হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
নীরবতার নোটবুক - নাহিদা আশরাফী এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২৬

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

নীরবতার নোটবুক

1 Ratings | 1 Reviews
TK. 219 TK. 250 -12% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

আমি বিশ্বাস করি প্রকৃত সত্য লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির পাতা পঞ্জিতে। আমি সেই সাধনায় ব্রতী হতে চাই। সত্যের তিতাটুকু বাদ দিয়ে মিথ্যের মাখন মাখিয়ে যে লেখা লিখতে হয় তেমন...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

আমি বিশ্বাস করি প্রকৃত সত্য লুকিয়ে থাকে প্রকৃতির পাতা পঞ্জিতে। আমি সেই সাধনায় ব্রতী হতে চাই। সত্যের তিতাটুকু বাদ দিয়ে মিথ্যের মাখন মাখিয়ে যে লেখা লিখতে হয় তেমন লেখা আমি লিখতে চাই ন
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title নীরবতার নোটবুক
Author নাহিদা আশরাফী
Publisher জলধি
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২৬
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 80
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category প্রবন্ধ
ISBN 978-984-29122-9-0
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

5.00

1 Ratings and 1 Reviews

★★★★★
1
★★★★☆
0
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

১টি
Nuzhat Nasim

Nuzhat Nasim , Mar 14, 2026

★ ★ ★ ★ ★

"নাহিদা আশরাফীর কলমপ্রসূত "নীরবতার নোটবুক" নামক ধ্রুপদী প্রবন্ধ গ্রন্থটি পাঠ করে আমার মানসপটে এক সুপ্রাচীন আরব্য প্রবাদ বিদ্যুতের ন্যায় ঝলক দিয়ে উঠল যা হলো "অক্ষর হলো হৃদয়ের কণ্ঠস্বর আর শব্দ হলো আত্মার প্রতিচ্ছবি"। এই বাক্যের সার্থকতা যেন গ্রন্থটির পরতে পরতে কুসুমিত হয়ে আছে। ভূমিকার ব্যঞ্জনায় যদি বলি তবে বলতে হয় লেখিকা এখানে কোনো কৃত্রিম আল্পনা আঁকেননি বরং হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশ থেকে তুলে এনেছেন পরম সত্যের মণিমুক্তো। দশটি প্রবন্ধের এই সুবিন্যস্ত মালা আমাদের এমন এক নিভৃত করিডোরে নিয়ে যায় যেখানে অযথা শব্দের কোলাহল নেই,রয়েছে অনুভবের সরব উপস্থিতি । প্রতিটি বাক্য যেন লেখিকার স্বাধীনচেতা ও বাউন্ডুলে মনের এক একটি জ্যান্ত স্পন্দন যা পাঠমাত্রই পাঠককে এক অনির্বচনীয় রসাস্বাদনের জগতে নিমজ্জিত করে। লেখিকা এখানে মিথ্যার প্রলেপহীন এক অকৃত্রিম সাহিত্যিক সাধনার স্বাক্ষর রেখেছেন যা বর্তমানের চটকদার সাহিত্যের বাজারে ঘোল খাইয়ে জল খাওয়ানোর মতো প্রতারণামূলক নয় বরং পরম তৃপ্তিদায়ক। বইটির প্রতিটি অধ্যায়ে নাগরিক নিঃসঙ্গতা থেকে মুক্তির এক অলৌকিক মহৌষধি নিহিত আছে যা আমাদের আত্মিক প্রশান্তির দিশা দেখায়। পঞ্চবটীর ছায়াতলে অক্ষত অক্ষরের সন্ধানে বের হওয়া লেখিকা আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন এক নিয়ম ভাঙা কিশোর মনের সাথে যার অবচেতনের নিজস্বতাকে কোনো গণ্ডি দিয়ে আবদ্ধ করা অসম্ভব। সেই মন কখনো জেলের আহ্লাদে উল্লসিত হয় আবার পরক্ষণেই বিদ্ধ মাছের যন্ত্রণায় ব্যথিত হয়ে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্বে নিপতিত হয়। এমন এক সংবেদনশীল হৃদয়ের প্রতিফলন এই গ্রন্থ যা পাঠমাত্রই পাঠকের সুপ্ত চেতনাকে তাসের ঘরের মতো নড়বড়ে করে দিয়ে নতুন এক বোধের জন্ম দেয়। এখানে লেখিকার শব্দচয়ন যেমন মার্জিত তেমনই তার ভাবনার বিস্তার যা আকাশকুসুম কল্পনাকে হার মানায়। বিশ শতকের বাংলা কবিতার আধুনিকতা থেকে শুরু করে নব্বই দশকের কবিতার নিমগ্ন চেতনা লেখিকা ব্যবচ্ছেদ করেছেন অত্যন্ত নিপুণ শৈল্পিক কারুকার্যে। আধুনিকতাকে তিনি নদী বা বাঁক ফেরার সাথে তুলনা করেছেন যা চিরাচরিত প্রথা ভেঙে নতুনত্বের জয়গান গায়। জীবনানন্দ দাশ কিংবা রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী সৃষ্টির আলোকচ্ছটায় তিনি আধুনিকতার যে স্বরূপ উন্মোচন করেছেন তা যেন এক চাঁদের হাট যেখানে কেবল প্রতিভারই বিচরণ। "রাশিয়ান মিথ ও স্লাভিক ধর্মচর্চার" মতো রহস্যময় ও অনাবিষ্কৃত অধ্যায়গুলো এই গ্রন্থে এক অনন্য মাত্রার বুদ্ধিবৃত্তিক আবেশ যোগ করেছে যা পাঠকের জ্ঞানপিপাসাকে মেটানোর পাশাপাশি তাকে নিয়ে যায় এক অজানা সভ্যতার গহীন অন্দরমহলে। আইনচর্চায় বাংলা ভাষার প্রয়োগের সংকট কিংবা সুবোধের পলায়নপর বৃত্তির মাঝ দিয়ে প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে নেওয়া লেখিকার সমাজমনস্কতার এক অনবদ্য প্রমাণ। প্রতিটি পাহাড় যেমন সবুজের বুকপকেটে শীত জমিয়ে রাখে লেখিকা তেমন করেই শব্দ জমিয়েছেন তার হৃদপেয়ালায় অত্যন্ত যত্ন আর মমতায়। কবিতার ধ্রুপদী অভিযাত্রী হয়ে তিনি কৃষকের হাসিতেও খুঁজে পান কাব্যের অন্তঃসার যা সাধারণ মানুষের চোখে অনেকটা গোবরে পদ্মফুলের মতো অবহেলিত রয়ে যায়। পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে তার কলম হয়ে ওঠে ক্ষুরধার ও আপসহীন এক শাণিত হাতিয়ার যা অন্যায়ের মূলে সজোরে আঘাত হানে। বিজয় দিবসের উদযাপন কেবল বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় নয় বরং হৃদয়ের মণিকোঠায় ধারণ করার যে উদাত্ত আহ্বান লেখিকা জানিয়েছেন তা দেশপ্রেমের এক নতুন সংজ্ঞা ও মাত্রা দেয়। তিনি বিশ্বাস করেন সাহিত্য কেবল অক্ষরের নিরস সমাবেশ নয় এটি সময়ের এক সজীব চিত্রকল্প ও অতীতের ফেলে আসা দীর্ঘশ্বাসময় গল্পগাথা। মহাকালের কাছে নিজের সূক্ষ্ম অনুভবকে সঁপে দেওয়ার এই যে ব্যাকুলতা তা সংবেদনশীল পাঠককে চুম্বকের ন্যায় আকর্ষণ করে। স্বীকৃতির মোহের ঊর্ধ্বে উঠে দায়বদ্ধতার নিগড়ে নিজেকে বেঁধে রাখা এক বিরল ও প্রশংসনীয় সাহিত্যিক সৎসাহসের বহিঃপ্রকাশ এই গ্রন্থে পরিদৃষ্ট হয় যা কখনোই অরণ্যে রোদন হয়ে হারিয়ে যায় না। এই গ্রন্থে লেখিকা যেভাবে গল্পের সীমানা ভাঙার অপার্থিব সৌন্দর্য দেখিয়েছেন তা গদ্য সাহিত্যের এক নতুন ও বৈপ্লবিক দিগন্ত উন্মোচন করে। তিনি কালো পিঁপড়ের মতো সমস্ত ভয়কে তুড়ি মেরে এগিয়ে আসতে চান এক রক্তপাতহীন ও শান্তিময় আগামীর সন্ধানে। তার বর্ণনায় প্রতিটি শব্দ যেন এক একটি আলোকবর্তিকা যা অন্ধকারের গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্ট পথিককে সঠিক গন্তব্যের সন্ধান দেয়। শৈশবের সেই হারানো চকলেটের খোসার মতো অপহৃত জীবনের হাহাকার তিনি পরম মমতায় ও নিপুণ শব্দশৈলীতে তুলে ধরেছেন যা পাঠককে স্মৃতিকাতর করে যেন চোখের মণি হয়ে ধরা দেয়। লিটল ম্যাগাজিনের সক্ষমতা ও অক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে লেখিকার যে গভীর ও নির্মোহ বিশ্লেষণ তা এই আন্দোলনের কর্মীদের জন্য এক নতুন ও সময়োপযোগী দিশারি। তিনি মনে করেন লেখার সংখ্যা নয় বরং সৌন্দর্য ও সৌকর্য বাড়ানোই হওয়া উচিত একজন প্রকৃত ও দায়বদ্ধ লেখিকার প্রধান অভীষ্ট লক্ষ্য। মিথ্যের মাখন মাখিয়ে সত্যের তিতাটুকু ঢেকে দেওয়ার যে হীন প্রবণতা সমাজে বিদ্যমান লেখিকা তাকে অত্যন্ত সাহসের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন যা অনেক ক্ষেত্রে এক হাত দিয়ে অন্য হাত ঢাকার চেষ্টার মতো বিফল প্রচেষ্টাকে উপহাস করে। তার কাছে লেখালেখি হলো আত্মার প্রশান্তির এক পরম সোপান যা তাকে জাগতিক সব পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়। বইটির প্রতিটি পাতায় রবীন্দ্রনাথের সেই অমোঘ সত্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় যেখানে হৃদয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা শাশ্বত সত্যকে খুঁজে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লেখিকা আধুনিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এক চিরন্তন পরিবর্তনের ধারা হিসেবে। তিনি বিশ্বাস করেন কবিতা কেবল কাগজে লিখে রাখার নিরস বিষয় নয় বরং জীবনকে কবিতাময় করে তোলাই হলো শিল্পের প্রকৃত সার্থকতা। এই দর্শনের আলোকেই তিনি তার গদ্যের জগত সাজিয়েছেন যেখানে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়ও এক মহাজাগতিক মর্যাদা লাভ করে। এখানে রথ দেখা আর কলা বেচার মতো এক সাথে জ্ঞানার্জন ও আত্মিক আনন্দ উভয়ই লাভ করা সম্ভব। লেখিকা নিজেকে প্রকৃতির এক "বাধ্যগত ছাত্র" হিসেবে অভিহিত করেছেন যার কাছ থেকে তিনি প্রতিনিয়ত জীবনের নিগূঢ় পাঠ গ্রহণ করেন। এই প্রগাঢ় বিনয়ই তাকে একজন শক্তিমান ও প্রাজ্ঞ গদ্যকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে যার প্রতিটি বাক্যে বুদ্ধিবৃত্তি ও আবেগের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। তিনি চান এমন এক সাহিত্য যা মানুষের চেতনার গভীরে ঝিঁঝিঁ পোকার মতো ডাক দেবে কিংবা প্রজাপতির পাখার মতো মৃদু হিল্লোল তুলবে। তার এই শুভ আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতা পেয়েছে "নীরবতার নোটবুক"-এর প্রতিটি নিবন্ধে যা পাঠককে এক অন্য ও নিভৃত জগতে পরিভ্রমণ করায়। বইটির এক স্থানে তিনি ম্যাক্সিকান কবি নাদিয়া গার্সিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন সেই কালো পিঁপড়েদের কথা যারা সমস্ত ভয়কে তুড়ি মেরে মিছিল করে হেঁটে আসছে। এই রূপকটি লেখিকার নিজের জীবন সংগ্রামের ও তার অকুতোভয় মানসিকতারই এক অনন্য প্রতিফলন। তিনি মহাকালের কাছে নিজের অনুভব রেখে যেতে চান এবং সেই প্রাপ্তিকেই জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করেন নির্দ্বিধায়। এমন এক নির্মোহ সাহিত্যিক সাধনা এই কলুষিত সময়ে সত্যিই বিরল যা পাঠককে বইটির প্রতিটি শব্দ খুঁটিয়ে পড়তে বাধ্য করে বারবার এবং এটিই যেন পাঠের ক্ষেত্রে সোনায় সোহাগা হয়ে দাঁড়ায়। কবিতা প্রসঙ্গে লেখিকার বক্তব্য অত্যন্ত স্বচ্ছ ও শাণিত যেখানে তিনি কবিতাকে আধ্যাত্মলোকে জ্বলে থাকা প্রদীপ হিসেবে গণ্য করেছেন যা অমানিশা দূর করে। তিনি চান এমন কবিতা যা কোনো পক্ষ বা বিপক্ষ বিচার না করে কেবল সত্যের পক্ষেই নিজের অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যের লেজুড়বৃত্তির বিরুদ্ধে এক ধরনের তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ ফুটে উঠেছে অত্যন্ত সুরুচিপূর্ণভাবে। তিনি জীবনের সাদা পাতাকে কথায় ও গল্পে ভরিয়ে তোলার মাঝেই খুঁজে পান জীবনের প্রকৃত ও পরম আনন্দ যা তার লেখনীকে এক অনন্য উচ্চতা দান করেছে। বইটিতে আলোচিত "রাশিয়ান মিথ ও স্লাভিক ধর্মচর্চা" অধ্যায়টি পাঠকের জ্ঞানপিপাসা মেটানোর পাশাপাশি তাকে নিয়ে যায় এক অজানা সভ্যতার রহস্যময় অন্দরমহলে। লেখিকা এখানে দেখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাস ও মিথোলজির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক দীর্ঘ সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার যা আমরা প্রায়ই বিস্মৃত হই। এই প্রবন্ধটি লেখিকার গবেষণাধর্মী মনমানসিকতা ও বিশ্বসাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার গদ্যের ভাষা যেমনটি গম্ভীর ও মার্জিত তেমনই এর ভাবনার গভীরতা যা পাঠককে বিমুগ্ধ না করে পারে না। আইনচর্চায় বাংলা ভাষার প্রয়োগ নিয়ে তার উদ্বেগ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক রূঢ় ও তিক্ত বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে ভাষার বাধার কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সুবোধের পলায়নপর বৃত্তিকে তিনি প্রতিবাদের এক ভিন্ন আঙ্গিক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যা সমকালীন রাজনীতির এক অন্ধকার দিককে উন্মোচন করে। তার এই তীক্ষ্ণ সমাজচিন্তা প্রবন্ধগুলোকে কেবল তাত্ত্বিক আলোচনা থেকে মুক্ত করে জীবন্ত ও সময়োপযোগী করে তুলেছে যা কোনোভাবেই আষাঢ়ে গল্প নয়। "নীরবতার নোটবুক" পাঠ করতে করতে পাঠক আবিষ্কার করবেন এক নিভৃতচারী মানুষকে যিনি তার সমস্ত অভিমান ও ভালোবাসা বাতাসের ডানা সঁপে দিয়েছেন। তিনি শব্দ জমা করেন হৃদপেয়ালায় এবং সেই শব্দের আলোকচ্ছটায় সাজান তার ভাবনার সুশোভিত ইমারত যা চিরস্থায়ী এক রূপ লাভ করে। তার গদ্যে কোনো মেদ নেই বরং আছে এক ধরনের আশ্চর্য স্বচ্ছতা যা কঠিন বিষয়কেও অতি সহজে পাঠকের বোধগম্য করে তোলে। এটিই নাহিদা আশরাফীর গদ্যের প্রধান শক্তি ও তার লেখনীর এক অনন্য সাধারণ ও অতুলনীয় বৈশিষ্ট্য যা নিঃসন্দেহে পাঠককে মোহিত করে রাখে। এই প্রবন্ধ গ্রন্থে লেখিকা যেভাবে বিশ শতকের আধুনিকতাকে ব্যবচ্ছেদ করেছেন তা সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অমূল্য খনি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি বুদ্ধদেব বসুর বক্তব্যের সূত্র ধরে আধুনিক কবিকে স্বতন্ত্র ও নতুন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন যার সৃষ্টিতে বিদ্রোহ ও বিস্ময় ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে। জীবনানন্দের "কবিতার কথা" থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন আধুনিকতা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের খাঁচায় বন্দী থাকার বস্তু নয়। এই গভীর তাত্ত্বিক আলোচনাগুলো বইটিকে কেবল একটি সাধারণ প্রবন্ধ সংকলন থেকে এক অনন্য উচ্চতায় ও ধ্রুপদী মর্যাদায় উন্নীত করেছে। বইটির পরিসমাপ্তি ঘটে এক অদ্ভুত হাহাকার ও আশাবাদের দোলাচলের মাঝ দিয়ে যেখানে লেখিকা মহাকালের কাছে নিজের অস্তিত্বের স্বাক্ষর রেখে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। তিনি জানেন হয়তো কেউ এই লেখার হাত ধরেই জানবে পিছিয়ে পড়া সময়ের গল্প কিংবা দেখবে অতীতের কোনো বিস্মৃত চিত্রকল্প। ফ্রাসোয়া ক্রফোর সেই বিখ্যাত উক্তির মতো লেখিকাও বিশ্বাস করেন দর্শক থাকুক বা না থাকুক শিল্পের সৃজন চালিয়ে যেতে হবে নিরন্তর। এই যে শিল্পের প্রতি অদম্য দায়বদ্ধতা ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনা তাই মূলত নাহিদা আশরাফীর এই গ্রন্থটির প্রধান উপজীব্য ও প্রাণশক্তি। বইটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে এটি কেবল একটি জড় বস্তু নয় বরং এটি এক নিবিড় ও পবিত্র অনুভবের আখ্যান যা হৃদয়ের তন্ত্রীতে আঘাত করে। লেখিকার প্রতিটি প্রবন্ধের ব্যাখ্যায় আমি যেভাবে আবিষ্ট হয়েছি তা হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ও কীভাবে মহৎ সাহিত্যের উপাদানে রূপান্তরিত হতে পারে। লেখিকার গুচ্ছ গুচ্ছ ভাবনাগুলো বইয়ের পাতার মধ্য দিয়ে যেন এক একটি বসন্তের সমীরণ হয়ে পাঠকের অন্তরে হিল্লোল তোলে। বিশেষ করে প্রকৃতির মহতী পাঠশালা থেকে শিক্ষা নেওয়ার যে অমোঘ দর্শন তা বর্তমানের যান্ত্রিক জীবনে এক পশলা বৃষ্টির মতো শীতলতা ও প্রশান্তি বিলিয়ে দেয়। আমি কেন পাঠককে এটি পাঠ করার জন্য সানুনয় অনুরোধ করছি তার প্রধান কারণ হলো এই গ্রন্থটি আমাদের শেখায় কীভাবে নাগরিক কোলাহল ও নির্জনতার মাঝেও নিজের অস্তিত্বকে চেনা যায়। এটি আমাদের পথ দেখায় মিথ্যার হাজারো চাকচিক্যের ভিড়ে সত্যকে পরম মমতায় আগলে রাখার এবং নিজের বিশ্বাসের ওপর অবিচল থাকার। যখন চারদিকে চটুল ও অপসাহিত্যের জয়জয়কার তখন এমন একটি গম্ভীর ও জীবনমুখী বই আমাদের পাঠরুচিকে পরিশীলিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। যারা শব্দের গভীরে লুকিয়ে থাকা গভীর ব্যঞ্জনাকে শুনতে চান তাদের জন্য এই বইটি এক অমূল্য ও অপরিহার্য উপঢৌকন। বইটি পাঠ করে আমার যে অনুভূতি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। লেখিকার সততা আর শব্দের প্রতি তার অদম্য দায়বদ্ধতা আমাকে এই বইটির প্রতি চিরস্থায়ী এক আকর্ষণে আবদ্ধ করেছে। প্রতিটি প্রবন্ধ যেন এক একটি জীবন দর্শনের পাঠ যা পাঠককে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে ও ভাবতে শেখায়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই বইটি পাঠের পর কোনো পাঠকই পূর্বের ন্যায় থাকতে পারবেন না কারণ এটি মানুষের মনোজগতটাকে আমূল বদলে দেওয়ার এক ঐশ্বরিক ক্ষমতা রাখে। পরিশেষে বলা যায় নাহিদা আশরাফীর এই সৃষ্টি বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে এক নতুন ও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর যা দীর্ঘদিন পাঠক হৃদয়ে অম্লান ও ভাস্বর থাকবে। এই বইটি পাঠ করা মানে হলো এক গভীর সমুদ্রের অতলে ডুব দেওয়া যেখান থেকে আপনি ফিরে আসবেন একরাশ অমূল্য মুক্তো নিয়ে। প্রতিটি অনুচ্ছেদে লেখিকা যেভাবে হৃদয়ের মাধুরী মিশিয়ে রূঢ় সত্যকে তুলে ধরেছেন তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। তাই প্রতিটি সত্যিকারের গ্রন্থপ্রেমী মানুষের উচিত এই অসাধারণ বইটি সংগ্রহ করা এবং এর প্রতিটি শব্দ নিজের হৃদয়ের মণিকোঠায় ধারণ করা কারণ এমন সুযোগ হাতে চাঁদ পাওয়ার মতোই দুর্লভ। বই: নীরবতার নোটবুক(প্রবন্ধগ্রন্থ) লেখক: নাহিদা আশরাফী Nahida Ashrafi প্রকাশনী: জলধি পৃষ্ঠা: ৮০ মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন- ১
একটু পড়ে দেখুন
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন- ১ হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান
(4)
TK. 320 -35% OFF
TK. 208
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন - ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন - ২য় খণ্ড হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান
(1)
TK. 400 -35% OFF
TK. 260
কিতাব পরিচিতি প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি
একটু পড়ে দেখুন
কিতাব পরিচিতি প্রয়োজনীয়তা ও পদ্ধতি মাওলানা আবদুল্লাহ নাজীব
(1)
TK. 150 -0% OFF
TK. 150
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন - ৩য় খণ্ড (ইলমের দাওয়াত)
একটু পড়ে দেখুন
প্রতিষ্ঠান যেভাবে পরিচালনা করবেন - ৩য় খণ্ড (ইলমের দাওয়াত) হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান
কোনো রেটিং নেই
TK. 450 -35% OFF
TK. 293
গবেষণা ৩৬০°
একটু পড়ে দেখুন
গবেষণা ৩৬০° হাসিবুল হাসান
কোনো রেটিং নেই
TK. 400 -6% OFF
TK. 378
আদর্শ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা গাইড (১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড একত্রে)
একটু পড়ে দেখুন
আদর্শ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা গাইড (১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড একত্রে) হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান
কোনো রেটিং নেই
TK. 1,170 -35% OFF
TK. 761
রক্তাক্ত জুলাই
একটু পড়ে দেখুন
রক্তাক্ত জুলাই নাহিদা আশরাফী
কোনো রেটিং নেই
TK. 1,500 -13% OFF
TK. 1,299
যুগল জোনাকি
একটু পড়ে দেখুন
যুগল জোনাকি নাহিদা আশরাফী
কোনো রেটিং নেই
TK. 500 -12% OFF
TK. 439

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"নীরবতার নোটবুক" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
নীরবতার নোটবুক পাতা: 1 / 6
পাতা 2
নীরবতার নোটবুক পাতা: 2 / 6
পাতা 3
নীরবতার নোটবুক পাতা: 3 / 6
পাতা 4
নীরবতার নোটবুক পাতা: 4 / 6
পাতা 5
নীরবতার নোটবুক পাতা: 5 / 6
পাতা 6
নীরবতার নোটবুক পাতা: 6 / 6
পাতা / 6
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।