২য় প্রকাশ, ২০১৯
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | খাঁচার ভিতর অচিন পাখি |
| Author | ওয়াসিকা নুযহাত |
| Publisher | বইবাজার প্রকাশনী |
| Edition | ২য় প্রকাশ, ২০১৯ |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.28 Kg |
| ISBN | 9789849396529 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
19 Ratings and 11 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১১টি
Farjana Haque Nisa , Apr 16, 2024
"ওযাসিকা নুযহাতের পড়া সব বই থেকে এই বইটার কাহিনি আমার অনেক পছন্দের। ভালো একটা বই"
880****188 , Mar 30, 2024
"মোটামুটি ভালো,,,, কিন্তু শেষটা মন মতো হয় নি"
Ripon Uzumaki , Feb 5, 2024
"কত সুন্দর!"
Faria Logno , Feb 21, 2023
"বইয়ের নাম: খাঁচার ভিতর অচিন পাখি লেখক: ওয়াসিকা নুযহাত পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮ দুঃখ একেক মানুষের জীবনে একেক রকম। কারো অর্থ-বিত্ত আছে কিন্তু মনের সুখ নাই। আবার কারও খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মতোন সামান্য টুকু আছে কিন্তু তারপরও দিব্যি চলে যাচ্ছে সুখের দিনগুলো। গল্পটা হলো দু'মেরুর দু'জন মানুষ - আহির আর অয়নকে নিয়ে। বিত্তশালী পরিবারের বেকার ছেলে অয়ন। জীবনে সবকিছু থেকেও কিছুই নেই তার। লালন ফকিরের মতোন জীবন পার করে রাস্তায় কাটিয়ে কাটিয়ে।প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মায়ের ছেলে অয়ন। কিন্তু মা যেন তার চোখের বিষ। নিজের বাবার পাগল হয়ে যাওয়ার পিছে সে ভাবে তার মা দায়ী। অন্যদিকে মা-বাবাই, ছোট ভাই আশীককে নিয়ে ছোটখাটো ছিমছাম পরিবার আহিরের। বাবার স্বল্প বেতনের টাকা দিয়ে মাথা উঠিয়ে চলার প্রচেষ্টা তাদের। দীর্ঘদিন তুষারের সাথে সম্পর্কের পর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যায় আহির। কিন্তু ভাগ্য কি মেনে নেয় সব কিছু? ভাগ্য নিজের গতিতে চলতে চলতে আহির আর অয়নকে নিয়ে আসে একে ওপরের সন্নিকটে। কিন্তু কাছে এসেও যে হলো না আসা, হয়তো এটাই ছিল ভাগ্যের লেখা? ব্যাক্তিগত মতামত: বইটা ছোটখাটো একটা বই। কোনো প্লট টুইস্ট কিছু নেই তেমন। দুটো পরিবারের দু'ধরনের সমস্যা নিয়ে বইটা।গল্পের স্বার্থে এসেছে আরও কিছু চরিত্র। যাদের নিয়ে আরেকটু কথা বললে হয়তো ভালো হতো। আর গল্পটা পড়ে প্রথম থেকেই মনে হবে শেষে গিয়ে অয়ন-আহিরের মিল হবে, কিন্তু শেষে গিয়েই হয়তো অনেকের মন ভেঙে যাবে।"
ema , Aug 11, 2022
"অসম্ভব সুন্দর একটা বই"
Sakib , Oct 17, 2021
"#খাঁচার_ভিতর_অচিন_পাখি #রিভিউ ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি •লেখকঃ ওয়াসিকা নুযহাত •ধরনঃ সামাজিক •প্রকাশনীঃ বইবাজার প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ মাহামুদুল হাসান আসিফ •মুদ্রিত মূল্যঃ ২৪০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮ •প্রকাশকালঃ ২০১৬ •বইবাজার প্রথম প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২০১৯ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ আমি অধিক রাতে যখন একাকী চুপিচুপি বসে থাকি কিংবা সারা বাড়িতে খালি পায়ে হাঁটতে থাকি তখন মনে পড়ে, এই যে হাঁটছি, আমার ঘুম আসছে না । এটা ঠিক ঠিক একটা দিকেই নির্দেশ করছে । যখনই আবার নিজের রুমে হেঁটে গিয়ে ঢুকলো, দেখা যাবে কোনো না কোনো উপন্যাস নিয়ে ঠিক বসে পড়বো । আর প্রতিবারই সারা বাড়িতে যখন আমার হাঁটাটা অগোছালো হয় তার শেষটা কোনো উপন্যাস পড়ার পরে নতুন নতুন চরিত্রকে জানার আগ্রহ নিয়ে অন্যভাবে শুরু হয় । এই শুরুটাই বড় অদ্ভুত, উপন্যাসের শেষ পাতাটা উল্টালেও আদতে এটা শেষ নয় । এটা যেন অন্যরকম এক শুরু । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি । ১২৮ পৃষ্ঠা । যখন উপন্যাসটা পড়া শুরু করেছিলাম তখন রাতের ঘণ্টা ঠিক ১টায় । আর যখন শেষ করেছি তখন সময়টা রাত সাড়ে তিনটা । এই পুরোটা সময় ধরে এই উপন্যাসটা পড়তে পড়তে আমি বসে বসে পড়েছি । হাঁটতে হাঁটতেও পড়েছি । ♦নামকরণঃ যে জীবনবোধ এর ওপরে ভিত্তি করে এই নামটা দেয়া হয়েছে তা আসলেই যথার্থ হয়েছে । পুরো উপন্যাসে যেন এক ধরনের উদাসীনতায় জড়িয়ে থাকা ছিল । এই এত রকম বিচ্ছিন্ন উদাসীনতার সাথে যেন এই নামটা কেমন একটা মানিয়ে যায় । তাই এই নামটাই ঠিক হয়েছে । ♦চরিত্র বিশ্লেষণঃ •অয়নঃ পুরো দ্বিধান্বিত একটা চরিত্র । কখন যে কি করে, কি বলে আর কি করবে তা যেন নিজেই বুঝে উঠতে পারে না । বাউণ্ডুলে স্বভাবের মানুষটি চেয়েছিল নিজেরও একটা স্বাভাবিক জীবন হবে । যে জীবনের স্বপ্ন সবাই দেখে । হুটহাট হারিয়ে যেতে পছন্দ করে । মানবমনের অনুভূতিগুলোর খেলা হয়তো ঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারে না বলেই ভালোবাসায় পড়লো নাকি ভালোবাসাকে এড়িয়ে গেল বুঝে ফেলতে পারলো না । •আহিরঃ পুরো পৃথিবীতে নিজের পরিবারের মানুষদের সাথে থেকেও যেন একা । আত্মসম্মানবোধটা ভালো লেগেছে । কোথায় যেন উদাসীনতা তার মধ্যেও আছে । কোথাও যেন প্রাণোচ্ছল হতে চেয়েও হতে না পারাটা চোখে পড়েছে । ♦প্রিয় চরিত্রঃ অয়ন । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এটাই লেখকের এখন পর্যন্ত লেখা, আমার পড়া সেরা উপন্যাস । সাথে এটাই লেখকের এখন পর্যন্ত সেরা লেখনী । প্রতিটি মানুষের যেমন নিজের দক্ষতার স্থানে এমন কোনো বিষয় থাকে, যেখানে সে নিজের দক্ষতা দেখাতে পারে । নিজেকে নিয়ে অনুধাবন করানোটা বুঝাতে পারে । ঠিক সেভাবেই প্রত্যেক লেখকের মধ্যেও কোনো কোনো জনরা নির্দিষ্ট করা থাকে । যেখানে সে ঐ জনরাটাই খুব ভালো করে লিখতে পারে । এই উপন্যাসের মাঝে যে উদাসীনতা আছে, সেই উদাসীনতাটুকুই লেখকের যেন কমফোর্ট জোন মনে হলো আমার । √এই উপন্যাসটি দেখতে ছোট হলে কি হবে! আমি এই উপন্যাসটি এতদিন আমার খাট লাগোয়া টেবিলে রেখে দিয়েছিলাম । প্রায়ই ইচ্ছে করতো পড়তে । কিন্তু একদিনও আজকের রাতের মতো মনে হয়নি । মনে হয়নি যে উপন্যাসটা পড়ে ফেলবো বা এমন কিছু একটা । √এই উপন্যাসের বিশ্লেষণ করতে গেলে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানবমনের সাথে উদাসীনতার বিষয়টা । এটাই লেখক এত সুন্দর করে দেখিয়েছেন । এই বিষয়টাই আমার হঠাৎ করে মনে হলো কমার্শিয়াল কিংবা আর্টফিল্মের মতো করে দেখি । এই পৃথিবীতে কমার্শিয়াল এর থেকেও আর্টফিল্ম যেমন গুরুত্বপূর্ণ । তেমনিই গুরুত্বপূর্ণ আর্টফিল্মের প্রতি পরতে পরতে যখন উদাসীনতা, নিরিবিলি বিচ্ছিন্ন পরিবেশ, ক্লান্ত বিকেল, উদাসীন আবহাওয়া, ক্লান্ত পথিকের হেঁটে যাওয়া । এসব কারণেই এই আর্টফিল্মের মতো হতে যাওয়া উপন্যাসটিকে আমার এত পছন্দ হয়ে গেল । √উপন্যাসের জীবনবোধ এবং পরিপার্শ্বিক পরিস্থিতির সাথে যেভাবে লালন সাঁই এবং তার লালনগীতি’কে আনা হয়েছে তা রীতিমতো প্রশংসার মতো । পুরো উপন্যাসকে তা আরো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে । √যেহেতু বাচ্চা একটি উপন্যাস তাও শেষের দিকে গিয়ে মনে হয়েছে চরিত্রের উপস্থিতি হিসেবে তুষারের আরেকটু অংশ থাকা উচিত ছিল । তার উপস্থিতিটা ওই অংশে যে স্থানে হওয়া উচিত ছিল সেখানে হয়নি বলেই মনে হয়েছে । বাকি চরিত্রগুলোর উপস্থিতি ঠিকভাবে হয়েছে বলে মনে হয়েছে । √এবার আসি প্রচ্ছদ প্রসঙ্গে, প্রচ্ছদটা মারাত্মক সুন্দর হয়েছে । মানবমনের অনুভূতি যেগুলো মস্তিষ্কে অবিন্যস্ত ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে তার সাথে যেভাবে খাঁচার ভিতর অচিন পাখিকে দেখানো হয়েছে তা রীতিমতো প্রশংসার মতো । বইবাজার প্রকাশনীর প্রোডাকশন ও সুন্দর । টাইপিং মিস্টেক নেই বললেই চলে । √লেখক সম্পর্কে বলতে গেলে যা বলবো তা হলো, এই নিয়ে তার লেখা আমার ৬টি উপন্যাস পড়া হয়ে গেল । যেটা নিয়ে আশাবাদী কম ছিলাম, সেটাই ভালো লেগে গেল বেশি । ছোট হলেও এটাই যেন আমাকে পুরোপুরি তৃপ্তি দিতে পারলো । পুরো প্লটটাকে লেখক সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলেছেন যা আরো ভালো লেগেছে । ♦এই বইটা গিফট পেয়েছিলাম । সেজন্য অবশ্যই গিফটদাতাকে জানাচ্ছি ভালোবাসা । ভালোবাসা নিও । এবং তোমার যত আশা এবং স্বপ্ন আছে তা পূরণ হোক । তোমার সাফল্য কামনা করি । দোয়া করি তোমার জন্য । ♦উপসংহারঃ এই বাচ্চা উপন্যাস পড়ার পরে একনাগাড়ে এই পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতে লিখতে একটু আগেই মাথা ব্যথা করছে করছে ভাব মনে হলো । আদতে আমি এতে একটুও অবাক হলাম না । কারণ কিছুদিন আগেই জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছি । এখনই মাথা ধরাটা যেমন স্বাভাবিক ঠিক সেভাবেই স্বাভাবিক উপন্যাসের পরে পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখাটাও । এটাই তো একমাত্র মাধ্যম একটা উপন্যাস কেমন লাগলো তা জানানোর জন্য । লেখকের পরবর্তী উপন্যাস গুলোর জন্য শুভকামনা রইলো ।"
Samiul Alam Rafi , Sep 29, 2021
"aro valo expect korselam.tao valoi."
Salma Sajmin , Apr 16, 2021
"বরাবরই মনস্তাত্ত্বিক আর দেহতত্ত্বের বই আমার দারুণ লাগে। এই বইয়ের নামটা দেখে বইটা পড়ার আগ্রগ জাগে। ব্যস!নিয়ে নিলাম। পড়াকালীন সময়ে অদ্ভুত এক মায়াজালে আবদ্ধ ছিলাম, যার রেশ ২-৩দিন অবধি ছিলো। মাথা থেকে কিছুতেই সরাতে পারছি না শব্দজাল। অন্যরকম চিন্তাধারার অধিকারী,সংসার বিকারহীন, উদাসীন ছেলেটার প্রতি গভীর টান অনুভব করেছি। কোথাও কোথাও নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। চমৎকার একটা বই। শুভ কামনা লেখকের জন্য ❤️"
Tamanna Sumi , May 15, 2020
""খাঁচার ভিতর অচিন পাখি"" সহজ ভাবে বলতে গেলে আমাদের মনটা খাঁচায় বন্দি থাকে। কেউ পরিপাটি থাকতে কেও বা ইকটু অগোছালো।গল্পের "অয়ন" চরিত্রটিও তেমন অর্থ বৈভবর সাথে বড় হয়েও তার লেশমাত্রও নিজের সাথেধারন করে না। মায়ের সাথে দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে শেষে মায়ের আদরের ছেলে হওয়ার গল্প। তার পছন্দ পার্থিব জীবন পিছনে ফেলে ঘুরে বেড়ানো প্রকৃতির মাঝে।তেমনি একদিন দেখা হয় আহিরের সাথে। আরো আছে তুষার,,, । সুন্দরএকটি গল্প নিয়ে বইটি।"
Dipika Das , May 14, 2020
"নামকরণঃ লালনের বিখ্যাত একটা গানের লাইন "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়" শোনার পর মানুষের মনের মধ্যে কিছু একটা না পাওয়ার যে হাহাকার তৈরি হয় ঠিক একই অনুভূতি হবে এই উপন্যাস শেষ করার পর। বইয়ের নামকরণের সাথে কাহিনীর একদম অাত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রচ্ছদঃ বইয়ের প্রচ্ছদে একজন মেয়ের অবয়ব রয়েছে। প্রচ্ছদ কারিগর মেয়েটির মন, মস্তিষ্ক, চিন্তাভাবনা খুব সুন্দরভাবে বইয়ের মলাটে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রচ্ছদের দিকে তাকালেই মনে হয় এখানে অনেক কথা না বলেও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই প্রচ্ছদটি বইকে দূর থেকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বইকথনঃ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি উপন্যাসটি সমাজের দুই শ্রেণীর মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র দুইটি, মধ্যবিত্ত পরিবারের আহির। মা, বাবা আর ছোট একটা ভাই নিয়ে যার সাজানো সুন্দর একটা পরিবার আছে। যার জীবন বয়ে চলেছে মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত পরিবারের অয়ন, লম্বা, ফর্সা সুদর্শন এক যুবক। বিজনেসম্যান আয়শা খানমের ছেলে। আয়শা খানমের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নাটকীয়ভাবে দেখা হয় আহির আর অয়নের। প্রথম দর্শনে আহিরের মনে হয় সে কোনো এক পাগলের পাল্লায় পড়েছে, আর সেই পাগলের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে তার অতিপ্রিয় স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ফাইভ ফোন। সেই হারানো ফোনের হাত ধরেই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র দুজনের পরিচয় হয়, তার পর ঘটতে থাকে বিভিন্ন চমকপ্রদ ঘটনা। আয়শা খানম একজন সফল বিজনেসম্যান, সমাজের একজন সম্মানিত ব্যক্তি। কিন্তু তার একমাত্র ছেলে অয়ন তাকে কোনো এক কারণে পছন্দ করে না, অয়নের জীবনের সবচেয়ে দূর্বলতার জায়গা ওর বাবা। অয়নের জীবন অন্য সাধারণ আর দশজন যুবকদের মতো স্বাভাবিক নয়, ওর চিন্তা ভাবনা, চলাফেরা, আচার ব্যবহার একটু আলাদা। সে মাঝে মাঝেই সবাইকে ছেড়ে, সবকিছু ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আহিরের পরিবার আমাদের সমাজের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রতিচ্ছবি। মা, বাবা আর ভাই নিয়ে গোছানো ছিমছাম একটা সুন্দর পরিবার, কিন্তু ওর জীবনে হঠাৎ এমন কিছু ঘটে যায় যা ওকে ওর পরিবারের লোকদের ভালোবাসা নিয়ে সন্দিহান করে তোলে। পরিবার, ভালোবাসা, সম্পর্ক সবকিছু নিয়েই আহিরের মনে তৈরি হয় এক ধোঁয়াসা, সে আচমকাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশ্যে। অজানার পথে চলতে গিয়ে আবার দেখা হয় অয়ন আহিরের। জীবনযুদ্ধে পথ হারানো, বিদ্ধস্ত দুই যুবক যুবতী হঠাৎ করেই যেনো কোনো এক অজানা বাঁধনে বাধা পড়ে যায়। নিজেদের খুব গোপন, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেয়। এরপর ওদের জীবনে কি হয়! ওদের নিজেদের মধ্যে যে সখ্যতা গড়ে উঠে তা কি বহমান থাকে! নাকি পরিবার, সমাজ, সংসারের টানাপোড়েনে সেই সত্ত্বার সাথে কোনরকম সম্পর্ক না গড়েই একজীবন কাটিয়ে দিতে হয় ওদের!!! এসবকিছু জানতে হলে পড়তে হবে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি উপন্যাসটি। উপন্যাসে তিতলি, তুষার, বুশরা, আশিক, দাদী, চৈতী সবকয়টি চরিত্র নিজেদের জায়গায় পূর্ণতা পেয়েছে। ব্যক্তিগত মতামতঃ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ওয়াসিকা নুযহাত আপুর লিখা প্রথম উপন্যাস। আপু খুব সুন্দর আর সাবলীলভাবে সমাজের দুই শ্রেণীর মানুষদের জীবনের গল্প নিয়ে সাজিয়েছেন এই উপন্যাস। উপন্যাসটিতে ফুটে উঠেছে সমাজ, পরিবার, সাংসারিক টানাপোড়ন, বিশ্বাস, ভালোবাসা, সুখ, দুঃখ, পাওয়া, না পাওয়ার গল্প। উপন্যাসটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছে আমরা অনেক সময় জেনে, না জেনে, বুঝে কিংবা না বুঝে এমন অনেক কিছু বলে ফেলি যার প্রভাব আমাদের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন এনে দেয়। কিছু কিছু কথা কিংবা কাজ যা বললে বা করলে আমরা সাময়িক স্বস্তি বা আনন্দ পেয়ে থাকি, কিন্তু সেই কাজের জন্য বা কথার জন্য আমাদের পরবর্তী জীবন ও সম্পর্কগুলো জটিল হয়ে যায়। এই উপন্যাসে লেখিকা জীবন, জগত ও মানুষের অভ্যন্তরীণ সত্ত্বার খুব সুন্দর প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। লেখিকা খুব পরিমিত লিখার মাধ্যমে উপন্যাসটি শেষ করেছেন যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। আহির ও অয়নের জীবনে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের জন্য উপন্যাসে অনেকগুলো চরিত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে আর প্রতিটি চরিত্র তাদের নিজেদের জায়গায় স্বার্থক। এমনকি লেখিকা বানানের দিক দিয়ে অনেক সতর্ক ছিলেন সেজন্য বইটি সুখপাঠ্য ছিলো। আমাদের জীবনে চলার পথে অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়, কারও কারও সঙ্গে সেই পরিচিতি বন্ধুত্ব কিংবা ভালোলাগায় পরিণত হয়। আমরা বেশিরভাগ মানুষই সেই ভালোলাগাকে ভালোবাসা ভেবে জীবনে এগিয়ে যাই, কিন্তু বহুদিন পর আচমকাই আমাদের মনে হয় এ সম্পর্ক ঠিক ভালোবাসা কিংবা প্রেম নয়। আবার কখনও কখনও সেই ভালোবাসার মানুষটি বড় অসময়ে আমাদের জীবনে আসে, যার সাথে গড়ে উঠে আত্মিক সম্পর্ক। সেই মানুষটি মনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকে, কখনো খুব খুব একাকিত্বের সময়ে সেই মানুষটি এসে পাশে দাঁড়ায়, সঙ্গ দেয়। আবার খুব সুখের সময়ে এক পলকের জন্য সামনে চলে আসে। কিন্তু সেই সম্পর্ক সমাজে কিংবা মানুষের জীবনে কোনো স্বীকৃতি পায় না, তা খুব সংগোপনে রয়ে যায় মনের ভেতর। তবে যারা সঠিক সময়ে সঠিক মানুষের প্রতি এই অনুভূতিটুকু বুঝতে পারে, সারাজীবন একসাথে পথ চলতে পারে তারা সত্যিই ভাগ্যবান। উপন্যাসটি পড়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে প্রতিটি মানুষের মন হচ্ছে খাঁচা আর তার মনোকুঠুরিতে বাস করা মানুষটি হচ্ছে অচিন পাখি। প্রিয় চরিত্রঃ উপন্যাসে অয়ন চরিত্রটি আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। যদিও ওর জীবনটা ভীষণ অগোছালো কিন্তু ওর বলা প্রতিটি কথা, ওর ব্যক্তিত্ব, লালনপ্রীতি সবকিছু মিলিয়ে এই উপন্যাসে অয়ন আমার খুব প্রিয় একটি চরিত্র। উপন্যাসে তিতলি নামের একটা বিশেষ চরিত্র আছে। তিতলি, ষোলো বছর বয়সের একটা মিষ্টি মেয়ে, যার বাস্তবিক জীবন সম্পর্কে ধারণা প্রায় শুন্যের কোটায়। কিন্তু পুরো উপন্যাসে ওর বলা কথাগুলো একটা অন্যরকম ছন্দ এনে দিয়েছে। চরিত্রটা এজন্য ভালো লেগেছে অনেক। উৎসর্গঃ খাঁচার ভিতর অচিন পাখি বইটি আপু উৎসর্গ করেছেন এমন দুজন মানুষকে যাদের জন্য আমরা এমন একজন গুণী লেখিকাকে পেয়েছি। উৎসর্গের লেখাটা দেখার পর মনের ভেতর একটা অন্যরকম প্রশান্তি আসে। প্রিয় লাইনঃ # There is no exquisite beauty... without some strangeness in the proportions,,, # "আমি আর সে অচিন একজন এক জায়গাতে থাকি দুজন। ফাঁকে থাকে লক্ষ্য যোজন না পাই দেখিতে। সাধ্য কিরে আমার সেরূপ চিনিতে অহর্নিশি মায়ার ঠুসি জ্ঞানচক্ষেতে।" # "মানুষ আমরণ এক অচিন পাখিকে পোষার চেষ্টা করে। তবে কজনই সত্যিকারের পোষ মানাতে পারে এই রহস্যময় অচিন পাখিকে?" # -"আবার কবে দেখা হবে?" - "হয়ে যাবে, চিন্তার কিছু নেই। বলেছিনা? সোউল ইজ এটার্নাল! দেখা হতেই হবে, এ জীবনে না হলেও ওপার জীবনে হবে" # "কপালের ফের নইলে কি আর পাখিটির এমন ব্যবহার খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার কোন খানে পালায়। খাঁচার ভিতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়!" ওয়াসিকা আপু উনার সুন্দর লেখনশৈলী দিয়ে উপন্যাসটি এমনভাবে সাজিয়েছেন যে বইটি আমি এক বসাতেই শেষ করেছি, আর তারপর বহুক্ষণ এই বইয়ের ঘোর থেকে বের হতে পারিনি। পাঠকরা এই বই পড়ে হতাশ হবেন না বরং বিষন্নতায় ডুবে যাবেন, মনের ভেতরে কিছু একটা না পাওয়ার হাহাকার তৈরি হবে।"
A. Alim , Mar 8, 2020
"ভালো স্টরি"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"খাঁচার ভিতর অচিন পাখি" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: