১ম প্রকাশ, ২০১৪
মানুষের মতো মানুষ
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | মানুষের মতো মানুষ |
| Author | সমর সেন |
| Publisher | বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০১৪ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 316 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.5 Kg |
| Translator | সমর সেন |
| ISBN | 9841803976 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
2 Ratings and 1 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১টি
সাম্য সৈকত , Aug 19, 2020
"📚 বুক রিভিউ 📚 বই এর নাম :- "মানুষের মত মানুষ" লেখক :- বরিস পলেভয় অনুবাদ :- সমর সেন ধরন :- উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যা :- ৩০৩ মুদ্রিত মূল্য :- ৪০০ টাকা প্রকাশনী :- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ব্যাক্তিগত রেটিং :-১০/১০ 📝 ভূমিকা:- আমার মতো পাঠকদের প্রিয় বইয়ের সংখ্যাটা অনেক এবং তারমধ্যে পছন্দের মাত্র ৫টা বই বাছাই করাটা খুবই কঠিন, প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তারপরেও কিছু বই এমন থাকে যা সব সময় একটু বেশিই পছন্দের হয়ে থাকে। আমার বই পড়ার আদর্শ, প্রেরণা, উৎসাহ, নেশা সবকিছুই পাইছি আব্বুর কাছে। আব্বু প্রচুর বই পড়তেন আর সেগুলোর গল্পও বলতেন আর আমরা শুয়ে শুয়ে শুনতাম। আমি যখন প্রথমদিকে সিরিয়াস ভাবে বই পড়তে শুরু করলাম তখন আব্বু আমাকে বললো দুইটা বই যেন অবশ্যই আমি পড়ি। তারমধ্যে একটা হচ্ছে 'বরিস পলেভয়' এর লেখা "মানুষের মত মানুষ"। সাথে সাথেই নিয়ে শুরু করলাম পড়া, কিন্তু চার পাঁচ পৃষ্ঠার বেশি পড়তে পারলাম না। তখন ক্লাস সেভেনে উঠছি কেবল। এই বয়সি কারো জন্য বইটা অবশ্যই কঠিন,তাই রেখে দিলাম আবার। ধিরে ধিরে অন্যান্য বই পড়লাম, নেশা ধরে গেছে ততদিনে। ক্লাস নাইনে আবার নিলাম, প্রথম প্রথম একটু কঠিন লাগলেও জোর করেই পড়লাম কিছুটা,তারপরই গল্পের ভিতরে ঢুকে গেলাম, পড়তে পাড়তে হারিয়ে গেলাম নতুন এক জগতে। এ যেন নতুন এক অভিজ্ঞতা। এরপর কয়েকবার পড়ছি বইটা এবং প্রতিবারই মুগ্ধ হতে বাধ্য হইছি। এতে কোন সন্দেহ নাই যে, আমার লাইফে পড়া ওয়ান অফ দ্য বেস্ট বই হচ্ছে এই "মানুষের মত মানুষ" বইটি। 📖কাহিনী সংক্ষেপ:- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়, রাশিয়ার একদল জঙ্গিবিমান শত্রুপক্ষ জার্মানির বিমান-ঘাঁটিতে আক্রমণ করল। দক্ষ পাইলট "আলেক্সেই মেরেসিয়েভ" এর নেতৃত্বে আক্রমণ সফল হল। কিন্তু এই সময়ে আলেক্সেই মারাত্মক ভুল করে বসল।সহজ শিকারকে ধাওয়া করতে গিয়ে নিজেই ফাঁদে পড়ে গেল। তার জঙ্গি বিমানের গুলি শেষ হয়ে গেছে,চারটি শত্রু বিমান ঘিরে ধরলো আলেক্সেই এর বিমান কে। বন্দি করতে চায় তাকে। কিন্তু আলেক্সেই জীবন থাকতে বন্দি হবে না,সে জানে একবার বন্দি হলে এই জীবনে আর বের হতে পারবে না শত্রুর হাত থেকে। সহ্য করতে হবে অকথ্য নির্যাতন আর অত্যাচার। তাই সিদ্ধান্ত নিল,যে করেই হোক বের হতে হবে শত্রু বিমানের ফাঁদ থেকে। কিন্তু ফাঁদ কেটে বের হতে গিয়ে গুলি লাগলো বিমানে,আহত বিমান নিয়ে নিজের ঘাঁটির দিকে যেতে লাগল সে। কিন্তু হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেল ইঞ্জিন।বিমানটা গড়িয়ে নামতে লাগল, যেন খাড়া পাহাড়ের গা বেয়ে গড়াচ্ছে। নিচে বিশাল বনের উপর আছড়ে পড়লো,কয়েকটা গাছ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল বিমানটা।ককপিট থেকে ছিটকে গাছের শাখা প্রশাখার সাথে গড়িয়ে নিচের জমাটবাঁধা বরফের স্তূপে গিয়ে পড়ল আলেক্সেই।তাতে প্রাণে বেঁচে গেল,,,, কতখন পর জ্ঞান ফিরেছে জানে না আলেক্সেই, জেগে উঠার সাথে সাথে অনুভব করল তীব্র যন্ত্রণা, কিন্তু যন্ত্রণা শুধু পায়ে।পরীক্ষা করে বুঝতে পারল দুটো পা-ই ভেঙে গিয়েছে। পায়ের পাতার উপর দিকটা আর আঙুলের হাড় টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। পায়ের উপর দাঁড়াতে গেলেই ব্যাথায় পুরো শরীরে আগুন ধরে যায়। কিন্তু এই যুদ্ধ বিধ্বস্ত জঙ্গলে কিভাবে নিজের এলাকায় ফিরবে এই ভাঙা পা নিয়ে? এখানে বসে থাকলে ঠান্ডায় জমে যাবে। ভয় আছে শত্রুর চোখে পড়ে যাওয়ার। অসহ্য ব্যথা নিয়ে একপা দু'পা করে গোড়ালির উপর ভর দিয়ে হাঁটতে শুরু করল আলেক্সেই।পা ফেলার সাথে সাথে ব্যাথায় আগুন ধরে যাচ্ছে মাথায়। এভাবেই নেংচিয়ে নেংচিয়ে সাতদিন হাঁটার পর আর সম্ভব হলো না এভাবে এগোনো। এরপর হাঁটু আর হাতের উপর ভর দিয়ে যন্তুর মত সামনে এগোতে লগলো আলেক্সেই। খাবার হিসেবে খেলো কচি পাইনের ছাল,বার্চ আর লইমের কুঁড়ি,আর নরম সবুজ শ্যাওলা গরম জলে ফুটিয়ে। টানা ১৮ দিন জমাটবাঁধা বরফের উপর হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটার পর প্রায় অচেতন অবস্থায় পৌঁছাল ছোট এক গ্রামে। গ্রামের বুড়ো মিখাইল দাদু আর তার ছেলের বউ ভারিয়া'র আন্তরিক সেবা শুশ্রূষায় ধিরে ধিরে কঙ্কালসার দেহে প্রাণ ফিরে আসল। কিছুদিন পর আলেক্সেই এর বন্ধুরা এসে নিয়ে গেল তাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হলো মস্কোর উন্নত হাসপাতালে। কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও বাঁচানো গেল না তার পা দুটো।দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করার স্বপ্ন, লড়াই করার স্বপ্ন,আকাশে উড়ে বেড়ানোর স্বপ্ন সব একসাথে শেষ হয়ে গেল। হতাশায় নিমজ্জিত হলো দুঃসাহসী পাইলট আলেক্সেই মেরেসিয়েভ।ডাক্তার, নার্স, রুমের অন্যান্য বাসিন্দারা সাহস দেওয়ার চেষ্টা করলেও ধিরে ধিরে জীবন্ত লাশে পরিনত হতে লাগলো সে। কিন্তু একদিন হাসপাতাল রুমের আরেক বাসিন্দা 'কমরেড কমিসার ভরোবিওভের' কাছে একটা পুরোনো পত্রিকার পাতা পেল যাতে এক সৈনিকের গল্প আছে যে এক পা হারিয়েও বিমান উড়িয়েছিল। হঠাৎ করেই তারপর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখা গেল আলেক্সেই এর মুখ। সে আবার লড়াই করবে, আবার আকাশে উড়বে,গুলি করে ঝাঁঝড়া করবে শত্রু বিমান, শত্রু মুক্ত করবে তার প্রিয় মাতৃভূমি। কিন্তু কিভাবে??এক পা ছাড়া হয়তো বিমান চালানো সম্ভব, কিন্তু তার যে দুটো পা-ই নেই,সে কিভাবে উড়াবে যুদ্ধ বিমান?? যেখানে শুধু একটা নখ না থাকলেই অযোগ্য ঘোষণা দেওয়া হয়, বাদ দিয়ে দেওয়া হয় প্রার্থী'কে সেখানে দুই পা ছাড়া কিভাবে নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে আলেক্সেই,,,,,,?? ❤️পাঠ-প্রতিক্রিয়া :- এই অসাধারণ বইয়ের যতই প্রশংসা করি না কেন, আমার কাছে সব সময় কম মনে হয়। আমার কাছে সবসময় এই বইয়ের প্রতিটি চরিত্র অসাধারণ মনে হয়। অসম্ভব কে সম্ভব করার গল্প এটা, কষ্ট কে সাফল্যে পরিণত করার গল্প। হার না মানা এক সৈনিকের গল্প এটা, তার জীবনের সাথে যুদ্ধ করে টিকে থাকার গল্প। লেখক বরিস পলেভয় তার অসাধারণ বর্ণনা আর লেখনীর মাধ্যমে পুরো গল্পটা পাঠকের কাছে জীবন্ত করে তুলে ধরেছেন। আর এর আরেকটি বড় কারণ হলো, এটা কোন কাল্পনিক গল্প না, সম্পূর্ণ সত্যি ঘটনা নিয়ে রচিত এই উপন্যাস। লেখক ও সাংবাদিক 'বরিস পলেভয়' পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়টা বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ঘুরে বেড়ান সাংবাদিকতার খাতিরে। আর তখনি বিভিন্ন সময়ে দেখা পাওয়া সৈনিকদের অভিজ্ঞতা একটি ডায়রিতে লিখে রাখেন। এভাবেই মোট ৬৫টি নোট তৈরি হয় যার একটি গল্প পরিণত হয় "মানুষের মত মানুষ" উপন্যাসে। গল্পের নায়ক 'আলেক্সেই মেরেসিয়েভ' কোন কাল্পনিক চরিত্র না, সম্পূর্ণ বাস্তব একটি চরিত্র। আর সে কারণেই হয়তো পাঠকের হৃদয়ের গভীরে আঘাত করে প্রতিটি শব্দ, হৃদয়ে গেঁথে যায় প্রতিটি চরিত্র। আলেক্সেই পা হারানোর পর আবার সুস্থ হয়ে কাঠের পা ব্যাবহার করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আবার যুদ্ধে ফিরে আসে। কাঠের পা দিয়ে বিমান চালনায় এতোটাই দক্ষতার প্রমাণ দেয় যে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে আবার তাকে নিয়োগ দেয়। এবং ১৯৪৩-১৯৪৫ সালের নানান অভিযানে সাফল্যের সাথে লড়াই করে, যার জন্য সরকার তাকে 'সোভিয়েত ইউনিয়নের বীর' খেতাবে ভূষিত করে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সে তার ভালোবাসার মেয়ের সাথে বিয়ে করে এবং তাদের একটি ছেলে হয়। জীবনে প্রতি মুহূর্তে বিভিন্ন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। সেই সব বাঁধার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার নামই জীবন। আর এই লড়াইয়ে অনুপ্রেরণা, শক্তি, সাহস যোগায় এইসব অসাধারণ বই। তাই বই ভালোবাসে এমন প্রতিটি মানুষকে বলবো ভালো ভালো বই বেশি করে পড়ার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই পড়বেন এই বইটা,,,,,,,। ঘরে থাকুন, বেশি বেশি বই পড়ুন❤️❤️ Stay Home, Be Safe❤️❤️ বই হোক সব সময়ের সঙ্গী ❤️❤️ Happy Reading ❤️❤️"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"মানুষের মতো মানুষ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: