হোম
0
কার্ট
অফার সাইন ইন
বই খোঁজা হচ্ছে...

কোনো বই খুঁজে পাওয়া যায়নি

বানান ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন অথবা অন্য শব্দ দিয়ে খুঁজুন

প্রগতি - PROGOTY
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড - নাঈম হোসেন ফারুকী এর প্রচ্ছদ
একটু পড়ে দেখুন

১ম প্রকাশ, ২০২২

ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড

91 Ratings | 30 Reviews
TK. 559 TK. 650 -14% OFF

1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি

একটু পড়ে দেখুন
ক্যাশ অন ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন সুবিধা

বইটির বিস্তারিত দেখুন

Title চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড
Author নাঈম হোসেন ফারুকী
Publisher প্রান্ত প্রকাশন
Edition ১ম প্রকাশ, ২০২২
Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) 351
Country বাংলাদেশ
Language বাংলা
Category শিশু কিশোর বই
Weight 0.68 Kg
রিপোর্ট ইনকারেক্ট ইনফরমেশন

বিজ্ঞপ্তি

গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।

Reviews and Ratings

Rate this product

4.44

91 Ratings and 30 Reviews

★★★★★
43
★★★★☆
47
★★★☆☆
0
★★☆☆☆
0
★☆☆☆☆
1

পাঠকদের মন্তব্য

৩০টি
Fakhrul Islam Fahim

Fakhrul Islam Fahim , Jun 24, 2026

★ ★ ★ ★ ★

"If you are a physicist, then this book is not for you.Go and read Sean Carroll and Kip Throne."

Abhijeet Sarker

Abhijeet Sarker , Feb 23, 2026

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"good book must read"

Dipto Hossain

Dipto Hossain , Jan 20, 2026

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"ভালো বই।"

Sourav Dey

Sourav Dey , Oct 7, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"amazing book 📚"

labib gbd

labib gbd , Jul 16, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"অসাধারণ উপস্থাপনা।"

sharmin akter

sharmin akter , Jun 11, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"এর আগে একটি কপি কিনেছিলাম। বই পরতে কিছু সময় লাগে। পরতে পরতে দেখি প্রথম দিকে কিছু পৃষ্ঠা ছিল না। complain করে বই change করি। আবার পরতে সময় লাগে প্রায় ২ মাস। এখন দেখি শেষের দিকের আগের কিছু পৃষ্ঠা নেই। তাই এখন আবার অরডার করতে হচ্ছে। প্রগতির কাছ থেকে এটা আশা করিনি।"

Md Samiul Islam

Md Samiul Islam , Jun 3, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"গত দশকের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার কৃষ্ণগহব্বর এর অস্তিত্ব প্রকাশ। তবে ঠিক কিভাবে পদার্থবিজ্ঞানীরা এমন অঞ্চল থাকতে পারে বলে ধারনা করলেন? এর পেছনে রয়েছে আইনস্টাইন, শোয়ার্জশিল্ড এর মতো বাঘা বাঘা সব বিজ্ঞানীদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষনা। নেপথ্যে রয়েছে আইনস্টাইন ফিল্ড ইকুয়শন। 'চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি' বইটিকে আমি তিন ভাগে ভাগ করেছি যেখানে ৪র্থ অধ্যয়ে রয়েছে স্পেশাল রিলেটিভিটি, ৫ম ও ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে জেনারেল রিলেটিভিটি এবং ৭ম অধ্যায়ে স্পেশাল রিলেটিভিটি ও জেনারেল রিলেটিভিটির সম্মিলিত প্রভাবযুক্ত অঞ্চলকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। স্পেশাল রিলেটিভিটি বুঝতে যে রাশিগুলো সম্পর্কে না জানলেই নয়, বইয়ের শুরু হয়েছে সেসব রাশির পরিচয়ের মাধ্যমে। কেউ যদি একই সাথে ঘটা দুটো ঘটনাকে বর্ণনা করতে চায় তবে প্রথমেই প্রসঙ্গ কাঠামো অর্থাৎ পর্যবেক্ষক কোন অবস্থার সাপেক্ষে ঘটনাটি পর্যবেক্ষন করছেন তা উল্লেখ করতে হবে। আপনি যদি স্থির হন তবে আপনার সাপেক্ষে গতিশীল একজন পর্যবেক্ষক ওই ঘটনা দুটিকে একই সাথে ঘটতে দেখবে না। স্পেশাল রিলেটিভিটি এর আলোচনার মূল বিষয়টিই হলো একই ঘটনার স্থির ও গতিশীল পর্যবেক্ষকের ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষন নিয়ে। স্পেশাল রিলেটিভিটির পর্যবেক্ষনগত তথ্য পর্যবেক্ষকের গতিয় অবস্থার উপর নির্ভর করে। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার সাথে এমনটি অসম্ভব বলে মনে হলেও গণিতিক সমীকরন আর পর্যবেক্ষনগত প্রমান এমন সব অদ্ভুত ধারনাকেই বাস্তব বলে নির্দেশ করে। একটি থিউরী তখনই অবাস্তব মনে হবে যখন এর পেছনের পদার্থবিজ্ঞান আমরা জানি না! এ জায়গাটিতে বইটির গাণিতিক কথাবার্তা পাঠককে সেই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। সাধারন আপেক্ষিকতা বুঝতে হলে কিছু গাণিতিক নিয়মকানুন বোঝা জরুরী যেখানে ৫ম অধ্যায়ে সাধারন আপেক্ষিকতা শুরু হয়েছে এবং সাথে টেনসর, মেট্রিক টেনসর নিয়ে যা না জানলেই নয় তা নিয়ে রয়েছে বেসিক আলোচনা। ৬ষ্ঠ অধ্যায়ে নিউটনের মহাকর্ষ ও আপেক্ষিকতার মূল বক্তব্য। মহাকর্ষ যদি বল না হয় তবে আপেল কেন নিচে পড়ে! এসব বিষয়ের গাণিতিক ব্যাখ্যা নিয়ে সাধারন আপেক্ষিকতার মাধ্যমে মহাকর্ষীয় ত্বরন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ৭ম অধ্যায় এ বইয়ের মূল আকর্ষন। প্রথমে একটি কাল্পনিক গল্প দিয়ে অধ্যায় শুরু হয়েছে।ধীরে ধীরে সময় নিয়ে নিউনীয় বলবিদ্যার দৃষ্ঠিভঙ্গি, নিউটনীয় ব্লাকহোল কেমন হবে এসব আলোচনা চলেছে। সাধারন আপেক্ষিতায় ব্লাকহোলকে কিভাবে ব্যাখ্যা করা হয় তার আলোচনা শুরু হয় শোয়ার্জশিল্ড মেট্রিক ইকুয়েশন দিয়ে। এখান থেকেই পাঠক পুরো বইয়ে শেখানো থিউরী একসাথে ফিল করা শুরু করবে। ব্লাকহোলের কাছে বসে থাকা পর্যবেক্ষক ও দূরের একজন পর্যবেক্ষক কাউকে ব্লাকহোলের গহব্বরে কিভাবে হারিয়ে যেতে দেখবে? তাদের দুজনের পর্যবেক্ষনই কি একই হবে নাকি ভিন্ন? এসবই নির্ভর করে স্পেশাল রিলেটিভিটি প্রভাব ও জেনারেল রিলেটিভিটি প্রভাব এর সামগ্রিক ফলাফলের উপর। সাধারন আপেক্ষিকতার কিছু সমাধান নির্দেশ করে ব্লাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনের ভিতরে স্থান এবং কাল পরস্পর বিপরীত আচরন করে থাকে। আবার আইনস্টাইন-রোজেন ব্রীজ অনুযায়ী ভিতরের স্পেসটাইম আমাদের স্পেসটাইমের মতোই! এক্ষেত্রে বাস্তবে এমনটি হলে সিমেট্রিসিটির মারপ্যাচে পরে অবশ্যই ব্লাকহোলের বিপরীতে থাকা উচিত ওয়ার্মহোল! আসলে ঠিক কি হবে সাধারন আপেক্ষিকতা এ ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলতে পারে না। এ বইটি যেহেতু রিলেটিভিটিকে ফোকাস করে লেখা হয়েছে তাই স্বভাবতই ব্লাকহোলের ইভেন্ট হরাইজন ও এর ভিতরের অংশকে ব্যাখ্যা করতে কোয়ান্টাম ইফেক্টকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। ৭ম অধ্যায়ের শেষে পুরোটাই ব্লাকহোলের অভ্যন্তরীন পরিবেশ কেমন হবে তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অধ্যায়গুলো ছাড়া চা কফির বিরতি নামে অধ্যায়ের মাঝে মাঝে একটি অংশ রাখা হয়েছে। যেখানে রয়েছে বিশেষ বিশেষ কিছু বিষয়ের ছোট ছোট আলোচনা। যেমন ডপলার ইফেক্ট, ছায়ার বেগ, পেনরোজ ডায়গ্রাম ইত্যাদি। সব মিলিয়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের এমন বিষয়গুলো নিয়ে বই রচিত হলে তা প্রসংশার দাবী রাখে। এক্ষেত্রে বইটিতে গাণিতিক সমীকরনকে মূল বিষয় বানিয়ে লেখা হয়নি, রিলেটিভিটি ফিল করতে যে সমীকরনগুলো প্রয়োজন, যে প্রমান গুলো প্রয়োজন শুধু সেগুলো দিয়েই সবকিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আইনস্টাইন ইকুয়েন বা জিওডেসিক ইকুয়েশনের ডেরিভেশন এতে দেয়া হয়নি বরং এসব ইকুয়েশন আসলে কি বোঝায় তা-ই ফোকাসে রাখা হয়েছে। অসংখ্য ডায়াগ্রাম, ইকুয়েশন মিলিয়ে মিলিয়ে পড়তে গিয়ে বইটি শেখাবে গানিতিক সমীকরনগুলো নিয়ে কিভাবে ভাবতে হয়। এক্ষেত্রে বরাবরের মতোই লেখকের সাথে দ্বিমত পোষন করছি যে এ বইটি ৯/১০ এর স্টুডেন্টের ম্যাচুরিটি দিয়ে বোঝা সম্ভব নয়। ইন্টারের বেসিক ক্লিয়ার থাকলে বইটিকে সাবলিল মনে হবে বলে আমার মনে হয়।"

8801948422958

8801948422958 , Apr 18, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"খুবই সুন্দর ভাবে লেখা হয়েছে, অত্যন্ত জটীল একটি বিষয়কে।বইটি পড়ার সময় লেখকের সাহায্য করার ব্যাপারটা খুবই ভালো লেগেছে। মোটের উপর শিখতে চাইলে বইটা পড়তে হবে।"

ARIFUL ISLAM

ARIFUL ISLAM , Feb 23, 2024

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"গতকাল সংগ্রহ করে ফেলেছি বই দুইটা।পড়াও শুরু করে দিয়েছি। বইয়ের কাভার দেখে আধ-ভৌতিক ভাইব আসলেও, টপিকগুলো বোঝানো হয়েছে গল্পে গল্পে। বিজ্ঞান প্রেমীদের জন্য এক চমৎকার বই।বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান প্রেমীদের জন্য। অনেকেই অনার্সে ভর্তি হয়ে এক পর্যায়ে আবিষ্কার করি যে,প্রিয় সাবজেক্ট আসলে অতটা প্রিয় লাগছে না। ভালোলাগা, অনুভবের জগতকে একাডেমিক পড়াশোনা ঠিক স্পর্শ করতে পারছে না। একাডেমিক বইয়ের সাথে ভালো লাগার যে দ্বন্দ্ব তা দূর করতে অনেকটাই সহযোগিতা করবে " চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি"। যারা একাডেমিক বই পড়ার বাইরে অন্য কোনো বই পড়তেই চায় না। আমার মনে হয়, তাদেরকেও একাডেমিক দিকের সাহায্যের জন্য বইটা সংগ্রহ করা উচিত। "চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি" পড়া শুরু করলে, আমাদের ভেতরের যে বিজ্ঞান প্রেমী এতদিন মৃতপ্রায় ছিল।তা আস্তে আস্তে আবার জাগতে শুরু করবে। মনে জাগবে ছোট্ট বেলার সেই ইচ্ছা, টাইম মেশিন নিয়ে চলে যাই অন্য কোনো টাইমলাইনে! একবার ঝাঁপ দিয়েই দেখি না ব্ল্যাকহোলের ভেতরটা! লেখক নাঈম হোসেন ফারুকী, আপনার জন্য অনেক অনেক সম্মান এবং ভালোবাসা।"

Sajedur Rahman

Sajedur Rahman , Sep 6, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"চা কফি তো সবাই পান করতে পারে। কিন্তু জেনারেল রিলেটিভিটি কয়জন খেতে পারে? চা-পাতা কিংবা কফি পাউডার পাওয়া যায় বাসার পাশের মুদি দোকানটাতেই, কিন্তু সেই দোকানে পাওয়া যায় না জেনারেল রিলেটিভিটি। ইউটিউবে চা-কফি বানানোর টিউটোরিয়ালের অভাব নেই, নানা ধরণের রেসিপির বইয়ের অভাব নেই, কিন্তু একদম ফিল করা পর্যায়ে জেনারেল রিলেটিভিটি বোঝাতে পারে এমন ভিডিও কিংবা বই কয়টা আছে? আর সেই রিসোর্স বাংলা ভাষায় খুঁজতে যাওয়াটা তো রীতিমতো বিলাসিতা! সম্ভবত আমাদের সেই বিলাসী জীবনটা দেওয়ার জন্যই নাঈম হোসেন ফারুকী স্যারের এই অব্যর্থ প্রয়াস, ‘চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি’। হ্যারি পটারে মাগলদের জগত থেকে যাদুর জগতে যেতে হলে পৌনে দশ নাম্বার প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে হতো। আর পদার্থবিজ্ঞানের অপরিসীম সুন্দর জগতে পা রাখতে চাইলে আপনাকে প্রবেশ করতে হবে চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটির মধ্যে। এটা সেই জগত, যেখানে সময়ও স্থানের তিনটা মাত্রার মতো একটা মাত্রা। এটা সেই জগত, যেখানে ব্ল্যাকহোলোর খুব কাছাকাছি গিয়ে এক সেকেন্ড কাটিয়ে আসলে পৃথিবীতে পার হয়ে যাবে হাজার হাজার বছর। এটা সেই জগত, যেখানে স্থান বা জায়গা একটা ফিজিক্যাল বস্তু, যেটাকে আবার ছোটবড়ও করা যায়। এই জগতে এমন সব ঘটনা ঘটে, যা সাধারণ মানব মস্তিষ্ক কল্পনাও করতে পারে না। এইসব ঘটনা হার মানায় রূপকথার গল্পকেও। ক্লাস ৩-৪ থেকেই আমি বিভিন্ন কারণে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠতে থাকি, যদিও তখন তেমন কিছুই বুঝতাম না। আস্তে আস্তে সময় যেতে থাকে, আমার এই আগ্রহ কমার বদলে উল্টো আরও বাড়তে থাকে। খুব সম্ভবত ক্লাস ৮ এ এসে প্রথমবার স্পেশাল রিলেটিভিটির সাথে পরিচিত হই। মোটামুটি বেশ কয়েকটা ভিডিও দেখে + লেখা পড়ে জিনিসটা ভালোমতো ফিলও করতে পারি। তারপর আস্তে আস্তে শুরু হয় রিলেটিভিস্টিক পড়াশোনা। এক পর্যায়ে এসে যখন দেখলাম জেনারেল রিলেটিভিটি মানেই জটিল সব সমীকরণ, গ্রাফ আর অদ্ভুত কিছু চিহ্নের খেলা, তখনই আস্তে আস্তে আবার আমার আগ্রহে ভাটা পড়তে থাকে। হয়তো এগুলো আমার জন্য না।তারপরই একদিন বিসিবির অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপে প্রথমবারের মতো ‘চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি’র নাম দেখলাম। প্রথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও আস্তে আস্তে এই বইয়ের ব্যাপারে বিভিন্ন রিভিউ ইত্যাদি দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, যে আমার এই বই-ই লাগবে (উল্লেখ্য, বইটা কেনার সময় আমার সরাসারি লেখকের বাসায় যাওয়ার ও উনার সাথে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিলো)। আর এটাই হয়তো আমার জীবনের অন্যতম একটা সেরা সিদ্ধান্ত ছিলো। এতদিন ভাবতাম আমি বোধ হয় স্পেশাল রিলেটিভিটির সবকিছু বুঝি, কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। আগে ভাবতাম E=mc² শুধু ভর ও শক্তির একটা সম্পর্ক নির্দেশ করে। কিন্তু এই ছোট্ট একটা সমীকরণ নিয়েও যে জানার মতো এত কিছু থাকতে পারে, এই বইটা না পড়লে হয়তো বুঝতামই না। একটা সময় ভাবতাম আলোর বেগ 299792458 m/s, ধ্রুব বেগ। কিন্তু আলোর বেগ যে এর চেয়েও বেশি হতে পারে, সেটাও জেনেছি এই বইয়ের সাহায্যে জেনারেল রিলেটিভিটিতে পদার্পণের পরেই। এত বেসিক নলেজ নিয়ে এত সহজভাবেও যে জেনারেল রিলেটিভিটি ফিল করা যায়, তার এক প্রত্যক্ষ প্রমাণ এই ‘চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি’। বাংলা ভাষায় এইরকম বই আর দ্বিতীয়টা নেই। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের এই যুগান্তকারী জিনিস উপহার দেওয়ার জন্য। আর ধন্যবাদ বক্কর ভাই, লক্কর ভাই, বক্রিনা আপু আর সেই বিজ্ঞানী ভেড়াকে, যারা পুরো বই জুড়ে এই রোমাঞ্চকর জার্নিতে আমাদের পাশে ছিলো। কী বললেন? আপনি বইটা শুরু করার কথা ভাবছেন? মানে এখনও ‘ভাবছেন’? ব্যাপার না, আমিও এই ভুল করেছিলাম। বইটা হাতে পাওয়ার পর রিগ্রেট করেছি যে কেন আরও আগে এই বইটা কিনিনি। কী? আপনি মাত্র ক্লাস নাইনে পড়েন? হায় হায়, এত জটিল জটিল সব জিনিস, জটিল জটিল সব সমীকরণ তো তাহলে আপনার মাথার উপর দিয়ে যাবে। তাহলে এখন উপায়? দাঁড়ান, এই বই আপনার জন্যই লেখা হয়েছে। এটা পড়ার জন্য আপনার রকেট সায়েন্স জানা লাগবে না, নাইন-টেনের বেসিক ফিজিক্স-ম্যাথ আর হালকাপাতলা ক্যালকুলাস জানলেই যথেষ্ট। কী? আপনি এখনও ফিজিক্স বই ধরেনওনি? চিন্তা নেই, এই বই আপনারই জন্য। এই বইয়ের সমীকরণগুলো বোঝার জন্য যতটুকু ফিজিক্স বা ম্যাথ জানা প্রয়োজন, সেটাও লেখক বইয়ের শুরুতে বুঝিয়ে দিয়েছেন। আর কী লাগে! শুরু করে দিন আপনার জীবনের অন্যতম এক যাত্রা, যে যাত্রার শেষ না দেখে আপনি ফিরতে পারবেন না কিছুতেই - জেনারেল রিলেটিভিটি আপনাকে ব্ল্যাকহোলের মতো টেনে ধরে রাখবে। স্বাগতম! বইঃ চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি-১। লেখকঃ Nayeem Hossain Faruque রেটিংঃ ∫[0, 3] (x² - 6x + 9) dx / 10 (সবাই এই অংশটুকু শুরুতে দেয়, আমাকে কেন যেন ব্রেইন বললো শেষে দিতে!)"

H. M ARAFAT

H. M ARAFAT , Aug 29, 2023

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Amazing"

Tausif

Tausif , May 3, 2023

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"A book where you can learn firmly......."

Abir

Abir , Feb 18, 2023

★ ★ ★ ★ ★

"আর নয় হতাশা, আর নয় ব্যার্থতা! আপনি কি রিলেটিভিটি পড়তে পড়তে ক্লান্ত? মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব হারামি টাইপ ইকুয়েশন আর গ্রাফ। কি সব হাবিজাবি ম্যাট্রিক ইকুয়েশন? স্পেস-টাইম ডায়াগ্রাম? আগা বুঝলে গোড়া বোঝা যায় না। গোড়া বুঝলে আগা। অথবা আপনি রিলেটিভিটি আগে পড়েননি কিন্তু এখন পড়তে চাচ্ছেন। বই খুজে পাচ্ছেন না। তাহলে বইটি আপনার জন্য। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি-১। নামটা শুনেই শিহরণ জাগছে? শ্রদ্ধেয় নাঈম হোসেন ফারুকী ভাইয়ার সবচেয়ে সফল বই হয়তো এই বইটা। আপনাকে টেনে হিঁচড়ে আপেক্ষিক বেগ থেকে নিয়ে যাওয়া হবে ব্ল্যাক হোল পর্যন্ত। মাঝখানে খেলা হবে মারাত্মক সব ইকুয়েশন আর গ্রাফ নিয়ে। বারে বারে গেলানো হবে ম্যাট্রিক ইকুয়েশন। পাশে থাকবে শ্রদ্ধেয় বক্কর ভাই, বক্রিনা আপু আর হাতে ঘড়িওয়ালা ভেড়া। ব্ল্যাক হোলে ঝাপ দেয়ার সময় আসবে নতুন সঙ্গী নিয়ান। প্রথমে ক্লিয়ার করা হবে স্পেশাল রিলেটিভিটি। সেখানে থাকবে স্পেস-টাইম ডায়াগ্রাম, দৈর্ঘ্য সংকোচন, সময় প্রসারন, লরেন্টঞ্জ রুপান্তর। আপনি অবাক হয়ে আবিষ্কার করবেন আপনি সহ তাবৎ পৃথিবীর সবার বেগ(চতুর্মাত্রিক) আলোর বেগের সমান! আপনাকে দিয়ে ঘাড় ধরে করানো হবে স্পেস-টাইম ডায়াগ্রাম প্রেক্টিস। তারপর আপনার চিরচেনা ভর আর শক্তিকএ ধরা হবে। যাদেরকে আপনি ভাবতেন পরস্পর আলাদা জিনিস, তারা মিলেমিশে হবে একাকার। ভর আর শক্তি আলাদা কিছু না, দুইটা একই জিনিস। ম্যাট্রিক টেন্সরের সাথে পরিচয় করানো হবে খুব আদরের সহিত। হাতে ধরিয়ে দেয়া হবে ইকুয়েশন। আপনাকে ওই বিচিত্র ইকুয়েশানের পাঠ উদ্ধার করতে হবে। আপনি যদি এমন জেনে থাকেন যে আলোর বেগ সবজায়গায় ৩×১০^৮ মি/সে.। আপনি ভুল। আলোর বেগকে এই মানের ১০০ গুন বেশি হতে দেখবেন আপনি। আপনার মাথায় বাঁশ পড়বে যখন জানবেন গ্র‍্যাভিটি আসলে বল না, গ্র‍্যাভিটি ত্বরন। গ্র‍্যাভিটি জানার পরে আপনাকে প্রস্তুত করা হবে ব্ল্যাকহোলে ঝাপ দেওয়ানোর জন্য। ভয় পাওয়ার দরকার নেই, ঝাপ দেবে নিয়ান। পাশে থাকবে সেই হাত ঘড়িওয়ালা ভেড়া। আপনার ধারনা চুরমার হতে দেখবেন। দেখবেন নিয়ানের বেগ আলোর বেগের সমান! তারপরেও কিছু কথা মনে রাখা উচিত। রিলেটিভিটির মতো এতো জটিল বিষয় একবার পড়েই জেনে যাবেন এমন আশা সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে আপনাকে বইটা হাতে নিতে হবে। পড়া শুরু করলে আর রাখা যাবেনা। পড়তে হবে শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত। তার পাশাপাশি করতে হবে প্রচুর চিন্তা। লেখকের বলেছেন ২০২৪ এর বই মেলায় ২য় খন্ড পাবো। যদিও সহ-লেখকের মতে লেখক অনেক অলস। ২য় খন্ডের আশায় আছি। শুভকামনা লেখক আর তার পিচ্চি সঙ্গীর জন্য।"

Mohammad Iqbal Bin Shahid

Mohammad Iqbal Bin Shahid , Nov 10, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"Without giving any spoiler or minute details, I can say,this is a very good book for learning general relativity (GR). I am not inclined to say that it is a 'beginner level' book, but neither one need to know a lot of physics to understand the concepts explained in this book. To me, someone with high school level knowledge of physics and some knowledge of calculus would be able to understand this book. This book is definitely not a 'pop-science' book. On the other hand, I would say it cannot be considered as a reference/textbook. The storytelling elements of the book would captivate the readers, but those elements also deviated it from being a hardcore textbook. So, to me, this books fits the best for the readers like me- who want to understand the concept of GR, and want to explore the mathematical side of it. The equations are well formed, apart from some notation conflicts and customization. The diagrams could have been a bit better. Some of the concepts were really well explained in layman's terms, some were more suitable for advanced readers. But, the latter might be an effect of the complexity of a topic itself- maybe it can be perceived but cannot be explained that well. The chapters on gravity and black-hole are really well explored. I took my time finishing the book, and thoroughly enjoyed doing all the calculations by myself. I RECOMMEND all Bengali physics enthusiast to read the book, as it is 'one of the', if not 'the' best book on general relativity written in Bangla. I am eagerly waiting for the second part- CCGR2"

Sanjana Jinat Mahi

Sanjana Jinat Mahi , Nov 10, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বই: চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি লেখক : নাঈম হুসেন ফারুকী পার্সোনাল রেটিং :৯.৯৯৯৯৯.../১০ 'মানুষ মাত্রই মিথ্যাবাদী।বেশিরভাগ মানুষ খোদ নিজের সাথেই সৎ থাকতে পারে না।' আপনাকে প্রতিনিয়ত মিথ্যে বলা হচ্ছে। টেবিলের উপর পড়ে থাকা আপনার ধুলোবালি জমা ফিজিক্স বইটা আপনাকে মিথ্যে বলছে।বুক শেলফে যত্ন করে সাজিয়ে রাখা জনপ্রিয় বিজ্ঞানের বইগুলো আপনাকে মিথ্যে বলছে।আপনার শ্রদ্ধেয় পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক ক্লাসের প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে মিথ্যে বলছে। আপনিও আপনার আশেপাশের মানুষকে মিথ্যে বলছেন। তারাও আপনাকে মিথ্যে বলছে। ঠিক কোন বিষয়টা নিয়ে এত মিথ্যাচার? মহাকর্ষ! ছোটবেলা থেকে জেনে এসেছেন সে একটা বল। তাকে বল হিসেবে মেনে নিয়ে পরীক্ষায় খাতায় অঙ্ক কষে এসেছেন।উত্তর ঠিক হয়েছে।নম্বরও পেয়েছেন। কিন্তু যখন জনপ্রিয় বিজ্ঞানের কোনো একটা বই হাতে নিলেন তখন জানতে পারলেন সে বল নয়! সে স্থানকালের বক্রতা! একবার ভেবে দেখুন তো,স্থানকালের চাঁদরের মতো বেঁকে যাওয়া, ভারি নক্ষত্রের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আলোর বেঁকে যাওয়া,ব্ল্যাকহোলের সবকিছুকে গিলে খাওয়া- এইসব বিমূর্ত কথা আসলে ঠিক কী বোঝায়? স্থানকাল কি আপনার বেডরুমের চাঁদরটার মতো? ঠিক কী কারণে ব্ল্যাকহোলের ভেতর থেকে আলোও বের হতে পারে না? শুধুই কি সব মুক্তিবেগের খেলা? যদি বলি ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনের ভেতরে স্থান সময়ের মতন আর সময় স্থানের মতন? আরো কত সত্য যে শরীরের সব স্নায়ু দিয়ে অনুভব করার আছে! মিথ্যের জালে আমরা জড়িয়ে পড়েছি। সেখান থেকে বের হতে হবে। হাতে নিতে হবে,নাঈম হুসেন ফারুকী ভাইয়ার লেখা চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি ১ম খণ্ড। এইবার বইটা সম্পর্কে কিছু কথা বলি।বাংলা ভাষায় লেখা সবচেয়ে 'সুন্দর' পদার্থবিজ্ঞানের বইগুলোর মধ্যে একটা(আমার মতে)! এটা পপ সায়েন্স নয়।সমীকরণ,গ্রাফ,ডায়াগ্রাম,প্রত্যেকটা সমীকরণের ব্যাখ্যা,প্রতিপাদন সব এতে আছে। তবে 'বেরসিক' পাঠ্যবইয়ের মতন মোটেও নয়!লেখকের লেখার ধরণ 'অলৌকিক'। (আক্ষরিক অর্থে নয়!) নাইন-টেনের ম্যাথ ফিজিক্স সম্পর্কে ধারণা থাকলেই পড়তে পারেন এই চমৎকার বইটি!তবে বইটা পড়তে হলে খুব মাথা খাটাতে হবে। মাঝখানে আমার মাথায় সব জট পাকিয়ে যাচ্ছিল।তবে জিআর এর মতো চমৎকার একটা বিষয় পড়তে এসে এভাবে পালিয়ে গেলে হয়?! চিন্তাগুলো জট পাকিয়ে গেলে 'চা পানের বিরতি' নিয়ে আবার ফিরে আসুন জি আর এর দুনিয়ায়! জিআর পড়তে গেলে স্পেশাল রিলেটিভিটির ভিত্তিটা মজবুত থাকতে হয়। বইটাতে খুব চমৎকারভাবে স্পেশাল রিলেটিভিটি বর্ণনা করা হয়েছে। জি আর পড়তে এসে এসটিআর এর মজাও ষোলো আনা লুটে নিতে পারবেন। বইটার কিছু সমীকরণের প্রতিপাদন বোঝার খানিকটা ক্যালকুলাস জানা লাগে।এই যা! মজার ব্যাপার হলো, চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্সের মতো এতে থ্রিলিং সব গল্পও আছে। জটিল একটা বিষয় শেখানোর ফাঁকে ফাঁকে একটা দু'টো গল্প বলে লেখক পাঠকের ক্লান্তি দূর করেছেন,যেটুকু জানা-বোঝা হয়েছে সেটুকুকে আরো ভালোভাবে উপভোগ করিয়েছেন। এবার কিছু গিবত! Minkowski spacetime diagram পর্যবেক্ষকের সময়ের অক্ষের ঢাল dx/dt হলো কেন,এটা অল্প কয়েকটা কথায় বুঝানো যেত। Spacelike spacetime interval এর সমীকরণের প্রতিপাদনটা আরো একটু extensively feel করালে আমার মতো কূপমণ্ডূক লোকদের উপকার হতো।এগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। তবে,আমার কাছে মনে হয়েছে এই বইটার ত্রুটি 'টেন্ডস টু জিরো।' 🙂 আমার পড়া সবচেয়ে সেরা একটা বই। যেটা পড়ার সময় বারবার লেখক যেন ফিসফিস করে করে মার্ক টোয়েনের সেই কথাটাই বলেছেন, 'বাস্তবতা বরং বানানো গল্পের চেয়েও অদ্ভুত।কেননা গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য হতে হয়।বাস্তবতার সেই দায় নেই!' Happy Reading!💗"

Md.Mehedi Hasan

Md.Mehedi Hasan , Nov 7, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"## book review চা কফি আর জেনারেল রিলেটিবিটি ইন্টারে পাঠ্যবইএর special relativity এর সাথে পরিচিত যখন হয়েছিলাম তখন এর উপর আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল।তাই এই বিষয়ের প্রতি অধিক জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল।পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিত না থাকায় খোজাখুজি করে পেলাম চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি।এটি পাঠককে বিশেষ আপেক্ষিকতা থেকে শুরু করে নিয়ে যাবে ব্লাক হোল পর্যন্ত যা অন্যরকম অভিজ্ঞতা হবে বলে মনে করি।বইটিতে রয়েছে অসংখ্য সমীকরণ আর গ্রাফ। তাই যারা গাণিতিক সমীকরণ ভালোবাসেন তাদের জন্য বইটি অসাধারণ।বইটি লেখক গল্পের ছলে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করেছেন কিন্তু কিছু যায়গায় গল্প skip করলে মনে হয় ভালো হতো।এটা আশা করি ২ য় খন্ডে ঠিক করবেন।কিছু বিষয় জ্ঞান স্বল্পতার কারণে হয়ত বুঝতে পারিনি।বইটার মেইজের ফিকশনটা অসাধারণ লেগেছে।জানার আগ্রহ আছে এমন পাঠক বইটা পড়লে ভালো লাগবে আশা করি!!ধন্যবাদ"

Tanzir Ahmed

Tanzir Ahmed , Oct 28, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"বই: চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি(১ম খন্ড) লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী। মূল্য:৫৫০৳ রেটিং:৯.৭/১০ মন্তব্য: অসম্ভব সুন্দর একটা বই। আপেক্ষিকতা নিয়ে আমার তেমন কোনো জানাশোনা ছিল না। তাই আগ্রহ টাও ছিল তুঙ্গে। আমার বিশ্বাস, এই বইটি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়া হয় তাহলে আপেক্ষিকতা নিয়ে আপনার কনসেপ্ট ভালোভাবেই ক্লিয়ার হয়ে যাবে। বইটি দেখে কেউ পপ সায়েন্স ভাবলে চরম ভুল করবেন। বইটির ১ম কিস্তিতে একেবারে বেসিক লেভেল থেকে প্রো লেভেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লেখকের মতে, ৯-১০ এর পদার্থ বিজ্ঞান, উচ্চতর গণিত পারলেই বইটির ৮০% বোঝা সম্ভব। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে, বইটি এমনভাবে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে যে ৯-১০ এর জ্ঞান দিয়ে ৯০% বোঝা সম্ভব। শুধু প্রয়োজন চেষ্টা আর মনোযোগ। তবে ভেক্টর, ক্যালকুলাস জানা থাকলে সোনায় সোহাগা। বইটির অর্ধেক পৃষ্ঠা জুড়ে শুধু স্পেশাল রিলেটিভিটির আলোচনা করা হয়েছে। তারপরে আস্তে আস্তে জেনারেল রিলেটিভিটির ভেতর ডুব দেওয়া হয়েছে। জেনারেল রিলেটিভিটির শুরুতেই মেট্রিক টেন্সর আলোচনা করা হয়েছে। যদি আপনার আগে এই টপিক পড়া থাকে আমি বলব আবার পড়ুন। সম্পূর্ন টপিকটি নতুন করে ফিল করতে পারবেন। আর যাদের টেন্সর নিয়ে জানাশোনা নেই তাদের জন্য আরো ভালো। টেনসর এর বেসিকটা পুরো ক্লিয়ার করা আছে। আর, বইটির প্রত্যেক গ্রাফ ভালো করে দেখে, বুঝে পড়বেন। এই গ্রাফ গুলো ধরতে পারলে আপনি ইউরেকা বলে চেঁচিয়ে উঠতে বাধ্য হবেন। বইটি এত সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যেন, চোখের সামনে সবকিছু দেখতে পারবেন। বইটির সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হল গ্রাফ। প্রতিটি গ্রাফ যেন একেকটা রহস্য ঘেরা অ্যাডভেঞ্চার। আমার কাছে গ্রফগুলো অসাধারণ লেগেছে। এখন আসি বইয়ের কিছু ত্রুটির কথায়। বইটিতে আহামরি খুব বেশি ভুল নেই। বানান, একই শব্দ দুবার- এরকম কিছু ক্ষুদ্র ত্রুটি আছে।তবে কিছু জায়গায় এমন ভূল আছে সেটা যদি পাঠক ধরতে পারে তবে বুঝতে পারবেন , আপনি আসলেই রিলেটিভিটি বুঝতে পারছেন। এজন্য এই ভুল গুলোকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। আর অমনোযোগী পাঠক সেটা এড়িয়ে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। পাঠকদের প্রতি বইটির ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার আমন্ত্রণ রইল। সবশেষে বলব, বাংলা ভাষায় লেখা এরকম বই আপনি সম্ভবত আর কখনোই পাবেন না। যেখানে রিলেটিভিটির মত জিনিসকে গল্প দিয়ে ডাল ভাতের মত সোজা করে বোঝানো হয়েছে। বইটি ৯-১০ শ্রেণীর পাঠকদের জন্য অবশ্যই উপযোগী। এটা পড়লে আপনার একাডেমিক পড়াশোনায়ও অনেক খানি কাজে লাগবে বলে আমার বিশ্বাস। বইটি পড়ার পরে দেখবেন, এতদিন ধরে আপনার জানা অনেক কিছুই আসলে ভুল ছিল। মহাকর্ষ নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে শিখবেন। বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য অসম্ভব রকমের সুন্দর বই। বইয়ের ২য় খন্ডে অপেক্ষা করছে আরো আরো সব চমকপ্রদ বিষয়। লেখকের প্রতি দুটি কথা, যখন বইটি পড়েছি হয়ত একবার পড়েই কোন টপিক বুঝিনি। কিন্তু যখনই বুঝতে পারতাম, এত্ত আনন্দ লাগত বলে বোঝানো অসম্ভব। এত এত জটিল বিষয় গুলোকে সহজে গ্রাফ দিয়ে বোঝানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ । ২য় কিস্তির জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছে আপনার একজন অধম পাঠক।"

Akib Mahmud

Akib Mahmud , Jul 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"good"

Farzana Siddiqui Nancy

Farzana Siddiqui Nancy , Jun 10, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বইয়ের নামঃ চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী প্রকাশনঃ প্রান্ত প্রকাশন জেনারেল রিলেটিভিটি অতি কঠিন একটা বিষয়। কিন্তু , লেখক যথেষ্ট চমৎকার করে উপস্থাপন করেছেন পাঠকের সুবিধার জন্য। টেক্সট বই হলেও বইটি পড়তে গিয়ে অত্যন্ত ভালো লাগবে। সম্পূর্ণ বই অত্যন্ত আকর্ষনীয় ভাবে গ্রাফ, সমীকরণের মাধ্যমে প্রতিটি বিষয়ে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়েছে। রাস্তা নামের যে অংশ দিয়ে গল্প শুরু হয়েছে, তা থেকে শুরু করে পুরো বই পড়তে পাঠক হিসেবে আমি অভিভূত। ব্ল্যাকহোল, ওয়ার্মহোল এই রহস্যের জগতের হাতছানি পেতে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বইটি পড়েছি। এপিটাফ এর অংশে অনেক অজানা তথ্য জেনেছি। ফাউন্ডেশন অধ্যায়ে আপেক্ষিকতা , স্থান , সময় , বেগ , ত্বরণ, ভেক্টর , মাত্রা উদাহরণ দিয়ে গ্রাফের সাহায্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। চা কফির বিরতি - ১ এর পরে স্পেশাল রিলেটিভিটি তে সময় কেন মাত্রা, সত্যিকারের সময় সহ লরেঞ্জ রূপান্তর , স্পেস টাইম ডায়াগ্রাম প্র‍্যাক্টিস সহ আরও কিছু বিষয় আলোচনার পরে চা কফির বিরতি - ২। মেট্রিক সমীকরণ এ স্পেস - টাইমের চাদর , টেনসর, মেট্রিক টেনসর , পোলার কো - অর্ডিনেট সিস্টেম সহ আরও কিছু বিষয় চিত্র, গ্রাফ ও সমীকরণের মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে চা কফির বিরতি - ৩ এর পরে মহাকর্ষ এবং চা কফির বিরতির পরে ব্ল্যাকহোল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সহজ থেকে কঠিন , জানা থেকে অজানা এভাবে পাঠক কে রিলেটিভিটির মতো একটা জটিল বিষয় বাংলা ভাষায় বই হিসেবে লিখে উপহার দেওয়ার জন্য লেখকের নিকট কৃতজ্ঞতা। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি দ্বিতীয় খন্ডের অপেক্ষায় রইলাম।"

Taufiqun Nur Farid

Taufiqun Nur Farid , May 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"Good book"

Tanvir Ahamed

Tanvir Ahamed , May 15, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বুক রিভিউ : চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি (প্রথম খণ্ড) লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী পেজ সংখ্যা : ৩৫২ পার্সোনাল রেটিং : ৯/১০ প্রকাশনী : প্রান্ত প্রকাশনী আইনস্টাইনের জেনারেল থিউরি অফ রিলেটিভিটি, ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি যখন প্রথম বিজ্ঞানের সাথে আমার পরিচয়। মনে হতো এটা সত্যিই অসাধারণ কিছু, কাঠখোট্টা নামের পিছনে কী এমন আছে যার জন্য আইনস্টাইনকে শ্রেষ্ঠ ফিজিসিস্ট বলা হয় ! যেটা কিনা প্রায় দু'শ বছরের প্রচলিত সব ধারণা বাতলে দেয়! ক্লাস ৬ এ যখন উঠলাম তখন থেকে বই পড়া, আর্টিকেল পড়া শুরু রিলেটিভিটি নিয়ে। পপ লেভেলে জানতাম শুধু, এটা দিয়ে নাকি বুধগ্রহের আবর্তন, গ্র‍্যাভেটিশনাল ল্যান্সিং, ব্লাকহোলের আচরণ, স্পেস টাইম বাঁকিয়ে ওয়ার্মহোল ক্রিয়েট করার মতো ইত্যাদি জিনিস জানা যায়। কিন্তু কিভাবে কী বুঝায় সেটা জানার মতো কোনোকিছু পাইনি। আইনস্টাইনের মনোজগৎ বোঝার একটা অতৃপ্ত পিপাসা থেকে গিয়েছিল। চা কফি জেনারেল রিলেটিভিটি আমার জানার সেই পিপাসাকে তৃপ্ত করেছে। এত সুন্দর ও আকর্ষণীয় ভাষায় লেখক বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন যে আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে, এত সহজে আসলেই কি কাঠখোট্টা ম্যাথটিকাল ইকুয়েশন ফিল করাও সম্ভব!! অনেক বইয়ে এই ইকুয়েশনগুলো দেখতাম ds^2=dx^2+dy^2+dz^2-dt^2, কিন্তু তেমন একটা বোধগম্য করতো না। জাস্ট জানিয়ে ছেড়ে দিতো। সত্যিই সমীকরণগুলো তাৎপর্য কী, কী মিন করে তা শিখাতো না। চা কফি বইটার মাধ্যমে ফিল করতে পারি সমীকরণটার মিনিং। বইয়ে রয়েছে প্রচুর গ্রাফ আর সমীকরণ। এটা পপ লেভেলের কোনো বই না৷ টেক্সট বুক বলা চলে কিন্তু মোটেও জটিল বইয়ের ভাষার মতো না। প্রতিটা চাপ্টার গল্পাকারে সাজিয়ে রিলেটিভিটির স্বাদ আস্বাদন করাবেন লেখক। কখন যে একটা জটিল বিষয় বুঝে ফেলবেন টেরই পাবেন না৷ মনে হবে যে, আপনি নিজেই যেন ব্লাকহোলের ঘটনা দিগন্তের পাশে বসে আছে, হরাইজনের ভিতর প্রবেশ করে ভিন্ন এক জগতে সম্মুখীন হচ্ছেন। যেখানে কিনা সময় স্পেসের মতো আর স্পেস সময়ের মতো আচরণ করে। আপনি চাইলে দেখতে পারবেন বাহিরের জগতের সব ভবিষ্যৎ, সব অতীত। কার ব্লাকহোলের রিঙ্গুলারিটির ভিতর CTC তে পাবেন সত্যিকারের টাইম মেশিনে স্বাদ। সেখানে নাকি, চাইলে নিজের অতীতকে ধরা ছুঁয়াও যায়। বইটা শুরুর দিক থেকে যদি বলি, বইটার ৭ টা চাপ্টার রয়েছে৷ প্রতিটাতে রয়েছে বিভিন্ন টপিক দিয়ে ধাপে ধাপে সাজানো৷ সময়, ভেক্টর, স্থান, আপেক্ষিকতা, বেগ ইত্যাদি সাবলীল কন্সেপ্ট ক্লিয়ার করা হয় শুরুর চাপ্টারগুলোতে৷ সেখানে কঠিন কিছু নাই। আস্তে আস্তে ঢুকে পড়ে স্পেশাল রিলেটিভিটিতে। আলোর বেগের কাছাকাছি যাওয়ার কারণে সেখানে সময় ধীর হওয়া, দৈর্ঘ সংকোচন, আপেক্ষিক বেগ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ধন্যবাদ লেখককে স্পেস-ডায়াগ্রাম প্র‍্যাকটিস টপিকটা রাখার জন্য৷ এটার জন্য উপকৃত হয়েছি সহজে স্পেশাল রিলেটিভিটির ঘটনাগুলো আরও ক্লিয়ার হতে। বক্কর ভাইকে ছেড়ে আলোর ৮০% বেগে বক্রিনা আপু যদি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে, কয়েক বছর পর পুনরায় ফিরে আসে তাহলে দেখবে বক্কর ভাইয়ের বয়স বেড়ে গেছে আর বক্রিনা আপুর অল্পই বেড়েছে, আমার কাছে যে জিনিসটা শকিং লেগেছে তা হলো,পৃথিবী ছাড়ার সময় বক্রিনা আপুর সাপেক্ষে বক্কর ভাইও আলোর ৮০% বেগে পিছন দিকে চলছে তাহলে তো বক্কর ভাইরেও সময় স্লো হওয়ার কথা কিন্তু হলো না কেন?আরও অবাক হই যখন পড়ি, আলো নাকি অসীম ত্বরণে চলছে একই সাথে সমবেগে !! এপ্রশ্নের উত্তর জানতে বইটা পড়ুন। তারপর আসে মেট্রিক ইকুয়েশন। যেটা ছাড়া জেনারেল রিলেটিভিটি বোঝা অসম্ভব। লেখক সহজে, বোধগম্য করে ইকুয়েশনের প্রতিটা মিনিং শিখিয়েছেন৷ ভয় পাওয়ার কারণ নেই, সেই সাথে রয়েছে সেগুলোর জন্য প্রতিটা গ্রাফ!! এই সমীকরণগুলো দিয়ে আমরা ব্যাখ্যা করতে পারবো মহাকর্ষ তরঙ্গের আচরণ, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, ব্লাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনে আসলে কী ঘটে ইত্যাদি৷ ৬ নম্বর চাপ্টারে লেখা হয়েছে মহাকর্ষ নিয়ে। মহাকর্ষ বলতে আসলো কী কিছু আছে? এটা জেনারেল রিলেটিভিটিতে কী মিন করে? আপেল গাছ থেকে পড়ে নাকি পৃথিবী উপরে উঠে এসে আপেলকে ধরে? ইকুভ্যালেন্স প্রিন্সিপল কী? ত্বরণ দিয়ে কীভাবে স্পেস টাইম টেনে মহাকর্ষের ফিলিংস পাওয়া সম্ভব? এসবের ব্যাখ্যা রয়েছে৷ সর্বশেষ ৭ নম্বর চাপ্টারে রয়েছে, অতি প্রতীক্ষিত চাপ্টার-- ব্লাকহোল। আপনি যদি মনে করেন স্কেপ ভ্যালোসিটি আলোর গতির চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে আলো ব্লাকহোল থেকে বের হতে পারে না তাহলে আপনি বড্ড ভুল ভাবছেন। এর কারণ অন্যকিছু,বলবো না ৷ এই চাপ্টারটায় শোয়ার্জচাইল্ড ম্যাট্রিকের মাধ্যমে অঘূর্ণায়মান ব্লাকহোলের আচরণ মোলায়েমভাবে শেখানো হয়েছে। ঘটনা দিগন্তের ওপাশে কী হয়, সময় কেন থেমে যায়, সেমাইয়ের মতো প্যাচিয়ে কেন কেউ ব্লাকহোলে পড়ে যাকে বলে স্প্যাগিটিফিকেশন, আর জানেন কী একটা বিশাল সুপারম্যাসিভ ব্লাকহোল আপনি দিব্যি ঢুকে যেতে পারবেন কোনো রকম ক্ষত বিক্ষত হওয়া ছাড়াই? ভাবছেন এসব কীভাবে ঘটে ? জানতে বইটা পড়তে হবে৷ সকল ধরনের ব্লাকহোলই ঘূর্ণায়মান। কার্ল ব্লাকহোল এরা৷ এদেরকে শোয়ার্জচাইল্ড মেট্রিক দিয়ে সমাধান করা যায় না, এরজন্য প্রয়োজন কার্ল ইকুয়েশন। লম্বা ইকুয়েশন ভেঙে ভেঙে বুঝানো হয়েছে, খুব জটিল একটা জিনিস। আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ ব্যবহার করে ওয়ার্মহোল ক্রিয়েট করা, স্পেস-টাইমের ফ্যানের মতো ঘুরা তথা ফ্রেম ড্রেগিং, কার্ল ব্লাকহোলের ভিতর ইকুয়েশন অনুযায়ী আসলে কি কি ঘটে ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই শেষ চাপ্টারে৷ মতামত: বইটা অনবদ্য। প্রতিটা বিজ্ঞানপ্রেমীদের সংগ্রহে রাখার মতো। বাংলাদেশে এসব টপিক নিয়ে এর আগে কেউ লিখেনি জানা মতে। বইটা পড়ার জন্য ইকুয়েশনের ভয় কাঁটাতে হবে আর ssc ব্যাসিক স্ট্রং থাকতে হবে। আমি মনে করি ইন্টারের স্টুডেন্টদের জন্য বেশি পার্ফেক্ট হবে৷ আর বইটা টানা পড়ে যাওয়া ভালো হবে। এর বিশেষ কারণ হলো, ব্যস্ততার কারণে আমি যখন টুকটাক বন্ধ পেয়েছি তখন পড়েছি এর ফলে সামনে অধ্যায় পড়তে গেলে পিছনের কিছু টপিক ভুলে যাই, আবার পড়ে নিতে হয়। জটিল বিষয়গুলো তখন ভাবতে সময় লাগে। এজন্য একটানা পড়াটা প্রেফার করবো। ধন্যবাদ রিভিউটা পড়ার জন্য। ওয়েটিং ফর দ্য সেকেন্ড পার্ট 🥰🥰। Happy reading ♥"

Swapnil Joydhar

Swapnil Joydhar , May 10, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বইঃ চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি (প্রথম খন্ড) লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী প্রকাশনীঃ প্রান্ত প্রকাশনী ব্যাক্তিগত রেটিং- ৮/১০ ...আচ্ছা যদি একজন মানুষ কোন এক ব্ল্যাক হোলের দিকে মোহে আকৃষ্ট হয়ে অগ্রসর হতে থাকে তাহলে সে কি দেখবে? তার চারপাশের দুনিয়াটাই বা কেমন হবে? সে কিই বা ফিল করবে? সে কি আদও এই মোহের টান ছিন্ন করে বের হয়ে আসতে পারবে? নাকি সেই ব্লাকহোলের জগতে হারিয়ে যাবে?... বইয়ের প্রথম অধ্যায়টা পড়লে মোটামুটি এইসব অদ্ভুত প্রশ্নের উদয় হবে। এটাই স্বাভাবিক। কেননা অধ্যায়টা শুরু হয়েছে রাস্তা নামে একটা হরর সাইফাই দিয়ে। যেখানে গল্পের মূল নায়ক ভুলবসত ব্ল্যাক হোলের দিকে গাড়ি নিয়ে অগ্রসর হয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা সম্মুখীন হয়।(?) আর তার জীবনের বিনিময়ে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা থেকে পাঠকের মনে যে প্রশ্ন, খটকা জন্মায় তা রিলেটিভিটির মতো কাঠখোট্টা মার্কা টপিকের প্রতি পাঠকের আগ্রহ জন্মাতে সাহায্য করে। আর এরপর এর পরের অধ্যায়টায় রয়েছে সেই সব মহারথীদের কথা যাদের কারণে জেনারেল রিলেটিভিটির মতো টপিকে সাথে আমরা পরিচিত হতে পেরেছি। যাদের কারণে আজ আমরা এত আরাম করে জীবনযাপন করতে পারছি। সিরিয়াসলি জোক করছি না। যাইহোক এবার এরপরের চ্যাপ্টার নিয়ে অলোচনা করা যাক। ভাইরে ভাই এর আগের চ্যাপ্টারগুলো তো কিছুই না। শুরু তো এখান থেকেই। এই চ্যাপ্টার থেকে শুরু হয়েছে আপনার যাত্রা। এই চ্যাপ্টারটা নাম 'ফাউন্ডেশন'। আশা করি নাম দেখেই বুঝতে পারছেন চ্যাপ্টারটা কি নিয়ে? যদি না বুঝে থাকেন তাহলে বলি এই রিলেটিভিটি নামের যে দৈত্যের সাথে আপনি লড়াই করতে যাচ্ছেন, যার পেটের কথা জানতে চাচ্ছেন তার সম্পর্কে কিছুই না জেনে তার সাথে লড়তে যাবেন? একবার তার সম্পর্কে জেনে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন না? মূলত এই চ্যাপ্টারটা এই সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু বিষয় নিয়েই। যা ছাড়া আপনি সেই দৈত্যের সাথে লড়তে পারবেন না। সেখানে আলোচনা করা হয়েছে মাত্রা, ভেক্টর, ত্বরণ, বেগ, সময়, স্থান এসব নিয়ে আরকি। মূলত এগুলো কি, কিভাবে কাজ করে। এসব নিয়ে জাস্ট বেসিক ধারণা দেয় আরকি। তো যে দৈত্যকে নিয়ে আলোচনা করছি তার সম্পর্কে না হয় মোটামুটি জানলাম। এবার তো গভীরে ঢুকতে হবে তাই না? যা নিয়েই মূলত এর পরের চ্যাপ্টারটা। আচ্ছা বইয়ের নাম তো চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভি। আর মানে কি এখানে শুধু জেনারেল রিলেটিভি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে? উত্তর হলো না। শুরুতেই জেনারেল রিলেটিভি নিয়ে আলোচনা না করে আলোচনা করে স্পেশাল রিলেটিভিটি নিয়ে। কেননা তিনি যদি তা না করতেন তাহলে সামনে গেলে মানে জেনারেল রিলেটিভিটির দিকে সোজাসুজি অগ্রসর হলে অনেক প্যারা খেতে হবে। পরে তেমন কিছু বুঝব না। তাই তিনি আগে স্পেশাল রিলেটিভিটি নিয়ে আলোচনা করেছেন। মোটকথা জেনারেল রিলেটিভিটির ভিত্তি গড়তে যা যা প্রয়োজন তার সবই আলোচনা করেছেন। যাইহোক এর পরের চ্যাপ্টার থেকে শুরু হয়েছে জেনারেল রিলেটিভিটি। যা বুঝতে হলেই প্রথমেই জানতে হবে স্পেস বড় হওয়া ছোট হওয়া বলতে আসলে কী বুঝায়, স্পেস টাইমের চাদর বলতেই বা কি বুঝায়? পাশাপাশি বুঝতে হবে টেন্সর, মেট্রিক সমীকরণ, পোলার কো-অর্ডিনেট সিস্টেম। এখানে মূলত টেন্সর শিখিয়ে পোলার কো অর্ডিনেট সিস্টেম বুঝানো হবে। আর এরপরের চ্যাপ্টারটা হলো আমাদের অতি পরিচিত মহাকর্ষকে নিয়ে। এখানে মূলত এই মহাকর্ষের অ্যানাটমি করা হয়েছে। মহাকর্ষ আসলে কী? কেউ বলে বল (নিউটন) কেউ বলে এটা বল নয় অন্য কিছু (আইনস্টাইন)। কে ঠিক? আরেহ ভাই এই অংশটা পড়ে আবার আমাকে মারতে আসিয়েন না। এই চ্যাপ্টারে লেখক আমাদের সোজাসুজি নিউটনের মাথার মধ্যে নিয়ে যান। যেই মুহূর্তে নিউটনের মাথায় তাল (ইয়ে মানে আপেল আরকি) পড়ে তখন তিনি কিভাবে মহাকর্ষকে আবিস্কার করেন তার কথা বলেন। এনিয়ে বলতে গিয়ে তিনি শুধু নিউটনকেই না কেপলারকে টেনে আনেন। শুধু মহাকর্ষ কী এটা বুঝানোর জন্য। যখন সবকিছু বুঝানো শেষ করে প্রমাণ করলেন যে মহাকর্ষ আসলে বল। ঠিক তখনই তিনি আইনস্টাইনকে টেনে এনে প্রমাণ করেন মহাকর্ষ কোন বল নয়। কেমনে? প্রচুর প্রশ্ন জাগছে না? এই প্রশ্নের উত্তর না হয় নাই দেই। কিছু কিছু জিনিসের উত্তর না জানাই ভালো🙄 এরপরের চ্যাপ্টার হলো বইয়ের লাস্ট চ্যাপ্টার এবং সবচেয়ে অদ্ভুত আর ইন্টারেস্টিং চ্যাপ্টার। 'ব্ল্যাকহোল'। যেটা নিয়ে একেবারে শুরুতেই আলোচনা করেছিলাম। চ্যাপ্টারের নাম থেকেই বুঝা যাচ্ছে এই চ্যাপ্টারের বিষয়বস্তু কি নিয়ে। এই চ্যাপ্টারেও এর আগের চ্যাপ্টারের মতো মহাকর্ষের জায়গায় ব্ল্যাকহোলের অ্যানাটমি করা হয়েছে। এখানে আলোচনা করা হয়েছে ব্ল্যাক হোল কি জিনিস? এটা খায় না মাথায় দেয়? কিভাবে ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়? ব্ল্যাকহোল দেখতে কেমন? এর মধ্যে আছেটা কি? কেউ যদি ব্ল্যাকহোলে অগ্রসর হয় তাহলে সে কি দেখবে? ব্ল্যাকহোলের সাথে টাইম মেশিনের সম্পর্ক কি? এসব আরকি পাশাপাশি ওই যে একেবারে শুরুর দিকে যেসব প্রশ্নের উদয় হয়েছে সে সব কিছুর উত্তর পাওয়া যাবে এই চ্যাপ্টারে। এতকিছু পড়ে যদি মনে করেন যে আপনার রিলেটিভিটি নিয়ে সবকিছু জানা হয়ে গেছে তাহলে বলব খামুন। এখনো অনেক কিছু বাকি আছে লেখক আলোচনা করার। এজন্য তিনি পুরা বইটাকে দুই খন্ডে রুপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন। আর এসব নিয়েই এই বইটার প্রথম খন্ড। তো জেনারেল রিলেটিভিটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে এখনই বইটা সংগ্রহ করতে পারেন। প্রগতিসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন বইটা। হ্যাপি রিডিং 🥰🥰🥰"

PHYSICS - The Language Of Nature

PHYSICS - The Language Of Nature , Apr 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বুক রিভিউ বই: চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি (প্রথম খণ্ড) লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী রেটিং:১০/১০ আপেক্ষিকতা শব্দটির সাথে আমার পরিচয় হয় ক্লাস নাইনে থাকতে। যদিওবা তখন বুঝতামনা এটি আসলে কি মিন করে। সবাই বলতো সব কিছুই আপেক্ষিক। কোনো কিছুই পরম না। এইভাবে ধীরে ধীরে কলেজে ওঠার পর আশেপাশের বদৌলতে আরও কিছু উদ্ভট জিনিস কণ্ঠস্থ করে ফেললাম। যেমন আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে গেলে ভর শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। স্পেস টাইমের চাদর নামে একটা জিনিস টানানো আছে। সেই চাদর কারণে অকারণে বেকে যায় ব্লা ব্লা। মোটকথা আপেক্ষিকতা সঠিকভাবে জানার ও বোঝার কোনো উপায়ই ছিলোনা। সাথে নিজেরও অনেক দোষ ছিলো। যাইহোক এবার বইয়ের কথায় আসি। আমি সাধারণত কোনো মোটিভেশনাল স্পিচ শুনি না বা পড়ি না। কারণ আমি মনে করি কারো দেওয়া মোটিভেশন কোনো কাজেই লাগে না যতক্ষণ না নিজে থেকেই মোটিভেট হওয়া যায়। যাইহোক এটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। বইয়ের ভূমিকা পড়ার সময় আমার সাথে যেটা ঘটেছিল সেটা হচ্ছে প্রতিটা লাইনে লাইনে আমি না চাইতেও ভীষণভাবে মোটিভেট হচ্ছিলাম। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা একটা মানুষের স্বপ্নের নগরী যেনো কিছুসময় পরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নিজের স্বপ্নের বীজগুলো মাটিচাপা দিয়ে এক সমুদ্র না পাওয়ার বেদনায় দিন যেতে থাকে তার। তারপর কোনো একদিন ধীরে ধীরে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে সপ্নের চারাগাছগুলো মাথা তুলে তাকে ডাকতে থাকে। ফিরিয়ে নেয় তার রাজ্যে। তার অনেক কিছু না পাওয়ার বেদনা যেনো কিছুটা সময়ের জন্য ভুলিয়ে দেয় তারা। তার গল্প শুনে ভীষন ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আর কেউ না,,,আমাদের প্রিয় নাঈম হোসেন ফারুকী ভাইয়া। বইয়ের কাহিনী শুরু হয়েছে রাস্তা নামের গল্পটা দিয়ে। রিলেটিভিটির ছোটখাটো একটা ঝলক দেওয়া হয়েছে এখানে। এরপর আছে এপিটাফ (RIP)। আছে মিলিয়ন ডলার চ্যালেঞ্জ। প্রমাণ করো,,, ডলার জিত। কখনো কি ভেবে দেখেছেন স্পেস আসলে কি? সময় কি এবং এটা কিভাবেই বা চতুর্মাত্রিক? সত্যিই কি সব আপেক্ষিক? নাকি পরম বলেও কিছু আছে? আপেল মাটিতে পড়ে নাকি মাটি উঠে এসে আপেল ধরে? আলোর চেয়ে বেশি বেগ কি পসিবল? সত্যিকরের সময় আর দূরত্ব কি? ds আর dτ ই বা কি মিন করে? কেনো এগুলা সবার জন্য সমান? এর সব ব্যাখ্যা পাবেন এই বইয়ে। বেগ বৃদ্ধি পেলে কিভাবে সময় ধীরে চলে, স্পেস ছোটো হয়ে যায় একেবারে ধরে ধরে বোঝানো হয়েছে এখানে। বেগ যোগের ক্লাসিক্যাল সূত্র কিভাবে ফেল মারে, নতুন সূত্রই বা কি সব A টু Z দেখানো হয়েছে। এরপর আছে স্পেস টাইম ডায়াগ্রাম পার্ট। এখানে পুরোটাই গ্রাফের ছড়াছড়ি। যখন যেটা লাগে লেখক তার সর্বোচ্চ দিয়ে গেছেন এইসব জিনিস তৈরি করতে। অনার্সের টেক্সট বই পড়াকালীন সময়ে ওয়ার্ল্ড লাইন, LOS এইগুলো মাথার উপর দিয়ে যেত। কিন্তু এই বইয়ের বদৌলতে এখন অনেক ক্লিয়ার হয়ে গেছে। স্পেস আসলে চাদরের মতো বাকে না। ছোট বড় হয়। এরপর বইয়ে কিছু বেসিক জিনিস আছে যেগুলো জেনারেল রিলেটিভিটি এর বেস হিসাবে কাজ করেছে। যেমন টেনসর, মেট্রিক টেনসর, টেনসরের প্র্যাক্টিস, পোলার কো অরডিনেট সিস্টেম ইত্যাদি। এর পরের টপিক মহাকর্ষ নিয়ে। প্রথমে বোঝানো হয়েছে ক্লাসিক্যাল ফিজিক্স অনুযায়ী মহাকর্ষ কেনো বল। তারপর দেখানো হয়েছে বল ধরলে আসলে কি সমস্যা হয়। কেনো এটি বল না? পৃথিবীর দুই পাশ থেকে একসাথে আপেল পড়লে পৃথিবীকে সমত্বরণে ফুলতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু কি হয়? ব্যাখ্যা পেতে আপনাকে বইটি পড়তে হবে। কেনো সবাই বুড়ো হতে চায়? জিওডেসিক কি কেনো খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে এখানে। আমরা রিলেটিভিটি পারি আর নাই পারি তবে একটা জিনিস নিয়ে প্রচুর আগ্রহ সবার। আর সেই জিনিসটা হলো ব্ল্যাক হোল। ইউটিউব দেখে দেখে এটা সম্মন্ধে অনেকেরই অনেক পপ ধারণা আছে। ব্ল্যাকহোলের মধ্যে কি ঘটে? এর ভিতর পরে গেলে কি অতীত দেখতে পাবো? ইভেন্ট হরাইজনের এপাশে ওপাশে কি ঘটে? ব্লাকহোলে পড়লে কি মারা যাবো? ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু যদি বাস্তবিক অর্থেই এগুলা ফিল করতে চান তবে আমি বলবো চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি বইটা আপনার জন্যেই (যদিনা আপনার ম্যাথ, ইকুয়েশনে অ্যালার্জি না থাকে)। এছাড়াও নিজের জ্ঞানকে ঝালাই করার জন্য বইয়ে আছে অনেক প্রশ্ন আর কুইজ। লেখকের এই শেখানোর চেষ্টাকে আমার লাল সালাম। আরও অনেক কিছু বলা যেতো এই বই সম্পর্কে। তবে যাই বলি না কেনো সেটাও অনেক কম হয়ে যাবে। আমি বইটা কলেজ ভার্সিটি পড়ুয়া সকল ছেলে মেয়েদের জন্য রেকমেন্ড করবো। বাংলায় এমন একটা বই পাওয়া আসলেই অনেক ভাগ্যের ব্যাপার। মেবি জেনারেল রিলেটিভিটির উপর বাংলায় লেখা এটিই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বই। সামনে আশা করবো লেখক আমাদেরকে তার আরো ভালো ভালো ডায়েরি পড়ার সুযোগ করে দিবেন। ভালো থাকুক লেখক। ভালো থাকুক পাঠকগণ।"

Ahammed Zihad Khan

Ahammed Zihad Khan , Apr 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"বই: চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি লেখক:নাঈম হোসেন ফারুকী পৃষ্ঠা সংখ্যা:৩৫০ (সতর্ক বার্তা এই বইটিবাপনার রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। আমার নিজেই বই শেষ না হওয়া পর্যন্ত শুধু এই বইএর কথাই মাথায় ঘোরত। এখন দ্বিতীয় অংশের অপেক্ষায় আছি।) যারা নাঈম ভাইকে চিনেন না তারা প্রচ্ছদ দেখে ভাবতে পারেন এটা কোন সাইন্সফিকসান তবে আপনার এ ধারনা সম্পুর্ন ভুল। বই এর ভেতরে যাই থাক অন্তত এত সুন্দর প্রচ্ছদ টার জন্য এই বইটা কেনা উচিৎ। যাদের বিজ্ঞান এর প্রতি আগ্রহ আছে বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান তাদের জন্য এই বইটি পড়া ফরজ। এত সুন্দর করে জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বোঝানো হয়েছে তা আপনার ধারনার বাইরে। এত কোঠিন বিষয় বোঝার জন্য আপনার বেশি কিছু জানার প্রয়োজন নেই, শুধু ক্লাস ৯/১০ এর বেসিক ক্লিয়ার থাকতে হবে।আমি নিজেই তেমন একজন ভাল ছাত্র ছিলাম না। তবুই এই বইটিবপড়তে তেমন অসুবিধা হয়নি। আপনার যদি ব্ল্যাকহোল নিয়া ফ্যাসিনেশন থাকে তাহলে আপনাকে এই বই কিনতেই হবে। এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে আসল টাইম মেশিন। বইটি পড়ার পরে যা মনে হয়েছে লেখকের পরিশ্রম অনুযায়ী এই বইটির মূল্য অত্যন্ত কম হয়ে গিয়েছে।"

Naim Rihan

Naim Rihan , Apr 17, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"#bcb_book_review বই- চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি(১ম খন্ড) রেটিং - ৩.১৪/π ট্রেনে করে জুরিখ যাচ্ছি। জুরিখে এক তান্ত্রিক আছেন যিনি নাকি যে কারো মনের ইচ্ছা পূরন করতে পারেন। চাইলেই পাঠিয়ে দিতে পারেন অতীতে কিংবা অনেক পরের কোন ভবিষ্যতে।আমার দেখা করার উদ্দেশ্যে আমি এখন বলব না। ট্রেনের ভিতরে খুব হট্টগোল হচ্ছে। ট্রেনের দুই মাথায় বসে সমান দূরত্ব থেকে দুইজন নাকি একটা বাটন প্রেস করেছেন। কে আগে আর কে পরে করেছেন এটা নিয়েই চিল্লাচিল্লি হচ্ছে। দুইজন একই সময়ে প্রেস করেছেন এটা আমি নিজে দেখেছি,আমার পাশে বসা সবাই দেখেছে অথচ প্লাটফর্ম থেকে একজন ফোন দিয়ে বলল তিনি দেখেছেন পিছনে বসা ব্যাক্তি আগে বাটন প্রেস করেছেন। ঘটনা এখানেই শেষ না একটু আগে আরেকজন ফোন দিয়ে বলল তিনি নাকি সামনের জনকে আগে বাটন প্রেস করতে দেখেছেন। যেই দুজন ফোন দিছিল এদের আমি খুব ভালো করেই চিনি। এরা আর যাই হোক কখনো মিথ্যা বলে না। মাথাটা ঘুরছে, সবার অংক মেলে আমারটা কেন মেলে না!! নিজের চোখে কি ভুল দেখলাম??জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই একটা বিশাল সাইনবোর্ড চোখে পড়ল।সাইনবোর্ডে তান্ত্রিকের ছবি দেখা যাচ্ছে। বিশাল আলখেল্লা পড়ে হাসোজ্জল ভাবে তাকিয়ে আছেন। দেখতে কিছুটা ফারুকী ভাইয়ের মত লাগে যদিও। পোষ্টারের নিচে লেখা Welcome to the house of Relativity where fantasy meets reality....... অবশেষে কাঙ্ক্ষিত তান্ত্রিকের দেখা মিলল। বিশাল হলরুম যদিও বাইরে থেকে একদমই বুঝা যায় না যে ভিতরে এত বিশাল জায়গা। রহস্যময় হলরুমের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অদ্ভুত সব ডায়াগ্রাম আর বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের ছবি। একটা দেয়ালে দেখলাম বিদঘুটে কিছু সমীকরণ লিখা। তান্ত্রিক সাহেব পরিচয় করিয়ে দিলেন " এগুলো মেট্রিক ইকুয়েশন। এই ইকুয়েশন ব্যাবহার করেই এই জায়গাটা বানানো হয়েছে।" এইখানে এইসব ইকুয়েশন আর বিজ্ঞানীদের কাজ কি মাথায় ধরল না। আমি আমার সমস্যার কথা বলতে যাবো তখনি তিনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন "সমস্যা পরে শোনা যাবে আগে এই জায়গাটা ঘুরে দেখো।" আমি বললাম আমার হাতে সময় নেই। হাসিমুখে তিনি রিপ্লাই দিলেন "সময় নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।" এই বলে আমাকে একা রেখে তিনি চলে গেলেন। আমি হাবিজাবি ইকুয়েশান আর ডায়াগ্রাম দেখতে দেখতে ভাবতে লাগলাম। কিছু সময় পরে বিরক্ত লাগা শুরু হল।আমি কত কষ্ট করে আসলাম যে উনি জাদুবিদ্যা দিয়ে আমাকে অতীতে পাঠাবেন। এখন তো উনাকে ভন্ড মনে হচ্ছে। ঠিক এমন সময় পেছন থেকে জাদুকরের গলা শোনা গেল " Don't be so tensed my boy, Science is more mysterious than magic.. Now follow me,there are still so many things to know.. জাদুকরের পিছনে পিছনে দুইটা লম্বা করিডোর পেরিয়ে আরেকটা বড় হলরুমে এসে পৌছালাম। এইখানে প্রায় শ খানেক লোক দাঁড়িয়ে আছে। তান্ত্রিককে দেখা মাত্রই সবাই তাকে নত হয়ে কুর্নিশ করল। বুজতে পারলাম এরা তার অনুসারী। মনে হয় তাদেরকে তিনি জাদুবিদ্যা শিখাচ্ছেন। আমাকে একটা জায়গা দেখিয়ে সেখানে দাড়াতে বলে নিজে চলে গেলেন তার জন্য বরাদ্ধ করা মণিমুক্তা খচিত সিংহাসন টাইপ চেয়ারটাতে।পেছনে বিশাল এক হোয়াইট বোর্ড আর তার আশেপাশে কিছু যন্ত্রপাতি চোখে পড়ল।আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই জায়গার রহস্য নিয়ে ভাবতে লাগলাম। বাইরে থেকে যেটাকে একটা নরমাল সাদা-মাটা বাড়ি মনে হয় ভিতরে পুরো ছোটখাটো একটা এলাকা। কিভাবে সম্ভব?? আমার ভাবনায় ছেদ পড়ল আর সেই সাথে বিশাল এক শক খেলাম জাদুকরের প্রথম কথাটা শুনে-"তোমরা কি জানো? জাদুবিদ্যার আসলে কোন অস্তিত্ব নেই।এই পৃথিবীতে অলৌকিক কিছুই হয় না।" জাদুকর সাহেব তার গল্প বলে যাচ্ছেন।মাঝে মাঝে বোর্ডে সমীকরণ আর ডায়াগ্রাম একে বুজাচ্ছেন। কিভাবে সময় একটি মাত্রা আর ঠিক কেন অনেক গতিতে গেলে টাইম ডায়ালেশন হয়। গতিশীল বস্তু আর স্থির বস্তুর ওয়াল্ড লাইন একে তাদের মধ্যকার সত্যিকার প্রার্থক্য আর চতুমার্তিক দুরত্ব বুঝালেন। বললেন আমরা সবাই নাকি আলোর গতিতে ছুটে চলেছি সবসময়। সাইন্সের ছাত্র হওয়াতে ব্যাপারগুলা ধরতে খুব একটা কষ্ট হচ্ছে না। নাইন-টেনের স্টুডেন্টরাও খুব সহজে ধরতে পারবে জিনিসগুলা। আমি শুনতে লাগলাম আর বিষ্ময়ে হা করে জাদুকরের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তিনি একের পর এক বলে চললেন। কিভাবে টাইম ডায়ালেশন আর লেংথ কনট্রাকশন হয়। বললেন মহাবিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল জিনিসের কথা। মারাত্মক তার বেগ,যাকে ক্রস করা কারো পক্ষেই সম্ভব না। কেউ যদি ক্রস করার চেষ্টা করে কাছাকাছি লেভেলে যায় তখন বাইরের মানুষের সাপেক্ষে কি অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা হয় তার। আমার ট্রেনের ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। আমি বুজে গেলাম কি সমস্যা হয়েছিল আসলে। জাদুকরকে এখন অনেক ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। অদ্ভুত ভাবে জায়গাটা আমার ভালো লাগতে শুরু করেছে। কেন একটা আপেল মাটিতে পড়ে, ঠিক কি হয় যে আপেলকে মাটিতেই আসতে হয়। মুক্তিবেগ আসলে কি? আমার জানা অনেক ধারণা ভেঙে দিলেন জাদুকর সাহেব। এক পর্যায়ে তিনি স্পেস- টাইম ডায়াগ্রাম নিয়ে কথা বললেন। স্পষ্ট ধারণা দিলেন ভেক্টর আর টেনসর নিয়ে। কোনো জায়গার স্পেসের বক্রতা আসলে কি মিন করে।বললেন মেট্রিক ইকুয়েশানের কথা। এই বাড়ির পিছনের রহস্য পুরোটা ক্লিয়ার করলেন। কেন বাইরে থেকে দেখতে ছোটখাটো একটা বাড়ি কিভাবে ভিতরে এত বড় দেখা যায়। বাইরের দুনিয়া নাকি আমাদেরকে এখন লিলিপুট সাইজের দেখতেছে। আমি অবাক হলাম। আশে-পাশে সবার দিকে তাকালাম। হাত দিয়ে নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরখ করে দেখলাম।অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়ল না। এরপর শুরু করলেন ব্লাকহোলের জন্ম নিয়ে। ব্যাপারগুলা সবে বুজতে শুরু করেছি। কিভাবে একটা ব্লাকহোলের জন্ম হয়। সিংগুলারিটি আসলেই কি একটি বিন্দু??ইভেন্ট হরাইজেনের কাছাকাছিতে কিভাবে সময় আর দুরত্বের ধারণা পাল্টে যায়। অসীম দুরত্ব কিভাবে অতিক্রম করা যায় সসীম সময়ে। ব্লাকহোল নিয়ে অদ্ভুত সব ব্যাপার জানালেন। যেই জায়গা থেকে কেউ কখনো পালাতে পারে না। ঠিক কেন পালাতে পারে না তারও ব্যাখা দিলেন। আমি আগে জানতাম যে মুক্তিবেগ বেশি হওয়ার কারণে কেউ পালাতে পারে না। আমার সব ধারণা ভেঙে দিয়ে জাদুকর বললেন স্পেস আর সময়ের অক্ষ পরিবর্তন হয়ে যায় ইভেন্ট হরাইজেন ক্রস করার পর। অনেকক্ষণ পর গল্প শেষ হল। আমার ঘোর এখনো কাটে নি। এই মনে হচ্ছে সেমাইয়ের মত ব্লাক হোলে পড়ে যাচ্ছি। আবার মনে হচ্ছে শক্তিশালী স্পেসশিপে করে ইভেন্ট হরাইজেনের চারপাশে চক্কর কাটছি। এসেছিলাম টাইম ট্রাভেল করে অতীতে যাব। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে ব্যাপারটা যত সোজা ভেবেছিলাম মোটেও তা না। আর ইনিও কোন জাদুকর নন। টাইম ট্রাভেল সংক্রান্ত সব ধারণা ভেঙে যখন ছ্যাকা খাওয়া প্রেমিকের মত বিরস বদনে বসে আছি তখন জাদুকর সাহেব আসলেন। " সো মাই বয়, নাউ টেল মি হোয়াই আর ইউ হিয়ার???????"

Santosh Kumar Datta

Santosh Kumar Datta , Apr 16, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী রেটিংঃ ৯/১০ শুরুতেই বলি, অনেক প্যাঁচানো ও কাটখোট্টা গণিতসহ রিলেটিভিটি পড়তেই ভয় লাগে।আবার সহজ করে বুঝানো লেখা পেলেতো জানার লোভ হবেই।লেখক এমন এমন গল্প দিয়ে বইয়ে ধরে রাখার প্রবণতা তৈরি করেছেন যে সহজে বিরক্তি আসবে না।লেখকের কল্পনার জগতে থাকা বিশিষ্ট বক্রিনা আপুর কথা না বললে নয়।তাছাড়া আক্কাস আলী,জসিম,স্যার আশিক স্যার,সায়েন্টিফিক মাইন্ডেড ভেড়া তো আছেই। প্রকৃতঅর্থে চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়ে লেখককে ভালোবেসে ফেলেছি।লেখার ধরনে অদ্ভুত মাদকতা আছে, যেমন কিছু গান আমার কাছে কখনো পুরনো হয় না। আমি যে লেভেলের ছাত্র তাতে বইটি একবার পড়ে সব রপ্ত করে ফেলেছি বা সব মনে রাখতে পারি এমন নয়।একসময় পরীক্ষা পাশের জন্য রিলেটিভিটি পড়ছিলাম। কিন্তু ফিল করার ক্ষেত্রে গিয়ে চরম হতাশ ছিলাম।বিশেষ করে দুটি কোর্সের কথা বলতেই হবে ১. কোয়ান্টাম মেকানিক্স ২.থিওরি অব রিলেটিভিটি। বড় বড় ইংরেজি বই পড়তে আমি অভ্যস্ত নই।খুব বিস্বাদ লাগে।আমার হতাশার লেভেল কিছুটা কমেছে এই দুটি বই পেয়ে। বাংলা ভাষায় যে কয়টা একাডেমিক ও পপুলার সায়েন্স এর বই পড়েছি তার মধ্যে বুঝে বুঝে বা চিন্তা করে পড়েছি নাঈম হোসেন ফারুকীর বই দুটি।এমনকি বই দুটি বুক সেল্ফ এ না থেকে সবসময় টেবিলে থাকে কারন আমি বেশি মনে রাখতে পারি না।আর এই দুটি বিষয় আমার খুব কঠিন লাগে। এবার বইটির ধারাবাহিকতা নিয়ে বলবো।ধানমন্ডি এলাকার পুরনো বাড়িতে বসে ক্লাস টেন এর ছাত্র মডার্ন ফিজিক্সের বই পড়ছে আর কল্পনার জগতে ডুব দিয়েছে। এখান থেকে স্পেশাল রিলেটিভিটি শুরু যার জন্য দূরত্ব, সময়,বেগ ত্বরন যোগান দেওয়া হলো।তারপর খুব সুন্দর করে সত্যিকারের দূরত্ব ও সময় যা হজম করানোর জন্য স্পেস - টাইম ডায়াগ্রাম দিয়ে বুঝানোর চেষ্টা প্রশংসনীয়। মজার উদাহরণঃ আমরা যত দ্রুত চলি বেগের খরচ সময় অক্ষ থেকে সরে গিয়ে স্হানের দিকে হতে থাকে। সামনের রাস্তা ছোট হতে হতে '0' এর দিকে যায়।সময় বাঁচতে থাকে। একসময় আলোর বেগে চললে আমাদের কাছে দূরত্ব একেবারে '0' হয়ে যায়,সময় স্হির হয়ে যায়।আমরা হয়ে যাই চিরযৌবনা। স্পেশাল রিলেটিভিটি শেষ করে জেনারেল রিলেটিভিটি শুরু করার জ্বালানি টেন্সর দিয়ে বইয়ের সূচনা করেছেন।সত্যি কথা বলতে ম্যাথমেথিক্যাল ফিজিক্স নামে একটি কোর্স পড়তে হয়েছিল ছাত্র অবস্থায়। এতে কমপ্লেক্স নাম্বার,বেসেল ফাংশন, লেজেন্ডারি ফাংশন, ফুরিয়ার সিরিজ, টেন্সর এর কিছু চ্যাপ্টার ছিল।এখানে টেন্সরের কথায় আসি - এটি কি খায় নাকি মাথায় দেয় এইটাইপের চিন্তা আসতো।শিক্ষক বাবাজিরা অংক করে দিয়ে খালাস।এর বাইরে যাবার তেমন সুযোগ ছিলনা।কিন্তু কিভাবে অংক প্র্যাকটিস করতে করতে পাশ করেছিলাম জানি না।টেন্সর আসলে এক প্রকার এ্যারে আর এর প্রতিটি সংখ্যা উপাংশ বুঝায়।আর রান্ক ১ টেন্সর, রান্ক ২ টেন্সর বা স্ট্রেস টেন্সর ভালোই ফিল করেছি।বিভিন্ন ডায়াগ্রাম, ম্যাপ আর ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করে টেন্সর নিয়ে খেলা আসলেই খুব মজার।এই কথাটি মনে থাকবেই "মেট্রিক টেন্সর না জানলে পাপ হবে"। আগের জানা চাঁদরের ধারণা পাল্টে গেছে ফারুকীর বইয়ের চাঁদরে ঢাকা পড়ে। এবার আসি মহাকর্ষ বল নিয়ে।নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র অন্যভাবে উপস্থাপন করেছেন ইলেকট্রিক বলের সাথে তুলনা করে।মহাকর্ষ ধ্রুবককে something else দিয়ে বুঝানো আর বিপরীত বর্গীয় নিয়ম বুঝাতে গিয়ে গোলকের চিত্র দিয়েছেন যা এককথায় অসাধারণ। আরো মজার হলো জিওডেসিক যা আপেল পড়েনা, পৃথিবী গিয়ে আপেলকে ধরে যা আমার কাছে একেবারে নতুন ছিল। যাক শেষের দিকে বড় বড় গাণিতিক সমীকরণ দেখে পালিয়ে গিয়েছি কয়েকবার বই ছেড়ে। আবার শুরু করেছি। আসলে গণিত ছাড়া রিলেটিভিটি বুঝানো সম্ভব কিনা জানিনা। নিজের অজ্ঞতাটা জানি যে গণিতকে গণিতের মতো বুঝিনা। বইটি যারা নবম দশম শ্রেণির স্টুডেন্ট তাদের জন্য বেশি একটা বুঝার লেভেলের হবে মনে হয় না।তারপরও তাদের উদ্দেশ্যে বলি বইটি বার বার পড়ো,কনফিউশান হলে আবার পড়ো আর নিজের গাণিতিক লেভেলটি শুধু সমস্যা সমাধানে পড়ে না থেকে ফিল করা লেভেলে নিয়ে যাও।কথাগুলো যে জন্য বলছি ছোটরা বইটি পড়লে বুঝবে কিনা আমার কাছে জানতে চেয়েছো। বাংলা ভাষায় এই ধরনের লেখক সংখ্যা ও বই আরো বেশি হওয়া উচিত।আসলে নিজের ভাষায় পড়তে পারার মধ্যে একপ্রকার শান্তি আছে। অন্যের ভাষায় পড়া মানে একপ্রকার যুদ্ধ করা। যেভাবে ধারাবাহিকতা নিয়ে আর গণিত ও ডায়াগ্রামের সমন্বয়ে বইটিকে পাঠক আকৃষ্ট করেছেন এবং অক্লান্ত যে পরিশ্রম দিয়ে বইটি লিখেছেন তার জন্য লেখককে লাল সালাম ও ভালোবাসা।"

SECRET MYSTERY

SECRET MYSTERY , Apr 9, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"অবশ্যই! 😊 বই: চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী ১. ইন্টার পাশ করে বাড়িতে এখন বসে। তাই একটু আদটু ফেবুক চালাই। বলতে গেলে ফেবুকই আমাকে চালায়। 😅 ইন্টার পাস করেছি তাই একটু একটু ত আধুনিক বিজ্ঞান, বইয়ে এবং ক্লাসে ত পড়েইছি। তাই মাঝে মধ্যে ফেবুকে ছোটখাটু একটা দুটা বিজ্ঞান সংবলিত পোস্ট করতাম। সেইরকমই একটা পোস্ট করছিলাম একদিন। পোস্টটা মোটামুটি নিজের কাছে ভালোই লেগেছিল, পাঠকরাও পোস্টটাকে ভালোই বলছিল। বাট পরে জানতে পারলাম আমি যেটা নিয়ে পোস্ট লিখেছি সেই তথ্যটা পুরোপুরি সঠিক নয়। পরবর্তীতে পোস্টটা ডিলিট করলাম। কারণ পোস্টে যদি ভুল তথ্যই থাকে তাহলে সাধারণ মানুষকে তা কেন জানাব। যাই হোক পরবর্তীতে কি ভুল হয়েছে কি ভুল হয়েছে খুজতে খুজতে সাজেস্ট পেলাম চা-কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি বইটির। হ্যাঁ! এখন যে লেখাটি পড়ছেন এই লেখাটি এই বই সম্পর্কেই লেখা হয়েছে। 🙂 ২. আমার এখন একটা বিষয় জেনে অনেক কষ্ট লাগে যে আমাদেরকে ছোট থেকে আধুনিক বিজ্ঞানের নামে যে বিজ্ঞান পড়ানো হয়েছে তা আসলে আধুনিক বিজ্ঞান নয়। আমাদের ক্লাসে আমাদের প্রিয় স্যাররা নিউটনের মহাকর্ষ সমীকরণ দিয়ে ব্লাক হোলের প্রমাণ দেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে সেই প্রমাণটি মোটামুটি যুক্তিযুক্তই ছিল। তাই আমরা সেটাকেই সত্য হিসেবে জেনে এসেছি। বাট কি লাভ যদি স্কুল-কলেজে শিখা কোনো বিদ্যা বাইরের কারো সামনে বুকে সাহস করে বলতেই না পারি? আমি ত লাভ খুজে পায় না, শুধু লস আর লস। এখন যদি আমি বলি আসলেই যে ব্লাক হোল আছে তা নিউটনের সূত্রকেই সমর্থন করে। তাহলে আপনারা যারা জানেন তারা কি আমাকে ছেড়ে কথা বলবেন? অবশ্যই নয়। এমন ঘটনা আমার সাথে ঘটেছিল। তাই এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে কেমন লাগে তা আমি মোটামুটি জানি। কিন্তু হাল ছারিনি। কীভাবে আসল তথ্য জানতে পারব তা নিয়ে প্রশ্ন করেছি। আবারও সামনে আসল চ-কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি। তাই শুরু করে দিলাম বইটি পড়া। দেখি কি কি জানতে পারলাম বই থেকে। ৩. ব্লাক হোল কি? কীভাবে কাজ করে? এ সম্পর্কে লেখক অনেক বিস্তারিতভাবে বইটিতে লিখেছেন। আমাদের নাঈম ভাই কানে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন কীভাবে নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র দিয়ে আসল ব্লাক হোলের প্রমাণ করা যায় না। আর গল্পের গল্পে বুঝিয়েছেন কীভাবে নিউটনের কালো বস্তুর টান থেকে বের হয়ে আসা যায়। এখানেই বুম করে উড়াল দিল নিউটনের সূত্র ব্যবহার করে ব্লাক হোল খুজার মতামত। তারপর শুরু হয়ে গেল বড় একটা মিশন। না এটা কোনো যুদ্ধের মিশন নয়। এটা হলো ব্লাক হোলে ঝাপ দেওয়ার মিশন। মিশনের প্রধান কি ছিলেন আমাদের নাঈম ভাই? না। মিশনের প্রধান ছিলেন আমাদের হিরো নিয়ান। তারপরও ধরা চলে নাঈম ভাই-ই হলেন মিশন হেড। কারণ তিনি নিয়ানকে পর্যবেক্ষণ করে আমাদেরকে বুঝিয়েছেন ব্লাক হোলের কোথায় কি হয়। কীভাবে অসীম দূরত্বকে পার করা যায়। কি! অবাক হলেন নাকি? অসীম বলেছি কিন্তু। মারাত্মক একটা বিষয়। কোনো ছেলেখানি কথা নয় এটা। তারপর তিনি সময় আর স্থানকে উল্টা করে দেখিয়েছেন। আচ্ছা আপনারা নুডলস বানাতে পারেন? না পারলেও কোনো সমস্যা নেই। নাঈম ভাই আপনাকে শিখিয়ে দিবেন কীভাবে আপনি নুডলস বানাবেন মানে নুডলস হয়ে যাবেন 😅। এখন ঐ নুডলস খাবেন নাকি মাথায় দিবেন তা আপনি জানেন। আমি কিন্তু ঐ নুডলসগুলো বানানো শিখে গিয়েছি এবং সেগুলো বাজারে বিক্রয় করে কিছু টাকা পেয়েছি। ঐ টাকাগুলো কি করলাম তা আমি শেষের দিকে বলব। লাইট কোণ কি? লাইট কোণের বড় ছোট হবার অনেক মজাদার আলোচনা আছে। ৪. বেগ, সময়, ত্বরণ, দূরত্ব সবই কি আপেক্ষিক? রাতের আধারে বাস ড্রাইভারের সাথে চুক্তি করে রাস্তার একটা লাম্প-পোস্টের নিচে বল হাতে আমাদের নাঈম ভাই এই পরীক্ষাটি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন আসলেই কি এটা আপেক্ষিক, নাকি না। ৫. চ-কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি পড়লাম আর বক্কর-বক্রিনা আপুর ভাই-বোনের কাহিনীর কথা বলব না তা কি আর হয়? আমাদের বক্কর ভাই অনেক কষ্টে আছে এখন। কারণ বক্রিনা আপু মনে হয় ভেড়ার রাখালের সাথে লক্কর-চক্কর চালাচ্ছে। আমাদের বক্কর ভাই কিন্তু অনেক খিটখিটে লোক। তাই বক্রিনা আপু রাগে একবার ভাইয়ের থেকে দূরে যাই আর একবার ভাইয়ের ভালোবাসার টানে কাছে আসে। এর কারণে বক্কর ভাইয়ের অবস্থা ত কাহিল। কীভাবে? ৬. অনেক পক-পক হয়েছে। কোনো বিজ্ঞানী কি এতও পক-পক করে নাকি 😁? হুম আমিও বিজ্ঞানী হতে চাই। আমি এখন আপনাদেরকে দেখাব কীভাবে রিলেটিভিটি ভুল প্রমাণিত হলো। কিন্তু হতাসাজনক ঘটনা হলো আমি অনেক দেরি কর ফেলেছি। তার আগেই আমাদের দুজন মারাত্মক 😅 বিজ্ঞানী এর প্রমাণ করে ফেলেছে। এখন সময় হয়েছে নোবেল কোম্পানির নোবেল দেওয়ার। কিন্তু একই বিষয়ে দুজনকে কীভাবে দুটা নোবেল দিবেন তারা? নোবেল ত একটা। এরও উপায় খুজে পেলেন তারা। একটা পরীক্ষা করা হোক। পরীক্ষা শুরু হলো। শুরু হয়ে গেল স্যার আশিক স্যার আর ড. মুহিবের মধ্যে পরীক্ষার ঝড়। ঝড় হলো। পরীক্ষা ফলাফল থেকে জানা গেল দুইজনই সমান ফলাফল পেয়েছেন। তাই নোবেল কোম্পানি তাদেরকে একটা নোবেল ই ভাগ করে দিলেন। এতে দুজনই খুশি। মোট ২০,০০০ টাকার বিনিময়ে পেয়ে গেলেন একটা নোবেল। [বলা যায় <নোবেল> পেয়েছে!] এতে উনারা খুশি হবে না ত. আমরা খুশি হব? কিন্তু সবার পেটে এই খুশি হজম হলো না। ইব্রাহিম খাঁ আর আক্কাস আলীর মধ্যে শুরু হয়ে গেল তুমুল ঝড়। না এটা কোনো পরীক্ষার ঝড় নয়৷ এটা হলো বিদ্রোহীর ঝর। কেন ঝড় শুরু হলো তাদের মধ্যে? শুরু করে দিন চ-কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি। যাই হোক নোবেলে জন্য তাদের মধ্যে ভালো খারাপ যেমনই ঝড় হোক না কেন এই ঝড়ের মাধ্যমে পৃথিবীর অনেকটাই উপকার হয়েছে। ৭. কি গোসল করতে গিয়ে কাদা ছুরাছুরি না করলে গোসলের মজা আসে না নাকি? আমাদের লেখকেরও একটু-আদটু কাদা নিয়ে ছুরাছুরি করতে মন চায়। কিন্তু তিনি পুকুরে কাদা ছুরাছুরি করেন না। তিনি ছুরাছুরি করেন আস্ত একটা ট্রেনের মধ্যে। কিন্তু কেন? ৮. পড়তে পড়তে যখন চা-কফি খাবেন তখন আপনাকে আস্তে আস্তে গল্পের মাধ্যমে বুঝাবেন, ছায়া কি? খায় না মাথায় দেয়। 😁 আবার আপনি আপনার নতুন বিয়ে করা বউয়ের লাল সারিকে কীভাবে নীল দেখবেন। আরও অনেক কিছু। ৯. বিয়াটা ত করেই ফেললেন!😁 এখন একটা সুন্দর ঘর লাগবে। তাহলে আর দেরি কেন? ঘর তৈরির কাজ দিয়ে দিন আমাদের চেনা পরিচিত বক্কর-বক্রিনার BNB ডিজাইন কোম্পানিতে। আপনার ঘরের ডিজাইনটা একটু দেখে আসা যাক। ড্রয়িং রুমকে বানাতে চান ফুটবল মাঠ! টয়লেটের কমোডের স্থানে থাকবে ব্লাক হোল! আর বউ যখন ঝাটা নিয়ে তারা ধরবে তখন পালাবার জন্য আপনার কি ওয়ার্মহোল দরকার? আমার বর্তমানে দরকার নেই। কারণটা গোপনই থাক 😁। এরকম ঘর কীভাবে বানানো হয় তা লেখক অনেক সুন্দর করে বুঝিয়েছেন। ১০. এতক্ষণ ত বললাম বইয়ের বিষয়ে এখন একটু আমার মতামতটা বলি। বলতে গেলে জেনারেল রিলেটিভিটি নিয়ে এটা আমার প্রথম পড়া এমন একটা বই যা আমাকে রহস্যের রসাল স্বাদ দিয়েছে তার সাথে দিয়েছে রহস্যময় সমীকরণে ভরা একটা থালা। যা লেখক একে একে খুব সুন্দর করে বুঝিয়েছেন। যা থেকে অবশ্যই অনেক কিছুই শিখার আছে। আর তার পাশে ত গ্রাফে ভরা পানির গ্লাস রয়েছেই। পানি যেমন খেতে, তেমন কোনো সমস্যা হয় না। ঠিক তেমনি ccgr এর গ্রাফগুলো প্রায় সবগুলোই গিলতে তেমন সমস্যা হয় না। কারণ হলো লেখকের জাদু। ১১. বলতে গেলে এমন বই আমি এখন পর্যন্ত বাংলায় দুটা খুজে পায়নি। যেখানে আপনাকে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রায় সকল চাহিদাই পূরণ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে বাঙালিদের মধ্যে আসল বিজ্ঞান নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় আছে নাকি? তারা এখন পড়ে আছে এটা ঠিক ঐইটা ঠিক। আমি চিন্তা করি আমাকে যদি ঐদিন ভুল না ধরিয়ে দিত তাহলে আজ আমিও আসল রহস্য থেকে অবহেলায় পড়ে থাকতাম। বলতে থাকলে আরও অনেক অনেক বলা যাবে। কিন্তু আর এগোব না। ১২. যে যা মনে করে করুক না কেন। কিন্তু আমি বাঙালি হিসেবে নাঈম ভাইয়ের মতো একজন বাঙালী পেয়ে গর্বিত। তিনি যা আমাদেরকে দিয়ে যাচ্ছেন তা অনেক অনেক মূল্যবান। আমরা যদি এগুলো ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারি তাহলে হয়ত একদিন আমাদের এই রং-মার্কা বাঙালি মানুষদেরকে সঠিক রহস্যের দিকে ধাবিত করাতে পারব। বই সম্পর্কে তেমন ভালো লিখতে পারি না। তাও চেষ্টা করেছি। ভুল হলে অবশ্য ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন এবং তা বুঝিয়ে দিলে আরও খুশি হব। 🙂 ১৩. মনে আছে ঐ নুডলসের কথা! ঐ নুডলস বিক্রয় করা টাকা দিয়ে একটি ট্রেনের টিকি বুক করেছি। যে ট্রেনের ড্রাইভার আমাকে নিয়ে যাবেন এক রহস্যময় রাজ্যে, দেখাবেন অপরুপ এক সুন্দরীকে। যার মাধ্যে আমরা অনেক অনেক রহস্যের মুখস খুলতে চলেছি। যদি আপনারাও যেতে চান তাহলে আজকেই একটি টিকি বুক করে ফেলুন। বর্তমানে আর তলোয়ারের যুদ্ধ হয় না। এখন যুদ্ধ হয় প্রেমের। তাই শান্তি আর শান্তি। 😁 ধন্যবাদ। 🙂"

Aazmaine Alif Abrar

Aazmaine Alif Abrar , Apr 4, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"Gravity Isn't any force at all. Gravity is the most abstract thing that I've ever known - the curvature of spacetime. বইঃ চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি(প্রথম খন্ড), লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী। ডোরেমনের পেটে থাকা সেই ছোট্ট পকেটটির কথা মনে আছে? যেখানে ডোরেমন ছোট-বড় হাজার হাজার গ্যাজেট লুকিয়ে রাখত। আমার মনে আছে, সেই গ্যাজেটগুলোর মধ্যে একটি  টেলিপোর্টেশন দরজা ছিল, যার চৌকাট পার হলে মূহুর্তের মধ্যেই পৃৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে যাওয়া যেত। আমার শিশুমনে প্রশ্ন জাগত, ডোরেমন কিভাবে এত ছোট একটা পকেটে এইরকম বিশাল আকারের একটি দরজা ঢুকাতে পারত? শুধু এই দরজাই নয়, এরকম অসংখ্য গ্যাজেট ডোরেমনের সেই পকেটে থাকত। আমি ভাবতাম, ওগুলো সেখানে আটত কিভাবে? মাকে প্রশ্ন করে করে বিরক্ত করে ফেলতাম। মা জবাব দিত, "বাবা, ওগুলো কাল্পনিক জিনিস। বাস্তবে সম্ভব না। এগুলো জাস্ট টিভিতে দেখানোর জন্য বানানো হয়েছে।" কিন্তু আমার কৌতুহলী মন কি বাস্তব আর কল্পনা মানে! নিজেকে প্রশ্ন করতাম, কিভাবে নবিতার টেবিলের ডয়ারের ভিতরে থাকা টাইম মেশিনটি তাদেরকে অতীত আর ভবিষ্যতে নিয়ে যেত? বড় হওয়ার সাথে সাথে নতুন অনেক কিছু শিখলাম এবং একটা সময় শিশুকালের সেই ফ্যান্টাসিগুলোকে ভুলে যেতে শুরু করলাম। ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সেই ঘটনার প্রায় ১০ বছর পরে পদার্থবিজ্ঞানের একটি থিওরি নিয়ে একটু পড়াশোনা গিয়ে আমি হঠাৎ উপলব্ধি করতে পারলাম যে ডোরেমনে দেখানো এই ঘটনাগুলো বাস্তবেও সম্ভব এবং আমার শিশুকালের সেই প্রশ্নগুলোরও অনেক সুন্দর ব্যাখ্যা আছে প্রকৃৃতির কাছে। আর যে থিওরিটি আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর সক্ষম তার নাম হলোঃ জেনারেল রিলেটিভিটি। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি (প্রথম খন্ড) হলো জিআরের জটিল এবং কাঠখোট্টা গণিতকে মনের গভীরে অনুভব করানোর বই। ১৯১৫ সালে আইনস্টাইন মহাকর্ষ তত্ত্বের একটি জেনারেলাইজড ভার্সন আবিষ্কার করেন যা মহাকর্ষের প্রকৃৃতিকে খুবই নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করে। আর সেই তত্ত্বের নাম হলো জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বা সাধারণ আপেক্ষিকতা। কিন্তু সাধারণ আপেক্ষিকতা বোঝা মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়। টেন্সর ক্যালকুলাস থেকে শুরু করে রিম্যানিয়ান জিওমেট্রির মতো গণিতের জটিলতম সব অংশ একীভূত হয়ে আছে এই একটি থিওরিতে। তাই জেনারেল রিলেটিভিটির ট্রাডিশনাল টেক্সট বইগুলোতে  লাইনের পর লাইন পার্শিয়াল ডেরিভেটিভ থেকে শুরু করে অসংখ্য ডায়াগ্রাম এবং কাঠখোট্টা মিনিংলেস গাণিতিক ইকুয়েশন হয়তো খুঁজে পাবেন আপনি। সেদিক থেকে চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটির প্রথম খন্ড সম্পূর্ণ আলাদা একটি বই। এটিও টেক্সটবুক, কিন্তু তার সামনে আরেকটা ওয়ার্ড বসবে- ইন্টুইটিভ টেক্সট। পুরো বই জুড়ে প্রায় ৯০০’র বেশি সমীকরণ রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সমীকরণ লিখেই বসে থাকেননি লেখক। প্রতিটি সমীকরণ আসলে কি বোঝায় এবং কোথা থেকেই বা এই সমীকরণটি আসলো তার সবকিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে এখানে। কখনো টেক্সট বইয়ে সাই-ফাই গল্প থাকে শুনেছেন? হয়তো না। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি শুরুই করা হয়েছে একটি সায়েন্স ফিকশন গল্প দিয়ে যার নামঃ রাস্তা। গল্পটা দারুণ ছিল। তবে সেই গল্পটির কাহিনীর মধ্যেই বইয়ের সবচেয়ে বড় টুইস্ট লুকিয়ে ছিল- ব্ল্যাকহোল। এরপরে আসে এপিটাফ। জেনারেল রিলেটিভিটি আবিষ্কারের পিছনে যাদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে  তাদের প্রত্যেককেই এই অংশে স্বরণ করা হয়েছে। তারপরের চ্যাপ্টারে লেখক ফিজিক্সের বেসিক টার্মগুলো যেমন স্থান, সময়, বেগ, মাত্রা ইত্যাদি অনেক সুন্দর করে বোঝানো হয়েছে। হুট করেই স্পেশাল রিলেটিভিটির মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়নি। বইটি অনেকটা সিড়ির মতো, ধাপে ধাপে পাঠককে প্রতিটি জিনিসের একেবারে গভীরে নিয়ে গিয়েছেন লেখক। স্পেশাল রিলেটিভিটি চ্যাপ্টারের মধ্যে ছিল সত্যিকারের সময়, দৈর্ঘ্য সংকোচন, স্পেসটাইম ডায়াগ্রাম এবং ভরশক্তি সম্পর্কসহ আরও অনেক কিছু। আমার মতে, এই চ্যাপ্টারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্পেস-টাইম ডায়াগ্রাম। কেননা পরবর্তীতে জেনারেল রিলেটিভিটি বোঝাতে এই ডায়াগ্রামকে বেশ ইফেক্টিভলি ব্যবহার করেছেন লেখক। ভরশক্তির সমতুল্যতার খুবই সুন্দর একটু ব্যাখ্যা রয়েছে এই বইয়ে। আপেক্ষিক ভরের পুরাতন নোটেশন এবং নতুন নোটেশনকে খুবই সিম্পলভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এর আগে এই জিনিসটি নিয়ে আমার মাঝে অনেক কনফিউশন ছিল। বই পড়ার পর ক্লিয়ার হয়েছে। এরপরের টপিক মেট্রিক সমীকরণ।এই লেখার শুরুতে ডোরেমনের পেটে থাকা পকেটের কথা বলেছিলাম না, যেখানে ছোট-বড় অসংখ্য গাজেট লুকিয়ে রাখা যায়। আসলে এই ঘটনা বাস্তবেও ঘটতে পারে, এর জন্য বেশি কিছু করতে হবে না,জাস্ট স্থানকালকে টেনে একটু বড় করতে হবে যাতে করে স্কেল ছোট হয়ে যায়। আর এই ঘটনাকে বইতে যেভাবে ইন্টুইটিভলি ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা আমি জিআরের কোনো টেক্সট বইয়ে পাই নি। মেট্রিক ইকুয়েশনের মানে বোঝার পর আমি শিহরিত হয়েছিলাম। আমি এখানে ডোরেমনের পকেটের উদাহরণ দিয়ে যেটা বোঝাতে চাচ্ছি, এই বইয়ে লেখক একই কাজ করেছেন জাস্ট হ্যারি পটারের কাহিনী টেনে। তারপর বক্রিনা আপু আর একটি ভেড়ার মাধ্যমে মেট্রিক ইকুয়েশনের সত্যিকার অর্থ বোঝানো হয়। বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার ছিল পাঁচজনঃ আক্কাস আলী,বক্রিনা আপু, বক্কর ভাই, গণিতে পারদর্শী একটা ভেঁড়া আর নিয়ান। পরের ধাপঃ মহাকর্ষ-জেনারেল রিলেটিভিটির প্রাণকেন্দ্র। এই চ্যাপ্টারে মহাকর্ষের পুরো জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে। নিউটনিয়ান গ্র্যাভিটি থেকে সমতুল্যতার নীতি সবকিছু এই চ্যাপ্টারে স্থান পেয়েছে। বইয়ের সমতুল্যতার নীতির অ্যাপ্রোচটি একেবারে ইউনিক ছিল। মহাকর্ষ আর ত্বরণ যে একই জিনিস এই সম্পূর্ণ বিষয়টি স্পেসটাইম ডায়াগ্রাম দিয়ে বুঝিয়েছেন লেখক। আসলে স্পেসটাইমে কার্ভেচার তৈরি হওয়ার সাথে মহাকর্ষের কি সম্পর্ক তা অনেক টেক্সট বইয়ে ভালোভাবে বলাই থাকে না। এদিকে  চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি’র প্রথম খন্ডে এই ব্যাপারটির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতক্ষণ চা কফির ইউনিকনেস নিয়ে অনেক কথা বললাম কিন্তু যেই একটা জিনিস এই বইটিকে ইউনিক করার জন্য যথেষ্ট তা হলো জিওডেসিক। জেনারেল রিলেটিভিটির প্রায় সব টেক্সটবুকগুলো জিওডেসিক ইকুয়েশনের ডেরিভেশন করতে গিয়ে ল্যাগ্রাঞ্জিয়ান মেকানিক্সসহ ভ্যারিয়েশনাল ক্যালকুলাস টানে সেখানে চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটিতে মাত্র কয়েকটা সিম্পল ডায়াগ্রাম এবং সহজ কিছু ডিফেরেন্সিয়েশন দিয়ে জিওডেসিক ইকুয়েশনের ডেরিভেশন করা হয়-যেটি আসলেই মাইন্ড ব্লোয়িং ছিল। এখন যে চ্যাপ্টারটি নিয়ে কথা বলব, সেটি এই বইয়ের লাস্ট এবং আমার সবচেয়ে ফেভারিট চ্যাপ্টার- ব্ল্যাকহোল। এই বইয়ের যে দুইটি জিনিস আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে তা হলোঃ এর ভূমিকা এবং এই চ্যাপ্টারের শুরুতে থাকা একটি সাইফাই গল্প- মেইজ। নিউটনিয়ান ব্ল্যাকহোল, মুক্তিবেগ, শোয়ার্জচাইল্ড মেট্রিক, ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজন, ইভেন্ট হরাইজনের বাইরে এবং ভিতরে, স্থান আর সময়ের চিহ্ন অদল-বদল হওয়া, রিন্ডলার স্পেস, ক্রুস্কাল মেট্রিক,ওয়ার্মহোল,কার মেট্রিক, ঘূর্ণায়মান স্থানকাল, কার ব্ল্যাকহোলের আর্গোস্ফেয়ার থেকে শুরু করে একেবারে রিঙ্গুলারিটি পর্যন্ত কি নেই এই চ্যাপ্টারে! এই বইয়ের সবথেকে মজাদার এবং টুইস্ট সমৃৃদ্ধ চ্যাপ্টার ছিল এটি। ব্ল্যাকহোলের ভিতরে ঘটতে থাকা প্রতিটি ঘটনা যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।বইয়ে উপরের প্রতিটি টার্ম পড়তে গিয়ে আমার মনে হচ্ছিল যে আমি এগুলোকে ভিজ্যুয়ালাইজ করতে পারছিলাম। এই চ্যাপ্টারের একেবারে শেষে ছিল বইয়ের সবচেয়ে বড় বিস্ময়- সত্যিকারের টাইম মেশিন।( সিক্রেট ম্যাসেজঃ কার ব্ল্যাকহোলের নিষিদ্ধ অঞ্চলে যদি সত্যি সত্যি কার মেট্রিক কাজ করে তবে আমরা পেয়ে যাবো সত্যিকারের জেনারেল রিলেটিভিস্টিক টাইম মেশিন। যা দিয়ে আমরা ইচ্ছামতো অতীত আর ভবিষ্যতে ঘুরে বেড়াতে পারব। কিন্তু...কিন্তু...কিন্তু এই টাইম মেশিন আছে কার ব্ল্যাকহোলের রিঙ্গুলারিটির ভিতরে, আর এই ব্ল্যাকহোলের আর্গোস্ফেয়ার আর দুইটি ইভেন্ট হরাইজন পার হয়ে কারো পক্ষে রিঙ্গুলারিটি পর্যন্ত  জীবিত অবস্থায় পৌঁছনো অসম্ভব! তাছাড়াও কার মেট্রিক সব জায়গায় কাজ নাও করতে পারে) এই বই পড়তে গিয়ে লেখকের সেন্স অব হিউমার খুব ভালোভাবেই টের পেয়েছি। এত চমৎকারভাবে জেনারেল রিলেটিভিটির মতো বিষয়কেও যে ফিল করা যায় তা আমার আগে জানা ছিল না। যাই হোক, রিভিউ এখানেই শেষ করছি। বইটি নিয়ে আরও অনেক কিছু শেয়ার করার ইচ্ছা ছিল, তবে লেখা ইতিমধ্যেই অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। খেয়াল করবেন, আমি কিন্তু এই বইটির কোনো রেটিং দেয়নি। কারণ আমি মনে করি রেটিং দিয়ে কখনোই একটা বইকে জাজ করা যায় না যতক্ষণ না আপনি পুরো বইটি পড়বেন। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটির একেবারে লাস্ট পেইজে রেফারেন্সে দেওয়া বইগুলোও পড়েছি আমি। তবে এত সুন্দর উপায়ে প্রতিটি গাণিতিক টার্মের মিনিং বোঝানো বাকি টেক্সট বইগুলোতে পাইনি। এককথায় এই বইটি অসাধারণ। বইটি পড়ার সময় আমার মনে হয়েছে আমি যেন কোনো অ্যাডভেঞ্চারাস জার্নিতে আছি। চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি প্রথম খন্ড নিয়ে একটি বুক রিভিউ টাইপ ভিডিও বানানোর প্ল্যান আছে। তখন আরও অনেক বিষয় শেয়ার করা যাবে। এখানেই ইতি টানছি। পুরো লেখাটি পড়ে থাকলে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।"

Azizul Kibria

Azizul Kibria , Mar 31, 2022

★ ★ ★ ★ ★
যাচাইকৃত মূল্যায়ন

"আমার লেখালেখির অভ্যাস তেমন নেই, অনেক কথাই হয়তো বাদ পড়ে যাবে। তবে CCGR একটা থ্রিলার উপন্যাসের থেকে কোনো অংশে কম নয়, এর পাতায় পাতায় রূপকথার নির্যাস। পড়তে গিয়ে এমন কিছু মুহূর্ত পেয়েছি, যার সৌন্দর্যে কবির কল্পনাও নস্যি। এমন সুন্দর কিছু অনুভূতিই আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। স্পেস টাইম ডায়াগ্রাম ছিল আমার প্রথম বিস্ময়। ইন্টারের টেক্সট বইয়ে SR আগেও পড়েছি, কিন্তু ডায়াগ্রাম থেকেই প্রথমবার সবকিছু ভিজুয়ালাইজ করতে পেরেছি। বইতে আছে টুইন প্যারাডক্সের একটা satisfying সমাধান। মজার কথা হচ্ছে বইয়ে টানেল প্যারাডক্স / ল্যাডার প্যারাডক্সের আলোচনা নেই, কিন্তু পড়ার পর আমি নিজেই সমাধানটা বের করতে পেরেছি। SR এর পরের চ্যাপ্টারে রয়েছে GR এর জন্য দরকারি ম্যাথ। স্পেসটাইমের কার্ভেচার আসলে কী বোঝায় এই চ্যাপ্টারেই সেটা ফিল করতে শুরু করি। ড্রয়িংরুমের উদাহরণ থেকে স্পেসটাইমের পরিবর্তন বোঝানো বইয়ের অন্যতম হাইলাইট। একটা চা কফির বিরতিতে রয়েছে আইনস্টাইন রিং। দূর নক্ষত্রের আলো গোল হয়ে তৈরি করছে অনিন্দ্যসুন্দর এক বলয়, আর রিলেটিভিটি ছাড়া এটার ব্যাখ্যা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বইয়ের শেষ চ্যাপ্টারের নাম ব্ল্যাকহোল। এই চ্যাপ্টারের একেকটা পাতা একেকটা নতুন বিস্ময়। একটা সায়েন্স ফিকশন দিয়ে চ্যাপ্টার শুরু হয়েছে, সেটা মনে পড়লে এখনো গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। ব্ল্যাকহোলের মুক্তিবেগ আলোর চেয়ে বেশি জন্য এখান থেকে কিছু বেরোতে পারে না, এ ধারণার খণ্ডন রয়েছে একটু পরেই। "ইচ্ছা করলে ১ মি./সে. বেগেও পৃথিবী ছেড়ে অন্য গ্রহে চলে যাওয়া যায়" - এটা CCGR ই আমাকে প্রথম উপলব্ধি করিয়েছে। ব্ল্যাকহোলের প্রান্তসীমা ইভেন্ট হরাইজন, এর ভেতরের অংশটা জাস্ট pure euphoria । স্পয়লার না দিয়ে স্রেফ এটুকু বলছি, ব্ল্যাকহোলের ভেতরে থাকা কোনো ব্যক্তি দেখতে পারবেন বহির্বিশ্বের অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত- সব একই সাথে। বইয়ের সর্বশেষ এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশটা হচ্ছে Kerr black hole। এর ভেতরই লুকিয়ে আছে সত্যিকারের টাইম মেশিন। আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় একদম শেষ পাতায় ইন্টারভ্যাল এর লেখনশৈলীর কথা। কল্পকথার চেয়েও বিচিত্র বাস্তবতার এই আখ্যান তুলে ধরার জন্য CCGR এর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ঠিক এতটাই চমকপ্রদ দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষায় লেখা শেষ করছি।"

Debojyoti Mondal

Debojyoti Mondal , Mar 22, 2022

★ ★ ★ ★ ★

"লেখকের লেখার স্টাইল আমায় বরাবরই ভালো লাগে, এখানেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। মূলত দুটো বিষয় নিয়ে বলব। এক, লেখকের আগের চা কফি আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স বইতে আমার একটা অভিযোগ ছিল যে ওখানে অঙ্কের ক্যালকুলেশান অনেক কম ছিল। বেশিরভাগই গল্প ছিল।ফলে কোনোও জিনিস কি করে এল, কেন এল সেটা বুঝতে একটু সমস্যা হচ্ছিল। এই বইতে সেটা পুষিয়ে গেছে। অনেক গ্রাফ, সমীকরন, অঙ্ক আর ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে বিস্তারিত এক্সপ্লেন করে বিষয়টা অনেক সহজে সুন্দর করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের মেট্রিক সমীকরনকে আসলে সেগুলো কি বোঝায় তা খুব সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। দুই, যে কোনোও রিলেটিভিটির বই পড়তে গেলে প্রথমেই যে বিরক্তিকর জায়গাটা আসে সেটা হল ডিফারেন্সিয়াল জিওমেট্রি আর টেন্সর। প্রায় কোনোও বই তেই টেন্সরের ফিসিকাল মিনিং সেইভাবে ব্যাখ্যা করে দেওয়া থাকে না। টেন্সর সম্পর্কে বেশিরভাগ বইতেই লেখক ধরেই নেন যে পাঠক অলরেডি অনেক কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড জানে। ফলে প্রায় ওপর ওপর দিয়ে বলে ছেড়ে দেয়। এই বইতে লেখক ভেক্টর ও টেন্সরের বিভিন্ন কম্পোনেন্ট গুলো আসলে কি বোঝায় তার মানে কি সেগুলো খুব ভালো ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে রিলেটিভিটিতে এনার্জি মোমেন্টাম টেন্সরের বিভিন্ন কম্পোনেন্টগুলো আসলে কি বোঝায় তা বললেও তার কারন তিনি বলেন নি। খ্রিস্টোফেল সিম্বোল, কার্ভেচার এগুলোর ব্যাপারে লেখক খুব বেশি গভীরে যান নি। আশা করব সেগুলো দ্বিতীয় খন্ডে পাওয়া যাবে। বাকি, লেখকের লেখার স্টাইল সম্পর্কে কোনোও কথা হবে না। বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলো লেখক যেভাবে গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন তা সত্যিই প্রশংসার। এই বইতেও মেট্রিক থেকে শুরু করে জিওডেসিক, ব্ল্যাক হোলের সমীকরন ইত্যাদির অসাধারন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যেটুকু খিদে রয়ে গেল আশা করছি সেটা দ্বিতীয় খন্ডে পুষিয়ে যাবে। এটা ছিল রিলেটিভিটির ওপর ইন্ট্রোডাক্টারি লেভেলের বই(পপ সাইন্স নয়)। যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ আছে কিংবা যারা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিষয় নিয়ে লেখাপড়া চালু করেছে তাদেরকে আমি অবশ্যই বইটি রেকমেন্ড করব।"

প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)

2 টি

বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর

Q

যারা বিজ্ঞানের ছাত্র না তারা কি এই বইটা পড়তে পারবে???

Siam 012 • 17 Sep, 2026
A
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য জনপ্রিয়-বিজ্ঞান ধাঞে লেখা, তাই বিজ্ঞানের ছাত্র না হলেও পড়া যাবে। ধন্যবাদ।
Zakariya Arif • 17 Sep, 2026
Q

page

Hasanat Raiyan Bhuiya • 27 Apr, 2023
A
জি, বইটির মোট ৩৫১ পৃষ্ঠা।
Al Amin Sarker • 27 Apr, 2023

সম্পর্কিত অন্যান্য বই

সবগুলো দেখুন →
My First Padded Board Books of Nursery Rhymes
একটু পড়ে দেখুন
My First Padded Board Books of Nursery Rhymes ওয়ান্ডার হাউজ বুকস
কোনো রেটিং নেই
TK. 598 -35% OFF
TK. 389
My First Padded Board Books of Times Table
একটু পড়ে দেখুন
My First Padded Board Books of Times Table ওয়ান্ডার হাউজ বুকস
কোনো রেটিং নেই
TK. 598 -0% OFF
TK. 598
বর্ণপাঠ -প্রথম ভাগ (প্লে-নার্সারি)
একটু পড়ে দেখুন
বর্ণপাঠ -প্রথম ভাগ (প্লে-নার্সারি) হাসান রাউফুন
(5)
TK. 100 -21% OFF
TK. 79
গণিতপাঠ -২য় ভাগ (কেজি-জুনিয়র ওয়ান)
একটু পড়ে দেখুন
গণিতপাঠ -২য় ভাগ (কেজি-জুনিয়র ওয়ান) হাসান রাউফুন
(2)
TK. 100 -21% OFF
TK. 79
মজায় মজায় লিখি-ও-পড়ি (কোড -১১৭)
একটু পড়ে দেখুন
মজায় মজায় লিখি-ও-পড়ি (কোড -১১৭) সিসিমপুর
(4)
TK. 280 -11% OFF
TK. 249
আদর্শ গণিত প্রথম শ্রেণী
একটু পড়ে দেখুন
আদর্শ গণিত প্রথম শ্রেণী মোঃ আঃ জব্বার
কোনো রেটিং নেই
TK. 110 -32% OFF
TK. 75
বর্ণপাঠ - ২য় ভাগ (কেজি-জুনিয়র ওয়ান)
একটু পড়ে দেখুন
বর্ণপাঠ - ২য় ভাগ (কেজি-জুনিয়র ওয়ান) হাসান রাউফুন
(2)
TK. 120 -26% OFF
TK. 89
আদর্শ ধারাপাত ও অংক শিক্ষা
একটু পড়ে দেখুন
আদর্শ ধারাপাত ও অংক শিক্ষা আনিকা তাসনুভা
(2)
TK. 100 -31% OFF
TK. 69

বইটির রিভিউ লিখুন

আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।

বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন

আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!

আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।

"চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।

লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন

রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।

বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন

সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।

বইটি শেয়ার করুন

বন্ধুদের সাথে এই বইয়ের তথ্য শেয়ার করতে পারেন

বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন

পাতা:

পাতা 1
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 1 / 17
পাতা 2
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 2 / 17
পাতা 3
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 3 / 17
পাতা 4
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 4 / 17
পাতা 5
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 5 / 17
পাতা 6
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 6 / 17
পাতা 7
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 7 / 17
পাতা 8
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 8 / 17
পাতা 9
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 9 / 17
পাতা 10
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 10 / 17
পাতা 11
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 11 / 17
পাতা 12
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 12 / 17
পাতা 13
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 13 / 17
পাতা 14
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 14 / 17
পাতা 15
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 15 / 17
পাতা 16
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 16 / 17
পাতা 17
চা কফি আর জেনারেল রিলেটিভিটি - প্রথম খণ্ড পাতা: 17 / 17
পাতা / 17
এই তথ্যটি জেনে রাখুন।

প্রগতি একটি নতুন প্লাটফর্ম হওয়ায় এখনো আমাদের কোনো ওয়ারহাউজ নেই। তাই আমরা রকমারির মাধ্যমে পন্য পাঠাবো। তবে এতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবেনা।