হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
জলজীবন - শ্রাবণী প্রামানিক এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২০

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

জলজীবন

3 Ratings | 3 Reviews
TK. 159 TK. 175 -9% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

"জলজীবন" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: [...] উঠান যখন বাতাবির সুগন্ধে ভরে উঠতাে; তখন মায়ের রান্নার জাদুতে ভাতও হয়ে উঠতাে সুগন্ধী। আজ সেই মায়ের জন্য পচা খাবার বরাদ্দ...
একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

"জলজীবন" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: [...] উঠান যখন বাতাবির সুগন্ধে ভরে উঠতাে; তখন মায়ের রান্নার জাদুতে ভাতও হয়ে উঠতাে সুগন্ধী। আজ সেই মায়ের জন্য পচা খাবার বরাদ্দ করে শিখা! মায়ের চার
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন
Title জলজীবন
Author শ্রাবণী প্রামানিক
Publisher ভাষাচিত্র
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২০
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 80
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category গল্প
Weight 0.22 Kg
ISBN 9789849410591
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

5.00

3 Ratings and 3 Reviews

★★★★★
3
★★★★☆
0
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
0

পাঠকদের মন্তব্য

৩টি
Soptorshi Official

Soptorshi Official , Aug 23, 2021

★ ★ ★ ★ ★

"#সপ্তর্ষিপ্রগতিবুকরিভিউ_প্রতিযোগ জীবন তো জলের মতোই বহমান। জোয়ার-ভাঁটার করাল গ্রাসে আটকা পড়ে না নদীর জল। চলার পথের বাঁকে বাঁকে লুকিয়ে থাকা বিপদের আনাগোনার কারণে জীবনের গতিও শ্লথ হয়ে আসে না। জলের সাথে জীবনের দারুণ মিল, তাই না? জীবন জুড়ে পরিব্যাপ্ত হয় সুখ-দুঃখের বিচিত্র সব গল্প। হাসিয়ে-কাঁদিয়ে ব্যাকুল করা এই গল্পগুলো মূলত জলের ছুটে চলার, নারীর বয়ে চলার। হ্যাঁ; নারী-ই জল। জল-ই জীবন। শ্রাবণী প্রামানিকের লেখা “জলজীবন” গল্প সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সর্বমোট ১১টি গল্প। গল্পগুলো জলের কথা শোনায়। জীবনের কথা শোনায়। ● স্বাদ অথবা গন্ধহীন “বিবর্তনের সভ্যতা। যান্ত্রিক কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন ফুসফুস বা স্বর্গীয় সুধা স্বাদ আস্বাদনে অধিক সুরাপানে বিকল হওয়া হৃদস্পন্দন অথবা সারিসারি রাস্তা জুড়ে সারবেঁধে চলা গাড়ির বহরে হঠাৎ ধাক্কা খেয়ে হারানো অথবা থেতলে যাওয়া মাথা নিয়ে চলমান ধীর-ক্ষয়িষ্ণু মানবের জীবনাচরণের লিপিবদ্ধ ইতিহাসে বর্ণিত এক ভাগ্যনির্মিত খোঁড়া মানব।” মায়ের অফুরন্ত মায়া-মমতায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়েছিল বাবলুর। চাকরি, অর্থ, সম্মান, বৈবাহিক সুখ - সবই ছিল তার জীবনে। কিন্তু ঘটনার আকস্মিকতায় পাল্টে গেল ভবিতব্য, বাবলু পরিণত হলো খোঁড়া মানবে। মুহূর্তের অ্যাকসিডেন্ট বাবলুর জীবনকে যেন বিস্বাদ করে দিল! ছেলেবেলায় মা বাবলুর জন্য বাতাবির গন্ধে মাখা ভাত রান্না করত। অথচ ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! বাবলুর স্ত্রী, শিখা আজকাল সেই মায়ের জন্য বরাদ্দ রাখে রাজ্যের সব পচা-বাসি খাবার! মানব মনের নিত্য দোলাচলের কাহিনি প্রাধান্য পেয়েছে এই গল্পে। বাবলুর মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে গল্পের পুরো কাহিনি। গল্পের প্লটটা দারুণ সুন্দর। অতীত আর বর্তমানের কর্তব্যের মধ্যকার যে টানাপোড়েন, সেটা বাবলুর মধ্য দিয়ে খুব নিখুঁতভাবে বেরিয়ে এসেছে। ● জলাবৃত চাঁদ “পরদিন ভোরে কে প্রথম গাঙের ধারে দেখেছিল, তা নিয়ে চলে অনেক বাক-বিতণ্ডা। যেতে হয়নি কোনও লাশকাটা ঘরে। তবে সে আর তার পেটের সন্তান ভরসন্ধ্যায় আগুনে পুড়তে পুড়তে ইহজাগতিক বিভৎসতার হাত থেকে আজন্ম নিস্তার খুঁজেছে।” বর্ষণমুখর এক রাতের গল্প। হাসুর আকস্মিক আক্রমণে সুবলা তার সর্বস্ব হারায়। সুবলার কানে বাজতে থাকে হাসুর কথা, “তোক হামার ভালো নাগে সুবলা।” কিন্তু সেই রাতে সুযোগ পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল হাসু। অন্যদিকে সুবলার শরীর ভারী হতে থাকে। জলাবৃত চাঁদকে ধরণীতলে ডেকে আনার প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্যোগী হয় সে। “জলাবৃত চাঁদ” সুবলা নামক এক কিশোরীর সংগ্রামী জীবনের গল্প। এক রাতের সুখ কিংবা দুঃখ থেকে উদ্ভব ঘটে হাজারটা ভোগান্তির। সুবলা দমে যায় না। বরং নিজের সন্তানের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হয়ে ওঠে প্রবল সংগ্রামী! সাবলীল বর্ণনায় উপস্থাপনের কারণে সুবলার জীবন সংগ্রামের গল্প হৃদয়ে ছাপ রেখে যায়। চমৎকার বর্ণনাশৈলীর গুণে দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে গল্পের পুরো কাহিনি। ● চিহ্ন “এতক্ষণ পর আনজু এটা বুঝেছে, কাঁটাতারের ওপাশটা সেই অন্য দেশ। ভারত। তাই আর দ্বিধা করে না, 'হউক যা হবার হউক! মোক আর কোনঠেও খুঁজি পাবার নন। মুই ভারতই যাইম।'” আনজু-মোমেন দম্পতি আজও নিঃসন্তান। দীর্ঘ দিনের সংসার তাদের। উত্তরাধিকারের অভাব মোমেনকে প্রায়শই ভোগায়, সমস্ত ক্ষোভ গিয়ে পড়ে আনজুর ওপর। এবং আনজুর গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা বোধ করে না মোমেন! সন্তান জন্ম দিতে না পারার ব্যর্থতা আনজুর জীবনে দুঃখ নামিয়ে আনে। সেই দুঃখের পারদ বাড়িয়ে দেয় মোমেনের অমানুষিক নির্যাতন। ধৈর্য্য! “চিহ্ন” গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র, আনজুর ধৈর্য্য সাংঘাতিক! কাহিনির শেষাংশে এসে আনজু যখন স্পষ্ট কণ্ঠে স্বীকার করে, “মুই বাঁনজা নোং... বাঁনজা নোং” - বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যেতে হয় তখন। বোঝা যায়; লেখক বেশ দক্ষতার সাথেই গল্পের কাহিনিটা ফেঁদেছেন। ● উল্টোযান “অতীশের উল্টো যানে চড়ে বসে বিনু। আঁকড়ে ধরতে চায় তার সমস্ত শক্তি দিয়ে। বিনু তো তখনও জানতো না-উল্টো যানে চড়া অতীশকে আঁকড়ে ধরলেও উল্টো পথে হাঁটা খুব সহজ নয়!” উল্টোযানের এক সফরে এসে অতীশের সাথে পরিচয় ঘটে বিনুর। পরিচয় থেকে বিয়ে। আর তারপর? তারপর শুরু হয় দুজনের উল্টো পথের যাত্রা। এ যাত্রায় টাকা কামানোর কাজটুকু সম্পন্ন করে বিনু। অতীশ ব্যস্ত থাকে পরোপকারের কাজে। কিন্তু প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে, উল্টো পথে হাঁটা কি এতই সহজ? “উল্টোযান” পড়ে যথেষ্ট সুখপাঠ্য মনে হয়েছে। এক্ষেত্রে চেনা প্লটের গল্পটাকে খানিকটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন লেখক। ফলে পড়তে গিয়ে তেমন বিরক্ত অনুভূত হয়নি। ● সন্তাপ “হঠাৎ তুফান ফিরে এলো! ত্রয়োদশীর ক্ষীণ চাঁদের আলোয় তার মুখটা বড় শান্ত, নিষ্পাপ! রাহেলার বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে...কেন?” রাহেলা আর তুফানের বিয়েকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যায় কাহিনির গতি। তুফানের বাড়িতে আয়োজন চলতে থাকে মহাভোজের। নববধূ রাহেলাকে ভাত খাওয়ানোর মহাভোজ। কিন্তু ঘটনার আকস্মিকতায়; মহাভোজের আনন্দ উৎসবে নেমে আসে শোকের ছায়া। “সন্তাপ” গল্পের শুরুর দিকে প্রাধান্য পেয়েছে আনন্দমুখর একটা পরিবেশ। অথচ শেষাংশে এসে উধাও হয়ে যায় সকল আনন্দের গান, চেপে বসে তীব্র বিষাদের ধারা। এবং লেখকের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া বাঁকের প্রয়োগে কাহিনির শেষ পরিণতি হয়ে ওঠে দারুণ উপভোগ্য। ● কিছু শব্দ ও একটি হারানো সুর “দমিয়ে রাখা ভালোবাসার প্রখর উষ্ণতা নিরন্তর খুঁচিয়ে মারে দীপিকাকে। নিজেকে নিরুতপ্ত রাখতে সে এড়ায় প্রভাতের সংস্পর্শ!” ছেলেবেলায় মায়ের হাতে সাদা খাম ধরিয়ে দিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায় দীপিকার বাবা। সেই থেকে শুরু হয় মাকে নিয়ে দীপিকার বেঁচে থাকার লড়াই। মাঝখানে চলে যায় অনেকগুলো বছর, ভালোবাসার অভাব দীপিকাকে প্রায়শই ভোগায়। ভালোবাসার উঠোন শূন্য হতে বেশি সময় লাগে না। আবার শূন্য উঠোন বেশিদিন খালিও পড়ে থাকে না। নতুন উদ্যমে সেখানে ভালোবাসার চাষ হয়। হারিয়ে যাওয়া সুরও নতুন সংগীত সৃষ্টির লক্ষ্যে বারবার ফিরে আসে। এমনই এক ফিরে আসা সুরের গল্প, “কিছু শব্দ ও একটি হারানো সুর”। লেখক তার সাবলীল বর্ণনাশৈলী এখানেও ধরে রেখেছেন। তবে গল্পের মেইন প্লট ভীষণ চেনা আমার। একই প্লটের কাহিনি আগেও পড়েছি বিধায় তেমন আনন্দ খুঁজে পাইনি এবার। ● আলপিনে আঁকা আলপনা “...ঘরে টেলিভিশন চলছে। সেখানে দেখানো হচ্ছে সকাল আটটা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে সাভারের রানা প্লাজা নামে একটি ভবন ধসে পড়ে। আর তাতে ধ্বংস হয়েছে ভবনে অবস্থিত একটি গার্মেন্টস। গার্মেন্টসে'র নামটি বারবার বলা হচ্ছে। লেখা দেখানো হচ্ছে। কলমী ঐ ঠিকানাতে যে জীবনে কত চিঠি মাধবকে পাঠিয়েছে তার হিসাব নেই।” কলমীর বিয়ে হয়েছিল মাধবের সাথে। লেখাপড়ার অজুহাত দেখিয়ে শ্বশুরবাড়ি যায় না কলমী, বাপের বাড়িতেই পড়ে থাকে বেশিরভাগ সময়। অন্যদিকে মাধব ঢাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। বেতন পায় গুণে গুণে আট হাজার টাকা! সেখান থেকে গ্রামে পাঠিয়ে, নিজের খরচ চালিয়ে হাতে যেটুকু টাকা থাকে - তা দিয়ে সংসার পাতা যায় না। অথচ কলমী যখন ঢাকার মাটিতে ছোট্ট একটা সংসার পাততে চায়, মাধব আপত্তি জানায় না। গল্পের কাহিনিটা বাস্তব থেকে নেয়া। বাস্তব কাহিনির সাথে নিজের কল্পনাকে খুবই চমৎকারভাবে ব্লেন্ড করেছেন লেখক। তাছাড়া প্রেক্ষাপটে প্রাধান্য পেয়েছে গ্রাম বাংলার পরিবেশ। দক্ষতার সাথে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার পুরো কাহিনিকে করে তুলেছে দারুণ উপভোগ্য। ● সুখ পাখি “...সেভেন ক্লাসে পড়া স্বল্প বিদ্যায় সে জেনেছে; চুরি করা মহাপাপ এবং সৎভাবে করা কোনও কাজই ছোটো নয়। অথচ সে বুঝতে শেখার পর থেকেই দেখে আসছে তার বাবা মহাদক্ষতার সাথে কাজটা করে আসছে- চুরি।” বর্ষার দিনে করার মতো কোনো কাজ জোটে না হরনাথের কপালে। অনাহারে দিন কাটানোর কথাও ভাবতে রাজি হয় না সে। এখন উপায়? উপায় অবশ্য একটা আছে, চুরি। কিন্তু হরনাথের ছেলে, বিশু তার বাবার চুরি করার ব্যাপারটা ঘৃণার চোখেই দেখে। বাবা পাপ করতে দ্বিধা বোধ করে না। অন্যদিকে ছেলে জানে সৎভাবে চলার মূল্য। একই পরিবারের দুটো মানুষের চিন্তাধারার এই ভিন্নতাই গল্পের মূল বিষয়বস্তু। আঞ্চলিক ভাষায় বর্ণিত হয়েছে গল্পের পুরো কাহিনি। এবং সাদামাটা প্লটের এই গল্পটা পড়তেও খারাপ লাগে না। ● কালক্ষয় “এই লড়াই, এই ক্ষুধা, এই সব হারানোর গল্প বড়ো একঘেয়ে, তাই তো? ফুল-পাতা, বৃষ্টি বা নদী, নারী-প্রেম এসব ছাড়া গল্প হয়? না হয় না। হয় না। একটাই জীবন। একজীবনে মানুষকে তাই সবগুলো ধাপ পেরিয়েই শিখরে পৌঁছাতে হয়। গল্পের জীবন, জীবনের গল্প তাই চক্রাকারে চলতে থাকে।” মইদুল ডাক্তারের সবচেয়ে কাছের মানুষ তার মেয়ে, টুই। তাকে নিয়ে দিব্যি হেসেখেলে দিন কেটে যাচ্ছিল মইদুল ডাক্তারের। মাঝখানে টুইয়ের জীবনে এলো পলাশ। কীভাবে যেন পলাশের সাথে টুইয়ের বিয়েও হয়ে গেল! আর তারপর? তারপর শুরু হলো, কালের ক্ষয়। কালক্ষয়ের এই গল্পটা শুরুর দিকে আনন্দদায়ক, অথচ শেষে এসে ভারী বিষাদময়। এটাও আগের মতোই - সাদামাটা প্লটের একটা কাহিনি। অথচ লেখকের বর্ণনাশৈলীর গুণে দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠে। ● উড়ে গেল আত্মা “আমি একটি বই পড়ছি। কিন্তু প্রতিটি পৃষ্ঠাই- পৃষ্ঠা নাম্বারহীন। তাই আমি জানি না কততে গিয়ে থামতে হবে। এটাই জীবন! শিশু ওয়ার্ডের লোকজন বলেছে, 'ছেলেটা সারাদিন হাসপাতালের গেট ধরে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকতো। কিন্তু আক্ষরিক অর্থে ছেলেটার দাঁড়ানোর মতো জোর শরীরে ছিল না।'” পেটের যন্ত্রণায় আক্কুর অবস্থা বেহাল। প্লীহাটা বেড়ে গিয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। উপায়ান্তর না দেখে আক্কুকে হাসপাতালে রেখে যায় তার দুই চাচা। আরও জানায় সাত দিনের মধ্যেই বাড়ি ফেরার প্রতিশ্রুতি। এদিকে দিন চলে যায়, ধৈর্য্য ধরে হাসপাতালের গেটে বসে থাকে আক্কু। কিন্তু চাচাদের ফিরে আসার খবর আর পাওয়া যায় না। গল্পের ব্যাপ্তিটা তেমন দীর্ঘ নয়। সমাপ্তিতে এসে যখন দুই চাচা করুণ সুরে জবাব দেয়, “আমরা ভালো থাকার নামে বিশ্বাস করি; শিশিরের ভাগ্য নিয়ে জন্ম নেওয়া আক্কু যেখানেই আছে, ভালো আছে।” - সামর্থ্য আর আকাঙ্ক্ষার মধ্যকার পার্থক্যটা প্রবলভাবে বেরিয়ে আসে তখন। ক্ষুদ্র পরিসরে বৃহৎ চিন্তাধারার একটা গল্পের নাম, “উড়ে গেল আত্মা”। সাবলীলভাবে বর্ণনার কাজটুকু সম্পন্ন করেছেন লেখক। তাছাড়া বিষাদময় এই গল্পের কাহিনিটা দারুণভাবে ছাপ রেখে যায়! কোথাও একটা হাহাকারের জন্ম দিয়ে যায়... ● ধরতে চাইলে হারিয়ে যায় “সুখ-দুঃখ, সৌভাগ্য বা ব্যর্থতার পালা চলে যেন দিন-রাত্রির অনুকরণে। দিন না রাত্রি কোনটা যে দীর্ঘ হবে তার বার্তা কোনও ডাকপিয়নই পৌঁছে দিতে পারে না। তবে যখন স্রষ্টা এবং সৃষ্টির উদ্দেশ্য হয় এক, তখন যেন ফলাফল নিজে হেঁটে এসে দরজায় কড়া নাড়ে।” সংসারের ভালো-মন্দের ভার যার হাতে, সেই বড়ো বউয়ের হঠাৎ কী যে হলো! পায়ের ওপর ভাতের হাঁড়ি পড়ল উল্টে, হারিয়ে গেল জ্ঞান। পুরো বাড়ি জুড়ে যেন কান্নার রোল পড়ে গেল। আর তারপর? তারপর মুহূর্তেই সবার প্রার্থনা আর আশীর্বাদের জায়গাটুকু দখল করল বাড়ির বড়ো বউ! যাদের আমরা আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই, তারা ঠিক মেঘের মতো। ধরতে চাইলে হারিয়ে যায়। দূর আকাশে মিলিয়ে যায়। “ধরতে চাইলে হারিয়ে যায়” জলজীবনে অন্তর্ভুক্ত সর্বশেষ গল্প, যেখানে প্রাধান্য পেয়েছে কাছের মানুষকে আঁকড়ে ধরার কথা। আঁকড়ে ধরে হারিয়ে ফেলার কথা। সাবলীল বর্ণনায় সাধারণ জনজীবনের এই গল্পটা পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো ছিল। [ সার্বিক মূল্যায়ন ] জলজীবনের গল্পগুলো জুড়ে উঠে এসেছে গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ। মাটির ভাষার প্রয়োগের ব্যাপারটা ছিল সাবলীল, যা আন্তরিকতার শ্বাশত বার্তা পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট কার্যকর। অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলোতে যেসব রোজকার জীবনের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, সেখানে চোখে পড়ার মতো বৈচিত্র্যময়তা ছিল না হয়তো। তবে চেনা প্লটের এই গল্পগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা অবশ্যই ছিল। তাছাড়া পড়তে গিয়ে খুঁজে পাওয়া টুকরো টুকরো দার্শনিক আলাপগুলো যেন ভাবনার জগতে তলিয়ে দিতে চায়। নিয়ে যেতে চায় সেই জীবনে, যে জীবন আনন্দের। যে জীবন বিষাদের। [ একনজরে বইয়ের তথ্য ] • বইয়ের নাম : জলজীবন • লেখকের নাম : শ্রাবণী প্রামানিক • প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম : ভাষাচিত্র • প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি ২০২০ • প্রচ্ছদ : খন্দকার সোহেল • পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৮০ [ প্রতিযোগী : নবনীতা প্রামানিক, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজ ইমেইল : nobonyyy@gmail.com ] ©Nabonita Pramanik"

Md. Khaled Hasan

Md. Khaled Hasan , Mar 18, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"জলজীবন লেখকের প্রথম বই, তবে আশা করছি শেষ নয়। কি চমৎকার ভাষাশৈলীতে ফুটিয়ে তুলেছেন সাধারণ বাঙালীর জীবনযাপনের গল্প। ৮০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে ১১ টি ছোট গল্পের সংকলনে লেখক ১১ টি পরিবারের গল্পই যেন তুলে ধরেছেন। সেই সাথে লেখকের লেখায় তাঁর নিজস্বতার পরিচয় পাওয়া যায়। ছোটগল্পের পাঠকদের জন্য এক অবশ্যপাঠ্য।"

SHSHAWTO SHUBHRO

SHSHAWTO SHUBHRO , Mar 15, 2020

★ ★ ★ ★ ★

"জলজীবনের প্রতিটি পাতায় রয়েছে আবহমান বাংলার রুপরেখার এক গভীর মেলবন্ধন। এক একটি গল্পে লেখক এক একটি নতুনজীবনের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন তাঁর নিজস্বতায়। ছোটগল্পের এই রঙমিশেলটা আমার ভালোই লেগেছে।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
প্রণয় মল্লার
একটু পড়ে দেখুন
প্রণয় মল্লার শ্রাবণী প্রামানিক
কোনো রেটিং নেই
TK. 220 -10% OFF
TK. 199
ওগো শুনছো
একটু পড়ে দেখুন
ওগো শুনছো মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
(7)
TK. 260 -50% OFF
TK. 130
মিসির আলির গল্পমালা
একটু পড়ে দেখুন
মিসির আলির গল্পমালা হুমায়ূন আহমেদ
(10)
TK. 300 -20% OFF
TK. 240
শেষ পরিণতি
একটু পড়ে দেখুন
শেষ পরিণতি প্রফেসর দেওয়ান মোঃ আজিজুল ইসলাম
(2)
TK. 140 -40% OFF
TK. 84
প্রেমের গল্প
একটু পড়ে দেখুন
প্রেমের গল্প হুমায়ূন আহমেদ
(16)
TK. 300 -20% OFF
TK. 240
জীবন জাগার সিরিজ -৬ (আমি যদি পাখি হতাম)
একটু পড়ে দেখুন
জীবন জাগার সিরিজ -৬ (আমি যদি পাখি হতাম) মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
(12)
TK. 240 -50% OFF
TK. 120
অল্প বিদ্যা ভয়ংকর
একটু পড়ে দেখুন
অল্প বিদ্যা ভয়ংকর মাওলানা মুনীরুল ইসলাম
(3)
TK. 280 -47% OFF
TK. 149
শীত ও অন্যান্য গল্প
একটু পড়ে দেখুন
শীত ও অন্যান্য গল্প হুমায়ূন আহমেদ
(13)
TK. 200 -14% OFF
TK. 172

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"জলজীবন" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
জলজীবন পাতা: 1 / 9
পাতা 2
জলজীবন পাতা: 2 / 9
পাতা 3
জলজীবন পাতা: 3 / 9
পাতা 4
জলজীবন পাতা: 4 / 9
পাতা 5
জলজীবন পাতা: 5 / 9
পাতা 6
জলজীবন পাতা: 6 / 9
পাতা 7
জলজীবন পাতা: 7 / 9
পাতা 8
জলজীবন পাতা: 8 / 9
পাতা 9
জলজীবন পাতা: 9 / 9
পাতা / 9
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।