এক্সক্লুসিভ এডিশন, বইমেলা ২০২৪
মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি (এক্সক্লুসিভ এডিশন)
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি (এক্সক্লুসিভ এডিশন) |
| Author | সাতোশি ইয়াগিসাওয়া |
| Publisher | অবসর প্রকাশনা সংস্থা |
| Edition | এক্সক্লুসিভ এডিশন, বইমেলা ২০২৪ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 128 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.63 Kg |
| Translator | সালমান হক |
| ISBN | 9789848801406 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
12 Ratings and 12 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১২টিMD.SHADDAM HOSSAIN , May 25, 2026
"অসাধারণ একটি বই। বিশেষ করে যারা বইপড়ুয়া তাঁদের জন্য মাস্টরিড একটি বই বলে রেফার করবো।"
Shahriar Nabil , May 25, 2025
"অসাধারণ একটি বই! ❣️"
Farhana Zaman Liza , Nov 20, 2024
"সাতোশি ইয়াগিসাওয়ার 'মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি' বইটি পড়ে শেষ করলাম মাত্র। যদিও এক্সক্লুসিভ এডিশনটা কেনার ইচ্ছে ছিলো, তবে ডার্ক এডিশন কেনা হয়েছে। কালো ব্যাকগ্রাউন্ডে সাদা লেখা পড়তে খারাপ লাগেনি, বরং মাঝ রাতে টেবিল ল্যাম্পের অল্প আলোতে বেশ ভালোই লেগেছে পড়তে। তবে এটা ঠিক যে, বইয়ের যে আলাদা একটা গন্ধ থাকে, সেটা এই বইয়ে পাইনি। এবার আসি কাহিনীতে। মূল কাহিনী আহামরি কিছু, তা বলবো না। তবে পড়ে হতাশ হওয়ার মতো না। বরং পুরো গল্পে ছোট ছোট অনেক ম্যাসেজ আছে। যারা কানেক্ট করতে পারবেন, তাদের কাছে নিঃসন্দেহে ভালো লাগবে বইটা। বই যে মানুষকে কিভাবে পরিবর্তন করতে পারে তা এই বইটিতে চমৎকার করে তুলে ধরা হয়েছে। আমার মতো বইপোকাদের অবশ্যই ভালো লাগার কথা। বই পড়ার সময় বারবার মনে হয়েছে ইস(!) আমার যদি তাকাতোর মতো সুযোগ থাকতো কিছুদিন একটা বইঘরে থাকার!! খুব হিংসে হচ্ছিল তাকাতোকে! যাইহোক, একটানা পড়ার মতো একটা বই, যদিও আমি একটানা পড়তে পারিনি। এবার আসি অনুবাদের ব্যাপারে। আসলে সালমান হকের অনুবাদের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। ঝরঝরে, স্পষ্ট ভাবানুবাদ। পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয় না যে অনুবাদ পড়ছি। সব মিলিয়ে আমার কাছে ভালোই লেগেছে। আরেকটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। সেটা হল এই বইয়ের প্রচ্ছদ, এতো সুন্দর যে প্রচ্ছদ দেখেই লোভে বই কিনে ফেলেছিলাম।"
ইয়াসির আল সাইফ , Jul 27, 2024
"#Book_Insights 26 "আমরা আসলে কী খুঁজছি, তা বুঝতে লম্বা সময় লাগে। হয়তো জীবনের পুরোটাই কেটে যায় সেই অজানার খোঁজে।" পছন্দের মানুষের কাছে প্রতারিত হওয়ার পর, চাকরি-বাকরি ছেড়ে একেবারে ঘরকোণে হয়ে পড়েছিলো তাকাকো। বিষণ্নতা দূর করতে এক প্রকার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাকে থাকতে যেতে হলো তার নানার সেই পুরোনো বইয়ের দোকানে। বর্তমানে বইঘরটির দায়িত্বে আছেন সাতোরু মামা, যার স্ত্রী নিরুদ্দেশ হয়েছিলো কয়েক বছর আগে। নতুন এ জায়গায় থাকতে এসেও একঘেয়েমি যায়নি তাকাকোর। এদিকে, মোমোকো মামীর চলে যাওয়া নিয়েও তৈরি হলো তার কৌতুহল। • উপন্যাসটা যেমন দুই ভাগে বিভক্ত করে লেখা হয়েছে, তেমনি বইটা নিয়ে আলোচনা করতে গেলেও একে দুই অংশে ভাগ করতে হবে। সেই দুই অংশ নিয়ে প্রকাশ করতে হবে ভিন্ন দুই রকমের অনুভূতি। • প্রথমাংশ: তাকাকোর চোখে সূচনায় মরিসাকি বইঘর ও সাতোরু মামা:- এ অংশে গল্পটা খুব বেশি গতিশীল করা হয়নি। তাকাকোর মানসিক পরিস্থিতি এবং মরিসাকি বইঘর ও সাতোরু মামার প্রতি বিতৃষ্ণার দিক উল্লেখ করতে করতে কখন যে অর্ধশত পৃষ্ঠা পেরিয়ে গেছে, খেয়াল করিনি। প্রশ্ন জাগছিলো, মূল কাহিনীতে কখন আসবে। আরো খানিকটা পড়তেই বুঝতে পারলাম, এটাই মূল কাহিনী। তাকাকোর কাহিনী, সাতোরু মামা আর মরিসাকি বইঘরের কাহিনী। এখানে মূলত, গল্পের সরলরৈখিক গতি ভেঙেছে তিনটি ঘটনার মাধ্যমে। একবার যখন মামা তাকাকোকে একঘেয়েমি কাটাতে বাইরের পরিবেশে নিয়ে গেলো, একবার যখন তাকাকোর পক্ষ নিয়ে মামা সাহস দেখালো, আর আরেকবার যখন বইয়ের ভান্ডারে ঘেরা তাকাকো অবশেষে কোনো বই পড়া শেষ করে একটা ভালো অনুভূতির ছোঁয়া পেলো। "একটা প্রজাপতির গুটি থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তটা যেরকম সুন্দর, ওইরকমই লাগতো আমার কাছে ব্যাপারটা।" তাকাকোর মতো আমাদের জীবনেও এমন কোনো বই আছে, যার মাধ্যমে আমাদের বইয়ের প্রতি ভালোলাগা শুরু, বই পড়ার প্রতি আগ্রহের শুরু। দ্বিতীয়াংশ: তাকাকোর চোখে মোমোকো মামী ও সমাপ্তিতে মরিসাকি বইঘর:- এ অংশে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া মোমোকো মামীকে কাছ থেকে দেখেছে তাকাকো, জেনেছে হঠাৎ করে মামীর নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার কারণ। যে মানুষটা মামাকে এতোটা ভালোবাসতো, সে কাউকে কিছু না জানিয়ে কেনো চলে গেলো; এতবছর পর কেনোই বা ফিরে এলো মামার কাছে! এ অংশে তারই বিবরণ। সে বিবরণের সমাপ্তি সুখকর নাকি বেদনার, সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না। • সার্বিকভাবে অভিমত: • যেমনটা আগেই বলেছি বইটার গল্পকথন ধীর প্রকৃতির লাগছিলো। তবে গল্পের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আরেকটা সুতো বেঁধে দেয়ার বিষয়টা যখন সাজানো হচ্ছিলো, (আমরা যাকে ভিন্ন 'স্টোরি আর্ক' বলে সংজ্ঞায়িত করি) তখন আবার মনে হচ্ছিলো, সবটা কেমন দ্রুত বলা হচ্ছে। যেমন: মামার প্রতি তাকাকোর অনাগ্রহের কথা তো বারবার উঠে এলো, কিন্তু তাকাকোকে মামার পছন্দ করার বিষয়টা আবার তাড়াহুড়ো করে বলা হলো। মোমোকো মামীর চলে যাওয়ার বিষয়টা নিয়ে অনেকভাবে কৌতূহল সৃষ্টি করা হলো পুরো উপন্যাস জুড়ে। কিন্তু সে কৌতূহল মেটানোর মতো উত্তর জানাতে গিয়ে মনে হলো লেখক তাড়াহুড়ো করছেন। • এখানে, পাঠক হিসেবে (বিশেষ করে নিয়মিত পাঠ হিসেবে) সবচেয়ে বেশি কানেক্ট করতে পারবেন পুরোনো বইয়ের দোকান, বইয়ে ঘেরা একটা পরিবেশ কিংবা পাঠক হিসেবে প্রথমবার বইয়ের জগতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টা। আমাদের দেশে নীলক্ষেত কিংবা বাংলা বাজারে ঢুকে একজন পাঠক কেমন অনুভব করেন, তেমন একটা অনুভূতি পাবেন মরিসাকি বইঘরে। তেমনই একটা চরিত্র সাবুকে মিলিয়ে নিতে পারবেন নিজের সাথে। • জাপানিজ সাহিত্যের প্রতি যাদের ঝোঁক, তারা এ বইয়ে পাবেন বেশ কিছু জাপানিজ লেখক ও জাপানিজ বইয়ের রেফারেন্স। • অনুবাদ | রূপান্তর: সালমান হক অনুবাদিত পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস পড়লাম এ নিয়ে দ্বিতীয়বার। অনুবাদ না বলে রূপান্তরই বলি। সত্যি বলতে কাজটা ভালোই হয়েছে; বাক্য এবং সংলাপে জটিলতা নেই এখানে। সাবলীল ভাষায় জাপানিজ উপন্যাসেও বাংলার প্রয়োগটা আরোপিত লাগেনি। বইটি 'গ্রাফিক নভেল' হলে বেশি জমতো আমার এ মতামতের পেছনে মূল কারণ, বইটির একটা বড় অংশ জুড়ে আছে অনুভূতি। আছে পরিবেশের বর্ণনা। আছে চরিত্রের বর্ণনা। স্বাভাবিকভাবেই, এগুলো এক এক পাঠকের মাঝে এক একভাবে ফুটে উঠবে। এটা অবশ্য মন্ধ কিছু নয়। তবে এ উপন্যাসের গল্পের ক্ষেত্রে এটাই বরং নেতিবাচক বিষয়। দৃশ্যের ফাঁকে ফাঁকে চিত্র জুড়ে দিলে, পাঠকের কল্পনার বিষয়টা এখানে ফ্রেমবন্দি ছবির মতো সীমাবদ্ধ হয়ে যেতো। ফলে অনুভূতি, চরিত্র আর পরিবেশের দিকটা নিয়ে পাঠককে আলাদা করে ভাবতে হতো না। বরং, গল্পের প্রতি আকর্ষণ হতো আরো বেশি। তবে গ্রাফিক নভেলের বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন মতের বিষয়, এটা একান্তই আমার চাহিদাটা তুলে ধরলাম আর কি। • ব্যাক্তিগত রেটিং: ৭/১০ (প্রথমবার বাংলা সাহিত্যে ব্ল্যাক এডিশন নিয়ে এতোটা মাতামাতি হয়েছিলো এ বইটার মাধ্যমে। বইটার প্রোডাকশন নিয়ে অবসর প্রকাশনার প্রতি একদমই কোনো অভিযোগ নেই। কাগজের মান এবং বাইন্ডিং দুইয়েই সন্তুষ্ট আমি; পৃষ্ঠা মেলে পড়তে বেশ কমফোর্টেবল লেগেছে। কালো পৃষ্ঠা নিয়ে কেউ কেউ জানিয়েছিলো ভিন্ন অনুভূতি, কারো আবার পড়তে অসুবিধা মনে হয়েছে। তবে আমার কাছে কেনো জানি সাদা পৃষ্ঠার চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু মনে হয়নি। প্রচ্ছদটা কিন্তু জোস হয়েছে। প্রচ্ছদের চোখ ধাঁধানো ডিজাইনের পাশাপাশি আলাদা একটা লেয়ার ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে প্রচ্ছদে দেখানো শেল্ফ এর বইগুলো ভিন্ন আঙ্গিকে দেখলে চোখে ধরা পড়ে। বইয়ের প্রচ্ছদের খুঁটিনাটি যাচাই করে দেখি বলেই হয়তো এতোটা বেশি বলা।) এক নজরে, • বই: মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি • লেখক: সাতোশি ইয়াগিসাওয়া • রূপান্তর: সালমান হক • ধরণ: সমসাময়িক অনুবাদ উপন্যাস • প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা • পরিবেশক: প্রতীক প্রকাশনা সংস্থা • প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর ২০২৩ (ব্ল্যাক এডিশন) • প্রচ্ছদ: সানজিদা স্বর্ণা • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮ ~ ইয়াসির আল সাইফ"
Dr. Dewan Mahboob Hossain , Apr 12, 2024
"Loved the book because of its simple storytelling style."
Rafia M , Mar 8, 2024
"কালো পাতার বই কখনো পড়া হয়নি এবং সালমান হকের অনুবাদ আমার বরাবরই প্রীয় তাই আগ্রহ নিয়ে বইটি কিনেছিলাম। বইয়ের প্রচ্ছদ আঁকা সুন্দর। যদি গল্পের কথায় আসি তাহলে বলবো গল্পটি খুবই সাধারণ। পাঠকদের এই বই পড়তেই হবে এমন গল্প বলা যায় না। তবে গল্পের সাথে অনেকেই নিজেদেরকে মিলিয়ে নিতে পারবেন বলে আমার মনে হয়। মানুষের জীবনের যে কয়টি অনুভূতির সংমিশ্রণে চলে তার সব কয়টি মিলিয়ে এই বইয়ের গল্পে ছড়ানো আছে।"
j , Dec 22, 2023
"boita print quality design sundor but story ta amr temon valo lage nai er mane ei na je apnader kharap lagbe"
far****com , Dec 7, 2023
"#আড্ডাখানায়_প্রগতি #রিভিউ_২০২৩ বইয়ের নাম: মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি লেখক: সাতোশি ইয়াগিসাওয়া অনুবাদ: সালমান হক প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা পৃষ্ঠা: ১২৮ মূল্য: ৫০০ টাকা। (ব্ল্যাক এডিশন) ১. "মেলোড্রামাটিক হলে গ্লাসের ওয়াইন মুখে ছুঁড়ে মারা" তাকাকোর না হলেও, সাতোশি ইয়াগিসাওয়া তাকাকোর মুখে নিশ্চিতভাবেই ছুঁড়ে মেরেছেন একের পর এক বিপদ। বয়ফ্রেন্ডের সাথে বিচ্ছেদ, ইচ্ছায় ও অনিচ্ছায় যথাক্রমে চাকরি এবং প্রেমিক হারানোর বিষাদ এবং "বিপদ কখনো একা আসে না" নামক চিরায়ত সূত্র ধরে আরো বিপদ লেখক ছুঁড়ে দিয়েছেন তাকাকোর মুখে। মেলোড্রামার "আপেল" অংশ বাদ দিয়ে ড্রামার এভাবেই শুরু মানে "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" গল্পের শুরু। লেখকের শুরুটা যেন সিঙ্গেল রুম মুভি "এক্সাম" এর মতো মুখ্য চরিত্রকে একটা রুমে বন্দী করে চারপাশে নানা সমস্য দিয়ে ছেড়ে দেয়া। ধীরে ধীরে পুরাণের সেই চাঁদের কোণায় সাতশো হাজার কুড়ি বয়স্ক চরকা-কাটা বুড়ির মতো সুতোর জট ছুটাতে থাকার মতোই মুখ্য চরিত্রের দশা। । তাকাকো তেমনি লেখকের তৈরী একটা রুমে বন্দি, যার চারপাশ হুট করে সামনে আসা অনেকগুলো সমস্যা আর বিষাদের দেয়ালে বন্দি। বইয়ের ভাষায় "বিষাদের" কূপ বা থকথকে বিষাদে ছেঁয়ে আছে চারপাশ - হাত বাড়ালেই ধরা যাবে। এই দেয়াল ভেদ করে সর্বপ্রথম আলো আসে তাকাকোর মামা সাতোরুর ফোন কল এবং তার বইঘরে যাবার আমন্ত্রণ। ২. তাকাকোর মামা সাতোরুর ফোন কলের আমন্ত্রনে মনে পড়ে যায় The Matrix এর "রেড পিল" আর "ব্লু পিল" এর কথা। ৯৯ এর পরে অনেকেই এই টার্মটার সাথে ভালোভাবেই পরিচিত। "ব্লু পিল" মানেই গল্পের সমাপ্তি। খুব সহজেই অনুমেয় তাকাকো "রেড পিল" গ্রহন করেছে; মানে মামার আমন্ত্রণ গ্রহন করেছে এবং দ্য স্টোরি বিগিনস। "You take the red pill - you stay in Wonderland and I show you how deep the rabbit hole goes." – তাকাকো বরং সেই rabbit hole এ যায় নি, বরং তার emotional rabbit hole হতে উত্তরনের পথ পেয়েছে এই ফোনকলের সূত্র ধরে। তারপর??? তারপর সাতোশি ইয়াগিসাওয়ার মরিসাকি বইঘর। সালমান হকের মরিসাকি বইঘর। এখানেই মূলত শুরু "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি"। তাকাকো প্রথমবারের মতো দাঁড়িয়ে মরিসাকি বইঘরে সামনে আর চোখ ভরা বিস্ময়। বড় বড় মেলে ধরা অবাক চোখ যেন "ফাইন্ডিং নেমো"র ডোরির মতোন। ডোরির নীলচে শরীরের মতোই কষ্টের নীল তাকাকোর অন্তর জুঁড়ে আর মরিসাকি বইঘর "ডোরির" মতোই আমন্ত্রন জানাচ্ছে:- Just keep swimming.... Just keep swimming... ৩. কিছু কিছু গল্পে যেমন পাঠক অপেক্ষা করে কোন টুইষ্ট অথবা ট্রাজেডির, এই গল্পেও খুব অনুমেয় ভাবেই পাঠক বইয়ের নামানুসারেই ধরে নেবে তাকাকোর সাথে বইঘরের এবং বইয়ের আন্তরিকতার রূপান্তর। নাহ! পাঠককে এই অনুমানে ঠকতে হবে না। অনুমান ঠিকই আছে এবং এটা কোন স্পয়লার হবে না কারন সকল পাঠক এই পরিনতি জেনেই বা গেস করেই বইটা ধরেছে। তবে বইয়ে খুব দুর্দান্ত একটা শিক্ষনীয় বিষয় উঠে এসেছে। তাকাকোর এই আন্তরিকতার রূপান্তর সাথে সাথে না বরং প্রথমে শুরু হয় বইয়ের বিরুদ্ধে থেকে। বইয়ের বা লেখকের ভাষায়, "বইয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ" এবং যেটা বলেছিলাম খুব স্বাভাবিক এবং সহজ অনুমানেই তাকাকো এই যুদ্ধে পরাজিত হয়। মানে বিরুদ্ধ অবস্থান থেকে চলে আসে একি কাতারে। জীবনের সকল যুদ্ধে হারা মানেই যে নির্ঘাত পরাজয় না, কিছু কিছু সময় হেরে যাওয়াটাই জিতে যাওয়ার সামিল - এই ব্যাপারটা লেখক পুরো বইয়ে একটা স্নিগ্ধ আলোর মতো ছড়িয়ে রেখেছেন। ৪. ব্ল্যাক এডিশন বই পড়তে পড়তে আউট অফ নোহোয়ার যেমন হুট করে চলে আসে গাঢ় লাল কালারের রিবন (বুকমার্ক), ঠিক তেমিন হুট করেই মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি বইয়ের ২য় ভাগে চলে আসে তাকাকোর মামী মোমোকো। গল্পের এই অংশ তাকাকোর আর মোমোকোরই মূলত, শুধু বইয়ের ভাঁজে যে অল্প একটু রিবন ঝুলে থাকে তার মতোই সাতোরু অল্পবিস্তর থাকে এই পর্বে। এই পর্বে গল্প মোড় নেয় একটু অন্যভাবে। বইয়ের মলাট থেকে বের হয়ে মানবিক সম্পর্কের ভেতর দিয়ে, তবে বই হতে বিচ্ছিন্ন নয়। তাকাকো, সাতোরু এবং মোমোকো প্রধান চরিত্র হলেও আরও একটি প্রধান চরিত্র হচ্ছে "বই"। আরও কিছু প্রাসঙ্গিক চরিত্র নিয়ে "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" হয়তো আমাদেরই আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জীবনের গল্প, যার সমাপ্তিটা হয়তো বিভিন্ন রকমের। বইয়ের সম্পাপ্তি মধুর বলেই পাঠকের জন্যে রিফ্রেসিং একটা অনুভূতি নিয়ে আসবে। মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি শুধু বইয়ের গল্প না বরং সম্পর্কের গল্প, দাম্পত্যের এবং দম্পতির গল্প। স্মৃতির ফ্রেমে মলিন মোড়কে মোড়ানো টফির মতো কিছু বিষাদে মোড়ানো একটা ভালোলাগার এবং একান্ত কাম্য একটি ভালো সমাপ্তির গল্প। "একান্ত কাম্য" এই কারনে যে, "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" বইটা অনেকটা ওই ধরনের যখন আপনি কোন ওয়েটিং রুমে অপেক্ষমান এবং সামনে পড়ে থাকা কোন ম্যাগাজিন টেনে নিয়ে ছোট একটা গল্প বা ফিচার পড়ে রিফ্রেসিং একটা টাইম স্পেন্ডের পায়তারা করছেন। এই বইটা ঠিক তাই। খুব গভীর কোন জীবনবোধ হয়তো নেই। নেই ঘন রূপক অথবা গল্পের ঠাহর পেতে আপনাকে ভাবনার গভীর সারফেসেও নামতে হবে না। তবু এই গল্প কিছু মৌলিক লেসন তো দিয়েই যায়। দিয়ে যায় একটা আত্মতুষ্টির অস্ফুট উচ্চারন - "সুইট"। ৫. "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" খুব সাধারন মিষ্টি একটা গল্পের বই হয়েও এতোটা পাঠকপ্রিয়তা পেল নানা দেশ জুড়ে? এমনতো না যে খুব তীক্ষ্ণ কোন জীবনবোধ অথবা পাঠকের ভাবনার জগৎকে একদম তছনছ করে এগিয়ে যাওয়া কোন গল্প যেখানে পাঠক হতভম্ব হয়ে বসে থাকে বই শেষে। বরং খুব অনুমেয় এবং সহজ পাঠের বই সাতোশি ইয়াগিসাওয়ার "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি"। তো কোন যাদুমন্ত্রে এই বই একটি "বিশেষ" বই হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? মরিসাকি বইঘরের দিনগুলির বিষয়বস্তু, পরিবেশ এমনকি চরিত্রগুলোও আসলে কোন প্রকার বিচ্ছিন্ন কিছু না বরং আমাদের চেনা ছায়ার মতো বা আমাদের আত্মার খুব কাছাকাছি কিছু। লেখকের সহজ ঢঙে এগিয়ে যেয়ে গল্প বলা বা চরিত্রগুলোর আবেগের বহিঃপ্রকাশ এতোটাই সহজ এবং সরল যে - এই "আত্মার কাছাকাছি" ফিলটাই এই গল্পের মুগ্ধ করার যাদুমন্ত্র। বইটা পড়তে পড়তেই হালকা ফিনফিনে কুয়াশার মতো একটা অনুভূতি আমাকে গ্রাস করতেছিল। গল্পের মধ্যে বেশ প্রচ্ছন্ন ভাবে ফুটে উঠেছে গল্পের চরিত্রগুলোর মনস্তাত্বিক "অপূর্ণতা"। এই "অপূর্ণতা" আসলে যেকোন জীবনের সবচেয়ে ঘনিষ্ট শব্দ। আর জীবন ঘনিষ্ট এই "অপূর্নতা" যার জীবনেই আসুক বা থাকুক তাকে ওভারকাম করতে সবচেয়ে কাম্য যে চরিত্রটি সামনে বা পাশে এসে দাঁড়ায় তার নাম "বই"। এই গল্প বলার ভঙ্গিমার আরো একটা বিষয় আলোকপাত করা বোধহয় উচিৎ। “মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি” যেহেতু আমাদের আত্মার কাছাকাছি বা চেনাজানা দুনিয়ার চেনা গল্পের ন্যায়, তেমনি এর চরিত্রগুলোও। মানুষের মৌলিক অধিকার যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো চরিত্রগুলোর মুখেও নানা রকম সংলাপে মুখরিত থাকবে। এমনটা ভাবাই স্বাভাবিক। মরিসাকি বইঘরের দিনগুলিতেও সংলাপ আছে তবে কম। শুরুতেই সুন্দর একটা ন্যারেটিভ এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রাখবে যে সংলাপের সল্পতা সেভাবে হয়তো খেয়াল হবে না। স্বল্প-বিস্তর সংলাপ এবং সুন্দর ন্যারেটিভ দিয়ে গড়া এই মানবিক গল্প যেন অনেক বই পড়ার ফাঁকে "আল্লাহ মেঘ দে পানি দে ছায়া দেরে তুই..." বলে অপেক্ষারত কৃষকের কাছে হঠাৎ বৃষ্টির স্বস্তির মতো। ৬. লেখকের কলম যখন মিছিলে শরিক হওয়ার মতো করেই তার শব্দে বোনা গল্পের সাথে ব্যাকুলভাবে একাত্নবোধের সম্পর্ক স্থাপনে উদগ্রীব হোন বা সফল হোন, তখন পাঠকও সেই গল্পের চত্তরে খুব সহজেই ল্যান্ডিং করেন। একধরনের যোগাযোগ স্থাপিত হয় গল্পের চরিত্রগুলোর প্রতি। এই যোগাযোগ ভালোলাগার, ভালোবাসার। তখন গল্প সত্যি কি মিথ্যে সেটা বিবেচ্য নয় বরং আমাদের চেনাজানা চরিত্র বলেই সেগুলোকে আর বানোয়াট লাগে না। সাতোশি ইয়াগিসাওয়ার সফলতা এখানেই। অনুবাদক সালমান হকের সফলতা এখানেই। "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" একটি সাধারন গল্প হয়েও অসাধারন ভাবে সফল এখানেই। ৭. অবসর প্রকাশন সংস্থা থেকে "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" ব্ল্যাক এডিশনে বের হয়েছে। সালমান হকের অনুবাদ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। পাঠক মাত্রেই সচেতন তার কাজ নিয়ে। অবসর প্রকাশন সংস্থার ঝকঝকে ছাপা এবং বইয়ের বাঁধাই টপনচ হলেও "ব্ল্যাক" ঠিক ব্ল্যাক না হয়ে কিছুটা ধূসর হয়ে উঠেছে। রঙের টোনে কিছুটা ছাড় দিলেও প্রকাশনী বইয়ের মূল্য একদম ফিক্সড রেখেছে। বই পাবার পূর্বে যে এক্সপেকটেশন "ব্ল্যাক" নিয়ে সেটুকু মিলে গেলেই প্রাপ্তি খাঁদ-হীন বলা যেত। এই আক্ষেপ অনেকেই করবে হয়তো। তবে বানান ভুল একদমই নেই এই ক্রেডিটের জন্যে তারা একটা বড়সড় "ক্ল্যাপ" পাবার যোগ্য নিঃসন্দেহে। ৮. গভীর ভাবনার অনুরণন তোলা বই হয়তো "মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি" না, তবে যিনি পড়বেন বা পড়তে ইচ্ছুক তার ভিতরে সুখপাঠ্যের অনুভূতি জন্মাতে এই বই সহায়ক হবে অবশ্যই। মানুষের আন্তরিক সহাবস্থানারে পাশাপাশি বইয়ের যে "ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির" মতো ক্ষমতা সেটা খুব মনোরম ভাবেই পাঠক টের পাবেন। কারন এই বই আপনি পড়ছেন অথবা পড়তে ইচ্ছুক - মানেই - আপনি একজন "বইপ্রেমী"।"
Ahsan Hriday Ahmed , Dec 1, 2023
"ব্লাক এডিশনের নামে ফালতু একটা পদ্ধতি!"
Deba Tahira Tahira , Nov 29, 2023
"Best one🤍"
Fariha Fairuz , Nov 23, 2023
"Outstanding🖤🖤"
Kazi Hasan Jamil , Oct 30, 2023
"“𝐈𝐭’𝐬 𝐟𝐮𝐧𝐧𝐲. 𝐍𝐨 𝐦𝐚𝐭𝐭𝐞𝐫 𝐰𝐡𝐞𝐫𝐞 𝐲𝐨𝐮 𝐠𝐨, 𝐨𝐫 𝐡𝐨𝐰 𝐦𝐚𝐧𝐲 𝐛𝐨𝐨𝐤𝐬 𝐲𝐨𝐮 𝐫𝐞𝐚𝐝, 𝐲𝐨𝐮 𝐬𝐭𝐢𝐥𝐥 𝐤𝐧𝐨𝐰 𝐧𝐨𝐭𝐡𝐢𝐧𝐠, 𝐲𝐨𝐮 𝐡𝐚𝐯𝐞𝐧’𝐭 𝐬𝐞𝐞𝐧 𝐚𝐧𝐲𝐭𝐡𝐢𝐧𝐠. 𝐀𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐚𝐭’𝐬 𝐥𝐢𝐟𝐞.” . কিউশুর স্থানীয় স্কুল থেকে পড়াশোনা করে স্থানীয় একটা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ডিগ্রি নেয় তাকাকো। এরপর রীতিমতো পরিবারের সাথে যুদ্ধ করে পাড়ি জমায় টোকিওতে। নতুন শহরে চাকরি, প্রেমিক নিয়ে ভালোই দিন কেটে যাচ্ছিল তাকাকোর। কিন্তু একদিন হঠাৎ ওর প্রেমিক বলে বসে অন্য একজনকে বিয়ে করবে সে। মুহুর্তেই যেন ঝড় ওঠে তাকাকোর নিস্তরঙ্গ জীবনে, চাকরি ছেড়ে নিজেকে একদম গুটিয়ে গৃহবন্দি করে ফেলে। গৃহবন্দি অবস্থায়ই চলে যাচ্ছিল দিন কিন্তু সাতোরু মামার পাঠানো ভয়েস মেইল বাঁক বদলে দেয় তাকাকোর জীবনের। . টোকিও শহরের জিমবোচো, যা যে কোন বইপ্রেমীর জন্যে এক স্বর্গ। পুরোনো বইয়ের আখড়া বলা যায় একে যেখানে হাজারো পুরনো বইয়ের দোকান। সেখানকারই নির্জন এক কোণে কাঠের তৈরি পুরোনো এক দালানে অবস্থিত “মরিসাকি বইঘর।” এই বইঘরের ব্যবসা তিন পুরুষ ধরে সামলাচ্ছে তাকাকোর পরিবার। তবে বইয়ের প্রতি কখনোই তেমন একটা টান অনুভব করেনি সে। নানার পর এখন ওর সাতোরু মামাই নিয়েছে দোকান দেখভালের দায়িত্ব। একজন বইপড়ুয়া হিসেবে তার সমস্ত চিন্তাভাবনা এই বইঘরকে ঘিরেই। পাঁচ বছর আগে সাতোরুর স্ত্রী, মোমোকো চলে যাওয়ার পর এই মরিসাকি বইঘরকেই শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে সে। . ঘটনাক্রমে মরিসাকি বইঘরের দোতলার ছোট্ট ঘরটায় গিয়ে উঠতে হয় তাকাকো কে। ভগ্ন হৃদয়ে সেখানে দিন যাপনের মাঝে একদিন হঠাৎই পুরনো বইগুলোর মাঝে সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতের সন্ধান পায় তাকাকো। নিজেকে আবিষ্কার করে নতুনভাবে। . সময়ের পরিক্রমায় একে অপরকে ভালো করে চিনতে পারে সাতোরু আর তাকাকো। দূর থেকে যে প্রকৃত মানুষটাকে চেনা যায় না, তা প্রমাণিত হয় আবারো। 'মরিসাকি বইঘরের দিনগুলো' মূলত বন্ধুত্ব, একাকীত্ব, মানব-মানবীর সম্পর্ক এবং সর্বোপরি বইয়ের মাঝে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার এক গল্প। . ◑ পাঠ প্রতিক্রিয়া: . মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি বইটি পড়ার সময় বেশ কিছু অনুভূতি, স্মৃতি উঁকি দিয়েছিল। নীলক্ষেত গিয়ে পুরোনো বই হাতড়ে বেড়ানোর স্মৃতি, ভাঙ্গারির দোকানের মধ্যে পুরোনো কাগজপত্রের মধ্যে থেকে পছন্দের বই খুঁজে বেড়ানোর স্মৃতি আবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর হঠাৎ বহুল আকাঙ্ক্ষিত বই পেয়ে বিশ্বজয়ের অনুভূতির কথা মনে পড়েছে। . বাস্তব জীবনে আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই এর সম্মুখীন হতে হয়, লড়াই করতে হয় বাস্তবতার সাথে। লড়াই করতে করতে কখনো কখনো আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই, অবসাদ-বিষন্নতা ছেয়ে ফেলে আমাদের, ডুবে যাই হতাশার মহাসমুদ্রে। আচ্ছা, এমন হলে কী করেন আপনারা? এমন হলে আমি একটা বই হাতে নিয়ে বসে যাই। ব্যস্ততম যান্ত্রিক জীবনকে ভুলে গিয়ে, নিজের পরিচিত জগত থেকে হারিয়ে গিয়ে, সারাদিনের ক্লান্তিকে ধুয়ে মুছে একাকার করে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও অন্য জগতে বাস করি। এরপরে আবারো ফিরে পাই সেই সতেজতা, মানসিক স্থিতিশীলতা, নতুন করে কাজ করার উদ্যম। . মরিসাকি বইঘরের দিনগুলির প্রথম অংশে এই বিষয়গুলোই তাকাকো চরিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন লেখক। প্রেমিক, চাকরি হারিয়ে তাকাকো যখন নিজেকে একঘরে করে চরম হতাশায় নিমগ্ন ছিল তখন খোঁজ পায় এক নতুন দুনিয়ার। পুরোনো বইয়ের ভিড়ে নতুনভাবে খুঁজে পায় নিজেকে। . দ্বিতীয় অংশে প্রাধান্য পেয়েছে তাকাকোর মামী মোমোকো যে কিনা পাঁচ বছর আগে সাতোরু মামাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল কিছু না জানিয়ে। মোমোকোর জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনি, মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ইত্যাদি বিষয়গুলো লেখক দেখিয়েছেন এই অংশে। এ অংশটাও ভালো ছিল তবে পুরো বই জুড়ে প্রথম অংশের মতো গল্পই আশা করেছিলাম দেখে একটু হতাশ হয়েছিলাম। . জাপানি যে কয়টা বই পড়া হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি এসবে সম্পর্কের দায়বদ্ধতা, টানাপোড়েনকে বেশ জোরালো ভাবেই উপস্থাপন করা হয়। এই কারণে প্রথম অংশের থেকে দ্বিতীয় অংশটা একটু অন্যরকম হলেও উপভোগ করেছি। এছাড়া জাপানের অকুতামার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক বর্ণনা পড়ে কিছুক্ষণের জন্য চলে গিয়েছিলাম সেই পাহাড় চূড়ায়। . বইয়ে খুব বেশি চরিত্র নেই, তবে যে কয়জন গুটিকয়েক চরিত্র ছিল লেখক তাদের সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন। বিশেষ করে তাকাকোর সাতোরু মামার কথা বলতেই হয়। বই, ভালোবাসা নিয়ে সাতোরুর কথাগুলোও দারুণ লেগেছে। . সবমিলিয়ে মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি বইয়ের মহাসমুদ্রে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প, নিজেকে জানার গল্প, ভালোবাসার গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েনের গল্প। . ◑ অনুবাদ: . অনুবাদক হিসেবে যখন থাকে সালমান হক তখন অন্তত অনুবাদ নিয়ে আর কিছু বলার অবকাশ থাকে না। সুন্দর, সাবলীল অনুবাদ৷ অনুবাদের ক্ষেত্রেও শব্দচয়ন, বাক্যগঠন গুরুত্বপূর্ণ, নাহলে মূল লেখকের লেখনী, কাহিনির গভীরতা ঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। সেক্ষেত্রে সালমান ভাইয়ের অনুবাদ পড়লে মনে হয় যেন মৌলিক বই-ই পড়ছি। এই বইয়েও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। . ◑ বানান, প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: . বইয়ে বানান ভুল তেমন ছিল না দুই একটা বাদে। যেমন এক জায়গায় “বিয়ে” হয়ে গিয়েছে “বিক্রি।” আর বইয়ের প্রচ্ছদের কথা আলাদা করে বলতেই হয়। এটা মূলত ইংরেজি ভার্সনের প্রচ্ছদ৷ প্রচ্ছদটা দেখেই প্রথম বইটার প্রতি আগ্রহ জন্মে, প্রচ্ছদটা এত্ত সুন্দর! . বইটা প্রকাশিত হয়েছে অবসর প্রকাশনা সংস্থা থেকে। বইটার প্রোডাকশন টপনচ৷ ব্ল্যাক এডিশন হলেও একদম পিচ ব্ল্যাক বা কুচকুচে কালো নয়, কিছুটা ধূসর রঙের। এমনিতে ঝকঝকে ছাপার কারণে পড়তে কোনো সমস্যা হয়নি৷ অনুবাদ বই হিসেবে, পৃষ্ঠা সংখ্যা, প্রোডাকশন অনুযায়ী ৫০০ টাকা বেশিই মনে হয়েছে৷ তাও সহনশীল হতো যদি এই মূল্যের উপর ছাড় দেওয়া হতো, কিন্তু এটা ফিক্সড প্রাইজ। . ◑ ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫ . ◑ বই পরিচিতি: ▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬ ➠ বই: মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি ➠ লেখক: সাতোশি ইয়াগিসাওয়া ➠ অনুবাদক: সালমান হক ➠ প্রকাশনী: অবসর প্রকাশনা সংস্থা ➠ প্রচ্ছদশিল্পী: সানজিদা স্বর্না ➠ পৃষ্ঠা: ১২৮ (রয়েল সাইজ) ➠ মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
5 টিবইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
exclusive edition ar regular premium edition ar difference ta ki
page ki color?
বইটির বাংলা অনুবাদের ডার্ক ভার্সন কি আছে? আর অইটার প্রাইস মূল্য কত। আমি বুঝতে পারছিনা একটু সাহায্য করুন।
অর্ডার করতে পারছি না কেন
কোন প্রকাশনি?
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি (এক্সক্লুসিভ এডিশন)" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: