৮ম সংস্করণ, ২০১৮
একাত্তরের ডায়েরী
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া (বাংলা)
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.)
শামায়েলে তিরমিযী (আরবি-বাংলা)
ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিযী (রহঃ)
সহজ বাংলা সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.)
প্রশ্নোত্তরে সীরাতে খাতামুল আম্বিয়া
হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহ.)
শামায়েলে তিরমিযি
ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা আত তিরমিযী (রহঃ)
মহিলা সাহাবির আদর্শ জীবনকথা
মাওলানা আবু যার আব্দুল্লাহ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | একাত্তরের ডায়েরী |
| Author | সুফিয়া কামাল |
| Publisher | হাওলাদার প্রকাশনী |
| Edition | ৮ম সংস্করণ, ২০১৮ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 208 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | Biographies, Memories & Interviews |
| Weight | 0.58 Kg |
| ISBN | 9789848964033 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
38 Ratings and 12 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১২টি
Himel Islam munna , Mar 22, 2022
"nice"
MD Shohag , Feb 3, 2022
"Awesome"
Jabed , Dec 31, 2021
"Average"
Zihad Saim , Aug 24, 2021
"কিছু বইয়ের রিভিউ লাগে না। তবে একটা কথা এটা কিন্তু একাত্তরের দিনগুলোর তুনলায় কিছুই না।"
Md Sabbir Mahamud , May 13, 2021
"Good and automatic"
Md. Naiem Hasan Shoikot , Mar 28, 2021
"কালজয়ী উপন্যাস..."
Monjum Kader Talukder , Nov 5, 2020
"Nice"
Mahmudur Rahman Khan , Apr 25, 2020
"আজকাল অনেক মেয়েরাই বিয়ে হয়ে গেলে জীবনের শেষ বা সমাপ্তি হিসেবে ধরে নেয়। তারা মনে করে স্বামী, শশুরবাড়ি ও সন্তান-সন্ততি স্বাধীন জীবনের অন্তরায়। ভাবে জীবনে সফলতা পাওয়া বোধহয় আর কখনই সম্ভব নয়। তাদের এ ধারনা সম্পূর্ণ ভুল তা আমরা সুফিয়া কামালের জীবনী ঘাটলেই বুঝতে পারি। খ্যাতিমান লেখিকা সুফিয়া কামাল সম্পর্কে যত বেশি জানি তত বেশিই অবাক হই। তিনি ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে জন্মেছিলেন। পৈতৃক নিবাস ছিল কুমিল্লা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে থাকতেন ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়িতে। তাঁর জন্মের সাত বছর পর তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারী সুফি সাধনা করার উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করেছিলেন। তিনি এমন একটি সময়ে বেড়ে উঠেছেন যখন মেয়েদের পড়ালেখা করা ছিল বারণ। ঘরের চার দেয়ালের মাঝে কিংবা উঠোন পর্যন্তই ছিলো মেয়েদের চলাচল। সেখানে পড়াশুনার তো প্রশ্নই আসে না। সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেন নি৷ কিন্তু তাই বলে তিনি থেমে থাকেন নি। তাঁর ভাইয়ের সাথে ছেলেদের জামা-জুতো পরে বেশ কিছুদিন স্কুলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভাই যখন অন্য শহরে পড়তে যায় তখন বন্ধ হয়ে যায় স্কুলে যাওয়া। ঘরের মধ্যেই তাঁর মামার কাছে শুনতেন বিভিন্ন কল্পকাহিনী এবং উপন্যাস সম্পর্কে। আর হারিয়ে যেতেন কল্পনার রাজ্যে। সাহিত্যের প্রতি তাঁর আগ্রহ দেখে তাঁর ভাই গোপনে তাঁকে 'সন্দেশ' পত্রিকা সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবেই তিনি সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন। তৎকালীন সমাজের রীতি অনুযায়ী খুব কম বয়সেই মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেত। ১৯২৪ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সাথে সুফিয়ার বিয়ে দেওয়া হল। কিন্তু তাঁর জীবন তখন থমকে যায় নি। বরং স্বামী নেহাল অপেক্ষাকৃত আধুনিকমনস্ক হওয়ায় সুফিয়া কামালকে সমাজসেবা ও সাহিত্যচর্চায় প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করে গেছেন। বিয়ের কয়েক বছর পরে ১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম স্বামী নেহালের অকাল মৃত্যু হলেও তিনি থেমে থাকেন নি। চালিয়ে গেছেন সাহিত্য সাধনা। আমরা পাঠ্যবইয়ে 'তাহারেই পড়ে মনে' নামে যে কবিতাটি পড়েছি এটি তাঁর প্রথম স্বামীর স্মৃতিচারণ করেই লেখা। ১৯৩৯ সালে কামালউদ্দিন খান নামের একজনের সাথে বিয়ে হয়। সে ঘরে তাঁর চার সন্তান জন্মলাভ করে। মাত্র সাত বছর বয়সেই সুফিয়া কামাল এক আত্নীয়ের বাসায় বেগম রোকেয়ার সাক্ষাৎ লাভ করেন। বিয়ের পর কলকাতায় বসবাস করার সময় কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, লীলা রায়ের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে একটি কবিতা লিখে চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানালে কবিগুরু চিঠির মাধ্যমে তার প্রত্যুত্তর জানান। ১৯৩৮ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া' উপহার দিলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে চিঠি লিখেন। তাঁর লেখার প্রসংশা করেন। বইটির ভূমিকা লিখেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বই - একাত্তরের ডায়েরী লেখক - সুফিয়া কামাল প্রকাশক - হাওলাদার প্রকাশনী প্রকাশ কাল - ১৯৮৯ এবারে বইয়ের প্রসঙ্গে আসি – সুফিয়া কামাল ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে এই ডায়েরীটি লেখা শুরু করেছিলেন। আমরা ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ হতে ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর লেখা বিভিন্ন বর্ণনা এই ডায়েরীতে পাবো। তিনি যখন ডায়েরী লেখা শুরু করেন তখন যুদ্ধ হতে পারে এমন কোন চিন্তা হয়ত কোন বাঙালির মাথাতেই আসে নি। পরবর্তীতে তাঁর লেখা এই ঘটনাগুলিকে 'একাত্তরের ডায়েরী' নামে প্রকাশ করা হয়। বইটিতে ছোট ছোট করে যুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলির বিভিন্ন বর্ণনা দেয়া আছে। যদিও নিয়মিত ডায়েরী না লেখায় কিছু কিছু দিনের বর্ণনা ডায়েরী থেকে বাদ পড়েছে। যুদ্ধের সময় তিনি নিজ বাড়িতেই অবস্থান করেছিলেন। দেশ ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর কখনই ছিলনা। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মরতে যদি হয় এদেশের মাটিতেই মরবেন। তাঁর ডায়েরীতে রয়েছে তাঁর কবি প্রতিভার ছাপ। তিনি কিছু কিছু দিন কোন বর্ণনা না লিখে শুধু কবিতাই লিখে রেখেছেন। কতইনা কাব্যিক সে কবিতাগুলোর ভাষা! বইটিতে মার্চ মাসের ১ তারিখে অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবী করার ঘটনা হতে শুরু করে বাঙালীর বিভিন্ন মিছিল, গণআন্দোলন এবং বঙ্গবন্ধুর দেয়া হরতালের ডাক, ৭ই মার্চের বিখ্যাত ভাষণ সব বর্ণনাই আমরা কমবেশি পাই। তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ মঞ্চের একেবারে সামনে বসেই শুনেছিলেন। ২৫ মার্চের কালরাত থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভিন্ন বর্ণনাও তাঁর এই বইটিতে রয়েছে। যুদ্ধের সময়টা এতটাই সংকট ও ভয়াবহতার ছিল যে কখন কি ঘটে কিছুই বুঝার উপায় ছিলনা। বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে গুজব রটে যেত। এপ্রিল মাসের ২২ তারিখে ইন্ডিয়ার 'আকাশবাণী' রেডিওতে সুফিয়া কামালের মৃত্যুসংবাদ পর্যন্ত প্রচার করা হয়। আমরা তাঁর ডায়েরীতে এই ঘটনাটির উল্লেখ পাই। তিনি তখন লিখেন ইশ তাঁর যদি সত্যি সত্যিই মৃত্যু হত এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যদি বেঁচে যেত কয়েকটি প্রাণ তাহলে তিনি সাদরে সে মৃত্যুকে গ্রহণ করতেন। প্রায়ই চারিদিকে পাকিস্তানি বিমান হতে বোমা বর্ষণের আওয়াজ পাওয়া যেত। যখন তখন ধরে নিয়ে যেত নিরস্ত্র বাঙালীদের। তরুণদেরকে ঘর থেকে তুলে ধরে নিয়ে মেরে ফেলত। কখনও শরীরের শেষ বিন্দু পর্যন্ত রক্ত সংগ্রহ করে নদীতে ভাসিয়ে দিত। এসবের বর্ণনাও তিনি লিখেছেন। বিভিন্ন জায়গায় হানাদার বাহিনীর আগুন দেয়া, মনুষ মারার অনেক বর্ণনাও এতে রয়েছে। প্রতিটা দিনই ছিল ভয়ের, শঙ্কার। প্রতিনিয়তই তাঁর পরিচিত কেউ না কেউ বা তাদের আত্নীয়স্বজনের মিলিটারির গুলিতে মৃত্যুর খবর আসত। ডায়েরী পড়ে জানতে পারি নভেম্বরের মাঝামাঝিতে তিনি তাঁর মেয়ের জামাইকে গুলি করে হত্যার সংবাদ পান। এছাড়াও কত কত মানুষ তখন বর্বর হানাদারদের হাতে শহীদ হয়েছিলো তার হিসেব নেই। যুদ্ধের শেষটাও হয়েছিল খুবই ভয়াবহভাবে। জাতির মেধাবী ও শ্রেষ্ঠ সন্তানদেরকে তুলে নিয়ে হত্যার মাধ্যমে। অবশেষে আসলো বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। দেশ স্বাধীনের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভায় সুফিয়া কামাল সভানেতৃত্ব করেছিলেন। করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উদ্ভোদন। জাহানারা ইমামের 'একাত্তরের দিনগুলি'র সাথে এই বইয়ের ঘটনাগুলির মিল পাওয়া যাবে। যদিও দুজন আলাদা আলাদাভাবে লিখেছেন কিন্তু পাঠক দুটি বই'ই পড়ে থাকলে এক ধরনের সামঞ্জস্য খুঁজে পাবে। জাহানারা ইমাম তাঁর বইয়ে সুফিয়া কামালের মৃত্যুর সংবাদ সম্পর্কে রেডিওর সেই সংবাদ প্রচারের ঘটনা লিখেছিলেন। খুব কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। তাছাড়া সুফিয়া কামালও তাঁর বইয়ে রুমীর গ্রেপ্তার ও নিখোঁজের সংবাদ সম্পর্কে লিখেছেন। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদারদের শহীদ মিনার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা, নিউ মার্কেটের কাঁচা বাজারে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া এবং রাস্তায় আগুনে পুড়ে পড়ে থাকা সেই মৃত মানুষগুলোর বর্ণনাসহ অনেক ঘটনা দুটি বইয়েই প্রায় হুবহু বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁরা দুজনেই তখনকার সময়ের সম্ভ্রান্ত ও প্রভাবশালী নারী ছিলেন। তাই বই দুটির অনেক চরিত্র ও ব্যাক্তিত্বের সাথে তাঁরা দুজনেই ছিলেন সরাসরিভাবে জড়িত। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহী পাঠকদের দুটি বইই অবশ্য পাঠ্য।"
Maisha Samiha , Dec 25, 2019
"কোথাও শুনেছিলাম, আপনি একটি বই পড়ে কতটুকু নিতে পারবেন সেটা নির্ভর করে আপনার সচেতনতা লেভেলের উপর। বইটি পড়তে গিয়ে বার বার তাই মনে হয়েছে। প্রতিদিনকার খুব সংক্ষিপ্ত লেখা। আমার মতে একাত্তর সম্পর্কে পূর্ব জ্ঞান না থাকলে এই বই পড়ে সব বুঝতে পারার সম্ভাবনা খুবই কম। কবি হিসেবে লেখিকার শব্দচয়ন সুন্দর ও সাবলীল। কোন কোন দিন মনের অবস্থা প্রকাশে লিখেছেন কবিতা। বই-এর শেষে সংক্ষিপ্ত কবির জীবনীটি বেশ সহায়ক উল্লিখিত কিছু নামের প্রাসঙ্গিকতা খুঁজে পেতে। পটভুমিকা বা Background knowledge হিসেবে ‘একাত্তরের দিনগুলি’ আর ‘জোছনা ও জননীর গল্প’ পড়া থাকায় কিছু তথ্য rang the bell! অন্যথায়, আমার সচেতনতা লেভেল কম বলেই হয়তো নিতে পারার লেভেল ও কম।"
Dr. Asif Shufian Arnab , Dec 17, 2019
"বইটির ভূমিকা যে কাউকে আকর্ষিত করবে, কেননা দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি কতটা দরদ ছিল লেখিকার তা ভূমিকা পাঠ করলেই পাঠক বুঝতে পারবে বইয়ের বাকি অংশের কথা নাই বা বলি , সেই সাথে পাঠক বুঝতে পারবে কতটা সাহসী ছিল নারী বেগম সুফিয়া কামাল।"
Usama Abu , Nov 11, 2019
"কবি সুফিয়া কামাল ছিলেন আমাদের জন্য এক মনন ও সৃজনশীলতায় অগ্রগামী নারী। যে সময়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন,সেই সময়ে তিনি অনেক বাধা অতিক্রম করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন। যে বয়সে মানুষের মধ্যে বিবেচনা ও অভিজ্ঞতার সঞ্চয় হয়, সে সময়ে তিনি নেজেকে উৎসর্গ করেছিলেন মানব কল্যাণের প্রয়োজনে।তার সেই প্রেরণা থেকেই রচিত হয় একাত্তরের ডায়েরী বইটি।এই বইটি পড়ে আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। সত্যিই একটি অসাধারন বই। আমি মনে করি এইসব বই ঘরের বুক সেলফ এ সংরক্ষন করে রাখা উচিত।"
Sabbir , Oct 25, 2019
"বইয়ের নামঃ একাত্তরের ডায়েরী লেখিকাঃ সুফিয়া কামাল ভাষাঃ বাংলা ঘরনাঃ মুক্তিযুদ্ধ বইয়ের পৃষ্ঠাঃ ২০৮ বিনিময় মূল্যঃ ২২৫ টাকা প্রকাশনীঃ হাওলাদার ব্যক্তিগত অনুযোগ (রেটিং): ৪.৬/৫ “২৭ মে, বৃহস্পতিবার, ১৯৭১” রাত ৯ টা। “কোথাও আর অন্য কথা নেই। মা হারা বাপ হারা সন্তান হারা মাতা পিতার নিরুদ্ধ বেদনার্ত কাহিনী। কিন্তু, তার মধ্যেও সুগভীর বিশ্বাসে কি অপরিসীম ধৈর্যে প্রতীক্ষা। আল্লাহ সুদিন দেবেন। সকলের মিলিত প্রার্থনায় আল্লাহ দেশের ভালো নিশ্চয়ই করবে। ৮টার সময় বোমার শব্দ হল। আজ নারায়নগঞ্জের রাস্তায় একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আহা! কোন মায়ের বাছা।” কবি সুফিয়া কামাল এর অনন্য সৃষ্টিকর্ম ‘একাত্তরের ডায়েরি’ এর দিনপুঞ্জিকার একটি অংশ বিশেষ উপরের এই অনুচ্ছেদটি। আহ! কি দরদ, কি মায়া আর নিয়তির পরীক্ষিত সময়কে লেখিকা সুফিয়া কামাল ফুটিয়ে তুলেছেন যুদ্ধের সময়গুলোকে। মূলত.... ১৯৭১ সালে লেখা সুফিয়া কামালের দিনলিপিতে উঠে এসেছে একাত্তরের যুদ্ধকালীন সময়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের নানা মুহূর্ত। যা ওই সময়ের আতঙ্কগ্রস্ত, বিধ্বস্ত জীবনকে উপলব্ধি করতে পাঠকদের সহায়তা করবে। এ দিনলিপি লেখা প্রসঙ্গে সুফিয়া কামাল লিখেছিলেন, “.....মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস আমি বারান্দায় বসে বসে দেখেছি পাকিস্তানী মিলিটারীর পদচারণা। আমার পাশের বাসায় ছিল পাকিস্তানী মিলিটারীরর ঘাঁটি। ওখানে দূরবীন চোখে পাকবাহিনীর লোক বসে থাকতো। রাস্তার মোড়ে, উল্টো দিকের বাসায় সবখানে ওদের পাহারা ছিল....।’’ ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল। দুর্যোগে বিপর্যন্ত মানুষের হাতে রিলিফ সামগ্রী তুলে দিতে তিনি গিয়েছিলেন। পটুয়াখালির ধানখালি চর এলাকায়। রিলিফ দিয়ে ঢাকার ফিরলেন ৮ জানুয়ারি। সত্তরের জলোচ্ছ্বোসের পরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচন। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করেছিল আওয়ামী লীগ। পাকিস্তানের সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বাঙালি নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলেন। শেষ পর্যন্ত ১ মার্চ ১৯৭১ সালে গণপরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। ১মার্চ, সোববার রাত দশটায় কবি লিখছেন, ‘বিক্ষুদ্ধ বাংলা।’ ভুট্ট্যো সাহেব পরিষদে যোগ দিবেন না সিন্ধান্তে পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রইল। ১২টায় এ খবর প্রচারিত হওয়ায়, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল। এভাবে বিভিন্ন তারিখে তিনি দেশের পরিস্থিতির কথা নানাভাবে বর্ণনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসের দলিল হিসেবে এই ডায়েরির তথ গবেষণার উপাদান হিসেবে কাজ করবে। নিজের ব্যক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়ার আলোকে বলতে শব্দগুলো বেশ এলোমেলো হয়ে যাবে। কবি সুফিয়া কামাল নিজের স্মৃতিচারণ করে লিখে গিয়েছেন একটি দেশের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বর্ণনা! ডায়েরির একটি বিশেষ দিক এই যে কোনো কোনো তারিখে তিনি শুধু একটি কবিতা লিখেছেন। একজন কবি এভাবেই নিজের প্রকাশ ঘটান। এপ্রিল ১, বৃহস্পতিবার। রাত আটটায় তিনি লেখাটি শেষ করেছেন এভাবেঃ “......কারফিউ চলছে। প্লেনের আসা-যাওয়ার বিরাম নেই। কাল থেকে নাকি ব্যাঙ্ক সব খোলা হবে। আট আনায় তিনটি পান কিনলাম। বাংলার ইতিহাস কে রচনা করবে....?’’ শেষের বাক্যটি অন্য বাক্যগুলোর চেয়ে ভিন্ন। কিন্তু কোনোবাবেই এটি কোনো আকস্মিক বাক্য নয়। কারণ ২৫ শের রাতে গণহত্যার পরে শুরু হয়ে গেছে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত হবে বাঙালির নতুন ইতিহাস। তিনি আহবান করছেন ইতিহাস রচয়িতাকে। এখানে চিহ্নিত হয় তাঁর আগ্রগামী চিন্তার স্বরূপ। ডিসেম্বর ১৬, বৃহস্পতিবার লিখছেন, ‘আজ ১২ টায় বাংলাদেশ যুদ্ধ বিরতির পর মুক্তিফৌজ ঢাকার পথে পথে এসে আবার সোচ্চার হল ‘জয় বাংলা’ উচ্চারণে। আল্লাহর কাছে শোকর।’ বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের, বাঙালি জাতিসত্তায় বিশ্বাসীদের এবং বইপ্রেমীদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও দেশপ্রেমের অনবদ্য সৃষ্টি হিসেবে পরিচিত ‘একাত্তরের ডায়েরী’ বইটি পড়ার সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি....."
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"একাত্তরের ডায়েরী" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: