২য় সংস্করণ, ২০১৬
জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি ১৯০৫-৪৭
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
বাবুলের বেড়ে ওঠা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
কণার অনিশ্চিত যাত্রা
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
হোমারের অডিসি
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বিখ্যাত সব গল্প
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
কিশোর প্রবন্ধ
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
কিশোরসমগ্র
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি ১৯০৫-৪৭ |
| Author | সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী |
| Publisher | সংহতি প্রকাশন |
| Edition | ২য় সংস্করণ, ২০১৬ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 824 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | রাজনীতি |
| Weight | 1.04 Kg |
| ISBN | 9789848882863 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
28 Ratings and 8 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৮টি
mahbubul islam , Mar 13, 2024
"যারা সঠিক ইতিহাস জানতে চান তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য একটা বই।"
Upazila Social Service Office Thakurgaon Sadar , Jun 27, 2022
"Great book"
Mahmud Tonmoy , Mar 10, 2021
"নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে লেখা এই বই পাঠকের জ্ঞানের খোরাক যোগাবে তার পাশাপাশি পাঠক জানতে পারবে ভারত ভাগের জম্য দায়ী কি উগ্র জাতীয়তাবাদ নাকি সাম্প্রদায়িকতা"
Bayazid Bahalul , Dec 29, 2020
"একটি অসাধারণ ইতিহাসের বই।"
Shadin Pranto , Oct 5, 2019
"সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর ৮১৫ পাতার মহাকাব্যিক কলেবরের এই বইটি লিখেছেন ধীরেসুস্থে। সময় নিয়েছেন ১০ বছর।যে বইটি দশ দশটি বসন্ত ব্যয় করে লেখা, সেই বইটি চটপট শেষ করে ফেলা ঠিক হবে না বলে বোধ হল।আমিও বইটি পড়েছি আস্তে আস্তে।এক বসন্ত পার করতে পারিনি।সময় লেগেছে ছয়মাস। ১৯০৫ থেকে ১৯৪৭ - বঙ্গভঙ্গ থেকে ভারতভাগ। ভারতবর্ষের ইতিহাসের এক অতিগুরুত্বপূর্ণ সময়ের ক্যানভাসকে বৃহৎ আঙ্গিকে ধারণ করেছে এই বই। কেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯০৫ সালকে বেছে নিয়েছেন? কারণ এই বছরেই বঙ্গভঙ্গ করা হয়। আর তাতে বেশিরভাগ বাঙালি হিন্দু ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন শুরু করে।সেই বাঙালি হিন্দুই ১৯৪৭ সালে প্রবল বেগে বাংলা ভাগ চেয়েছে। কিন্তু কেন? ১৮৮৫ সালে ইংরেজ কর্মকর্তা হিউম মুম্বাইতে প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। তিনি দুইযুগের বেশি এই দলের কর্মব্যাক্তি ছিলেন। ইংরেজ মূলত এই দল গঠনকে প্রথমদিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে যাতে ভারতবর্ষে আরেকটি ১৮৫৭ সালের উদ্ভব না হয়। কিন্তু কীভাবে কালের বিবর্তনে দলটি ইংরেজ শাসনের বিরোধীতে পরিণত হয়? ১৯০৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় মুসলিম লীগ। দলটির কোনো নেতাকে কস্মিনকালেও জেল ভ্রমণে যেতে হয়নি। অথচ পাকিস্তান দাবি অর্জন করে ফেললেন। কীভাবে? মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। যিনি "বাপুজি" কিংবা মহাত্মা গান্ধী বলে খ্যাত হলেন। বারবার ইংরেজবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিলে বারবার তিনি আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। অস্পৃশ্যদের স্বীকৃতির জন্য লড়েছেন। অথচ বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাকে কোনোকালেই আশ্রয় দেননি মনে। ইংরেজ সইবেন অথচ বামপন্থী সইতে পারবেন না। সুভাষকে বিতাড়িত করেছিলেন তিনি। আবার দেশভাগ রোধ করতে গিয়ে দেখলেন তার দুই শিষ্য বল্লভভাই প্যাটেল আর নেহেরু আর গান্ধীর সাথে নেই। দেশভাগ হলে সংখ্যালঘু মুসলমান রক্ষায় অনশন করতে গিয়ে উগ্রবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের হাতে প্রাণ হারালেন। আজীবন সাদামাটা জীবনযাপন করেছেন কিন্তু তবুও ছিলেন জাতীয়তাবাদী বটে মুক্তিকামী নন।কেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এই দাবি? সরোজিনী নাইডুর "হিন্দু-মুসলমান ঐক্যদূত" জিন্নাহ কেন জাতীয়তাবাদী থেকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি শুরু করলেন? ১৯২৯ সালে জিন্নার ১৪ দফা দাবি কংগ্রেস মেনে নিলে তিনি কী মুসলিম লীগের পান্ডা হতেন? যিনি কোনোকালে ধর্মকর্ম মানেন নি, তিনি কীভাবে ইসলামী রাষ্ট্রের জাতির জনক হলেন? নেহেরুর নেতৃত্বেই সর্বপ্রথম কংগ্রেস স্বাধীনতার দাবি তোলে। নেহেরু নিজে বাম মতাদর্শকে গ্রহণ করেছিলেন তা নয়। কিন্তু ভালোবাসতেন। তবুও কেন সেই জাতীয়তাবাদীই রয়ে গেলেন? কেন সুভাষ বসু কংগ্রেসে টিকতে পারলেন না? কেনই বা আজাদ-হিন্দ ফৌজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার কথা বলেছিলেন নেহেরু? বাংলা ভাগ কেন রোধ করতে পারেন নি বাঙালি নেতৃত্ব? কাদের ভুলে কলকাতা, আসামের বৃহৎ অংশ পূর্ববঙ্গের হাতছাড়া হল? পূর্ববঙ্গ আর পাঞ্জাবের কলঙ্কিত দাঙ্গার প্রকৃত দায় কাদের? বারবার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, কংগ্রেস,লীগ নেতৃত্ব ছিল চূড়ান্ত পুঁজিপতি। জাতীয়তাবাদের ধোঁয়া তুলে কংগ্রেস বিভ্রান্ত করেছে সবাইকে। এগিয়ে গেছে ক্ষমতার পিছু পিছু। লীগ ধর্মের ভিত্তিতে উদ্ভট এক তত্ত্ব দিয়েছে। অথচ সেই তত্ত্বে মোহের খেসারত দিয়েছে ভারতবর্ষের মুসলমানদের। কেন তারা এই মোহে পড়েছে? কারা জনগণকে মুক্তিকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে? এই উপমহাদেশে বাম রাজনীতি কোনোদিন দাঁড়াতে পারেনি।অথচ জনমুক্তির রাস্তা দেখাতে পারত, সাম্যের স্বপ্ন দেখাতে পারত কমিউনিস্ট পার্টি। অথচ তারা দেশভাগের মতো অস্থির সময়টিতে কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকাই রাখতে পারেন নি। দায় শুধু কী ব্রিটিশ সরকারের? সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বইটি পড়তে গিয়ে বারবার আটকে গেছি। এতো তথ্যের ভিড়ে পাঠক হিসেবে আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়েছে। তবুও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছি দেশভাগ নিয়ে, পরমপূজ্য নেতৃবৃন্দের স্মরণীয় কর্মকান্ডের বিশ্লেষণী রূপ আমাকে বাজারে প্রচলিত মতের বাইরে যেতে সাহায্য করেছে।"
Nira jahan , Aug 25, 2017
"#রকমাররিভিউপ্রতিযোগ বই- জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জাতির মুক্তি ১৯০৫-১৯৪৭ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী পেশায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের অধ্যাপক কিন্তু মননে এবং অঙ্গীকারে একজন লেখক। তাঁর 'জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগনের মুক্তি " মূলত ১৯০৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের ঘটনাবলির তাৎপর্যের বিবরণ। পুরো সময় বিশ্লেষন না করে লেখক এক বঙ্গবঙ্গ থেকে আরেক বঙ্গবঙ্গ হওয়ার সময় পর্যন্ত ঘটনাবলি অনুসন্ধান করে তার ভেতরে জনগনের মাধ্যমে জাতীয়তার বিকাশ এবং তাদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িকতার বর্ণনা। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশদের দ্বারা বঙ্গ রচিত হলেও তা ১৯১১ সালে রদ হয়েছিলো হিন্দু সম্প্রদায়ের জোরের মুখে। মুলত বঙ্গবঙ্গ রচিত হয়েছিলো, হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক মনোভাবের ফলে। তবে এর কারন ছিলো পেছনের ইতিহাস। ১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর, বাংলা দখল করে ইংরেজরা। ইংরেজরা দেশ শাসনের শুরু থেকেই মুসলমানদেরকে অবজ্ঞা, অবহেলা করতে শুরু করে উল্টো দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের দিকে তাদের বিশেষ নজর থাকে। এর কারন হলো তারা মুসলমান দের থেকে দখল কেড়ে নিয়েছিলো। তাই হিন্দুদের সহায়তা করে দল ভারী করতে চাইলো। আবার মুসলমানরা ইংরেজদের কোন কিছু সহজে গ্রহন করতে চাইতো না। পলাশী যুদ্ধের ১০০ বছর পর বুঝতে পারা গেলো হিন্দুরা মুসলমানদের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। এবং এটা সব জায়গায়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিভিন্ন প্রশাসনিক চাকরী এমন কি সাহেবী অবস্থানে হিন্দুরা বেশি এগিয়ে। মুসলমানদের এই পিছিয়ে থাকার ফলে, তারা ইংরেজ এবং হিন্দু দুইয়ের কাছে নিগৃহীত হতে থাকে । ক্রমে ক্রমে ইংরেজ বিরোধীর সাথে সাথে হিন্দু বিরোধীতাও চলে আসে। তারই ফলে ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ সংঘটিত হয়। কিন্তু এই বঙ্গবঙ্গ উৎখাতের মাঝে উম্মেচিত হয় বাঙালী জাতীয়তাবাদ। আবার এক দিকে জাতীয়তাবাদ উম্মেচন হলেও সাথে করে নিয়ে আসে নতুন সাম্প্রদায়িকতা। এর সাথে যুক্ত হয় রাজনীতি। বিষয়টা প্রথমে ছিলো বাঙালী পরে হলো হিন্দু-মুসলমান এবং তাদের চলে এলো রাজনীতি। আর কিভাবে এই বাঙালী থেকে হিন্দু বা মুসলাম এই দুই ধর্মের জাতিতে বিভেদ হয় এটাই হলো বইয়ের আলোচ্য বিষয় বস্তু। লেখক এই ধারনাটুকু উম্মেচন করতে গিয়ে একই সাথে ধারাবাহিকতায় ১৯০৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা বলি ১৪ টি অধ্যায় ভিত্তিক ভাগ করেছেন। এই সকল ঘটনাবলির সাথে সম্পৃক্ত সকল রাজনৈতিক দল যেমন কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, কমিউনিস্ট পার্টি। এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ যেমন -গান্ধী, নেহারু, জিন্নাহ, সুভাষ, ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, শরৎ বসু কর্মকান্ড উল্ল্যেখ করেছেন। তিনি এই বই রচনা করেছেন পুরো দশ বছরের অনুসন্ধান করে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের দ্বারা। লেখক এই বইয়ে মুলত সব কিছু বিশ্লেষণের মাঝে জাতির মুক্তি প্রসঙ্গ বড় করে তুলে ধরেছেন।"
Rahman Ferdinand , Aug 16, 2017
"রিভিউঃ জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি ১৯০৫-৪৭ লেখকঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আনু মোহাম্মদের একটা লেখায় পড়েছিলাম, ইতিহাস মানে কিছু তারিখ নয়, ইতিহাস মানে স্থির অপরিবর্তনীয় ঘটনা আর চরিত্রও নয়। সে কারণেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের ‘ইতিহাস’ এক জায়গায় আটকে থাকে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে, পুরোনো কাল, পাত্র-পাত্রীর চেহারাও নতুন নতুনভাবে নির্মিত হতে থাকে। মানুষ বর্তমানে দাঁড়িয়েই তার অতীতকে বিশ্লেষণ করে। অতীত তাই বর্তমানের জ্ঞান, মতাদর্শ, ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান দ্বারা সজ্জিত হয়। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লেখা, কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি: ১৯০৫-৪৭ ইতিহাসের উপাদানে সাজানো হলেও তাই প্রথাগত ইতিহাসগ্রন্থ নয়। ১৯০৫ ও ১৯৪৭—এই দুই পর্বের বঙ্গভঙ্গের মধ্যবর্তী সময়কালের ঘটনাবলির বিকাশধারা এবং এই সময়ের রাজনৈতিক নেতা, লেখক, চিন্তাবিদদের ভূমিকার ওপর বিশদ পর্যালোচনা দিয়ে সমৃদ্ধ এই বই। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, হিন্দু মহাসভা, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গ্রুপ; গান্ধী, নেহরু, জিন্নাহ, সুভাষ, মাওলানা আজাদ, ফজলুল হক, সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিম, শরৎ বসু, হবীবুল্লাহ বাহার, মাওলানা আকরাম খাঁসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠক; বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ইকবাল, শরৎচন্দ্র, মীর মোশাররফসহ বিভিন্ন লেখক-শিল্পীর কাজের পর্যালোচনা বইটিকে একটি সামগ্রিক রূপ দিয়েছে। এ ছাড়া আছে বিভিন্ন সংবাদপত্র, সাময়িকীর প্রসঙ্গ। প্রারম্ভিক ও উপসংহার ছাড়া মোট ১৪টি পরিচ্ছেদ বা অধ্যায় আছে। এগুলো হলো: ‘বঙ্গভঙ্গ এবং তারপর’, ‘জাতীয়তাবাদের ধারণা ও প্রবণতা’, ‘গান্ধীর চিন্তা ও ভূমিকা’, ‘জিন্নাহ, দ্বিজাতি তত্ত্ব এবং সংখ্যালঘুর ভাগ্য’, ‘দেশভাঙার তৎপরতা ও দায়দায়িত্ব’, ‘স্বাধীনতা বনাম ঔপনিবেশিক স্বায়ত্তশাসন’, ‘সুভাষ বসুর রাজনীতি এবং জাতীয়তাবাদের সীমা’, ‘তিনদল, আবার একদলও’, ‘দেশভাগের প্রক্রিয়া’, ‘ইতিহাসের কৌতুক এবং পরাজিতের স্বাধীনতা’, ‘বাংলাভাগ’, ‘মঞ্চে, মঞ্চের পেছনে এবং বাইরে’, এবং ‘জনগণের মুক্তির প্রশ্ন’। রুশ বিপ্লবের বহুমুখী প্রভাব বইটির নানা চরিত্র বিশ্লেষণের মধ্যে পাওয়া যায়। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট সরকারকে বলশেভিকবাদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে। সে জন্য ‘ব্রিটিশ আমলারা কংগ্রেসের ভয়ে ততটা ভীত ছিল না যতটা উৎকণ্ঠিত ছিল বলশেভিক প্রভাবের সম্ভাব্য বিস্তার নিয়ে। আর সে জন্যই খুবই ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও কমিউনিস্ট পার্টিকে তার যাত্রা শুরুর মুহূর্ত ১৯২০ সাল থেকেই নানা রকম নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়েছে।’ (পৃ. ১১৩)। নিপীড়ন আর তার সঙ্গে নিজেদের আত্মঘাতী ভ্রান্তি দুর্বল করে দিয়েছে জনপন্থী রাজনীতির ভিত্তি। এসব সত্বেও লেখক ঠিকই ‘১৯০৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত সময়কাল’ অত্যন্ত ঘটনাবহুল এবং ‘বিভিন্ন রকমের প্রবণতা’, ‘দ্বন্দ্ব এবং স্ববিরোধিতা’য় পূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছেন। বলেছেন, ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইটির পক্ষে একই সঙ্গে পুঁজিবাদবিরোধী ও সামন্তবাদবিরোধী হওয়া দরকার ছিল, হয়নি বলে সে লড়াই জনমুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি।’ (পৃ. ৮০০)। কেন পারেনি তার অনুসন্ধান চেষ্টাই জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি: ১৯০৫-৪৭ শিরোনামের এই গ্রন্থের মূল মনোযোগের বিষয়। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বইতে লেখক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন উপমহাদেশে যে কত ভাবে তাৎপর্যময় হয়েও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি অনুসন্ধান করেছেন এই চেতনার স্বরূপ, অর্জন ও ব্যর্থতার দিকগুলো। বলেছেন, জাতীয়তাবাদ জনগণের সকল ধরনের মুক্তি আনয়নে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করে না। তার কারণও বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিকাশে এবং আন্দোলনকে প্রবহমান রাখার জন্য (১৯০৫-৪৭ কালপর্বে) ক্ষুদ্র-বৃহৎ যে সব রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল, তাদের ভূমিকা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকার কথাও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁদের আদর্শ কর্মপ্রবাহ উল্লেখের পাশাপাশি এই মানুষদের মতাদর্শ, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব এবং পরস্পর-বিরোধিতা দেশের রাজনৈতিক আবহে বৃহত্তর বোধ ও সুদূরপ্রসারী চেতনায় পথ প্রদর্শন করতে পারেনি, এমনকী চল্লিশের বামপন্থী আন্দোলন মানুষের কল্যাণ ও শোষণ মুক্তিতে নতুন মাত্রা সঞ্চার করা সত্ত্বেও নানা কারণে মুখ্য সঞ্চালক শক্তিতে পরিণত হতে পারেনি। অসংখ্য রাজনৈতিক দল, রাজনীতিবিদ, সমাজসংস্কারক, চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিকের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি তাঁদের চিন্তা ও চেতনার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। এই বিশ্লেষণে জনগণের অবস্থান কোথায় ছিল এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের চালিকা ও নিয়ন্তা হয়েও কেন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ষড়যন্ত্রের চোরাবালিতে হারিয়ে গেল ও বিদেশি প্রভুর কূটচালে পরাস্ত হল, লেখক সেই অত্যন্ত জরুরি বিষয়টির ওপরে আলোকপাত করেছেন। উল্লিখিত সময়খণ্ডে রাজনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্দোলন কেন পথভ্রষ্ট হল এবং জনগণের মুক্তি-আকাঙ্ক্ষা ও বৈপ্লবিক চেতনা গুরুত্ববহ হয়ে উঠল না, তা গভীর ভাবে এ গ্রন্থে আলোচিত। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এই গ্রন্থে বিস্তৃত পটভূমি ও পরিসরে রাজনৈতিক বিষয়াবলি প্রাধান্য পেলেও প্রকৃত অর্থে জনগণের মুক্তির পথ প্রসঙ্গটি বড় ভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদ প্রশ্নে এত আগ্রহোদ্দীপক, জিজ্ঞাসা-জাগানিয়া গ্রন্থ এর আগে আমাদের চোখে পড়েনি। আগ্রহী পাঠক (১৯০৫-৪৭ কালপর্বের) রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে সামাজিক ও সাহিত্যপ্রয়াসের নানা প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিকে ধারণ করে জাতীয়তাবাদ সাম্প্রদায়িকতা ও দেশভাগ নিয়ে নবীন আলোকদীপ্ত যে-সব গবেষণা হচ্ছে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর এ গ্রন্থ সেক্ষেত্রে নবীন মাত্রা যুক্ত করবে। (তথ্য ও কথা সংগ্রহীত)"
Mahbub Zaman , Nov 9, 2016
"ঊনিশ শ’ পাঁচ সালের প্রথম বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ঊনিশ শ’ সাতচল্লিশ সালের দ্বিতীয় বঙ্গভঙ্গ পর্যন্ত সময়টুকু নিয়ে রচিত জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি প্রচলিত অর্থে ঘটনার বর্ণনা নয়, ঘটনার তাৎপর্য অনুসন্ধানের বিশিষ্টতায় অনন্য। বাঙালীর জাতীয়তাবাদের বিকাশটি ঘটেছিল এই সময়টুকুর মধ্যে, বিশেষ করে প্রথমবারের বঙ্গভঙ্গের প্রতিরোধ যে তীব্র দেশাত্মবোধের আর আত্মোপলব্ধির সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছিল, তারই হাত ধরে। অন্যদিকে ওই বঙ্গভঙ্গের মধ্য দিয়েই বাংলায় আধুনিক সাম্প্রদায়িকতা বিস্তারের ইতিহাসটিরও শুরু। এই হাত ধরাধরি করে চলা জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িতক রাজনীতির আধিপত্যের মাঝেই মানুষের মুক্তির প্রশ্নটি কিভাবে আটকা পড়লো পরিচয়ের রাজনীতির আড়ালে, কিভাবে তাদের শ্রমিক বা কৃষক পরিচয়কে ভুলিয়ে ভারতীয় বা পাকিস্তানী, হিন্দু বা মুসলিম পরিচয়কেই সামনে টেনে এনে প্রধান পরিচয় বানিয়ে দেয়া হয়েছিল, সেটাও বর্তমান গ্রন্থের অন্যতম উপজীব্য। জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা উভয়ের উত্থানের ওই সময়টুকুতে সমাজের সক্রিয় অংশগুলোর মনস্তত্ত্ব ও আকাঙ্ক্ষাকে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন একদিকে তাদের ক্রিয়াকাণ্ড, অন্যদিকে সমকালীন সাহিত্যের সাক্ষ্যসহ নানান উপাদান ব্যবহার করে। এক একটা যুগ এবং তাতে ভূমিকা রাখা সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর মনোভাবকে উপলব্ধির জন্য সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর এত গভীর ও বিপুল ব্যবহার সিরাজুল ইসলাম চৌধুররীর আগে খুব কমই হয়েছে বাংলা ভাষায়। ১৯০৫-৪৭ কালপর্বের ঘটনাবলীর বীজ অনুসন্ধানের প্রয়োজনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী যেমন অনায়াসে বিচরণ করেছেন এর আগেকার ঊনিশ শতকের কীর্তিমানদের তৎপরতায়, তেমনি এই জাতিয়তাবাদী রাজনীতির ফলাফলকেই কখনো কখনো চিহ্নিত করেছেন আমাদের চারপাশের বাস্তবতায়। জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি রচিত হয়েছে প্রায় দশ বছর ধরে; বাংলাদেশের ইতিহাস বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু পাঠকেরা, রাজনীতির বাঁকগুলো নিয়ে উৎসুক ব্যক্তিরা, এবং অতি অবশ্যই বাংলা সাহিত্যের পাঠক বহুকাল ধরে এই আকরগ্রন্থটির কাছে আসতে বাধ্য হবেন।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও জনগণের মুক্তি ১৯০৫-৪৭" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: