হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
কাসিদ - জয়দীপ দে এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২০

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

কাসিদ

4 Ratings | 4 Reviews
TK. 439 TK. 500 -12% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

পলাশী যুদ্ধ। কেবল একটা যুদ্ধ নয়, ইতিহাসের বাঁক ফেরানোর একটি ঘটনা। যে ঘটনায় পাল্টে গেল পুরো ভূ-ভারতের ভাগ্য। রাজা রাজাকে হারায়। রাজপাটে যায়। কিন্তু পলাশীতে হলো ভ...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

পলাশী যুদ্ধ। কেবল একটা যুদ্ধ নয়, ইতিহাসের বাঁক ফেরানোর একটি ঘটনা। যে ঘটনায় পাল্টে গেল পুরো ভূ-ভারতের ভাগ্য। রাজা রাজাকে হারায়। রাজপাটে যায়। কিন্তু পলাশীতে হলো ভিন্ন ঘটনা। নবাবের অর
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title কাসিদ
Author জয়দীপ দে
Publisher কবি প্রকাশনী
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২০
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 288
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category উপন্যাস ও সাহিত্য
Weight 0.49 Kg
ISBN 9789849511328
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

5.00

4 Ratings and 4 Reviews

★★★★★
4
★★★★☆
0
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৪টি
mahbubul islam

mahbubul islam , Mar 8, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"পলাশীর যুদ্ধের আগে ও পরের সময়টাকে লেখক বেশ সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন। সিরিয়াস পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।"

Md. Ebrahim Hossain

Md. Ebrahim Hossain , Feb 25, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"গৃহবন্দী অবস্থায় বাড়িতে বসে সময় কাটানোর জন্যে বই খুব ভালো একটা মাধ্যম। আমার সবসময়ই বাংলাদেশের ইতিহাসের (মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ের) প্রতি আগ্রহ ছিলো। এই প্রথম মুঘল সাম্রাজ্য নিয়ে লেখা ইতিহাসভিত্তিক কোন বই পড়া শুরু করলাম। বইটির নাম "কাসিদ", লেখক -- জয়দীপ দে। কাসিদ আমাদের কাছে অপরিচিত একটি শব্দ। নবাবী আমলে কিছু অশ্বারোহী রাজকর্মচারী যুদ্ধের ময়দানে সংবাদ পরিবহনের কাজ করত। তাদেরকে বলা হতো কাসিদ। বইটি পড়ছি আর আমার হাহাকার বাড়ছে। কি ছিলো একদিন এই বাংলা!!! একটি চিঠিতে এখানে ব্যাবসা করতে আসা লুমিংটন ইংল্যান্ডে অবস্থানরত তার বন্ধু রবার্টকে লিখেছে... " সত্যি বলতে কি, আমাদের দেশে এমন কোন পণ্য উৎপাদিত হয় না যা ভারতাবাসীকে আকৃষ্ট করতে পারে। এরা স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতি। নিত্যব্যাবহার্য কিছুই এরা আমদানী করে না"। ভাবা যায়?? আমরা সবকিছু হারিয়েছি ভোগবিলাস করতে যেয়ে আর বিদ্যার্জন ও বিজ্ঞানের প্রতি অনাগ্রহের কারনে। বইটি পড়ে আমার শুধু এটাই মনে হচ্ছে যে সেই ১৭০০ সাল আর এখনকার এই ২০২০ সালের ভেতর কোন পার্থক্য নেই। আমরা তখনো বোকা ছিলাম, এখনো বোকা আছি। তখনো মানুষ সামান্য ক্ষমতা হাতে পেলেই লুটপাট করতো, এখনো সেটা করে। আমরা ইতিহাস পড়তে যেয়ে বিশ্বাসঘাতক হিশেবে হয়তো শুধু মীর জাফর আর ঘসেটি বেগমকেই চিনেছি। বইটা পড়লে আরো অনেক বিশ্বাসঘাতকের নাম চলে আসবে। ইতিহাস আশ্রিত বই যাদের ভালো লাগে তাদের জন্যে বইটা Highly recommended."

Ashraf Chy

Ashraf Chy , Jun 25, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"কাসিদ: ইতিহাস আশ্রয়ী পাঠক তৈরীর অনন্য প্রচেষ্টা। -আশরাফ চৌধুরী। কাসিদ উপন্যাসটি নিছক ইতিহাস নিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি নয়, এতে লেখক জয়দীপ দে নির্মোহভাবে একটি পরাক্রমশালী শাসকগোষ্ঠীর মহাপতনের সুলুকসন্ধান করেছেন। বংশানুক্রমিক শাসনের চুড়ান্ত পরিণতিকে পাপতাপের নিক্তিতে মাপবার চেষ্টাও লেখক এতে করেননি। জনগনের সাথে দুরত্ব কিভাবে রাজা-বাদশা-নবাবদের ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারে পরিণত করে তার ঝরঝরে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় কাসিদ এ। উপন্যাসে লেখক টনটনে আবেগের পসরা সাজাতে যাননি বা ধান বানতে শিবের গীতও গাননি। কাসিদ মানে বার্তাবাহক। সত্যিকার অর্থেই ইতিহাস আশ্রয়ী এই উপন্যাসটি ভারতীয় উপমহাদেশের আমজনতার রাজনৈতিক মানসের বার্তাই যেন বহন করছে। ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস লেখার অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো পাঠককে Historical Chronology এর সাথে পরিচিতি করিয়ে দেওয়া। কাসিদে পাঠক প্রস্তুত করার এই কাজটি দক্ষতার সাথে করে লেখক পাঠককেই চমকে দিয়েছেন। বলা যায় গঠনার পূর্বাপর অন্তর্নিহিত বাঁকগুলো জানা পাঠকের যে দায়িত্ব তা তিনি নিজের কাঁধেই যেন তুলে নিয়েছেন। এরফলে পাঠক পড়তে পড়তে খেই হারিয়ে ফেলেন না বা হাঁপিয়ে ওঠেন না। লেখক উপন্যাসের শুরুতেই 'সন্ধ্যারাগ' অধ্যায়ে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন দিল্লিশ্বর মুহাম্মদ শাহ এর সাথে। এ যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অসীম জলরাশির ঝর্ণাধারা হয়ে জলপ্রপাতে মিশে যাওয়ার মহা আয়োজন। কাসিদ পড়ার পর সিরাজের ধ্বসে পড়া বা মুঘল সাম্রাজ্যের পতন অনিবার্য ছিল নাকি শাসকদেরর কর্মকাণ্ডের পরিণতি এই দ্বিধা জাগাও স্বাভাবিক। তবে ফিকশন লেখকের এই অধিকার থাকেই। জয়দীপ দে এক্ষেত্রে নিপুণভাবে পাঠককেও উপন্যাসের স্টেক হোলডার বানিয়েছেন। মনসবদারদের বুজরুকি হিসেবের ভাড়াটে সৈন্য নিয়ে যুদ্ধ যাত্রায় অভ্যস্ত নবাব কিভাবে তার অর্ধ লক্ষ বাহিনী নিয়ে পলাশীর আম্রকাননে মাত্র তিন হাজার ভিনদেশী সৈন্যের ইংরেজদের কাছে পর্যদুস্ত হলেন, তা শুধু আবেগ দিয়ে বিচার করা যে সমীচীন নয়, সেটা লেখক কাসিদ এর পাতায় পাতায় স্পষ্ট করেছেন। প্রযুক্তির যথার্থ ব্যবহার, সুদূরপ্রসারি সমরনীতি, আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সুনির্দিষ্ট পররাষ্ট্রনীতি, সময়োচিত সাহসিকতা, তুখোড় কূটনীতি ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ কিভাবে কিভাবে একটি ভাসমান জাতিকে সুবিশাল এক সম্রাজ্যের অধিপতি বানিয়ে দেয় তা লেখক সার্থকভাবে উপস্থাপন করেছেন কাসিদে। অপরদিকে লোভ, দ্বন্দ্ব, খামখেয়ালিপনা, মিথ্যা অহংকার, ভোগবিলাস, ষড়যন্ত্র, দুর্বল অর্থব্যবস্থাপনা, বিশ্বাসঘাতকতা, শাসনতান্ত্রিক দুর্বলতা আর অপরিণামদর্শীতা মহাপরাক্রমশালী শাসকদের কিভাবে রাস্তায় টেনে নামায় তা জানতে হলে কাসিদ পড়তে হবে। লুমিংটন, ডুপ্লে, বিষ্ণু প্রসাদ, মোহনলাল, রাইচরণ, রহিম, চম্পা ও রহস্যময় গোবিন্দসহ ছোটছোট চরিত্রগুলোর মাধ্যমে কাসিদ লেখক এঁকেছেন বাংলা-বিহার-উড়িষার শেষ স্বাধীন নবাবের পতনের লেখচিত্র। এই চরিত্রগুলো যেন একেকটা কাসিদ। যেমন উপন্যাসের এক জায়গায় লুমিংটন ভাবছে-'ব্রিটিশরা মাত্র ২৫ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে ভারতে এসেছিল। এখানে তাদের তেমন কোন পণ্যই বিক্রি হতো না। একসময় পাততাড়ি গুটিয়ে ইংল্যান্ড চলে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। অথচ ভারতে এমন ব্যবসায়ী আছে যাদের হাতে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু এদের সাহস নেই। নেই উদ্যম। বড় কথা রাজশক্তির সমর্থন নেই ব্যবসা বিকাশে।' ৩২ পৃষ্টায় চম্পা বাইজি নবাব আলিবর্দি সম্পর্কে বলছে- 'তিনি জানেন চাতুরীর জয় পরাজয়ের চেয়েও খারাপ। তিনি পাটনা থেকে রওনা দিয়েছিলেন ভোজপুরের জমিদার দমনের কথা বলে। বাংলার সীমান্তের কাছে এসেই বোল পাল্টে ফেললেন। এত বীরের কাজ হতে পারে না। আশ্রয়দাতার পুত্রকে যে হত্যা করতে পারে, তার পক্ষে পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য কর্মটি করা সম্ভব'। ১১৭ পৃষ্ঠায় ফস্টার নবাব আলিবর্দির ইংরেজদের কাছে আরবি ঘোড়া চাওয়া নিয়ে ঠাট্টা শেষে আসল কথা পাড়লেন -'শোনো লুমিংটন, এই যুগ বিত্তের নয় বিদ্যার। এরা বিদ্যাবিমুখ। প্রবৃত্তি নির্ভর। এরা বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না'। আরেক স্থানে নবাব সিরাজুদ্দৌলাকে নিয়ে রায়চরণের আক্ষেপ -'ঠাকুর এদের মাজায় জোর দিয়েছে। কে বলবে হপ্তাখানেক আগে এই নবাব ভিনদেশ থেকে আসা হাতেগোনা কটা বণিকের সঙ্গে লড়াই করে হেরে নাক খত দিয়ে এসেছে। কোন বিকার আছে? কোনো লজ্জাবোধ? এমন ভোগপ্রবণ নবাব এই বিশাল রাজ্যটাকে রক্ষা করবে কী করে?' মোঘল সম্রাজ্য পতনের অন্যতম প্রধান কারন তাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী না থাকা। এই বিষয়টিকে লেখক তুলে ধরেছেন তার প্রাজ্ঞ লিখন শৈলীতে। ৯৫ ও ৯৬ পৃষ্ঠায় লেখক লিখছেন -' বলা যেতে পারে সুরাটের আব্দুল গফুরের কথা। তিনি সুরাটের বিরাট ব্যবসায়ি ছিলেন। তার অন্তত বিশখানা বিশাল বিশাল জাহাজ ছিল। কিন্তু এসব জাহাজ নিয়ে দূরযাত্রা করতেই পারত না। ইউরোপীয় দস্যুরা সব লুটপাট করে নিত। ১৭০১ সালে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বাদশার প্রতিনিধি ওলন্দাজ ও ইংরেজদের বিপুল পরিমাণ অর্থদণ্ড করে। ইউরোপীয়রা তখন উল্টো হুমকি দেয়, আচ্ছা দেখব, ভারত থেকে লোকজন কীভাবে হজ্বে যায়। মুঘলদের গভীর সমুদ্রে কোনো নৌশক্তি ছিল না। ভয়ে বাদশা পিছু হটেন। শেষমেশ গফুর জাহাজ ব্যবসাই ছেড়ে দেন।' কাসিদ অনুসন্ধিৎসু পাঠকের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় The grand fall of an Empire. এই পাঠকদের অনেকের কাছে বিশ শতকের নাটক-সিনেমা-যাত্রাপালায় 'সিরাজুদ্দৌলার ইতিহাস সিরাজুদ্দৌলা থেকেই শুরু'র হাস্যকর প্রচেষ্টা মোটামুটি বিরক্তিতে ঠেকেছে। আমাদের পাঠকদের বলা হয় তারা সিরিয়াস পাঠক নন। কিন্তু যে বিষয়টা বলা হয় না তা হলো- পাঠের মত লেখা হলে পাঠকের অভাব হয় না। এক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি কথা বলা উচিৎ মনে করছি- পাঠক তৈরির দায় কেবল কবি বা লেখকের উপরই বর্তায় না। প্রকাশক, সমঝদার, প্রতিষ্ঠিত লেখক বা কবিদের ইতিবাচক অবস্থান ও সার্বিক পরিবেশসহ অন্যান্য অনুষঙ্গও এতে ভূমিকা রাখে। তবে, ইতিহাস নির্ভর উপন্যাসের পাঠক তৈরিতে অদূরভবিষ্যতে কাসিদ ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা করা যেতেই পারে। আমরা জানতে পারি কাশিমবাজার কুটিই সিরাজুদ্দৌলার পতন নকশার একমাত্র আঁতুড়ঘর নয়। ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল চেহেল সেতুন, জাফরগঞ্জ প্রাসাদ বা জগতশেট মহাতপ রায়ের বাড়ি। কিংবা মেহেরুন্নেসা, যিনি ঘসেটি বেগম নামেই সমধিক পরিচিত বা মীর জাফরের ক্ষোভ নিতান্ত অন্যায্য নয়। পাঠক জানতে পারে জগৎশেঠ মহাতপ রায়কে খামখেয়ালি অবিমৃষ্য তরুণ নবাব অপমান না করলে হয়তো তার পরিনতি এমন ট্র্যাজিক নাও হতে পারতো। এবং ঘসেটি বেগমের প্রতি নবাব আলিবর্দি খানের দূর্বলতার কারণ মারাটা আক্রমনে পর্যুদস্ত অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তা বা নবাবের বিহার অভিযানের সময় টাকার টান পরলে এই ঘসেটি বেগমের এগিয়ে আসা। কাসিদ জানাচ্ছে মীর বক্সি মীর জাফর আলি খান ও তার বোনের সতিনের ছেলে খাদেম হোসেন খানের সমকামিতার গল্প। কাসিদ উপন্যাসের লেখক জয়দীপ দে গল্প বলার ছলে অনেকগুলো তথ্য জ্ঞান অন্বেষক পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন যেমন- 'আর্মাড' শব্দটি থেকে 'হার্মাদ' শব্দটি এসেছে বা অশ্বারোহী মারাঠা যোদ্ধাদের 'বারগি' বলা হয় ''যা পরবর্তীতে মুখেমুখে ফিরে 'বর্গি' হয়ে যায়''। আছে ভাস্কো দা গামা কালী দেবীর পূজাকে মাদার মেরিকে পূজা মনে করে ভারতীয়দের খ্রিস্টান হিসেবে রিপোর্ট করার মত চমকপ্রদ তথ্য। আরো আছে নিজেদের চরম দুঃসময়ে কিভাবে একজন স্বজাতি প্রেমিক ইংরেজ ডাক্তার গেব্রিয়েল বৌটন সম্রাট শাহজাহানের অগ্নিদগ্ধ কন্যা জাহানারার চিকিৎসার বিনিময়ে বাংলায় বাণিজ্য করার অনুমতি আদায় করেছিলেন সেই তথ্য। আমরা জানতে পারি- 'হিরাঝিল প্রাসাদ বললেও সিরাজের প্রাসাদের নাম মূলত মনসুরগদি'। সিরাজুদ্দৌলা বাংলার নবাব কিন্তু তিনি বাংলা বুঝতেন না। কাসিদ জানাচ্ছে- গঙ্গা থেকে একটা শাখা দক্ষিণে এঁকেবেঁকে চলে গেছে সাগরের দিকে। লম্বায় আড়াইশ কিলোর মত হবে। উজানে একে লোকে ভাগীরথী বলে। ভাটির মানুষ বলে হুগলি।' আমরা আরো জানতে পারি কলকাতা নামক শহরের গোড়াপত্তনের ইতিহাস। চরম বেদনায় পাঠক লক্ষ করেন তথাকথিত সিলেক্ট কমিটি কীভাবে বাংলা বিহার উড়িষার ভাগ্য আড়াই কোটি টাকায় নির্ধারণ করে। আর কিভাবে মীর জাফর, রায় দূর্লভ, উমিচাঁদ, জগৎশেট মহাতপ রায়, ওয়াটসন, কর্নেল ক্লাইভ, ড্রেক, ওয়াটস, মেজর কিলপ্যাট্রিক ও বিচার এর এই গোলামীর দাসখতে সম্মতি দেয়। সিরাজের বিয়োগান্তক পতনের পর বাংলার সম্পদ কীভাবে ইংরেজরা লুট করে তার হৃদয়বিদারক বর্ণনা লেখক দিয়েছেন ২৫৬ পৃষ্ঠায়- '.... টাকা ভাগযোগের পর সাতশত সিন্দুকে ভরে তা একশত নৌকায় তোলা হয়।...... তবে আরো ২৬০ বছর পর বাংলাদেশের এক সমাজতাত্ত্বিক, নাম ড. অনুপম সেন আমাদের জানাবেন, ইস্ট ইন্ডিয়া (কোম্পানি) ১৭৫৭ সালের পর প্রথম ৩ বছরেই বাংলাদেশ থেকে তৎকালীন ৫০০ কোটি পাউন্ডের সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার করে'। কাসিদ উপন্যাসে লেখক জয়দীপ দে বাংলার নবাবদের নিয়ে গড়ে উঠা নানা লোকগাঁথা, ছড়া, চারণ কবিতা, শ্লোক-স্তবকগুলো নিবিড় যত্নে পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছেন দারুণ মুন্সিয়ানায়। কৌতূহলোদ্দীপক পাঠকদের জন্য সবচেয়ে যেটা চমকপ্রদ তা হলো কাসিদ এর প্রতিটি অধ্যায়ের সার্থক নামকরণ। সন্ধারাগ, ভাগীরথী থেকে হুগলি, শঠ ও শেঠ, অস্থির চতুরঙ্গ, ঈষাণ কোণে কালো মেঘ, চক্রান্তের চক্র, বাজে দুন্দুভি, টাকা উড়ে বাতাসে, সম্মুখ সমরে, নিভে গেল দীপসহ বিভিন্ন অধ্যায়ের অসাধারণ নাম যোগ। পরিশিষ্টে ঘটনাপ্রবাহের সংযোজন, ঝকঝকে ছাপা প্রয়োজনীয় ছবি-ম্যাপ ও রেফারেন্স বইয়ের তালিকাসহ কাসিদ যেন ইতিহাসপ্রিয় বুভুক্ষু পাঠকের ক্ষুধা নিবারণে এক অনন্য ব্যঞ্জন । ইতিহাস নির্ভর একপেশে ফিকশন পড়ার একঘেয়েমি থেকে পাঠককে মুক্তি দেওয়ার জন্য কাসিদ লেখককে ধন্যবাদ না জানালে অবিচার হবে। জয়দীপ দে কে পাঠকমহল ভবিষ্যতে কাসিদ এর লেখক হিসেবে চিনবে নাকি তার তূণের আরো আরো নতুন তীর পাঠককে বিস্ময়াভিভূত করবে সে প্রশ্ন ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাক। তবে তিনি পাঠকের মধ্যে যে পিপাসাবোধ জাগিয়েছেন তা মেটানোর দায়িত্বতো তারই। আপাতত আমরা না হয় কাসিদেই বুঁদ হয়ে থাকি। (লেখক:আশরাফ চৌধুরী) ০১৮১৯৫১৬৩৬৭ ashrafchybd81@gmail.com"

Abu Kausar Md Sarwar

Abu Kausar Md Sarwar , Jun 25, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজুদ্দৌলা ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন - পলাশীর যুদ্ধ সাধারনত এই এক বর্ননায় আমাদের কাছে সীমাবদ্ধ। অথচ ভারতের তৎকালীন বাস্তবতায় ভারত শাসকদের ইউরোপীয়ান শক্তিগুলোর কাছে পতন সময়ের ব্যাপার ছিল। আর সেই পতনটা শুরু হয়েছিল সিরাজকে দিয়ে। সিরাজের পতনকালীন সময়ে ভারতে শক্তিশালী কেন্দ্রীয় রাজশক্তির অভাব ছিল। মোঘল সাম্রাজ্য তখন কাগুজে বাঘ। দিল্লি ও আশেপাশের এলাকা ছাড়া বাকী ভূ-খন্ড কার্যত স্বাধীনভাবেই স্থানীয় রাজারা শাসন করতেন। স্বীকৃতি প্রদান ছাড়া দিল্লির খুব বেশী প্রভাব তখন ছিল না। রাজকর্মচারীরা একে অন্যকে হত্যা করে নিজেকে রাজা-বাদশা হিসেবে দাবী করছেন আর মোঘলরা দিল্লিতে বসে টাকার পাল্লা মেপে রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন। বাংলায় চলছিল আলীবর্দির শাসন। কিন্তু তিনি নিজ রাজ্য সামলানোর সুযোগ খুব একটা পাননি। তাকে ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়েছে মারাঠা আক্রমন ঠেকাতে। সেই সাথে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র তো ছিলই। ব্যবসায়ীরা কর দেন, রাজার চাহিদা পূরণ করেন কিন্তু সে হিসেবে তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছিল না রাজা। এমনি প্রেক্ষাপটে ভারতে পর্দাপন ঘটে ইউরোপীয়ান রাজশক্তি। তারা এসেছিল বানিজ্য মিশন নিয়ে। এসে দেখে ভারতীয় সম্রাট বা রাজাদের নেই কোন নৌ বাহিনী। দেশীয় রাজাদের নিজস্ব সেনাবাহিনীর পরিবর্তে আছে ভাড়াটে সেনাবাহিনী। যে কোন যুদ্ধ যাত্রার আগে সৈন্য ভাড়া করে রাজারা যুদ্ধ যাত্রা করছেন। ভাড়াটে সৈন্য সংখ্যাও কাগজে এক, বাস্তবে ছিল আরেক। এমনি বড় এক ক্যানভাসে লেখক লেখেছেন কাসিদ উপন্যাসটি। লুমিংটন, বিষ্ণুপদ, চম্পার মত বেশ কিছু চরিত্র আর ঐতিহাসিক চরিত্রগুলোর মুখ দিয়ে লেখক ভূ-ভারত, ইউরোপ, ইউরোপীয়দের সমুদ্র যাত্রার সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরার পর গল্পের ছলে আলীবর্দির নবাব হিসেবে উত্থান থেকে শুরু করে সিরাজের পতন পযর্ন্ত সময়টার একটা ডিটেলস চিত্র উপন্যাসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। উপন্যাস কখনই সঠিক ইতিহাস বা সঠিক ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ নয়। লেখক বইটির সকল বর্ননাকে ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে দাবীও করেননি। কিন্তু ঐতিহাসিক ফ্যাক্টগুলোকে বর্ননা করে তিনি যে বিশ্লেষণ তার উপন্যাসে দাঁড় করিয়েছেন তা সচেতন পাঠককে নতুন দৃষ্টিতে সে সময়কে মূল্যায়ন করতে আগ্রহী করে তুলবে। ঐতিহাসিক ঘটনা সংগ্রহ ও বর্ননায় লেখক পরিশ্রম করেছেন যার প্রমাণ বইয়ের শেষের পরিশিষ্টে পাওয়া যায়। কাসিদ উপন্যাসটি লেখকের সাহিত্যিক জীবনের বড় কাজ হয়েই হয়ত ভবিষ্যৎ বিবেচনা করবে।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
ময়ূরাক্ষী
একটু পড়ে দেখুন
ময়ূরাক্ষী হুমায়ূন আহমেদ
(277)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
তোমাকে
একটু পড়ে দেখুন
তোমাকে হুমায়ূন আহমেদ
(186)
TK. 225 -20% OFF
TK. 180
হিমু সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(314)
TK. 1,000 -20% OFF
TK. 800
মিসির আলি সমগ্র ২
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলি সমগ্র ২ হুমায়ূন আহমেদ
(143)
TK. 500 -20% OFF
TK. 400
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
একটু পড়ে দেখুন
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড হুমায়ূন আহমেদ
(116)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
একটু পড়ে দেখুন
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ হুমায়ূন আহমেদ
(69)
TK. 160 -14% OFF
TK. 138
তিনি ও সে
একটু পড়ে দেখুন
তিনি ও সে হুমায়ূন আহমেদ
(34)
TK. 135 -20% OFF
TK. 108
শুভ্র সমগ্র
একটু পড়ে দেখুন
শুভ্র সমগ্র হুমায়ূন আহমেদ
(90)
TK. 600 -20% OFF
TK. 480

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"কাসিদ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
কাসিদ পাতা: 1 / 13
পাতা 2
কাসিদ পাতা: 2 / 13
পাতা 3
কাসিদ পাতা: 3 / 13
পাতা 4
কাসিদ পাতা: 4 / 13
পাতা 5
কাসিদ পাতা: 5 / 13
পাতা 6
কাসিদ পাতা: 6 / 13
পাতা 7
কাসিদ পাতা: 7 / 13
পাতা 8
কাসিদ পাতা: 8 / 13
পাতা 9
কাসিদ পাতা: 9 / 13
পাতা 10
কাসিদ পাতা: 10 / 13
পাতা 11
কাসিদ পাতা: 11 / 13
পাতা 12
কাসিদ পাতা: 12 / 13
পাতা 13
কাসিদ পাতা: 13 / 13
পাতা / 13
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।