১ম প্রকাশ, ২০২০
আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না
1200+ টাকার অর্ডারে পাচ্ছেন ফ্রি ডেলিভারি
এ জাতীয় আরো বই দেখুন
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
তোমাকে
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র
হুমায়ূন আহমেদ
মিসির আলি সমগ্র ২
হুমায়ূন আহমেদ
হিমু সমগ্র ২য় খণ্ড
হুমায়ূন আহমেদ
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
হুমায়ূন আহমেদ
বইটির বিস্তারিত দেখুন
| Title | আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না |
| Author | ইফতেখার হোছাইন নূর |
| Publisher | ৫২ (বায়ান্ন) |
| Edition | ১ম প্রকাশ, ২০২০ |
| Number of Pages (পৃষ্ঠা সংখ্যা) | 151 |
| Country | বাংলাদেশ |
| Language | বাংলা |
| Category | উপন্যাস ও সাহিত্য |
| Weight | 0.32 Kg |
| ISBN | 9789849445562 |
বিজ্ঞপ্তি
গ্রাহকদের অবগতির জন্য বিশেষ বার্তা
Reviews and Ratings
Rate this product
17 Ratings and 10 Reviews
পাঠকদের মন্তব্য
১০টি
HaFsa IsLam , Mar 26, 2022
"#রিভিউ বইয়ের নাম~ আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না লেখক~ ইফতেখার হোছাইন নূর প্রকাশনী- বায়ান্ন(৫২) প্রচ্ছদ- তৃত মলাট মূল্য- ২৯০ বইটা যখন প্রথমবারের মতো দেখি, তখনই বইয়ের প্রতি কেমন যেন আকর্ষণ অনুভব করি। কারণ বইয়ের নাম টা আমার অনেক বেশি ভালো লেগে গেছে। আর নামের মাঝেই আমি হুমায়ুন আহমেদের গন্ধ পাচ্ছি। সেই আকর্ষণ থেকেই বইটা সিলেক্ট করে নেই। লেখককে এর আগে আমি চিনতামও না। সেদিনই প্রথম ওনার বইটা দেখলাম। নামটা দেখে চোখ আটকে যায়। তারপরই বইটা আমি সিলেক্ট করে নেই। আর এত সুন্দর বইটা উপহার দিয়েছে BOOK SHOP পেজ। ★কাহিনী সংক্ষেপ : একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনকাহিনী। বাড়ির নাম জামিলা ভবন। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালাম সাহেব বাড়িটা কিনে নিয়েছিলেন এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে। স্ত্রী আর চার ছেলেমেয়ে নিয়ে তার ভরা সংসার। বড় মেয়ে অরুর বিয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ অফিসারের সাথে। এক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কর্মস্থলে থাকে সে। ছোট মেয়ে তরু এখনো পড়াশুনা করছে। বাড়িতে সে জিবিসি নামে পরিচিত, যার অর্থ ঘরোয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। বড় ছেলে সাজু বিএ পাস করে বেকার বসে আছে ঘরে। এলাকায় বেশ কিছু সমাজসেবামুলক কাজকর্ম করে বেশ প্রশংসিত হলেও বাবার চোখে অকর্মণ্য, অপদার্থ ছাড়া আর কিছুই নয় সে। তাই প্রায় সময়ই সালাম সাহেবকে দেখা যায় সাজুর উপর চড়াও হতে। তার ছোট ছেলে মনারও একই অবস্থা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা শেষ করে এখন বেকার। নিয়মিত এখানে-সেখানে চাকরির খোঁজে ছুটাছুটি করে সে। তবে সালাম সাহেব কখনো তার উপর চড়াও হন না। কারণ সে চাকরি না করলেও টিউশনি জুটিয়ে ফেলেছে। টিউশনি করেই সংসারে অল্পসল্প খরচ চালিয়ে যাচ্ছে কোনোমতে। ★চরিত্র-কথন : গল্পের মূল চরিত্র মনা যে কিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা বেকার। টিউশনি করে কোনোরকম চলে। চাকরির ভাইভা দিয়ে জুতার তলা ক্ষয় করা, কিঞ্চিৎ রহস্যময় এই মানুষটি অতি সাধারণের মধ্যেও অসাধারন কেউ। কঠিন বাস্তবতা যার জীবনটাকে সাজিয়ে নিচ্ছে নিজের খেয়াল খুশিমতো! মনার বড় ভাই সাজু চরিত্রটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যার প্রভাব ছিল পুরো উপন্যাসজুড়ে। অথচ তার সংলাপ অতি অল্প। এই ভালোবাসাময় চরিত্রটিও বেকার, যার ইচ্ছে ছিল গানবাজনা করা, জীবনটাকে একটু অন্যভাবে কাটানো। শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ধোঁয়াশাময় রয়ে গেছে। এছাড়াও আছে অরু আপা আর তরু। তারাও আলাদা কেউ নন। আমাদের আশেপাশের মেয়েরাই যারা হয়তো আলাদা করে চোখে পড়ার মতো নয়,জীবনের সমীকরণগুলো যাদের মেলে না, ভুলভ্রান্তিতে ভরা জীবনটাকে, চারপাশের মানুষগুলোকে যারা গাঢ় ভালোবাসায় জড়িয়ে রাখে তারাই তো অরু, তরু! এছাড়াও রয়েছে উল্লেখযোগ্য চরিত্র অঙ্গনা। মেয়েটি মনার জীবনে অদ্ভূতভাবে চলে আসে এবং জড়িয়ে যায়। অঙ্গনা চরিত্রটি একটু বিশেষ, স্নিগ্ধ! খরখরে শুকনো হৃদয়ে হুট করে বর্ষা হয়ে বৃষ্টি নামিয়ে দেয়ার মতো! পুরো গল্পে চিনির মতো মিষ্টতা ছড়িয়েছে মেয়েটি। কোনো এক ঘটনাচক্রে অঙ্গনা এই জামিলা ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। সে দেশের বাইরে স্থায়ী হলেও দেশীয় সংস্কৃতি ঠিকই ধরে রেখেছে। একসময় সে এই জামিলা ভবনকে নিজস্ব করে নিতে চায়, কিন্তু সে কী পারবে জামিলা ভবনের শেকড়ের সাথে নিজেকে বিলিয়ে দিতে? মনার ভাষায় ঝামেলা ভবন অর্থাৎ জামিলা ভবনের এই মানুষগুলোকে নিয়েই উপন্যাসটা লেখা হয়েছে। এতে রয়েছে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিনিয়ত সংগ্রামের গল্প। এছাড়াও জামিলা ভবনের সাথে জড়িত আরও কিছু চরিত্রও রয়েছে। প্রতিবেশী নরেন কাকু ও তার মেয়ে মালতী, দিলজু ও তার প্রেমিকা মিতু কিংবা একজন নিষ্ঠুর, স্বার্থপর মানুষ সাইমুম বারী। যে কী না জামিলা ভবনের বিভীষিকাময় অতীত। পরিবারের প্রত্যেকটি মানুষ যখন সেই অতীত ভুলে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেছে তখনই আবার সেই লোকটি ফিরে আসে তাদের জীবনে। আর তখনই উঠে আসে জামিলা ভবনের সেই অতীত। এর সাথে মিশে থাকে সাজুর লুকায়িত ঘৃণা, যা একজন মধ্যবিত্ত হবার সুবাদে সেটা সবসময় অপ্রকাশিতই রয়ে যায়। সাইমুম বারী সমাজের উচ্চপদস্থ এবং প্রভাবশালী লোক। এজন্য চাইলেও তার সাথে লড়াই করা সম্ভব না। কিন্তু কী সেই বিভীষিকাময় অতীত? আর কেনইবা সাইমুম বারী আবার ফিরে এসেছে? এছাড়াও অনেকগুলো চরিত্র ছিল। আমাদের মধ্যেই তারা সবাই বাস করে। কখনো হাসায়, কখনো বা কাঁদায়, কখনো বা আমাদের সাথে অনুভূতি ভাগ করে নেয়। তবে কষ্টের পাল্লাটাই যেন বেশি। ★পাঠ-প্রতিক্রিয়া : প্রথমবারের মতো তার লেখা পড়লাম। ভীষণ ভালো লেখে। তার লেখা যে একবার পড়বে তাকে চুম্বকের মতো টেনে নিবে৷ লেখকের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞানের সমন্বয়ে গল্পটা লেখা। সমাজের কিছু বাস্তব সমস্যা এবং নীচ মানসিকতা উঠে এসেছে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে। শিক্ষনীয় অনেক ব্যাপার আছে। যেমন গল্পে বর্ণিত এলাকায় নোঙ্গর নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেটি এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখে। একটাও ময়লা পড়তে দেয় না রাস্তায়। আসলে আমরা নিজেরা পরিবর্তন হলে সমাজটাই বদলে যেতো! মধ্যবিত্তদের জীবনে না পাওয়ার কষ্টের থেকে পেয়ে হারানোর কষ্টটা সবচেয়ে বেশী। মধ্যবিত্তদের স্বপ্নের বিশাল একটা অংশ জুড়ে থাকে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার সাথে নিজেদের অস্তিত্বের সংমিশ্রণ। উপন্যাসটা যেকোনো বয়সী পাঠকরা পড়তে পারবে। লেখার ধাঁত খুবই সহজ-সাবলীল। এমনভাবে প্রতিটা কাহিনী লেখক বর্ণনা করেছেন যে, নিজেকে উপন্যাসের মাঝে হাঁরিয়ে যেতে হবে। জামিলা ভবনের সদস্যদের সাথে মিশে যেতে হবে। এই উপন্যাসে আমাদের আশেপাশে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর হাসিকান্না, আবেগ-অনুভূতি গুলো তুলে ধরেছেন। মধ্যবিত্ত জীবনের গল্পকথায় হুমায়ুনীয় ভাব আসবেই। এই জিনিসটা আমার খুব ভালো লেগেছে। হুমায়ুন আহমেদের রচিত চরিত্রগুলোর মতো মনা চরিত্রটা একটু উদাসীন ইন্ট্রোভার্ট টাইপের। এদিকটাই বেশ ভালো লেগেছে। এছাড়াও সাজু, আর তরু চরিত্রগুলোও উল্লেখযোগ্য। ভীষণ ভালো লাগার। সবশেষে এই উপন্যাসটা এক বসায় শেষ করার মতো একটা উপন্যাস। একবার শুরু করলে শেষ না করে উঠতেই ইচ্ছে করবে না। আমি অনেকটা সময় লাগিয়ে বইটা শেষ করেছি। লেখককে অনেক অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা বই আমাদেরকে দেওয়ার জন্য। বইয়ের কোথাও কাহিনী থেমে যায়নি, একঘেয়ে লাগেনি৷ সাবলীল ভাষায় লেখা। বইয়ের পৃষ্ঠাগুলোও এমন যে পড়তে ভালো লাগে। বানান ভুল নেই বললেই চলে। সবশেষে বলব, যারা পড়েননি তারা পড়ুন। অবশ্যই ভালো লাগবে। লেখকের জন্য রইল অনেক শুভকামনা। রেটিং~৯.৫/১০ (বি.দ্র. কিছু অংশ কালেক্ট করে নেয়া রেশমী আপুর থেকে। কারণ আমি যেভাবে লিখতে চেয়েছি রেশমী আপুও একইরকমে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছে৷ তাই আপুর থেকে নিয়ে নিয়েছি একটু৷ ভুল ত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন।)"
Shamsur Rahman , Mar 1, 2022
"গল্পগুলো মনে রয়ে যায়।"
SabeyKun Sams Sony , Mar 11, 2021
"25 July 2020 ⭐⭐⭐⭐ বড় ভাইয়ের জন্য ঠিক করা পাত্রীকে এখন বিয়ে করতে হবে ছোট ভাইকে! লজ্জাজনক ঘটনা বটে! শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক তার জীবনের সর্বশ্য দিয়ে একখানা বাড়ি কিনেছেন মিরপুর। বাড়ির নাম রেখেছেন তার মাতার নামে। জামিলা ভবন! শিক্ষকের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। মেয়ে দুটো দু'ভাইকে আগলে রেখেছে। বড় পুত্র সাজু ছোটবেলায় পরীক্ষার হলে লজ্জাকর এক ঘটনার পর পড়াশুনার পাট চুকিয়েছেন। কিছুটা পাগলাটে। বেসুরো গলায় সা-রে-গা-মা-পা কিংবা চুপিচুপি অদক্ষ হাতে পুরনো গিটার বাজানো অথবা 'নোঙ্গর' নামক সংঘটনের দুরন মহল্লার রাস্তায় কোনো আর্বজনা ফেলা যাবে না পর্যন্ত তার কাজ। মহল্লার ময়লা পরিষ্কার করলেও পরিবারের আর্বজনা ভাবেন শিক্ষক মহাশয়। শিক্ষক মহাশয়ের মাতার নামে রাখা বাড়িটার নাম দিয়েছে ঝামেলা ভবন! দ্বিতীয় পুত্রটির ডাক নাম মনা! তিনিই মূলত নায়ক। প্রকৃতির বৃষ্টির ফোঁটায় শরীর ভিজলেও মন ভেজাতে পারে না মনার। আজকাল কাঁদতেও ভুলে গিয়েছেন। বড় কন্যা ইন্টার পড়াকালীন সময়ে গৃহ শিক্ষকের প্রেমে পড়ে স্টেশনে এক রাত্রি অপেক্ষা করে পরবর্তীতে ঘুষখোর এক যুবকের ঘরণী হোন। ছেলে ঘুষখোর আর মেয়েবাজি করে বড় কইন্যাকে মারধর করেন বলে প্রায়ই বাপের বাড়ি এসে দু'একদিন হম্ভিতম্বি করে ঠিক আবার নিজের পুত্রকে নিয়ে সংসার করেন। ছোট কন্যা হচ্ছেন জিবিসি। বিবিসি'র মত ঝামেলা ভবন খ্যাত বাড়িটির খবরাখবর প্রচার করা জিবিসি। নামটি অবশ্য বড় পুত্রই দিয়েছেন। ইন্টারে পড়া মেয়ের ইংরেজি লেখা দেখে বমি করার উপায় আছে। সংসার চলছে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকের অল্পক'টা পেনশনের টাকা আর মনা'র টিউশনির টাকায়। পাশাপাশি তাদের একমাত্র মামার সাহায্যার্থে। দোকান থাকলেও বড় পুত্র সেখানে বসে অনেক টাকার এর-ফের করে ফেলে পিতার মারের ভয়ে দাদির কাছে গ্রামে গিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়ে থাকেন বেশ ক'দিন। তারপর দাদিকে বুঝিয়ে নিয়ে আসেন পিতার কাছে যাতে করে মারের হাত থেকে বাঁচা যায়। সাথে আনেন গ্রামের পুকুর থেকে ইয়া বড় মাছ! বাবা মাছের মাথা খেতে ভীষণ পছন্দ করেন কিনা! বিদেশরত উর্বশী নারী অঙ্গনা। বিদেশে মানুষ হলেও দেশীয় কৃষ্টি-কালচার বেশ রপ্ত করেছেন। মনা নামক সাধারণ ছেলেটিকে ভালোবেসেছেন। মনার উপেক্ষায় অঙ্গনা বিদেশে গিয়েও আবার কি দেশে ফিরেছিলেন? দু'জনের পূর্ণিমা রাতে ভরা জোছনা দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো? ছোট পুত্র জানতে পারলেন বাবার শেষ সম্বল বাড়িটি আর থাকছে না। এর আসল মালিক বড় কন্যার সেই গৃহ শিক্ষক আদালতে কেস করেছেন। বড় পুত্র বিষয়টি আগে থেকে জেনেও বাবা এ খবর শুনতে পেলে ভালো -মন্দ কিছু একটা হবে বলে তাল কাঠের ডাসা দিয়ে মার খেয়েও বলেননি। শেষ পর্যন্ত কি বাড়িটি রক্ষা করতে পেরেছিলেন? সাজু নামের সেই ছেলেটিই বা কেনো বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গেলেন? ফিরেছিলো কি? আবারো কি ঝামেলা ভবন ঝামেলা মুক্ত হয়েছিলো? এসবের উত্তর মিলবে লেখক ইফতেখার হোসাইন নুরের লেখা 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না ' উপন্যাসে। উপন্যাসের পরতে পরতে অনুভব করতে হয়েছে মধ্যবিত্তের কষ্ট, সুখ। সামান্য টাকায় কেনা জুতো পেয়ে হাজারো পেরেক মারা পুরনো জুতো বাদ দিয়ে কিভাবে একজন পিতা খুশি হন তা দেখা যায়। বড় ভাই হয়ে ছোট ভাইয়ের কাছে হাত পেতে টাকা নেওয়ার মাঝে যে নিদারুণ দুঃখ আছে তা আপনাকে স্পর্শ করবেই। যে পিতা পুত্রকে সহ্য করতে পারতেন না তার জন্যই দরজার দিকে সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকার মাঝে যে প্রিয় জনকে কাছে না পাওয়ার কি কষ্ট তা চোখের পানি গড়িয়ে পরার পর বুঝবেন! এছাড়া উপন্যাসে আরো হরেক রকমের চরিত্রের সাথে দেখা মিলবে। কখনো হাসাবে তো কখনো কাঁদাবে।"
Md. Golam Rabbi , Jan 26, 2021
"A unique novel"
Mohammad Akramul , Apr 23, 2020
"#প্রগতি_রিভিউ_প্রতিযোগ -- অঙ্গনা চকীতে ঘুরে তাকায়। কিছু অনুভব করতে পারে। অথবা পারে না! একসময় অঙ্গনার অগাধ বিশ্বাসী হাত আমার হাতের তালু খুঁজে নেয়। আঙুল খুঁজে নেয় আঙুলকে। শক্ত করে প্যাঁচায়। হঠ্যাৎ মানবী থেকে ক্রমশ দেবী হয়ে ওঠে। গভীর ছায়া ফেলা চোখ নিয়ে তাকায়। দুহাতে বিলিয়ে দেয়া সহস্র কালের বহতা নদীর মতো প্রগাঢ় মমতায় বলে ওঠে, একটা অনুরোধ করতে পারি? -কোনোমতে মুখ তুলে তাকাই। ও আমার দুহাতের মুঠি জড়ো করে ধরে বলে, এভাবে তো আপনি বাঁচবেন না। বাঁচতে হলে কাঁদতে জানা লাগে। আশেপাশে কেউ নেই। কেউ দেখবে না। প্লিজ আমাকে একবার জড়িয়ে ধরে কাঁদুন!!! এভাবে চুপ করে তাকিয়ে থাকবেন না। আমার ভীষণ কষ্ট হয় এটা বুঝেন না? প্লিজ একটু কাঁদুন! প্লিজ.......... --[ "আজ কোথাও বৃষ্টি হবেনা" উপন্যাসের খন্ডাংশ ]। ——— #সারসংক্ষেপঃ- আড়াই কাঠা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ছোট্ট একটা বাড়ি জামিলা ভবন। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালাম সাহেব দুই ছেলে ও দুই মেয়ে সস্ত্রীক বাস করেন এই বাড়িতে। সালাম সাহেবের বড় ছেলে সাজু বিএ পাস করা একজন বেকার যুবক। জীবনের হিসাব মিলাতে গিয়ে যাকে বিভিন্ন কারণে একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিতে হয় । যে শত ঝড়ঝাপটা হতে বুক দিয়ে আগলে রাখতে চায় তার পরিবারটিকে অথচ তার বিনিময় পিঠে পেতে নিতে হয় একের পর এক আঘাত। . সাজুর ছোট ভাই মনা। আলোচ্য উপন্যাসের প্রধান চরিত্রটিই হলো মনা। মনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোশিওলজিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। যার দিন কাটে টিউশনি করে। চাকরির খোঁজে থাকা মনা একদিন একটা ভালো অফারের চাকরির প্রস্তাবও পেয়ে যায়। কিন্তু তা সাদরে গ্রহণ না করে, নাকোচ করে দেয় সেই চাকরির প্রস্তাব। কিন্তু কেন? জানতে হলে পাঠকগণ আপনাদের অবশ্যই পড়তে হবে উক্ত উপন্যাসটি। . সালাম সাহেবের বড় মেয়ে অরু। যার বিয়ে হয়েছে একজন পুলিশ-সার্জেন্ট হিসবে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর সাথে। স্বামী আর একমাত্র সন্তান কনক কে নিয়ে রাজশাহীতে থাকে সে। অরুর ছোটবোন তরু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। যার প্রধান কাজ বিচিত্র ভঙ্গিতে খবর পড়া। তাই বড় ভাই সাজু তার নাম দিয়েছে জিবিসি। যার পূর্ণ রুপ- " ঘরোয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন! " . আর 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' উপন্যাসে জমিলা ভবনে বসবাসকারী এইসব চরিত্রগুলোর জীবনাখ্যান । যেখানে মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের টানাপোড়ন, আনন্দ-বেদনা, ভাইয়ের সাথে বোনের দুষ্টু মিষ্ট খুনশুটি, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও শাসন ফুটিয়ে তুলেছেন আলোচ্য উপন্যাসে। - এছাড়াও উপন্যাসে আপনি পরিচিত হবেন দিলজু নামের এক অকৃত্রিম বন্ধুর সাথে। যে প্রবল ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মনার একমাত্র বন্ধু। মিতু নামের এক সদ্য যৌবন পার হওয়া প্রচন্ড মমতাময়ী মেয়েকে যে নিজের করে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। . উপন্যাসে পরিচিত হবেন মালতি নামের এক তরুণীর সাথে। যে মনঘটিত বেখেয়ালে প্রেমে পড়ে যায় একজন যুবকের। অথচ সেই স্বপ্নের পুরুষের মনে সে কখনও প্রশ্রয় পায়নি। . উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সাইমুম বারী। উপন্যাসে যিনি একজন নিষ্ঠুর মানুষ। পরক্ষনেই যিনি হয়ে ওঠেন, একজন স্নেহময়ী পিতা। . উপন্যাসে আপনি পরিচিত হবেন অঙ্গনা নামের একজন অনিন্দ্য ব্যক্তিত্বসম্পন্ন চমৎকার মেয়ের সাথে। যে শৈশব থেকে যৌবনকাল কানাডাতে বেড়ে উঠলেও স্বকীয় সংস্কৃতিকে ভুলে যায়নি। সুকেশী, মার্জিত এই চরিত্রটির মাঝে আপনি খুঁজে পাবেন একজন নীরব প্রেমিকাকে। যে সিদ্ধান্ত নেয় একজন নিঃসঙ্গ যুবকের পাশে থেকে তার নিঃসঙ্গতা ঘুচাবে প্রবল মমতায়। সেই যুবক সাজু, নাকি মনা? - জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' উপন্যাসটি। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্র আপনাদের বুঁদ করে রাখবে। ——— #পাঠ_পতিক্রিয়াঃ প্রতিটি মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের দিনটা শুরু হয় টানাপোড়নের গল্প দিয়ে, যে গল্প গুলো প্রকাশিত হয়না। মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানদের অনেক সহনীয় ক্ষমতা থাকে! এদের উষ্টা মারলেও এরা কিছু বলেনা। কারণ কিছু বলার আগে এক'শ বার তার অবস্থানের দিকে তাকায়! মূলত ১৮ এর গন্ডি পেরিয়ে এদের প্রতিটি দিন প্রতিটি রাত কাটে খুঁনের আসামীর জেল খানায় রাত কাটানোর মতো। এদের চোখ গুলো বেহায়া হয়, এদের আর্থিক লজ্জা থাকেনা কিন্তু প্রবল সম্মানবোধ থাকে..!! . আর "আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না"- উপন্যাসটিতে লেখক সাধারণ এক মধ্যবিত্ত পরিবারের চিত্র খুব নিদারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন! উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলেছি! আবার মাঝে মাঝে পাঠকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য কিছু হাস্যকর ঘটনা তুলে ধরেছেন। যা পাঠকদের অন্তরকে সত্যিই গভীরভাবে ছুঁয়ে দিবে। . #ভালো_লাগা_দিকঃ- (১) 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' একটি মেদহীন বই। বইটি পড়ে পাঠকদের মনে যেন বিরক্তিকর অনুভূতির সৃষ্টি না হয় তাই লেখক অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা খুব সুন্দরভাবে এড়িয়ে গেছেন। - (২) উপন্যাসটিতে অহেতুক কথা পেঁচিয়ে যেন প্রেমের বাগাড়ম্বরের পর্যায়ে চলে না যায়, সেদিকে লেখক খুব সুন্দরভাবে লক্ষ্য রেখেছেন। - (৩) আজ যেখানে চারিদিকে অশ্লীলতাযুক্ত লেখার ছড়াছড়ি সেখানে সাদামাটা বর্তমান সমাজের চিত্রপট নিয়ে লেখা উক্ত সামাজিক উপন্যাসটি সত্যিই মনকে তৃপ্ত করে তুলে। - (৪) সবচাইতে সুন্দর যে ব্যাপারটি তা হলো, লেখক তার নিজস্ব লেখনশৈলী দিয়ে পাঠককে গেঁথে রাখতে পারেন। উপন্যাসের ভাষা সাবলীল ও সহজবোধ্য হওয়ায় পাঠকরা উপন্যাসটিতে ডুবে বুঁদ হয়ে যাবে বলেই বিশ্বাস করি। - (৫) ভালো লাগার অন্যতম কারণ হলো- উপন্যাসের মূল গল্পের মধ্য দিয়েই লেখক নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা কিংবা নিজস্ব কর্তব্য থেকেই আমাদেরকে কিছু মেসেজ দিয়ে গেছেন। যেমন, সাজু চরিত্রটি। পড়াশুনায় অমনোযোগী নিঃসঙ্গ এই যুবকটি কিভাবে সকল ঝড়ঝাপটা থেকে পরিবারের মানুষগুলোকে রক্ষা করতে হয়, কলুষিত এই সমাজকে কিভাবে নতুনরুপে সংস্কার করা যায় তা লেখক তার লেখনশৈলী দ্বারা সুচারুরূপে ফুটিয়ে তুলেছেন আলোচ্য উপন্যাসে। ---- #মন্দ_লাগা দিক- ★ উপন্যাসের মন্দ লাগা দিক বলতে বইয়ে দুই-চার জায়গায় শব্দের মধ্যে ভূল ছিলো, যা বইয়ের ২য় মুদ্রণে ঠিক করে নেওয়া হয়েছে বলে লেখক জানিয়েছেন। . ★এছাড়াও শেষের দিকটা আরেকটু দীর্ঘায়িত করলে ভালো হতো বলে আমার মনে হয়। উপন্যাসটি শেষ হওয়ার দরুন মনে অনুভূত হয়েছিলো- ইস! শেষটা যদি আরেকটু দীর্ঘয়িত হতো!! ___ উপন্যাসটিতে আপনি পরিচিত হবেন কিছু মমতা মাখানো চরিত্রের সাথে। যে চরিত্রগুলো পাঠকগদের সময়ে-অসময়ে আবেগে আপ্লুত করে তুলবে। ভার্চুয়াল এই জগতে প্রিয় সব লেখকদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন " ইফতেখার হোছাইন নূর " ভাইয়া। উনার গল্পের বাস্তবতা পড়ে পাঠকরা কাঁদবেনা!! সেটা কখনও হতেই পারেনা!! - আলোচ্য " আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না " উপন্যাসটি পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন আমি শরৎচন্দ্রের হাতের গন্ধমাখা লেখা কোনো উপন্যাস পড়ছি । সকল পাঠক-পাঠিকাদের উপন্যাসটি পড়ে দেখার নিমন্ত্রণ রইলো! একনজরে "আজ কোথাও বৃষ্টি হবেনা"- বইয়ের নামঃ " আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না"। লেখকঃ ইফতেখার হোছাইন নূর। জনরাঃ সমকালীন উপন্যাস! প্রকাশনীঃ বায়ান্ন ('৫২) প্রচ্ছদঃ তৃত। মলাট মূল্যঃ ২৯০৳ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫১ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫"
Khalid Hassan Emran , Mar 30, 2020
"বেশ ভালো লেখা। আশা করি আরো নতুন বই পাওয়ার। যেমনি আশা করে বইটা কিনেছিলাম ঠিক তেমন। অনেক লেখার ভীড়ে ভালো বই পাওয়াটা জটিল। তাই যারা কমেন্ট পড়ে দেখছেন তাদের জন্য বলা, বইটা পড়ুন ভালো লাগবে আশাকরি।"
Amzad Hossain , Mar 12, 2020
"বই মুল্যায়ন বইয়ের নাম- আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না বইয়ের ধরণ- উপন্যাস ঔপন্যাসিক - ইফতেখার হোছাইন নূর রিভিউদাতা - মো: আমজাদ হোসাইন বিষয়াদি- মধ্যবিত্ত জীবনের চিরাচরিত রূপকে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস। ভূমিকা- একসাথে একটি উপন্যাসে মধ্যবিত্ত পরিবারের রুপ,সাংসারিক টানাপোড়েন,ছেলেমেয়েদের পরিবারের প্রতি দায়ীত্ব,বাবার সন্তানের প্রতি আস্থা,মায়ের একবুক আশ্বাস সন্তানের প্রতি,ধর্মীয় অনুশাসন,রাজনৈতিক কার্যক্রম,হিন্দুধর্মের ভেদাভেদ ভুলে একসাথে হেসেখেলে জীবনযাপন,যুবকদের উদ্যোগে সমাজকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং সচেতন সমাজ তৈরি করার প্রয়াস,নিখুঁত ভালোবাসার শুদ্ধ অনুভুতি ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের আস্থা,ভাইয়ের প্রতি বোনের ভালোবাসার প্রয়াস,বিদেশ গমণের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সহ মোটকথা খুবই গোছালো একটি উপন্যাস "আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না"। উপন্যাসের সকল বিষয়াদির উপর ভিত্তি করে ছোটখাটো কিছু বিষয় তুলে ধরছি সকলের পানে- ★মধ্যবিত্ত জীবন :- কিভাবে আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে যায় ভুত অদ্ভূদ ঘটনাগুলো তারই রূপ বাস্তবসম্মত ভাবে পড়ে অনুভব করেছি বইয়ে।বাবা মা ভাইবোন,সংগ্রামী জীবন,জীবন যুদ্ধে জুতোর তলানী খোয়া মানুষের চিরাচরিত রূপ দেখেছি আমি।ভেবেছি কিভাবে সংগ্রামের সহিত ঠুকে ঠুকে জীবনের গতি বদলাতে হয়! ★ধর্মীয় অনুশাসন :- কুরআন ও হাদীসের আলোকে জীবনযাপন এবং নিজেকে পরিশুদ্ধ করার নিয়ম কানুন সহসা উপন্যাসে দেখা যায় না।তবে এখানে বিভিন্ন হাদিস এবং তার ব্যাখ্যা সহ হিন্দু মুসলমান ভেদাভেদ ভুলে কিভাবে জীবনযাপন করতে হয় একসাথে,কিভাবে একে অন্যের বিপদে পাশে থাকতে হয় তারই রূপ দেখেছি উপন্যাসটিতে। ★ রাজনীতি:- হিন্দি তে রাজনীতির একটা নাম আছে "ঘাটিয়া রাজনীতি" অর্থাৎ নোংরা রাজনীতি।এখানে তার রূপ দেখেছি।আবার সত্যের পথে চলমান মানুষদের প্রতিচ্ছবিও পরিলক্ষিত হয়েছে।মানুষের পক্ষে মানুষ,বিপক্ষে মানুষ সব রূপই চিরায়ত হয়েছে। ★ মুক্তিযুদ্ধ :- আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাহসিকতা,বীরত্বগাঁথা,রাজাকারদের ধরপাকড়াও,আত্মসমর্পণ সবই রচিত হয়েছে উপন্যাসে।ছোটবেলায় নানা নানী যেভাবে গল্প শোনাতেন মুক্তিযুদ্ধের সেই স্মৃতিগুলোকে নাড়িয়ে দিয়েছে ভেতরকার লেখাগুলি। ★ সমাজসংস্কার:- আমাদের এই একবিংশ শতাব্দী এসেও যে যুবকরা টাকার পেছনে নয় বরং সমাজকে পরিশুদ্ধ,ভেজালমুক্ত,অন্যায় অপরাধমুক্ত রাখতে কতটা সোচ্চার তারই প্রয়াস ঘটেছে প্রতিটি পাতায় পাতায়। ★ ভালোবাসা এবং স্মৃতি:- মানুষ নাকি ভালোবাসার পাগল।কিন্তু ভালোবাসাকে ফুটিয়ে তোলার এত আবেগ,এত অস্ফুট বুলি আমি অন্তত কোথাও পড়েছি বা জেনেছি বলে জানি না হয়তো সেভাবে জানাও হয় নি।তবে এতটুকু বুঝি ভালোবাসা কেবল হয়ে যায়,হয়ে যায়।এটা বর্ণনা কিংবা চিত্রায়ন অসম্ভব। ★পরিবার:- সবাই আমরা কোনো না কোনো পরিবারে বড় হই।যা আমাদের শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান।কেউ সকল গুণে গুণান্বিত,কেউবা সকল দোষে।তবে এটুকু বলা যায় বাবামার কাছে সন্তান বরাবরই শ্রেষ্ঠ।আমারও পরিবার আছে ভাইবোন আছে।হাজার রকম খুনসুঁটি হয়।তবে তা যে এতসুন্দর করে ব্যাখ্যার দ্বারা ফুটিয়ে তোলা যায় তা জানতামনাহ। ★বন্ধুত্ব:- আমারও বন্ধু আছে।ওই আকাশে থাকে একজন।বাকিরা এই ধরণীতলে।একটা আকাশী শার্ট আছে।যেটাতে একমাত্র তার চোখেই বেশি ভালো লাগতো। দোস্ত তোকে খুব ভালো মানাবে রে।জানি না লেখক কিভাবে নিজেকে ধরে রেখেছেন।কারণ আমার চোখে জল এসেছে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।বন্ধু তুই ততোটাই ভালো থাক সর্বদা যতোটা ভালো থাকলে ভালোথাকারাও বড্ড বেশি ভালো থাকে। ★★ভাই:- শুন একশো টাকা হবে? না হলে সমস্যা নেই।তবে দিলে খুব উপকার হতো।এই দ্যাখ না পিয়ানোটা তে ময়লা ধরেছে।আচ্ছা তুই গান শুনবি? শোন আজকে রাতে আসতে একটু দেরি হবে। দয়া করে দরজায় টোকা দেয়ার সাথেসাথে দরজা খুলিস।শোন বাড়ির সমস্যা তো কি হইছে আমরা দুইভাইই সামলাবো। বাবামাকে জানানোর দরকার নেই।কে তোকে ডিস্টার্ব করে রে।বেটাকে এমন মেরেছি আর ডিস্টার্ব করবেনা।মেয়েটা বড্ড ভালো রে তোর সাথে খুব ভালো মানাবে।শোন না বোন যদি এবার ভালো রেজাল্ট করিস তবে তোকে পঞ্চাশটা কোণ আইসক্রিম কিনে দিবো। আপুর জন্য বড্ড কস্ট হয় রে।বেচারি কত কস্ট করে সারাদিন। এমনই হাজারো ভালাবাসাময় খুনসুঁটি বন্ধুত্বের বন্ধন,ছোটবোনের ভালোবাসার হাজারো রূপ,বড়বোনের দায়ীত্ব,মানুষের শেষ পরিণতি এবং আফসোস,ভাইয়ের এক আকাশ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ বাবার সন্তানের প্রতি আস্থা এবং আকুলতা,মায়ের হাজারো অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস,প্রতিবেশীর ভালোবাসাময় ব্যাবহার,সমাজকে দূষণমুক্ত রাখার প্রয়াস যুবকদের মধ্যে,ধর্মীয় অণুশাসন,রাজনৈতিক অপপ্রয়োগ,আইনের অপপ্রয়োগ এবং সঠিক প্রয়োগ যাবতীয় কথোপকতন নিয়ে বইটি নিঃসন্দেহে একটি শিক্ষণীয় বই। ভাই, বন্ধু,ভালোবাসা সব লুকায়িত হয় কেবল চোখের সামনে।মনে তারা সর্বদা প্রকাশিত এক একটি ধ্রুবতারা। তারা জ্বলে, জ্বালায়, ভালোবাসে। নিজের ইচ্ছা :- একজন "সাজু" হয়ে আছি এই ক্ষুদ্র জীবনে।একজন "মনা" হতে ইচ্ছে।একজন "মনা" হওয়াটা প্রত্যেকটা মানুষের কাম্য হওয়া উচিৎ বলে মনে করি। উপন্যাসের প্রিয় অংশবিশেষ:-অঙ্গনা ঘোর লাগা সন্ধ্যাকে আড়াল করে গভীর আলিঙ্গনে আমার সকল দহনকে জড়িয়ে নেয়।আমি চোখ বন্ধ করে অনুভব করি,কোকড়া চুলের ভীষণ সুপুরুষ একজন যুবক চোখে মুখে তার ভূবন ভূলানো হাসি নিয়ে দূর থেকে লুকিয়ে চেয়ে আছে আমাদের দিকে।যুবকটি আমার সহোদর।যুবকটি আমার বন্ধু-আমার ভাই।আমার ভাঙ্গা বুক কেঁপে-কেঁপে জানান দেয় গহীনে লুকিয়ে থাকা কারও অস্থিত্ব।গহীন বাওয়া পাগলা-ঢল শত ধারায় ছলকে-ছলকে উঠতে চায় আমার গলায়,আমার আজন্ম শুস্ক চক্ষুযুগলে।চিৎকারে-চিৎকারে আমার অনন্তকালের জমিয়ে রাখা ধ্রুপদী কস্ট,যন্ত্রণা গোঙানির মতো সুর তুলে আছড়ে পড়তে চায় তুরাগের তির-তির করে বয়ে যাওয়া জলে,তেপান্তরের কাশবনে,আরও দূরে।আরও দূরে কোথাও! চোখ এবং মন দুটো ভিজেছে।আমারও একজন বড় ভাই আছে,বড়বোন আছে, ছোটবোন আছে।আর অধিকাংশ কাহিনী মিলে গেছে।ভবিষ্যৎ এ আরো হয়তো ঘটবে। পাঠক প্রতিক্রিয়া-আজ এখানে বৃষ্টি হয়েছে।লোনাজলের বৃষ্টি।যে বৃষ্টিতে বুক ভিজে,চোখ ভিজে আর মনে মায়ারা দোলা দিয়ে যায়। সর্বদা সকলে বই পড়ুন,বইয়ের সাথে থাকুন আর বইকে ভালোবাসুন।"
Zaki Mujahid , Mar 2, 2020
"বইঃআজ কোথাও বৃষ্টি হবে না লেখকঃইফতেখার হোছাইন নূর প্রকাশনীঃবায়ান্ন প্রকাশকালঃফেব্রুয়ারী,২০২০ রেটিংঃ৪/৫ পাঠ-সংক্ষেপঃ মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের ঘটনা। জমিলা ভবনের মোট সদস্যের বাস পাঁচজন। আগে ছয়জন ছিলো। বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। বড় ভাই বিএ পাশ করা বেকার, অন্যদিকে ছোটটাও। ছোট ভাই মনা টিউশনি করে কোনোরকম দিনযাপন করলেও বড় ভাই সাজু আয়ের চেয়ে ব্যয়ের কাজ বেশি করেন। অন্যদিকে ছোটবোন তরু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। যার বাসার খবরাখবর দেয়ার চমৎকার কিছু কৌশল আছে। যে কারণে তাকে সুন্দর একটা নামও দেয়া হয়। বাবা শরীর চর্চার শিক্ষক থাকলেও আজকাল অভাবে মুখ আর হাত দুটোই জনসম্মুখে চর্চা করতে হয় অন্যভাবে। যা নিয়ে তার পরিবারের লোকেরাই মাঝেমধ্যে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়েন। বড় ছেলের বিয়ের জন্য যে কথা উঠে সেই কথা মোড় নেয় ছোট ছেলের দিকে। বড় ছেলেকে পছন্দ না, পছন্দ ছোট ছেলেকে? তাও মেয়ে দেশের বাহিরে থাকে! সম্বন্ধ নিয়ে আসা লোকটি সম্পর্কে মনাদের মামা হোন। দুলাভাইয়ের উপর সে কৃতজ্ঞ বলে নিজের সবটুকু উজার করে তাদের ভালোর জন্যেই ভাবেন। মনাকে পছন্দ হওয়া মেয়ে যখন মনাকে হোয়াটসএ্যাপে মেসেজ দেয় মনা সেই মেসেজের উত্তর দেয় না,দিতে পারেনা। একসময় জীবনের সব আশা ভরসা হাওয়ায় ভাসতে থাকে মনার। শুধু মনা না, জামিলা ভবনের প্রতিটা মানুষের জীবনই ধীরে ধীরে পালটে যায়। পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ বইটা আমার কেনার প্রতি টেনেছিল বইয়ের নাম আর প্রচ্ছদটা বেশিই।সামাজিক ঘরানার উপন্যাসের প্রতি আমার ঝোঁক ছোট থেকেই একটু বেশি। বইয়ের প্রথমে আমি কিছুটা ধীরে আগালেও ধীরে ধীরে মিশে যাচ্ছিলাম গল্পে। আমি বইটা এক ধরাতে শেষ করিনি। আমি জানিনা লেখক মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান কিনা! নাহলে এত সুন্দর নিপুণভাবে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের চিন্তাচেতনা তুলে আনা অসম্ভব। আমি বারবার গল্পের বিভিন্ন অংশে থেমে যাচ্ছিলাম। কারণ আমার মনে হয়েছে আমি এই পরিস্থিতিতে কোনো একটা সময়ে ছিলাম। বইয়ে প্রতিটা লাইন মুগ্ধকর ছিলো আমার কাছে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল বইয়ের শেষটা। আমি গল্পের চারভাগের তিনভাগে এসেও ভাবতে পারিনি শেষটা এরকম হবে! লেখক তার হাতের জাদু বা মস্তিষ্কের প্রয়োগ এই জায়গায় খুব দারুণভাবে দেখিয়েছেন। আরেকটা দিক না বললেই নয়, লেখক শুধু উপন্যাসকে জীবনের গল্প দিয়েই সীমাবদ্ধ রাখেনি। লেখক তার জ্ঞানের কিছু অংশও এখানে দিয়েছেন। যা বইটাকে আরো উপভোগ্য করেছেন।"
Reshmee Md. Rafique , Feb 21, 2020
"জামিলা ভবন একটা বাড়ির নাম। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালাম সাহেব বাড়িটা কিনে নিয়েছিলেন এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছ থেকে। স্ত্রী আর চার ছেলেমেয়ে নিয়ে তার ভরা সংসার। বড় মেয়ে অরুর বিয়ে দিয়েছেন এক পুলিশ অফিসারের সাথে। এক সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কর্মস্থলে থাকে সে। ছোট মেয়ে তরু এখনো পড়াশুনা করছে। বাড়িতে সে জিবিসি নামে পরিচিত, যার অর্থ ঘরোয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। বড় ছেলে সাজু বিএ পাস করে বেকার বসে আছে ঘরে। এলাকায় বেশ কিছু সমাজসেবামুলক কাজকর্ম করে বেশ প্রশংসিত হলেও বাবার চোখে অকর্মণ্য, অপদার্থ ছাড়া আর কিছুই নয় সে। তাই প্রায় সময়ই সালাম সাহেবকে দেখা যায় সাজুর উপর চড়াও হতে। তার ছোট ছেলে মনারও একই অবস্থা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশুনা শেষ করে এখন বেকার। নিয়মিত এখানে-সেখানে চাকরির খোঁজে ছুটাছুটি করে সে। তবে সালাম সাহেব কখনো তার উপর চড়াও হন না। কারণ সে চাকরি না করলেও টিউশনি জুটিয়ে ফেলেছে। টিউশনি করেই সংসারে অল্পসল্প খরচ চালিয়ে যাচ্ছে কোনোমতে। মনার ভাষায় ঝামেলা ভবন অর্থাৎ জামিলা ভবনের এই মানুষগুলোকে নিয়েই উপন্যাসটা লেখা হয়েছে। এতে রয়েছে একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিনিয়ত সংগ্রামের গল্প। সাথে বোনাস হিসেবে আছে জামিলা ভবনের মানুষগুলোকে ঘিরে থাকা আরো কিছু চরিত্র। সেটা হতে পারে হিন্দু প্রতিবেশী নরেন কাকু, তার মেয়ে মালতী। হতে পারে একজন প্রাণপ্রিয় বন্ধু দিলজু, তার প্রেমিকা মিতু। কিংবা আপাতদৃষ্টিতে একজন নিষ্ঠূর, স্বার্থপর মানুষ সাইমুম বারী, যে কীনা একদা জামিলা ভবনের মানুষগুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল। এই দুমড়ে-মুচড়ে দেবার কাহিনি কালক্রমে জামিলা ভবনের অতীত। তারা প্রত্যেকেই মোটামুটিভাবে চেষ্টা করেছে অতীতকে ভুলে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে। কিন্তু ঘটনাক্রমে এই লোকটি-ই ফিরে আসে তাদের জীবনে, এক ভয়াল ঝড়ের রুপ নিয়ে। পরবর্তীতে কাহিনি উদঘাটন করতে গিয়ে অরুর অতীত উঠে আসে। মিশে থাকে সাজুর লুকানো ঘৃণা, একজন মধ্যবিত্ত হবার সুবাদে যেটা সবসময় অপ্রকাশ্য রয়ে যায়। ঠিক যতটা প্রকাশিত হওয়া উচিত, ততটা হয় না। কারণ সাইমুম বারী সমাজের উচ্চতর ধাপে খুব ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং প্রভাবশালী একজন। সাজু নামে ছেলেটা, যে কীনা তার ব্যর্থ জীবনের দায়ভার মাথায় তুলে নিয়েই পরিবারকে দুই হাতে আগলে ধরে রাখে নীরবে, নিঃশব্দে এবং মনা নামে ছেলেটা, যে কীনা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, বাস্তববাদী, দুই ভাই মিলে নিজেদের মতো করে চেষ্টা করে যায় সাইমুম বারীর কবল থেকে তাদের পরিবার আর মাথার উপরকার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা করতে। পরবর্তীতে ঘটনাচক্রে বেরিয়ে আসে সাইমুম বারীর কঠিন মুখোশের পেছনে একজন স্নেহময়ী পিতা, যে জামিলা ভবনের দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছিল তার মৃত্যুপথযাত্রী মেয়ের জন্য একজন বিশেষ মানুষের একটু শুভ কামনা কুড়িয়ে নিতে। উপন্যাসের অন্যতম একটা চরিত্র অঙ্গনা। লেখক এই চরিত্রটিকে মনের মাধুরী মিশিয়ে এঁকেছেন তার লেখনীর তুলি দিয়ে। এই মেয়েটা পাশ্চাত্যে বেড়ে উঠলেও নিজ সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে বুকের মধ্যে। একজন পরিপূর্ণ বাঙালি ললনার যে চেহারা আমাদের চোখে ভেসে উঠে, অঙ্গনা ঠিক তেমনই একটা রুপ। উপন্যাসের শেষ পর্যায়ে এসে মেয়েটা সিদ্ধান্ত নেয় জামিলা ভবনকে আপন করে নেবার। কার সাথে তার জোড়া বাঁধা পড়বে? লেখক ইফতেখার নূরের লেখালেখির জগতে একটা উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট হলো, তার লেখা হেন কোনো গল্প বা উপন্যাস নেই, যেটা পড়ে আপনি কাঁদবেন না। ভ্যা ভ্যা করে হাপুস নয়নে কাঁদবেন নাকি আলতো করে চোখের কোনে লেগে থাকা অশ্রুটুকু সঙ্গোপনে মুছে ফেলবেন, সেটা নির্ভর করে আপনার উপর। তবে কাঁদতে যে আপনাকে হবেই, সেটা নিশ্চিত। এজন্যই পারতপক্ষে চেষ্টা করি লেখকের লেখা কোনো গল্প না পড়তে। তাতে লাভ হয় না কোনো। পড়ব না, পড়ব না বলেও আমি নিজেকে আটকে রাখতে পারি না। কারণ তার লেখনী পাঠককে টেনে নেয় চুম্বকের মতো। আপনি কিছুতেই সেটা এড়াতে পারবেন না। তো, আমার প্রতিবারেই এমন হয়। আমি মনে মনে ঠিক করি, আর পড়ব না এই লেখকের গল্প। এরপর আবার ফট করে পড়ে ফেলি। এতকাল যাবত লেখকের ছোট গল্প পড়েছি। এবারে আস্ত উপন্যাস। স্বাভাবিকভাবেই কান্না নিশ্চিত জেনেও আগ্রহটাকে দমিয়ে রাখতে পারিনি। আর সেই আগ্রহে ঘি ঢেলে দিতেই একজন স্নেহময়ী বড় আপু এই বইটা উপহার দিলেন। আমাকে আর পায় কে! বই পড়ার বেলায় আমি হলাম নাচুনে বুড়ি। ঢোলে বাড়ি পড়লে অর্থাৎ বই হাতে পেলেই নাচতে শুরু করি মানে জগত সংসার ভুলে পড়তে শুরু করি। এবারেও ব্যতিক্রম হয়নি। এই উপন্যাসটার ভেতর বুঁদ হয়ে গিয়েছিলাম। জামিলা ভবনের মানুষগুলোর সাথে জড়িয়ে গিয়েছিলাম পরম মমতার এক অদৃশ্য বাঁধনে। এ জন্য শতভাগ দায়ী লেখক নিজে। কারণ তার লেখনীর ধাত খুব সহজ সাবলীল। এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, নিজেকে এই উপন্যাসের কোনো একটা চরিত্র মনে হয়েছে। অতিকথন পাইনি একদমই। কিছু বাক্য আছে, ওগুলো মনের গভীরে দাগ কেটেছে। পড়তে গিয়ে একদমই বিরক্তি লাগেনি। একদম শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পাঠককে চুম্বকের মতো আটকে রাখার আলৌকিক ক্ষমতা এই উপন্যাসের আছে। কাহিনি নির্ভর, মানসম্মত একটা বই। সামাজিক উপন্যাস বলা যায়। যে কোনো বয়সী পাঠকের ভালো লাগবে পড়তে। সম্পাদনাটা বেশ ভালো হয়েছে। অল্প কিছু ভুল লক্ষ করেছি, যেগুলো নিয়ে আমি নিজেই দ্বিধায় আছি। বাংলা একাডেমির ঘন ঘন বানানের নিয়ম পরিবর্তনের কারণে এই দ্বিধাটা থাকেই সবার মধ্যে। রেটিং করতে হলে পাঁচের মধ্যে পাঁচ দেব-ই।"
Ferdous Ahmed Pranta , Feb 2, 2020
"আড়াই কাঠা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত ছোট্ট একটা বাড়ি জামিলা ভবন। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক সালাম সাহেব দুই পুত্র ও দুই কন্যা নিয়ে সস্ত্রীক বাস করেন এই বাড়িতে। সালাম সাহেবের বড় পুত্র সাজু বিএ পাস করা বেকার যুবক। নানাবিধ কারণে যিনি একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন জীবনের হিসাব মিলাতে গিয়ে। সাজুর ছোটভাই মনা এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোশিওলজিতে গ্রাজুয়েশন শেষ করা মনার দিন কাটে টিউশনি করে। চাকরির খোঁজে থাকা মনা একদিন একটা চাকরি পেয়েও যায়। অথচ ফিরিয়ে দেয় সেই চাকরির প্রস্তাব। কিন্তু কেন? সালাম সাহেবের দুই মেয়ে। অরু আর তরু। অরুর বিয়ে হয়েছে। পুলিশ-সার্জেন্ট স্বামী আর একমাত্র সন্তান কনক কে নিয়ে রাজশাহীতে থাকে সে। অরুর ছোটবোন তরু মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। যার প্রধান কাজ বিচিত্র ভঙ্গিতে খবর পড়া। তাই সাজু তার নাম দিয়েছে জিবিসি, যার পূর্ণ অর্থ ঘরোয়া ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' বইটি ঝামেলা ভবন তথা জমিলা ভবনে বসবাসকারী এইসব চরিত্রগুলোর জীবনাখ্যান। যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে মধ্যবিত্তের জীবন সংগ্রাম। এই সংগ্রামের গল্প পড়তে গিয়ে আপনার চোখ হয়ত অজান্তেই ভিজে উঠবে। কারণ এই গল্পে আপনি দেখা পাবেন সাজুর মত এক নিঃসঙ্গ যুবকের। যে কিনা বুক দিয়ে আগলে রাখতে চায় তার পরিবারটিকে অথচ তার বিনিময় পিঠে পেতে নিতে হয় একের পর এক আঘাত। উপন্যাসে আপনি দেখা পাবেন দিলজু নামের এক অকৃত্রিম বন্ধুর। যে মনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতো মধ্যবিত্তের জীবনাবসানের। মিতু নামের এক সদ্য কৈশোর পার হওয়া প্রচন্ড মমতাময়ী একটি মেয়ে যাকে নিজের করে পাওয়ার স্বপ্ন দেখে। উপন্যাসে আপনি পাবেন মালতি নামের এক তরুণীর যে খেয়ালে বেখেয়ালে প্রেমে পড়ে গেছে একজন যুবকের। অথচ তার স্বপ্নের পুরুষের প্রশ্রয় সে পায়নি কখনোই। উপন্যাসের একটি অপ্রধান অথচ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সাইমুম বারী। যিনি কখনো নিষ্ঠুর একজন মানুষ। পরক্ষনেই যিনি হয়ে ওঠেন, একজন স্নেহময়ী পিতা। আবার অরুও তেমনি হয়ে ওঠেন একজন মমতাময়ী মা। এই উপন্যাস অঙ্গনা নামের অনিন্দ্য সুন্দর একটি মেয়ের গল্প আপনাকে শোনাবে। কানাডাতে বড় হয়েও সংস্কৃতিকে ভুলে যায়নি। সুকেশী, মার্জিত এই চরিত্রটি ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নারীর সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবে প্রিয় পাঠক। আপনি খুঁজে পাবেন একজন নীরব প্রেমিকাকে। যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে একজন নিঃসঙ্গ যুবকের পাশে থেকে যাবে। সেই যুবক? সাজু, নাকি মনা? - জানতে হলে পড়তে হবে 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' বইটি আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই উপন্যাসের প্রত্যেকটি চরিত্র আপনাকে বুঁদ করে রাখবে। উপন্যাসে আপনি আবিষ্কার করবেন কিছু মমতা মাখানো চরিত্রকে। আপনি চাইলেও তাদের ছেড়ে উঠতে পারবেন না। কারণ 'আত্মা থেকে বিচ্ছুরিত মমতা স্বয়ং ঈশ্বরও এড়াতে পারেন না।' প্রিয় পাঠক, প্রধান চরিত্র মনার জবানিতে সাবলীলভাবে এগিয়ে চলা উত্তম পুরুষের লেখা এই উপন্যাসটি আপনাকে মোহাবিষ্ট করে রাখবে, একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। উপন্যাসটির ভালো লাগা কিছু দিকঃ ১. 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' মেদহীন একটি উপন্যাস। অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা সচেতনভাবে এড়িয়ে গেছেন লেখক। ২. লেখকের জীবন দর্শন চমৎকার। বেশ কিছু লাইন মনে দাগ কাটে। ৩. সবচাইতে সুন্দর যে ব্যাপারটি তা হলো, লেখক তার নিজস্ব লেখনশৈলী দিয়ে পাঠককে গেঁথে রাখতে পারেন।বইটি একবার পড়তে শুরু করলে, শেষ না করে উঠতে মন চাইবে না। সাবলীল, সহজবোধ্য ভাষা পাঠককে উপন্যাসটিতে ডুবিয়ে রাখতে সাহায্য করবে বলেই বিশ্বাস করি। ৪. অপ্রয়োজনীয় কোনো সংলাপ ছিল না বললেই চলে। যদিও উপন্যাসটিকে সংলাপ নির্ভর নয় বরং কাহিনী নির্ভর উপন্যাস বলেই মনে হয়েছে আমার। ৫. উপন্যাসের মূল গল্পের মধ্য দিয়েই লেখক নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমাদেরকে কিছু মেসেজ দিয়ে গেছেন। এই যেমন, সাজু চরিত্রটি। পড়াশোনায় অমনোযোগী ও বেকার যুবকটিও যে অনুসরণীয় চরিত্র হয়ে থাকতে পারে তা এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। উপন্যাসটির মন্দ লাগা কিছু দিকঃ ১. উপন্যাসটিতে উৎসর্গপত্রের ঠিক পরের পৃষ্ঠাতেই ভূমিকা ছাপা হয়েছে। যেটি পরবর্তী মুদ্রণে ঠিক করা হবে বলে আশা রাখছি। ২. বানান ভুল ছিল না বললেই চলে। দু এক জায়গায় প্রিন্টিং মিসটেক হয়েছে বলে ধরে নিচ্ছি। দু'জায়গায় 'য়' এবং 'ই' গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। যেমনঃ 'দোহায়' না হয়ে 'দোহাই' হওয়ার কথা। যেটাকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসাবে ধরে নিচ্ছি। এছাড়া দু'একটি জায়গায় 'ৎ' এবং 'ত' গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। যেমন 'উচিৎ' না হয়ে 'উচিত' হওয়ার কথা। যদিও এসমস্ত ভুল খুব বেশি গুরুতর নয়, তবু ব্যাকরণের পরিবর্তনশীল প্রমিত নিয়ম অনেককেই কনফিউজড করে দেয়। তাই এগুলো পরবর্তী মুদ্রণে ঠিক করে নেওয়া হবে বলে আশা রাখছি। 'আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না' বইটির প্রচ্ছদ, কাগজ ও বাঁধাই চমৎকার। সকল পাঠক-পাঠিকার কাছে বইটি পড়ে দেখার নিমন্ত্রণ রইল। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বায়ান্ন প্রকাশনীর ৩৬৩ স্টলে বইটি পাওয়া যাবে ২৫% ছাড়ে মাত্র ২১৮ টাকায়। #হ্যাপি_রিডিং ~ ফেরদৌস আহমেদ।"
প্রশ্ন ও উত্তর (Q&A)
বইটি সম্পর্কে পাঠক ও ক্রেতাদের সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং প্রগতি সাপোর্ট টিমের নির্ভরযোগ্য উত্তর
বইটি সম্পর্কে আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?
বইটির সংস্করণ, বিষয়বস্তু, ডেলিভারি বা অন্য যেকোনো তথ্যের জন্য নিঃসংকোচে প্রশ্ন করুন। আমাদের টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
সম্পর্কিত অন্যান্য বই
সবগুলো দেখুন →বইটির রিভিউ লিখুন
আপনার রিভিউ ও রেটিং সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য।
বইটি সম্পর্কে প্রশ্ন করুন
আপনার প্রশ্নটি সফলভাবে জমা নেওয়া হয়েছে!
আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর প্রদান করবে। উত্তর দেওয়া হলে তা এই বইয়ের পাতায় প্রদর্শিত হবে।
"আজ কোথাও বৃষ্টি হবে না" বইটি সম্পর্কে আপনার যা জানার আছে লিখুন। আমাদের সাপোর্ট টিম দ্রুত উত্তর দেবে।
লগইন বা একাউন্ট প্রয়োজন
রিভিউ, রেটিং ও প্রশ্ন করার জন্য একটি একাউন্ট খুলে নিন অথবা আপনার একাউন্টে লগইন করুন।
বইটি ডেলিভারি পাওয়ার পর রিভিউ দিন
সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের সুবিধার্থে আমাদের ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বইটি কিনে সফলভাবে ডেলিভারি পাওয়ার পরেই রিভিউ বা রেটিং প্রদান করা যায়।
বইয়ের কিছু অংশ পড়ুন
পাতা: