার্স |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 96 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.23 Kg |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
3 Ratings and 3 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩টিUmma Habiba Shefa Umma Habiba Shefa , Dec 16, 2023
"#আড্ডাখানায়_ প্রগতি #রিভিউ _২০২৩ বইঃঅপরূপ সর্বনাশ লেখকঃসুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশনীঃজ্যোৎস্না পাবলিশার্স রেটিংঃ ৫.৫/১০ প্রথম গল্পঃ সত্যসুন্দর আচার্য্য, আটান্ন বছরের প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন একজন আত্মসচেতন ব্যক্তি, কখনোই ভাবেননি কারো উপর বোঝা হয়ে বেঁচে থাকতে হবে।তার তৃতীয় পক্ষের স্ত্রীর নাম লীলা,যে তার বয়সের অর্ধেক।স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল সত্যসুন্দরের। কিন্তু একদিন সত্যসুন্দর লীলাকে আর দূর সম্পর্কের ভাই এর সাথে ঘনিষ্ট অবস্থায় আবিষ্কার করেন।সেদিনই তার হার্ট অ্যাটাক হয়।প্যারালাইজড হয়ে যায় সারা শরীর। বাক্-শক্তি হারিয়ে ফেলেন।বিছানায় সীমাবদ্ধ হয়ে যায় তার জীবন। দিনের পর দিন তার সামনেই ঘনিষ্ট হয় লীলা আর তার প্রেমিক।কিন্তু সত্যসুন্দর এর যত্নে কোনো অবহেলা করে নি।আবার যখন টাকার সঙ্কট ছিল সেই প্রেমিকই সত্যসুন্দর এর খরচ বহন করছিল। লীলা আসলে কি চেয়েছিল? তার প্রেমিকই বা কেন সত্যসুন্দরের জন্য এত করছিল? নাকি তাদের অপরাধবোধ৷ তাদের এইরূপ আচরণের কারণ।? সত্যসুন্দর কি আদৌও কখনো সুস্থ হয়ে উঠবেন? কি পরিণতি হবে তাদের? অনুভূতিঃ কাহিনী আমার ভালো লাগেনি। সত্যসুন্দর এর জীবন গল্প আর তার স্ত্রীর পরকিয়া বাদে অন্য কোনো বিষয় চোখে পড়েনি।গল্পের চরিত্রগুলোর স্বাতন্ত্র্য ফুটে উঠেনি। সত্যসুন্দর লীলার পরকিয়ার কথা আগে থেকেই জানত,কিন্তু কেন সত্যসুন্দর লীলাকে কিছু বলেনি,কেন এই বিশ্বাসঘাতকতার কৈফিয়ত চায়নি? সত্যসুন্দরকে দৃঢ় চরিত্র হিসেবে দেখাতে চাইলেও তার অনেক দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। কাহিনীর প্রতিটি চরিত্র আসলে কি চাই, তাদের আচরণের,কার্যকলাপের কোনো উদ্দেশ্য স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয়নি। ২য় গল্পঃ ফিরে আসাঃ গল্পটি এক টুথপেস্ট কোম্পানির মালিক জ্ঞানব্রতকে নিয়ে। স্ত্রী-পুত্র- কন্যা নিয়ে ভালোই চলছিল তার জীবন।কিন্তু একদিন এক রেডিওতে শোনা গান তার পুরো জীবনকে এক অন্য ধারায় নিয়ে যায়।গানটির সাথে তার বহু পুরোনো স্মৃতি রয়েছে,সেই স্মৃতি খুঁজে বের করতেই সন্ধান চালায় ঐ গানের গায়কের। গানটির গায়ককে খুঁজতে খুঁজতে দেখা হয় এলা নামের একটি মেয়ের সাথে। ঘটনাচক্রে জানতে পারে এলা তার মেয়ের সহপাঠী ছিল একসময়।ক্রমেই এলার প্রেমে পড়ে যায় জ্ঞানব্রত।তাদের মধ্যে কিছু ঘনিষ্ট মুহূর্তও তৈরী হয়। কিন্তু জ্ঞানব্রত জানে এইটা সঠিক নয়।পরে কি জ্ঞানব্রত নিজেকে সরিয়ে আনতে পেরেছিল,নাকি অনুভূতির নিকট হেরে গিয়ে নিজেকে সমর্পন করেছিল অন্য নারীর কাছে? আর শেষ পর্যন্ত কি সে ঐ গায়ককে খুজে পেয়েছিল? অনুভূতিঃ কাহিনী আমার মোটামুটি টাইপের লেগেছে।বারবার জ্ঞানব্রতের মস্তিষ্ক আর মনের মধ্যে একটা দন্দ্ব ফুটে উঠেছে। এলা নামের চরিত্রে স্বাতন্ত্র্য, অসাধারণত্ব ছিল।তাকে একটি স্বাধীন চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে অপরদিকে জ্ঞানব্রতের স্ত্রী সুজাতাকে খানিকটা অনুভূতিহীন মনে হয়েছে।নিজেকে অভিজাত প্রমাণ করার জন্য স্বামীর কোনোরূপ অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে বিচলিত বা অবাক হতেন না। শশীকান্ত অর্থাৎ ঐ গায়কের চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিল।ভালো করে বেঁচে থাকা ছাড়া তার জীবনে অন্য কোনো অভিলাষ ছিল না।"
Rejoy , Mar 28, 2022
"কিছু বলার নেই। অসাধারণ, জাস্ট অসাধারণ। সুনীল বাবুর লেখার ভক্ত আমি সবসময়। এমনভাবে লেখেন উনি, এ বইটা তার ব্যতিক্রম হলোনা। এ বইয়ে দুটি গল্প রয়েছে। একদিক থেকে বললে দুটো গল্পেই নায়ক একটু বয়স্ক। আর নারী চরিত্রটি অর্থাৎ নায়িকা সে বয়স্ক নায়কের তুলনায় অনেক ছোট বয়সে। প্রথম গল্পটিতে বয়স্ক নায়কের স্ত্রী সে কম বয়সী নায়িকা। সেই স্ত্রীর জীবনে রয়েছে অন্য পুরুষ,পরকীয়া। এরপর আর কিছু বলবোনা। বাকি অর্ধেক বা টুইস্ট পাঠককেই পড়ে নিতে হবে। দ্বিতীয় গল্পে বয়স্ক নায়কের স্ত্রী নয় যদিও নায়িকা। তবে তার মেয়ের সমবয়সী সেই অল্প নায়িকা। কিভাবে যেন বয়স্ক মানুষটা প্রেমে পড়ে গেলো তার মেয়ের বয়সী মেয়েটির। একদিন রাতে কাছাকাছি ও এলো। কিন্ত এরপর!!! এরপর পাঠকরা পড়ে দেখবে কোথায় গিয়ে ঠেকলো গল্পটা...."
Arafat Tonmoy(বুনোহাঁস) , Jul 28, 2018
"#প্রগতি_রিভিউ_প্রতিযোগ_২০১৮ বই আলোচনা : ১ বইয়ের নামঃ অপরূপ সর্বনাশ। লেখকের নামঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ধরণঃ প্রিয়তম'র করা সুন্দর বিশ্বাসঘাতকতা। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৮/১০। প্রকাশকঃ জ্যোৎস্না পাবলিশার্স। প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪খ্রি. প্রচ্ছদঃ মোমিন উদ্দিন খালেদ। পৃষ্ঠাঃ ৭০। মুদ্রিত মূল্যঃ ১২৫ টাকা। ISBN: 984 70148 0079 4. #লেখক পরিচিতিঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (ইংরেজি : Sunil Gangopadhyay)। জন্ম-মৃত্যুঃ (৭ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪, ২১ ভাদ্র, ১৩৪১ বঙ্গাব্দ)-( ২৩ অক্টোবর ২০১২ )। মাদারিপুর জেলায়, কালকিনি থানার মাইজপারা গ্রামে। বর্তমান যা বাংলাদেশের অন্তর্গত। জন্ম বাংলাদেশে হলেও তিনি বড় হয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পড়াশুনা করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ব্যাংকের পিয়নের চেয়েও স্কুল মাস্টারের বেতন ছিল কম। সুনীলের মা কখনোই চান নি তাঁর ছেলে শিক্ষকতা করুক। পড়াশুনা শেষ করে কিছু দিন তিনি আপিসে চাকুরি করেছেন। তারপর থেকে সাংবাদিকতায়। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান মি. পলেন কলকাতায় এলে সুনীলের সঙ্গে ঘনিষ্ট পরিচয় হয়। সেই সূত্রে মার্কিন মুলুকে গেলেন সুনীল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে । ডিগ্রি হয়ে গেলে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপগ্রন্থাগারিক হিসাবে কিছুদিন কাজ করেন সুনীল। সাহিত্যিক জীবনঃ নীললোহিত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম । নীললোহিতের মাধ্যমে সুনীল নিজের একটি পৃথক সত্ত্বা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন । নীললোহিতের সব কাহিনীতেই নীললোহিতই কেন্দ্রীয় চরিত্র । সে নিজেই কাহিনীটি বলে চলে আত্মকথার ভঙ্গিতে । সব কাহিনীতেই নীললোহিতের বয়স সাতাশ । সাতাশের বেশি তার বয়েস বাড়ে না । বিভিন্ন কাহিনীতে দেখা যায় নীললোহিত চিরবেকার । চাকরিতে ঢুকলেও সে বেশিদিন টেঁকে না । তার বাড়িতে মা, দাদা, বৌদি রয়েছেন । নীললোহিতের বহু কাহিনীতেই দিকশূন্যপুর বলে একটি জায়গার কথা শোনা যায় । যেখানে বহু শিক্ষিত সফল কিন্তু জীবন সম্পর্কে নিস্পৃহ মানুষ একাকী জীবন যাপন করেন বিংশ শতকের শেষার্ধে আবিভূর্ত একজন প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশক তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা-ব্যক্তিত্ব হিসাবে সর্ববৈশ্বিক বাংলা ভাষা-ভাষী জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। বাঙলাভাষী এই ভারতীয় সাহিত্যিক একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক, সাংবাদিক ও কলামনিস্ট হিসাবে অজস্র স্মরণীয় রচনা উপহার দিয়েছেন। তিনি আধুনিক বাংলা কবিতার জীবনানন্দ-পরবর্তী পর্যায়ের অন্যতম প্রধান কবি। একই সঙ্গে তিনি আধুনিক ও রোমান্টিক। তাঁর কবিতার বহু পংক্তি সাধারণ মানুষের মুখস্থ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "নীললোহিত ", "সনাতন পাঠক" ও "নীল উপাধ্যায়" ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। প্রথম উপন্যাস আত্মপ্রকাশ প্রকাশিত হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হল আমি কী রকম ভাবে বেঁচে আছি, যুগলবন্দী (শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে), হঠাৎ নীরার জন্য , শ্যামবাজারের মোড়ের আড্ডা, অর্ধেক জীবন , অরণ্যের দিনরাত্রি , অর্জুন , প্রথম আলো, সেই সময়, পূর্ব পশ্চিম, ভানু ও রাণু, মনের মানুষ ইত্যাদি। শিশুসাহিত্যে তিনি "কাকাবাবু-সন্তু" নামে এক জনপ্রিয় গোয়েন্দা সিরিজের রচয়িতা। মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি ভারতের জাতীয় সাহিত্য প্রতিষ্ঠান সাহিত্য একাডেমী ও পশ্চিমবঙ্গ শিশুকিশোর একাডেমির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। #রিভিউঃ বস্তির ছেলে, অন্তত কয়েকটা বছর বস্তিতে কাটিয়েছেন। চুরির দায়ে যার বাবা জেল খাটছিলেন। বলছিলাম সত্যসুন্দরের কথা। তখন তার বয়স তেরো বছর মাত্র। বিপদে পড়ে কাকাদের গিয়েছিলে, টাকা দিয়ে সাহায্য করেছিল বটে কিন্তু এমন অপমান করেছিলেন সেই তেরো বছরের ছেলেই জ্বলে উঠেছিল। সন্ন্যাসীরা যেমন না পাল্টায় তেমনই রাজু নাম পাল্টে সত্যসুন্দর হয়েছেন তিনি। এখন এই নামে শুধু একমাত্র পিসিমাই ডাকেন। তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা বিশাল, তার মধ্যে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় সেকেণ্ড হয়েছিলেন। তবুও ফার্স্ট হতে না পারার আঘাতে তিনি আত্মহত্যা করতেও গিয়েছিলেন। এরপর তিনি, নিজের জীবনযাপনের উন্মাদনায় মা ভাইবোন সকলকে পরিত্যাগ করে চলে গেছেন..... এভাবেই ঘটনার প্রবাহ। এই উপন্যাসটি সত্যসুন্দর আর তার তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী লীলাকে নিয়েই সৃষ্ট। জীবনে সফলতা পেয়েছেন তিনি। ভারত সরকার তৃতীয় ভাষা কমিশন বসিয়েছেন, তাতে সত্যসুন্দর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছেন। এক-দেড় বছরের কাজ। সারা জীবনে কখনো বাঁধা চাকরী করেননি। সত্যসুন্দর ঘোর নাস্তিক এবং মানবতা টানবতা ইত্যাদি বড় বড় কথাকে বেশ উপহাস করতেন। সত্যসুন্দর এগারোটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে ও লিখতে পারতেন। সত্যসুন্দর প্রথম বিয়ে করেছিলেন এক জার্মান যুবতীকে আটত্রিশ বছর বয়সে। ভালোই মানিয়েছিল। কিন্তু বিয়েটা তিন বছরের বেশি টিকলো না। তারপর মারাঠি মেয়ে, ছোট্টখাট্টো চেহারা, দারুণ বুদ্ধিমতী এবং স্নেহ পরায়ণা লীলা পরাঞ্জপে কে বিয়ে করেছিলেন। লীলা ঠিক সত্যসুন্দরের যোগ্য সহধর্মিণী হয়ে উঠেছিলেন। সত্যসুন্দরের কাম বাসনা অত্যন্ত প্রবল। আপাতপক্ষে সত্যসুন্দরকে বেশ স্বার্থপর মনে হয়। নিজের ভালো লাগার উপর বেশি জোর দেন, পারিপার্শ্বিক সম্বন্ধে প্রায় অন্ধ, নিজেকে বাদ দিয়ে বাকি জগৎসংসার সম্পর্কে তার একটা পরিহাসমিশ্রিত নির্দিষ্ট ধারণা আছে। সত্যসুন্দর দারিদ্র ও প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত জিতেছেন। সত্যসুন্দর বাচ্চা ছেলেমেয়ে পছন্দ করতেন না। কিন্তু লীলা একটি সন্তান চেয়েছিল। সাঁইত্রিশ বছর বয়সে প্রথম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে লীলা মারা যায়। সন্তানটি পাঁচ দিন বেঁচে ছিল। এই আঘাত বেশ ভালোভাবেই কাবু করে সত্যসুদরকে। বায়ান্ন বছর বয়সে সত্যসুন্দরের নিজের অধীনস্থ এক মেয়েকে বিয়ে করেন। যার নাম সবিতা। সত্যসুন্দর তার নাম পাল্টে রাখেন লীলা। সত্যসুন্দর বছরের বেশিরভাগ সময় কাটাতেন দিল্লীতে। কলকাতার নিউ আলিপুরে তিনতলা বাড়ি ছিল তার। একতলাতে বসার ঘর, রান্নার ঘর আর একমাত্র পিসীমার ঘর। দোতলায় চারখানি ঘর, তার মাঝে একটি লীলার। বাকিগুলো বইপত্রে ঠাসা। তিন তলায় একটি মাত্র ঘর,সেটা সত্যসুন্দরের নিজস্ব। তবে জীবনে সত্যিকারের মাত্র একবার কাউকে ভালোবেসেছিলেন সত্যসুন্দর। তিনি ছিলেন কাবুলে এক ভারতীয় অধ্যাপকের স্ত্রী। দুজনেই বাঙালী মুসলমান! এমনি ভাবে চলছিল সত্যসুন্দরের জীবন। কিন্তু তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায় লীলাকে স্বাধীন ভাবে চলতে দেয়া। লীলা নাটক থিয়েটার খুব পছন্দ করতো। আর এসব বিষয়ে সত্যসুদর ছিল বরাবরই খুটখটে স্বভাবের। লীলা প্রায় সময় ওসব জায়গায় যেতো বন্ধু, আত্মীয় , ইচ্ছেমত। এ বিষয়ে সত্যসুন্দর কখনো নাক গলায়নি। বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় লীলাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল সত্যসুন্দর। সত্যসুন্দরের অফিসে চাকরী করতো প্রবীর নামে একজন। যার সাথে লীলা খুব মিশতো। সত্যসুন্দর প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে একতলায় পিসীমার খবর নেন। লীলা যেদিন অন্যদের সাথে সিনেমা -থিয়েটারে যায়, সেদিন সত্যসুন্দর সোজা তিনতলায় নিজের ঘরে উঠে আসেন। কিছুক্ষণ ব্যায়াম করে স্নান সারেন। তেমনই একদিন, রাত ন'টা। সত্যসুন্দরের মাথার মধ্যে হঠাৎ চিনচিন করে উঠলো তখন তিনি নিজের ঘরে বই নিয়ে বসেছিলেন। চোখের জন্য মাথাব্যথা অবশ্য নতুন কিছু নয়। আপাতত ওষুধ খাওয়া দরকার। সত্যসুন্দর ওষধপাতি নিজের কাছে রাখতেন না। লীলার ঘরেই থাকে। ন'টা বেজে গেছে। লীলা কি সিনেমা দেখে ফিরেছে? সত্যসুন্দর দোতলায় নেমে এলেন। নিজের স্ত্রীর ঘরে ঢুকতে কোনো স্বামীকেই আওয়াজ করে ঢুকতে হয় না নিশ্চয়। সত্যসুন্দরও তা করলেন। সত্যসুন্দর দরজা ঠেলে এক পা বাড়িয়ে থেমে গেলেন। লীলার বুক থেকে শাড়ীর আঁচল খসে গেছে। তার নগ্ন কোমরে প্রবীরের হাত। লীলার ওষ্ঠাধর স্ফূরিত, চোখ জ্বলজ্বলে, সে প্রবীরের বুকে মাথা হেলান দিয়ে আছে। তারপর যা বোঝা যায় সে কাঁদছে একটু একটু। প্রবীরের বুকে ছোট ছোট কিল দিয়ে সে বলছে, কেন? কেন? কেন? সত্যসুন্দর স্থানু হয়ে গেলেন। তার গলা দিতে একটু স্বরও বেরুলো না। তারা দুজনে দেখার আগে সত্যসুন্দর সরে আসতে পারলেন না। তার মনে হলো, গলার কাছে কোটের বোতামটি না খুললে দম বন্ধ হয়ে যাবে এখুনি। তিনি চেষ্টা করলেন কিন্তু পারলেন না। সত্যসুন্দর অসহায়ভাবে ঝুপ করে মাটিতে পড়ে গেলেন। এরপর, সত্যসুন্দরের কী হলো? তিনি বেঁচে ছিলেন? লীলা আর প্রবীরের কী সম্পর্ক? প্রেম-ভালোবাসা? না অন্যকিছু? প্রবীরের চাওয়া কী ছিল? এই উপন্যাসের শেষ পরিণতি কী? এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল পাওয়া যাবে বইটি পড়লেই! #পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ অপরূপ সর্বনাশ, শিরোনামের সাথে ঘটনা, এককথায় অসাধারণ টুইস্ট বইটিতে। প্রিয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া বেদনা কিংবা তার দ্বারা ঘটিত সর্বনাশ ভালোই লাগে নিজের কাছে। শত চেষ্টা করেও বিশ্বাসঘাতক প্রিয় মানুষটিকে শাস্তি বা কোনপ্রকার অবহেলা করা যায় না। তা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই উপন্যাসের মাধ্যমে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন বলে একজন পাঠক হিসেবে আমি তা মনে করি। তবে এই বইটি পড়ে আরো একটি জিনিস উপলব্ধি হলো, উলোবনে মুক্ত ছড়ানো আসলেই উচিৎ না। সবাই যথার্থ মূল্য দিতে জানে না। নিজেকেই গোপনে সয়ে যেতে হয় একবুক পাহাড়সম দুঃখ। সবমিলিয়ে বাস্তব জীবনে একজন সফল ব্যক্তি আর আক্ষরিক অর্থে একজন ব্যর্থ মানুষের গল্প এখানে, যা কেবল পড়লেই বোঝা যাবে। #সেরা উক্তিঃ * অর্থ চিন্তা থাকলে জ্ঞান চর্চা করা যায় না। * কর্মেই আপনার অধিকার, ফলাফল নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। * সকলের আনন্দ একরকম নয়। * শুধু চাকর-বাকর-ঠাকুর নিয়ে পুরুষশাসিত সংসারে থাকলে স্বভাব রুক্ষ হয়ে যায়। * জল যেমন জলকে টানে, তেমনি যৌবনও যৌবনের দিকে আকর্ষিক হবেই। * আনন্দ মানুষকে খুঁজে নিতে হয়। * সাধারণ মানুষজন নারী সম্পর্কে ঈর্ষা করে আনন্দ পায়। * আনন্দেরও বিশেষ বিশেষ মুহূর্ত আছে। * অমৃত কখনো উচ্ছিষ্ট হয় না। * মেয়েদেরকে কখনো চেনা যায় না। * বিবাহিত সম্পর্ক বিরহিত প্রণয়ে নারীদের রূপ খোলে। * শারীরিক ভালোবাসা একদিন ফুরিয়ে যাবে। * মেয়েরা পুরুষদের দৃষ্টি চেনে। * টাকা পয়সার ব্যাপারটাই নোংরা। #নামকরণের সংশ্লিষ্টতা: জীবনের বড় আঘাতটি সত্যসুন্দর পেয়েছিলেন তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী লীলার কাছে থেকে। এটা ব্যতীত জীবনে সফল ছিলেন সত্যসুন্দর। সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সত্যসুন্দর লীলাকে শাস্তি দেননি। প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে পাওয়া সর্বনাশ, ভালো, সুন্দর ভাবেই নিয়েছেন সত্যসুন্দর। উপন্যাসের নাম যথাযথ ছিল। Written by: আরাফাত তন্ময়(বুনোহাঁস)।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"অপরূপ সর্বনাশ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: