১ম প্রকাশ, ২০২১
চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
My First Padded Board Books of Nursery Rhymes
ওয়ান্ডার হাউজ বুকস
My First Padded Board Books of Times Table
ওয়ান্ডার হাউজ বুকস
বর্ণপাঠ -প্রথম ভাগ (প্লে-নার্সারি)
হাসান রাউফুন
গণিতপাঠ -২য় ভাগ (কেজি-জুনিয়র ওয়ান)
হাসান রাউফুন
মজায় মজায় লিখি-ও-পড়ি (কোড -১১৭)
সিসিমপুর
আদর্শ গণিত প্রথম শ্রেণী
মোঃ আঃ জব্বার
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ |
| Author | জনি হোসেন কাব্য |
| Publisher | ঝিলমিল পাবলিকেশন |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 40 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | শিশু কিশোর বই |
| Weight | 0.3 Kg |
| ISBN | 9789848235966 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
4 Ratings and 1 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১টিSumaiya Barkatullah , Jun 14, 2021
"চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ : নয় শুধু শিশুরাই, পড়তে পারবে সবাই চাঁদের বুড়ি, চাঁদ মামা—এদের গল্প শুনেই তো ঘুমিয়েছি এতকাল। চাঁদ নিয়ে কত ছড়া কেটেছেন আমার দাদি-নানিরা। আর এখন, এই এত বড় হওয়ার পর কিনা পেতে হল 'চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ'! এ কেমন ধারা দাওয়াত বাপু! বেশ কৌতূহল জাগল। এত কিছু রেখে লেখক গোটা চাঁদটাই কেন খেতে দিচ্ছেন পাঠককে? দেখি তো, নেমন্তন্নের মেন্যুতে কী কী খাদ্যপসরা দিয়েছেন তিনি! শিশুতোষ কোনো বই পড়তে নিলে আমি প্রথমেই এর প্রচ্ছদ আর অলংকরণগুলো দেখি। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমি প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে একের পর এক পৃষ্ঠা উল্টে যাচ্ছিলাম আর চক্রবৃদ্ধি হারে মুগ্ধ হচ্ছিলাম। বইয়ে আঁকা ছবিগুলো এত সুন্দর! দেখে মনে হচ্ছিল, আমি বুঝি কল্পলোকে চলে এসেছি। বইয়ের ছবিগুলো যেন মিহিসুরে কথা বলছিল আমার সাথে। এবার গল্প পড়ার পালা। এই শিশুতোষ গল্পের বইটিতে সর্বসাকুল্যে গল্প আছে পাঁচটি। সবই ছোটগল্প। শিশুদের বই সাধারণত শিশুদেরই ভালো লাগার কথা। কিন্তু আমার মত বুড়ো মানুষও গল্পগুলোর মধ্যে ডুবে গেছিল। কেন? সেটাই বলছি। শিশুতোষ গল্পের মূল নিশানাই হচ্ছে আনন্দ দেওয়া। যে-কোনো কাজ-কথা-উপদেশ বাচ্চাদের মনে পৌঁছে দেওয়া যায় আনন্দের মাধ্যমে। তারা যেখানেই আনন্দ-মজা-উচ্ছলতার আভাস পায়, সেখানেই ছুটে যায় বনহরিণীর মত। আমি গল্প ধরে ধরে ভালোলাগার কথা বলব না। কারণ প্রত্যেকটা গল্পই স্বতন্ত্র। নির্দিষ্ট কিছু কথা দিয়ে গল্পগুলোয় কোনো বাঁধন পরাতে চাই না। পাঠক এই বইটা পড়ার সময় চমকে ওঠুক, আবিষ্কার করে যাক একেকটা গল্পের মিষ্টত্ব, এটাই আমি চাই। বড়দের গল্প আর শিশুদের গল্প বলে আমরা যে আলাদা বিভাগ তৈরি করি, এর কিছু কারণ তো অবশ্যই আছে। শিশুদের গল্পে কল্পনার রঙ খেলা করে প্রায় সর্বত্র। বাক্যে থাকে সরলতা। কঠিন শব্দের কম ব্যবহার। গতিতে থাকে ছন্দ। বর্ণনায় থাকে রঙধনুর ঘনঘটা। রূপক আলোয় কেটে যায় বাস্তবতার অন্ধকার। থাকে জীবনমুখী উপদেশ। উইট বা চমকপ্রদ বুদ্ধির ব্যবহার। থাকে আনন্দের এক ফুলঝুড়ি। আর ভালো শিশুতোষ গল্পের তুলনা করা যায় নদীর সাথে। কারণ গভীরতার সঙ্গে সঙ্গে কালের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলার গুণও থাকে বেশ। 'চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ' বইয়ের গল্পগুলোতে আমি এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যের এক দারুণ মিলনমেলা পেয়েছি। গল্পে পরিবেশের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বেশ পরিমিত এবং দৃশ্যমানভাবে। লেখক একটা আবহ বা মঞ্চ তৈরি করতে পেরেছেন পাঠকের জন্য। তারপর সেই মঞ্চে কুশীলবদের অভিনয় করার পালা। বাঘ, শিয়াল, হরিণ, কাঠবিড়ালি, পিঁপড়ে, মাকড়সা, ঘাসফড়িং—কারা নেই! একেকটা গল্পের বিন্যাসে একেকভাবে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছে তারা। আর আমি এই মঞ্চনাটকের স্ক্রিপ্ট আর পরিচালনা দেখে মুগ্ধ! শুধু পড়ে শেষ করে ফেললাম, ভাবনার কোনো জায়গা প্রসারিত হল না—এটাকে সার্থক ছোটগল্প বলা দুষ্কর। এ বইয়ের প্রতিটা গল্পে আমাদের সকলের জন্য বেশ কয়েকটা বার্তা ছিল। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে লেখক গল্পগুলো সাজিয়েছেন এবং উপদেশের গভীরতাও বাড়িয়েছেন বেশ সতর্কভাবে। তাই প্রতিটা গল্প শেষে আমি ভেবেছি, উপলব্ধি করেছি এবং একটি ভালো গল্প পড়ার পুলক বোধ করেছি। বইয়ের কয়েকটি চুম্বক অংশ নিয়ে কথা বলা যাক এবার। বেশিরভাগ গল্পে মাংসাশী পশুদের শিকার করার ব্যাপারটাকে দেখানো হয় অপরাধ হিসেবে। বাঘ-শিয়াল ইত্যাদি প্রাণী অন্যদের শিকার করে বা খেয়ে নেয় বলে, তাদেরকেই অনেক গল্পে ভিলেন বানাতে দেখি। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, এটা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই এই প্রক্রিয়াটাকে এমন খলনায়কের ছাঁচে দেখানোর মাধ্যমে শিশুদের মনে একটা ভুল ধারণা চলে যায়। কিন্তু লেখক খাদ্যশৃঙ্খলের এই অমোঘ নিয়মকে দোষী না সাজিয়ে, ভিলেন বানান কপটতাকে। যারা মিথ্যে বলে, প্রতারণা করে, তাদেরকেই তিনি শাস্তি দিলেন গল্পের শেষে। বুঝিয়ে দিলেন, সরলতা আর বুদ্ধির জয় হবেই। বর্তমান সময়ের কয়েকটা সমস্যার কথাও লেখক তুলে ধরেছেন তার গল্পগুলোতে। বাচ্চারা তাদের বাবা-মায়ের ত্যাগের কথা বুঝতে চায় না। আমিও বুঝিনি এত। বাবা-মায়েরা যে কত চেষ্টা করে যান আমাদের চোখে সেরা বাবা কিংবা মা হওয়ার, সেটা কখনো ভেবে দেখিনি। তাই বইয়ের গল্পের সাথে মিশে গিয়ে বাবা-মায়ের জন্য খুব ব্যথা অনুভব করলাম। আর এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা! আমাদের ছেলেমেয়েরা এখন অনেক কারণে অলস হয়ে পড়েছে। আর আমাদের অবস্থাও তথৈবচ! কিন্তু এর পরিণামে কী হতে পারে, কতটা বিপাকে পড়তে পারি আমরা এই অলসতা এবং কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য, তার জ্বলজ্বলে উদাহরণ লেখক তুলে ধরেছেন রূপক গল্পের মাধ্যমে। সত্যি বলতে কাজে ফাঁকি দেওয়া মানে নিজেকেই বোকা বানানো—এটা সরাসরি উপদেশের চেয়ে গল্পের মাধ্যমে গ্রহণ করা শিশুদের জন্য হবে সহজ ও স্বাভাবিক। আর সেটা বাস্তব জীবনে যোগ করে নিতে শিশুরা একটুও পিছপা হবে না। তা ছাড়া পরিবেশের কী কী ক্ষতি মানুষ করে চলেছে কৃত্রিমতার লেহন দিয়ে, সেটাও উপলব্ধি করার বেশ সুযোগ রয়েছে গল্পগুলোতে। এবার হিউমার বা মজার জায়গাগুলোতে আসি। পড়তে পড়তে বেশ কয়েকটা জায়গায় আমি আপন মনেই হেসে ওঠেছিলাম। লেখকের রসবোধের তারিফ করতে হয়! মাকু নামক মাকড়সার মজাদার স্বপ্ন, হঠাৎ আবির্ভূত হওয়া কিছু ছড়া, পিঁপতু নামক পিঁপড়ের টুপুস করে ঘুমিয়ে পড়া, মা কাঠবিড়ালির কাণ্ড দেখে দুষ্টু ছেলেদের ভয় পেয়ে যাওয়া; পড়ে বেশ হাসি পেয়ে গেছিল আমার! বাচ্চারা তথ্যমূলক কথা কাঠখোট্টাভাবে জানতে পছন্দ করে না। তাই লেখক খুব সাবধানে গল্পের কালির সাথে মিলিয়ে কিছু সুন্দর তথ্যের যোগসাজশ ঘটিয়েছেন। পিঁপড়ের বাসা বানানোর চমৎকার বুদ্ধি, শিয়ালের বিচক্ষণতা— খুব ভালো লেগেছে। গল্পে বুদ্ধির পরিচয় থাকলে সেটা হয়ে ওঠে তলোয়ারের মত চকচকে ও ধারালো! আর লেখক সে ক্ষেত্রে মোটেও ব্যর্থ হননি। এখন একটা মজার কথা শোনাই। বিষয়ভিত্তিক বইগুলোতে একটা বিষয় নিয়ে পুরো বই সাজানো হয়। সেসব ক্ষেত্রে ভূতের গল্প, রূপকথার গল্প, পরীর গল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক গল্প; এমন দেখেছি। কিন্তু আস্ত বইটাই খাওয়া-দাওয়া নিয়ে, এমন কিন্তু আগে পড়িনি! 'নিজের ফাঁদেই পড়ল শেয়াল', 'লোভী মাকড়সা', 'অলস পিঁপড়ের বিপদ', 'ছানা ও মা-কাঠবিড়ালি' এবং 'চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ'; প্রতিটা গল্পের মুখ শুরু হয়েছে এভাবে। শেয়াল খাবে, বাঘ খাবে, কাঠবিড়ালি খাবে, মাকু খাবে, পিঁপতু খাবে! কিন্তু লেখকের হাতেই যেহেতু স্টিয়ারিং হুইল, তাই একটু পরেই হুস করে নিয়ে গেলেন স্বতন্ত্র সব জগতে! বইটা একইসাথে শিশু ও বড়দের জন্য বেশ উপযোগী। লেখক, ছবি আঁকিয়ে, প্রকাশনী—এদের সবার খুব পরিশ্রম ও ভালোবাসার ফল যে এই বইটি, সেটা বইয়ের পাতা উল্টোতে থাকলেই নজরে পড়বে। বাচ্চারা যেমন আনন্দের সাথে বইটা পড়ে সেখান থেকে ভালো মানুষ হওয়ার মন্ত্র পেয়ে যাবে, ঠিক তেমনি বড়রাও নিজেদের খুঁজে পাবেন এক শান্তিময় জগতে। কারণ সার্থক শিশুতোষ গল্পের মূল কারিশমা এখানেই। গল্পে বয়স ভেদে কোনো আলাদা জগত বানানো হয় না। শিশুতোষ গল্প মানেই সার্বজনীন। আর তাই 'চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ'—এ খুব খুশিমনে স্বাগতম জানাচ্ছি সবাইকে!"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →
বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"চাঁদ খাওয়ার নিমন্ত্রণ" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: