১ম প্রকাশ, ২০২১
আঁধারের আহ্বানে
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
দৃশ্যত অদৃশ্য
আফসানা নীতু
অন্তরালে যে-জন
আফসানা নীতু
এ ডেথ ইন টোকিও
কেইগো হিগাশিনো
কামোগাওয়া রেস্তোরাঁয় আপনাকে স্বাগতম
হিসাশি কাশিওয়াই
কারমিল্লা (পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ)
জোসেফ শেরিডান লি ফানু
ভয় ও ভৌতিক সমগ্র
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | আঁধারের আহ্বানে |
| Author | আফসানা নীতু |
| Publisher | ছাপাখানা প্রকাশনী |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২১ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 153 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | Mystery, Detective, Horror, Thriller and Adventure |
| Weight | 0.3 Kg |
| ISBN | 9789843501141 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
3 Ratings and 3 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
৩টি
Tamanna Islam Shuci , Jul 17, 2021
"#বুক_রিভিউ বইয়ের নামঃ আধাঁরের আহ্বানে লিখেছেনঃ আফসানা নীতু প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রচ্ছদঃ খালেদ সাইফুদ্দিন মূল্যঃ৩৫০ টাকা প্রকাশনীঃ ছাপাখানা নামকরণঃ বইয়ের নাম আধাঁরের আহ্বানে।নামটাই কেমন যেন রহস্যময়। বইতে লেখা কাহিনীর সাথে নামটা একদম সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আধাঁরের আহ্বানেই মূলত সাড়া দেয়া হয়েছে গল্পে।রাতের আধাঁরে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথাই যেন নামকরণে বলা হয়েছে। প্রচ্ছদঃ কালো রঙের মাঝে সোনালী রঙে বড় বড় করে লেখা আধাঁরের আহ্বানে লেখাটি যেন ইশারায় ডাকে।কি যেন রহস্য লুকিয়ে সেখানে। সেই রহস্যে ডুব দিতে ইচ্ছে হয়। ফ্লাপের অংশঃ ভয়ে গুঞ্জনের পুরো শরীর হিস্টিরিয়াগ্রস্থ রোগীর মতো কাঁপতে থাকে।গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে অথচ মুখে কাপড় গোঁজা বলে একটু ঢোক গিলে যে গলার শুষ্কতা দূর করবে সে উপায় ও নেই। মাথায় হাত বুলিয়ে হাতটা চোখের সামনে ধরতেই তাতে রক্ত দেখতে পায় শোভন। অনুভব করে ঘাড় বেয়ে রক্তের ধারা নেমে তার শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে।শোভনের ক্লান্ত লাগে। কলেজের পুরোনো বন্ধু অধরার বিয়েতে শরিক হতে গুঞ্জনকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইলের পলাশডাঙ্গা গ্রামে উপস্থিত হয় শোভন।কিন্তু সেখানে যেতেই অদ্ভুত এক রহস্যের সম্মুখীন হয়। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ প্রথমেই উৎস্বর্গটা মন কেড়েছে বলবো কারণ লেখিকা তার বড় মেয়েকে উৎস্বর্গ করেছে এই ব্যাপারটা এতোই ভালো লেগেছে বলার মতো নয়।ফ্লাপ পড়ে অস্থির হয়ে বইটা পড়ার অপেক্ষা ছিল।ফ্লাপই যদি এত রহস্য রোমাঞ্চকর কর মূল ঘটনা তাহলে আর ও রহস্যে রোমাঞ্চকর ঘটনায় ভরপুর এটা বলাই যায়। শুরুটা পলাশডাঙ্গা গ্রামের ভোরের গল্প।শুরুতেই পরিবেশের এতো সুন্দর বর্ণনা সবার মন কেড়ে নিতে বাধ্য।সূর্য দেবতার ঘুম ভেঙেছে আড়মোড়া ভাঙছে কি দারুণ একটা দৃশ্য।শুধু তাই নয় তার লালচে সোনালী আলো ছোট্ট পুকুরে পড়ছে কল্পনা করতেই মন ভালো হয়ে যায়। গল্পটা শোভনের বন্ধু অধরার গল্প দিয়ে।মায়াবতী মেয়েটার বিয়ে উপলক্ষে শোভন গুঞ্জন যায় সেখানে।এদিকে সেই পলাশডাঙ্গার অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটে যায়। গ্রামের আধা পাগল যুবতী মেয়ে স্বর্ণার মৃত্যু হয় এবং তার কবর থেকে লাশ গায়েব হয়ে পাওয়া যায় শেয়ালের মৃতদেহ।গ্রামের মানুষ জ্বিন ভুতের আছড় বলে ছেড়ে দেয়। গ্রামের ইন্সপেক্টর ও তেমন গা করেনা এই ঘটনায়।অধরার অনুরোধে শোভন এই কেসটা হাতে নেয়।নিয়েই বুঝতে পারে ভয়ংকর ঠান্ডা মাথার খুনীদের সাথে এবার লড়তে হবে।পদে পদে বিপদ হাতছানি দিয়ে বেড়ায়।বিপদে পড়ে শোভন।একা শোভন নয় গুঞ্জন ও বিপদে পড়ে যায়।প্রতিটা মুহূর্ত যেন ভয়ে কাটাতে হয় কি হবে কিছুই বলা যায়।গল্পটার রহস্য এতোই ঘনীভূত হয় যে তল পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।কিছু অংশতে শোভন গুঞ্জনের দুষ্ট মিষ্টি প্রেমের গল্প আছে।অধরা আর গুঞ্জনের আনন্দ করার কথাও আছে।আর ও আছে মিতু যে কিনা শোভনের ফ্যান।পুরো গল্পটা যেন কেমন করে নিজের মাঝে পাঠককে আটকে রাখে।বইটার মধ্যে প্রেম, ভালোবাসা, হাসি,কান্না, রহস্য, রোমাঞ্চ আর ভয় সবকিছুই আছে।দারুণ সুন্দর একটা বই যা কিনা মনের তৃষ্না মেটাতে পারে। প্রিয় উক্তিঃ " না মশাই,সবার বেলাতেই মনে থাকে।নিউটন আপা নামটা এমনি এমনিই হয়নি,বুঝলে?" "একটা গোলগাল আদুরে টাইপ মেয়ে আমার জন্য টসটসে চোখে মায়া নিয়ে ঠোঁট ফুলিয়ে কাঁদছে,ভাবতেই সে সময়ের কষ্টগুলো ফিকে লাগে।মনে হয় এখন আমার জন্যও ভাবার কেউ আছে।" বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামে,ফড়িংরা সব বাড়ি ফিরে যায়।শুধু ছোট্ট চরের বুকে শীতল পাটিতে পাশাপাশি বসে থাকা এই দুই কপোত-কপোতী বাড়ি ফেরার ইচ্ছে হয়না।এভাবেই প্রিয়জনের পাশে বসে কাটিয়ে দিতে ইচ্ছে হয় জীবনের বাকিটা সময়। রেটিংঃ১০/১০"
Tasnim Afsara , Jul 17, 2021
"#বুক_রিভিউ বইয়ের নামঃ আঁধারের আহ্বানে লেখকঃ আফসানা নীতু প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রচ্ছদঃ খালেদ সাইফুদ্দিন প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০৳ ★নামকরণঃ সময়ের পরিক্রমায় পৃথিবীর বুকে পালাক্রমে নামে দিন এবং রাত। আলোক উচ্ছ্বসিত দিনের শেষে আঁধার মোড়া রাতের দৃশ্যপট সম্পূর্ণই ভিন্ন। সেই ভিন্নতার জালে জড়িয়ে রাতের আঁধারের বুকেই ঘটে যায় অজানা অনেক ঘটনা। যার সঠিক ব্যাখ্যা হয়তো দিনের আলোয় কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়। গোয়েন্দা শোভন রহমানের অনুসন্ধানে এমনই এক আঁধার কেন্দ্রিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে রচিত বই 'আঁধারের আহ্বানে'। পুরো বইটি পড়ার পর মনে হয়, উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে এরচেয়ে সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী নাম আর হতেই পারে না। সুতরাং নামকরণ পুরোপুরি সার্থক। ★প্রচ্ছদঃ 'আঁধারের আহ্বানে' নামটিতে যে রহস্য মিশে আছে তাকে পূর্ণতা দিতেই যেনো কালচে-হলুদ প্রচ্ছদটি তৈরি। প্রচ্ছদের জমিন জুড়ে আঁধার কালো রাতের বুকে হলদে আলোর ঝলকানি যেনো লুকায়িত সেই রহস্যকেই ইঙ্গিত করছে যার প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে। সেদিক থেকে প্রচ্ছদটি বইয়ের পরিপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। ★বইকথনঃ কাহিনীর শুরুতেই দেখা যায়, পিতৃ-মাতৃহীন শ্যামবর্ণের মায়াবতী মেয়েটির নাম অধরা। পেশাগত জীবনে সে ডাক্তার। খুব শীঘ্রই বিয়ে হতে চলেছে তার। অধরার হবু বর ডাক্তার সাজ্জাদ চৌধুরী। অসম্ভব সুদর্শন, ধনী, আকর্ষণীয়, দায়িত্ববান ও পরোপকারী এই মানুষটির সাথে কিভাবে যেন খুব কম সময়েই জুড়ে যায় অধরার ভাগ্য। যার ফলশ্রুতিতে সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ পেতে চলেছে। তবু যেন পিছুটান থেকেই যায় অধরার৷ কি ছিলো সেই পিছুটান? এদিকে নিজের তেমন কোনো আপনজন না থাকায় বিয়ে উপলক্ষে পলাশডাঙ্গা গ্রামে হবু শশুড়ের প্রসাদতুল্য বাড়িতেই উঠতে হয় অধরার। এই বাড়িতে অনেক অপরিচিত মানুষের মধ্যে কাজের মেয়ে স্বর্ণার সাথে বেশ ভাব হয় তার৷ কালো বর্ণের এই যুবতী মেয়েটিও ভীষণ মায়াবতী। ভয়-ডর একেবারে নেই বললেই চলে। গ্রামের সর্বত্র তার অবাধ বিচরণ। অগোছালো আচরণের জন্য মানুষ তাকে পাগল বলেই জানে। হঠাৎ একদিন নদীর ধারের ঝোপের আড়ালে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত কাঁদা পানিতে উল্টো করে গাঁথা অবস্থায় পাওয়া যায় এই মায়াবতী মেয়েটির বিকৃত, ক্ষত-বিক্ষত লাশ। প্রচলিত নানান ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে গ্রামবাসী এই অপমৃত্যুর বিভিন্ন কারণ বের করতে থাকে। স্বর্ণার এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত অধরা। চারপাশে যতই অপপ্রচার চালানো হোক না কেন, সেসব যে কেবল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা তা আর বুঝতে বাকি থাকে না অধরার। কিন্তু কেনো এত নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো মেয়েটিকে? কি এমন করেছিলো সে? প্রশ্নগুলো অধরার সাথে সাথে পাঠককেও ভীষনভাবে আঁকড়ে ধরে। এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে সামনের দিকে অগ্রসর হলে দেখা যায়, প্রচণ্ড আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে নিরীহ মেয়েটিকে উপযুক্ত বিচার পাইয়ে দেবার এক অঘোষিত লড়াই শুরু করে অধরা। তবে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক পরিবেশে এত জটিল জাল থেকে সত্য বের করে আনা তার পক্ষে একরকম দুঃসাধ্যই ছিলো বলা যায়। এমতাবস্থায় বুদ্ধিমতী অধরা সাহায্য চায় প্রিয় বন্ধু গোয়েন্দা শোভনের কাছে। অধরার কাছে সব শুনে ঘটনার জটিলতা বুঝতে পেরে আর দেরী করে না শোভন। হবু স্ত্রী গুঞ্জনকে নিয়ে দ্রুতই পৌঁছে যায় পলাশডাঙ্গায়। ইতোমধ্যে সফল গোয়েন্দা হিসেবে যথেষ্ট নামডাক রয়েছে শোভনের। গুছিয়ে পরিকল্পনা করে এই কেইসে হাত দিলেও নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, যেমন- ময়নাতদন্তের জন্য কবর খুঁড়ে লাশের বদলে মৃত শেয়াল, গভীর রাতে কবরস্থানে লাল শাড়ি পরিহিতা মাথায় ঘোমটা টানা রমণীর খিলখিল হাসি আর চারপাশের মানুষজনের অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব বারবারই বিভ্রান্ত করছিলো তাকে। কিন্তু গুঞ্জন, অধরা, মুরাদ আর মিতুর সাহসী ও সহযোগিতাপূর্ণ উপস্থিতিতে থেমে থাকেনি সে। অজ্ঞাত প্রতিপক্ষের করা আঘাতে শারীরিক ও মানসিক ভাবে আহত হলেও চরম সাহসিকতার মাধ্যমে বের করে আনেন এসব কিছুর অন্তরালে থাকা সেই ব্যক্তিটিকে। বিশ্বাস হতে চাইবে না তবুও এটাই যে সত্যি। তখন আবার পিছনে ফিরে এসে ভাবতে হয় সত্যিই এমনটা হবার কথা ছিলো কিনা? কিন্তুু না! এতোটা নিখুঁত একটা জাল ছড়ানো ছিলো যে সামান্য ফাঁকফোঁকরও পাওয়া দুঃসাধ্য। আর এসব ভাবতে ভাবতেই গল্প এগোয় চূড়ান্ত পরিণতির দিকে। পরিণতিসহ বাকি যেসব বিষয়ে মনে প্রশ্ন উদিত হয়েছে তা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে "আঁধারের আহ্বানে"। ★ভালো লাগার কিছু লাইনঃ ~"তুমি যাকে নয়, যে তোমাকে ভালোবাসে সারাজীবন তার সাথেই কাটানো উচিৎ।" ~"পৃথিবীতে ঘটমান সব ঘটনার পিছনেই কারণ বর্তমান। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা ফলাফল দেখি। এর পেছনের কারণ খুঁজতে যাই না।" ~"ডাক্তার আর উকিল, এই দুই পেশার লোক একটু নাম যশ কামিয়ে ফেললেই হলো! পেলিক্যান পাখিকে দেখিস না? উদরপূর্তি হয়ে যায় তারপরও গলার থলেতে খাবার জমিয়ে রাখে পরে খাবে বলে। তেমনি এরাও এতো টাকা পয়সা উপার্জন করার পরও গরীরদের টাকা গলার থলেতে নিয়ে জমায়।" ~"ব্যাপার না! টিকটিকি লাইনে যাবার পর থেকে লোকের কথা হজম করা শিখে গেছি। ওসব ছোটখাটো অপমান আজকাল ট্যাবলেটের মত গিলে ফেলি।" ~যাও শোভন বাবাজী! এবার তুমি একা একা যত খুশি উড়ে বেড়াও, আমার কিছুই যায় আসে না। আমি আমার ঠিকানা খুঁজে পেয়ে গেছি।" ★পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ বন্ধুত্ব, প্রেম, অনুসন্ধান আর নির্মমতার খণ্ডগল্পের সংমিশ্রণে রচিত এক পরিপূর্ণ বই 'আঁধারের আহ্বানে'। শোভন সিরিজের তৃতীয় এই বইটির কাহিনীগত প্রেক্ষাপট বইটিকে যে আকর্ষণীয় রূপ প্রদান করেছে তাতেই অনেক বেশি মুগ্ধ হয়েছি। কাহিনীর রদবলের সাথে সাথে অনুভূতিও বদলে যাচ্ছিল প্রতি মুহূর্তে। কখনো হাসি, কখনো বিষাদ, কখনো অনিশ্চয়তায় ডুবেই পার হয়েছে সময়। বইয়ের একেবারে শুরু থেকেই সবকিছু যেভাবে রহস্যের জালে জড়িয়ে যাচ্ছিল, অনেকটা সময় তাতে ডুবে থাকার পর আস্তে আস্তে শোভনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় একটু একটু করে রহস্যের সমাধান হয়েছে আর তার সেই যাদুকরী ক্ষমতায় চরমভাবে মুগ্ধ হয়েছি। চিন্তাশক্তি, দায়িত্বশীলতা আর বিচক্ষণতার যে প্রকাশ ঘটেছে চরিত্রটিতে তাতে যেকোনো পাঠকই মুগ্ধ হতে বাধ্য। একইসাথে শোভনের সহকারী মুরাদের আনুগত্য দেখে বরাবরই বিস্মিত হই। শোভনের প্রতিটা অভিযানে সে যেভাবে জান বাজি রেখে তার পাশে থাকে, বিপদাপদে ঝাপিয়ে পড়ে তা অতুলনীয়। এই বইয়ে আমার আরো একটি প্রিয় চরিত্র 'মিতু'। কম বয়সী এই মেয়েটির অসীম সাহস আর দায়িত্বশীলতার কথাও না বললেই নয়। পুরো অভিযানে তার অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও শোভন-অধরার বন্ধুত্ব, হারিকেন বলে ডাকার কারণ, অধরার হার না মানা মনোভাব, শোভন-গুঞ্জনের খুনসুটিগুলো ভালো লাগার মতই। এমনকি গল্পের শেষটাও এতটা বিস্ময়কর হবে ভাবিনি। শোভনের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় সব রহস্যের জট খোলার পর হতবাক হয়ে আত্মস্বার্থ রক্ষার এক চরম নিকৃষ্ট রূপ প্রত্যক্ষ করলাম। শোভন আর মুরাদেট সাথে সেই মুহূর্তে আমিও যেন একটুখানি কেঁপে উঠেছিলাম। এখানে লেখিকা তার লেখনীর জাদুতে এমনভাবে আঁটকে ফেলেছিলেন এত বড় গল্পটা পড়তে গিয়েও একঘেয়েমি একেবারেই আসেনি। বরং নানামুখী অনুভূতিতেই আচ্ছাদিত হয়ে কেটে গিয়েছে পুরোটা সময়। কোনো চরিত্র বা সংলাপ উদ্বৃত্ত মনে হয়নি। বরং শালীন বাচনভঙ্গির ব্যবহার গল্পটিকে পুরোপুরি বাস্তবিক করে তুলেছে। গল্পের প্রতিটি চরিত্রেই কিছু না কিছু ইতিবাচক বার্তা রয়েছে পাঠকের জন্য। তাই সকলের উচিত ভালো দিকটি গ্রহণ করে মন্দ দিকটি বর্জন করা তবেই সাহিত্য জীবনমুখী হবে। লেখিকা আফসানা নীতু আপুকে ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি বইয়ের জন্য। শোভন সিরিজের আরো অনেক বই চাই। ভালোবাসা ও শুভকামনা রইলো। ★ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০"
Odri Wahid , Jul 17, 2021
"#বুক_রিভিউ বই: আঁধারের আহ্বানে লেখক: আফসানা নীতু প্রকাশনী: ছাপাখানা প্রচ্ছদ: খালেদ সাইফুদ্দিন প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি, ২০২১ মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা ◼নামকরণ ও প্রচ্ছদ: 'আঁধারের আহ্বানে' নামটা শুনলেই মনে হয় পৃথিবীর বুকে দিনশেষে রাত নামার আগমনী বার্তা। আমাদের চারপাশে রাতের আঁধারে ঘটে যায় নানা রহস্যময় ঘটনা। এসব কিছু ঘটানোর পেছনে যেনো আঁধারের ভূমিকা অনেক বেশি। প্রায় সময়ই এই রহস্যময় ঘটনার পরিণাম হয় অত্যন্ত ভয়াবহ। এমনই রাতের আঁধারে ঘটিত একটি রহস্যময় কাহিনীকে আবর্তন করেই এগিয়ে গেছে 'আঁধারের আহ্বানে' বইটি! কালো আর হলুদের সংমিশ্রণে তৈরি প্রচ্ছদটিতে হলুদ আলোর ঝলকানি যেনো বইয়ের ভেতরকার ঘটনারই প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত করে। তাই বলা যায়, নামকরণ ও প্রচ্ছদ শতভাগ যথার্থ। ◼কাহিনী সংক্ষেপ: কলেজের পুরনো বন্ধু অধরার বিয়েতে জরুরী তলবে হবু স্ত্রী গুঞ্জনকে সঙ্গে নিয়ে টাঙ্গাইলের পলাশডাঙ্গা গ্রামে যায় শোভন। সেখানে যেতেই মুখোমুখি হয় এক অদ্ভুত রহস্যের। অধরার হবু শশুরবাড়ির দারোয়ান ফোরকান মিয়ার আধপাগল যুবতী মেয়ে স্বর্ণার অস্বাভাবিক মৃত্যু ভীষণভাবে নাড়া দিয়ে যায় শোভনকে। আর তাই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে শোভন জড়িয়ে পড়ে অদ্ভুতুরে সব কান্ডের বেড়াজালে। ইনভেস্টিগেশনের স্বার্থে স্বর্ণার কবর খোঁড়া হয়, কিন্তু মৃতদেহ গায়েব হয়ে যায় কবর থেকে,তার বদলে পাওয়া যায় একটি শেয়ালের মৃতদেহ। গ্রামের কুসংস্কারাচ্ছন্ন লোকজন বলাবলি করতে থাকে স্বর্ণার উপরে খারাপ জ্বিনের আছর ছিল তাই সে মরে শেয়াল হয়ে গেছে। কিন্তু এটা কি আদৌ সম্ভব? সম্ভব না হলে লাশটাই বা কোথায় গায়েব হয়ে গেলো? শেয়ালের লাশটিই বা কোথা থেকে এলো? এই সব প্রশ্ন উদঘাটননের জন্য বারবার ভয়ঙ্কর সব বিপদের মুখোমুখি হতে থাকে শোভন। তবু মৃত স্বর্ণাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে তুখোড় বুদ্ধি আর প্রচন্ড সাহস নিয়ে একের পর এক সকল রহস্য উন্মোচন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ শোভন। শেষ পর্যন্ত শোভন কি পেরেছিলো সকল রহস্য উন্মোচন করতে? পেরেছিলো কি মৃত স্বর্ণাকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে? শেষটা কি ছিলো জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'আঁধারের আহ্বানে' বইটি। ◼প্রিয় চরিত্র: বইয়ের সবচেয়ে প্রিয় কোনো চরিত্রের কথা যদি বলি, সেটা হলো 'মিতু'। কিশোরী এই মেয়েটির শোভন ও তার পেশা সম্পর্কে জানার আগ্রহ দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছি। তাছাড়া রহস্য উদঘাটনে মিতু'র সাহসিকতা আমাকে বিমোহিত করেছে। ◼পাঠ-প্রতিক্রিয়া: শোভন সিরিজের তৃতীয় বই 'আঁধারের আহ্বানে'। প্রতিবারের মতো এই বইটিও ছিলো অসাধারণ। শোভনের প্রচন্ড সাহস আর তুখোড় বুদ্ধির দ্বারা বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাতিয়ে রেখেছে। 'শোভন' চরিত্রটি বরাবরই আমার প্রিয়। আমি শোভনের অন্ধভক্ত বলা চলে। একটা বছর অপেক্ষার পর আবার যখন শোভনের আগমনী বার্তা পেয়েছিলাম তখন থেকেই অনেক বেশি অপেক্ষায় ছিলাম বইটার জন্য। অপেক্ষা সার্থক হয়েছে। শোভন তার সাহস আর বুদ্ধির দ্বারা আমাকে আবারও মুগ্ধ করেছে। স্বর্ণার অস্বাভাবিক মৃত্যুর নির্মম বর্ণনা পাঠককে শিউরে তুলবে। রহস্য উন্মোচনের নেশায় শোভনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠকও ডুবে যাবে এক রহস্যময় জগতে! যতক্ষণ পর্যন্ত না শেষটা কি হয়েছিলো জানা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত যেনো শান্তি নেই। এবারের রহস্য উন্মোচনে গুঞ্জনের অবদানও ছিলো অনেকখানি। তাছাড়া শোভনের সহকারী মুরাদের অনুগত মনোভাব বরাবরের মতো এবারও আমাকে মুগ্ধ করেছে। ◼ব্যক্তিগত মতামত: বইয়ের শেষে শোভনের সকল রহস্য উন্মোচনের পর সকলকে সেটি সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়ার বিষয়টি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। রহস্যে ভরপুর রোমান্টিক এই বইটিতে একদমই অশ্লীলতা নেই। পড়ার সময় কোনো ত্রুটিই চোখে পড়েনি। বইয়ের বাইন্ডিং, প্রচ্ছদ, উৎসর্গ সবই চমৎকার! সবমিলিয়ে দারুণ একটা বই 'আঁধারের আহ্বানে'। এত সুন্দর একটা বই আমাদের উপহার দেবার জন্য আবারও অনেকগুলো ধন্যবাদ আর ভালোবাসা আফসানা নীতু আপুকে।♥️"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"আঁধারের আহ্বানে" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: